আমার প্রিয় পোস্ট

প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে ধূম্রজাল: দাবী প্রাণ ভিক্ষা চাননি কেউই: পরাজিতেরও কিছু ইতিহাস থাক

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0



প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে ধূম্রজাল

স্টাফ রিপোর্টার আমার দেশ থিকা নেওয়া

প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান। তার মেয়ে জানান, বাবা প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাবেন না।
এদিকে গতকাল লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন বলে প্রচার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনিও প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। পরিবারের একটি সূত্র জানায়, সৈয়দ ফারুক রহমান তাদের জানিয়েছেন রিভিউ পিটিশন খারিজ হলেও তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাবেন না। রিভিউ পিটিশন দায়েরের আগেই মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন ল্যান্সার ও কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ আর্টিলারি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পরিবার জানিয়েছেন প্রাণভিক্ষার আবেদনের যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা সঠিক নয়। ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হয় রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার পর। রিভিউ পিটিশনের আগে প্রাণভিক্ষার আবেদনের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর যারা গুনছেন তাদের কাছ থেকে চাইলে সবকিছুই আদায় করা যায়।
রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, রিভিউ হচ্ছে আদালতের শেষ ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। রিভিউর রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছার দিন হতে পরবর্তী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তা কার্যকরের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকার তার আগেই ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: ফিউশন ফাইভ

২. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৮
মগ্নতা বলেছেন: শেষ সাক্ষাত্ করলেন স্বজনেরা

নাছির উদ্দিন শোয়েব
ঢাকা কারাগারে কনডেম সেলে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের স্বজনেরা। সম্ভবত এই দেখাই তাদের শেষ দেখা। গতকাল বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে স্বজনদের সাক্ষাত্ চলে। কর্নেল ফারুক রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) বৃদ্ধ মা হুইল চেয়ারে করে কারাগারে আসেন। ফারুক রহমানের মা মাহমুদা রহমানও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তাকে কয়েকজন ধরে ভেতরে নিয়ে যান। তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। কারাগারের গেটের সামনে একটি চেয়ারে বসে প্রিয় সন্তানের সঙ্গে জীবনের শেষ দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন। ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা করে এসে আত্মীয়স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কান্না দেখে উপস্থিত অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। ফারুকের মা ক্ষীণকণ্ঠে শুধু এটুকুই বলছিলেন, তার ছেলে নিরপরাধ। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। ফারুক ছাড়া আমাকে দেখাশোনার কেউ নেই। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ছেলের লাশ কীভাবে আমি দেখব। এ কথা বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।
বজলুল হুদার বোনের দাবি : দেখা করে এসে বজলুল হুদার বোন মাহফুজ আক্তার পাশা লিজা সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তিনি তার জন্য দুশ্চিন্তা না করে দোয়া করতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের ফোন করে ভাইয়ের (বজলুল হুদা) সঙ্গে দেখা করতে আসার জন্য বলেছেন। কয়জন দেখা করতে আসব, এ কথা জানতে চাইলে তাগাদা দিয়ে বলা হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তিনি বলেন, আমার ভাই বজলুল হুদা একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য তার অনেক অবদান আছে। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের গতিবিধি দেখে মনে হয়েছে, রাতেই তাদের ফাঁসি দেয়া হবে। এখনও আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণভিক্ষার আবেদন করিনি। প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানোর আগে যদি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তা হবে হত্যার শামিল, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।
একেএম মহিউদ্দিন কোনো অন্যায় করেননি—মা নূরজাহান বেগম : লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিনের (ল্যান্সার) মা নূরজাহান বেগম হুইল চেয়ারে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান কারাগারে। হুইল চেয়ারে বসেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে এমন কিছু করেনি যে তাকে ফাঁসি দিতে হবে। সে নির্দোষ। কখনও অন্যায় করতে পারে না। খুবই নম্র, ভদ্র বলে তিনি জানান। মহিউদ্দিনের স্বজনদের অনেককে চিত্কার করে কাঁদতে দেখা গেছে। ছেলের বউ ফাতেমা বেগমসহ আত্মীয়-স্বজনেরা অনেকেই জেলগেট থেকে বের হয়ে গাড়িতে বসে চিত্কার করে কেঁদেছেন। প্রিয়জনদের কান্না-চিত্কারে তখন বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কারাগারের গেটের সামনে আত্মীয়দের একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরে মুষড়ে পড়েন। কেউ কেউ বুক চাপড়ে উচ্চস্বরে কাঁদেন। তাদের কান্না দেখে উপস্থিত লোকজনেরও অনেকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। স্বজনদের মধ্য থেকে দু’একজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও অনেকেই শোকে স্তব্ধ ছিলেন। কর্নেল ফারুকের ভগ্নিপতি ইশফাকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থেকে তিনি এমনিতেই অসুস্থ। তিনি যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তার প্রমাণ নেই। রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছি। সরকার কোনো সময় দেয়নি। আমাদের আবেদন রাতেই রাষ্ট্রপতির কাছে ঘটা করে পাঠানো হয়েছে। কোনো সময় না দিয়ে এভাবে তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দেশে আইনের শাসন থাকবে না।
বিকাল ৩টার দিকে বজলুল হুদার পরিবারের ২৩ সদস্য জেলগেটে আসেন। তাদের মধ্য থেকে অনেককেই বজলুল হুদার সঙ্গে দেখা করার জন্য কারাগারের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। বজলুল হুদার পরিবারের যেসব সদস্য দেখা করার জন্য নাম দাখিল করেছেন তারা হলেন কামরুল হুদা (ভাই), নুরুল হুদা (ভাই), মাহফুজা পাশা লিজা (বোন), ফিরোজা বেগম (বোন), মাহমুদা ফেরদৌস (বোন), হামিদা (ভাবি), নাফিজা মরিয়ম (স্ত্রী), ঝর্ণা (ভাতিজি), বন্যা (ভাতিজি), কনক (ভাতিজি), দীপু মাহমুদ (ভাতিজা), অনুপম (ভাতিজা), নাজনিন সুলতানা (ভাতিজি), মন্দ্রা (ভাগনি), রেজা আহমেদ (ভাতিজা), নভেরা আক্তার (ভাতিজি), রূপা মাহমুদ (ভাতিজি) ও রজত (ভাতিজা)সহ আরও কয়েকজন।
কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানের মা মাহমুদা রহমান, ভগ্নিপতি ইশফাকুর রহমান, ভাগনি ইয়াসমিন রহমান ও উষ্মী মাহমুদা রহমান দেখা করতে যান। ল্যান্সার মহিউদ্দিনের স্বজনদের মধ্যে দেখা করতে যান হোসনে আরা মহিউদ্দিন (স্ত্রী), হাই তালুকদার (ভাই), মমতাজ বেগম (ভাবি), দিল আফরোজ (বোন), ইকবাল আলী (শ্যালক), নেহাল, টুই, হুমায়ুন, রুমেল (ভাগ্নে), এলিজা (ভাবি), মজিদ (ভাতিজা), সামসুল আলম (মামা) এবং মাসহ ১৮ জন। কর্নেল মহিউদ্দিন আর্টিলারির স্বজনদের মধ্যে তার স্ত্রী শাহিদা মহিউদ্দিন, ছেলের বউ ফাতেমা আহমেদ এবং ভাগ্নি রুমানা দেখা করতে যান। সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানের স্বজনদের মধ্যে তার স্ত্রী মাশোয়ারা খানম এবং শাহনাজ রশীদ দেখা করতে যান। পর্যায়ক্রমে রাত পর্যন্ত আত্মীয়স্বজনেরা সাক্ষাত্ করতে কারাগারে যান। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ছে, যারা সাক্ষাতের জন্য এসেছেন প্রায় সবাইকে সুযোগ দেয়া হয়েছে।
৬৭ কারাগারে রেড অ্যালার্ট : এদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার অভিযোগে পাঁচ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ বহাল রাখার পরপরই সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশের ৬৭টি কারাগারকে রেড অ্যালার্টের আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, রিভিউ আবেদনের রায় দুপুরের আগেই আসামিদের জানানো হয়। আগে থেকেই নিয়মিতভাবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো এমনিতে জোরদার ছিল। এখন কারাগারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের চারপাশে এবং ভেতরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র্যাব ও কারারক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
৩. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৯
মগ্নতা বলেছেন: পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর : মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলেন না তারা

