শেখ হাসিনা বাংলার মানুষকে একটি বিশাল চমক দিলেন! তিনি আগেই সাংবাদিকদের মজা করে বলেছিলেন যে মন্ত্রিসভা হবে "রসগোল্লা"র মত। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন।
এবারের মন্ত্রিসভা দেখে আমি মোটামুটি তুষ্ট; মোটামুটি নয়, বলা যায়, বেশ ভালোই খুশি হয়েছি । সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি এ কারণে যে তিনি তাঁর আত্মীয়দের মন্ত্রী করেন নি। তবে, হ্যাঁ, যদি যোগ্য কেউ থাকতেন, তাঁকে অবশ্যই করা উচিত। সেদিক থেকে আত্মীয়দের মধ্যে তরুণ সাংসদ ফজলে নূর তাপস বেশ যোগ্য ছিল। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা তাঁকে মন্ত্রীত্ব না দিয়ে বেশ বুদ্ধিমানের মত কাজ করেছেন। কারণ, এবার তাপস অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। আরেকটি ভাল দিক হল সকল প্রকার বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হয়েছে। ৩২ জনের মধ্যে ২৪ জনই নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। নবীন-প্রবীণের সমাবেশও বেশ ভালই ঘটেছে।
কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়। প্রবীণ চার সংস্কারপন্থী নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে। নি:সন্দেহে শেখ হাসিনা একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু একই সাথে আমার মধ্যে একটি ভয়ও কাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দুই-একদিন আগে আমাকে বলেছিলেন যে সংস্কারপন্থী চার নেতাকে মন্ত্রিত্ব না দিলে শেখ হাসিনার লাশ পরে যাবে! এখন দেখার বিষয় হল শেখ হাসিনা এসব নেতার কূটকৌশল থেকে কিভাবে নিজেকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পারেন!
রাশেদ খান মেননকে এবং হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রিসভায় না দেখে বেশ হতাশ হয়েছি। অন্যদিকে, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় এবং ডা: মোদাচ্ছের আলীকে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা হিসেবে দেখেও হতাশ হয়েছি।
এবারের মন্ত্রিসভা অনেক ছোট হয়ে গেল মনে হয়। আমার ধারণা, শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনানুযায়ী আরো কিছু মন্ত্রী নিযুক্ত করবেন। নতুন অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। আশা করি, শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের কাজের সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনানুযায়ী পরিবর্তন করবেন।
তারপরও নতুন মন্ত্রিসভাকে স্বাগতম জানাই। আশা করি, তাঁরা জাতির স্বপ্ন পূরণে নিজেদেরকে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



