আমার প্রিয় পোস্ট

সাইয়েন্স ফিকশন: বিশুদ্ধ মানব প্রকল্প

২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:১৬

শেয়ারঃ
0 0 0





-ফেন্সের বাইরে যাওয়ার চিন্তাটা বাদ দাও এডেনবার, কঠোর গলায় বলল বিকটর।
-আমিতো শুধু টেরং পাহাড় পর্যন্ত যাব। আর সব কাজই তো রোবট মডিউলটা করবে। ফেন্সের বাইরে গেলে সমস্যাটা কোথায়?
-এই মূহুর্তে গ্রীন জোনে প্রচুর ঝামেলায় আছি আমরা। অক্সিজেন তৈরীর হার কমছে দিনদিন। সম্ভবত আমরা ভুল জায়গাতে ল্যান্ড করেছি। এখানে যত পরিমান জমাট বরফ ছিল বলে ধারনা করা হয়েছিল তত বরফ নাই, তুমি ভালো করে বুঝ সেটা। ফেন্সের বাইরে গিয়ে তুমি নতুন কোন ঝামেলা বাধাঁও সেটা আমি চাই না।
-কিন্তু এস্টরয়েড নিয়ে গবেষনা করাটাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
-তুমি কি মহাকাশ বিজ্ঞান পড়োনি? এই রকম হাজারটা এস্টরয়েড পড়তে পারে, কয়টার হিসাব রাখবে? আর সৌরজগতের এস্টরয়েড নিয়ে মানুষের নতুন করে কিছু জানার নাই।
-বিশেষ কোন এস্টরয়েড হলে?
-এর মধ্যে কি বিশেষত্ব খুঁজে পেলে? তাছাড়া ঐ পাথরটি পাহাড়ের ওপারে পড়েছে এবং সেটা আমাদের জন্য তেমন হুমকি নয়। তার চেয়ে বড় কথা পাহাড়ের যাওয়াটা ঝুকিপূর্ন।
-বিকটর, তুমি এর মধ্যে শুনেছ যে,আমাদের কমিউনিকেশন সিস্টেমে ইন্টারফেরেন্স পাওয়া যাচ্ছে। ডিকোডিং এ এরর রেট অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
-এটা স্বাভাবিক, মিডিয়ামের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হলে এই রকম হতে পারে।
-হুম, ঠিক বলেছ। কিন্তু এর মধ্যে কি আবাহাওয়ার কোন পরিবর্তন হয়েছে?
বিকটর কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল,
-না সেরকম তো কোন পরিবর্তন হয়নি,তবে এর সাথে এস্টরয়েডের সম্পর্ক কি ?
-আমি এরর রেটের স্টেটিক্সটিক দেখেছি, এস্টরয়েডটা পড়ার সাথে সাথে এরর রেটের উঠা নামা শুরু হয়েছে। আরো ব্যাপার আছে, এস্টরয়েড পড়ার ফিজিক্সটা দেখেছ?
-কি বলতে চাও এডেনবার?
-ওটা ঠিক যেভাবে পড়ার কথা ছিল,ওভাবে পড়েনি।এস্টরয়েডটি পড়ার ঠিক ৩৮০ সেকেন্ড আগে এর গতির সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়, এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে ?
-তবে..........., কিছু একটা বলে থেমে গেল বিকটর।
এরর রেটের সাথে এস্টরয়েডের একটা সম্পর্ক থাকতে পারে সেটা ভেবে দেখা হয়নি,মনে মনে ভাবল বিকটর।
-ঠিক আছে , তুমি যেতে পার, তবে আজ নয় আগামীকাল।
বিকটর বেরিয়ে গেল।
-এডেনবার একটু অবাকই হল। টেরং পাহাড়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়ে যাবে, এটা ভাবতে পারেনি। সে তার ইউনিটে ফিরে এল,আরো তথ্য নিতে হবে।



সময়টা আসলে ভালো না, ক্যাম্পটা ভুল জায়গাতে করা হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপে কোন না কোন ভুল ছিল। ১০০ বছরের বরফের নিশ্চিত সরবারহের কথা ছিল, কিন্তু এখন মাত্র ২০ বছর পার হয়েছে। বরফের ৭০ ভাগ নিঃশেষ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। রিসাইকেল করার গবেষনার জন্য বেশী জোর দেয়া হচ্ছে ইদানিং, ফলে অন্যান্য গবেষনার ক্ষেত্র গুলো কমে আসছে।
বর্তমানের ২৩২ জনের মারস বেইস ক্যাম্পে ৭৫ জন পুরুষ ৮০ জন মহিলা ৭৭ জন শিশু। মঙ্গলের এই ক্যাম্পে অদ্ভুত এক পর্যবেক্ষন লক্ষ্য করা গেছে। এখানে মেয়েরা ভালো অভিযোজিত হতে পেরেছে। পৃথিবী থেকে যখন মারস গ্রীন ক্যাম্পটা উড়ে এসেছিল তখন ছিল ১৫০জন পুরুষ ১৩০ মহিলা,আর ২০ জন শিশু। শিশু গুলো ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে মঙ্গলের মাটিতে। ২০ টি শিশুর মধ্যে এডেনবার একজন। এখন সে ২৫ বছর বয়সের তরুনী। মঙ্গলে যেসব শিশু জন্ম নিয়েছে তার বেশীর ভাগ, মেয়ে। এই বিষয় টা নিয়েও প্রচুর গবেষনা হচ্ছে। কারনটা খুঁজে পাওয়া না গেলে মঙ্গলে মানুষের ভবিষ্যত ভালো না।
মঙ্গল গ্রিন ক্যাম্প, বিশাল কাঁচের ফেন্সে ঢাকা এক এলাকা, মানুষের নতুন ঠিকানা। এই ক্যাম্পের সাফল্যের উপর নির্ভর করছে মানুষের মঙ্গলে স্থায়ী হওয়া। এখনো অনেক দূর সে পথের।



