এটি একটি সত্য ঘটনা।
গতকাল ছিল আমার ৪০ তম জন্মদিন। তাই সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু অফিসে তো যেতে হবে ৯টার মধ্যেই। তাই অগত্যা উঠতেই হল! নিজেকে কোন রকম বিছানা থেকে টেনে তুললাম, ফ্রেস হয়ে নিলাম, নিচতলায় গেলাম নাস্তা খাওয়ার জন্য। মনে মনে আশা ছিল যে, আমার স্ত্রী আমাকে 'শুভ জন্মদিন' বলবে এবং সম্ভবত ছোটখাটো একটি গিফটও দিবে। কিন্তু কোথায় কিসের আশা! আমার স্ত্রী শুধু কোন রকমে 'শুভ সকাল' বলল; 'শুভ জন্মদিন' বলা তো দূরের কথা! মনটা খারাপ হয়ে গেল। তারপরও মনে মনে ভাবলাম স্ত্রী হয়ত ভুলে গেছে কিন্তু বাচ্চারা নিশ্চয়ই মনে রেখেছে। কারণ, তারা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে।
বাচ্চারা হৈচৈ করতে করতে নিচে এল, নাস্তা খেল; কিন্তু হায়, আমাকে উদ্দেশ্য করে তারা একটি শব্দও বলল না। শুধু স্কুলে যাওয়ার সময় আমার কাছে টাকা চাইল। বুঝুন, তখন কেমন লাগছিল আমার!
যাই হোক, ভগ্নমনে আমি অফিসে রওনা দিলাম। অফিসে পৌছেঁ আমার নির্ধারিত রুমে বসার পরই ব্যক্তিগত সেক্রেটারি সোনিয়া এল এবং বেশ আদরের সাথে বলল, "শুভ সকাল বস। আজ তো আপনার জন্মদিন। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।" আমার বেশ ভাল লাগছিল তখন। অন্তত একজন হলেও আমার জন্মদিনটি মনে রেখেছে। তাও আবার সোনিয়া, যাকে আমি মনে মনে অনেক দিন আগে থেকেই ইয়ে করতে চাই...
দুপুর একটা বাজে। লাঞ্চের সময় এখন। ঠিক তখনই সোনিয়া আমার রুমে এল এবং আবারো বেশ আদুরে গলায় বলল, "আজ বাইরে বেশ চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল একটি দিন। তাছাড়া আজ আপনার জন্মদিনও। চলুন, আজ আমরা হোটেল জাকারিয়ায় গিয়ে দুপুরের লাঞ্চ করি; শুধু আপনি আর আমিই যাব। আর হ্যাঁ, আজকের খাবারের বিলটি কিন্তু আমিই দিব।" আমি বললাম, "ধন্যবাদ সোনিয়া। আমার খুবই ভাল লাগছে যে তুমি আমাকে এতটা আপন ভাব। তোমার আমন্ত্রণ বলে কথা! না বলি কিভাবে! চল, খেতে যাই।"
আমরা লাঞ্চের জন্য গেলাম, আমাদের পূর্বনির্ধারিত হোটেল জাকারিয়াতে। আমরা একটি প্রাইভেট কেবিনে বসলাম। সোনিয়া আগেই কেবিনটি বুকিং দিয়ে রেখেছিল। সোনিয়া বলল, "আপনর যদি আপত্তি না থাকে, আজ আমরা ড্রিংকস করতে পারি।" আমি তো খুবই খুশি। আমি বললাম, "অবশ্যই। নো প্রবলেম"। আমরা কিছু ড্রিংকস নিলাম এবং বেশ আয়েশ করে লাঞ্চ করলাম। আমি সত্যিই সোনিয়ার সঙ্গটি খুব উপভোগ করছিলাম।
লাঞ্চ শেষে অফিসে ফেরার পথে সোনিয়া বলল, "আজ এত চমৎকার একটি দিন... আমরা নিশ্চয়ই এখনি অফিসে যাচ্ছিনা, তাই না?" আমি বললাম, "আমিও তাই ভাবছিলাম। কিন্তু কি করব? তুমি কি কিছু ঠিক করেছ নাকি?" সে বলল, "আজ আমার অ্যাপার্টমেন্টে চলেন... আমার অ্যাপার্টমেন্ট এই গুলশানেই আছে..."
এমন আমন্ত্রণে আমি তো যারপরইনাই খুশি। কারণ, আমি আগে থেকেই জানতাম যে সোনিয়া একা থাকে বাসায়। তার হাসবেন্ড বিদেশে থাকে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমি মনে মনে কি ভাবছি... আমার স্বপ্ন বোধহয় বাস্তব হতে চলল...
তার অ্যাপার্টমেন্টে পৌছাঁর পর সোনিয়া বলল, "আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি একটু বেডরুমে যাব আর আসব।" আমি খুবই আনন্দেরে সাথে বললাম, "অবশ্যই"। আমি ভাবলাম আজ মনে হয় সত্যিই আমার কামনাটা পূরণ হতে চলল!
সে কিছুক্ষণ পরই এল। তার হাতে একটি বেশ বড় কেক... আর তার পেছনেই রয়েছে আমার স্ত্রী, বাচ্চারা, ডজন খানেক বন্ধু ও সহকর্মীরা... সবাই একসাথে গেয়ে উঠল- হ্যাপি বার্থডে টু ইউ...
আমি তো অবাক...
আমি তখনি বসে পড়লাম...
সোফার উপর...
নগ্ন অবস্থায়...
কি বুঝলেন?
.........
(পুরোটাই কাল্পনিক কৌতুক; আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। আর গতকাল তো আমার জন্মদিন ছিলই না)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



