somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কে বলবেন? ভারত আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ?
কে বলবেন?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29524943 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29524943 2012-01-19 10:18:10
সৌদী আরবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও প্যাকেজ সম্মন্ধে সাহায্য প্রয়োজন
তাদের লাইন নিতে কেমন খরচ? মোডেম কেমন এবং কি? ইত্যাদি ইত্যাদি। অনুগ্রহ করে জানাবেন। এই তথ্য গুলো জানা আমার খুবই প্রয়োজন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29495377 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29495377 2011-12-03 12:08:44
ভল্লুকের জ্বরে অসহায় দুই অর্থমন্ত্রী
ঠিক এই লেখাটি যখন লিখছি তখন ট্রেড শুরু হওয়ার দশ মিনিটের মাথায় সূচক ১১৬ পয়েন্ট পড়ে গেছে। তাই বেশী আর কিছু বলার দরকার নাই। সবাই আমরা সব কিছুই জানি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে।

গতবারের আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এই পূঁজিবাজার ধ্বস নেমেছিল সেই ধারাবাহিকতায় এবারও সেই পূঁজিবাজার ধ্বস নেমেছে। দুটো একই সুতোয় গাঁধা কিনা তা আমরা আমজনতা হয়ত বুঝতে পারি না। কিন্তু যারা বোদ্বা আছেন তারা হয়ত ভালো বলতে পারবেন।

তবে আর যাই হোক এই দুইবারের সরকারের দুই মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কথায় এবার যথেষ্ঠ মিল আছে। যেমন গতবারের আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী শেয়ার বাজার ধ্বসের পরে বলেছিলেন, "আমি শেয়ার বাজার বুঝি না"। আর এবারের সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী বললেন, "আমি সমাধান জানি না"।

বিরাট সময়ের ব্যাবধানে দুই অর্থমন্ত্রী সরল উক্তি দুটো পুরোপুরি মিলে গেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29469096 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29469096 2011-10-19 11:25:25
আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -৪
ঘটনার দিন, পরীক্ষা শেষে ওরা কয়েক ফ্রেন্ড মিলে উত্তরার মাসকাট প্লাজার সামনে আড্ডা দিচ্ছিল। আড্ডা চলতে থাকায় ওরা বুঝতে পারেনি যে অনেক রাত হয়ে গেছে। তখন প্রায় রাত সাড়ে দশটা। হঠাৎ তাহসিনের মনে হলো আজকে তো ভাইয়ার বাসায় যাওয়ার কথা। এমন সময় দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হলো। বিদ্যুত চলে যায়। সব মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। সব বন্ধুরা যে যার মত বাসায় ফিরতে শুরু করে। তাহসিন ওর হোষ্টেলে ফেরার জন্য পা বাড়ায়। চারিদিকে কোথাও রিক্সা নেই। হেঁটে হেঁটেই রওনা দেয় ও। রাস্তা একদম ফাঁকা। দুই একজন দৌড়িয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে।

একটা রিক্সা পেয়ে তাহসিন বেশী ভাড়াতে ঠিক করে হোষ্টেলে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য। রিক্সা যখন ডানে মোড় নিবে তখন সে দেখে নীপা (ছদ্দনাম) মোড়ের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। নীপা, তাহসিনের দুই ব্যাচ সিনিয়ার ছিল। তাহসিন নীপাকে প্রশ্ন করাতে সে বলে, এক বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিল জন্মদিনের দাওয়াত খেতে। সেখান থেকে ফেরার পথেই ঝড় উঠলো। রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। তাহসিন তাকে ওর নিজের রিক্সায় উঠিয়ে নিলো আর বললো, চলেন আমি আপনাকে নামিয়ে দিবো আপনার হোষ্টেলের সামনে। রিক্সায় নীপা এমন ভাবে লাফিয়ে উঠলো যেন সে তাহসিনের জন্যই ওয়েট করছিল। তারা রিক্সায় উঠার পরে পড়াশুনা নিয়ে কিছু কথাবার্তা বলে। এভাবে কয়েকমিনিট পরেই নীপা হঠাৎ রিক্সাকে থামতে বলে এবং নেমে ডান দিকে একটা চিকন গলির দিকে হাটা দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে গলির মধ্যে ঢুকে গেল এবং তাহসিনের দৃষ্টির বাহিরে চলে গেল। তাহসিন চিৎকার করে নীপাকে ডাকছিল আর ঐ গলিতে ঢুকতে নিষেধ করছিল। কারণ ঐ গলিটা নাকি খারাপ ছিল। ঐ গলিটাতে নাকি প্রায়ই ছিনতাই হয়। তাহসিন তখন রিক্সাওয়ালাকে অনুরোধ করে ঐ গলিতে ঢোকার জন্য। রিক্সাওয়ালা রাজি হয়নি। তখন সে রিক্সা থেকে নেমে গলির দিকে রওনা দেওয়ার জন্য পা বাড়াতেই রিক্সাওয়ালা ওকে যেতে নিষেধ করে। আর বলে, ভাই আপনি ঐ গলিতে যাবেন না। তাহসিন তাকে প্রশ্ন করাতে বলে, "ভাই ঐ মেয়েটি বোধ হয় মানুষ না, আমি তার চোখদুটো পুরো সাদা দেখেছি, তার চোখের কোন মনি ছিল না। আপনি ওনাকে খুঁজতে যাবেন না। বিপদে পড়বেন। চলেন আপনাকে আপনার জায়গায় নামিয়ে দেই।" তাহসিন ওর কথাকে অতটা আমল না দিয়ে রিক্সায় চড়ে ওর হোষ্টেলে পৌঁছালো এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়লো।

পরের দিন কলেজে গিয়ে আমার কাজিন নীপাকে খুঁজে কিন্তু পায় না, তার বান্ধবীদের জিজ্ঞাসা করাতে তারা জানায় নীপা তো অসুস্থ। তার বেশ কয়েকদিন পরে তাহসিন নীপার দেখা পেল কলেজে। কয়েকদিন কলেজে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই নীপা বললো তার জন্ডিস হয়েছিল এবং সে প্রায় ৭/৮ দিন বাড়ীতে ছিল। কলেজ করতে পারেনি। তাহসিন নীপার উত্তরে একেবারে ভড়কে যায়। কিন্তু নীপাকে বুঝতে দেয় না কিছুই। তবে কি রিক্সাওয়ালার কথাই ঠিক? তাহসিন এতটুকু নিশ্চিত যে, নীপা মিথ্যা কথা বলছে না।

তবে আসল রহস্যটা কি? ব্যাপারটি শোনার পর থেকেই আমি মিলাতে পারছিনা। আমার কাছে এখনও এটা অমীমাংসিত।

[পাঠক/পাঠিকার উপরে এই লেখার বিষয়বস্তু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে কোন চাপ নেই] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29459004 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29459004 2011-10-02 21:38:41
আর কতটা খারাপ হলে বলতে পারি, নাহ!! যথেষ্ট হয়েছে, আর না > সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মরতে মরতে যখন তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীর জীবন দিলেন তখন বিভিন্ন বিশ্লেষকরা সড়কের বিপদজনক বাঁক নিয়ে কথা বললেন। এর আগেও সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে অনেক অনেক মানুষ। পুঙ্গ হয়েছে কত তার হিসেব নেই। সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে কত? তার হিসেব নেই। কিন্তু তাতে কি? চলছে সেভাবেই কারো কোন কর্ণপাত নেই। সবকিছু সীমাবদ্ধ শুধু গোলটেবিল বৈঠকে। এবারই প্রথম আদালত তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুকে জাতীয় ক্ষতি আখ্যায়িত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করেছেন।
প্রশ্ন হলোঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের টনক নড়তে হলে কি জীবন দিতে হবে?

>> যখন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বিক্রমপুর সহ উত্তরবঙ্গের মোট ১২ টি জেলার বাসমালিকরা তাদের গাড়ী চালানো বন্ধ করে দিলো মহাসড়ক খারাপ অযুহাত তুলে। তারপরে অনেক দেনদরবারের পরে আদালত শো-কজ করলেন এবং গত পাঁচ বছরের ফাইল পত্র নিয়ে তলব করলেন।
প্রশ্ন হলোঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টনক নড়তে হলে আর কত রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হতে হবে?

>> দিনে দিনে বেড়ে চলেছে, দ্রব্যমূল্য। সে দিন থেকে দেখছি যেদিন থেকে বুঝতে শিখেছি। কিন্তু এই বাড়াটা স্বাভাবিক নয়। আমাদের কি এখনও মনে হচ্ছে না যে, দাম বাড়াটা স্বাভাবিক নয়? কারো কোন রা নেই, উচ্চ বাচ্য নেই। শুধু আছে মন্ত্রী ব্যাবসায়িদের ক্যামেরার সামনে ধমকাধমকির গোলটেবিল বৈঠক। কিন্তু ক্যামেরা না থাকলেই স্বাভাবিক সব কিছু।
প্রশ্ন হলোঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টনক নড়তে হলে আর কত দ্রব্যমূল বাড়তে হবে? দূর্ভিক্ষ প্রয়োজন?

>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন সংগীতজ্ঞ নিজের জীবন দিয়ে প্রমান করে দিয়ে গেলেন বড় বড় ক্লিনিক গুলোতেও অবহেলায় রোগী মারা যায়। এ দৃশ্য তো গেলো বড় বড় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষেরা এই চিকিৎসা খাতে কত যে অবহেলিত হচ্ছে তার কি কোন হিসেব আছে? ঐ শিক্ষকের মৃত্যু এবং অন্য কারণে রাজধানী বড় দুটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার প্রশ্নে সম্মুখীন করেছে সরকার।
প্রশ্ন হলোঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টনক নড়তে হলে আর কত জীবন দানের প্রয়োজন?

>> আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তা প্রমাণিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি লিমন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের ঘটনাই প্রমান করে।
প্রশ্ন হলোঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টনক নড়তে হলে আর কত লিমনের আত্মবিসর্জন দেয়া প্রয়োজন?

সার্বিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তা দেশের প্রত্যেকটি জনগণ টের পাচ্ছে। আর কতটা খারাপ হলে বলতে পারি, নাহ!! যথেষ্ট হয়েছে, আর না....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29434356 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29434356 2011-08-18 14:10:15
টেক ইট ইজি ....... ম্যান " style="border:0;" />

বোঝাই যাচ্ছে হঠাৎ করেই যোগাযোগ মন্ত্রীর উপর দিয়ে একটু হালকা গরম বাতাস যাচ্ছে। <img src=" style="border:0;" /> এতকিছু হতো না, যদি না এই সময় সব সমস্যা একেবারে না আসতো। এবারই বোধহয় প্রথম, বাস-মালিকরা কোন যুক্তিসংগত কারণে ধর্মঘট পালন করলো। এতে কোন রাজনৈতিক ছোঁয়া ছিল না। ছিল তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত কারণ।

মন্ত্রী মহোদয় প্রথম ভুল করেছেন, ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে। <img src=" style="border:0;" /> মিশুক মুনীরের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সামনে তাদের ড্রাইভারের দোষ বলায়। তারপরই সেইদিন পাবনায় আরেকটি দূর্ঘটনা। আর তাতে অনুঘটক হিসেবে যোগ হয়েছে ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ১২টি জেলার বাস যোগযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়াটা। আর সামনে তো ঈদ আছেই। দূর্ভোগের পরিমানটা তাই আরো বেশী। এছাড়াও ঐসব বন্ধ রাস্তা সম্মন্ধে ঐ রুটে বিআরটিসি বাস চলাচলের নজির তুলে ধরে তিনি রোববার সাংবাদিকদের বলেন, "রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হলে এ বাসগুলো চলাচল করতে পারতো না।" <img src=" style="border:0;" />

এই অবস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রী মহোদয়ের অর্থ না প্রাপ্তি নিয়ে অর্থমন্ত্রানালয়কে জড়িয়ে উক্তি। আর আগুনে আরো ঘি হয়েছে অর্থমন্ত্রীর কথাটি যে, "উনি (যোগাযোগ মন্ত্রী) না বুঝেই এগুলো বলেছেন"। তার উপরে গতকাল সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সচিব মোজাম্মেল হককে তিরস্কার করেন শেখ হাসিনা। <img src=" style="border:0;" />

যথারীতি আরো বেকায়দায় পড়েছেন, মন্ত্রী মহোদয় ময়মনসিংহ সড়ক ১০ মিনিটের জন্য পরিদর্শনে যেয়ে। উনার গাড়ীর বহর নিয়ে উনি খানা খন্দের মধ্যে পড়েছেন। তাকে অনেক অনুরোধ সত্বেও তিনি গাড়ী থেকে নামেননি। এটা উনি বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। কারণ সেখানে বিক্ষুদ্ধ জনতা (!) ছিল। <img src=" style="border:0;" /> এছাড়া স্থানীয় লোকদের সাথে তার কিছু বসচাও হয়েছে শোনা যায়।

আমার আবুল হাসে,
শিরোনামে বিশিষ্ট ছড়াকার, লেখক লুৎফর রহমান রিটন লিখেছেন,

দেশের মানুষ কাঁদছে যখন আবুল তখন হাসে
মযার্দাহীন লো...কটা শুধু টাকাই ভালোবাসে!
সড়কজুড়ে মড়ক তবু আবুল কি তা মানে?
মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখার মন্ত্র সে ঠিক জানে!
হাসিনাকে ডুবিয়ে দিতে আবুল একাই একশ
হাপিস করতে পটু আবুল জনগণের ট্যাকশ
দেশের মানুষ ভোগান্তিতে ফুঁসছে মানুষ রাত দিন
দোহাই লাগে শেখ হাসিনা আবুলটাকে বাদ দিন!

===============
যাই হোক আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি সব সরকারের আমলেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে। এমন কিছু রত্নকে আমরা আবিষ্কার করে ফেলি যারা তাদের কর্থাবার্তা ও কর্মকান্ড দিয়ে জনগনকে হালকা মনোরঞ্জন দিয়ে যান। আসুন এমন কিছু উক্তি উল্লেক করি যা আমাদের ইতিপূর্বে মনোরঞ্জিত করেছিলঃ

>> আমি মাটির নীচ থেকে শত্রু বের করে নিয়ে আসবো
>> আল্লার মাল আল্লায় নিয়া গেছে
>> উই আর লুকিং ফর শত্রুজ
>> এমন হতেই পারে, এইটা কোন ব্যাপারই না (পুলিশের গুলিতে হুদাই মানুষের মৃত্যুতে)
>> সবকিছু শক্ত হস্তে দমন করবো (কচ কচ কইরা খাইয়ালামু) <img src=" style="border:0;" />
>> মিঃ কম খান

তাই এমন মনোরঞ্জনদানকারীদের বলি, টেক ইট ইজি........ <img src=" style="border:0;" /> ম্যান]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29433631 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29433631 2011-08-17 12:36:47
বিশেষ নোটিশঃ এবারের রোজায় আমার ইফতার ও খাবারের মেনু পরিবর্তন প্রসঙ্গে


আমাকে দাওয়াত দিলে আমি আবার ফেলতে পারিনা। <img src=" style="border:0;" /> বলতে পারেন অনেকটা দয়ার শরীর। তবে এবার এর বেলায় কিছুটা ব্যতিক্রম হচ্ছে। এই যেমন ধরুন, খুব বেছে বেছে দাওয়াত গ্রহন করছি। <img src=" style="border:0;" />



কারণ এবার আমি আমার ইফতারের মেনুগুলো অনেক পরিবর্তন করেছি। আর আগের মত ভাজাপোড়া খাইনা। আর পরিমানেও খুব কম। যেমন: একটা খেজুর, একটু শশার সালাদ, পেয়ারা/অমড়ার স্লাইস কয়েকটি, জিলাপী (অপশনাল), কাঁচা ছোলা (পিঁয়াজ/কাচামরিচ দিয়ে মাখানো), আর অর্ধেক গ্লাস শরবত, অর্ধেক গ্লাস পানি। কোন পিঁয়াজু এবং বেগুনী নয়। <img src=" style="border:0;" />



এরপর পাঁচ মিনিটের মধ্যে নামাজটা পড়ে নেই। তারপর ভাত খেতে বসি। সেখানেও আছে ভিন্নতা। যেমন: ভাত বড়ো কাপ/ ছোট্ট বাটির একবাটি, যেকোন এক আইটেমের তরকারী (পরিমানে একটু বেশী), আর মিনারাল ওয়াটার। ব্যাস শেষ। সাতটা বাজার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ইফতার, নামাজ ও খাওয়া শেষ। <img src=" style="border:0;" />



আপনারা হয়ত মনে করতে পারেন, কেন আপনাদের এইমেনু গুলো জানিয়ে দিলাম। কারণ আমি জানি আপনারা অনেকেই আমাকে সামনের রোজা গুলোতে দাওয়াত দিবেন। তাদের জন্য। ধরেন, আপনি দাওয়াত দিলেন কিন্তু আপনার বাসায় গিয়ে দেখলাম যে আমার পছন্দের আইটেমের সাথে মিলছে না। তখন তো আপনারা একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েতে পারেন। <img src=" style="border:0;" />

আরেকটা ব্যাপার, সবাইকে অনুরোধ করি, সবাই কম খান। দেশের সম্পদ বাঁচান। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29429823 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29429823 2011-08-11 14:05:15
মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ বিনয়ের সাথে বলছি, আপনার সিদ্ধান্তটা মানতে কষ্ট হচ্ছে
মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন আর কেউ সমর্থন বা নিরব সমর্থন করলেও আপনি কখনই তা সমর্থন করবেন না সে ব্যাপারে একটা গাঢ় ধারণা ছিল বাংলাদেশের মানুষের মনে। তার একটি বড় কারণ আপনি ২১ অগাষ্ট ধিকৃত গ্রেনেড হামলায় হারিয়েছেন আপনার অর্ধাঙ্গীনি আইভি রহমানকে। যিনি আপনাকে তার সারাটা জীবন দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। যিনি আপনার সন্তানদের মা। তাকে নির্মম ভাবে হারানোর ব্যথা নিশ্চই আপনি অনুভব করেন প্রতিটি ক্ষণে। নিশ্চই আপনার সন্তানরা মা হারানোর ব্যথা অনুভব করেন প্রতিটি ক্ষণ। আসলে এ ব্যথা যে কতটা গভীর আর বেদনাদায়ক তা শুধু তারাই বোঝেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে এভাবে অকালে হারিয়েছেন।

মাননীয় রাষ্ট্রপিতাঃ
কথায় আছে, "শাসন করা তারই চলে, সোহাগ করে যে"। একটা পরিবারের পিতা, তার সন্তানদের আদরও করেন আবার শাসনও করেন। পিতার শাসন বা সোহাগ করার অধিকারের অপব্যাবহারের ফলে একটা পরিবার নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শাস্তি যদি, পরিবার পিতা স্নেহের বশবর্তী হয়ে বারংবার অহেতুক মাফ করে দেন, তবে একসময়ে সন্তানরা পিতার উপরই চড়াও হয়।

মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
অপরাধের মূল অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার খুনীকে যদি আপনি মৃত্যুদন্ড শাস্তি মৌকুফ করে দেন তবে কি সেই অপরাধীর মত অন্য অপরাধীরাও মাথায় চড়ে বসবে না? যদিও আপনার সিদ্ধান্তের পরে আর কোন কথা চলে না। প্রাণভিক্ষা চাওয়া ব্যাক্তিকে আপনি প্রাণভিক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষমতার বারংবার ব্যাবহার কি অপরাধীদের অপরাধে উৎসাহ দিবে না?

মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
আপনি এখন রাষ্ট্রপতি। আপনি সমস্ত দল, মতের উর্দ্ধে। আপনি রাষ্ট্রের পতি। আপনার চোখে সবাই সমান। আপনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আনিত এবং প্রমানিত এবং দন্ডিত ব্যাক্তিদের দন্ড মৌকুফ করেছেন। আপনি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর সন্তানের সাজা মৌকুফ করেছেন। নাটোরে গামা হত্যা মামলার ২০ জন ফাঁসির আসামীকে আপনি খালাসের হুকুম দিয়েছেন। রাষ্ট্রের চাঞ্চল্যকর ঘটনা আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীকে মাফ করে দিয়েছেন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতিঃ
সম্প্রতি আপনার আসামী ক্ষমার তালিকা দেখলে বোঝা যায়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত লোকজনের অপরাধের শাস্তি আপনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে কি আপনাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলা যায় না? আপনার অবস্থানের সাথে আপনার ক্ষমার দৃষ্টান্ত গুলো খাপ খায় না।

সত্যিই, আপনার পূর্বের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অধ্যায়, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবস্থান এবং আপনার ক্ষতিগ্রস্থ পারিবারিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর মানতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29417070 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29417070 2011-07-21 12:43:57
আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -৩
তাদের বাড়ী একেবারে পদ্মা নদীর ধারে। অর্থাৎ নদীর পাড় ঘেঁষা প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জীবনধারার কিছু অংশের সাথে নদী মিশে থাকে। যেমন নদীতে গোসল করা, কাপড় কাঁচা ইত্যাদি। সেই এলাকার পদ্মা নদীতে বেশ অনেকখানি চর পড়ে গেছে। অর্থাৎ পাড় থেকে কয়েক'শ গজ পানি আছে তারপর বিশাল চরের পরে আবার নদী। অর্থাৎ নদীর মাঝখানে চর। আর পাড়ে যে অংশে পানি আছে সে অংশটি খুবই গভীর।

ঘটনার দিন সেই মেয়ে, তার বেশ কয়েক বান্ধবী মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসল করার একপর্যায়ে হঠাৎ মেয়েটি ডুবে যায় যদিও সে সাঁতার জানতো। তার ডুবে যাওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায় তার বান্ধবীদের কাছ থেকে, যারা তার সাথে গোসল করছিল। ঠিক সেই সময়ে নদীর পাড়ে যারা ছিল তারা অনেক খুঁজেও কোন লাশ পায়নি।

এরপরেও অনেক খোঁজ করা হয় নদীতে। তারপর রাজশাহী সদর থেকে ডুবুরী এনে প্রচুর খোঁজাখোজি করা হয়। কিন্তু কোন ভাবে কোন লাশের সন্ধান মেলে না। যদিও ঐ জায়গাটি খুবই গভীর। অভিজ্ঞ ডুবুরীরাও একেবারে নদীর তলদেশ পর্যন্ত গিয়েও কিছু না পেয়ে ফিরে এসেছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে কয়েকদিন লাশ খোঁজা হয় পানির নিচে। আর নদীর ঐ অংশে এমন কোন স্রোত ছিলনা যে লাশটি ডোবার সাথে সাথে দুরে কোথাও ভেসে যাবে।

সন্তানহারা মা-বাবা এবং আত্মীয়স্বজন প্রায় সবসময়ই নদীর ধারে বসে থাকে লাশের আশায়। সে এক করুন দৃশ্য। ঐ মেয়ের বাবা-মাকে যে যেই রকম কথা বলছে তারা সেরকমই কাজ করছে ঐ লাশের সন্ধানের জন্য। যার কাছে যেতে বলছে তার কাছেই যাচ্ছে। এমন সময় তারা খোঁজ পেল দুরে কোন এক স্থানে এক ব্যাক্তি ("পরী/ফকির" যে যাই বলেন) আছে, সে খোঁজ দিতে পারবে।

মেয়ের, বাবা-মা সেই লোকের কাছেই যায়। তখন তারা সেই লোকের কাছ থেকে জানতে পারে যে, তাদের মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরেও কয়েকদিন বেঁচে ছিল, কিন্তু দু/একদিন আগেই তাকে মেরে ফেলেছে এবং তার লাশ এখন পানির নিচেই আছে এবং পানিতে ডোবার ঠিক একুশ দিনে মাথায় তাদের মেয়ের লাশ ঐ জায়গাতেই ভেসে উঠবে। এবং সেই লোকটি আরো জানায় যে, মেয়েটিকে জ্বীনেরা নিয়ে গিয়েছিল।

ঐ লোকের কথা সত্য প্রমাণ করে সবাইকে আশ্চর্য করে ঠিক ২১ দিনে মাথায় সকাল বেলা ঠিক ঐ জায়গা থেকেই মেয়েটির লাশ ভেসে উঠে। এলাকাবাসি সবাই এটা নিজে চোখে দেখেন। কিন্তু তার চেয়েও আশ্চর্য বিষয় হলো, লাশটি ছিল অক্ষত। পানির নিচে ২১ দিন থাকার ফলে সেটা পচে, ফুলে যাওয়ার কথা ছিল। লাশের কোথাও কোন মাছও ঠোকর দেয়নি। মানে পুরোই অক্ষত। দেখে মনে হচ্ছিল, মেয়েটি এখনও ঘুমিয়ে আছে এবং তার সারা শরীর ভিজিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনাটা আমার এখানো একটা অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে।

[পাঠক/পাঠিকার উপরে এই পোষ্টের বিষয়বস্তু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে কোন চাপ নেই] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29404547 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29404547 2011-06-29 20:17:13
আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -২
আমরা গিয়ে দাঁড়ালাম ষ্টেজের বাম পাশে মানে মাঠের বাম দিকে। কনসার্ট চলছে। ধুমধারাক্কা সব গান গাইছে। অদ্ভুত লাইটিং শো। বাচ্চু নীল বেদনা গানটা গাইছে আর পুরো ষ্টেজে নীল আলো খেলা চলছিল। সে এক অদ্ভুত অনুভুতি!! এরই মধ্যে শুরু হলো ধাক্কাধাক্কি। কনসার্টে যা হয় আরকি! দেখলাম কিছু ছেলে মিলে একটা ছেলেকে মারছে। পেটে ঘুষি মেরেছে। দেখলাম ছেলেটা চলে গেলো মাঠের এক পাশে। আমার ছেলেটাকে দেখে বেশ মায়া হলো। আমার মতই বয়স বা আমার থেকে একটু ছোট হবে। মধ্যবিরতীর সময় আমি ছেলেটার কাছে গেলাম আর আমার হাতের পানির বোতল থেকে তাকে পানি খেতে দিলাম। পেটে ঘুষি মারার জন্য ছেলেটা পেট ধরে বসে আছে। কনসার্ট শেষ হতে হতে প্রায় রাত সাড়ে নয়টা। আমি ছেলেটাকে সাথে করে গেটের বাহিরে এসে রাস্তা পার করে রিক্সায় তুলে দিলাম। ছেলেটা লালখান বাজারের ওদিকটায় চলে গেলো।

তারপ্রায় কিছুদিন পরে ছেলেটাকে আমি জিইসির মোড়ে মোহাম্মদীয়ার সামনে দেখতে পাই। আমরা দুজনই দুজনকে চিনতে পারি। জিইসির মোড় আড্ডা দেয়ার জন্য বিখ্যাত স্থান চট্টগ্রামের। এভাবে প্রায়ই বিকেলেই তার সাথে দেখা হতো। জানতে পারি ছেলেটা গীটার বাজাতো। সেই হিসেবে তার সাথে আমার সখ্য হয়ে যায়। সেই সূত্র ধরে দুইএকদিন ছেলেটা আমার বাসাতেও এসেছে, এটা অগাষ্ট মাসের ঘটনা। ওর কাছ থেকে আমি গানের জন্য গীটারের কর্ড লিখে নিতাম। জিইসির মোড়ে ওর সাথে আরো দুই একজন ছেলে আড্ডা দিতো। তাদের সাথেও কথা বলতাম কিন্তু ওদের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠেনি। কারণ আমি বুঝতাম ওরা এডিক্টেড।

অগাষ্ট মাসের ১৭ তারিখে সকাল ৯টার দিকে ছেলেটা আমার বাসায় আসে। তাকে খুব বিচলিত দেখি। সে আমার কাছে ১৫০০ টাকা ধার চায়। আমি তাকে পকেট থেকে পাচশ টাকার দুটি নোট দিয়ে বলি আমার কাছে তো আর নাই। সে নাছোড়বান্দা। তখন বলি ঠিক আছে তুমি আবার সন্ধ্যার সময় মিমি সুপার মার্কেটের সামনে এসো আমি আরো পাচশ টাকা জোগাড় করে দিবো।

কথামত সন্ধ্যাবেলা তাকে মিমি সুপার মার্কেটের সামনে পাই এবং তাকে পাঁচশ টাকা দেই, সে সময় সে একাই ছিল। তাকে খুবই বিদ্ধস্ত দেখি। সে আমার সাথে বাসায় আসে রাতে আমার বাসায় থাকবে বলে। রাত প্রায় বারোটার দিকে হঠাৎ করেই সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এবং যাওয়ার সময় সে বলে তার খুব বিপদ তবে সে চেষ্টা করবে টাকাটা ফেরত দিতে কিন্তু যদি না পরে তবে আমি যেন ঐ ১৫০০ টাকার দাবী ছেড়ে দেই। এই বলেই সে তীব্র গতিতে বের হয়ে যায়। এরপরে তাকে আর কোথাও দেখিনি। এভাবে কেটে যায় প্রায় আরো প্রায় দুই মাস। একদিন বিকেলে আমি জিইসির মোড়ে দাড়িয়ে আছি তখন সেই দুটি ছেলেকে দেখতে পাই (যারা ঐ ছেলেটির সাথে ওখানে আড্ডা দিতো)। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি তাদের বন্ধুর ব্যাপারে। তাদের কাছে জানতে পারি, সেই ছেলেটি একটা রোড এসকিডেন্টে জুলাই মাসের ৩০ তারিখে মারা গেছে। আমি কথাটা বিশ্বাস করি না।

একদিন আমি তার এলাকায় যাই এবং তার খোঁজ করি। ওরা যেখানে আড্ডা দিতো সেখানকার একটা চায়ের দোকানদারকে তার কথা জিজ্ঞাসা করি। দোকানদার আমাকে যা জানালো তা হলো সে জুলাই মাসের শেষ দিকে বাসের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে।

আমি খুবই আশ্চর্য হয়ে যাই। কারণ সে তো আমার কাছে অগাষ্টের ১৭ তারিখ সকাল বেলাতেও এসেছিল। কিন্তু তাহলে ১৭ তারিখ আমার কাছে কে এসেছিল? আর কে-ই বা আমার কাছে ১৫০০ টাকা ধার নিয়েছিল?

আমি আজও এর কোন উত্তর পাইনি। এটা একটা রহস্য হয়ে আছে আমার কাছে।

[পাঠক/পাঠিকার উপরে এই পোষ্টের বিষয়বস্তু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে কোন চাপ নেই] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29400904 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29400904 2011-06-22 20:06:39
আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -১
আমার পড়ার টেবিলটা ছিল বিছানার পাশেই। মানে বিছানায় বসেই আমি টেবিলে পড়তাম। টয়েলেট থেকে ফিরে এসেই আমি লেপ গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু ঘুম আসছিল না। আমি তখন ঘরের ভিতর একটা গন্ধ পাই। কেমন যেন ঠিক গন্ধটা। ঠিক ফুলেরও না আবার কোন খারাপ গন্ধও না। ভাবলাম জানালার পাশে যেহেতু বিভিন্ন প্রকার গাছ আছে তো সেখান থেকেই হয়ত গন্ধটা আসছে।

তার কিছুক্ষণ পরে জানালার কাচে কিছু একটা আঁচড় কাটার শব্দ শুনতে পাই। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে কিছুই দেখতে পেলাম না। তারপর বিছানায় এসে আবার লেপ গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। তারপর আজব কিছু ব্যাপার একের পর এক ঘটতে থাকলো। আমার মনে হলো কেউ আমার পায়ের কাছে লেপটা ধরে নাড়াচাড়া করছে। কিন্তু পায়ের কাছে কিছুই দেখতে পেলাম না। এসব সব মনের খেয়াল ভেবে বেশ কিছুক্ষণ পরে কখন ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি।

পরের রাতে ঠিক একই ভাবে পড়া শেষ করে বিছানায় যাওয়ার পরে ঐ আগের রাতের গন্ধটা পেলাম। কিন্তু আমি আগের চেয়ে আরো বেশী গন্ধটা অনুভব করতে থাকলাম। পায়ের নিচে নরম কি যেন একটা তুলতুলে কিছু অনুভব করলাম। মনে হচ্ছিল একগোছা চুল টাইপের কোন একটা কিছু। ঘটনার আকস্মিকতায় লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে লাইট জ্বালিয়ে দেখলাম কোন কিছুই নেই। সেই রাতে আর ঘুম হলো না। সারারাত জেগেই থাকলাম প্রায়।

তারপরে আর অনেকদিন সেই রকম কোন কিছুর অনুভব করিনি। যথারীতি ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়ে যায় নভেম্বরের মাঝামাঝি। মোট চারটা পরীক্ষার পরে কয়েকদিনের জন্য ব্রেক ছিল কি যেন একটা কারণে। তো ম্যাথ পরীক্ষার দুইদিন আগের রাতে হঠাৎ করেই ঘরের ভিতর আবার সেইরকম গন্ধ পেতে থাকি। আমি লেপের ভিতর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ি। হঠাৎই আমার মনে হয় রুমের লাইটা জ্বলে উঠল। মনে করেছিলাম হয়ত আম্মা আমার ঘরে ঘুকেছিল। কিন্তু মাথা বের করে দেখি ঘর অন্ধকার। তখন খুব ভয় পেয়ে যাই। জোড়ে যে চিৎকার দিবো সেই শক্তিটুকু হারিয়ে ফেলি। আমি লেপের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে আবার শুয়ে পড়ি। ভয়ে নড়াচড়া করতে পারছিলাম না।

আবারো পায়ের কাছে নরম কিছু একটা অনুভব করি। আস্তে আস্তে লেপ থেকে মাথাটা বের করে যা দেখলাম তা দেখে আমার সারা গা শিউরে উঠলো। ঘাড় থেকে পিঠের নীচ দিকে একটা ঠান্ডা কিছু তরঙ্গ বয়ে গেলো। আমি শোয়া থেকে লাফিয়ে বিছানায় বসে পড়লাম। গায়ে আমার লেপ দিয়ে জড়ানো। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। হাত পা কাঁপছে।

দেখলাম, একটা মেয়ে বসে আছে আমার খাটের একটা দিকে। যেদিকে আমি পা দিয়ে শুই আমি। মেয়েটার মুখ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না। কারণ তার চুল এমন ভাবে মাথার তিনপাশ দিয়ে পড়ে আছে যে মুখটা ঢেকে আছে। মেয়েটা যে ড্রেস পরে আছে সেটা থেকে হালকা আলো বের হচ্ছিল সেটাতে মেয়েটাকে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এবার সে তার মাথাটি বাম পাশে ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকায়। মেয়েটির চেহারা মোটেই ভয়ংকর ছিল না। খুবই শান্ত টাইপের। চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল আমার চেয়ে বয়সে অল্প কিছু বড় হবে হয়ত।

মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসে আর বলে "আমাকে ভয় পাচ্ছো কেন তুমি? আমাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না।" কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছিল না। যত দোয়া জানা ছিল সেগুলো পড়ছিলাম কিন্তু সব উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছিল। আবারো সে বলল, "আমি তোমাকে সাহায্য করবো, সবসময় সবসময়, সবসময়। কেউ তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।" সে তিন বার "সবসময়" শব্দটা উচ্চারণ করল। আর বললো, "সামনের পরীক্ষায় তুমি বিপদে পড়বে, তোমার খুব কাছের লোক তোমাকে বিপদে ফেলবে। এখন চোখবন্ধ করে শুয়ে পড়ো।"

আমি তাড়াতাড়ি লেপমুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। একটু পরে সাহস করে লেপ থেকে মাথা বের করে দেখলাম যে ঘরে কেউ নেই। আর ঘরে সেই গন্ধটাও আর নেই। আমি উঠে লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। সারারাত খুব ভয় লাগছিল। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারছিলাম না।

পরদিন সকালে যথারীতি পরীক্ষা দিতে গেলাম। পরীক্ষার সময় আমার আর অতটা খেয়াল ছিল না গতকালের কথা। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ পাশের একটি ছেলে আমার পায়ের কাছে একদলা কাগজ ফেলে। মানে, সে নকল করে আমার পায়ের কাছে ফেলে দিয়েছে। আর ঠিক ঐ মূহুর্তে একজন স্যার সেটা দেখে ফেলে। আমি মনে করি স্যার আমাকে সন্দেহ করেছেন। ব্যাপারটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশী লজ্জার। কারণ ছাত্রজীবনে আমি কখনও এমন কাজ করিনি। স্যারদের কাছে আমার একটা সুনাম ছিল ভালো ছাত্র বলে। কিন্তু স্যার সরাসরি ঐ পাশের ছেলেটিকে চার্জ করে। তাকে পরীক্ষাহল থেকে বহিষ্কার করতে চায়। তখন সে উত্তর দেয় যে, সে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এই কাজটি করেছিল। স্যার তাকে হলের মধ্যেই খুবই মারে আর শাস্তিসরূপ আধাঘন্টার জন্য খাতা কেড়ে নেয়।

আমার মনে পড়ে তার আগের দিনের কথা। কিভাবে এই ঘটনাটা ঐ মেয়েটার বলা কথার সাথে মিলে গেলো তা আমি বুঝতে পারি নাই। এটা আমার কাছে একটা রহস্য হয়ে আছে এখনও।

[পাঠক/পাঠিকার উপরে এই পোষ্টের বিষয়বস্তু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে কোন চাপ নেই]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29396754 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29396754 2011-06-14 21:39:03
ঢাকার ৮০০ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ঢাকার চারশ’ বছর উদযাপনে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে আরও চারশ’ বছর
ইতিহাস গ্রন্থের অনুপস্থিতি, লিখিত সূত্রের অপ্রতুলতা, যথাযথ গবেষণার অভাব আর প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে ইতিহাস বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাতে আমাদের আজকের রাজধানী ঢাকার অতীত গৌরব অনেক ক্ষেত্রে মলিন হয়ে যাচ্ছে। অতি সাম্প্রতিককালে বাংলার তথা আমাদের রাজধানী ঢাকার ইতিহাস নিয়ে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যপ্রমাণভিত্তিক বাস্তবসম্মত গবেষণা করা হচ্ছে তাকে অনেকটা বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