স্টাফ রিপোর্টার
সাবেক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় রিভিউ পিটিশন নাকচ হওয়ার রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ আসামির ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত রাত ১২টা বাজার পরপর প্রথম মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর রাত ১২টা ৩১ মিনিটে কার্যকর হয় কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানের দণ্ড। সবশেষে রাত ১টা ৫ মিনিটে কার্যকর হয় মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমদের (ল্যান্সার) দণ্ড। এক ঘণ্টা ব্যবধানে দু’টি পৃথক ফাঁসির মঞ্চে একসঙ্গে দুজন করে ফাঁসি দেয়া হয়। পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সম্পন্ন হয় এক ঘণ্টার ব্যবধানে। তারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মেজর (অব.) বজলুল হুদা ২ নম্বর সেক্টর ও কে ফোর্সে, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান পাবেন না। বর্তমান সরকার সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মানের আইনটি সংশোধন করে। সংশোধনীতে বলা হয় কোনো মুক্তিযোদ্ধা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবে না।
তাদের ফাঁসি কার্যকর করে পৃথক পাঁচ জল্লাদ। তাদের মধ্যে শাজাহান, ফারুক ও হাফিজ নামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ জল্লাদ আনা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে। বাকি দুই জল্লাদ সানোয়ার ও রাজু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাজাহান এর আগে এরশাদ শিকদারসহ আরও ১৭ জনের ফাঁসির দণ্ড কার্যকরে জল্লাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের লাশ গত রাতেই পাঁচটি পৃথক অ্যাম্বুলেন্সে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে র্যাব-পুলিশ পাহারায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। জেলগেটে কারও লাশ আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। সৈয়দ ফারুক রহমানের বাড়ি নওগাঁ জেলার সদর থানায় মল্লিকপুর গ্রামে। মহিউদ্দিন (আর্টিলারি) ও মহিউদ্দিনের (ল্যান্সার) বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায়। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আটবোয়ালিয়া গ্রামে বজলুল হুদার বাড়ি। সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায়। গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যার পরেই কারাগারের ফটকের কাছে এনে পৃথক পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। দণ্ড কার্যকরের আগে গোসল, তওবা পাঠ ও নফল নামাজ আদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়া হয়। কারাগার মসজিদের ইমাম তাদের তওবা পাঠ করান।
ফাঁসি কার্যকরের পর তাদের লাশ ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কারা অভ্যন্তরে লাশের গোসল দেয়া হয়। কাফনের কাপড় দিয়ে ঢেকে কফিনে রাখা হয় লাশ। পরে ভোররাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ পাঠানো হয় গ্রামের বাড়িতে।
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। রাত ১০টার পর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দেয় র্যাব ও পুলিশ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাব গড়ে তোলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। রাত ১১টার আগেই ঢাকা জেলা প্রশাসক জিল্লার রহমান, আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম ও ঢাকার সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকারসহ ৪ ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহিদুল হক কারাগারে প্রবেশ করেন। রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান শিকদার কারাগারে আসেন। সন্ধ্যার পর থেকে কারা ফটকে ভিড় করতে থাকেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
রাত ১০টার পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা হয় তিন জল্লাদকে। আনা হয় ৫টি পৃথক কফিন। ১২টা বাজার কয়েক মিনিট আগে ভ্যানগাড়িতে করে ৫টি কাঠের চকি ঢোকানো হয় কারাগারে। ঢোকানো হয় কাঠের পাটাতন। ফাঁসির মঞ্চের পাশে টানানো হয় শামিয়ানা এবং জ্বালানো হয় অতিরিক্ত আলোর ফ্ল্যাড লাইট। সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১১টায় আসামিদের গোসল করানো হয়। গোসলের পর তারা নফল নামাজ আদায় করেন।
রায় কার্যকর করার আগে রাত সাড়ে ১১টার পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়। তারা ফাঁসি কার্যকরের আগে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু সেম্লাগানে মুখরিত করে রাখে পুরো এলাকা। সেম্লাগান দেয় বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই। একপর্যায়ে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে কারা ফটকের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
রিভিউ পিটিশন খারিজ : গতকালই সুপ্রিমকোর্ট তাদের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে রায় দেন। রায় ঘোষণার পরই শুরু হয় ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি। রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার পর দুপুরেই সুপ্রিমকোর্টের আদেশ অতিদ্রুত বিশেষ ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পৌঁছে যায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। বেলা ২টায় আসামিদের আত্মীয়স্বজনদের ফোনে কারাগারে আসার জন্য সংবাদ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা কারাগারে ছুটে আসেন শেষবারের মতো তাদের আপনজনের সঙ্গে জীবিত অবস্থায় দেখা করার জন্য। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পর্যায়ক্রমে একে একে সব আসামির আত্মীয়স্বজন কারাগারে প্রবেশ করেন। এর আগে ৩ জনের বেশি আত্মীয়কে একসঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। কিন্তু গতকাল ছিল ভিন্ন পরিস্থিতি। একজন আসামির সর্বোচ্চ ১০ আত্মীয়কে একসঙ্গে প্রবেশ করে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
ফাঁসি কার্যকর করার আগে আসামি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। রিভিউ পিটিশন দায়েরের আগেই মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ও কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ আর্টিলারি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পরিবার জানিয়েছেন প্রাণভিক্ষার আবেদনের যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা সঠিক নয়। ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হয় রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার পর। রিভিউ পিটিশনের আগে প্রাণভিক্ষার আবেদনের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর যারা গুনছেন তাদের কাছ থেকে চাইলে সবকিছুই আদায় করা যায়।
রিভিউ পিটিশনের রায় ঘোষণার পর দুপুরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর হবে।
শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় কারাগারে আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার)। দুপুরের পর কারা কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে প্রথমেই মেজর (অব.) বজলুল হুদার ১০ আত্মীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা পর বের হয়ে এলে ঢোকেন মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিনের আত্মীয়রা। সন্ধ্যা ৬টায় তারা বের হলে প্রবেশ করেন কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের মাসহ চার আত্মীয়। তাদের পর দেখা করেন সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) আত্মীয়স্বজন।