"ক্যাঁথি কই তুমি,স্কুলে যাবার সময় হল,রোবটটা দাঁড়িয়ে আছে।" এডেনবার তার মেয়েকে ডাকতে লাগল।
"আমি আসছি মা, জানো আজ স্কুলে খুব মজা হবে। আমাদের মিনি আর্থে নিয়ে যাবে রিহান।"
"তাই? কোথায় যাবে আজ?"
"সুন্দরবনে। আমার জংগলে ঘুরতে খুব ভালো লাগে মা। সেদিন আমাজানে এক খরগোশকে ধরতেই দৌড়ে পালিয়ে গেল। আমি আর রিওন ও দৌড়াতে শুরু করছি, তারপর কি হলো জানো মা..."
এডেনবার তার মেয়ের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, মাঝে মাঝে কষ্ট হয় ক্যাঁথির জন্য। এক মিথ্যা মায়াজালে বড় হচ্ছে তার সন্তান। এছাড়া উপায়ও নাই, মিনি আর্থ সিমুলেশন সেন্টারটি না থাকলে শিশুরা মানষিকভাবে বিকাশিত হত না। মানুষের মস্তিষ্ক অভিযোজিত হয়েছে পৃথিবীর পরিবেশ অনুসারে। আফ্রিকার এক এলাকায় ভয়ংকর গবেষনা করা হয় গোপনে। কিছু শিশুকে বদ্ধ পরিবেশে পাঁচ বছর রাখা হয় সব সুযোগ সুবিধা দিয়ে, শুধু মাত্র পৃথিবীর পরিবেশ ছাড়া। এর পরিনিতি হয় বোধহীনতা। সে সব শিশু কোন দিনই স্বাভাবিক হয় নি। কারন তাদের মস্তিষ্কে পৃথিবী চিরদিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল। অনেক চিন্তাভাবনা করে এই সিমুলেশন সেন্টারটি বানানো হয়, সবই মায়াজাল শিশুরা বুঝতে পারেনা।
"............তুমি আমার কথা শুনছ মা? রিওন তো খরগোসটার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে পরে গেল কাঁদায়। তুমি যদি দেখতে রিওনের মুখ...!"
ক্যাঁথি হাসতে হাসতে মেঝেতে গরাগরি খাওয়ার মত অবস্থা।
এডেনবারও হাসতে শুরু করল.... এর মধ্যে স্কুলে রোবট অ্যালার্ম দিতে শুরু করেছে।
"চল চল, স্কুলের দেরী হয়ে যাচ্ছে।"
"এই রোবট, তোমার ঐ নীল বাতিটা কই। রোবটি সাথে সাথে বাতিটা বের করে দিল। তোমার হাতের আংগুলটা ....."
এডেনবার তাকিয়ে ছিল ক্যাঁথির চলে যাবার দিকে, মেয়েটা খুব দুষ্ট হয়েছে। এডেনবার হঠাৎ চমকে উঠল, নিহাত জড়িয়ে ধরছে পিছন থেকে।
"তুমি যাওনি ল্যাবে?"
"কি মনে করেছ আমাকে? তুমি যাচ্ছ ভয়ংকর মিশনে আর আমি যাব ল্যাবে?"
"না মানে.....ভয়ংকর মিশন কে বলল?"
"কেন তুমি ফেন্সের বাইরে যাবে না?"
"হুম,তবে বেশী দূর তো না, আর কাজটা তো আমি করব না।"
"তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, ফেন্সের বাইরে যাওয়া খুব সহজ একটা কাজ। যদি স্পেস স্যুট ফুটো হয়? ধুলি ঝড় গুলো কি বলে কয়ে আসে? এই পর্যন্ত ঘটা বেশির ভাগ দুর্ঘটনা গুলোই হয়েছে ফেন্সের বাইরে কাজ করতে গিয়ে। আমার কথা বাদ দাও, তোমার কিছু হয়ে গেলে ক্যাঁথির কি হবে? এই প্রানহীন গ্রহে কিভাবে বাঁচবে সে?"
"এত ভয় পাচ্ছ কেন তুমি? এমন কিছু হবেনা, আমি নিরাপদেই ফিরে আসব। তাছাড়া এস্টরয়েড সম্পর্কে যথেষ্ট খবর নিয়েছি। সেটি আদিম সোলার নেবুলার অংশ, সি-টাইপ এস্টরয়েড। আর ফেন্সে বাইরে কাজ করার জন্য তো আমরা যথেষ্ট ট্রেনিং নিয়েছি। মঙ্গলেই আমরা বেড়ে উঠেছি...তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছ।"
"যদি তোমার কিছু হয়ে যায়?"
নিহাতকে জড়িয়ে ধরে এডেনবার।




