somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইসব মৃত্যু

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি মরে গেলে কি হবে!

মৃত্যুচিন্তার জন্য সাতাশ বৎসর খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তাও আমি প্রায় সময় ভাবি আমি যদি সত্যি আজকেই মরে যাই কেমন হবে। মনে হয় তেমন কিছুই হবে না। আমি খুব বিশেষ কেউ না। প্রায় গুরুত্বহীন, ঘটনাহীন প্রাত্যাহিকতায় জীবনটা বয়ে বেড়াচ্ছি। মাঝে মধ্যেই একটা নিসঙ্গতায় ভুগি। কী একটা দুঃসহ বন্ধুহীন জীবন! আবার যখন মানুষের ভীড় হয়- বারবার মনে হয় কোন আড়ালে নিজেকে লুকাবো।

এই যে এইমাত্র বললাম বন্ধুহীন জীবনের কথা- আসলে সত্যি না। এই যে নিসঙ্গতা আর নিজেকে সবসময় আড়াল করতে চাওয়ার চেষ্টা- তাও সত্যি না। আমি জানিনা আসলে আমি কাকে বিভ্রান্ত করছি।

কেন আমার মধ্যে এই মৃত্যুচিন্তা আসে তার একটা কারণ আমার জানা আছে। আমার খুব দেখার ইচ্ছা আমার চারপাশের মানুষের কাছে আমার হঠাৎ অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়াটা কেমন লাগে। সম্ভবত মরে গেলে মানুষ অনেক দামী হয়ে যায়।

আমি খুব ভারী চশমা পড়ি। মাইনাস এইটিন পাওয়ারের গ্লাস। এই চশমার কারণে আমার চেহারায় একটা ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রের ছাপ পড়ে গেছে। খুব সম্ভবত এটাই আমার বড় পরিচয়। আমি মরে গেলে সবাই হয়তো বলবে- আহারে! কী ব্রিলিয়ান্ট ছেলে ছিল! অবশ্য আমার স্কুলজীবন, কলেজজীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টায় যে সিব সহপাঠীদের পেয়েছি প্রায় কারো সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয় নি।

আম্মা ভীষণ কষ্ট পাবে। এই ছেলের উপর তার আশা ছিল।

পরিবার-পরিজন?

বন্ধুরা?

মিলা?

আমি বুঝতে পারি এই মৃত্যুচিন্তা আসলে আমার এক ধরণের রোমান্টিক বিলাসিতা। প্রতিটা মৃত্যু মানুষকে ভীষণভাবে আঘাত দেয়। কত মৃত্যু দেখলাম!

আমাদের কলোনীতে একটা আপু ছিল- সোনিয়া। সোনিয়া আপুদের বাসা ছিল তিন তলায়। বিকেলে সোনিয়া আপু ব্যালকনিতে আসত। খেলার মাঠ থেকে- দেখতাম নোবেল ভাইয়াকে- ক্রিকেট খেলার ফাঁকে সেদিকে তাকিয়ে থাকতো। সেই ছোটবেলায়ও বুঝতাম তাদের মধ্যে প্রেম চলছে। হায়! কী দ্রুতই না সময় চলে গেল! সোনিয়া আপুরা কলোনী থেকে চলে। নোবেল ভাইয়ারাও। সেই সোনিয়া আপুর খোঁজ পেলাম অনেক অনেক দিন পর। পত্রিকার পাতায়। কী বীভৎস সেই মৃত্যু! সোনিয়া আপুর স্বামী তার স্ত্রীকে খুন করলেন। টুকরো টুকরো করে বস্তাবন্দী করলেন।

একটা বন্ধু ছিল আমার- নিসঙ্গ দুঃখী একটা মেয়ে। একদিন তুলি জোর করে আমাকে ওর বাসায় নিয়ে যায়। আগে আমি জানতাম না- ওর মা ওকে ছোটবেলায় ফেলে রেখে চলে যায়। এক জার্মান প্রফেসরকে বিয়ে করে জার্মানীতে। ওর মায়ের প্রতি ওর প্রচন্ড ঘৃণা। মায়ের সাথে ওর কোন যোগাযোগ ছিলনা। খুঁজতে খুঁজতে আমি একদিন ওর মাকে পেয়ে যাই। সেই বেদনার কাহিনী আমারও জানা হয়ে যায়। ঊনাদের বিয়েটা প্রেমের ছিল। তুলির বাবা ছিল ওর মায়ের প্রাইভেট টিউটর। এ বিয়েটা তুলির নানাদের পরিবার মেনে নেয়নি। তুলির মা নিজের ঐশ্বর্যের পরিবার ছেড়ে দরিদ্র স্বামীর ঘরে আসলেন। কী সংগ্রামই না করলেন! এর মধ্যে তুলির জন্ম হল। পড়াশোনা শেষ করলেন। সংসারের খরচ মেটাতে দুজনে মিলে চাকরি করলেন। কষ্টের আর আনন্দের কিছুদিন। একটা সময় রঙীন আলো ঝাপসা হয়ে আসে। তুলির বাবা জড়িয়ে পড়েন অন্য সম্পর্কের সুতায়। দূঃখে-হতাশায় ভেবেছিলেন আত্নহত্যা করবেন। ভাগ্য তাকে এক জার্মানের সাথে জার্মানী নিয়ে গেল। আমি যখন তুলিকে এই কাহিনী বলি তুলি তখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার দু সপ্তাহ পর তুলি আত্নহত্যা করে।

অনেক ছোটবেলায় এক ঈদের দিনে আমি আর আমার বন্ধু রুবাইয়াত খেলছিলাম আমাদের স্কুলের সামনের মাঠে। স্কুলের নতুন দালান উঠছিল তখন। মাঠে তখন অনেক ডোবার মত ছিল। খুব একটা গভীর না। ঈদের আগেরদিন প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল। ডোবাগুলি সব পানিতে ভর্তি। সেই ছোট ডোবাতেই আমার সামনেই আমি মরে যেতে দেখলাম আমার বন্ধুকে।

ভাইয়ার বন্ধু রুমন ভাই। খুব ভাল ফুটবল খেলতেন। একদিন বিকেলে খেলা শেষে বাসায় এসে অসুস্থ বোধ করলেন। সেই রাতে রুমন ভাই মারা যান।

ছিয়ানব্বইতে আমি ছিলাম ক্লাস সেভেনে। পূজার ছুটি চলছিল। আব্বা কেমন যেন অসুস্থ-রোগা হয়ে যাচ্ছেন দিনদিন। ডাক্তার দেখানোর পর অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। আব্বাকে জিইসির মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করানো হল। তখন আব্বার টিবির চিকিৎসা চলছিল। অবস্থা ভালো না হওয়ায় মামা এক প্রকার ডাক্তারদের ঝগড়া করে আব্বাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে ইন্ডিয়া। মাত্র আড়াই মাস অসুস্থ থেকে আব্বা মারা যান। আব্বার মারা যাওয়ার আটদিন পর আমার একমাত্র চাচাও মারা যান।

এতসব দুঃখজনক মৃত্যু দেখেও কতোটা নির্বিকারভাবে বেঁচে আছে।

৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×