বুধবার বিকেলে কমিশনের বিশেষ বাহককে দিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশটি পাঠানো হয়।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইন ২০০১ এর ৪৬ ধারা অনুসারে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে তথ্য গোপন ও আইনভঙ্গের দায়ে কেন লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হবে না- তা ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মনজুরুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইনের ৪৬ ধারা অনুসারে গ্রামীণফোনকে শো-কজ করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে হবে।"
নোটিশে বলা হয়, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর কমিশনের একটি কমিটি গ্রামীণফোনের কার্যালয় পরিদর্শন করে। ওই সময় ই-ওয়ান সংযোগ তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারের মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপির যন্ত্রপাতি বিভিন্ন স্থানে স্থাপনের অভিযোগকে প্রমাণ করে। কমিটি জানতে পারে গ্রামীণফোনের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা সরাসরি এই অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
নোটিশে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সুবিধা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চুক্তি ও এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানোর আগে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণফোন ও এর সাবেক দুই প্রধান নির্বাহীসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৬ জানুয়ারি গুলশান থানায় মামলা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এ ধরনের 'শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ডে' জড়িত থাকারও অভিযোগে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেস টেল ও মালয়েশিয়ার ডিজি টেলিকমউনিকেশনসকেও একই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বিটিআরসি'র আইন ও নিবন্ধন বিভাগের সহকারী পরিচালক জিয়ান শাহ কবির ১৬ জানুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এতে অভিযোগ করা হয়, গ্রামীণফোনের বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক নরওয়ের প্রতিষ্ঠান 'টেলিনর' বাংলাদেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় উৎসাহ দিয়েছে বলে অনুমেয়। গ্রামীণফোনের 'মেইল সার্ভার' এ সন্দেহভাজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মেইল খতিয়ে দেখে কল টার্মিনেশনে সংস্থার সম্পৃক্ততাসহ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিজস্ব সংশ্লিষ্টতারও আলামত পাওয়া গেছে।
গ্রামীণফোনের ৬২ ভাগ শেয়ারের মালিক টেলিনর মালয়েশিয়াভিত্তিক ডিজি টেলিকমেরও অংশীদার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গ্রামীণফোনের হেড অফ রেভিনিউ অ্যাসুরেন্স এসপেন উইগ ০১৭১৩১৩০৪০০ নম্বরের কল রেকর্ড র্যাব সদস্যদের কাছে না দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশ দেন। পরে জানা যায় অ্যাকসেস টেল এর কল টার্মিনেশনের কাজে নম্বরটি ব্যবহৃত হতো।
ওই মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, গ্রামীণফোনের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক অস ও ওলা রি, সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর থর রান্ডহগ, সাবেক চিফ টেকনিক্যাল অফিসার যোগেশ সঞ্জিব মালিক, সাবেক সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর মেহবুব চৌধুরী, রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর খালিদ হাসান, চিফ টেকনিক্যাল অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর কাফিল এইচ এস মুঈদ, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. আরিফ আল ইসলাম ও হেড অফ রেভিনিউ অ্যাসুরেন্স এসপেন উইগ ওয়ারেনডরফ ।
গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত বছরের ফেব্র"য়ারি মাসে আরেকটি মামলা করেছিল র্যাব।
এছাড়া, ভিওআইপি ব্যবসার অভিযোগে এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬৮ কোটি টাকা জরিমানা করে বিটিআরসি। গ্রামীণফোন ওই জরিমানা পরিশোধ করেছে।
----------------------------
সূত্রঃ বিডিনিউজ ২৪ ডট কম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

