somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসে মিলায় আল্লাহ তর্কে বহু দুর

০৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের নাস্তিক বন্ধুরা প্রায়ই বলে থাকেন যে-না দেখে বিশ্বাস করি না। কথাটা শুনে আমার সেই রুগীর কথা মনে পরে যে ডাক্তারের কাছে তার রোগ বর্ননা করছিল এভবে যে খাওয়ার পরে তার পেটে ক্ষুধা থাকে না। ক্ষুধার অনুভুতি যেমন শুধুমাত্র খাওয়ার আগেই পাওয়া যায় ঠিক তেমনি বিশ্বাসের প্রয়োজন তখনই হয় যখন কোন বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান থাকে না। জ্ঞানের দৌড় যেখানে শেষ, বিশ্বাসের যাত্রা সেখান থেকেই শুরু।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন আমি বল্লাম, আমার পকেটে ৫০০ টাকা আছে। এখন আপনি যদি আমাকে বিশ্বাস করেন তাহলে মেনে নেবেন যে আমার কাছে সত্যিই ৫০০ টাকা আছে, আর যদি অবিশ্বাস করেন তাহরে প্রমান চাইবেন। কিন্তু যদি আমি পকেট থেকে ৫০০ নোটটা বের করে দেখাই, তখন আপনি আমাকে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন মানতে বাধ্য হবেন যে আমার কাছে সত্যিই ৫০০ টাকা আছে। কাজেই তখন আর বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারই থাকছে না। কাজেই বিশ্বাস করেতে হয় সেই বিষয়েই যা প্রত্যক্ষ করা যায় না। সকল বৈজ্ঞানীক গবেষনার সুচনা হয় বিশ্বাসের মাধ্যমে। প্রথমে বিজ্ঞানীরা একটা কিছু বিশ্বাস করেন যাকে বলা হয় হাইপোথিসীস। তারপর সেই বিশ্বাসের আলোকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শুরু হয়। যদি গবেশনায় সেই বিষয়টা প্রমানিত হয়-কেবলমাত্র তখনই তা জ্ঞান হিসেবে গৃহীত হয়-তখন আর বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না।
আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপাটাও বিশ্বসের-অনুভবের কিন্তু জ্ঞানের নয়। কারণ মানুশের জ্ঞান কখনই সেই পর্যায়ে পৌছবে না। আল্লাহ তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে তারা তাকে বিশ্বাস করে কি না। এখন যদি সেই বান্দাদের সামনে তার অস্তিত্বের প্রমান প্রত্যক্ষভাবে এসে যায়, তখন তো আর পরীক্ষার কিছু থাকবে না, সবাইকে মানতেই হবে যে তিনি আছেন-ঠিক যেমন আমি ৫০০ টাকার নোটটা পকেট থেকে বের করে দেখালে আপনি মানতে বাধ্য হবেন যে আমার কাছে ৫০০ টাকা আছে। কাজেই আল্লাহর ঘোষিত পরীক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখার স্বর্থেই তিনি তার বান্দাদের সামনে প্রত্যক্ষ ভাবে হাজির হবেন না-যেদিন হবেন সেদিনই কেয়ামত সংগঠিত হবে এবং পরীক্ষার সময় উত্তীর্ন হয়ে যাবে। সেই পর্যন্ত আপনি আল্লাহর অস্তিত্বের পক্ষে যতগুলো যুক্তি পাবেন-বিপক্ষেও ঠিক ততগুলো যুক্তিই উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। কাজেই আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হবে সকল যুক্তির উর্ধে উঠে-এটাই পরীক্ষা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হবে তারাই মুসলমান এবং তারাই পরকালে তার প্রতিদান পাবে-আর যারা বিশ্বাস করবে না তাদের যুক্তি দিয়ে বুঝান কার পক্ষেই সম্ভব নয়-এমনকি রসুল(স:)কে কাছথেকে দেখেও তাঁর কাছথেকে সরাসরি দাওয়াত পেয়েও আবুলাহাব আবুজেহেলেরমত হতভাগারা হেদায়াত পায়নি। তাই বলে কি আমরা আস্তিকতার পক্ষে যুক্তি অনুসন্ধান করব না? অবশ্বই করব। এ'জন্য করব যে তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে-আমাদের চিন্তা শক্তিকে প্রসারিত করবে। এ'জন্যই আল্লাহ দুনিয়া ঘুরে তাঁর সুন্দর সুন্দর শৃস্টি সমুহ দেখতে বলেছেন যাতে করে মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি বিশ্বাস এবং কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধিপায়।