মঙ্গলে সূর্যের আলো পৃথিবীর মত তেমন প্রখর না হওয়াতে পাহাড়ের এক পাশে সূর্য থাকলে অন্যপাশটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে অনেকটা। এস্টরয়েডটি পশ্চিম দিকে পড়েছে। এডেনবার ঠিক করল সূর্য যখন পশ্চিম দিকে হেলে পড়লে (সূর্য যে দিকে উঠে সে দিক পূর্ব ধরে নিয়ে) গ্রীন ক্যাম্প থেকে বের হবে সে। এস ৪৫ রোবট মডিউলটা নিয়ে ফেন্সের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে এডেনবার। এস ৪৫ মঙ্গলের পাহাড়ে উঠার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইণ করা রোবট। মঙ্গলের প্রতিটা বালু কনার অবস্থান চিহ্নিত করা আছে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত এস ৪৫ এর ডাটা বেইসে।
এর মধ্যে বিকটার এসে উপস্থিত। "শেষ পর্যন্ত যাচ্ছ তাহলে?" বলল বিকটর। এডেনবার ব্যস্ততার মাঝে তেমন কিছু বলল না। "যাই করো এডেনবা, নিজের গুরুত্বটুকু বুঝে চলবে। তোমরা যারা এই মঙ্গলের মাটিতে বেড়ে উঠেছ তাদের উপর মানব সভ্যতার টিকে থাকাটা অনেকটাই নির্ভর করছে। পৃতিবীতে গ্রীন হাউস ইফেক্ট, আর পারমানবিক দূর্ঘটনায় অধিকাংশ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ইতিমধ্যে। রেডিয়েশনে মানুষের জিনে মিউটেশন হচ্ছে। আর সে মিউটেশন প্রবাহিত হচ্ছে বংশ পরম্পরায়। পৃথিবীতে বড় কোন বিপর্যয় ঘটে গেলে তোমাদেরই রক্ষা করতে হবে এক সময়। তোমাকে হারালে তোমার পরবর্তি প্রজন্মকে হারাব আমরা। মানুষ প্রচন্ড আশাবাদী এক সত্ত্বা। তুমি চিন্তও করতে পারবেনা পৃথিবীর মানুষ কি পরিমান আশা নিয়ে আছে তোমাদের নিয়ে।" এডেনবারের চোখে পানি চলে আসল বিটরের কথা শুনে। বিকটরকে বরাবর কঠিন লোক হিসাবে জেনে এসেছে সে। স্বপ্নদ্রষ্টা বিকটরের রূপটা অচেনা। জীবনের অর্থ কিছুটা বুঝতে শুরু করেছে এডেনবার। মনে হচ্ছে শরীরের ওজন যেন হটাৎ বেড়ে গেছে কয়েক গুন। "অত চিন্তা করতে হবে না বিকটর, আমি নিরাপদেই ফিরে আসব।" বলল এডেনবার।





অবশেষে ফেন্সের বাইরে বেরিয়ে এল এডেনবার। টেরং পাহাড়ের দিকে মারস এক্সপ্লোরার ভেহিকল (মেভ) চলতে শুরু করেছে। পৌছাতে ৩৫মিনিট সময় লাগবে। অনেক গুলো স্যাটেলাইট সুক্ষ্মভাবে পরর্যবেক্ষন করছে মেভ এর গতিপথ।
টেরং পাহাড়টি মাঝারি আকারের। প্রথমদিকার আবিষ্কৃত কলম্বিয়া পাহাড়ের চেয়ে বড়। মারস গ্রীন ক্যাম্পের জন্য টেরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধুলি ঝড়ের সময় যেসব ধুলি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আসে সেগুলো পাহাড়ের অন্য পাশে থেকে যায়। ফলে ক্যাম্প অনেকটা নিরাপদে থাকে। সৌভাগ্য ক্রমে বেশীর ভাগ ধুলি ঝড় পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এই হিসাবে টেরং এর উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, কিন্তু কোন রহস্যময় কারনে গত এক দশকে পাহাড়টির উচ্চতার কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

পাহাড়ের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে এডেনবার। টেরং পাহারের কাছাকাছি একটা জায়গায় মেভ থেকে নেমে পড়ল সে। পাহারের অন্য পাশে যাওয়ার জন্য এস ৪৫ কে ও নামিয়ে আনা হল মাটিতে। ঘড়িতে প্রায় এক ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। এস ৪৫ কে সক্রিয় করার সাথে সাথে জীবন্ত প্রানীর মত লাফিয়ে উঠল রোবটটি আর পাহারের দিকে এগুতে থাকে আস্তে আস্তে। হাতে আরো পাঁচ ঘন্টা সময় আছে। সব কিছু হিসাব মত চললে আগমী ৩০ মিনিটে এস ৪৫ পৌছে যাবে এস্টরয়েডের কাছে। এস্ট্রয়েডটিকে গ্রীন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল এডেনবারের। কিন্তু গ্রীন ক্যাম্পে এই সব এলিয়েন বডি নিয়ে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম। মঙ্গলের আবাওয়ার শীল্ড পৃথিবীর মত শক্তিশালী না হওয়াতে ফরেন কন্টামিনেশন নিয়ে খুব সংবেদনশীল গ্রীণ ক্যাম্প।

এরমধ্যে এস ৪৫ সিগন্যাল দিচ্ছে। এস্টরেডটির খুব কাছে চলে এসে ড্রিলিং সিস্টেমকে সক্রিয় করল রোবট মডিউল। ভিউ স্ক্রিনে এক দৃষ্টিতে এস্টরয়েডটিকে দেখছিল এডেনবার। এস্ট্রয়েডটির চেহেরা আসলেই অদ্ভুত ধরনের। স্যাটেলাইট ইমেজে অত স্পষ্ট বুঝা যায়নি। হঠাৎ চমকে উঠল এডেনবার। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এস ৪৫ এর সাথে। অবশ্য এইরকম কমিউনিকেশন গ্যাপ হতে পারে। দুই একমিনিটে আবার রিকনেক্ট হবে, ভাবল এডেনবার। গ্রিন ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে। এইবার সত্যিকার অর্থে ভয় পেয়ে গেল এডেনবার, গ্রিন ক্যাম্প ডিজিটাল ম্যাপ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। কমিউনিকেশন মডিউলও কাজ করছে না। তার মানে গ্রীন ক্যাম্প খুঁজে পাবেনা আমাকে? ভাবল এডেনবার। এস ৪৫ এস্টরয়েডটিকে স্পর্শ করা মাত্রই কমিউনিকেশন সিস্টেম ভেঙ্গে পড়েছে। কি আছে এস্টরয়েডে? এডেনবার চিন্তা করতে থাকে। এডেনবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, পাহাড়টার ওপারে যাবে সে।



