আমাদের নাস্তিক বন্ধুরা প্রায়ই বলে থাকেন যে-না দেখে বিশ্বাস করি না। কথাটা শুনে আমার সেই রুগীর কথা মনে পরে যে ডাক্তারের কাছে তার রোগ বর্ননা করছিল এভবে যে খাওয়ার পরে তার পেটে ক্ষুধা থাকে না। ক্ষুধার অনুভুতি যেমন শুধুমাত্র খাওয়ার আগেই পাওয়া যায় ঠিক তেমনি বিশ্বাসের প্রয়োজন তখনই হয় যখন কোন বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান থাকে না। জ্ঞানের দৌড় যেখানে শেষ, বিশ্বাসের যাত্রা সেখান থেকেই শুরু।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন আমি বল্লাম, আমার পকেটে ৫০০ টাকা আছে। এখন আপনি যদি আমাকে বিশ্বাস করেন তাহলে মেনে নেবেন যে আমার কাছে সত্যিই ৫০০ টাকা আছে, আর যদি অবিশ্বাস করেন তাহরে প্রমান চাইবেন। কিন্তু যদি আমি পকেট থেকে ৫০০ নোটটা বের করে দেখাই, তখন আপনি আমাকে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন মানতে বাধ্য হবেন যে আমার কাছে সত্যিই ৫০০ টাকা আছে। কাজেই তখন আর বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারই থাকছে না। কাজেই বিশ্বাস করেতে হয় সেই বিষয়েই যা প্রত্যক্ষ করা যায় না। সকল বৈজ্ঞানীক গবেষনার সুচনা হয় বিশ্বাসের মাধ্যমে। প্রথমে বিজ্ঞানীরা একটা কিছু বিশ্বাস করেন যাকে বলা হয় হাইপোথিসীস। তারপর সেই বিশ্বাসের আলোকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শুরু হয়। যদি গবেশনায় সেই বিষয়টা প্রমানিত হয়-কেবলমাত্র তখনই তা জ্ঞান হিসেবে গৃহীত হয়-তখন আর বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না।
আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপাটাও বিশ্বসের-অনুভবের কিন্তু জ্ঞানের নয়। কারণ মানুশের জ্ঞান কখনই সেই পর্যায়ে পৌছবে না। আল্লাহ তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে তারা তাকে বিশ্বাস করে কি না। এখন যদি সেই বান্দাদের সামনে তার অস্তিত্বের প্রমান প্রত্যক্ষভাবে এসে যায়, তখন তো আর পরীক্ষার কিছু থাকবে না, সবাইকে মানতেই হবে যে তিনি আছেন-ঠিক যেমন আমি ৫০০ টাকার নোটটা পকেট থেকে বের করে দেখালে আপনি মানতে বাধ্য হবেন যে আমার কাছে ৫০০ টাকা আছে। কাজেই আল্লাহর ঘোষিত পরীক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখার স্বর্থেই তিনি তার বান্দাদের সামনে প্রত্যক্ষ ভাবে হাজির হবেন না-যেদিন হবেন সেদিনই কেয়ামত সংগঠিত হবে এবং পরীক্ষার সময় উত্তীর্ন হয়ে যাবে। সেই পর্যন্ত আপনি আল্লাহর অস্তিত্বের পক্ষে যতগুলো যুক্তি পাবেন-বিপক্ষেও ঠিক ততগুলো যুক্তিই উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। কাজেই আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হবে সকল যুক্তির উর্ধে উঠে-এটাই পরীক্ষা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হবে তারাই মুসলমান এবং তারাই পরকালে তার প্রতিদান পাবে-আর যারা বিশ্বাস করবে না তাদের যুক্তি দিয়ে বুঝান কার পক্ষেই সম্ভব নয়-এমনকি রসুল(স
নাস্তিকরা বলেন যে তারা প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করেন না-অথচ তারাই কোন অকাট্য প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ নেই। আমরা যারা আস্তিক তারা এটা মেনে নিয়েই আল্লাহকে বিশ্বাস করি যে তাঁর অস্তিত্ব পৃথিবীতে কখনই প্রকাশিত বা প্রমানিত হবে না এবং প্রমানিত হবে না বলেই বিশ্বাসের প্রয়োজন। কিন্তু নাস্তিকেরা যখন "প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করি না " ঘোষনা দিয়ে "আল্লহ নেই"তে বিশ্বাস করে তখন তাকে ভন্ডামী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
এই পর্যায়ে আমার কিছু বন্ধু বলার চেস্টা করে যে "যা নাই তা প্রমানের প্রয়োজন নেই" বা "আছে প্রমানিত হয়নি বলেই তা নেই"। তারা যেহেতু বিজ্ঞানের পুজারী তাই বিজ্ঞান থেকেই সবার জানা দুটি উদাহরন দিচ্ছি যেখানে "নেই" প্রমান করতে হয়েছে। প্রথমটি ক্যামেস্ট্রীর প্রানস্বত্ব মতবাদ। প্রায় কয়েকশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেছেন যে প্রানী সংশ্লীস্ট উপাদানগুলি যেমন ইউরিন, শর্করা ইত্যাদি প্রানের অস্তিত্ব ছাড়া পরীক্ষাগারে তৈরী করা সম্ভব নয়। পরে যখন পরীক্ষাগারে প্রানীজ উপাদানগুলি তৈরী করা সম্ভব হল-তখন বিজ্ঞান বল্ল যে 'প্রানস্বত্ব' বলে কিছু নাই। একই ভাবে ইথারের কথা বলা যায়। পদার্থবিজ্ঞানীরা বহুদিন বিশ্বাস করেছেন পরমানুর ইলেক্ট্রন ও প্রটনের মাঝে যে ফাকা যায়গা আছে তা ইথারে পুর্ন থাকে। ইথার নেই এটা প্রমানিত হওয়া আগ পর্যন্ত বিজ্ঞান বলতে পরেনি যে ইথার নেই। কাজেই আল্লার অস্তিত্ব নেই এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত নাহওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না যে আল্লা নেই। বিজ্ঞান শুধু এটুকু বলতে পারে যে সে জানে না আল্লাহ আছে কি নেই। সুতরাং বিজ্ঞানের দোহাই দিলেও এবং "প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করি না" এর মত অবাস্তব কথা বল্রেও নাস্তিকরা আসলে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যে আল্লহ নেই। এই দিক দিয়ে ধর্মান্ধদের সাথে তাদের তেমন কোন পার্থক্য আমি দেখি না।
স্বরণ করুন-এই নাস্তিকরা যখন রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করে কমিউনিজম প্রতিস্ঠা করেছিল তখন তাদের হাতে কি কোন অকাট্ট প্রমান ছিল যে কমিউনিজমের মাধ্যমেই মেহনতি মানুশের মুক্তি আসবে? মোটেই না বরং তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করত। এবং সেই বিশ্বাস পরীক্ষা করতে গিয়ে ৭০ বছরে কয়েক কোটি মানুষ হত্যা করে এবং শতকোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে শেষ পর্যন্ত প্রমানিত হয়েছে যে কমিউনিজম মানুষের মুক্তির পথ নয় বরং ধ্বংসের পথ। তাহলে এরা আবার কোন যুক্তিতে বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলে? এরাই তো চরম অন্ধ বিশ্বাসী।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


