আবার নতুন করে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। আমরা কি কোন দিন এই বিতর্ক থেকে বের হতে পারব না? গত ৩৭ বছরেও পারলাম না আর কবে পারব?
এই বিতর্ক শেষ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কাহিনীসহ একটি পুর্নাঙ্গ তালিকা তৈরী করা। আমার খুবই অবাক লাগে যখন দেখি প্রতি ৫ বছর পরপর ৭-৮ কোটি মানুষের ভোটার লিস্ট তৈরী হয়(এবার আবার ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হচ্ছে), ৮-১০ বছর পর পর আদমশুমারীতে ১৪-১৫ কোটি মানুষ গুনেফেলা হয় অথচ ৩৭ বছরেও মাত্র ত্রিশলাখ মানুষের একটা পুর্নাঙ্গ তালিকা তৈরী হয় না। যাদের জন্য আমরা এই স্বাধীন দেশটা পেলাম তারা কি শুধুই একটা সংখ্যা হয়ে থাকবে? তাদের নাম ঠিকানা এবং বীরত্বপুর্ণ কাহিনী কি আমারা জানব না, আমাদের পরবর্তি প্রজন্মও জানবে না?
আচ্ছা এ'রকম একটা তালিকা তৈরী করা কি আসলেই খুব কঠিন? সরকার যদি প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওয়ার্ড কমিশনকে নির্দেশ দেয় তাদের এলাকার সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম এবং যুদ্ধকালীন অবদান লিপিবদ্ধকরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর জন্য - তাহলে এই কাজ করতে কয়দিন লাগবে? একটা ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে এক মাসের বেশি লাগার কোন কারণ নাই - পরে সেগুলো একত্রিত এবং যাচাই বাছাই করে পুর্নাঙ্গ তালিকা তৈরী করতে নাহয় আর ছয়মাস লাগবে। সবমিলিয়ে এক বছরের বেশী লাগার কোন কারণ আছে কি?
আচ্ছা সরকারের বাইরে কোন সংগঠন কি এই কাজ করতে পারে না? আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক সংগঠনেরইতো প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে শাখা আছে - তারা উদ্যোগ নিয়ে এই কাজটা করছে না কেন?
আমাদের নবগঠিত সেক্টরকমান্ডারস ফোরামের খবর কি? তারাও তো উদ্যোগটা নিতে পারে। বর্তমানে প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থার যা উন্নতি হয়েছে তাতে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরীর উদ্যোগও নেয়া যেতে পারে। বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি থানায় ইলেক্ট্রিসিটি পৌছেগেছে। আর মোবাইলের কল্যানে ইন্টারনেটতো এখন পকেটে। একটা সেন্ট্রাল ডেটাবেজ আর ব্রাউজার বেসড ইন্টাফেস তৈরী করে সারাদেশ থেকে এই সংক্রান্ত ডাটা এন্ট্রির ব্যাবস্থাওতো করা যায়। প্রতিটি থানায় একটি করে সেচ্ছাসেবী কমিটি করাহলে এবং তাদের মধ্যে এমন একজনকে রাখলে যার কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি আছে - এই তথ্য সংগ্রহতো বিনামুল্যেই হবার কথা। আর খরচ হলেই বা কত? মাত্র দশ লাখ মানুষ ১০০ টাকা করে চাঁদা দিলে ১০ কোটি টাকা হয় - এই কাজে কি এরচেয়ে বেশি খরচ হবে? আর ৯ কোটি নাগরিকের মধ্যে কি মাত্র দশ লাখ মানুষ পাওয়া যাবে না যারা এই মহৎ কাজের জন্য মাত্র ১০০ টাকা খরচ করতে রাজি হবে?
এই কাজের জন্য সময় কিন্তু খুব বেশী নাই। এখনও অনেক মানুষ বেঁচে আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষি। আর দশ বছর পর কিন্তু এই মানুষদের অনেকেই বেঁচে থাকবেন না। সুতরাং যতই দিন যাবে কাজটা ততই কঠিন হবে। আর বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রচারনার যুগ - মিডিয়াতে যা প্রচারিত হবে তাই মানুষের মাথায় থাকবে - যুক্তিতর্ক দিয়ে কয়জনকে বুঝান যায়?
আসুন সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের কাছে দাবি জানাই তারা যেন জীবিত এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন অবদানসহ একটা পুর্ণঙ্গ তালিকা তৈরীর মাধ্যমে এই বিতর্ক স্থায়ীভাবে সমাধান করে দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