মঙ্গল গ্রিন ক্যাম্পের স্পেস ডিপার্টমেন্টে হইচই শুরু হয়ে গেল। এডেনবারের মেভটিকে কোন ভাবেই পাওয়া যাচ্ছেনা। এস্টরয়েড এলাকাটা পুরাটা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। এরর রেট সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সব সিগন্যাল এর ঠিক উল্টা সিগন্যাল তৈরী হচ্ছে, আর ইন্টারফেরেন্সে সব মিলিয়ে যাচ্ছে।এটা অসম্ভব।
মারস স্পেস ডিপার্টমেন্টে(এমএসডি) গ্রিন ক্যাম্প চীপ বিকটর এসে পৌছাল। "কি হচ্ছে এইসব?" বলল সে। "আমরাও ঠিক বুঝতে পারছি না" ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করল স্পেস ডিপার্টমেন্ট প্রধান রন। বিকটর এমার্জেন্সি অবস্থা জারি করল পুরো ক্যাম্পে। এর মধ্যে নিহাতও ক্যাঁথিকে নিয়ে পৌছল এমএসডিতে।
"আমি দুঃখিত নিহাত, এডেনবারকে একা পাঠানো ঠিক হয়নি।" বলল বিকটর।"আমি ফেন্সের বাইরে যেতে চাই", বলল নিহাত।
"সেটা সম্ভব নয় নিহাত, এমার্জেন্সি অবস্থায় ফেন্সের বাইরে যাওয়ার নিয়ম নাই। তছাড়া মেভ গুলো স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত, আর আমাদের স্যাটেলাইট গুলো কাজ করছেনা। পৃথিবীর সাথেও আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।"
"কে করছে এই সব? পৃথিবীর বিদ্রোহী গ্রুপ?এখানে আসল কিভাবে তারা ?"
"আমি এখনো কিছুই বলতে পারছি না। তবে, যে প্রযুক্তি ব্যাবহার করছে ওরা তার সাথে আমরা পরিচিত নই নিহাত", বলল বিকটর।



মেভ থেকে পাহাড়ে উঠার জুতা নামিয়ে আনল এডেনবার, সে ভাবতেও পারেনি জুতা গুলো কাজে লাগবে। টেরং এর পৃষ্ঠ নরম আর পুরু মাইক্রোস্কোপিক বালির স্তরে ঢাকা। দেহের ভর ধরে রাখতে পারে না পাহাড়ের বালি। জুতা গুলো পায়ের ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে ওজনের ব্যালেন্স করে। প্রায় এক ঘন্টা পর এডেনবার এস্টরয়েডটির কাছে পৌছাল। এস ৪৫ ড্রিল করতে প্রস্তুত ঐ অবস্থাতে স্থির হয়ে আছে এস্টরয়েডটির পাশে।
কালো মত এস্টরয়েডটির নিচের দিকে দেখে বিস্মিত গেল এডেনবার। একটা নিখুত বৃত্ত আঁকা ওখানে। এটাকি পৃথিবীর কারো কাজ না এলিয়েনের? এডেনবার বৃত্তটি স্পর্শ করল, চমকে উঠল সে। সাথে সাথে ডিস্কের মত কিছু একটা বেরিয়ে গেল ওখান থেকে।
ডিস্কটি কুঁড়িয়ে নিল সে, অসাধারন কারুকার্যের ডিস্কটির মাঝখানে এটা অদ্ভুত অপরিচিত চিহ্ন। সেটি স্পেস স্যুটের পকেটে নিয়ে নিল এডেনবার।

সূর্য অনেকটা হেলে পড়েছে। দ্রুত ফিরতে হবে গ্রীন ক্যাম্পে। এস্টরয়েডটির কিছু স্যাম্পল নিয়ে এডেনবার হাঁটা শুরু করল। মেভে পৌছাতে আরো এক ঘন্টা লাগল তার। এস্টরয়েডের স্যাম্পল গুলো মেভ এ রেখে দিল সে। এখনো কোন ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না গ্রিন ক্যাম্পের সাথে। স্যাটেলাইট নেভিগেশন ছাড়া এক পা ও নড়তে পারবে না মেভ। ৩৫ কিলোমিটার পথ পারি দিতে হবে পায়ে হেটে। সূর্য ডুবার আর দেড় ঘন্টা সময় আছে। উত্তেজনায় কিছুই চিন্তা করতে পারছে না এডেনবার। পায়ে হেঁটে সে বড়জোড় ৭-৮ কিলোমিটার যেতে পারবে, তারপর রাত নেমে আসবে মঙ্গলের মাটিতে। স্পেস স্যুটে অক্সিজনের ঘাটতি দেখা যাবে, আর পাঁচ ঘন্টা হয়তবা চলবে সেটা। এডেন বার এইসব চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে দিল। গ্রীন ক্যাম্পে তাকে ফিরে যেতেই হবে, নিহাতকে কথা দিয়ে এসেছে সে। মেভ আসার পথের চিহ্ন দেখে গ্রীন ক্যাম্পের দিকে হাঁটা শুরু করল এডেনবার। হটাৎ বিস্ফোরনে চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার। এস্টরয়েডটি বিস্ফরিত হয়েছে। মঙ্গলের মাটিতে পরে গেল সে।