নাস্তিকরা বলেন যে তারা প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করেন না-অথচ তারাই কোন অকাট্য প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ নেই। আমরা যারা আস্তিক তারা এটা মেনে নিয়েই আল্লাহকে বিশ্বাস করি যে তাঁর অস্তিত্ব পৃথিবীতে কখনই প্রকাশিত বা প্রমানিত হবে না এবং প্রমানিত হবে না বলেই বিশ্বাসের প্রয়োজন। কিন্তু নাস্তিকেরা যখন "প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করি না " ঘোষনা দিয়ে "আল্লহ নেই"তে বিশ্বাস করে তখন তাকে ভন্ডামী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
এই পর্যায়ে আমার কিছু বন্ধু বলার চেস্টা করে যে "যা নাই তা প্রমানের প্রয়োজন নেই" বা "আছে প্রমানিত হয়নি বলেই তা নেই"। তারা যেহেতু বিজ্ঞানের পুজারী তাই বিজ্ঞান থেকেই সবার জানা দুটি উদাহরন দিচ্ছি যেখানে "নেই" প্রমান করতে হয়েছে। প্রথমটি ক্যামেস্ট্রীর প্রানস্বত্ব মতবাদ। প্রায় কয়েকশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেছেন যে প্রানী সংশ্লীস্ট উপাদানগুলি যেমন ইউরিন, শর্করা ইত্যাদি প্রানের অস্তিত্ব ছাড়া পরীক্ষাগারে তৈরী করা সম্ভব নয়। পরে যখন পরীক্ষাগারে প্রানীজ উপাদানগুলি তৈরী করা সম্ভব হল-তখন বিজ্ঞান বল্ল যে 'প্রানস্বত্ব' বলে কিছু নাই। একই ভাবে ইথারের কথা বলা যায়। পদার্থবিজ্ঞানীরা বহুদিন বিশ্বাস করেছেন পরমানুর ইলেক্ট্রন ও প্রটনের মাঝে যে ফাকা যায়গা আছে তা ইথারে পুর্ন থাকে। ইথার নেই এটা প্রমানিত হওয়া আগ পর্যন্ত বিজ্ঞান বলতে পরেনি যে ইথার নেই। কাজেই আল্লার অস্তিত্ব নেই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত নাহওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না যে আল্লা নেই। বিজ্ঞান শুধু এটুকু বলতে পারে যে সে জানে না আল্লাহ আছে কি নেই। সুতরাং বিজ্ঞানের দোহাই দিলেও এবং "প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করি না" এর মত অবাস্তব কথা বল্রেও নাস্তিকরা আসলে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যে আল্লহ নেই। এই দিক দিয়ে ধর্মান্ধদের সাথে তাদের তেমন কোন পার্থক্য আমি দেখি না।
স্বরণ করুন-এই নাস্তিকরা যখন রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করে কমিউনিজম প্রতিস্ঠা করেছিল তখন তাদের হাতে কি কোন অকাট্ট প্রমান ছিল যে কমিউনিজমের মাধ্যমেই মেহনতি মানুশের মুক্তি আসবে? মোটেই না বরং তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করত। এবং সেই বিশ্বাস পরীক্ষা করতে গিয়ে ৭০ বছরে কয়েক কোটি মানুষ হত্যা করে এবং শতকোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে শেষ পর্যন্ত প্রমানিত হয়েছে যে কমিউনিজম মানুষের মুক্তির পথ নয় বরং ধ্বংসের পথ। তাহলে এরা আবার কোন যুক্তিতে বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলে? এরাই তো চরম অন্ধ বিশ্বাসী।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৬
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×