somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিয়া । Tiya

২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার খুব কাছের(!) এক ফ্রেণ্ডের নাম টিয়া । এই আজিব নামকরনের পেছনে এক আরো আজিব উপাখ্যান আছে । ওর জন্মের সময় বাসার পাশে মরিচ গাছের ঝাঁড় টাইপ কিছু একটা ছিল । সেখানে নাকি ভোরবেলা দুনিয়ার টিয়া পাখি এসে জড় হত মরিচের লোভে । টিয়ার অত্যাচারে টিয়ার দাদি বিরক্ত হলেও দাদাজান খুব ভালবাসতেন পাখি গুলোকে, কাজেই ঝাঁড় গুলোতে কেউ হাত দিত না । দাদি শেষমেশ সইতে না পেরে শুভদিন দেখে দাদাজানের অনুপস্থিতিতে মরিচের ঝাড় গুলো ছেঁটে দিলেন । দাদাজান তখনই নাকি ঠিক করেছিলেন তার ছেলের বংশের প্রথম মেয়ের নাম রাখবেন টিয়া । আমার প্রশ্ন হল, যদি টিয়া না এসে প্যাঁচা আসতো, তাহলে ওর নাম কি রাখা হত ?





টিয়ার আম্মার নাম ____ । ডট ডট দিলাম কারন আমার নিজেরও জানা নেই উনার নাম কি । আন্টির সাথে আমার পরিচয় ক্লাস সেভেনে থাকতে, স্কুলের গেটের সামনে । টিয়া নিজে থেকেই আন্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল কলেজের ফার্স্টবয় হিসেবে । মিথ্যা বলার কারন কি সেটা মাথায় না ঢুকলেও সুফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম । আন্টি পারলে আমাকে বাসায় জায়গীর হিসেবে রাখেন তার ‘গাধী’ মেয়েটিকে মানুষ করার জন্য । পরে টিয়ার কাছে জেনেছিলাম, “ফার্স্টবয়” জিনিসটা নাকি মেয়েদের মায়েদের কাছে লিপস্টিক বা নেইল পলিশের মতই গুরুত্বপূর্ন বস্তু । আন্টির সাথে পরিচয়ের এখন প্রায় তিন বছর হতে চলল । আমার দৌড় ইতোমধ্যেই আন্টি জেনে গেছেন । টিয়া এস এস সি’তে গোল্ডেন পেলেও ফার্স্টবয় আমি কোন মতে “এ মাইনাস” পেয়েছিলাম । আগে আন্টি তুমি তুমি করলেও এখন তুই তুই করেন । আমার অবশ্য তাতে কিছু যায় আসে না ।

একদিনের ঘটনা, স্কুল ছুটির পর আমি আর টিয়া গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আন্টির অপেক্ষায় । আন্টি আসলে ওকে পাঠিয়ে দিয়ে আমি বাসায় যাবো । এমন সময় টিয়ার কিছু ফ্রেণ্ড ওকে ডাক দিলে ও আবার স্কুলের ভেতরে ঢুকে যায় । তার পরপরই আন্টি আসলেন, এসেই প্রশ্ন,

-“ও কোই?” ।

-আমি বললাম, “তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল । এখন কতিপয় বান্ধবী’র ডাকে সাড়া দিয়ে ভেতরে গেছে” ।

-আন্টি বিস্মিত গলায় বললেন, “এই, তুই আমাকে তুমি তুমি করছিস কেন ?”