এডেনবার নিজেকে আবিষ্কার করে ছোটবেলার পৃথিবীতে। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। স্বর্গ কি এমন হয়? দূরে আরো দূরে সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে তার, অদ্ভুত মিষ্টি বাতাস চারিদিকে... দূর থেকে কে যেন ডাকছে অস্পষ্ট সুরে। একটি শব্দই কানে এসে লাগল শুধু, মা... এডেনবার চোখ মেলল ধীরে ধীরে, ক্যাঁথি তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। নিহাত বসে আছে পাশে। একটু একটু করে সব মনে পড়তে শুরু করে এডেনবারের। এস্টরয়েড,বৃত্ত.....বিস্ফরন।
-নিহাত আমি কিভাবে এলাম এখানে?
-বলছি, তুমি শান্ত হও। বিস্ফরনের পর কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট গুলো আবার কাজ করতে শুরু করে। তোমাকে পাহাড়ের পাশে দেখতে পাই আমরা, এয়ার ওয়েতে তোমাকে গ্রিন ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। গত ৪৮ ঘন্টা অচেতন ছিলে তুমি। তোমার কেমন লাগছে এখন?
-ভালো,নিহাতের হাত শক্ত করে ধরে রাখল এডেনবার।
-ক্যাঁথি। কাঁদছ কেন মা?
-তুমি আমাকে না বলে কোথায় গিয়েছিলে?
-আর যাব না,ক্যাঁথি। আর কখনো যাব না। ক্যাঁথি কে জড়িয়ে ধরল এডেনবার।



সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে গ্রীন ক্যাম্পে, এমার্জেন্সি তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু এস্টরেয়েডের ব্যাপারটা এখনো রহস্যময় থেকে গেছে। কাজটা পৃথিবী কিংবা চাঁদের বেস ক্যাম্পের কারো নয়। সে ব্যপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পৃথিবীকে জানানো হয়নি আসলে কি হয়েছিল। এডেনবারের নিয়ে আসা ডিস্ক নিয়ে গবেষনা হচ্ছে। কিন্তু কোন কুলকিনারা করা যাচ্ছেনা। এডেনবার অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। কাজে যোগ দেয় সে।
মঙ্গলে ইমার্জেন্সি পরবর্তি রিপোর্ট তৈরী করা হয়। কমিটির সামনে এডেনবার তার কাজের জবাবদিহিতা করছিল। এক কাউন্সিল ম্যান বলে উঠল, "আপনি যে পাহাড়ের অন্য পাশে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন, আপনার কি মনে হয়নি এটা গ্রিন ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারত?"
"কিন্তু কিছু তো হয়নি, আমার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল। ওখানে এছাড়া উপায়ও ছিল না। মেভ নিস্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল, গ্রীন ক্যাম্পের সাথে ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সব চেয়ে বড় ব্যাপারটা হল, আমাদের এস্টরয়েডের পাশে যেতেই হত, এস ৪৫ এস্টরয়েডের জ্যামিং সিস্টেম এক্টিভেট করে দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে, আমি কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছি......"
"এডেনবার ঠিক কাজটিই করেছে,তার সাহসীকতার প্রশংসা জনাচ্ছি আমরা।" বলল বিকটর
"ধন্যবাদ" বলল এডেনবার।
"তুমি কি পরবর্তি গবেষনায় যোগ দিতে রাজি আছ এডেনবার?"
"অবশ্যই", বলল এডেনবার।

১০

এডেনবার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডিস্কটির দিকে। সেটির এক পাশে খুব মসৃণ এবং অন্য পাশটা উত্তল। পরিধির দিকে বিচিত্র সব কারুকাজ।
-মাঝখানের চিহ্নটি দেখছ রিহান?
-হুম, চিহ্নটি রহস্যময়। একটা ব্যপার খেয়াল করেছ, আমাদের ধারনা অনুসারে এটি কোন এলিয়েনের কাজ। কিন্ত দেখ, এই কারুকাজ গুলো দেখে খুব অপরিচিত মনে হয় না। তুমি প্রাচীন বিশ্বে এধরনের প্রচুর কাজ দেখতে পাবে।
-কি বুঝাতে চাচ্ছ রিহান?
-আমি সত্যি জানি না, বলল মঙ্গলের একমাত্র আর্কিওলজিষ্ট। তবে এই এলিয়েন গুলো হয়তবা প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তারা আমাদের সম্পূর্ন ইতিহাসটাই জানে।
-তোমার কি মনে হয়, এই ডিস্কটাতে কি থাকতে পারে?
-আমার কোন ধারনা নাই, আর তুমিতো ডিস্কটার এক্স-রে রিপোর্ট দেখেছ। ডিস্কটা পুরটাই নিরেট বস্তু। তবে আমার মনে হয়েছে জিনিসটা এনক্রিপটেড।
-মানে?
-এই প্লেটের উত্তল পাশে কিছু সুত্র দেওয়া আছে, ঐ চিহ্নটাকে আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে। আর কোনকিছু এনক্রিপটেড থাকার অর্থ হল এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে। দেখ এডেনবার আমি কিছু এটা খুঁজে পেয়েছি। উত্তেজিত হয়ে পড়ল রিহান। কারুকাজ গুলোর মধ্যে দেখ, এই জায়গাতে প্রথমে একটা ত্রিভুজ তারপর বিন্দু,একটি রেখা, একটি চতুর্ভুজ পর পর দেওয়া।
-বাহু হিসাবে ধরলে তিন শুন্য এক চার। চমকে উঠল রিহান।
-দাঁড়ও, এটা হবে ৩.১৪
-পাই? চিৎকার করে উঠল এডেনবার। গ্রহানুর গায়ে নিখুন বৃত্তের কথা মনে পড়ে গেল তার। সেটা হওয়াটাই স্বভাবিক, সিম্বল অব পাই লিখে সার্চ দিল রিহান।
-দেখ পেয়েছি এডেনবার। চিহ্নটা প্রাচীন মায়ানদের পাইয়ের সিম্বল।
-ডিস্কটির সাথে মায়ানদের সম্পর্ক কি? বলল এডেনবার।
-সেটা বুঝতেছি না, হতেপারে এর কোন ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। তাছাড়া হতে পারে এটা এনক্রিপশনের একটা ভাষা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাইয়ের মানটা কোডের অংশ হতে পারে।
বিকটর রিসার্চ ইউনিটে ঢুকল, কি খবর রিহান, এডেনবার।
-আমি তোমার কথাই ভাবছিলাম বিকটর,বলল এডেনবার।
-কি, কিছু পেলে? বলল বিকটর।
-পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করল এডেনবার।
পাইয়ের মানের দশমিকের পর কত ঘর মনে আছে এডেনবার? জিজ্ঞেস করল রিহান।
"দশ ঘর পর্যন্ত বলতে পারব। ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫"
পাইয়ের মানটি উচ্চারনের সাথেসাথে অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল। ডিস্কটি শুন্যে লাফিয়ে উঠে আভা ছড়াতে লাগল। বিস্ময়কর সবুজ আলোয় ভরে যায় চারিদিক। প্রাচীন সব স্থাপত্য,মানুষের অতীত ইতিহাস, পিরামিড, মহাকাশ সব যেন এক এক করে ফুটে উঠতে থাকে। তারপর একটা অদ্ভুদ অবয় স্পষ্ট হতে থাকে। একটা ছায়ামূর্তি, অনেকটা মানুষের মত।
অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এডেনবার,বিকটর ও রিহান ।