এখানে বলা হচ্ছে সতের শতকের গোড়ার দিকে মোগলদের পূর্ববাংলা দখল ও ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের মধ্য দিয়েই গৌরবের নগরী ঢাকার যাত্রা শুরু। ভ্রান্ত হলেও এই প্রচলিত ধারণাকে উপজীব্য ধরে সঠিক ইতিহাস বাদ দিয়ে রাজধানী ঢাকার চারশ’ বছর উদযাপনের এক উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীকালে আমাদের দেশের মূল ধারার মধ্যযুগ ও ঢাকা বিষয়ক গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্য সচেতন নাগরিকরা এর বিরোধিতা করলে চাতুরির আশ্রয় নিয়ে সুন্দরভাবে বলা হয় ঢাকার চারশ’ বছর। বাস্তব ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই দৃশ্যায়ন ক্ষতির কারণ হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে করপোরেটসহ নানা দিকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। আর আমরা এখন একটু বোঝার চেষ্টা করি যদি এই করপোরেট দুনিয়ার সহায়তালাভের মানসে আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে তা জাতির জন্য কতটা অপমানজনক। তবে এর দ্বারা আমরা পথ পেয়েছি মূল বাস্তবতা বোঝার, যার আলোকেই ঢাকার প্রাচীনত্বকে একটু খুটিয়ে দেখা। এটিই মূলত আমাদের ইতিহাসের মূল বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে ইতিহাস ঐতিহ্য ধ্বংসের হটকারী সিদ্ধান্তকে প্রতিবাদ করার পথ দেখিয়েছে।

সুলতানি শাসন পর্বের পূর্বে ঢাকার ইতিহাস
ইতিহাস বিচার করতে গেলে আমরা দেখি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ প্রথমত বাংলায় একজন স্বাধীন সুলতান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর তাঁর হাত ধরেই সোনারগাঁওয়ে শুরু হয় দুইশ’ বছরব্যাপী বাংলার স্বাধীন সালতানাতের যাত্রা, যা দিল্লির সালতানাত হতে ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, এক কথায় বিদ্রোহী। এই সময়কাল থেকেই একটি ছোট্ট শহর হিসেবে ঢাকার অস্তিত্ব ইতিহাসের সূত্রে পাওয়া যায়, যা কালেক্রমে বিকশিত হয়ে আমাদের আজকের রাজধানী শহর এই যানযট, আবাসন সঙ্কট আর নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও সবার গর্বের ঢাকা। ইতিহাসের সূত্রের দিকে দৃষ্টি দিতে গেলে সতের শতকের শুরুতে অর্থাত্ ঢাকায় মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠার পূর্বে বাহারিস্তান-ই-গায়েবীতে মির্জা নাথান ঢাকার যে অবস্থার বর্ণনা করেছেন তা অনেকটা এমন—বুড়িগঙ্গার পূর্ব তীরে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্দর নগরী ছিল, যা ছিল অনেক জাঁকজমকে পরিপূর্ণ। ইতিহাসকে ভিত্তি করে এর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হলে বর্তমান বাবুবাজারের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই সুন্দর নগরীটি, যাকে আমরা ঢাকা নামে চিনি। আমরা মুসলিম আগমনপূর্বে সেন আমলের কথা ভাবলে দেখি বর্তমান পুরনো ঢাকার অনেক স্থান-নাম হিন্দু নামে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, যা এখানে প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু বসতি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে স্থানটির পরিচিতি প্রদান করে। ইতিহাস ও সাহিত্যিক সূত্রেও এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকা বিষয়ক অন্যতম চিন্তাবিদ ও ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের গুণী ব্যক্তি হাকিম হাবিবুর রহমান উর্দু ভাষায় লেখা তাঁর ‘ঢাকা আজ সে পচ্চিশ বরাস প্যাহলে’ গ্রন্থে বলেছেন, বিক্রমপুর যখন সেন রাজাদের রাজধানী তখন থেকেই ঢাকার দক্ষিণাংশে হিন্দু বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে যা প্রচলিত ধারার ইতিহাস চর্চাকারীদের চিন্তাধারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তত্কালীন সময়ের স্মৃতি হিসেবে আমরা বর্তমান রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ লক্ষ্য করি। এসব অঞ্চলের নামকরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতিহাস বিশ্লেষণ, প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ কিংবা জাতিতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রভৃতি ঢাকার প্রকৃত প্রাচীনত্বের যে সূত্রের সন্ধান দেয় তা বহুল আলোচিত ঢাকার চারশ’ বছর পালনকারীদের উত্থাপিত দাবিকে একাংশে নাকচ করে দেয়। এক্ষেত্রে আমরা উদাহরণ হিসেবে লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, জালুনগর, বানিয়ানগর, গোয়ালনগর, তাঁতীবাজার, সুতারনগর, কামারনগর, পাটুয়াটুলি, কুমারটুলি ইত্যাদি এলাকার নামকরণের কথা বলতে পারি। এই নামগুলো মোগল-পূর্ব যুগে হিন্দু নিয়ন্ত্রিত নানা পেশাজীবীদের অবস্থানও নিশ্চিত করছে। রাজধানী সোনারগাঁওয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় বাণিজ্য অঞ্চল বিস্তার করতে গিয়ে ঢাকার এই অঞ্চলে ক্রমে নাগরিক জীবনের বিস্তার ঘটে। সোনারগাঁও থেকে ঢাকার নগরায়ণের পথ প্রশস্ত হয় নদীপথের যোগাযোগ থাকায়। প্রাক-মোগল যুগে ঢাকার দক্ষিণ ও পূর্ব সীমা নির্ধারণ করে যথাক্রমে বুড়িগঙ্গা ও দোলাই খাল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে প্রাক-মোগল ঢাকার পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করা কঠিন। ১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খাঁ বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকায় মোগল রাজধানী প্রতিষ্ঠা করার আগেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার অঞ্চলে ‘ঢাকা দুর্গ’ নামে একটি দুর্গ ছিল। দুর্গের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা তীরের ঘাটটির নাম ছিল চণ্ডিঘাট। বাহারিস্তান-ই-গাইবীর বক্তব্য অনুযায়ী এই অংশে তখন দুটি অঞ্চলের বিকাশ ঘটে। এই চণ্ডিঘাটটিই পরে চকবাজার নামে পরিচিত হয়। দুর্গ থেকে চণ্ডিঘাট পর্যন্ত বাজারের বিস্তার ছিল। ঢাকা নগরীর বিস্তারের যুগে ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) এখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাটের নাম অনুসরণে এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর (অনফঁষ কধত্রস, উযধশধ ঃযব গঁমযধষ ঈধঢ়রঃধষ, উধপপধ, অংরধঃরপ ঝড়পরবঃু ড়ভ চধশরংঃধহ, ঢ়. ২)। এক শতকের চেয়ে সামান্য বেশি সময় ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সময় প্রশাসনিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিকাশ অব্যাহত থাকে।

সুলতানি যুগে ঢাকা
ঢাকার প্রাশাসনিক গুরুত্বের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধান করতে হলে সোনারগাঁওয়ের দিকেই ফিরে তাকাতে হয়। সেন শাসন যুগে বিক্রমপুর যখন রাজধানী তখন ঢাকার কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল সোনারগাঁও। সোনারগাঁও কেন্দ্রের অবস্থান শীতলক্ষ্যা নদীর আনুমানিক আট কিলোমিটার পূর্বে। বখতিয়ার খলজীর হাতে নদীয়া পতনের আগে সোনারগাঁও ছিল সেনদের অন্যতম শাসন কেন্দ্র। নদীয়া থেকে বিতাড়িত লক্ষ্মণ সেন বিক্রমপুরে চলে আসার পরও সোনারগাঁও গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। ফারসি গ্রন্থ তবকাত-ই-নাসিরির লেখক মিনহাজ-ই-সিরাজের বর্ণনা অনুযায়ী ১২৬০ খ্রিস্টাব্দেও ‘বঙ্গ’ লক্ষ্মণ সেনের উত্তরসূরিদের শাসনাধীনে ছিল। তবকাত-ই-নাসিরিতে সোনারগাঁওয়ের নাম উল্লিখিত হয়। মধ্যযুগের শুরু থেকেই সোনারগাঁও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসন কেন্দ্র। ঢাকা যে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ শাসন কেন্দ্র হিসেবে নিজ অবস্থান তৈরি করেছিল তা ঢাকা নগরীতে প্রাপ্ত দুটি শিলালিপি সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যদিও শিলালিপিতে উত্কীর্ণ তারিখ ফখরউদ্দিনের সময়কালের শতাধিক বছর পরের। কিন্তু লিপি বক্তব্যের সূত্রে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৬-১৪৫৯ খ্রি.) সময় উত্কীর্ণ এই শিলালিপি দুটির একটি থেকে স্পষ্টতই ধারণা করা যায় ঢাকা তখন ‘ইকলিম মুবারকাবাদের’ অন্তর্গত ছিল। ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ স্বাধীনতা ঘোষণার পর সোনারগাঁও রাজ্যের অন্তর্গত ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’ নামটি ব্যবহৃত হতে থাকে। মুবারকাবাদের অবস্থান সম্পর্কে এইচ ই স্টাপলটন যে ধারণা দিয়েছেন তার উদ্ধৃতি পাওয়া যায় ড. আহমদ হাসান দানীর বক্তব্যে। দানীর বক্তব্যে পূর্ব বাংলার একটি বড় প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল মুবারকাবাদ। সুলতানি বাংলার শিলালিপিতে দুটি ইকলিম অর্থাত্ প্রদেশের নাম পাওয়া যায়। একটি ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদ যা বর্তমান সোনারগাঁওয়ের পূর্ব-উত্তরে মহজমপুর থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর অন্যটি ইকলিম মুবারকাবাদ। ইকলিম মুবারকাবাদ নামাঙ্কিত শিলালিপিটি পাওয়া গেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে গিরিদাকিল্লা নামের মহল্লায় নাসওয়ালা গলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ আর তোরণের অস্তিত্ব এখন নেই। শিলালিপি সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬৩ হিজরি অর্থাত্ ১৪৫৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় সমকালীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের নাম উত্কীর্ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে খাজা জাহান নাম লেখা হয়েছে। আর নির্মাণ অঞ্চল হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’। অর্থাত্ পনের শতকের মাঝপর্বে পুরনো ঢাকা ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানী ছিল এবং গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন খাজা জাহান উপাধিধারী কেউ।

বার ভূঁইয়াদের সময়কালে ঢাকার গৌরব
বাংলায় স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ১৫৩৮ সালে। এ সময় শেষ স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ মোগল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে পরাজিত হন। কিন্তু বাংলায় মোগল আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। হুমায়ুন গৌড় অধিকার করে মাত্র ছয় মাস টিকে থাকতে পেরেছিলেন। এ পর্যায়ে বিহার অঞ্চলের আফগান শাসক শের খান হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সৈন্য পরিচালনা করেন। ১৫৩৯ সালের জুলাইয়ে হুমায়ুন বিতাড়িত হন। এভাবে বাংলা আফগান শাসনের অধীনে চলে আসে আর দিল্লির মোগল শাসন যুগে বাংলা বিচ্ছিন্ন হয়ে এক ধরনের স্বাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়। এভাবে দীর্ঘকাল বাংলা মোগল অধিকারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করছিল। ভাটি বা নিচু অঞ্চল বলে পূর্ববাংলা বরাবরই বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ পেয়েছে। স্বাধীন সুলতানি যুগের পরেও তাই পূর্ববাংলা তার স্বাধীন সত্তা নিয়ে টিকে ছিল। এই পর্বে পূর্ববাংলায় একক কোনো রাজ্য গড়ে ওঠেনি। অনেক বড় বড় জমিদারের অধীনে বিভক্ত ছিল বাংলার এ অংশটি। এঁরা সাধারণভাবে ‘বারো ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত। এই বারো ভূঁইয়ারা একযোগে মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সম্রাট আকবরের আমলে বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান মসনদ-ই-আলা। মোগল সুবাদার ইসলাম খানের ঢাকা দখলের সাধারণ কারণ বারো ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা। মোগলরা উত্তরে তাণ্ডা থেকে পূর্ব বাংলার দিকে অগ্রসর হয়েছিল। পথে অনেক জমিদার মোগল বশ্যতা স্বীকার করে। বারো ভূঁইয়াদের শেষ ঘাঁটি শীতলক্ষ্যা নদীতে। সোনারগাঁওয়ের কাছে কাতরাবোতে ছিল মুসা খাঁর শাসন কেন্দ্র। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত মোগল জলদুর্গ হাজিগঞ্জ দুর্গ শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত। হাজিগঞ্জ দুর্গ বরাবর নদীর পূর্ব পাড়ে নবীগঞ্জ। এখানেই ছিল মুসা খানের সামরিক ছাউনি। আর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছিল বারো ভূঁইয়াদের রণতরী। তাই বারো ভূঁইয়াদের শেষ শক্তিতে আঘাত করার জন্য এর কাছাকাছি অঞ্চল ঢাকাকে বেছে নিতে হয়েছে মোগল সুবাদারকে। মোগল আগমনের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা যায়। আগেই বলা হয়েছে, বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় একটি দুর্গ ছিল। আফগানদের বা স্থানীয় জমিদারদের গড়া এই দুর্গ। ঢাকা দুর্গ নামে পরিচিত এই দুর্গ সংস্কার করে এখানে সুবাদার ইসলাম খাঁর আবাসস্থল বানানো হয়। এই দুর্গ মোগল অধিকারের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ঢাকা অধিকারের পর ইতিমাম খাঁ ও মির্জা নাথানকে ডেমরা খালের মোহনার দুই পাশে অবস্থিত বেগ মুরাদ খাঁর দুর্গ দুটির দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। এই বর্ণনায় ঢাকার অভ্যন্তরে ঢাকা দুর্গ এবং উপকণ্ঠ ডেমরায় দুটি দুর্গের অবস্থানও বারো ভূঁইয়াদের সময় ঢাকার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

স্বাধীনতার অবসান ও মোগল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা
তিনটি প্রাদেশিক কাঠামো বা ইকলিমের মধ্যে ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুরু হয় বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন। দিল্লির শাসন কাঠামো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকার পরও এই কালপর্বেই বাংলায় শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সার্বিক বিকাশ ঘটে। সুলতানি পর্বে পূর্ববাংলায় সোনারগাঁও ও উত্তর বাংলার গৌড় বা লখনৌতি ছিল স্বাধীন সুলতানি বাংলার রাজধানী। গোটা বাংলায় সুলতানি যুগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। ঢাকা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহের বারবাজার, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলে পাওয়া সুলতানি স্থাপনা ও লিপিসাক্ষ্য এর প্রামাণ্য দলিল হয়ে আছে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৬০৮ থেকে ১৬১০-এর মধ্যে মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁর হাতে ঢাকার পতন এই স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবসান ঘটায়। বাংলা পরিপূর্ণভাবে মোগল সুবার অন্তর্ভুক্ত হয়। সুবাদার ইসলাম খাঁ ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী করেন। সম্রাটের নামে ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এভাবে প্রায় আড়াইশ’ বছর পর বাংলা আবার দিল্লির প্রদেশে পরিণত হয়। আর দ্বিতীয়বারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পায় ঢাকা।

রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর’ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি
ইতিহাসকেন্দ্রিক বাণিজ্য ইতিহাসের বিভ্রান্তিকর ব্যবহার ও প্রয়োজন অনুযায়ী দৃশ্যায়ন পৃথিবীতে বিরল নয়। যা নতুন করে পথ খুঁজে নেয় ২০০৭’র দিকে যেখানে আমরা দেখি বর্তমান গবেষণা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচলিত পুরনো ধারার ইতিহাসবিদ দাবি করে বসেন ঢাকা নগরীর বর্তমান বয়স রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছর। অতিরিক্ত ব্যস্ততা কি সদিচ্ছার অভাব কিংবা অধিক সুযোগ-সুবিধার হেতু এরপর থেকে আর তাঁদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা, এমনকি খোদ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ সঙ্কুলান তাদের জন্য খুব একটা কঠিন হয়নি। প্রচলিত প্রাচীন অপর্যাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হতে থাকে তাদের কর্মকাণ্ড। পরবর্তীকালে দেখা যাচ্ছে এদেশের, ইতিহাস ঐতিহ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ঢাকার কয়েকটি সংগঠন প্রথমে ‘ঢাকা নগরীর ৪০০ বছর এবং পরে কিছুটা সংশোধন করে ‘রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর’ শীর্ষক আনুষ্ঠানিকতাতে এক কথায় মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। যেসব ইহিহাসবোদ্ধা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছেন তাদের চোখে মোগল আগমনের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের তেমন বিকাশ ঘটেনি। তারা এক অর্থে ধরেই নিয়েছেন মোগল সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকা অধিকারের পর সর্বপ্রথম ঢাকা রাজধানী শহরের মর্যাদা পায়। এই শহর তখন থেকে তার ঐতিহ্যের যাত্রা শুরু করে। এই ধারণা থেকেই মোগল শাসনপর্বকে ঢাকার ঐতিহ্যের সূচক মনে করে তিন বছরব্যাপী উত্সব করে যাচ্ছে অনেক সংগঠন। আর চটকদার এই খবর ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায়। যার ফলে একদিকে যেমন ইতিহাস বিকৃতি ঘটছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছে ইতিহাসের মূল সত্য আর উপস্থাপনিক বাস্তবতার মধ্যে ফারাক খুঁজতে গিয়ে। আর নতুন প্রজন্ম বঞ্চিত হচ্ছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কিছু মূল্যবান অংশ থেকে, যা তাদের জাতির জন্য অবশই একটি গৌরবের বিষয়। অতি সাম্প্রতিককালে লেখার তুলনায় ততোধিক সমালোচিত কবি নির্মলেন্দুর একটি আর্টিক্যাল পড়লাম প্রথম আলোতে। তিনি বরাবরের মতোই নির্বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তার ক্রিকেট বিষয়ক প্রবন্ধ লেখার শুরু করেন অনেকটা এভাবে—বাঙালি জাতির আছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আমাদের ঢাকা শহরও প্রায় চারশ’ বছরের পুরনো। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি বাণিজ্যিকীকরণ ও গবেষণার সীমাবদ্ধতা এই দুয়ে মিলে আমাদেরকে দিনের পর দিন ইতিহাসের মূল বাস্তবতা থেকে কতটা দূরে ঠেলে দিচ্ছে। আর আমরাও অনেকটা স্রোতের পানিতে গা ভাসিয়ে আমাদের কবিরত্ন গুণধরের মতো উক্তি করতে থাকি তবে আমাদের ঐতিহ্যের খেরোখাতায় কি করুণ কালিমা পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তরুণ প্রজন্মই পারে এ বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক ডামাডোল থেকে জাতির ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করতে। পারে নিজেদের সত্যিকার ইতিহাসকে সবার সামনে তুলে ধরতে। একটি জাতির উন্নয়নের ভিত রচিত হয় একটি শক্ত ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের বুনিয়াদের ওপর। আর আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে ধামাচাপা দিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের মানসে যদি কেউ কাজ করে তবে একজন স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। আমাদের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হওয়া।

