ইহা জলপাইদের পশ্চাতধাবন বটে। "আপনি ঢাকার রাজপথে আবারো
পোড়া টায়ারের গন্ধ পাইতে যাইতেছেন" বলছিলেন একজন ঢাকাইয়া রাষ্ট্রদূত ২০০৭ এর জানুয়ারী পর জলপাইদের ক্ষমতারোহন...অন্তর্বতী সরকার গঠন এরপরও তাহারা দুই ঝগড়াটে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারা অন্তরীণ রাখিতে বিফল হইল।
দূনীর্তির দায়ে বছরখানেক কারা অন্তরীণ থাকিয়া বাংলাদেশী যুদ্বংদেহী দুই
বেগম আবারও মাঠে ফিরিলেন।সেপ্টেম্বরের একাদশ দিবসে বেগম
জিয়া অবমুক্ত হন। এবং পঞ্চ দিবস বাদে অন্য বেগম ও নিশ্চিত হন যে
দেশে ফিরিয়া কোনরুপ কারা অন্তরীণতার ঝুঁকি পোহাতে হবেনা,
যিনি মাসেক পূর্বেই অবমুক্ত হন এবং চিকিৎসার নিমিত্তে
পাশ্চাত্য গমন করেন।
যদিও কোন বেগমই দূর্নীতির দায় হইতে পুরোপুরি মুক্ত হননি। তথাপি
দৃশ্যমান যে --বিচারকগন সরকারি আদেশ ব্যতিরাখিয়া কোনরুপ ব্যবস্হা
লইবেনা।ফলতঃ বেগমদ্বয়ের রাজনৈতিক অনুক্রমন ব্যহত হইবেনা বরঞ্চ
গতি লাভ করিবে।আর অনাখাংকিত কোন দুর্বিপাক সংঘটিত না হইলে
তাহাদের একজনই হইবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ।
ইহা জলপাইদের নৈতিক বিপর্যয়।
দুই বেগম পালাক্রমে ১৯৯১-২০০৭ খ্রিষ্টাব্দব্যাপী ক্ষমতা আরোহন করিতে থাকেন ।পরস্পরের প্রতি অনাস্হা-চরম বিরোধ এবং দূর্নীতির ফলস্বরুপ জলপাইরা ক্ষমতারোহনের প্রয়াস পায়। জলপাইদের প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল বেগমদ্বয় কে নির্বাসনে পাঠাইয়া বাংলাদেশে 'তৃ্তীয় পক্ষের' উৎথান ঘটানো। অতপরঃ তাহাতে বিফল হইয়া তাহাদের কারা-অন্তরীণ করিবার সিদ্বান্তে উপনীত এবং তাহাদের সংগঠন বিভাজিত করিবার ব্যর্থ প্রয়াস...
আর জলপাইগন আশায় দিন গুনছিল কখন নতুন(তৃতীয়) দিক্ পালের আবির্ভাব ঘটে; কিন্তু তাদের সে আশার গুড়ে বালি প্রদান করিয়া দু বেগম সংগঠনের কর্মীগন দুটি ক্ষেত্রে নিজেদের সংহত করিয়াছিল---বেগম তোষণ এবং বেগম পূজো। বেগমগন তাহাদের পাতিদিগের এহেন সমর্থন ব্যতিত কস্মিনকালেও নিজেদের অস্তিত্ব কল্পনা করিতে পারিত না। যাহার দৃষ্টান্ত স্বরুপ একজন বেগম "সারাজীবনের" জন্য সংগঠন পু্রোধার উপঢৌকন পাইতেছিলেন যদিও বেগম স্বয়ং এতে বাধ সাধেন।
শুভসংবাদ এই যে , ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ পর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের সুযোগ পাইতেছে। এবং তাহাতে পূর্বে সংঘটিত সকল প্রকারের অসুদুপায়ের পথ রুদ্ব হইতেছে। নির্বাচন কমিশান নাকি নতুন ভোটার তালিকায় ১২ নিযুত ভূয়া - দ্বিতালিকা ভুক্ত ভোটার বাদ দিয়াছেন । এবং নিবাচনের তারিখ ঘোষণার দিন-ক্ষন গুনছেন - আর তা নাকি ডিসেম্বরে মধ্যই সংঘটিত হইবে...সরকারযন্ত্র নাকি ২০ মাস পূর্বে ঘোষিত জরুরী পরিস্হিতিরও অবসান ঘোষিবেন।
বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুগমনের পথে দু বেগমকেই বাধা মনে করা হয়তেছিল। কেননা তাহারা প্রায় দশক ধরিয়া নিজেদিগের মধ্য মুখ দেখা-দেখি এবং কথা বলাবলি পর্যন্ত বন্ধ রাখিয়াছেন।যদিও অন্তর্বতী সরকার এবং কতিপয় ব্যক্তিবর্গ বলাবলি করিতেছেন বেগমদিগকে একই স্হানে বসানো লইয়া।
জলপাইগনের দূর্নীতি দমন অভিযানের মূল শিকার কথিত যুবরাজ এবং বেগম জিয়ার জৈষ্ঠ্য বৎস তারেক রহমানও অত্র মাসে অবমুক্ত হন ; সাথে জামিন প্রদান করা হয় বেগমদিগের অতি বিস্বস্হ কতিপয় পারিষদর্গকে।এসব ঘটনানুক্রম ফলতঃ দূনীর্তি দমন অভিযানের উল্টোরথ ই নির্দেশ করে ।
ঢাকায় এ নিয়ে সবাই বলাবলি আরম্ভ করিয়াছেন ...পুরো ঘটনাচক্রগুলো জলপাই-পু্রোধারদের পরিপাক জটিলতা সৃষ্টি করিতে পারে...অদ্যবদি জলপাই-পু্রোধারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের গমনের দিকেই আছেন যদিও।
গত দুই বৎসর ব্যাপী পাশ্চাত্যরা জলপাই-পু্রোধাদের এহেন ক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন যোগাইতেছিল যদিও তা আজ আর অবশিষ্ট নাই।
অর্থাৎ জলপাই-পু্রোধাদের হালে এখন আর জল অবশিষ্ট নাই ।
কিন্তু আশংকা সৃষ্টি হইতেছে যে, জলপাই-পু্রোধাগন চলতি রথ হইতে পুরাপুরি প্রস্হান করিবেন কিনা তাহা লইয়া । কারণ নিষিদ্ব ঘোষিত চরমপন্হী সংগঠন জে.এম.বি নাকি চলমান জরুরী সরকারের কতিপয় পারিষদবর্গকে হুমকি প্রদান করিয়াছে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় পূর্বেই উদ্ভূত পরিস্হিতির ভবিষ্যত বাণী করিয়াছিল নাকি।
পরিশেষ এই যে জলপাই-পু্রোধাদের পলায়ন পর্ব মঞ্চায়িত হওয়ার আশা দুরাশা ও হইতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