১১

ছায়ামূর্তিটি বলতে শুরু করে…আমাদের এলিয়েন ভাবতে পার তোমরা। তবে যেন রাখ আমাদের শরীরে মানুষেরই রক্ত বয়ে চলেছে। একটু অবাক লাগল! সৌরজগতের বাইরে মানুষের রক্ত? ব্যাপারটা কিন্তু সত্যি, তোমরা কি কখনো লক্ষ্য করেছ তোমাদের ইতিহসের দিকে? মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস? সভ্যতার ইতিহাসে? সেটা অনেক পুরোনো। পনের হাজার বছর আগের কাহিনী, মানুষ কিন্তু তখনই প্রযুক্তিতে অগ্রসর ছিল। তবে সব জায়গাতে সেটা সমান ছিল না। হয়ত ভাবতে পার আমাদের সভ্যতার শুরু কিভাবে কিংবা প্রযুক্তিতে কিভাবে অগ্রসর হলাম। বিজ্ঞান আসলে বিস্ময়কর এক জিনিস। মানব মস্তিষ্ক বিজ্ঞানকে হাজার ভাবে সংজ্ঞায়ীত করতে পারে। আমাদের বিজ্ঞান চর্চার শুরু টা হয়েছিল অন্য ভাবে, আমরা পুরোপুরি জৈব সভ্যতা। তোমরা ইলেক্ট্রন, প্রোটনকে বইয়ের পাতায় বিশ্লেষন কর, আমরা তাদেরকে অনুভবে বিশ্লেষন করি। আমাদের জৈব নেটওয়ার্কের মত তোমাদের আছে ইন্টারনেট। কিংবা জ্বালানী পুরিয়ে মঙ্গলে আসলে তোমরা, আমরা গেলাম রেসাস গ্রহে কোঅর্ডিনেট লুপিং করে। প্রকৃতি অপ্রাসাঙ্গিকতা পছন্দ করে না। একটা ব্যাপার খেয়াল করলে দেখবে আমরা যা করেছি তোমরাও সে পথে হাঁটছ। পার্থক্য হল তোমাদের সময় বেশী লাগছে। তোমরা হয়ত জানতে চাইতে পার রেসাসে কেন গেলাম আমরা বা কিংবা কোথায় সে গ্রহ? সেটা অনেক টা তোমাদের মঙ্গলে আসার মতই। আমরা দৃষ্টি রাখছিলাম আকাশের দিকে, আমরা চেয়ে ছিলাম আমাদের সম্প্রদায় যেন ভিন্ন এক জগতে বেড়ে উঠে।

রেসাস প্রানের বিকাশ সক্ষম এক গ্রহ। তোমরা মঙ্গলে টেরা ফার্মিং করার কথা ভাবছ। আমরা রেসাসে মানিয়ে নিলাম অন্যভাবে। রেসাসের আছে নিজস্ব প্রান সত্ত্বা, পৃথিবীর লাইফ ফর্মের মত তাদেরও আছে নিজস্ব জিন্স কোডিং। সেটা সম্পূর্ণটা ভিন্ন আমাদের থেকে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ঐ গ্রহে টিকে থাকার সূত্র বের করে আনা, সেই গ্রহের লাইফ ফর্মের জিন্স থেকে। রেসাস লাইফ ফর্মের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য আমরা পরিবর্তন আনলাম আমাদের জিন্সে সেই সূত্র অনুসারে। শেষ পর্যন্ত আমরা সেটা করতে পারলাম এবং টিকে গেলাম রেসাসে। এত সাফল্যের পরও, আমরা একটি ভুল করি। আমরা রাখিনি কোন বিশুদ্ধ জিন্স ফর্ম। এই ভুলটি সংশোধন করার জন্য তোমাদের সামনে হাজির হওয়া। আমরা খুঁজছিলাম এমন কাউকে তোমাদের মধ্যে যার জন্ম হয়েছে পৃথিবী তে। এডেনবার ছিল আমাদের পছন্দের তালিকায়। এডেনবার যখন গ্রহানুটির বৃত্তে হাত দিয়েছিল তখন সে বুঝতে পারেনি যে, তার জিন্স সিকুয়েন্স কপি করে নিয়েছি আমরা। এর প্রতিদান সরূপ তোমাদের দেয়া হল বিপরীত ধর্মী দুটি প্রযুক্তি। আমরা জানি লিঙ্গ ভারসাম্য নিয়ে তোমাদের সমস্যা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন নতুন গ্রহে স্থায়ী হওয়ার জন্য এবং অবশ্যই জেনেটিক্যাল পরিবর্তন আনতে হবে তোমাদের শরীরে। তোমরা হয়ত এটা নিজেরাই বের করতে পারতে, তবে সম্ভবত একিই ভুল করতে আমাদের মত। তোমরা নিশ্চয় শুধু মাত্র মঙ্গলে তোমাদের সীমাবদ্ধ রাখবে না। অন্য গ্রহে যখন তোমরা যাবে তখন মঙ্গলের জন্য আনা পরিবর্তন গুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। বিশুদ্ধ জিন্স ফর্ম রেখে দেয়া তাই সব চেয়ে জরুরী। ব্যাপার দুটা হতে হবে একই সাথে। আমাদের উপস্থিতি তোমরা কিভাবে নেবে সেটা জানি না। তবে মনে রেখ তোমরা কখনো একা না এই অসীম মহাবিশ্বে।
তোমরা আমাদের মানুষ নাও বলতে পার, কিন্তু আমরা মানুষই তবে খানিকটা স্ব-বিবর্তিত। প্রকৃতির নিয়মে পৃ্থিবীর পরিবেশে বিবর্তিত বিশুদ্ধ মানুষের প্রতি আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।
ধীরে ধীরে মিলিয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে ছায়া মূর্তিটি।