প্রসঙ্গত, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদের দুই ছেলেও কারাগারে আটক আছেন। গত অক্টোবরে আপিল শুনানি শুরু হলে ফজলে নূর তাপসের গাড়িতে বোমা হামালার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মহিউদ্দিন আহমদের দুই ছেলেকে আটক করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মোট ১২ সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট বিভাগ। এর মধ্যে ৭ জন বিচারে অনুপস্থিত থাকায় এখনও আপিল করেননি। এর মধ্যে মেজর (অব.) আবদুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে অবস্থানকালে ২০০১ সালে ইন্তেকাল করেন। বাকি পাঁচজন কারাগারে থাকায় আপিল করার সুযোগ পেয়েছেন। আপিল খারিজ হওয়ার পর রিভিউ (আপিল বিভাগের রায় পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনার আবেদন) আপিল করেন তারা।
আপিল বিভাগ গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় রিভিউ পিটিশনের রায় ঘোষণা করেন। টানা তিনদিন শুনানির পর গতকাল রিভিউ পিটিশনের রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সরকারপক্ষের কৌঁসুলিরা বলেন, রিভিউ পিটিশনে নতুন কোনো গ্রাউন্ড ছিল না। আপিল শুনানিতে যেসব বিষয় তারা উত্থাপন করেছিল, ঠিক একই বিষয় রিভিউ পিটিশনে আলোচনা করা হয়েছে। এজন্য আদালত তাদের রিভিউ পিটিশন গ্রহণ করেননি। জেল কোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে উল্লেখ করেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ১৯৯৬ সালের নভেম্বর থেকে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
গত ১৯ নভেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় কারাগারে আটক পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করে দেয়া হয়। এ মামলা শুনানির জন্য বর্তমান প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ আপিল শুনানি গ্রহণ করেন। ২৯ কার্যদিসব উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায় ঘোষণার পর প্রায় এক মাস লাগে পূর্ণাঙ্গ রায় লিখে স্বাক্ষর করতে। ২০ ডিসেম্বর আসামিদের আইনজীবীদের রায়ের কপি সরবরাহ করা হয়। কপি পাওয়ার নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে কারাগারে আটক আসামিরা রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিলেন। সর্বশেষ ১৯ জানুয়ারি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান ও কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) পক্ষে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। তাদের রিভিউ পিটিশন দায়েরের আগেই ২৪ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করে রাখা হয়। কারণ তাদের আগে মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিনের পক্ষে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে নিম্ন আদালতের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের কপি বিশেষ বাহকের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায় ৩ জানুয়ারি। কারা কর্তৃপক্ষ রায়ের কপি পাওয়ার পর থেকেই ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোশতাক আহমদের সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঘটনার দিন থেকে পরিচালিত সব কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দেয়। এতে বন্ধ ছিল বিচার প্রক্রিয়া। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। বাতিল করা হয় বিচারের প্রতিবন্ধক হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদ সরকারের জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণা হয়। রায়ে ১৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। এ রায়ে এক বিচারপতি ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অপর বিচারপতি ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ৫ জনকে খালাস দেন। নিয়মানুযায়ী তৃতীয় বিচারপতির আদালতে পাঠানো হয় মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য। তৃতীয় বিচারপতি ৫ জনের বিষয়টি শুনানি করে নিষ্পত্তি করেন এবং রায়ে মোট ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডের পরিবর্তে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। তখন কারাগারে আটক ৪ আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। ২০০৭ সালের এপ্রিলে লিভ টু আপিল শুনানি শেষে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়। আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে নিয়মিত আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত আপিল শুনানি করে গত ১৯ নভেম্বর রায় হয়। রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিউ পিটিশন গতকাল খারিজ হয়ে যায়।
রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, রিভিউ হচ্ছে আদালতের শেষ ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। রিভিউর রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছার দিন থেকে পরবর্তী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তা কার্যকরের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকার তার আগেই ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অপরদিকে নজিরবিহীন স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, প্রতিটি পদক্ষেপেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আসামিপক্ষকে যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। তাদের সব যুক্তিতর্ক আদালত শুনে রায় দিয়েছেন। সরকারও আসামিদের সব অধিকার সংরক্ষণ করেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যেসব গ্রাউন্ড দিয়েছেন, তাতে বড় ধরনের কোনো যুক্তি না থাকায় বিচারপতিরা তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে এ রায় সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। নিম্ন আদালতে এই মামলা ৯৫ দিন, হাইকোর্টে ৬৫ দিন, আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল ২৬ দিন, পরে পূর্ণাঙ্গ আপিল আবার ২৯ দিন এবং রিভিউ আবেদন ৩ দিন শুনানি হয়। আর কোনো মামলা এত স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে এভাবে শুনানি হয়নি বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিন আসামি প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন এবং বাকি দুজনের প্রাণভিক্ষা চাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জেল কোড অনুযায়ী সুযোগ থাকলে তারা প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এ সময় তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আইনের স্বচ্ছতা প্রকাশ পেয়েছে। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। তিনি বলেন, ৩ জানুয়ারি মৃত্যুপরোয়ানা জারি হয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ফাঁসি কার্যকর হবে। এর জন্য শেষ সময় হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই মৃত্যুপরোয়ানা জারিসহ সরকার ফাঁসি কার্যকর করার আয়োজন চূড়ান্ত করেছে। এটি আইনসম্মত হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকার সবকিছুই বিধিমতো করছে। বেআইনি কিছুই করছে না।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে তত্কালীন একদলীয় বাকশাল সরকারের প্রধান ও রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর ক্ষমতা গ্রহণ করেন তত্কালীন বাকশাল সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার আগে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন করে বহুদলীয় ব্যবস্থা থেকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা চালু করে সুপ্রিমকোর্ট থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকারের নিয়ন্ত্রণে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বন্ধ করে দেয়া হয় সব গণমাধ্যম।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: সব আমার দেশ থিকা নেওয়া।