বর্তমান গবেষণার বাস্তবতায় মূল ইতিহাস
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণনির্ভর সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে আমরা যে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি তার আলোকে দেখতে গেলে প্রায় ৮০০ বছর আগেই ঢাকায় নাগরিক জীবনের সূচনা ঘটেছিল এবং লিপিসাক্ষ্যে স্পষ্ট প্রায় ৬০০ বছর আগে সুলতানি যুগে স্বাধীন সুলতানি বাংলার একটি ইকলিম বা প্রদেশের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু বর্তমান কালের গবেষণার সঙ্গে সংযুক্তি না থাকা আর ভুল বিবৃতি প্রদানের পরেও জেনে-শুনে কেবল আত্মসম্মান রক্ষার্থেই বেশকিছু দেশের পুরনো ধারায় গবেষণাকারী প্রথম শ্রেণীর ঐতিহাসিক গোঁয়ারের মতো বলে যাচ্ছেন, রাজধানী ঢাকার চারশ’ বছর। পরে তাদের প্রদত্ত বিবৃতিতে কিছুটা সংশোধনী আনা হয়। একটু ভণিতার আশ্রয় নিয়ে বলা হয়, ঢাকার চারশ’ বছর। কিন্তু আমাদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের ইতিহাস বিকৃতির দায় আমাদেরই। দুর্ভাগ্য আমাদের যে আমরা আমাদের ইতিহাসচর্চায় তেমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারিনি। প্রচুর তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বে্ও মধ্যযুগচর্চা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা ভুল ব্যাখ্যাকে নির্ভর করে কূপমণ্ডূকতায় আবর্তিত হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্যের ঢাকা নগরী। তাই আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যকে শুধু আমাদের অজ্ঞানতার কারণেই ৪০০ বছর একটি কাফন দিয়ে মুড়িয়ে বাকি চারশ’ বছরকে মাটিচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। স্বাধীন সুলতানি পর্ব ও বারো ভূইয়াদের সময়ের প্রায় আড়াইশ’ বছরের অব্যাহত স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল মোগলরা। ফলে ৪০০ বছর আগে এদেশ দিল্লির অধীনে একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এ কারণে ৪০০ বছর আগের ঢাকা যতটা উত্সবের তার চেয়ে বেশি স্বাধীনতা হারানোর দিন। কোনো ঐতিহ্যপ্রিয় সভ্য জাতি তার ঐতিহ্যিক শহরের উত্স সন্ধান না করে বিভ্রান্ত তথ্যে রাজধানীর উত্স খুঁজে বেড়ায় এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় নেই। আর এই ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রমাণনির্ভর করপোরেট বাণিজিকতার নানা উত্সব ঐতিহ্য বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এদেশের মানুষকে। সেইসঙ্গে আমাদের মাথা হেঁট হবে বিশ্বদরবারে। ৮০০ বছরের গৌরব নিয়ে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহরের মর্যাদা পেতে পারে। আর তার ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারবে মাথা উঁচু করে। আজ একুশ শতকের অঙ্গীকার আমাদের মাথা নোয়াবার নয় বরং মাথা উঁচু করে বাঁচার চ্যালেঞ্জ জানানোর। তাই এখনই সময় জানতে হবে সত্যিকারের ইতিহাস, বুঝতে হবে নিজেদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল সোনালি অতীতকে। সব বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারাকে ঝেড়ে ফেলে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। আসুন সত্যকে অনুসন্ধান করি, সত্যকে লালন করি, মিথ্যাকে রুখে দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলি সোনার বাংলাদেশ। যেন সবাই বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, আমার দেশ আমার গর্ব, আমার প্রাণের বাংলাদেশ।

এই লেখাটি হুবহু কপি পেষ্ট করা হয়েছে। আসল লেখাটি নিচের লিংকে
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29393833 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29393833 2011-06-09 12:02:31
ধ্রুবসত্য অথবা কল্পলোকের গল্পকথা
কালের বিবর্তনে মানুষ নতুন নতুন জিনিস বা তত্ত্ব আবিষ্কার করে। হয়ত সেই বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী মানুষের দলগুলোর মধ্যে আবারও বিভাজন ঘটে আবার হয়ত তার মধ্যে থেকে একটা দল অবিশ্বাসীই থেকে যায়। এমনটা হতেই পারে। এটাই স্বাভাবিক। বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন অনেক কিছুই জানতে পারছি। তথ্য প্রমানের জোড়ে হয়ত আমরা এমন কিছু একটা বিশ্বাস করছি যে বিষয়টাতে হয়ত আমরা বা আমাদের পূর্বপূরুষেরা অতি অবিশ্বাসী ছিলেন।

মানুষ তার অবচেতন মনে অনেকরকম খেয়াল, স্বপ্ন অথবা অশীরিরি কোন কিছুর উপস্থিতি বা অনুভুতি পেয়ে থাকে। আমি মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী বলেই আল্লাহর অদৃশ্য কোন সৃষ্টির প্রতি বিশ্বাস রাখি। পবিত্র কোরআন শরীফে অনেক জায়গায় জ্বীন জাতির কথা বলা হয়েছে। এবং শুধু তাই-ই নয় জ্বীন নামে ২৮টি আয়াতের একটি সূরাও আছে। এছাড়াও বিভিন্ন হাদিস এবং বড় ইসলাম বিশারদদের লিখা বই বা বিশ্নেষণ থেকে আমরা জ্বীনের কার্যপ্রণালী বা গতিবিধি সম্মন্ধে কিছু জানতে পারি। সূরা আর-রহমান ১৪,১৫,১৬ নং আয়াত থেকে:

خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ
মাটির শুকনো ঢিলের মত পচা কাদা থেকে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন
وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ
আর জিনদের সৃষ্টি করেছেন আগুণের শিখা থেকে
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
হে জিন ও মানব জাতি, তোমরা তোমাদের রবের অসীম ক্ষমতার কোন কোন বিস্ময়কর দিক অস্বীকার করবে?

এটা ছাড়াও আমরা অনেকে অনেক রকম অলৌকিক বা অবাস্তব বা কল্পনা প্রসূত বা মস্তিকের খেলা বা চোখের ধাঁধা দেখি যেগুলোর কিছু বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত আবার কিছু এখনও বিজ্ঞানের অধরাই রয়ে গেছে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিহীন পুরো ব্যাপারগুলোকে প্যারানরমাল ম্যাটারস বলি। তবে এগুলো নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে বা চলবে। হয়ত একসময় বিজ্ঞানও এগুলোর সত্যতা নিয়ে কোন না কোন দলিল বা প্রমাণ দিবে অথবা বাতিল করে দিবে।

আমার বা আমার পরিবারের বা আমার বন্ধুবান্ধবের অথবা আমার পরিচিত অনেক জনেরই এমন অনেক ঘটনা দেখেছি বা শুনেছি যেগুলোর কোনটি আমিও প্যারানরমাল ম্যাটারসের মধ্যেই ফেলে দেই। আমি সেইসব ঘটনাগুলো পোষ্ট আকারে লিখবো সময় করে। যেগুলোর আমার কাছে অমীমাংসিত রহস্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29390209 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29390209 2011-06-02 14:41:23
দুর্ভিক্ষ ১৯৭৪, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কৃষ্ণকাল
“সন্ধা ঘনিয়ে আসছে এবং গাড়ী আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম-এর লরীর পিছনে পিছনে চলেছে। এই সমিতি ঢাকার রাস্তা থেকে দুর্ভিক্ষের শেষ শিকারটিকে কুড়িয়ে তুলে নেয়। সমিতির ডাইরেক্টর ডাঃ আব্দুল ওয়াহিদ জানালেন,“স্বাভাবিক সময়ে আমরা হয়ত কয়েক জন ভিখারীর মৃতদেহ কুড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন মাসে অন্ততঃ ৬০০ লাশ কুড়াচ্ছি- সবই অনাহার জনিত মৃত্যু।”

উপরের এই প্যারা দুটি প্রখ্যাত তথ্য-অনুসন্ধানী অষ্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক জন পিলজারের লিখা। লেখাটি ছাপা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর লন্ডনের ডেইলী মিরর পত্রিকায়। তার এই কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল ১০ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে যখন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাট ডাটিয়া পাড়ার এক জেলেপাড়ার বস্ত্রহীন “বাসন্তি” মাছ ধরার জাল পড়ে লজ্জা ঢাকা ছবি ছাপা হয়েছিল। (যদিও এ ছবিকে একটি সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেন একশ্রেণীর বিশ্লেষক কিন্তু এইঘটনার মত ঘটনা যে ঘটেছে তা তো আর মিথ্যা নয়, এইসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক খুঁজে পাওয়া যাবে )


মাছধরার জাল পড়া সেই বাসন্তী পাশে তার বোন দূর্গতী (কলাগাছের কান্ড সংগ্রহ করছে)

চালের পয়সা জোগাড় করতে অনেক পিতা-মাতা কোলের সন্তানকেও বিক্রি করে দেবার মত নির্মম নিষ্ঠুর কাজ করেছে। এমনও খবর তখনকার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যাও করেছে। আজ এত বছর পরে সভ্য সমাজে এসে আমরা হয়ত এগুলো অনুভব করতে পারবো না। কিন্তু বাস্তব চিত্র আরো করুন ছিল।


একটি শিশু, রিলিফের বস্তার দিকে তাকিয়ে আছে, সে যে তার হাড্ডিসার দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেটাই একটা আশ্চর্য।

বাস্তাবিক পক্ষে ঠিক এমনি বা এরচেয়েও খারাপ অবস্থা হয়েছে যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে। ১৯৭৪ এর মার্চ মাসে রংপুর জেলা থেকে শুরু হয় এই দুর্ভিক্ষ। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি চালের দাম মণ প্রতি দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ টাকার মত। অথচ স্বাধীনতার আগে মণপ্রতি চালের দাম ছিল সেইসময়কার দামের তুলনায় দশভাগ কম। এই সময়টাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে করুন সময় বলে অভিহিত করে থাকেন। এই দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে হয়ত ঘূর্ণিঝড় আর ব্রহ্মপুত্র থেকে সৃষ্ট বণ্যাকে দায়ী করা হয়। বাস্তবিক পক্ষে এর আরো কারণও ছিল মূলতঃ সেগুলোই আসল। দশ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মারা গেলেও সরকারী হিসেবে মাত্র ২৭ হাজার। দুঃখজনক।


কিছু কংকালসার শিশুকে কোলে নিয়ে কিছু মা বসে আছে একটু খাদ্যের আশায়

নয়মাস ব্যাপী মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশলক্ষ বা তার অধিক লোক মারা গেলেও জানা মতে, না খেয়ে ভাতের অভাবে বোধহয় কেউ মারা যায় নি। অথচ স্বাধীনতার চতুর্থ বছরে এসে একটা স্বাধীন সরকারের অধীনে ভাত না পেয়ে মারা গেছে প্রায় ১০ লক্ষ লোক। এই মৃতের দলে আছে অবশ্য ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও কলেরায় মৃত্যুবরণকারী অনেকেই। যদিও তাদের মৃত্যুর পরোক্ষ কারণ ঐ দুর্ভিক্ষ। সূষম খাদ্যের অভাবে মানুষ তখন অখাদ্যও খেয়েছে। এখনও অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলে থাকেন যে, তারা নিজে চোখে দেখেছেন ডাষ্টবিনে উচ্ছিষ্ট থেকে খাদ্যকুটা খোঁজা মানুষ আর কুকুরের লড়াই। অনেকে এরচেয়েও খারাপ দৃশ্য দেখেছেন, যার বর্ণনা আজ প্রায় ৩৭ বছর পর এসে সুস্থ্য মানুষের পক্ষে শোনাটাই একটা নির্যাতন সরূপ।


ক্ষুধার্ত ও ভীত একটি অবুঝ শিশু

১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে ভারত-ইংরেজ দ্বৈত-শাসনের কুফল আর ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ অর্থাৎ পঞ্চাশের মন্বন্তরের জন্য সম্পূর্ণ বিদেশী শাসক প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে দায়ী করলেও কিন্তু ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য শুধু বিদেশি শক্তিকে আর প্রকৃতিকে দায়ী করা চলে না বরং দায়ী অনেক অংশে দেশের অভ্যন্তরীন দুঃশাসন। মূলতঃ এইসময় থেকেই সরকারের উপর থেকে আওয়ামীলীগের সমর্থকদের তথা দেশবাসীর মোহভঙ্গ হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন পাকি যাতাকলে পিষ্ঠ এবং ৭১ এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বজনহারানো এদেশের মানুষের আশা ছিল স্বাধীন দেশে ভালো ভাবে বাঁচার। কিন্তু সরকারদলীয় কিছু লোকেদের সীমাহীন দূর্নীতি, দুঃশাসন এবং কিছু উল্লেখযোগ্য বাহিনীর অতি উৎসাহী তৎপরতায় জনগণের সেই স্বপ্ন অচিরেই হারিয়ে যায়। মানুষ রাজনীতিতে বিতশ্রদ্ধ হয় এবং আস্থা হারিয়ে ফেলে। সময়ের ফলাফলে আসা দূর্ভিক্ষ জনগণের মনোবল আরো নাজুক পরিস্থিতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। বিশ্বাসের দেয়ালে ধরে চিঁড়।


কে জানে এরা কতদিন খায়নি? ঐ রিলিফের একটা রুটি দিয়ে ক্ষুধার্ত পেটের কতটুকু ভরবে?


আদৌ একটু খাবার মিলবে কিনা এরা জানেনা।

১৯৭৪ সালে ১৮ অক্টোবর বোষ্টনের ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরে ডানিয়েল সাদারল্যান্ড লিখেছিলেন, “গত দুই মাসে যে ক্ষুধার্ত জনতা স্রোতের মত ঢাকায় প্রবেশ করেছে,তাদের মধ্যে সরকারের সমর্থক একজনও নেই। বন্যা আর খাদ্যাভাবের জন্য গ্রামাঞ্চল ছেড়ে এরা ক্রমেই রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু মনে হচ্ছে সরকার এদেরকে রাজপথের ত্রিসীমানার মধ্যে ঢুকতে না দিতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যককে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সারাদিন দুই এক টুকরা রুটি খেতে পাওয়া যায, মাঝে মাঝে দুই-একটা পিঁয়াজ ও একটু-আধটু দুধ মেলে। ক্যাম্পে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। “যে দেশে মানুষকে এমন খাঁচাবদ্ধ করে রাখা হয় সেটা কি ধরনের স্বাধীন দেশ”- ক্রোধের সাথে বলল ক্যাম্পবাসীদেরই একজন। ক্যাম্পের ব্লাকবোর্ডে খড়িমাটি দিয়ে জনৈক কর্মকর্তা আমার সুবিধার্থে প্রত্যেকের রুটি খাওয়ার সময়সূচীর তালিকা লিখে রেখেছেন। “তালিকায় বিশ্বাস করবেন না”-ক্যাম্পের অনেকেই বলল। তারা অভিযোগ করল যে, রোজ তারা এক বেলা খেতে পায়- এক কি দুই টুকরা রুটি। কোন এক ক্যাম্পের জনৈক স্বেচ্ছাসেবক রিলিফকর্মী জানাল যে, “সরকারী কর্মচারীরা জনসাধারণের কোন তোয়াক্কা করে না। তারা বাইরের জগতে সরকারের মান বজায় রাখতে ব্যস্ত। এ কারণেই তারা লোকদেরকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যাচেছ। বিদেশীরা ভূখা-জনতাকে রাস্তায় দেখুক এটা তারা চায় না।”


ক্যাপশনঃ নিঃপ্রয়োজন


মৃতপ্রায় শিশুটির জন্য কি মায়ের চোখের পানি কি অবশিষ্ট ছিল? নাকি অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে? কেউ কি জানে?


কে যেন ওদের বলেছিল, "খেতে দেয়া হবে"। আর তাতেই রাক্ষুসে ক্ষুধার উদর নিয়ে হাজির। কিন্তু কতটুকু পেট পুরেছিল ওদের, কে জানে?

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের কারণসমূহের উল্লেখযোগ্য কয়েকটিঃ

১) দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতিঃ
খাদ্যশস্যের সূষম বন্টনের অভাব এবং দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, পার্শ্ববর্তী দেশে চোরাচালানী ইত্যাদি ছিল দূর্ভিক্ষের ‍অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মূলতঃ শেখ মুজিবুর রহমান কখনই বিশ্বাস করতেন না যে তার অধীনস্থ লোকজন এত অসৎ হবে। তার ধারনা ছিল এইসব লোকেরা দেশকে ভালোবাসে, তাকে ভালোবাসে। তারা তার সাথে কখনও বেঈমানি করবে না। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ছিল তার উল্টো। বিভিন্ন চাটুকার আর মিথ্যাবাদীদের দ্বারা তিনি ছিলেন ঘেরা। শুধু তাই নয় এইসব অসৎ তোষামোদকারীদের বিরুদ্ধে কোন নালিশও উনি শুনতেন না বা শুনতে চাইতেন না। শেখ মুজিবুর রহমান একজন বাগ্মীপূরুষ এবং তেজী নেতা হলেও তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শাসক হিসেবে ছিলেন খুবই আবেগপ্রবণ। তার এই অদম্য স্নেহতে তার কিছু অনুসারী এবং সরকারী লোকজন বেপরোয়া হয়ে উঠে। ধরাকে সরা জ্ঞান করতে ‍থাকে। যার ফলে সমাজের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ছড়িয়ে পড়ে।

বৈদেশিক সাহায্য আসলেও সেটা বিতরণে ছিল যথেষ্ঠ অনিময়। এটা শেখ মুজিবুর রহমান পরে বুঝতে পেরেছিলেন তবে অনেক পরে। তাইতো কোন একসময়ে উনি বলেছিলেন,“সাত কোটি লোকের দেশে আমার ভাগের কম্বলট‍া কই।” যদিও এ কথাটি উনি খুবই দুঃখ করে বলেছিলেন।

১৯৭৪ সালের অক্টোবরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দুর্ভিক্ষের জন্য প্রকাশ্যে সরকারের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সেই সঙ্গে দুর্ভিক্ষের দায়দায়িত্ব স্বীকার করে সর্বদলীয় ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটাই তার জন্য কাল হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এ সম্পর্কিত একটি চিঠির সঙ্গে পদত্যাগপত্রও পাঠানো হয়েছিল তার কাছে। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর সে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও সেইসময়কার অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।


রাস্তার মোড়ে মোড়ে না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া আদম সন্তানগুলোকে দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের গাড়ি, তবে কি ওদের মানুষ হয়ে জন্মানোটাই পাপ?