পরিশিষ্ট

মঙ্গল গ্রীন ক্যাম্প নতুন একটি প্রজেক্ট চালু করে। বিশুদ্ধ মানব প্রকল্প। বিকটর অবসর নেয় মঙ্গল গ্রীন ক্যাম্প প্রধানের পদ থেকে।
বিশুদ্ধ মানব প্রকল্পে একটি মানব দেহ প্রয়োজন, সে নিজেকে উৎসর্গ করে সেই গবেষনায়।




অন্যান্য সাই ফাই
©আজম

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাইয়েন্স ফিকশন ;
প্রকাশ করা হয়েছে:  বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ।

২. ২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:২৮
আকাশ_পাগলা বলেছেন: দারুণ।

ভাল লাগল খুব।+
ডাবল হয়ে গেছে আপনার লেখা। একটু ঠিক করেন।
২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, পড়ার জন্য।

হুম ঠিক করলাম।

আচ্ছা গ্রুপ পোষ্টে দিতে হলে কি করতে হবে।
সাইয়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্ট গ্রুপে আরকি।

২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন:
সো কেইসে যেন সারা জীবন না থাকে।পড়লে ধন্য হব।

৪. ২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:২৩
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন: প্রিয়তে রেখে দিলাম। :) সময় নিয়ে পড়ব ++
২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনার সমালোচনার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

ধন্যবাদ

৩০ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৪২

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৩০ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
মন্তব্য দেয়ার জন্য আরো ধন্যবাদ।

৩১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: Thanks for ur inspiring comment.
i really feel proud that I able to intend u to read other stories.
I ve taken time to write this story, but other stories that I enlisted here just reflecting my ideas not story
Sorry for that.
Hoping I will alter them in story in future .
Thanks again

৮. ৩১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:১৬
আজম বলেছেন:

এই খবরটি দেখে আমি অনেকটা অবাক হয়েছি।
আমি কল্পিত একটি পরীক্ষার কথা বলেছিলাম এখানে
"সে সময় আফ্রিকার এক এলাকায় ভয়ংকর গবেষনা করা হয় গোপনে। কিছু শিশুকে বদ্ধ পরিবেশে পাঁচ বছর রাখা হয় সব সুযোগ সুবিধা দিয়ে,শুধু মাত্র পৃথিবীর পরিবেশ ছাড়া। এর পরিনিতি হয় বোধহীনতা।সে সব শিশু কোন দিনই স্বাভাবিক হয় নি।কারন তাদের মস্তিষ্কে পৃথিবী চিরদিনের জন্য হারিয়ে গিয়ে ছিল।"
৯. ৩১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৪
আজম বলেছেন: খবর টির সূত্র, প্রথম আলো
৩১ মে ২০০৯ , প্রথম পাতায় অন্য কলাম
Click This Link
১০. ৩১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
শান্তির দেবদূত বলেছেন: অসাধারন ..... এক কথায় দারুন .....
সাই-ফাই সাথে এডভেঞ্চার ... ফাটাফাটি কম্বিনেশন .....

যেটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, এখানে মঙ্গলের পরিবেশের বর্ননা .... এত জ্বীবন্ত মনের হয়েছে যে , লেখক নিজে ঐ অভিযানে অংশগ্রহন করেছিলো, আর সেই সময় বসে বসে এই অভিযানের কথা লিপিবদ্ধ করেছে .....

প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ...... সবদিক দিয়ে পারফেক্ট সাই-ফাই.... ফেভারিটে এ্যাড করে নিলাম .....
০১ লা জুন, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগল।
বড় লেখায় সমস্যা, কেউ পড়তে চায় না।
কি আর করা না পড়লে নাই.... :(
আমি এর আগে বড় সাই-ফাই লিখিনি,আপনারে দেখে অনুপ্রানিত হয়ছিলাম। এখানের মধ্য থেকে কিছু বাদ দিছি,পিরামিড আর মায়ান দের নিয়ে রহস্য খেলার ইচ্ছা ছিল।তাইলে গল্প দ্বিগুন হইত।

সেই ছোট বেলা থেকে মঙ্গল নিয়া পেছাল শুনতেচি,তাই টিক করলাম গল্পের সুটিং টা মঙ্গলেই করব।বিশ্বাস করেন, মঙ্গলে বসেই গল্পটা লিখছি!