৪. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০০
রশিক রশীদ বলেছেন: বিএনপি জামাতের লিফলেট (আমার দেশ) পড়া বাদ দিয়ে পত্রিকা পড়ুন খবর জানতে পারবেন।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: ওহ, একটার নাম কনতোহ।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৪

লেখক বলেছেন: ভালা পত্রিকার। :)

৫. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৫
বাউল! বলেছেন: তো এখন কি করতে হৈব?
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৩

লেখক বলেছেন: পরাজিতেরও কিছু ইতিহাস থাক

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৯

লেখক বলেছেন: তো?

৭. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৯
বাউল! বলেছেন: "প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে ধূম্রজাল: পরাজিতেরও কিছু ইতিহাস থাকে।" এখানে পরাজিত কেনো হবে, বলুন অপরাধী, খুনিরও কিছু ইতিহাস থাকে।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৩

লেখক বলেছেন: "থাকে" নয়, থাক। অপরাধীর নয়, পরাজিতের। ৭৫ এ পরজিত ছিল শেখ মুজিবর আর তখন আনন্দ উদযাপিত হৈসিল আর আইজকা পরাজিত শক্তি সেই অভ্যুত্থানকারীরা, আর অহনও একটা দল আনন্দ উদযাপন কর্তেসে।

৮. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৭
মানবী বলেছেন: ভেবেছিলাম আইন সন্মতভাবে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসীর আদেশ কার্যকর হয়েছে!


""রিভিউর রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছার দিন হতে পরবর্তী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তা কার্যকরের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকার তার আগেই ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।""

- জেনে অবাক হলাম!!!

৩৪ বছর পর বিচারের উদ্যোগ হলো, আর কয়েকটি দিন অপেক্ষা করা সম্ভব হলোনা!! এই তাড়াহুড়োর কারনে এমন একটি হত্যাকান্ডের বিচারের মাঝে বড় একটি ফাঁক রয়ে গেলো। আইনগত ভাবে পুরো ব্যাপারটি সম্পন্ন হলে জানতাম অন্তত একটি হত্যাকান্ডের সুবিচার হয়েছে... কয়েকটি দিনের এই নির্ধারিত সময়কে অবজ্ঞা করায় আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো হলো ফলে সুবিচার বলা যায়না।

মাত্র ২১ দিনের ব্যাপার ছিলো.. যা ৩৪ বছরের তুলনায় কিছু নয়!! কি অদ্ভুত!!

পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।





২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩০

লেখক বলেছেন: মাত্র ২১ দিনের ব্যাপার ছিলো.. যা ৩৪ বছরের তুলনায় কিছু নয়!! কি অদ্ভুত!! সত্যিই মানবী, এই সরকার বাহাদুর কিসের ভয়ে ছিল, কে জানে!

৯. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৩
এনটনি বলেছেন: "বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মৃত্যুদন্ডে জাতি হিসাবে আমরা দায়মুক্ত হয়েছি" এই কথাটায় আপত্তি আছে......

জাতি হিসাবে আমাদের দায়মুক্তি হবে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে.....
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪২

লেখক বলেছেন: ক্ষণে ক্ষণে দায়মুক্তি ঘটলে ইহুদিগো কারবার। যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের পর পরই আপনেরা সব্বাই মিইল্যা দেশটারে লুটেপুটে খাওনের অধিকার পাইবেন, এইতো? মানে এই দুই বিচারের পর আর কোন দায় থাকবো না, না?

১০. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৪
বাউল! বলেছেন: ল্যাঞ্জা দেখা যায়।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: দেখা গেলেও আপাতত আপনেরে বান্দর হনুমান ছাগল কিছু ডাকতি ইচ্ছা করতিছে না।

১১. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
এনটনি বলেছেন: @লেখক: হা হা হা ...নতুন দায় না থাকলে এতেই দায় মুক্তি হবে...এছাড়াও অনেক বিচার করতে পারেন যদি আবেগ থেকে বের হয়ে বাস্তব নিয়ে ভাবেন...আর যদি এসব দায় মনে করেন....

