somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান্ধবী বৃত্তান্তঃ মিলা, প্রহেলিকা প্রিয়তমাষু

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওকে আমি মাঝে মাঝে পোকা ডাকতাম। আমার মাথার ভেতরে, মনের গভীরে ঢুকে গিয়েছিল সে পোকার মতো, ঝিঁ ঝিঁ পোকার মতো। বেজে যেতো সারাদিন একটানা ঝিঁ ঝিঁ সুরে- আমার ভেতরে; হয়তোবা আমার কোন কাজ নেই- কিছুই করছিনা, হয়তোবা আমি ''এসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ'' ল্যাবে, হয়তো গান শুনছি, পড়ছি প্রিয় কোন বই, অথবা কিছুই পড়ছিনা, বাস কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমান, নীলক্ষেতের ফুটপাতের দোকানগুলোর সামনে ঝুঁকে ঝুঁকে বই দেখছি, একই রাস্তার একই পাশ দিয়ে হেঁয়ে যাচ্ছি - মিলা থাকতোই আমার সাথে- ছায়ার মতো- পোকার মতো- অবিকল।

এমনিতে মিলার সাথে আমার কোন মিল নেই। ও ভীষণ ছটফটে, অস্থির- আমি মোটেই না। ও ভীতু হলেও এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, কৌতুহলী, সপ্রতিভ, অবশ্যই ইন্টেলিজেন্ট । একটা জায়গায় আমাদের মিল ছিল- আমরা পড়তে পছন্দ করতাম। হাতের কাছে একটা বই দুনিয়াতে সবচেয়ে প্রিয় মানুষের অভাবও ওকে ভুলিয়ে দিতো। এবং ও কথা বলতো খুব চমৎকার করে। ওর সাথে আমার পরিচয় নেটে, খুব সাদামাটা পরিচয়। নেটে অনেক কথা হতো ওর সাথে, অনেক কথা- যেগুলো কোনদিন আর কারো সাথে হয়নি। প্রায় প্রতিদিন, সেইসব দিনে, তিন-চার ঘণ্টা ওর সাথে কথা বলেই কাটিয়ে দিতাম। অথচ আমি বড় আমিশুক, অন্তর্গত স্বভাবের মানুষ। কেনো জানি কাউকে আমি বন্ধু ভাবতে পারিনা। সারাক্ষণই নিজের ভিতরে ঢুকে থাকা আমি ক্রমশ বদলে যেতে থাকলাম- মিলা আসার পরে। মিলার মধ্যে কেমন একটা ছোট মেয়ে আছে! ছোট মেয়েটা আমাকে ক্রমাগত আমার চারপাশের সীমানার বাহিরে নিয়ে আসলো। আমি প্রেমে পড়ে গেলাম, ভীষণভাবে।

অথচ তখনো ওকে দেখিনি আমি, ভালো করে চিনিওনা। ওর সাথে আমার পরিচয় বারো দিনের।

এরপর আমার মধ্যে একটা নতুন অনুভূতির জন্ম হলো- ভয়ানক ভয়। সারাটা সময় আমি ভয়ে সঙ্কুচিত হয়ে থাকতাম- কেবলি মনে হতো মিলাকে হারিয়ে ফেলবো। কী দুঃসহ সেই ভয়! মাঝে মাঝে মিলাকে বলতাম। বেশিরভাগ সময় ও বিরক্ত হতো (এইসব কি? আপনার সারাদিন এইসব চিন্তা করা ছাড়া আর কোন কাজ নাই?), কখনো হাসতো ( সত্যি সত্যি হারায়ে গেলে তখন কি করবেন?), কখনো হয়তো ওর কিছুটা মায়া হতো ( উহু, আমিতো আছি, মরে যাইনিতো, কেন এমন করেন? )।

সময় চলে গেলো পাখির ডানায় ভর করে। একটা সময় ওর সাথে যোগাযোগটা কমে আসলো। ওর কলেজ বন্ধ, টেষ্ট পরীক্ষা শেষ। ও না চাইলে ওর সাথে যোগাযোগের কোন উপায় থাকতোনা। বাসার ল্যান্ড ফোনে কল করা নিষেধ ছিল। ও ফোন করতো অনেক দিন পরপর। সে সময়টা ও প্রায় অসুস্থ থাকতো। অসুখটা ওকে ওর পরীক্ষা পর্যন্ত তাড়া করলো। আর আমার দিনগুলো একা একা হয়ে যেতে লাগলো। ও কেমন আছে, কি করছে, পরীক্ষা কেমন হচ্ছে- কিছুই জানতাম না। কেমন একটা অস্থিরতার মধ্যে পার করলাম সময়টা। ওর পরীক্ষা যেদিন শুরু হলো সেদিনই ওর সাথে শেষবার দেখা হলো ( তখনো জানতাম না- শেষ)। কিভাবে যেনো সেইসব দিনও পার করে ফেললাম। ওর পরীক্ষাও শেষ হলো। ভেবেছিলাম এরপর সে ফোন করবে। একদিন করলো- তারপর কিছুদিন আর নাই- যেন পৃথিবীর কোথাও কোন মিলা নাই। আমার সমস্ত প্রেম অভিমান হয়ে যায়। অভিমান। এরপর একটা দিন রাতে সে যখন ফোন করে- আমি কথা বলতে পারিনা। আমার সমস্ত অভিমান গলায় কাঁটার মত বিঁধে আছে, আশ্রু জমে গেছে- নিজেকে পরাজিত মনে হয়, বড় শুণ্য মনে হয়।

এরপর আর কখনো মিলাকে পাইনি।

____________________________________________________
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×