পারফেক্ট সাই-ফাই....??
একটু বেশী হয়ে গেল না? কোথায় একটু সমালোচনা দেবন... :(
বড় লেখা লিখলে কেউ সমালোচনাও দিতে চায় না...:(

ফেভারিটে এ্যাড!!! খারাপ না ভালোই লাগতেছে...:)
ধন্যবাদ

১১. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:২৫
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: মাই গড!!!!!!!!!!!!! ... অসাধারণ... খুবই ভাল লেগেছে ... অনেক পরিণত... :)
০৩ রা জুন, ২০০৯ রাত ১২:০৮

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে খুব ভালো লাগল।
ধন্যবাদ।

১২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪২
আকাশ_পাগলা বলেছেন: গ্রুপে যোগ করতে চাইলে নতুন পোস্ট যখন লিখবেন, তার একদম নিচে ফোনেটিক কীবড়ড়ডের ছবিটার নিচে ""গ্রুপ পোস্ট সেটিং"" নামের একটা ট্যাব পাবেন। ওখানে ক্লিক করে মনের মত গ্রুপ সিলেক্ট করুন। সবখানে একসাথে প্রকাশ হবে।

পুরোনো পোস্টগুলোও এডিট এ যেয়ে নিচের এই ট্যাবে গ্রুপ সিলেক্ট করে এডিট দিলেই গ্রুপেও ওই লোস্ট চলে যাব ঝামেলা ছাড়াই।
০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫৪
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন: সময় নিয়ে পড়ে ফেললাম লেখাটা।

অসাধারণ আইডিয়া, রেটিং দিতে হলে অবশ্যই এ+ দিতে হবে। আপনার অন্য গল্পগুলোও পড়ে ফেলবো........

তবে একটা জিনিস.......গল্পটি পড়ার সময় সায়েন্সের অংশ পুরোপুরোই ৯০% ছিল, ফিকশনের পরিমাণ বাড়ালে আর নিখুত বর্ণনায় না যেয়ে চরিত্রগুলো আরেকটু জীবন্ত করার জন্য হয়তো ডায়ালোগের পরিমাণ টা বাড়াতে পারেন, তাহলে গল্প বড় হলেও ক্ষতি নেই........ পর্ব আকারে দেবেন..... তাহলে গল্প আরো বেশি জমবে (আমার মতে) :)

আরো অনেক লেখা'র প্রত্যাশা থাকলো আপনার কাছ থেকে....
১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২

লেখক বলেছেন: আপনি ঠিক বলেছেন, ডায়ালগ বেশী হলে চরিত্র গুলো আরো জীবন্ত হয়।

পর্ব আকরে গল্প লিখলে আমার একটু সমস্যা হয়,সরাক্ষন চরিত্র গুলো মাথার মধ্যে ঘুরে।
তবুও পর্ব আকারে লেখার ইচ্ছা আছে। প্লট পেলে লেখা শুরু করব।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৯
শিবলী বলেছেন: akdum bagdum... ghoradum saje...
Azam Fiction... tukhor hoitese...
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৯

লেখক বলেছেন: যাহোক শেষ পর্যন্ত পড়ে আমাকে ধন্য করলে।
মন্তব্য পছন্দ হইছে:)

ধন্যবাদ

০৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৫২
যাযাবরমন বলেছেন: জৈব সভ্যতা যিনিসটা ক্লিয়ার হইলোনা।
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫৫

লেখক বলেছেন: আমাদের সভ্যতাকে বলা যেতে পারে সিলিকন বেইসড সভ্যতা। আমাদের সব প্রযুক্তিই সিলিকন চিপের উপর গড়ে উঠেছে। যদিও বর্তমানে ডিএনএ কম্পিউটিং এর চিন্তাভাবনা চলছে। কিছু লজিক গেইটও ইতিমধ্যে ডিজান করা গেছে ডিএনএ বেইস দিয়ে। সম্ভব হয়েছে কিছু কিছু প্রানীর মধ্যে ডাটা রাখার ব্যাপারটিও। তেলাপোকার শরীরে সম্ভবত ডাটা স্টোর করা গেছে।
জৈব সভ্যতা বলতে বুঝিয়েছি, যাদের সকল প্রকার প্রযুক্তির উপকরন প্রাকৃতিক প্রান সম্পর্কীয়। জীবন্ত কম্পিউটার এর মত কিছু, হয়ত আমাদের পরিচিত কম্পিউটারের মত না। এমনও এটা, যেখানে সংখ্যার কোন অস্তিত্ব নাই, সংখ্যা বিহিন কম্পিউটারও হতে পারে না, তাই সেই জীবন্ত কম্পিউটারের উপর আমাদের জানা কম্পিউটারে লজিক ফেললে সমস্যা দেখা দিবেই। পদার্থ বিজ্ঞানের জগত এক রকম হলেও এই জৈব সভ্যতা সেটাকে অন্যভাবে ডিফাইন করতে পারে।
আপনি যদি বলেন কিভাবে? সেটা আমি জানি না। আর যদিও ব্যাখ্যা করতে যাই, আমার চেনা জগতের উপকরন গুলো ঘুরে ফিরে চলে আসবে। কল্পনা করে নিতে হবে জৈব সভ্যতা এমন কিছু যা আমাদের সভ্যতার নিয়মের বাইরে। এটা নিয়ে আমি যেমন জানি না, আপনিও জানেন না।

১৭. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৩২
স্মৃতির নদীগুলো এলোমেলো... বলেছেন: ভালোলেগেছে গল্পটা। সুন্দর প্রয়াস। ভালোলাগা রেখে গেলাম। :)
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৭

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যও ভালো লাগল। অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৯০৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সৃষ্টিশীলতাকে ভালোবাসি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