সিরাজ সিকদার (কার্যক্রমের জন্য তার ভাস্কর বোন এখনো জীবিত)
জিয়া হত্যার বিচার
পিনকি ও একইভাবে যেসব হত্যার বিচার
শাজনীন হত্যার বিচার
বসুন্ধরার মালিকের জমি দখলকালীন হত্যার বিচার
সালমান শাহ হত্যার বিচার

আরো লম্বা লিস্ট আছে.....আপনার আগ্রহ আর ম্যাচিউরিটির উপরে বাকিটা দেয়া হবে....
বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিদেশ থেকে আনার বেপারে কিছু করতে পারবেন?
আর কিছু না পারেন, সামু তে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গনসাক্ষর নেয়া হচ্ছে সেটাই বেশি করে যোগার করে দেন না....
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৫

লেখক বলেছেন: ৭১ বলেছেন: মি. এনটনি দেহি শুদু বিচার সালিশের দায় লই আছে। গনসাক্ষর দি কি ফাউ হবে? পোস্টে +।

সেটাই। রাষ্ট্রের আর কুনো দায় থাহেনা বুঝি?

১২. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৫
৭১ বলেছেন: মি. এনটনি দেহি শুদু বিচার সালিশের দায় লই আছে। গনসাক্ষর দি কি ফাউ হবে? পোস্টে +।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন: আপনারেও প্লাস।

১৪. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৪
মগ্নতা বলেছেন: আমার পুরাতন একখান পোষ্টের লিঙ্ক দিলাম:
চোখে গ্লিসারিন মাখি "শোক উৎসব"


আইজকা সারাদিন বাংলাদেশে একখান "শোক উৎসব" করসে আওয়ামীলীগ। শোকের লগে 'উৎসব' শব্দখান বেমানান, তয় তাগো দৌড় ঝাপ ঠাট্টা মশকরা দেইখা এইটারে উৎসব ছাড়া আর কিছু কওন বেমানান লাগতাসে। এক আওয়ামি কবিরে দেখলাম আইজকা ইস্পেশাল নেহারি দিয়া নানরুটি মারসে। চকবাজারের সবুজ হোটেলে বইসা প্রতিদিনকার মত ফ্র্যাঞ্চ ক্যাফের লগে এই হোটেলের সিঙ্গারার তুলনা- বঙ্গবন্ধুরে লই আজগুবি গফ আর মাসির কান্নাকাটিতে বেশ উৎসব উৎসব ভাব।

এই উৎসবের মইধ্যে আমি না হৈতে পারলাম উৎসবি- না শোকার্ত। ওরা বলতেসেন জাতি শোক পালন করতাসে। আমি অনেক চেষ্টা ইরাও এই "আওয়ামি জাতি"র মইধ্যে পইড়তে পারি নাই অহনো- কুম্ভিরাশ্রু চক্ষু দিয়া আসে না। হাসিনার মত চোখে গ্লিসারিন মাখি যখন তখন মায়া কান্না কান্দার শক্তি নাই। আবেগ আহে না।

মুজিব সম্পর্কে একখান সাফ কথা শুইন্যা রাখেন সকলে:

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লাইগ্যা মুজিব অনিবার্য আছিল। আর এই রাষ্ট্ররে টিকাই রাখনের জন্য মুজিবের পতনও অনিবার্য আছিল। কিন্তু এইরম মর্মান্তিক হত্যার মধ্য দিয়া পতন অনিবার্য ছিল কিনা সেইডা আমি নিশ্চিত হৈতে পারি নাই অহনো। আল্লায় তারে বেহেশত নসিব করুক, আমার শোকের কাম নাই। আওয়ামী কবির লগে আমিও আইজকা নেহারি খাইসিলাম।


২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৬

লেখক বলেছেন: পুরাই তুইল্যা দিলাম।

১৫. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৭
অলস ছেলে বলেছেন: পড়লাম। অনেকাংশেই পুরো প্রক্রিয়াটা উৎকট মব লিঞ্চিং এ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে আরো অনেক ইতিহাস সৃষ্টি হবে। নগণ্য একজন বাংলাদেশী হিসেবে অন্তত দর্শকের ভুমিকায় হলেও থাকার ইচ্ছা আছে। মাঝে মাঝে সময় হলে ব্লগ লিখবো যা মনে আসে তাই নিয়ে :)
আবার পড়বো আপনার লেখাটা। লিষ্টে রাখলাম। আপাতত পেটের ধান্দায় যাচ্ছি :)
ভালো থাকবেন।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: সময়ের সাথে সাথে আরো অনেক ইতিহাস সৃষ্টি হবে। নগণ্য একজন বাংলাদেশী হিসেবে অন্তত দর্শকের ভুমিকায় হলেও থাকার ইচ্ছা আছে।..

hmm. apnio valo thakben.

১৬. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৫
শান্তির দেবদূত বলেছেন: ৩৫ বছর অপেক্ষা করছে, আর ৩৫ টা দিন অপেক্ষা করলে কি ক্ষতি হতো! এতদিন ধৈর্য্য ধরে শেষে এই তাড়াহুড়োটা না করলেও পারতো।

তবে আমারা বাঙ্গালি জাতি বিতর্কপ্রেমী, যে কোন বিষয় নিয়া আলোচনার ঝড় তুলতে পারি, আরও ৩/৪ সপ্তাহ সময় দিয়ে ফাঁসি দিলেও, অন্য কোন ইসুতে বিতর্ক চলতো। "মানুষ তাই দেখে, যা সে দেখতে চায়" এই কথাটা আমাদের জন্য একেবারে শতভাগ সঠিক।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন: shetai.

