৬ দফা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হলে এই অঞ্চলে যে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হত তাতে পশ্চিম পাকিস্তানের পুঁজির স্বার্থ আঘাতপ্রাপ্ত হতো এবং পূর্ব পাকিস্তানে স্থানীয় পুঁজির বিকাশ দ্রুততর হতো। এ জন্য উভয় পক্ষে যে সমঝোতার প্রয়োজন ছিল তাতে আওয়ামী লীগকে ৬ দফার থেকে কিছু ছাড় দিতেই হতো। এ নিয়েই শেখ মুজিবের সঙ্গে ইয়াহিয়ার ও সেই সাথে ভুট্টোর আলোচনা চলে। এ ক্ষেত্রে আপোষের প্রশ্ন অবশ্যই ছিল। কারণ সেটা না হলে আলোচনার প্রাথমিক শর্তই পূরণ হত না। কিন্তু শেখ মুজিবের ওপর ছাত্র লীগ এবং অন্যদের চাপ ছিল ৬ দফার ক্ষেত্রে কোনো রকম আপোষ না করার। শেখ মুজিব চাইছিলেন পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসন আদায় করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। এদিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে যে, বাঙলাদেশের স্বাধীনতা তাঁর এজেন্ডায় ছিল না। কিন্তু এজেন্ডায় এটা না থাকলেও শুধু ছাত্রলীগই নয়, দেশের বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল, তাদের ছাত্র সংগঠন ও দেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে তখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল যাতে স্বাধীনতা তাদের এজেন্ডায় এসে গিয়েছিল। রাস্তায় তখন আওয়াজ উঠেছিল, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাঙলাদেশ স্বাধীন করো। ঢাকার দেওয়ালে দেওয়ালে তখন এই আহ্বান জানিয়ে অনেক চিকাও মারা হয়েছিল। ১ মার্চ গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঘোষণা দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিপক্ব হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটতে থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিব নিজে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আপোষ করারই পক্ষপাতী ছিলেন। ৭ মার্চ ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে রেসকোর্স ময়দানে তিনি ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ইত্যাদি বলে দেশের জনগণকে লাঠিসোঁটা নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেও, নিজের বক্তৃতা শেষ করেছিলেন ‘জয় পাকিস্তান’ বলে। আমি এটা নিজের কানে শুনেছিলাম। এ কবি শামসুর রাহমান ‘কালের ধূলোয় লেখা’ নামে লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনীতে, সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কাজী ………….. লিখেছেন তার একাত্তরের যুদ্ধের স্মৃতি কথায়, বিচারপতি হাবিবুর রহমান লিখেচেছন ‘বাংলাদেশের তারিখ’ নামে তাঁর বইটিতে ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমদ একাত্তরের ওপর লিখিত তাঁর ‘ জ্যোস্না ও জননীর …………’ নামক উপন্যাসের …………. লিখেছেন যে, অনেকের কাছে তিনি এ ধরনের কথা শুনেছেন আওয়ামী ভাবধারার মানুষ। সে সময় টেপ রের্কডারের প্রচলন হয়নি। কাজেই ব্যক্তিগতভাবে কেউ টেপে ধারণ করেন নি। রেডিওর কর্তৃত্ব তাই মার্চের পর আওয়ামী লীগের লোকদের হাতে পড়ায় তারা এই অংশে তাদের স্বভাবসিদ্ধ মিথাচারী অভ্যাসের কারণে মুছে ফেলেছিল। কাজেই তার কোন শাব্দিক রেকর্ডের কোন অস্তিত্ব আজ আর নেই। ৮ই মার্চের কোন পত্রিকাতেই ঐ বক্তৃতার পূর্ণ বিবরণ তখন ছাপা হয় নি। কিন্তু সেটাই ছিল বাস্তব সত্য এবং তৎকালে শেখ মুজিবের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।