আমার প্রিয় পোস্ট

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের কি এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত না?

২২ শে জুন, ২০০৮ রাত ২:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসান বলেছেন, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্ত্রিকর। গতকাল ঢাকায় আমাদের সময়কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতে এই জার্নালে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের গণহত্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশিত হয়েছিল তা তাদের প্রতিবেদনেই ওঠে এসেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনেও এ জার্নালটি বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তা ভবিষ্যতে তাদের সংশোধিত প্রতিবেদনে ওঠে আসবে ।
ডা. হাসান প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী ও তাদের এদেশিয় দোসরদের গণহত্যা বিষয়ে জার্নালটি মাত্র ২ লাখ ৬৯ হাজার মানুষকে হত্যার কথা বলেছে। তাদের আগের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮ হাজার। এখন প্রশ্ন হলো, এই গণহত্যার গবেষণার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন? কত জন ছিলেন? এবং কখন গবেষণাকর্মটি করা হয়েছে?

তিনি বলেন, ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি আমার নেতৃত্বে ১৯ বছর যাবৎ কাজ করে আসছে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্যরাও গবেষণা করেছে। যেসব গবেষণার ফলাফল অনেক আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিš' জার্নালটির কেউ আমাদের কারো কাছ থেকে গবেষণা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেনি। যদি তারা সংগ্রহ করতেন তাহলে ইতিহাস নিয়ে এই বিভ্রান্তি ছড়াতে পারতেন না।
ডা. হাসান আমাদের সময়ের মাধ্যমে জার্নালটিতে হণগত্যার সংখ্যাটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সারাদেশে ৫ হাজার বধ্যভূমি আছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯২০টি বধ্যভূমি সনাক্তের পর গবেষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি বধ্যভূমিতে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত মানুষের কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ও নারীর অনুপাত ছিল ৬ঃ১। এই হিসেবে যদি গড়ে প্রতিটি বধ্যভূমিতে ১শ’ জন করেও কঙ্কাল ধরা হয় তাহলে গণহত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ। তিনি বলেন, বধ্যভূমির আশে-পাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় বধ্যভূমিতে যতোগুলো মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গেছে তা সর্বমোট নিখোঁজ মানুষের মাত্র ৩০ শতাংশ। আমরা গবেষণা করে বের করেছি, নিখোঁজ বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের লাশ নদী পথে ভেসে চলে গেছে। যেসব নদীপথে লাখ লাখ মানুষের লাশ ভেসে গেছে এরকম ৮৮টি নদী এবং যেসব ব্রিজের ওপর থেকে লাশগুলো নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে এরকম ৬৫টি ব্রিজ সনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বধ্যভূমি থেকে আবিষ্কৃত কঙ্কাল গবেষণা করে দেখা গেছে, এদের ৩৩ শতাংশ গুলিতে এবং বাকিরা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে অথবা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয়েছে।

সূত্র : (Click This Link)

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত শহীদের সংখ্যা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চলেছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল বা যারা শহীদদের সংখ্যা নিমিষে কমিয়ে কখনো হাজারের কোটায় পর্যন্ত নামিয়ে আনছেন, তাদের কি উচিত নয় যে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া?

 

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ২০৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:১৫
comment by: প্রষ্ষ্নূষা বলেছেন: শুধু ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল নয়, ইউরোপ এর অনেক জার্নাল এ
বাংলাদেশ এর অনেক বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে। এ বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসের দেখা উচিত।
২. ২২ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:২৬
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: আমি বিস্তারিত এ বিষয়ে লিখার চিন্তা আছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। পোস্টটা প্রিয়তে রাখলাম। তবে ৫৮০০০ থেকে প্রায় ৩লক্ষে গিয়েছে পরেরবার হয়ত ১০লক্ষ এবং এরপরেরবার ৩০ লক্ষতে যাবে।
৩. ২২ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৩৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: একমত @ হ্যারি
৪. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫
comment by: মামু বলেছেন: এই সংখ্যা টা কুটিতে নেওনের কুনু ব্যবস্থা নাই...?

আপচুস কেউ কুটিতে নিতে পালল না
৫. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:২০
comment by: সবুজমিয়া বলেছেন:
এই তাইলে কাহিনি...




৬. ২২ শে জুন, ২০০৮ রাত ৯:১৭
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: +++++++

মামু নামের ছাগলটাকে কষে লাথি লাগান!

ভালো থাকবেন
৭. ১৫ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩
comment by: সুপ্ত সবুজ বলেছেন: তবে রিপোর্টটা সত্য। ডঃ হাসানের তথ্য বাদ দিয়ে নিজে সারাদেশ চষে গবেষণা করে দেখেন। সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন। প্রথম প্রথম আমারও এরকম ভুল মনে হয়েছে। কিন্তু নিজে মাঠে নেমে কয়েকটা গুরুত্বপুর্ণ এলাকার পরিসংখ্যান নিয়েই থেমে গেছি। দেখেন, আপনি যদি পারেন তো এ জাতির একটা উপকার হয়।

 



 


মানুষ হতে চাই..........
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৩০৯৬