বস আমার এমনিই একটু ঠান্ডা মেজাজের। তারে কোনদিন রাগ করতে দেখিনাই। কিন্তু আজকে বুঝলাম বস একটু খাপ্পা হয়ে আছে। সকালেই ঝাড়ি খেয়েছি। সকালে অফিসে এসে চাও খায়নি সে। চোখ মুখ কালো করে বসে আছে চেয়ারে। পরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে তাকে হালকা করলাম।
বললাম, "বস কি হয়েছে?"
উনি বললেন, "এই ভাবে আর কত দিন চলবে? সরকার এইটা কি শুরু করসে? মিডিয়ার উপর প্রচন্ড হস্তক্ষেপ এবং সেটা অত্যান্ত নগ্ন উপায়ে। গতকাল টিভির খবরে যখন খালেদা জিয়ার ভাষন প্রচার হচ্ছিল তখন তার এলাকার ডিশ লাইন সমস্যা করসে। আবার তার কয়েক মিনিট পরেই প্রধানমন্ত্রীর যখন ভাষন দেয় তখন নাকি ঠিক ছিল।
আবার আজকে অফিসে আসার সময় গাড়ীতে উনি রেডিও নিউজ শুনতে শুনতে আসছিলেন। এবিসি রেডিওর সকাল আটটার নিউজে গতকালের সংসদে খালেদা জিয়ার ভাষন নিয়ে দুটি নিউজ থাকলেও দুটিতেই তার ভাষনের সময় রেডিও ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঠিক তারপরের নিউজে যখন শেখ হাসিনার গতকালের ভাষন প্রচার হয় তখন সেটা ঠিকই শোনা গিয়েছে।"
আমি বসকে বললাম, "বস এটাতো কোন ব্যাপার না। হতেই পারে। যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে। দেখাগেলো আপনার এলাকার ডিশ প্রোভাইডারের তখন বিদ্যুত চলে গিয়েছিল। আবার আজকে এবিসি রেডিওর যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল।"
উনি বললেন, "না পুরো ঢাকার ডিশ কন্ট্রোল এখন সেন্ট্রালি হচ্ছে আর খুব সম্ভবতঃ তিনটা জোনে ভাগ করা হয়েছে পুরো ঢাকাকে। সো এসব কন্ট্রোল করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। আর এবিসি রেডিও যা করলো তাতে বোঝা গেলো এটা তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছে। পুরো খবর জুড়ে কোন সমস্যা হয়নি। এবং তারা খবরের মাঝে কখনও যান্ত্রিক গোলযোগের কথা বলে দুঃখও প্রকাশ করেনি।"
বসকে বললাম, "বস, এটা তো ডিজিটাল যুগ। এই ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল সেন্সর এগুলো। আপনি জানতেও পারবেন না কখন কিভাবে কি হবে। আপনি যতযাই করেন বা চান না কেন রিমোট কিন্তু আরেকজনের হাতে।"
দেখলাম বস আমার দিকে কটমট করে তাকালো। আমি কাজের দোহাই দিয়ে ওনার টেবিল থেকে কেটে পড়লাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