পৃথিবীতে আসতে না আসতেই শিশুটি বুঝেছিল, তার জন্য এ পৃথিবীতে খাদ্য বরাদ্দ নেই। তাই আবার পত্রপাঠ বিদায়, কি দোষ করেছিল এ শিশুটি? কেন তার উপরেও প্রকৃতির নিষ্ঠুর প্রতিশোধ?

২) চোরাচালানঃ
দূর্ভিক্ষের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো চোরাচালান। ১৯৭৪ সালে ২রা অক্টোবর প্রকাশিত লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় জেকুইস লেসলীর কলাম অনুসারেঃ “একজন মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে,আর অসহায় দুষ্টিতে তার মরণ-যন্ত্রণাকাতর চর্মসার শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বাস হতে চায় না, তাই কথাটি বোঝাবার জন্য জোর দিয়ে মাথা নেড়ে একজন ইউরোপীয়ান বললেন, সকালে তিনি অফিসে যাচ্ছিলেন,এমন সময় এক ভিখারি এসে হাজির। কোলে তার মৃত শিশু। বহু বিদেশী পর্যবেক্ষক মনে করেন বর্তমান দুর্ভিক্ষের জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। “দুর্ভিক্ষ বন্যার ফল ততটা নয়,যতটা মজুতদারী চোরাচালানের ফল”-বললেন স্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ।.. প্রতি বছর যে চাউল চোরাচালন হয়ে (ভারতে) যায় তার পরিমাণ ১০ লাখ টন।”

এইসব চোরাচালানকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল ধান, চাল, গম, পাট, যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ ইত্যাদি। একটা নবগঠিত স্বাধীন দেশের সম্পদ ভারতে পাচার করা হতো কার স্বার্থে? কারা এসবের মদদদাতা ছিল? জনতার মুখপত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত সংবাদ হিসেবে সেই সময়ে ভারতে পাচার হয়ে যায় প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার পন্য।

মেজর অব: মো: রফিকুল ইসলাম বীরোত্তমের “শাসনের ১৩৩৮ রজনী” পৃ: ১১৯-১২৬ তে উনি লিখেছেন, “দীর্ঘ ৩ টি বছর আমরা এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে।”


ক্ষুধার্ত মানুষ নাকি হায়নার চেয়েও হিংস্র। তাই খাদ্যশস্য বোঝাই ট্রাকের উপর প্রহরীর সতর্ক প্রহরা। কিন্তু যারা মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে চোরাচালানী করে দেশে দূর্ভিক্ষ বানিয়েছিল তাদেরকে কে পাহাড়া দিবে?

৩) দাতাগোষ্ঠীর অনমনীয়তা ও অনিচ্ছাঃ
সেইসময় চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল সোভিয়েত নৌ কন্টিনজেন্ট। তারা অবশ্য প্রকাশ্যে মাইন সাফ করার পাশাপাশি গোপনে বঙ্গোপসাগরে হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভেও চালিয়েছিল। সোভিয়েতদের আশা ও উদ্দেশ্য ছিল এখানে একটা স্থায়ী ঘাঁটি বানানো। সেইজন্যই অনেকটা পাল্টা চাপ আসছিল আমেরিকানদের তরফ থেকে, সোভিয়েতদের তাড়াও নইলে খাদ্য সাহায্য কমে যাবে।


হাড্ডিসার এ শিশুটিও বুঝে গিয়েছিল রিলিফের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাইতো পাত্র হাতে ঘরের সামনে নালা পেরিয়ে হয়ত ছুটেছে কিছু পাবার আশায়। ভাগ্যে কি ঘটেছিল তার কে জানে?

তবে সব দোষ বিদেশীদের উপরে চাপানো ঠিক নয়। আরো কিছু ব্যাপার ছিল, ৭১-৭২ এ যে বিপুল পরিমান সাহায্য এসেছিল তার বেশিরভাগ লোপাট হয়ে যাওয়াতে আবারো বাংলাদেশে সাহায্য পাঠাতে প্রবল অনীহা দেখা দেয় দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে। লুটের সিংহভাগ হয়েছে রেডক্রসের মাধ্যমে। ৭৪ সালেই জরুরী অবস্থা চালু হয়। সে যাইহোক অনাহারে হু হু করে মানুষ মরছিল।

৪) বর্ডার ট্রেডঃ
বর্ড‍ার ট্রেডের নামে খুলে দেয়া হয় সীমান্ত। আসলে এই সিস্টেম শুধু চোরাচালানকেই উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে।এর ফলে চোরাচালানীদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা আজও আছে এবং তা দেশের অনুন্নত অর্থনীতির জন্য দায়ী।

আবুল মনসুর আহমদের লেখা আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, ৪৯৮ নং পৃষ্ঠায় উনি লিখেছেন, “সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হলো। এর ফলে ভারতের সাথে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ।”

৫) জালনোটের চালানঃ
ভারত থেকে বিশাল অংকের জাল নোট বাংলাদেশের বাজারে আসতো। এতে অর্থনৈতিক অবক্ষয় আরো তরান্বিত হয়। সরকার ও জনগণও জিম্মি হয়ে পড়ে এই জালনোটের কাছে।

আব্দুর রহিম আজাদের লেখা, ৭১ এর গণহত্যার নায়ক বই এর ৫২ নং পৃষ্ঠা অনুসারে সেই সময়ে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন বলতে বাধ্য হয়েছেন, “জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে।”

অলি আহাদের লিখা জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ‘৭৫, ৫২৮-৫৩১ নং পৃষ্ঠায় পাট চোরাচালান সর্ম্পকিত একটি লেখায় লিখেছেন, “নাম মাত্রমূল্যে বা জালটাকায় পাট পাচার শুরু হল।”

উপসংহারঃ
এই ভুখন্ডের ৩০০ বছরের নিকটবর্তী ইতিহাসে বড় বড় তিনটি দূর্ভিক্ষ আঘাত হেনেছে। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম দূর্ভিক্ষ ১৯৭৪ সালে। সরকারী কিছু লোকজন সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুবিধাবাদী লোকজন বাংলাদেশের মানুষদের নিয়ে হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল। সমাজের রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর তার সাথে সমানতালে চলেছে ভারতীয় আগ্রাসন। একটা সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলেছিল অর্থনীতি ধ্বংসের। উৎপাদন কমে গিয়েছিল, শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েছিল। কলকারখানা ধ্বংস হয়েছিল। গুপ্ত হত্যা শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান স্বাধীন চেতা মানুষদেরকে ভিক্ষার পাত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

পুরো জাতিকে ভিক্ষার থালি ধরানো আর দশ লক্ষ মানব সন্তানের মৃত্যুর দায় কে নিবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29385490 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29385490 2011-05-23 11:47:33
বাংলালায়নের স্পিড কি ডবল হয়ে গেলো?
কিউবির সাথে পাল্লা দিয়ে কি তারাও স্পিড ডবল করে দিলো? তবে আমি বেশীভাগ সময় ৫১২ কেবি'র অনেক বেশী পাচ্ছি। গতকয়েকদিন আগে তাদের কাষ্টমার কেয়ারে ফোন করলে, সুকন্ঠী কাষ্টমার ম্যানেজার জানিয়েছিল, হয়ত এমন ডবল স্পিডের অফার আসতেও পারে, তবে তিনি শিওর না।

আপনারা যারা বাংলালায়ন লাইন ইউজ করেন তাদের ডাউনলোডের কি অবস্থা? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29372062 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29372062 2011-04-29 22:47:42
৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত


কিন্তু ঠিক এমনই ঘটনা ঘটেছিল এই ভারতবর্ষে ১৯৪৩ সালে। ঠিক এর উল্টো চিত্রও ছিল সেই একই সমাজে। এমন দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি কিছু লোক ছিল বহাল তবিয়তে। কেউ কেউ খেয়ে দেয়ে ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়েছে। ভারতবর্ষ শোষনে থাকা ব্রিটিশ, তাদের কর্মকর্তা আর এদেশের উচ্চ মধ্যবৃত্তরা ভালই ছিল। ১৯৪৩ ইং সালে (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) এই অভিভক্ত বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তাকে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলে। মৃত্যুবরণ করে ৩০ লক্ষ প্রাণ কোন কোন হিসেবে ৫০ লক্ষও পাওয়া যায়। ২০০ বছরের ব্রিটিশ নির্যাতন আর পরাধীনতা কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে আমাদের ভারতবর্ষের প্রতিটি নাগরিককে। সে ঘানি আজো আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি।

‍‍‍"ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”

যথার্থই লাইন দুটো। কবি খুব অল্প কথায় বুঝিয়েছেন ক্ষুধার জ্বালা।



পঞ্চাশের মন্বন্তরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ভারতে বৃটিশ রাজের ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়। অর্থাৎ বাংলা থেকেই বৃটিশ রাজের যাত্রা শুরু হয়। তারও অনেক পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির জাপান হঠাৎ করে দখল করে বসে বার্মাকে (মায়ানমার)। জাপানের এই হটকারী দলখদারিত্বে বেশ কিছুটা ভয় পেয়ে যায় ভারতবর্ষের শাসনের (!) মসনদের থাকা ইংল্যান্ড। তারা সেই সময়ে বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তি। তখন পুরো দুনিয়ায় চারিদিক থেকে গন্ডোগোল শুরু হয়ে গেছে। খোদ ভারতবর্ষেই তখন "ইংরেজ খেদাও" আন্দোলন তুঙ্গে। ফলশ্রুতিতে ইংরেজ সরকার তখন ভারতবর্ষের ভৌত অবকাঠামোগুলো নষ্ট করে দিতে শুরু করে। তারা পুরো পরিকল্পনা করে তারা এগিয়েছিল। আর এতে নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। আজ এতকাল পরে প্রমান হয়েছে এই উইনষ্টন চার্চিল-ই এই দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী। এই দুর্ভিক্ষের সময়কার যাবতীয় নথি সব নষ্ট করে ফেলেছিল ব্রিটিশ। সেই পঞ্চাশের মন্বন্তরের ছবি আঁকতে নিশ্চই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাত কেঁপেছিল। কালো রং এর ছোঁয়ায় তিনি এঁকেছিলেন অনেক স্থিরচিত্র।



নীল আর পাট চাষে কৃষকদের বাধ্য করা হতো। আর এর বিরোধিতা করলে বাংলার কৃষকদের উপরে কি খগড় নেমে আসতো সেটা তো ইতিহাসে এখনও একটা ঘা হয়ে আছে। শীতকালীন শস্য পাকার সময় বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের হাত থেকে যে সব শস্য বেঁচে যায় সেগুলো পরবর্তীতে মড়কের মুখে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে চালের জন্য ভরসা করতে হয় পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মার (মায়ানমার) উপরে। জাপান বার্মা আক্রমন করার ফলে বার্মা থেকে সবরকমের চাল আমদানী বন্ধ হয়ে যায় ভারতবর্ষে।







বাংলায় উৎপাদিত সামান্য পরিমানে চাল ঔপনিবেশিক সরকার সৈন্যদের খোরাক হিসেবে মজুত করে রেখেছিল ব্রিটিশ। আতঙ্কে সাধারণ ব্যাবসায়িরাও চাল মজুত করতে শুরু করে। ফলে বাজারে চালের দাম আকাশছোয়াঁ হয়ে পড়ে। অবশ্য, সে সময় বৃটিশ সরকার তাদের গুদাম থেকে খাদ্য বিতরণ করেছিল। তবে, তা করা হয়েছিল ব্যবসায়ী, বৃটিশ ও তাদের কর্মীদের জন্য বিশেষ করে রেলওয়ে, বন্দর শ্রমিক ও সরকারি চাকুরেদের জন্য। কয়েকটি বড় শহরে নির্ধারিত মূল্যের দোকান খোলা হয়। কিন্তু, তাতে গ্রামবাংলার মানুষের কোনো উপকার হয়নি। তাদেরকে বিনা দ্বিধায় 'ক্ষুধা রাক্ষসের' কাছে সোপর্দ করে বৃটিশ রাজ।







আর এর পাশাপাশি ব্রিটিশ, ভারতবর্ষে জাপানি হামলার ভয়ে নৌকো ও গরুর গাড়ি সহ সব রকম মটরগাড়ী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করতে শুরু করে তথা খাদ্য সরবরাহের গোটা কাঠামোর ক্ষতিগ্রস্থ করে ৷এই সব পদক্ষেপের ফলে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ আরও তরান্বিত হয়। মানুষ খাবারের আশায় দলে দলে শহরে এসে ভিড় জমাতে শুরু করে। রাস্তাঘাটে তখন ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়। শিশুসহ কংকালসার মায়েদের মৃতদেহ পড়ে থাকত। অন্যদিকে ব্রিটিশ শাসক ও উচ্চ মধ্যবিত্ত বাংলার মানুষেরা দিব্যি খেয়ে দেয়ে বেঁচে ছিল।







সম্প্রতি জার্মানিবাসী বাঙালি মধুশ্রী মুখার্জি প্রায় ৮ বছর ধরে অজানা অনেক নথিপত্র ঘেঁটে একটি বই লিখেছেন, যার নাম ‘চার্চিলস সিক্রেট ওয়ার' বা ‘চার্চিলের গোপন যুদ্ধ'। তাঁর দাবি, চার্চিল নিজে সরাসরি বাংলার মন্বন্তরের জন্য দায়ী ছিলেন। বাংলায় ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর হাজার আবেদন সত্ত্বেও জাহাজ সংকটের অযুহাত দেখিয়ে তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সেই কাজ করতে দেননি, বরং প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও চার্চিল ও তাঁর মন্ত্রীরা সেই অনুমতি দেননি। ভারত ও ভারতীয়দের প্রতি তাঁর মনে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছিল, তার বেশ কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিও আমেরি'র ডায়রি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মধুশ্রী মুখার্জি লিখেছেন, ‘‘চার্চিল ও হিটলারের মনোভাবের মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখতে পাইনি।" তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাখ লাখ মানুষের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য খাদ্যশস্য পাঠানোর জন্য ভারতের দুই ভাইসরয়, চার্চিলের ভারত বিষয়ক সচিব এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত চার্চিলকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, চার্চিল তাদের সে আহবানও প্রধানমন্ত্রী চার্চিল সাড়া দেননি। দলিলপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্যবোঝাই অসংখ্য জাহাজ ভারতের ওপর দিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন ওই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ খাদ্য মজুদ চলছিল। চার্চিল সৃষ্ট এ দুর্ভিক্ষ ভারতে ব্রিটিশ রাজের সবচেয়ে কালিমালিপ্ত একটি অধ্যায়। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের মৃত্যুতে চার্চিল সামান্য দয়া অনুভব করেননি বরং তিনি সে সময় মন্তব্য করেছিলেন, 'ভারতবাসীরা খরগোসের মত বাচ্চা দেয়।' এ সময় চার্চিল যদি কিছু খাদ্যশস্য ভারতে পাঠাতেন তবে খাদ্যের দাম কমে যেত। ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো বলেছিলেন, খাদ্য আমদানি করা হয়েছে- শুধু এ খবরটি কোনোভাবে ভারতে পৌঁছালেই তার জের ধরে খাদ্যশস্যের দাম কমে আসতো। কিন্তু, তা করা হয়নি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সে সময় বার্মা থেকে দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার জনগণের জন্য চাল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু, সে খবর ভারতের কোনো পত্রিকায় প্রকাশ করতে দেয়নি বৃটিশ সেন্সর কর্তৃপক্ষ। সে সময় কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ভারতে খাদ্য পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু, তাও হয়নি। কারণ ভারত মহাসাগর দিয়ে যে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতো সেগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে বৃটেনে খাদ্য আমদানির কাজে।

কে এই উইনস্টন চার্চিল?
উইনস্টন চার্চিল (৩০শে নভেম্বর, ১৮৭৪ – ২৪শে জানুয়ারি, ১৯৬৫) ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিক পরিচিত।


১৯৪০ সালে তোলা সেই অপরাধী উইনস্টন চার্চিলের ছবি

চার্চিলকে যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে বিবিসির এক জরিপে তিনি সর্বকালের সেরা ব্রিটেনবাসী হিসেবে জয়লাভ করেন।










১৯৪৩ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের কালো রং এ আঁকা কিছু ছবি

মূলকথাঃ
এই ৩০ লক্ষ মানুষকে না খেতে দিয়ে হত্যার জন্য শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলকেই দায়ী করা যায়। কারণ শুধুমাত্র তার জেদের জন্যই ভারতবর্ষের এত মানুষকে মরতে হয়েছিল। মানুষ হত্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।

আজ প্রায় ৭০ বছর পরে এসেও, আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29369645 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29369645 2011-04-26 12:35:50
২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: শেষ পর্ব গতপর্বের পরে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
জামার্নী, ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডকে আক্রমনের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে। এতে সেইসময়কার পরাশক্তিগুলোর মধ্যে একটা বিভাজন শুরু হয়। এর ফলে জার্মানীর পক্ষে চলে আসে ইতালি, যুগোস্লাভিয়া, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া এবং ভৌগলিক দিক থেকে অনেক দুরে থাকা জাপানও। এদের এই গ্রুপটাকে বলা হয় অক্ষশক্তি। আর ঠিক এদের বিপরীতে মিত্র বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠে ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকা সহ প্রভৃতি দেশ। এই বিশ্বযুদ্ধ ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে। পুরো ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকা জুড়ে চলে তান্ডব। আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এই ডামাডোলে বিজয়ী হয় মিত্রবাহিনী। এবং ঠিক এই যুদ্ধ দিয়েই পৃথিবীতে বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। এই ভয়াবহ যুদ্ধে আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ মারা যায় যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল রাশিয়ার নাগরিক। নিহতের এই সুবিশাল সংখ্যার মূল কারণ ছিল কিছু গণহত্যামূলক অভিযান। [প্রসংগ ক্রমে এই "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস" প্যারাটি লিখতে হলো, যেহেতু মূল পোষ্টের সাথে সম্পর্কযুক্ত]

যুদ্ধে নিহত মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের সমাধি তথা ওয়ার সিমেট্রীঃ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের যুদ্ধে নিহত মিত্রবাহিনীর সেনাদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভারতে ১০টি, মিয়ানমারে (বর্মা) ৩টি, পাকিসত্মানে ২টি, সিঙ্গাপুরে ১টি, মালয়েশিয়ায় ১টি, জাপানে ১টি, থাইল্যান্ডে ২টি, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ১টি, কুমিলস্নার ময়নামতিতে ১টি (যদিও হিসাব মতে ৩টি) সহ ৮টি দেশের ২২টি সমাধি ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। যাকে ওয়ার সিমেট্রী বলে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের সংগঠন কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ সব সমাধিক্ষেত্র পরিচালিত হয়।

কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশনের সূত্র মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত এই সৈন্যদের কবর মোট ১৫০টি দেশে রয়েছে। এদের সবগুলোই কনওয়েলথভুক্ত দেশসূমহের সংগঠন কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন দেখাশোনা করে। বাংলাদেশে মোট ১৪৪৭ জনের কবর আছে। তার মধ্যে যুদ্ধে নিহত বেসামরিক লোকের ৫টি, ২৭টি অজানা লোকের এবং বাদবাকী ১৪১৫ জনের যাদের নাম পাওয়া গেছে। প্রতিটি স্মৃতিফলকে মৃত সৈন্যের নাম, জাতীয়তা, বয়স, র‌্যাংক লেখা আছে। মিত্র বাহিনীর যেসব দেশের সৈন্যদের কবর দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিটিশ-ভারত। তবে বাংলাদেশে দেয়া কবরের সংখ্যার ব্যাপারে কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশনের দেয়া তথ্যের সাথে ইন্টারনেটে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যে অল্প কিছু গড়মিল পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রীঃ
চট্টগ্রামের মেহেদিবাগে বাদশা মিয়া রোডে প্রায় সাড়ে সাত একর জমিতে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রী। এখ‍ানে যে মেমোরিয়াল বুক আছে সেই হিসেবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাণিজ্যিক নৌবহরের যে ৬ হাজার ৫০০ নাবিক মৃত্যুবরণ করেন, তাদের নাম ও পদবি লেখা আছে এবং আরেকটি রেজিস্টারে ৭৫৫ জন সৈনিকের নাম ও পদবিসহ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুদ্রিত রয়েছে সুবিন্যস্তভাবে যাদেরকে এখানে সমাহিত করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রী

প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী সৈনিককে নিজ নিজ ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় এবং ফলকে ধর্মীয় প্রতীক খোদাই করা আছে। মুসলমানদের জন্য কলেমাখচিত, খ্রিস্টানদের জন্য ক্রুশ। সৈনিকদের মধ্যে ১৪৯ জন মুসলিম, পাঁচজন হিন্দু, একজন ইহুদি, ১৯ জন বৌদ্ধ, ৫৭৭ জন খ্রিস্টান এবং চারজন অজ্ঞাত ধর্মাবলম্বী। নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর দিয়ে কবরের সারি সাজানো। দেশভেদে ব্রিটেনের ৩৭৮ জন, কানাডার ২৫ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৯ জন, নিউজিল্যান্ডের দুজন, অবিভক্ত ভারতের ২১৪ জন (বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান মিলে), পশ্চিম আফ্রিকার ৯০ জন, পূর্ব আফ্রিকার ১১ জন, বার্মার দুজন, নেদারল্যান্ডের একজন, জাপানের ১৯ জন ও অন্যান্য চারজনসহ ৭৩৭ জন জানা আর বাকি ১৮ জন অজানা সৈনিক।

কুমিল্লা ওয়ার সিমেট্রীঃ
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে ব্রিটেনের ৩৫৭ জন, কানাডার ১২, অস্ট্রেলিয়ার ১২, নিউজিল্যান্ডের ৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ১, ভারতীয় উপমহাদেশের ১৭৮, রোডেশিয়ার ৩, পূর্ব আফ্রিকার ৫৬, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬, মিয়ানমারের ১, বেলজিয়ামের ১, পোল্যান্ডের ১ ও জাপানের ২৪জন যুদ্ধবন্দীসহ ৭৩৭ জনকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়।


কুমিল্লা ওয়ার সিমেট্রী

১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সৈনিক ও সেনা কর্মকর্তাদের সমাধি তখন থেকে শহীদদের সমাধিস্থল ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করে।

এইসব ওয়ার সিমেট্রীতে প্রতিবছরের ৫ নভেম্বর কমনওয়েলথভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এই সিমেট্রিতে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।








আজাদ হিন্দ ফৌজের কিছু সৈনিক

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নিহত মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের কবরের ব্যবস্থা হলেও ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে নিহত তথা আজাদ হিন্দ ফৌজের কোন সৈন্যের কবর আছে কিনা তা জানা যায় নি। বা থাকলেও সেটা নিয়ে গড়ে উঠেনি কোন বিশেষ ব্যবস্থা, ঠিক যেমনটা মিত্রবাহিনীর মৃত সৈনিকদের জন্য ওয়ার সিমেট্রী করা হয়েছে। তাদের স্বরণে নেই কোন সৃত্মিসৌধ। প্রকৃতপক্ষে ঐসব আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈন্যরা ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তারা দেশ বা তাদের ভুখন্ড বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে। তারাই বীর সৈনিক। তাদের নাম, সমাধি বা সর্বশেষ অবস্থা সম্মন্ধে গবেষণার প্রয়োজন আছে।

আমরা সেইসব আজাদ হিন্দ ফৌজের নিহত ও যুদ্ধাহত সেনাদের স্যালুট জানাই। তারাই আমাদের আপন। তারাই মুক্তিকামী জনতা। তারা তাদের জীবন দান করে গেছে আমাদের দেশের (তখনকার ভারতবর্ষ) জন্য। এই জাতিকে মুক্তি দিতে চেয়েছে ব্রিটিশের শোষন থেকে। তাই এখন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্থান সম্বিলিত অথবা একক ভাবে এইসব বীরযোদ্ধদের সনাক্ত করে এবং তাদের সমাধি চিহ্নিত করে যথাযথ শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। আবারো আমার স্যালুট জানাই আজাদ হিন্দ ফৌজের ঐসব বীর সৈনিকদের যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন।

সমাপ্ত

গত পর্ব
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29368993 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29368993 2011-04-25 11:45:44
২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: পর্ব - ১ ভারতবর্ষে ২০০ বছরের ইংরেজ শোষনের ইতিহাসঃ
একসময়ে পুরো বিশ্বের প্রায় অনেক দ্শেই শাসন করতো ইংল্যান্ড। মূলতঃ শাসন নয় শোষন। এই ভারতবর্ষও তার ব্যাতিক্রম ছিল না। সেটা নিয়ে আছে এক দুঃখ গাঁথা অধ্যায়। তার পরতে পরতে অনেক নির্যাতন আর অস্ফুট কান্না। যাক সে কথা।


সেই সময়কার দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতবর্ষ

মুলতঃ ইংরেজরা ১৬০৮-এ মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। আস্তে আস্তে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের বিচরণ শুরু হয়। ১৬৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন প্রতিনিধি হিসেবে জেমস হার্ট ঢাকা প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ আগমন শুরু হয়। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধ হয় তাতে বাংলার নবাবের করুন মৃত্যু দিয়ে এই ভুখন্ডে অর্থাৎ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়।


বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা

এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয় ইংরেজদের পক্ষ থেকে লর্ড ক্লাইভ। এবং তাকে সহায়তা করে নবাব সিরাজের পরিবারের কয়েকজন ও মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগত শেঠ সহ অন্যান্য বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতকতার পুরষ্কার স্বরূপ মীরজাফর বাংলার নবাব হয় এবং লর্ড ক্লাইভ তৎকালীন ত্রিশ লক্ষ টাকা ও চব্বিশ পরগনার জায়গিরদারি লাভ করে। এর পরে লর্ড ক্লাইভ ইংল্যান্ড চলে যায় আবারো ফিরে আসে ১৭৬৫ সালের মে মাসে এবং ইংরেজ সরকারের গভর্নর নিযুক্ত হন। একজন কেরানী থেকে সে গর্ভনর হয়।


সেই কুখ্যাত লর্ড ক্লাইভ


বাংলার সেই কুখ্যাত সন্তান, ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান মীর জাফর, এক পাপিষ্ঠের নাম


বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যার পর এই পাঁচ পুতুল পর্যায়ক্রমে নবাব সিংহাসনে বসেছিল

১০০ বছর ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক শোষনঃ
১৭৬৫ সালের ১লা অগাষ্ট লর্ড ক্লাইভ দিল্লির বাদশাহ শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। বিহার-ওড়িশার প্রকৃত শাসন ক্ষমতা লাভ করে, নবাবের নামে মাত্র অস্তিত্ব থাকে। ফলে পূর্ব ভারতের এই অঞ্চলে যে শাসন-ব্যবস্থা চালু হয় তা দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত। নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় কোম্পানি। এতে বাংলার নবাব আসলে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে আর এই সুযোগে কোম্পানির লোকেরা খাজনা আদায়ের নামে অবাধ লুণ্ঠন ও অত্যাচার শুরু করে দেয়। মূলতঃ ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল এই প্রায় ১০০ বছর ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে ভারতবর্ষের শাসনভার থাকে।

৯০ বছরের ব্রিটিশ ভারত ঔপনিবেশিক শোষনঃ
এরপর ১৮৫৮ সালে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তির হাতে স্থানান্তরিত হন। রানি ভিক্টোরিয়া নিজ হাতে ভারতের শাসনভার তুলে নেন। এর সঙ্গে সঙ্গে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।


রাণী ভিক্টোরিয়া

১৮৭৬ সালে ভিক্টোরিয়া ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি গ্রহণ করেন। এই সময়কালকে বলা হয় ব্রিটিশ ভারত ঔপনিবেশিক শাসন বা ব্রিটিশ রাজ। এই ভুখন্ডে ছিল বর্তমানের ভারত, পাকিস্থান ও বাংলাদেশ। এই তিনটি ভুখন্ড মিলে বলা হতো ভারতীয় সাম্রাজ্য। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ভারতীয় অধিরাজ্য ১৪ই অগাষ্ট (পরবর্তীকালে ভারতীয় প্রজাতন্ত্র) ও পাকিস্তান অধিরাজ্য ১৫ই অগাষ্ট (পরবর্তীকালে পাকিস্তান) নামে দুটি অধিরাজ্যে বিভক্ত হলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। সেই সাথে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯০ বছর ব্রিটিশের প্রত্যক্ষ শাসনে থাকে এই ভারত সাম্রাজ্য।

ভারতবর্ষে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঃ
প্রায় এই ১৯০ বছর এই ভারত ভুখন্ডের মানুষরা বিভিন্ন ভাবে প্রতিবাদ করেছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে। আর তাই ১৮৫৭ সালে ভারতে প্রথম স্বাধীনতার আন্দোলন হয়। কিন্তু বর্বর ইংরেজদের ভাষায় ওটা ছিল "সিপাহী বিদ্রোহ"।


ভারতে প্রথম স্বাধীনতার আন্দোলনের একটি কাল্পনিক চিত্র যাকে ইংরেজরা সিপাহী বিদ্রোহ বলে


প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের পরে সেকুন্দ্রাবাগের ছবি ইটালীর ফেলিস বিয়াতো নামক ফটোগ্রাফারের তোলা। (এখানে অনেক কংকাল ও মাথার খুলি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে)


এখান থেকেই প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়

ইংরেজ সেনাবাহিনীর অন্তর্গত ভারতীয় সিপাহীরা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহে মূল ভূমিকা পালন করে। ইংরেজ সরকার এই বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করলেও এর মাধ্যমে ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়।

এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অর্থাৎ ১৯৪৫ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে "ইংরেজ খেদাও" আন্দোলন তীব্রতর হয়। কিন্তু মহাত্বা গান্ধী সহ সব বড় বড় নেতা তখন সরাসরি ইংরেজদের হটাও আন্দোলনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন।


মহাত্বা গান্ধীর সাথে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু

মহাত্বা গান্ধীর দিক থেকে তাঁর "অহিংসা মনোভাব" এর কারণে হয়ত আন্দোলন বেগবান হচ্ছিল না। গান্ধীজীর মতে "যখন আমি হতাশ হই , আমি স্মরণ করি সমগ্র ইতিহাসেই সত্য ও ভালবাসার জয় হয়েছে । দুঃশাসক ও হত্যাকারীদের কখনো অপরাজেয় মনে হলেও শেষ সবসময়ই তাদের পতন ঘটে মনে রাখবেন সর্বদাই।" অপরেকে নেতাজীর বক্তব্য ছিল,"তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব"।

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু মহাত্বা গান্ধীর এই অহিংসা মনোভাব পছন্দ করতেন না। উনি চাইতেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এবং সেটা হবে সমর যুদ্ধ। তাই তিনি খুঁজছিলেন ঠিক সেই মুহুর্তে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোন পরাশক্তি আছে। সেই হিসেবে সে খুঁজে পায় জামার্নীকে আর ইংল্যান্ড তো তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনী। আর তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতবর্ষের অংশগ্রহনটা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ভালো ভাবে নেননি। তিনি হিটলারের কাছে গেলেন।


জার্মানীতে হিটলারের সাথে সুভাষ চন্দ্র বসু

কিন্তু সেই মুহুর্তে হিটলার প্রচন্ড ব্যাস্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে। তাই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু অক্ষশক্তির আরেক শক্তিশালী রাষ্ট্র জাপানের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এসময় জার্মান তাকে একটি সাবমেরিনে করে জাপানে পৌছে দেয়। জাপান নেতাজীর পরিকল্পনা শুনে, এতে মত দেয়। এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও সমরাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।


জাপানে সুভাষ চন্দ্র বসু

রাসবিহারী বসুর কাছ থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব নিয়ে ভারত আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। আজাদ হিন্দ ফৌজ মূলতঃ ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা গঠিত একটি সশস্ত্র সেনাবাহিনী। ১৯৪২ সালে এই বাহিনী গঠিত হয়। এর বাহিনী ভিতরে ভারতের স্বাধীনতাকামী মানুষ, ইংরেজ নির্যাতিত ভারতীয়, মুটে ও মজুর ছিল। আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অর্থের অভাব থাকলেও নেতাজী সুভাসের অসাধারণ নেতৃত্বের ফলে প্রায় ৬০ হাজার সৈন্যের একটি সুশৃঙ্খল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে।


আজাদ হিন্দ ফৌজের কুচকাওয়াজে সুভাষ চন্দ্র বসু

জাপানী সহায়তায় বলীয়ান হয়ে এই বাহিনী ভারতের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ভারতকে আক্রমন করে। [এখানে একটা বির্তক আছে যে কেন সে ভারতীয় হয়ে ভারতকে আক্রমন করলো? আসলে তার আক্রমন ছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে]

জাপানের সহায়তায় আজাদ হিন্দ ফৌজ অতর্কিত আক্রমনে ভারতে ইংরেজরা কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়ে যায়। এক যুদ্ধের ভিতরে আরেক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ভারতের আরাকান, ইম্ফল, ময়রাং, বিষেণপুর প্রভৃতি স্থান সুভাষ চন্দ্র দখল করে নেন। এসব দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য ব্রিটেনের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা যুদ্ধবিমান ও কামান নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। ঠিক এই মুহুর্তে নেতাজীর দল একটু পিছপা হয়ে পড়ে। তখন তারা রেঙ্গুনে গিয়ে আবারো পুর্নগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। কয়েক মাস ব্যাপী এ যুদ্ধে মারা যায় উভয় পক্ষের অনেক সৈন্য। কিন্তু ঠিক এই মূহুর্তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় পরাজিত হয় অক্ষ বাহিনী। তাই জাপানের আত্মসমাপর্নের ফলে বন্ধ হয়ে যায় আজাদ হিন্দ ফৌজের রসদ সরবরাহ। তারপর থেকে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু নিখোঁজ হন। কথিত আছে ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। (তবে তাঁর এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে বির্তক আছে)

চলবে.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29368386 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29368386 2011-04-24 13:11:54
আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট টিভি সংস্কৃতি এবং তার কারণ
আমার বাড়ীর আঙ্গিনার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব আমারই। ওখানে কাক পাখী বা ইতর শ্রেণীর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করলে সেটা তো ঐ বিশেষ প্রাণীর কোন দোষ নয়। ঠিক সেই রকমই আমাদের সংস্কৃতির অবস্থাও তাই। আমাদের সংস্কৃতিতে মরচে পরে গেছে এবং সেটা ঘষেমেজে ঠিক করার সময় নেই আর তাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি পার্শ্ববর্তীদেশের সংস্কৃতিতে। তাই বলে দোষটা ওদের নয় বরং আমাদেরই। আর এটা একটা সুক্ষ্ম চাল, একশ্রেণীর লোকই আছেন যারা চান আমাদের সংস্কৃতি গোল্লায় যাক। দুঃখের সাথে বলতে হয় তারা কিন্তু আমাদের দেশেরই লোক।

ভারতের কোথাও বাংলাদেশের স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখা যায় কিনা আমার জানা নেই। বোধ হয় নেই। আর থাকলেও সেটা তাদের তুলনায় পর্বতের মুসিক প্রসব সমতুল্য। কিন্তু আমাদের টিভি খুললেই মোট যতগুলো চ্যানেল দেখা যায় তার মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ ভারতীয় চ্যানেল। আমরা দেখছি বা দেখতে বাধ্য হচ্ছি।

আমার মতে আমাদের স্যাটেলাইট টিভি সংস্কৃতি কেন ধ্বংশের পথে যাচ্ছে তার কয়েকটি কারণঃ

১) আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেল গুলো একেকটি একেক রাজনৈতিক পরিচিতি বহন করে। এবং এই কারণেই তাদের অনুষ্ঠান ও সংবাদের বিচিত্রতা দেখা যায়। যেটা দর্শক সমাজের ক্ষেত্রে চ্যানেল বাছায়ে একটা বড় বিভাজন ঘটায়।

২) মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার। সবচেয়ে বিরক্তিকর। "এক হাত বাঙ্গির তেরো হাত বিচি।" অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়, অনুষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন নাকি বিজ্ঞাপনের জন্য অনুষ্ঠান। আমাদের চ্যানেলগুলোতে শুধু খবর-ই ঘড়ি ধরে প্রচার হয়। অথচ ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে ঘড়ির কাঁটার সাথে সব অনুষ্ঠান প্রচার হয়ে থাকে। তাই আমাদের চ্যানেলগুলো দর্শক হারানোর এটা একটা বড় কারণ।

৩) তথাকথিত পরিচালক, নাট্যনির্মাতা ও মাটি ফুঁড়ে জন্ম নেয়া নাট্য অভিনেতা/নেত্রীর মানহীন অভিনয় শৈলী আমাদের চ্যানেলগুলো ধ্বসের আরেকটি কারণ। আজকালকার নাটকের কোন স্ক্রিপ্ট থাকে না। কোন ভাষা নেই। তারা এক অদ্ভুত ভাষায় (!) কথা বলে। ওটা কোন আঞ্চলিক ভাষাও নয়।

৪) আশি, নব্বই দশকের আমাদের টিভি নাটকের একটা শক্তিশালী ভিত ছিল। এইতো ক'দিন আগেও ভারত তাদের টিভির নাটক (সিনেমা বাদে) নির্মানে অনেক পিছিয়ে ছিল আমাদের নাটকের মানের দিক থেকে। ঢাকায় থাকি, এই সব দিন রাত্রি, মাটির ঘর, সংশপ্তক, রূপনগর, কোন কাননের ফুল, কোথাও কেউ নেই এসব নাটক এখন মানুষের চোখে ভাসে। আমি এমনও শুনেছি বিটিভির টেরিষ্টেরিয়াল সুবিধা প্রচারের জন্য ভারতীয় সীমান্তবাসী আমাদের নাটকগুলো দেখতো।

৫) আশি, নব্বই দশকের যেকোন একজন টিভি নাটকের অভিনেতা/নেত্রীর সাথে এখনকার অভিনেতা/নেত্রীর তুলনা করলেই আমাদের বর্তমান অনুষ্ঠান কেন মানহীন হচ্ছে তা বোঝা যাবে।

৬) ভারতীয় চ্যানেলগুলোর মধ্যে কোন কোন চ্যানেল আছে খুবই ভালো আর শিক্ষনীয়। এবং তাদের প্রতিটি চ্যানেল ভিন্ন ভিন্ন মেজাজ বহন করে। যেমন কোনটি বিনোদনের জন্য, কোনটি সংবাদ ভিত্তিক, কোনটি বন ও পরিবেশের উপরে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের প্রায় সবগুলো চ্যানেলই হলো পাঁচমিশেলী তরকারী। ব্যাপারটা অনেকটা, "পানির লগে গুড় আর অল্প নুন মিশাইয়া দিলাম ঘুটা"।

৭) আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বাদ দিয়ে আমরা যাই অন্যের সংস্কৃতিতে। আমাদের গ্রাম, শহর, মানুষ, সমাজ, প্রেম-ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ এগুলো নিয়ে অনেক বক্তব্য আছে অর্থাৎ এগুলোকে নিয়েই বিনোদনের অনুষ্ঠান বানানো যায়। সব মিলিয়েই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। কোন এক ঈদে আমি লক্ষ্য করলাম প্রায় আমাদের সবকটি টিভি চ্যানেলের নাটকগুলোর মূল থিম হলো পরকীয়া। প্রসংঙ্গতঃ বলতে হয় ভারতীয় দুই একটি চ্যানেলের অনুকরণে এটা করা হয়েছে। যদিও পরকীয় আমাদের সমাজেরই একটা ইভেন্ট কিন্তু কথা হলো অসুস্থ ইভেন্ট দিয়ে বিনোদন কেন?

