somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯ ও প্রাসঙ্গীক কিছু কথা।

১৪ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

You May Read This Article From "The Daily Ittefaq", Date: 07_04_2010,
Link: Click This Link

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের অন্যতম উপাদান হিসেবে পরিগণিত এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজরে মূল চালিকাশক্তি এটা অস্বীকার করার কোন পথ নাই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের র্কম-প্রক্রিয়া, ব্যবসা-বাণজ্যি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯ গৃহীত হয়ছে। একটি মাত্র রূপকল্প, ১০টি উদ্দশ্যে, ৫৬টি কৌশলগত বিষয়বস্তু এবং ৩০৬টি করণীয় বিষয়কে এ নীতিমালায় পিরামিড আকারে ক্রমবিভক্ত করে সাজানো হয়ছে। জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯ বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়সমূহকে স্বল্প(১৮ মাস বা তার কম সময়), মধ্য(৫ বছর বা তার কম সময়) ও তীর্ঘ(১০ বছর বা তার কম সময়) মেয়াদে বাস্তবায়নের নিমিত্তে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থাভিত্তিক বিন্যস্ত করা হয়ছে। যার মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করছ। এ নীতিমালা রাষ্ট্রের সকল পরিকল্পনাবিদ এবং নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য একটি পালনীয় নির্দেশিকা। একই সঙ্গে এটি ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ, এনজিও এবং সুশীল সমাজের জন্য সামাজিক উদ্যোগ এবং ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিতে জনসেবা প্রদানের জন্য একটি সার্বিক নির্দেশনা। অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে তার সুফল র্সবস্তরের মানুষের কাছে পৌছে দেবার লক্ষ্যে জনপ্রশাসণ কর্তৃক পালনীয় নির্দেশিকাই হচ্ছে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯।

বাংলাদেশ কাম্পউটার কাউন্সিলের ওয়বেপেইজে(http://www.bcc.net.bd) পিডিএফ ফরমেটে দেয়া উক্ত নীতিমালায় চোখবুলিয়ে দেখাযায় সরকার নিয়ন্ত্রীত ৪৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা ওয়ারী করণীয়, কৌশলগত বিষয়বস্তু, নীতিমালার ক্রমিক নম্বর, করণীয় বিষয়, প্রাথমিক ও সহায়ক বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং একই সাথে বাস্তবায়নের সময় ইত্যাদি বিষয় গুলোকে আলাদা করে টেবিল আকারে দেখানো হয়েছে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। এতে করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অতিসহযে তাদের করণীয় বিষয় গুলো সম্পর্কে অবহিত হয়ে প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তির লক্ষ্যে সার্বিক নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথে এগুতে পারবে সুচারুভাব।

৪৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা ওয়ারী করণীয় বিষয় গুলো বিশ্লেষন করে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক(স্টারিক মার্ক দেয়া রয়েছে) করণীয় বিষয় হিসেবে নীতিমালার ক্রমিক নম্বর ৯৬ কে দেয়া হয়েছে যেখানে বলা আছে “সরকারী পর্যায়ের সকল প্রতিষ্ঠানে আইসিটি পেশাজীবী দ্বারা সজ্জিত আইসিটি সেল স্থাপন। এ সলেরে জন্য আইসিটি সংশ্লিষ্ট পদ সৃজন করা। সরকারী পর্যয়ের সকল আইসিটি সংশ্লিষ্ট পদকে কারিগরি পদ হিসেবে চিহ্নিতকরণ” এখানে একটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক আর তা হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য আইসিটি সেল এর ন্যূনতম আকার/কাঠামো কেমন হওয়া উচিত? বা এ সম্পর্কে কোন নির্দেশনা কোথাও আছে কিনা ? এটা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে আমার ধারনা।

আইসিটি পেশাজীবী দ্বারা সজ্জিত আইসিটি সলে স্থাপন করার কথাও এখানে বলা হয়েছে কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্ল্যেখ করতে হচ্ছে ১৯৮৫ সালে তৎকালীণ সরকার কর্তৃক প্রণীত কম্পিউটার প্রফেশনাল রিক্রটমেন্ট রোলস, ১৯৮৫ (NO. S.R.O. 104-L/85/ME/RI/R-9/84) এ কম্পিউটার প্রফেশনাল (সহকারী প্রোগ্রামার/ প্রোগ্রামার/সিস্টেম এনালিষ্ট/ সনিয়ির সিস্টেম এনালিষ্ট/ সিস্টেম ম্যানেজার) হিসেবে আবেদন করতে /নিয়োগ পেতে যোগ্যতা হিসেবে যেকোন বেষয়ে মাষ্টার্স ডিগ্রি বা বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) অথবা কম্পিউটার সায়েন্স এ ডিগ্রি। অথবা ক্ষত্রে বিশেষে নির্দিষ্ট কিছু পদে কম্পিউটার সায়েন্স ব্যততি অন্যান্য কয়েকটি বিষয় উল্লেখ পূর্বক মার্ষ্টাস ডিগ্রি চাওয়া হয়ছে। ১৯৮৫ সালে যখন রোলসটি করা হয়ছেলি তখন কম্পিউটার সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রি প্রাপ্ত প্রার্থী পাওয়া যাবেনা বিবেচনা করে হয়তোবা এমনটা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশেই প্রতি বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রায় আট-দশহাজার কম্পিউটার সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে গ্রাজুয়েট তৈরী হচ্ছে । সুতরাং রোলসটি পুনরবিবেচনা করে সময় উপযোগী করা পয়োজন। অন্যথায় আইসিটি পেশাজীবী দ্বারা সজ্জিত আইসিটি সেল স্থাপন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নীতিমালায় উল্লেখিত- প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তিতে ব্যাত্যয় হওয়াটাই স্বাভাবকি।

আশার কথা এই যে, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯ এর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আইসিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ফোকাল পয়েন্টদের সমন্বয়ে প্রায়শ সভার আয়োজন করে থাকনে। এতে করে কিছুটা হলেও স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/ বিভাগের আইসিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় চাইলে উক্ত সভায় আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সদস্য/ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরকেও আমন্ত্রন জানাতে পারেন, যারা এই সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে গণ মানুষের কাছে সেবার বানী গুলো পৌছে দিতে পারবেন। এতে করে সরকারের আইসিটি বিষয়ক কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে সাধারন মানুষ অবহিত হয়ে তা ব্যবহার করে অতিসহযে সুফল ভোগ করতে পারবেন। স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আইসিটি জ্ঞান সম্পন্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বদেয়া উচিত। অভিজ্ঞ ও ঔষধ সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞানসম্পন্ন ডাক্তারই দিতে পারেন একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য তার রোগের সঠিক চিকিৎস্যা পরামর্শ।

মন্তব্য: উপরোক্ত আর্টিকেলটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে প্রকাশিত হয়েছে। আপনি চাইলে সেখান থেকেও পড়তে পারেন। আমি এখানে কেবলমাত্র দৈনিক ইত্তেফাক এর লিংক টি দিয়ে দিলাম: Click This Link

লেখক: Mohammad Moyazzem Hossain(MITHU),
E-mail: [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৩৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×