somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জন্মদিনের একটি ঘটনা... ১৮+(ফান পোস্ট):-*:((X(

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটি একটি সত্য ঘটনা।

গতকাল ছিল আমার ৪০ তম জন্মদিন। তাই সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু অফিসে তো যেতে হবে ৯টার মধ্যেই। তাই অগত্যা উঠতেই হল! নিজেকে কোন রকম বিছানা থেকে টেনে তুললাম, ফ্রেস হয়ে নিলাম, নিচতলায় গেলাম নাস্তা খাওয়ার জন্য। মনে মনে আশা ছিল যে, আমার স্ত্রী আমাকে 'শুভ জন্মদিন' বলবে এবং সম্ভবত ছোটখাটো একটি গিফটও দিবে। কিন্তু কোথায় কিসের আশা! আমার স্ত্রী শুধু কোন রকমে 'শুভ সকাল' বলল; 'শুভ জন্মদিন' বলা তো দূরের কথা! মনটা খারাপ হয়ে গেল। তারপরও মনে মনে ভাবলাম স্ত্রী হয়ত ভুলে গেছে কিন্তু বাচ্চারা নিশ্চয়ই মনে রেখেছে। কারণ, তারা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে।

বাচ্চারা হৈচৈ করতে করতে নিচে এল, নাস্তা খেল; কিন্তু হায়, আমাকে উদ্দেশ্য করে তারা একটি শব্দও বলল না। শুধু স্কুলে যাওয়ার সময় আমার কাছে টাকা চাইল। বুঝুন, তখন কেমন লাগছিল আমার!X(

যাই হোক, ভগ্নমনে আমি অফিসে রওনা দিলাম। অফিসে পৌছেঁ আমার নির্ধারিত রুমে বসার পরই ব্যক্তিগত সেক্রেটারি সোনিয়া এল এবং বেশ আদরের সাথে বলল, "শুভ সকাল বস। আজ তো আপনার জন্মদিন। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।" আমার বেশ ভাল লাগছিল তখন। অন্তত একজন হলেও আমার জন্মদিনটি মনে রেখেছে। তাও আবার সোনিয়া, যাকে আমি মনে মনে অনেক দিন আগে থেকেই ইয়ে করতে চাই...;)

দুপুর একটা বাজে। লাঞ্চের সময় এখন। ঠিক তখনই সোনিয়া আমার রুমে এল এবং আবারো বেশ আদুরে গলায় বলল, "আজ বাইরে বেশ চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল একটি দিন। তাছাড়া আজ আপনার জন্মদিনও। চলুন, আজ আমরা হোটেল জাকারিয়ায় গিয়ে দুপুরের লাঞ্চ করি; শুধু আপনি আর আমিই যাব। আর হ্যাঁ, আজকের খাবারের বিলটি কিন্তু আমিই দিব।" আমি বললাম, "ধন্যবাদ সোনিয়া। আমার খুবই ভাল লাগছে যে তুমি আমাকে এতটা আপন ভাব। তোমার আমন্ত্রণ বলে কথা! না বলি কিভাবে! চল, খেতে যাই।"

আমরা লাঞ্চের জন্য গেলাম, আমাদের পূর্বনির্ধারিত হোটেল জাকারিয়াতে। আমরা একটি প্রাইভেট কেবিনে বসলাম। সোনিয়া আগেই কেবিনটি বুকিং দিয়ে রেখেছিল। সোনিয়া বলল, "আপনর যদি আপত্তি না থাকে, আজ আমরা ড্রিংকস করতে পারি।" আমি তো খুবই খুশি। আমি বললাম, "অবশ্যই। নো প্রবলেম"। আমরা কিছু ড্রিংকস নিলাম এবং বেশ আয়েশ করে লাঞ্চ করলাম। আমি সত্যিই সোনিয়ার সঙ্গটি খুব উপভোগ করছিলাম।

লাঞ্চ শেষে অফিসে ফেরার পথে সোনিয়া বলল, "আজ এত চমৎকার একটি দিন... আমরা নিশ্চয়ই এখনি অফিসে যাচ্ছিনা, তাই না?" আমি বললাম, "আমিও তাই ভাবছিলাম। কিন্তু কি করব? তুমি কি কিছু ঠিক করেছ নাকি?" সে বলল, "আজ আমার অ্যাপার্টমেন্টে চলেন... আমার অ্যাপার্টমেন্ট এই গুলশানেই আছে..."

এমন আমন্ত্রণে আমি তো যারপরইনাই খুশি। কারণ, আমি আগে থেকেই জানতাম যে সোনিয়া একা থাকে বাসায়। তার হাসবেন্ড বিদেশে থাকে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমি মনে মনে কি ভাবছি... আমার স্বপ্ন বোধহয় বাস্তব হতে চলল...

তার অ্যাপার্টমেন্টে পৌছাঁর পর সোনিয়া বলল, "আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি একটু বেডরুমে যাব আর আসব।" আমি খুবই আনন্দেরে সাথে বললাম, "অবশ্যই"। আমি ভাবলাম আজ মনে হয় সত্যিই আমার কামনাটা পূরণ হতে চলল!

সে কিছুক্ষণ পরই এল। তার হাতে একটি বেশ বড় কেক... আর তার পেছনেই রয়েছে আমার স্ত্রী, বাচ্চারা, ডজন খানেক বন্ধু ও সহকর্মীরা... সবাই একসাথে গেয়ে উঠল- হ্যাপি বার্থডে টু ইউ...X(

আমি তো অবাক...:-* কি ভাবলাম... কি হল...X(
আমি তখনি বসে পড়লাম...
সোফার উপর...
নগ্ন অবস্থায়...

কি বুঝলেন? X(:((

.........
(পুরোটাই কাল্পনিক কৌতুক; আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। আর গতকাল তো আমার জন্মদিন ছিলই না);););)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩
২৪টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×