-“আমি তো সবসময় আপনাকে তুমি তুমি করেই বলি”।

-“সবসময় তুমি করে বলিস ? সে কি ! আমি তো মনে করি আপনি করে বলিস”।

-“আমি আমার অতীব প্রিয়জনদের তুমি করে বলি । আপনি আমার অতীব প্রিয়জন বলে আমি তোমাকে আপনি না, তুমি করেই বলি”।

আন্টি সম্ভবত আরো কিছু বলতে চাচ্ছিলেন । টিয়া গেট দিয়ে বেরিয়ে এল । আমি উল্টোদিকে হাটতে শুরু করলাম । মানুষ’কে কনফিউজ করা বেশ সহজ কাজ তো ! জয়তু হুমায়ূন স্যার !! :P :P :P :P





টিয়ার সাথে আমার পরিচয়’র ঘটনাও দারুন হিরোয়িক । ক্লাস সিক্সে এসে ও আমাদের স্কুলে এসে ভর্তি হয় । মেয়েদের সম্পর্কে আমার তেমন কোন ইন্টারেস্ট ছিল না কোন কালেই । উলটো’টাও পড়তে পারেন । আমার সম্পর্কে মেয়েদের কোন ইন্টারেস্ট ছিল না কোন কালেই । যেখানে অন্যন্য কোন মেয়ের’ই আমার প্রতি কোন আসক্তি ছিল না, সেখানে টিয়ার মত মেয়ের কথা তো ভাবাও পাপ ! টিয়া আসার পর ক্লাসের পোলাপাইন’দের মধ্যে একটা চেঞ্জ প্রকট ভাবে দেখা যেতে লাগলো । যে হ্রদয় প্রথম ডেস্কে বসার জন্য প্রতিদিন মারপিট লাগিয়ে দেয়, সে নিজে থেকেই টিয়া’কে ওই ডেস্ক ছেড়ে দিয়ে ওর পেছনের ডেস্কে গিয়ে বসে । শারমীন’কে নিয়ে সদা ব্যস্ত মানিক এখন পারলে শারমীন’কে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক দিয়ে বসে । আমার টিয়াকে কোন ব্যস্ততা ছিল না, জানতাম ব্যস্ত হয়েও কোন লাভ নেই অযথা সবার টিটকারি কে শুনতে চায় ?

মিড টার্মের পর একদিন টিফিনে ক্যান্টিনে বসে কোক দিয়ে ভিজিয়ে পটেটো ক্র্যাকার্স খাচ্ছিলাম (জিনিসটা একেবারে “অসাম শালা”) । এমন সময় দেখলাম টিয়ার প্রবেশ । সাথে হ্রদয় অথবা মানিক; একটা ছ্যাচ্ছোর’কে আশা করেছিলাম, দেখি কেউ নেই । আমার কি ? আমি “পটেটো ক্র্যাকার্স উইথ কোকাকোলা” নিয়েই খুশি । স্কুল কলেজের ক্যান্টিন সাধারনত বড় ভাই/আপুদের দখলেই বেশি থাকে । আমাদেরটাও এর ব্যতিক্রম না । টেনের ভাই’রা ধুমসে আড্ডা দিচ্ছিল তখন । টিয়া ক্যান্টিনে প্রবেশের মিনিট দু’য়েক এর মধ্যেই বুঝে গেলাম আমাদের ক্লাসের মত সিনিয়র ক্লাস গুলোতেও ভালো আলোড়ন তুলেছে ও । সাইফ ভাই, রিসাল ভাই, অমিত’দা সবাই ওকে এটা সেটা বলছিল । আমি স্পস্ট বুঝতে পারছিলাম টিয়ার এগুলো একটুও ভালো লাগছে না । তাই নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম ।

আমি কাছে যেতে যেতে দেখি সাইফ ভাই ওর হাত ধরার চেস্টা করছে, টিয়া বার বার হাত সরিয়ে নিচ্ছে । আমি বুঝলাম না, স্কুলের ভেতর এসব করার সাহস পায় কোথায় এরা ? আমি গিয়ে ওদের সামনে দাঁড়ালাম, নিজেকে তখন পাহাড়ের মত বিশাল লাগছিল । বললাম,