১৭. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৯
মগ্নতা বলেছেন: দণ্ডিতদের দাফন সম্পন্ন : কর্নেল ফারুক ও হুদার জানাজায় শরিক বিপুল মানুষ : গলাচিপায় মহিউদ্দিনের জানাজায় আওয়ামী লীগের বাধা

সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকরের পর গতকাল জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মেজর (অব.) বজলুল হুদার জানাজায় ওই এলাকার স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েত হয়েছে। নওগাঁয়ের কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের জানাজায় শরিক হন হাজার হাজার মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় তড়িঘড়ি করে খুব ভোরেই দাফন করা হয়েছে লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদের লাশ। এলাকার মানুষ উপস্থিত হওয়ার আগেই তাকে দাফন দেয়ায় অনেকে জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। এদিকে লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি) ও মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমদের (ল্যান্সার) লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়ার সময় কয়েকটি স্থানে হামলা ও জুতা নিক্ষেপ করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী দলের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা। পটুয়াখালীর রাঙাবালিতে মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমদের (ল্যান্সার) জানাজার নামাজে হামলা চালানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা লাঠিচার্জ করে। একই উপজেলার মৌডুবিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) লাশ।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী আসামিদের নিজ নিজ এলাকায় গতকাল ছিল শোকের ছায়া। এলাকাগুলোতে বিরাজ করছিল স্তব্ধ পরিবেশ। বজলুল হুদা ও সৈয়দ ফারুকের জানাজায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল হাজার হাজার মানুষের। আলমডাঙ্গায় বজলুল হুদাকে ও নওগাঁয় কর্নেল ফারুককে শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় করেছিল হাজারো মানুষ। তবে এলাকায় আনন্দ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা দাফন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও গতকাল তাদের দেখা যায়নি।
মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত হলেন বজলুল হুদা : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নগরবোয়ালিয়া গ্রাম থেকে ফিরে আমাদের প্রতিনিধি ডালিম হোসেন জানান, মেজর (অব.) বজলুল হুদার লাশ দুপুর ২টায় তার নিজ গ্রাম আলমডাঙ্গার নগরবোয়ালিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। রাতেই বজলুল হুদার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবর জানাজানি হলে ভোর থেকেই তার লাশ একনজর দেখতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে র্যাব-পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ৫টি গাড়ি বহর নিয়ে বজলুল হুদার লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি হাটবোয়ালিয়া গ্রামে পৌঁছে। হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমায়। ভিড় সামলাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে হিমশিম খেতে হয়। পুলিশের এসআই মইনুল হোসেন সাড়ে ৯টার সময় বজলুল হুদার লাশ তার বোন মাহফুজা লিজি ও ছোটভাই নুরুল হুদা ডিউকের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই সময় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাইফ মল্লিক, পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বজলুল হুদাকে একনজর দেখতে হাটবোয়ালিয়া গ্রামে মেহেরপুর, ঝিনাইদহ এবং কুষ্টিয়া জেলার হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা, গাংনী- হাটবোয়ালিয়া, হারদী-আলমডাঙ্গা সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে গেলে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বজলুল হুদাকে দেখতে আসা গাংনী উপজেলার এলাঙ্গা গ্রামের আবদুর রহমান তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, জানি না বজলুল হুদা মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিনা? কথায় আছে পাপকে ঘৃণা কর পাপিকে নয়। তবে আমি যেটুকু জানি হুদা খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। দোয়াকরি আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। ভাংবাড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধ খবির উদ্দিন অভিন্ন মন্তব্য করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে সবচেয়ে শিক্ষিত পরিবার ছিল তার পরিবার। তারা এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজসহ নানা উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। ওই হুদার ফাঁসি মেনে নেয়াটা সত্যিই কষ্টকর।
এদিকে লাশ হস্তান্তরের পর হাজার হাজার জনতার ভিড়ে উপস্থিত শত শত র্যাব-পুলিশ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে। তারা হুদার লাশ দ্রুত দাফনের জন্য তাগিদ দিলেও উত্সুক জনতা তা অনেকটা অগ্রাহ্য করে। হাজার হাজার মানুষের দাবির মুখে হুদার লাশের কফিন স্থানীয় হাটবোয়ালিয়া ফুটবল মাঠে নেয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা জনতা ব্যর্থ করে দেয়। ফুটবল মাঠে হাজার হাজার নারী- পুরুষকে আলাদা আলাদাভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে বজলুল হুদার লাশের কফিনটি একটি ভ্যানে নিয়ে সবাইকে দেখানো হয়। এরপর বাদ জোহর মেজর (অব.) বজলুল হুদার প্রথম জানাজা হাটবোয়ালিয়া ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, আলমডাঙ্গা এলাকায় এর আগে কারও জানাজায় এত মানুষ উপস্থিত হওয়ার নজির নেই। পরে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নগরবোয়ালিয়া জামে মসজিদে। জানাজা শেষে হুদার শেষ ইচ্ছা অনুয়ায়ী তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
হুদার ভাই ডিউক জানিয়েছেন, বুধবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যখন মেজর (অব.) হুদাকে তার পরিবারের লোকজন দেখতে যান, তখন তিনি ছোটভাইকে বলেছিলেন আমি কোনো অন্যায় করিনি। এর পরই তিনি কালেমা তায়্যেবা পড়েন বলে ছোটভাই ডিউক জানান। তিনি আরও জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত রিয়াজ ডাক্তারের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে মেজর (অব.) বজলুল হুদা ছিলেন সেজ। বড়ভাই কামরুল হুদা ঢাকা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করেন। মেজভাই নাজমুল হুদা ছিলেন সাবেক সচিব। তিনি থাকেন ঢাকায়। ছোটভাই নুরুল হুদা ডিউক ঢাকায় একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন। আর হুদার পরিবারও ঢাকায় বসবাস করে। তার স্ত্রী নাফিজা হুদা ছোট মেয়ে আনিতাকে নিয়ে থাকেন পৈতৃক বাড়িতে।
নুরুল হুদা ডিউক লাশ গ্রহণ করে বলেছেন, তার ভাই ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার ভাইকে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় হত্যা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিচারের নামে প্রহসন করল। রাষ্ট্রপতির কাছে কোনো প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।
এদিকে লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ঘোষণা দিলেও পিছু হটেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গত কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণা দিলেও গতকাল হুদার লাশ পৌঁছার পর হাজার হাজার নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির পর সে অবস্থান থেকে পিছু হটে আওয়ামী লীগ নেতারা। এ প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু বলেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে এতেই আমরা খুশি।