এমনই আরো অনেক কারণ আছে যেগুলো আমাদের টিভি সংস্কৃতিকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। আমাদের অদক্ষতা এবং নিজ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়ার জন্যই আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেলের স্থান করে নেয়ার অন্যতম কারণ। আর তাই অন্যকে আগে দোষারোপ নয় বরং আত্মশুদ্ধিই বেশী প্রয়োজন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29361481 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29361481 2011-04-12 14:51:01
তবে কি, বেড়াই ফসল খেলো?
দেশের মধ্যব্ত্তি এবং নিম্নমধ্যবিত্ত তরুন সমাজের একটা বড় অংশ শেয়ার বাজারের সাথে জড়িত। হয়ত হাতে গোনা খুব অল্প পুঁজি খাটিয়ে তারা ব্যাবসা করেছে। তাদের সেলফ ডেভেলপমেন্টর জন্য। আর তাদের এ ব্যাবসায় অর্থমন্ত্রী নিজে মুখে দাওয়াত দিয়েছেন। বলেছেন, "আপনারা আসেন বিনিয়োগ করেন।" এইসব বিনিয়োগকারীদের এখন বুক ভেঙ্গে গেছে। চোখের পানিতে আর হতাশার তপ্ত নিঃশ্বাসে ভারী হয়েছে তাদের ভবিষ্যত।

নিলর্জ্জের মত সরকার কেমন করে বলে যে, জড়িতদের নাম প্রকাশ করা যাবে না। আমার মতে ৯৬ এর গ্যাং এবার পকেটে টাকা ঢুকাতে পারেনি। তাদের চেয়েও অনেক বড় রাঘোব বোয়াল এবার ব্যাবসা করেছে। পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশের বাহিরে চলে গেছে। এরা সংখ্যায় খুব অল্প মানে দুই/একজন। এরা দেশে থাকে না। এদের আছে বিদেশী পাসপোর্ট। এরা এদেশের হয়েও অন্য দেশের নাগরিক। এদের সাহায্য করেছে স্থানীয় সেই ৯৬ এর নীল নকশাকারীরা।

অন্ততঃ আমার এতটুকু বিশ্বাস আছে সরকারের উপরে যে, দেশের যেকোন ক্ষুদে রাঘব বোয়ালের নাম (যারা এবার ছাড়াও ৯৬ কেলেংকারী সাথে জড়িত) তারা অবলিলায় প্রকাশ করতেই পারে। যদিও তাদের শাস্তির কোন ব্যাবস্থা তারা করবেও না আর করার দরকারও নাই।

সরকার সমর্থক আরেক বর্ষীয়ান নেতা এই কেলেংকারীর সাথে জড়িতদের ব্যাপারে বলেছেন, "এরা ঠান্ডা মাথার খুনী"। এর অর্থ সরকারের সাথে থাকা দাপুটে লোকজনও তাদের ক্ষমতার কাছে নিশ্চুপ। অন্ততঃ গত এই কয়েকমাসে অর্থমন্ত্রীর চেহারা দেখে তাই মনে হয়েছে। মাঝে মাঝে তাকে হতাশ হতে দেখা গেছে। তাকে দেখে মনে হয়েছে, সে কোন জায়গায় বাঁধা, কিছু বলতে গিয়েও পারছেন না। তার এই ক্রোধ চাপিয়ে রাখতে না পেরে গত পরশুদিনও তিনি তিন বার দুহাত দিয়ে টেবিল চাপড়িয়ে বলেছেন, "দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো আছে।" তার এইসব আচরণ তার অসহায়ত্বকেই প্রকাশ করেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29359669 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29359669 2011-04-09 11:10:04
প্রোক্টর এন্ড গ্যাম্বেল এর অনুষ্ঠানে সাথে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগার বিষয় কেমন করে আসছে?
প্রোক্টর এন্ড গ্যাম্বেল (জিলেট রেজার) এর অনুষ্ঠানটি আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘার হানায় এটা আর হচ্ছে না। ঐ পণ্য বা এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমার আগ্রহ নাই। ওটা হলেই কি আর না হলেই কি?

আমি পোষ্টগুলো পড়ে যতটুকু বুঝতে পারলাম সেটা হলো, ঐ কোম্পানী তাদের প্রমোশনাল এক্টিভিটিস পারপাজে হয়ত ঐ অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। আর সেই উপলক্ষে হয়ত ৫০০০ লোককে একসাথে দাড়ি শেভ করাতে চেয়েছিল। তাতে কার কি সমস্যা হলো এটা আমার বোধগম্য নয়। এতে ধর্মীয় অনুভুতির কোন জায়গায় আঘাত হানলো? তারা তো নিশ্চই ধর্মরীতি পালন করে দাড়িওয়ালা লোক গুলোকে ধরে এনে দাড়ি কেটে দিতো না। যদি তাই দিতো আর যদি তাদের উদ্দেশ্য আসলে ওটাই হতো, তবে আমার ভুল হচ্ছে বলে আমি মেনে নিবো।

এখন কনডম কোম্পানী যদি তাদের প্রমোশনাল এক্টিভিটিজের জন্য বিনামূল্যে ঢাকা শহরের পরিবারগুলোর এবং অন্যান্য মানুষের মধ্যে কনডম বিতরণ করে তবে সমস্যাটা কোথায়? তাহলে কি এর অর্থ এটা দাঁড়াবে যে, মানুষকে তারা ইন্টারকোর্স করতে উৎসাহিত করছে?

আশ্চর্য.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29358907 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29358907 2011-04-07 22:50:50
রংতুলি দিয়ে আঁকা বান্দরবান (ছবিব্লগ)


চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে একটু ছোট বা বড় পুকুর। এমন দৃশ্য অনেকই মিলবে ওখানে এখানে সেখানে।



চারিদিকে উঁচু পাহাড় আর মাঝখানে বিশাল এক হ্রদ। এটা মেঘলা। চোখ জুড়ায় কালো শান্ত জল দেখে।



শীতের শেষে গাছের সব পাতা পড়ে গেছে নতুন পাতা উঠবে বলে। কি নতুনের আহবান!! ঐ গাছগুলোর ওপাশেই কিন্তু গভীর খাদ। দেখে বোঝাই যায় না। এটাও মেঘলা।



ইট বিছানো এমন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ এমন পাহাড় দেখে যেকেউ ভয় পেতেই পারেন। ভাববেন না। ঐ পাহাড়ে উঠারও রাস্তা আছে। সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে কচি ডাবের ফেরিওয়ালা।



এ ছবিটা নীলাচল পাহাড় থেকে তোলা। অর্থাৎ নীল আঁচল। এ নামেরও একটা স্বার্থকতা রয়েছে। দুরের বান্দরবান শহরের দালান-কোঠা গুলোকে মনে হচ্ছে শিশুদের ব্লক দিয়ে সাজানো। এমনটা মনে হতেই পারে। কারণ এ পাহাড়টি অনেক উঁচু।



এটাও নীলাচলের উপর থেকে তোলা। ঐ যে দুরে দেখা যায় পাহাড়ের উপর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে কোন এক অজানায়। তাইতো! ওটা নীলগিরি যাওয়ার রাস্তা। তবে যে পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে ওটা নীলগিরি নয়। নীলগিরি আরো উঁচু আরো অনেক অনেক দুরে। ওখানে যেতে হলে অনেকটা পাহাড়ী পথ পেরুতে হবে যে!!



নীলাচল পাহাড়ের গায়ে হয়েছে পাহাড়ী কলা, পেঁপে আর শিম। হয়ত কেউ যত্ন করে চাষ করেছে।



এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো!!
আসলেই পথ শেষ হতে চায় না, এটা নীলগিরি যাবার পথ। অনেক দুর। বান্দরবান শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দুরে। রোমাঞ্চকর সে পথ। কোন এক নিঝুম অঞ্চলে সে রূপবতী পাহাড়। অনেকটা নিরবে, অভিমানে, নিভৃতে। সমূদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮০০ ফুট উপরে।



"এক পায়ে নূপুর তোমার অন্য পা খালি, এক পাশে সাগর আর এক পাশে বালি" আর এখানে -- একপাশে পাহাড় আর এক পাশে খাদ। সেই পাহাড়ে গা কেটে তৈরী করা হয়েছে রাস্তা। সেই রাস্তা কখনও উঁচুতে উঠেছে আবার কখনও নীচে নেমেছে। এ যেন এক ছেলে খেলা। নীলগিরি যাওয়ার পথে রাস্তার ছবি এটি।



এটা নীলগিরি পাহাড়ের উপরে। অনেকটা জায়গা ধরে নির্মাণ করা হয়েছে সুনিপুর হাতে গড়া কিছু কটেজ। এখানে তিন রকমের কটেজ আছে। যেগুলো আবার ভাড়া একেক রকম। এছাড়া তাবুও আছে। সেখানেও রাত কাটানো যায়। মূলত এই নীলগিরিতে এসে একটি রাত কাটাতে হয়। তবেই পাওয়া যায় আসল মজা। রাত যত গভীর হয়। শুরু হয় বিভিন্ন বুনো পোকা আর প্রানীর ডাক। সে নাকি এক গা ছমছমে অবস্থা!! আর তার সাথে যদি চাঁদও জেগে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। চাঁদের আলোয় পাহাড়গুলোকে ভৌতিক মনে হওয়ারই কথা।



নীলগিরি পাহাড়ে যাতায়াতের জন্য ওটার পাশের পাহাড়ের মাথা ছেঁটে করা হয়েছে একটা হেলিপ্যাড। মূলতঃ এ পাহাড়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রয়েছে। তারাই এটার দেখাশুনা করে। এখানে রাতে থাকতে বা কটেজ ভাড়া নিতে চাইলে তাদের সাথে আগে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে হয়।



এই মার্কারটি আছে নীলগিরি পাহাড়ের উপর। এখান থেকে দুরের কেওক্রাডং পাহাড় দেখা যায়। আর সেটা ওখান থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দুরে। মাঝখানে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে কেওক্রাডং যেতে হলে। আর সে পথ বন্ধুর।



কি? দেখে কিছু বোঝা যায়? হ্যঁ ওটা মেঘকণ্যা। পাহাড়ের চুড়াগুলোর অনেক নীচে ঘোরাঘুরি করছে। দেখে মনে হচ্ছে, সব পাহাড়গুলো মেঘকণ্যাকে বন্দী করেছে। এটা চিম্বুক পাহাড়ের কাছাকাছি জায়গা থেকে তোলা। চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩০০ফুট উচু।



দেখে মনে হচ্ছে একটা মেঠো পথ। কিন্তু না, ওটা একটা পাহাড়ী পথ। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে এসেছে। আমরা হয়ত ও পথে চলতে অভ্যস্থ নই কিন্তু পাহাড়ী উপজাতিরা খুব সুন্দর ভাবে হেঁটে হেঁটে উঠে আসে ও পথ ধরে। এটাও চিম্বুক পাহাড়ের কাছাকাছি একটি পাহাড়ের ছবি।



এটা শৈলপ্রপাতের ছবি। তবে ঠিক সেই সময় ঝর্ণায় পানি ছিল না। কিন্তু এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথরগুলোর কোন এক কোণে দাঁড়ালে নিজেকে এতই ক্ষুদ্র মনে হবে যে খুঁজেই পাওয়া যাবে। এটা থেকেই বোঝা যায় যখন এই ঝর্ণার যৌবন থাকে তখন সে কতটা আবেদনময়ী হয়ে উঠে!!



এটাই সেই "চান্দের গাড়ী"। পাহাড়ের মোক্ষম যানবাহন। অনেক পুরোনো জিপগুলোকে এমন একটা গঠন দেয়া হয়েছে। এটাই খুব সম্ভবতঃ পৃথিবীর একমাত্র যানবাহন যেটাতে সবচেয়ে অল্প জায়গায় সবচেয়ে বেশী লোক যাতায়াত করেন। উল্লেখ্য, সামনের বনেটের উপরেও লোকজন বসে অনায়াসে যাতায়াত করে। আসলেই এই গাড়ীটি একটি আশ্চর্য!!

গল্প লিখে বা বলে নয়, কবিতা লিখে নয়, ছবি দেখিয়ে নয়। কোনকিছু দিয়েই বান্দরবানের সৌন্দর্য্য বর্ণনা করা যাবে না আর কাউকে বোঝানোও যাবে না। শুধু নিজে চোখে দেখে তার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হবে। তাই যারা এখনও সেখানে যাননি, অনুরোধ করবো অন্ততঃ একবার নিজে চোখে দেখে আসুন সেই রূপ। আসলে আমি বুঝি যে এই ছবিগুলো দিয়ে ওখানকার সৌন্দর্য্যের পরিমাণ বোঝানোর চেষ্টা একটা ব্যর্থ চেষ্টা। আসলে এসবের সাথে বান্দরবানের আসল রূপের তুলনা অনেকটা--- পর্বতের মুসিক প্রসব।

গতমাসে একটা ট্যুর ছিল বান্দরবানে। সে সময়ই তোলা ছবিগুলো।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29356089 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29356089 2011-04-03 11:01:08
ঘুরে এলাম বান্দরবান, দেখলাম আর স্নাত হলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে
তারপর গেলাম মেঘলা। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা আর মাঝখানে গভীর লেক। লেকের উপর দিয়ে এপার থেকে ওপারের প‍াহাড়ে যাওয়ার জন্য দুটো ঝুলন্ত ব্রিজ আছে। বেশ রোমাঞ্চকর সে পথ পার হওয়া। কাঠের পাটাতন। ও পাড়ের পাহাড়গুলো যেন আরো উঁচুতে। দুপুরের খাবার খেলাম পর্যটন মোটেলে। মেঘলাতে প্রায় দুঘন্টার মত কাটিয়ে গেলাম আরেকটি স্পটে “নীলাচল”। ওহ! দেখার মত একটা জায়গা। সমূদ্র লেভেল থেকে প্রায় ১০০০ ফুট উঁচুতে। ওখান থেকে বান্দরবানের পুরো শহর দেখা যায়। ছোট ছোট সব দালান-কোঠা। ওখানে গাড়ী নিয়েই ওঠ‍া যায়। তবে এসব পাহাড়ী রাস্তায় চলার জন্য অন্য ধরনের গাড়ী আছে। যাকে স্থানীয় ভাষায় বলে “চান্দের গাড়ী”। আসলে চান্দের গাড়ী আরেকটু অন্য রকম। সেগুলো আরো পুরোনো ইঞ্জিনের কিছু জিপ জাতীয় গাড়ী। তো যাই হোক নীলাচলে সে এ দেখার মত দৃশ্য। ভেবেছিলাম এটাই সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। প্রচুর বাতাস। সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যায়। একেবারে পাহাড়ের চুড়‍ায় ইট বিছিয়ে রাখা হয়েছে অনেকখানি জায়গায়। আর তার একেবারে মাঝখানে একটি দোতলা ওয়াচ টাওয়র। নীচে কিছু দোকান আছে। যেখানে হালকা নাস্তা সারা যায়। মূলত: ওখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকা উচিত। তবেই আসল মজাটা। ছিলাম আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্তই। সন্ধ্যার সময় ফিরে এলাম আবার হোটেলে।

একটা সমস্যা বান্দরবানে ফেস করেছি, সেটা হলো খাবারের হোটেলের সমস্যা। আমার মতে ভালো মানের খাবারের হোটেল নেই। যেমনটা আছে কক্সবাজারে। তবে কোনমত চালিয়ে নেয়া যায় আরকি!