-সাইফ ভাই, ওরে যেতে দ্যান ।

-ওই, তুই আবিরের ছোট ভাই না? তুই আমাগো চিনস না? ফোট এন থে... X((

-ভাই, ওর সাথে কিছু করলে আপনাদের সানডে মানডে এক হয়ে যেতে পারে ।

-ওই পোলা, ওই ! কি করবি তুই আমাগো ? :D :D

কি হলো বুঝলাম না, পাশের টেবিল থেকে একটা কাঁচের কোকের বোতল তুলে ধাম করে মেরে দিলাম সাইফের মাথায় । রিসাল, অমিত ভাই পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো, উলটো ঘুরেই দিল দৌড় । আমি রক্তমাখা কাঁচের বোতল হাতে নির্বাক দাঁড়িয়ে । টিয়া দেখি পরম নির্ভরতায় আমার হাত ধরলো । ওর চোখে আমার জন্য ভালোবাসা যেন ঠিকরে বের হচ্ছে । সামনে কি হবে তা আর আমি ভাবতে চাইছিলাম না তখন । স্বপ্নের পরী এখন আমার পাশে !

ঘটনা এমন ঘটলে তো ভালোই হত । আসলে যা ঘটেছিল তা হচ্ছে –



আমি কাছে এগিয়ে গিয়ে টিয়া’কে বললাম, ‘এই, তোমাকে ফারিয়া ম্যাম ডাকছেন’ । ও আমার দিকে তাকিয়ে ‘ধন্যবাদ’ টাইপ একটা লুক দিয়ে চলে গেল । আমি এবার আস্তে আস্তে ঘুরে সাইফ ভাইদের দিকে তাকালাম । ভয়ে আমার পাঁ কাপঁছিল, অস্বীকার করবো না । ক্লাস সিক্সে পড়ে টেনের ভাইদের সাথে পাঙ্গা নেয়া আর ক্লাস টিচার ম্যাম’কে লাভ লেটার পাঠানো একই কথা । আমি পাশের টেবিল থেকে একটা কোকের বোতল নিয়ে আস্তে করে সাইফ ভাইয়ের হাতে দিলাম, আরো দুইটা’র অর্ডার দিয়ে রিসাল ভাইয়া আর অমিত’দার হাতেও কোকের বোতল ধরিয়ে দিলাম । আস্তে করে ক্যান্টিন বয় আকরাম’কে বললাম, “এই তিনটা কোকের বিলও আমার নামে লিখ” । কোকের বোতল হাতে পেয়েও যেন ওদের রাগ কমে না । আমি পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সাথে সাথে ৩ টা করে সিঙ্গারা, সমুচার অর্ডার’ও দিয়ে ফেললাম । আকার ইঙ্গিতে ভাইয়াদের আমি যা বোঝালাম তার সারমর্ম হচ্ছে,

“টিয়া আমার খালাত বোন । খালাত হলে কি হবে আপন বোনের মতই । টাঙ্গাইলে নতুন আসছে, কাউকে চেনে না । খালা আমার উপর ওর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন । দয়া করে ভাইরা যেন ওকে আর “নজর” না দেয় । ছোট ভাই’য়ের বোন তো আখের মে বোন’হি হোতা হ্যায় না?” আর কোক সিঙ্গারা যে মাঝে মাঝে ভ্যাট হিসেবে পাওয়া যাবে, তাতো বলাই বাহূল্য !



নাহ, বড় ভাইয়া’রা পরবর্তী’তে ওকে আর ডিস্টার্ব করে নাই, ব্ল্যাকমেইল করে পুরি, সিঙ্গারা'ও খায় নাই ।

ওই ঘটনার পরদিন ক্লাসে গিয়ে দেখি খোদ টিয়া আমার জন্য ওর পাশের সিট রেখে দিয়েছে । চিমটি কাটলাম নিজেকে, স্বপ্ন না, এ যে সত্যি !!! আজও আমরা একসাথেই আছি । টিয়ার মেয়ের নাম কি হবে তা নিয়ে আমার বাবা কিঞ্ছিত টেনশনে আছেন , ভাগ্যিস আমাদের বাসার আশেপাশে কোন গাছ নেই !
;) ;) ;) ;)





[[ সকল ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক ]]
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×