গলাচিপায় দুই মহিউদ্দিনের দাফন : গলাচিপার রাঙাবালি ও মৌডুবি থেকে ফিরে আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জাকারিয়া হৃদয় জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি) ও মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমদের (ল্যান্সার) গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। বুধবার মধ্যরাতে ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর লাশ নিয়ে আসা হয় তাদের গ্রামের বাড়িতে। আসার সময় পথে পথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয় লাশ। জুতা নিক্ষেপ, জানাজা আদায়ের সময় হামলা, পুলিশের লাঠিচার্জ, নিকটাত্মীয়দের মারধর, র্যাব ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ল্যান্সার মহিউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর সাড়ে ৩টায় রাঙ্গাবালীর নেতা গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর একই উপজেলার মৌডুবিতে আর্টিলারি মহিউদ্দিনের লাশ নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকালে তাদের বাড়িতে প্রশাসনের সহযোগিতায় কবর খোঁড়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় লাশবাহী ২টি অ্যাম্বুলেন্স পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাট পার হওয়ার সময় পাগলার মোড়ে আওয়ামী লীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের রোষানলে পড়ে। তারা অশ্লীল গালিগালাজ করে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করে। পরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে থাকা র্যাবের গাড়ি থেকে র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একই অবস্থা চলে পটুয়াখালী সেতুর দক্ষিণ পাড়ে ও চৌরাস্তা এলাকায়। দুপুর পৌনে ১২টায় গলাচিপার উত্তর পাড়ে হরিদেবপুর ফেরিঘাটে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছলে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা লাশের গাড়িতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। সেখানে শতাধিক র্যাব ও পুলিশ পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টায় লাশবাহী কফিন সরকারি স্পিডবোর্টে রাঙ্গাবালী ও মৌডুবির উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর আড়াইটায় ল্যান্সার মহিউদ্দিনের লাশ রাঙ্গাবালীর নেতাগ্রামে পৌঁছে। এর আগে সকাল থেকে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ ঘোষণা দেয়, যে কোনোভাবেই মহিউদ্দিনের লাশ সেখানে দাফন করতে দেয়া হবে না। একপর্যায়ে মহিউদ্দিনের লাশ সেখানে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব ও পুলিশ হিমশিম খায়। এ পরিস্থিতিতে মহিউদ্দিনের চাচাতো ভাই শহিদুল আলম মিল্টনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তিনি কফিন খুলে ভাইয়ের লাশ বুঝে নেন। পরে জানাজার জন্য উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান এবং জানাজা শুরু হয়। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ আলেম মাওলানা শামসুদ্দিন জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজা চলাকালে আওয়ামী লীগের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল কর্মী হামলা চালায়। এ সময় মহিউদ্দিনের কয়েকজন নিকটাত্মীয় হামলার শিকার হন। জানাজা শেষে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মহিউদ্দিনের লাশ দাফনের জন্য নেয়া হলে আবারও আওয়ামী লীগ কর্মীরা হামলা চালায়। তারা কবরে জুতা নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করে। মহিউদ্দিনের লাশ দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে স্লোগান চলছিল।
লাশ দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান, র্যাব-৮ পটুয়াখালী ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এম রাজীব, এএসপি নূরে আলম ও এএসপি রিয়াজ প্রমুখ।
গলাচিপা প্রতিনিধি সাইমুন রহমান এলিট জানান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদের (আর্টিলারি) লাশ তার গ্রামের বাড়ি বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের নিজকাটা গ্রামে পৌঁছে দুপুর পৌনে ৩টায়। সেখানেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পারিবারিকভাবে গোসল ও জানাজা শেষে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে পারিবারিক গোরস্তানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
বিকাল সাড়ে ৩টায় আর্টিলারি মহিউদ্দিনের আহমদের লাশ আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার নিকটাত্মীয় ও এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ সকাল থেকেই ওই বাড়িতে ভিড় জমান। লাশ গ্রহণ করেন চাচা মোঃ আবুল হোসেন। মৌডুবি হাওলাদারকান্দা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হন তার জানাজা পড়ার জন্য। পরে বাড়ির সামনে মসজিদের পশ্চিম পাশে দাফন করা হয় তাকে। তবে জানাজার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
কসবায় শাহরিয়ার রশীদ খানের দাফন সম্পন্ন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মফিজুর রহমান লিমন ও কসবা প্রতিনিধি অলিউল্লাহ সরকার অতুল জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানের লাশ পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে দাফনে সহযোগিতা করেন। ভোররাতে তার লাশ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা কসবার গোপীনাথপুরে সুলতান শাহরিয়ার রশীদের বাড়িতে নিয়ে আসে। ভোর সাড়ে ৬টায় তার ছেলে আশরাফুল রশিদ খান বাবার লাশ গ্রহণ করেন। আগে থেকেই সবকিছু প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। পারিবারিক গোরস্তানে কবর তৈরি, জানাজা পড়াতে মৌলভীসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতার সবকিছুই প্রশাসনের সহায়তায় তার আত্মীয়স্বজন প্রস্তুত করে রাখেন। খুব ভোরো তার লাশ দাফন করায় আত্মীয়, জ্ঞাতী-গোষ্ঠী ও পাড়া-মহল্লার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জানাজায় অংশ নিতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তারা জানাজা পড়তে না পেরে কবর জিয়ারত করেন। অনেকেই জানাজায় অংশ নিতে না পেরে আফসোস করেন।
ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার খবর শোনার পরপরই ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কসবা থেকে ইলেক্ট্রনিট ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিরা সুলতান শাহরিয়ার রশীদের বাড়িতে উপস্থিত হন। সকাল সোয়া ৭টায় স্থানীয় মাওলানা মোখলেছুর রহমান তার জানাজা পড়ান। জানাজার আগ মুহূর্তে তার ছোট ভাই হেলাল খান উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তার ভাইয়ের পক্ষে ক্ষমাপ্রার্থনা করে রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শাহরিয়ার রশীদের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে তখন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার বৃদ্ধ পিতা হারুনুর রশিদ খান (১০০) স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন এবং জানাজায় শরিক হন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। সে দেশকে বাঁচিয়েছে। তিনি তার ছেলের জন্য গর্বিত।
শাহরিয়ার রশীদের ছেলে আশরাফুর রশীদ খান জানান, তার বাবা খুবই দৃঢ় ছিলেন। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। তিনি বলতেন আল্লাহ যেভাবে যার মৃত্যু রেখেছে সেভাবেই তার মৃত্যু হবে। এটাই মেনে নিতে হবে। তিনি যা করেছেন তা দেশের ও দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য করেছেন। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কেউ স্বীকার করেন আর না করেন তাতে কিছু যায় আসে না। গত বুধবারও তিনি খুশিভাবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, তার বাবা গত বুধবার বলেছেন, যা করেছেন দেশের জন্য ও দেশের মানুষের ভালোর জন্য খাস দিলে করে গেছেন।
এদিকে গতকাল দুপুরে কসবায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ মিছিল বের করে শহরের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নওগাঁয় কর্নেল ফারুকের দাফন : নওগাঁ প্রতিনিধি শেখ আনোয়ার জানান, লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের লাশ সকাল ১০টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার মারমা মল্লিকপুরের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে। দাফনের সময় কর্নেল ফারুক রহমানের বৃদ্ধ মা মাহমুদা রহমান, বোন এদেশের প্রথম মহিলা পাইলট সৈয়দা ইয়াসমিন রহমান ও ভগ্নিপতি আশফাকুর রহমানসহ অন্য আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। কর্নেল ফারুকের স্বজনরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ পেয়ে তারা রাতেই স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবর প্রস্তুত করে রাখেন। সকাল ৯টার কিছু আগে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে লাশ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। ঢাকা থেকে সৈয়দ ফারুক রহমানের লাশ বহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন সৈয়দ ফারুকের চাচাতো ভাই দেওয়ান আসাদুর রহমান। লাশ হস্তান্তরের পরপরই মল্লিকপুর পুরনো জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে লাশ ধোয়ানোসহ বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মল্লিকপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কছিম উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক, আবুল কালাম আজাদ, শহীদ হাসান
১৮. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২১
মগ্নতা বলেছেন: কর্নেল ফারুকের শেষ কথা : অন্যায় করিনি যা করেছি দেশের জন্যই