পরের দিন খুব সকালে ৬টায় রওনা দিলাম চান্দের গাড়ীতে “নীলগিরি” এর দিকে। ওটা বান্দরবান শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দুরে। যাবার পথে যে দৃশ্য দেখেছি তা ভোলার মত না। আগের দিনে নীলাচল দেখে ভেবেছিলাম ওটাই বোধহয় সব সেরা। কিন্তু না, সে ধারণা ভুলে প্রমাণিত হলো। গাড়ী পাহাড়ের রাস্তা বেয়ে উঠছে তো উঠছেই। আবার যখন নামছে তো নামছেই। সে এক অন্যরকম শিহরণ। উত্তেজনায় কেউ গাড়ীর সিটে বসতেই পারছিলাম না। আমরা সব কলিগেরা দাড়িয়ে গিয়েছি প্রায় পুরোটা রাস্তা। এই দৃশ্যর চেয়ে ওটা ভালো। ওটার চেয়ে ওটা আরো সুন্দর। একসময় দেখলাম আমাদের অনেক নীচে মেঘের আনাগোন‍া। আর ওখানকার গাড়ীর সব ড্রাইভাররা প্রচন্ড দক্ষ। ঐ চিকন পাহাড়ী রাস্তায় তাদের দক্ষ হাতে গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করতে দেখলাম।

এভাবে একসময় পৌছালাম আরেক উঁচু (২২০০ ফুট, তবে সেনাবাহিনীদের মতে ২৮০০ফুট)পাহাড় নীলগিরি’তে। ওটার সৌন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশ করার মত না। তবে এই পাহাড়টির অর্থাৎ এই স্পটটি বাংলাদেশে সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে ছোট পরিসরে প্রায় তিন রকমের রেষ্টহাউজ আছে। কোনটা পাকা, কোনটা আধাপাকা আবার কোনটা বাশেঁর তৈরী, এছাড়া সেখানে তাবুরও ব্যাবস্থা আছে। পাহাড়ের উপরের পুরো অংশটা রেলিং দেয়া। ওখানকার আর্মি সদস্যরা খুবই হেল্পফুল। ওখান থেকে ৬২ কিলোমিটার দুরের কেওকারাডং পাহাড় দেখলাম, যেটা বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের চুড়া। [বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পাহাড়ের চুড়া হলো তাজিংডং (৩৩০৯.৯ ফুট উচু সমূদ্রপৃ্ঠ থেকে। তবে এসব উচ্চতা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কারণ বিভিন্ন জিপিএস ডিভাইজে বিভিন্ন রকম রেজাল্ট শো করে। আবার পর্বত আরোহনকারীদের দেয়া তথ্য আর সরকরের তথ্যের মধ্যে আছে ফারাক। আর বাংলাদেশে সর্বোচ্চ স্থান হলো সাকা হাফং পাহাড় (নতুন আবিস্কৃত, তবে সেটা সর্বোচ্চ পাহাড় বলা যাবে না, কারণ পাহাড়টি বার্মা’র, বাংলাদেশে কিছু অংশ রয়েছে, এটা একেবারে বাংলাদেশের সীমান্ত ছুঁয়ে)] [বি:দ্র: পাহাড়ের উচ্চতা নিয়ে কোন তর্কে যাচ্ছি না, কারণ এগুলো তথ্য সবই ইন্টারনেটে পাওয়া, আর এগুলো সম্মন্ধে আমরা ধারনাও খুব একটা পরিষ্কার না, এই ব্লগেই অনেক অভিজ্ঞ পর্যটক আছেন তারা অনেক ভালো বলতে পারবেন]

নীলগিরির পাশেই রয়েছে একটি হেলিপ্যাড। পাশের পাহাড়ের মাথা ছেটে ওটা তৈরী করা হয়েছে। যদিও আমার ক‍াছে পাহাড়ের ‍মাথা ছাঁটাটা পছন্দ হয়নি, অবশ্য এটা ছাড়া অন্য উপায়ও ছিল না হয়ত। ”নীলগিরি এবং নীলাচল“ এমন নাম দেয়ার সঙ্গত কারণ আছে। আসলে পাহাড় তার রূপ ছড়ায় বর্ষাকালে। এই বর্ষাকালে মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এবং রংধনু একটা সমাহার দেখা যায় এই পাহাড়গুলোতে। এবং দুর থেকে তখন ঐ অঞ্চলটাকে পুরো নীল মনে হয়।

নীলগিরিতে ছিলাম প্রায় তিনঘন্টার মত। এখানে খাবার ভালো ব্যাবস্থ‍া নাই, অন্তত: সাধারণ পর্যটকদের জন্য। তবে খেতে চাইলে ওখানে একটা ছোট দোকান আছে যেখানে আগেই জানাতে হয়। এছাড়া টয়েলেটের সমস্যা আছে এখানে। তারপর গাড়ী নিয়ে ব্যাক করলাম। পথে নামলাম চিম্বুক পাহাড়ে। চিম্বুকের উচ্চতা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩০০ ফুট উঁচতে। ওটার উপরে একটা ক্যাম্প আছে সীমান্তরক্ষীদের এবং রেষ্টহাউজ আছে। আবার গাড়ীতে চেপে বসলাম।

এবার নামলাম শৈলপ্রপাতে। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। ঝরণা। পাহাড়ের গা বেয়ে পড়ছে পানি। তীব্র ঠান্ডা সে পানি। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন পানি কম ছিল। কোথা থেকে এ পানি গুলো আসছে সেটা আমার কাছে একটা রহস্য। ভেবে কুলকিনারা পাইনি। এটা বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫/৬ কিলোমিটার দুরে। তারপর হোটেলে এসে ফ্রেশ হলাম। কলিগদের কেউ কেউ গেলো সাঙ্গু নদীতে সাঁতার কাটতে। তারপর লাঞ্চ করে একটা ঘুম। উঠতে উঠতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো। আমাদের পরিকল্পনায় আবারো নীলাচল যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সময়ের অভাবে যাওয়া হল না। গেলাম বার্মিজ মার্কেটে। সেখানকার প্রায় প্রতিটা দোকান পরিচালনা করে ওখানকার উপজাতী চাকমা মেয়েরা। সব পুতুলের মত সাজগোজ করে বসে আছে ওরা। দেখতে খুবই সুন্দর। রাতে ডিনার করে তবে আবারো হোটেলে ফিরলাম। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা শেষে ঘুমতে গেলাম। পরের দিন সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ঐ দিনটা চট্টগ্রাম কাটিয়ে রাতের বাস গ্রীণলাইনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

এভাবে শেষ হলো আমাদের বান্দরবান সফর। আসলে আল্লাহ যে কি সৌন্দর্য্য বিলিয়ে রেখেছেন এই পাহাড়ের মাঝে তা চোখে না দেখলে কখনই বোঝা যাবে না। এই সমতল আর পাহাড়ের কত যে পার্থক্য!!! সে এক জটিল রহস্য। আসলেই পুরোটাই রহস্যে ঘেরা এ সৌন্দর্য্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29354262 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29354262 2011-03-31 12:23:35
আজকের মত এমনই কোন একদিনে বলেছিলাম - তোমায় ভালবাসি " style="border:0;" />

কারো চুলে, কারো হাসিতে, কারো চাহনিতে, কারো নুপুরের শব্দে হারিয়েছি কদাচিৎ, কিন্তু পতিত হইনি। তারা আজ কে কোথায় আছে কোন খোঁজ নেই। তখনকার ঐ ভাললাগা কি প্রেম না ভালবাসা সেটা আজও বুঝিনা। তবে আমার সেই ভাললাগা তারা বুঝেছিল কিনা তাও আমি জানিনা। হয়তবা হ্যাঁ অথবা না।

সে যাই হোক, এবার আসল কথায় আসি। হয়ত ফ্যামিলির দিক থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়েই তাকে সাহস করে বলে ফেলেছিলাম "আমি তোমাকে ভালবাসি"। তিনিও বলেছিলেন আমাকে। তবে আমাদের মাঝে পুরো কথাটাগুলোই হয় ফোনে। তারপর সেটা বিয়েতে গড়ায়। প্রবল একটা ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে বিয়ে হয়ে গেলো আমাদের।

তারপর থেকে প্রতিবারই তাকে "হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে" এর শুভেচ্ছা জানাই ফোনে দিনের ঐ নির্দিষ্ট সময়েই। এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না। কখনই যেন ব্যাতিক্রম না হয়। ভালো আছি, অনেক ভালো। এভাবেই ভালো থাকতে চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29326392 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29326392 2011-02-14 11:43:02
ইহা মোটেও উস্কানীমূলক পোষ্ট নয় (নিজ দায়িত্বে পড়বেন)
এই যে প্রতিবছর আপনারা আমার ঠিকানায় ডাক মারফত অথবা নিজে মেহানত কইরা আইসা ক্যালেন্ডার, ডায়রী, কলম ইত্যাদি ইত্যাদি হ্যাপি নিউ ইয়ার গিফট দিয়া যান। আরো কত্ত কিছু দেন। এইগুলোর কথা আমি সবাইরে কই। যে অমুক ভাই আমারে আইজগা এইডা দিয়া গেলো, অমুক ভাই আইজগা আমারে কুরিয়ারে এইডা পাঠাইলো। অনেক বড় মুখ কইরা আপনাদের নাম গুলা কই সবাইরে। আমার বুকটা তখন ভইরা উঠে যে আপনারা আমারে কত্ত ভালোবাসেন!!!!

আর তাই আমি এইবারও নিশ্চিত সময়মত আপনার ঐগুলো আমার কাছে পৌছিয়া দিবেন। এইডা আমি ৯৯% নিশ্চিত। সমস্যা ঐ ১%। মানে আইজকা ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখ চইলা যাইতাছে।

কি কন? তাইনা?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29318417 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29318417 2011-02-01 16:23:47
দেখতে দেখতে ব্লগের ৫টি বছর.....
খুব স্পষ্ট মনে নেই, তবুও যতটুকু মনে পড়ে পত্রিকায় একটা প্রেসরিলিজ দেখে বোধ হয় এখানে আসি এবং রেজিষ্ট্রেশন করি। পাঁচ বছর পথ মাড়িয়ে এখন ছয় বছরের এই ব্লগটার সাথে আমিও। অনলাইনে বাংলা কমিউনিটি ব্লগিং এখন একটা শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে অন্যান্য মিডিয়ার মত, এ কথা বলা যায় নিঃসন্দেহে। তার অনেক প্রমানই আছে। অনেক কঠিন কঠিন কাজ হয়েছে। যা হয়ত একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু এই ব্লগ মিডিয়ার জন্য সম্ভব হয়েছে। গড়ে উঠেছে অনেক শক্ত প্রতিরোধ, গড়ে উঠেছে অনেক আন্দোলন। একেকটা কঠিন কাজে সাফল্য আনতে এই ব্লগটা যে আমাদের কতটা হেল্প করেছে তা বলে শেষ করা য‍াবে না।

সত্য কথা, অনেক গুণীমানুষের সমাহার এখানে। যাদের কাছ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অনেককিছুই শিখতে পেরেছি। তবে কেন যেন এখন এই গুণীমানুষের সল্পতা চোখে পড়ে। অনেকে চলে গেছেন অভিমানে, কাউকে কাউকে আবার হয়ত ব্যস্ততা অবসর দেয় না, এমনও অনেক কারণেই তাদেরকে আর আমরা দেখিনা। আগে ব্লগটা ছিল বেশ জমজমাট। আবার আমার এ ধারনা ভুলও হতে পারে। হয়ত এখনকার ব্লগারদের রুচীর পরিবর্তন হয়েছে। যার জন্য ঐ সময়কার আমাদের রুচীর সাথে হয়ত এখন মেলেনা।

সময়ের ব্যস্ততায় আমিও অনেক দিন কিছু লিখিনি। তবে নিয়মিত সাথে থাকার চেষ্টা করেছি। সেই সময়কার মত জমজমাট এই ব্লগটা দেখতে চাই আবারো। এখানে আছেন আমার অনেক প্রিয় ব্লগার। যাদের অনেককেই দেখিনা। তারাও হয়ত ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনা। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আবারো আপনারা ফিরে আসুন এখানে, আবার মুখোরিত হোক ব্লগঙ্গন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29317033 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29317033 2011-01-30 10:15:01
বাংলালায়ন, ইউজ করেছেন, এমন কারো অভিজ্ঞতা জানতে চাই....
দীর্ঘদিন কিছু ব্যাস্ততায় জন্য বাসার ইন্টারনেটের লাইন চেইঞ্জ করা হয়নি। তবে এখন মনে হচ্ছে লাইনটি চেইঞ্জ করা দরকার। কিন্তু কোন লাইন নিবো সেটা নিয়ে দোটানায় আছি। অজেরী নাকি বাংলালায়ন, বাংলালায়ন নাকি অজেরী? যদিও আমার এলাকায় দুটোরই ভালো নেটওয়ার্ক আছে। এক কাজিনের অজেরী লাইনটি বেশ কিছুদিন যাবত টেষ্ট পারপাজে চালিয়েছি। ২৫৬ কেবি। ডাউনলোড স্পিড পেয়েছি এভারেজ ৩০ কেবি।

যদিও বাংলালায়ন টেষ্ট করতে পারিনি আমার বাসায়। অন্যজায়গায় টেষ্ট করে ২৫৬ কেবি লাইনে এভারেজ ৩০ কেবি ডাউলোড স্পিড পেয়েছি। হয়ত এদিক দিয়ে দুটিই প্রায় একই।

কিন্তু খুব সম্ভবতঃ অজেরীর মোডেমে ওয়াই-ফাই করা যায় না। আলাদা রাউটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলালায়নে কি সম্ভব? যদি ওয়াই-ফাই করা যায় তবে ডেক্সটপ পিসির সাথে কোন ডিভাইজ দিয়ে কানেক্ট করা সম্ভব? সেক্ষেত্রে কি ইউএসবি ল্যান (ডি-লিংক বা লিংকসিস) দিয়ে কানেক্ট করা সম্ভব?

যারা এটা ইউজ করছেন, তাদেরকে অনুরোধ করছি আপনার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার জন্য। এতে আমার বিশেষ উপকার হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29273084 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29273084 2010-11-16 10:25:15
এবারের ঈদে আমার খাবারের মেনু " style="border:0;" />আমি খেতে বেশ পছন্দ করি বিশেষ করে দাওয়াত খেতে। দাওয়াতে কোন রা' নেই আমার। রোজা তো শেষ হতে চলল। এই রোজায় যে কত্ত ইফতারির দাওয়াত পেয়েছি আপনাদের কাছ থেকে, তা তো আগের পোষ্টেই বললাম। ঈদ খুবই সন্নিকটে। আর ঈদে তো কাউকে কেউ দাওয়াত দেয় না। তাই একটা লিষ্ট করছি কার কার বাসায় যাবো। <img src=" style="border:0;" /> আর সেটা তৈরী করছি, পূর্বে কাদের বাসায় কতটা সুস্বাদু খাবার খেয়েছিলাম। আহা.... খাওয়া বলে কথা। <img src=" style="border:0;" />



এবার তো টোটালী গরুর মাংশ খাচ্ছি না। এনথ্রাক্স। <img src=" style="border:0;" /> তাই মুরগীর উপর চাপটা একটু বেশী পড়বে আমার। আহা, মুরগীর মাংশের কত্ত রকম রান্না। আহা....। মুরগীর ঝাল কারি, গ্রীল, রোষ্ট, কোর্মা। আহা...... । <img src=" style="border:0;" /> আপনাদেরও বলি এবার গরুর মাংশটা এভোয়েড করুন।



এছাড়া তো সেমাই, পায়েশ, জর্দা আর বিভিন্ন রকম মিষ্টি তো থাকছেই।

জানিয়ে দিলাম আমার পছন্দের খাবার গুলো। আসছি কিন্তু......... <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29235012 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29235012 2010-09-04 12:24:55
ইফতারের দাওয়াত নিয়ে যত ঝামেলা !! " style="border:0;" /> এইতো, প্রায় দিনই ইফতারির দাওয়াত পাচ্ছি। সাত রোজার পর থেকে বেশী শুরু হয়েছে। কোন কোন দিন ডবলও <img src=" style="border:0;" /> দাওয়াত পাচ্ছি। ভালো অপশন রেখে অন্যটা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করছি। "ভালো অপশন" অর্থ হলো, কার বাড়ীতে ভালো ইফতারি রান্না হতে পারে। আর সেটা কত্ত মজা হতে পারে। <img src=" style="border:0;" />

এইতো কয়েকদিন ধরেই একের পর এক ব্লগ বন্ধুদের বাসায় ইফতার করছি। আরো কয়েকটা সিরিয়ালে আছে। <img src=" style="border:0;" />

কি যে করি বলেন তো!! আপনারা দাওয়াত দিলে তো আবার নিষেধও করতে পারি না। প্রিয়জন বলে কথা!!! <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29229384 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29229384 2010-08-25 12:30:20
বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও..............
জীবনে অনেক ধাপ পার হয়ে এসেছি। প্রতি ধাপেই পেয়েছি অনেক বন্ধু। কখনও খারাপ আবার কখনও ভাল। এই ভালো খারাপ আর মাঝামাঝি মিশিয়েই জীবনের টুকরো টুকরো সৃত্মিগুলো টক ঝাল মিষ্টি। সেক্ষেত্রে সব বন্ধুই আমার আমার আপন। সবাই আমার প্রিয়।

আমি যখন একা থাকি। মাঝে মাঝে সৃত্মি রোমন্হন করি। ঠিক সেই সময় গুলো কারো সাথে শেয়ার করি না বা আসে পাশে কেউ থাকে না। সৃত্মিগুলো যখন মনে পড়ে তখন আমার চোখের পাতা, চোয়াল, ঠোঁট, গালের পেশী কখনও শক্ত হয় আবার কখনও নরম হয়। মনের অজান্তেই একটু হেসে উঠি। আসলে এগুলো ঠিক সেই মূহুর্তের ভাবনাগুলোর বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু নিজেই নিজের সাথে সৃত্মিগুলো শেয়ার করি, তাই এমনটা হয়। আমি কখনও আমার মনের সাথে কথা বলি। কোন সৃত্মি হাসায় আবার কোন সৃত্মি কাঁদায়, কোন সৃত্মি আবার ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে আমার স্বভাববশতঃ দিনের একটা সময় আমি আগের সৃত্মিগুলো রোমন্হন করি। যে মূহুর্তগুলো একান্তই আমার।

যখন স্কুলে যেতাম না তখন কিছু অবুঝ বন্ধু পেয়েছিলাম। তারপর যখন স্কুল গেলাম। সেই দীর্ঘ স্কুলের ১০টি বছর অনেক চড়াই উৎরাই। কত বন্ধু, কত মান অভিমান। তখন বুঝতাম না। জীবনের এই বয়সে এসে ওদের কথা খুব মনে পড়ে। নষ্টালজিয়ায় পড়ে যাই। যেদিন স্কুলে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছিল সেদিন মনে আছে খুব কেঁদেছিলাম। আজ মনে পড়লে বুঝি সেদিনের চোখের পানির কারণটি কি ছিল?

এরপর কলেজ আর ভার্সিটির জীবন। সেখানেও অনেক বন্ধু। তারপর কিছুদিন বেকার জীবন। সেখানেও আড্ডার আসরের কিছু বন্ধু। তারপরে কর্পোরেটের মেকি জীবন। সেখানেও অজস্র বন্ধু। আর এই ব্লগে যে কত বন্ধু আছে আমার তা অগুনতি।

আসলে এই 'বন্ধু' এমন একটা টপিক যেখানে পাতার পর পাতা লিখে ফেলা যায় অনায়াসে। ছোট কথায় বোঝানো খুবই অসম্ভব।

আমার একটি জন্মগত স্বভাব হলো মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া। আমার একটা নেশা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব পাতানো। সেই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে যে অনেক সময় ক্ষতির সম্মুখীন হইনি, তা নয়। কিন্তু লাভের পাল্লাটাই ভারি সবচেয়ে।

আজও আমি সেই আমার ছোট্টবেলার অবুঝ বন্ধু থেকে শুরু করে এই আজকের বয়সের বন্ধুদের সাথে সমান ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে। কে কোথায় আছে, কে কি করছে সবই খবর রাখি। তবে অনেকের সাথে শত চেষ্টা সত্বেও যোগাযোগ করতে পারি না। খারাপ লাগে ওদের জন্য।

আমি সবসময় বন্ধুত্বের পক্ষে। আমার কোন শত্রু নাই কারণ শত্রুও আমার কাছে বন্ধুতুল্য। আজ এই বন্ধু দিবসে আমার সকল বন্ধুদের জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ভালবাসা। আমার সব বন্ধুরা ভাল থাক, সুস্থ্য থাক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29212542 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29212542 2010-08-01 11:01:04