জিয়া উদ্যান এখনও চন্দ্রিমা উদ্যান হলো না। বোধহয় কারো এখনও চোখ পড়েনি। সত্যিই কি চোখ পড়েনি? না, সবার রাজনৈতিক মনমানসিকতা উন্নত হয়েছে? যদি তাই-ই হয়ে থাকে তবে তো সেটা আশার কথা। তবে কি দিন বদল হয়েছে?
হুম, দিন তো ঠিকই বদল হয়েছে। শীতকাল গিয়ে এখন এলো গ্রীষ্মকাল। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গুলো ব্যাক্তিগত কারণ দর্শিয়ে পদত্যাগ করছে। সবাই এত ভালো হয়ে গেলো(!)। আর সেই জায়গায় পরের দিনই আসছে সব মার্কামারা চেহারার লোকজন। বাহ! তার সর্বশেষ নিদর্শন হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বদ্যালয় (ভুতপূর্ব আইপিজিএমআর)। সরকারী দল সমর্থক, ব্যাক্তিগত চিকিৎসক, কাছের মানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি গুনাবলী সমৃদ্ধ লোকজনের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের চেয়ার দখল করছে।
বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার জন্য যে শর্ত গুলো দিয়েছিল তার মধ্যে একটা ছিল, গতানুগতিক রাষ্ট্রপরিচালনার রাজনীতি থেকে তারা সরে আসেবন। দেশের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করবেন। সব ক্ষেত্রে দলীয়বাজী বা পক্ষপাতিত্ব করবেন না। সব এককথায় যাকে তারা বলেছিলেন "দিন বদলের সনদ"। আমরা দেশের আপামর শান্তিপ্রিয় জনগন প্রলুব্ধ(!) হয়েছিলাম তাদের কথায়। কিন্তু এখন দেখছি এগুলো সবই ভুয়া। তাদের কথার কোন দাম নেই। খুব কায়দা করে রাতের আধাঁরে আগের ব্যাক্তিকে পদত্যাগ করিয়ে পছন্দের লোকের একটা গতি করার প্রায়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের, সেতুর, হাসপাতালের, রাস্তার, পার্কের পুনঃনামকরন একটা নোংরা লেলুপ রাজনীতির অংশবিশেষ। বস্তুতঃপক্ষে দেশের সেবা/উন্নয়ন করতে এসে এই নামকরনের রাজনীতি একটা চতুর্থ শ্রেনীর মনমানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ব্যাপারটা "কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন" এর মত দেখায়। একটা পচা মজা ডোবার নাম পদ্মবিলাস দিয়ে কোন লাভ নেই। বরং সেখানে পদ্ম ফুটিয়ে পরে নামকরন করাটাই শ্রেয়। তবেই আসবে স্বার্থকতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

