এলোমেলো কথার পসরা নিয়ে আবার এলোমেলো পোস্ট হাজির। যদিও লেখার মত তেমন ভালো কিছু নাই, তারপরেও আমার উর্বর মস্তিস্ক যতখানি কথা ধারন করে রেখেছে ততখানি আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারছি না। তো চলেণ সবাই আজকের এলোমেলো গল্পের আসরে
বেশ কিছুদিন আগে, সাভার এর দুর্ঘটনার পরের দিকে একদিন অফিসে এসে দেখলাম মুন্নি সাহা এসেছে আমার বসের সাথে কথা বলতে। তো তাকে দেখে আমার বস বেজায় খুশি। পরের দিন দেখলাম আফসানা মিমি আসছে আলোচনা করতে। এইবার তো বস আরও বেশী খুশী। তো পর পর দুই দিন তাকে খুশী দেখে আমরা বেজায় খুশী। পরের দিন সকালে অফিসে গিয়ে দেখি চরম দৌড়াদৌড়ি। কি হয়েছে দেখবার জন্য এগুতেই দেখি আমার বস তো চেয়ার উলটে চিৎপটাং। সাথে সাথে মনে হইলো গত দুইদিন যে পরিমাণে সে চেয়ার দুলিয়েছে তাতে রক্ষা যে সে গতকাল মিমির সামনে উল্টে পরে নাই।পড়লে দৃশ্য কেমন হইতো ভাবতেই হাসি চলে আসে।
আমার একটা ছোট ভাই আছে। একটু গাধা টাইপের হলেও ভালো। সে একবার তাঁর বন্ধুর কাছে ফোন করলো। সে যখন ফোন করছিলো পাশে আমার আম্মু ছিল। সে ফোন করে হ্যালো বললে ওপাশ থেকে অন্য কেউ ফোন ধরে। আমার গাধা ভাই তাকে কে বলছেন জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ভুলে বলে ফেললো, “হ্যালো, আপনি কি ওর বাপ বলছেন??” এটা শুনে আমার আম্মুর তো চোখ ছানাবড়া। বলে কি গাধা টা!! আরে তুই তো বলবি, আপনি কে বলছেন?? অথবা আপনি কি ওর বাবা বলছেন কি না?? আর গাধাটা কি না খাঁটি বাংলায় বলে ফেললো, আপনি কি ওর বাপ বলছেন?? ওপাশের ভদ্রলোক তো পুরাই টাশকি। বলে কি!! এ ঘটনা শুনে আমরা হাসতে হাসতে শেষ।
গতকাল অফিসে এসে আমরা চার পাঁচ জন আপু একসাথে দুপুরের খাবারের সময় গল্প করছিলাম। এর মাঝে হঠাৎ আমরা গুনাহ, মৃত্যু, সওয়াব এসব নিয়ে আলোচনায় চলে গেলাম। আমাদের এক আপু আছে অনেক সহজ সরল। আমি বললাম, সারাদিন তো ভালো কাজ করি না। খারাপ কাজের পাল্লা ভারি। আমার বাম কাধের ফেরেশতা তো পাপের হিসাব লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তো পাশ থেকে আপু প্রশ্ন করে বসলো, “আচ্ছা আপু, ফেরেশতারা কিসে লিখে?? উনারা কি কাগজে লিখে??” পাশের এক আপু তাকে বুঝালো, “ না আপু, উনাদের কাগজ লাগে না। সব মেমোরি তে থাকে। “ এটা বলার সাথে সাথে আপু অবাক হয়ে বলল, “ হায় আল্লাহ্!! উনারা মেমরি কার্ড ব্যবহার করে জানতাম না তো!” এটা শুনে হাসি আটকে রাখা অনেক কষ্টের ব্যাপার। ( বলা বাহুল্য আমরা কেউ নাস্তিক নই। আমরা সবাই আল্লাহ্ এর উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রাখি। উপরোক্ত আলোচনা শুধুই খুচরা আলোচনা।)
গত দুই বছর ধরে দেখতেসি আমার বস দুপুরে দুইটা কাঠের মত শক্ত টোস্ট আর একটা কলা ছাড়া কিছুই খায় না। এটা খাওয়া নাকি সাশ্রয়ী এবং সময় বাঁচায়। তো কিছুদিন আগে সকালে খুব আগ্রহ নিয়ে পিওন কে বললাম আমাকে আর আপুকে দুইটা টোস্ট এনে দিতে। অনেক ক্ষুধা পেয়েছিলো সেদিন। তো পিওন খুব হাসি মুখ করে আনতে গিয়ে ফিরে এলো মুখ কালো করে। জানতে চাইলাম কি সমস্যা। সে বলল, “ ম্যাডাম, স্যার মনে হয় বিস্কিট গুণে রাখে। সেদিন ই বলল তাঁর বিস্কিট নাকি কম কম লাগে। আজকে যদি দেই পরে যদি গুণে দেখে দুইটা নাই তাহলে কি হবে। আমি আর আপু দুই জন মুখের দিকে চেয়ে হাহাহা করে হাসতে লাগলাম। আমরা বললাম, তখন স্যার কে বলবা, “স্যার, আপনার এই কাঠ বিস্কিট আপনি ছাড়া কেউ খাইতে চায়না। জোর করে দিলেও নিতে চায় না। “
কিছুদিন আগে আমার একমাত্র ননদ (যাকে আমি আমার ছোট বোন মনে করি) প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছে নিজের সংসারে স্বামীর সাথে। আমার জন্মদিনে রাত ১২ টায় সে আমাকে সারপ্রাইজ পার্টি দিয়েছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি কিন্তু প্রকাশ করা হয় নি। তাকে অনেক মনে পড়ে। তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন। যাতে সে সুস্থ ও সুখী জীবন কাটাতে পারে। আল্লাহ্ তাকে ভালো রাখুক এবং সকল ইচ্ছা পূরণ করুক এটাই কাম্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