নাছির উদ্দিন শোয়েব

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কিছু সময় আগে কর্নেল ফারুক বলেছেন, আমি অন্যায় কোনো কিছু করিনি। যা করেছি দেশের জন্যই করেছি। কারাগারে ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা করতে যাওয়া মা মাহমুদা রহমানকে ফারুক বলেন, মা—আমার জন্য কাঁদবেন না। আমি দেশপ্রেমিক ছিলাম। আমার জন্য দুঃখ করবেন না। দোয়া করবেন। আশি বছরের বৃদ্ধা ফারুকের মা কনডেম সেলে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা ছেলের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি ছেলেকে বলেছি—তোর শহীদি মৃত্যু হবে। এরপর মায়ের মুখের দিকে কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে থাকেন ফারুক। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা এক কারা কর্মকর্তা বলেন—কর্নেল ফারুকের শেষ ইচ্ছা ছিল সিগারেট খাওয়ার। কিন্তু তাকে ধূমপান করতে দেয়া হয়নি। এর আগে কারা অধিদফতরের মসজিদের ইমাম মনির হোসেন সবাইকে ওজু করিয়ে তওবা করান।
একেএম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ফাঁসির মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমার লাশটা স্বজনদের পৌঁছে দিয়েন।’ উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনার কথা রাখা হবে। লাশ আপনার স্বজনরাই পাবেন। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার পর তাকে পরিয়ে দেয়া হয় জম টুপি। একটা পাঁচ মিনিটে জেলার মোখলেছুর রহমান হাত থেকে ফেলে দেন লাল রুমাল। সঙ্গে সঙ্গে জল্লাদ রাজু ফাঁসির হাতলে টান দেন। একইভাবে একে একে সাবেক পাঁচ সেনা কর্মকর্তা আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ১০ হাজার বন্দিকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কারা অভ্যন্তরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের সেলে নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানো হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা তিন জল্লাদকে গতকাল ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্য দু’জন ঢাকা কারাগারেই রয়েছে।
যে মঞ্চে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় সেই মঞ্চ দুটি রাতেই ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। মধ্যরাতে ফাঁসি কার্যকরের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। একসঙ্গে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর কারাগারের বন্দিরা আগেই টের পেয়ে যায়। বিশেষ করে বুধবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে জেলে ঢোকানো এবং কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করানোর পর অন্য বন্দিরা বিষয়টি বুঝতে পারে। কনডেম সেলে থাকা বন্দির সঙ্গে শেষ সাক্ষাত্ করার সময় কয়েকজন আত্মীয় অঝোরে কাঁদেন। কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে তাদের বিশেষ প্রস্তুতি চলছিল। রিভিউ পিটিশন নাকচ করার দিনই দণ্ড কার্যকর করা হবে—এ বিষয়ে কারা কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন। তবে বিষয়টি গোপন ছিল।
গতকালও কেন্দ্রীয় কারাগার ও এর আশপাশে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায়। চাঁনখারপুল ও নাজিম উদ্দিন রোডের দুই মাথায় র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন ছিল। কারাগারে সাক্ষাতে আসা অন্য বন্দিদের স্বজনদেরও তল্লাশি করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনারোধে এখনও ব্যাপক তত্পর রয়েছে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা।
রাত ১২টা বাজার আগে কারাগার এলাকা ছিল নীরব। ১২টা ৫ মিনিটে প্রথম ফাঁসি কার্যকরের খবর শুনেই জনতার ঢল নামে কারাগার চত্বরে।
রাত তিনটার একটু পরে স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান শিকদার ও আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুযায়ী তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। জেল সুপার তৌহিদ জানান, বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। জেল কোড যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে।
১৯. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৭
মগ্নতা বলেছেন: ফাঁসির মঞ্চে নিশ্চুপ চার খুনি, একজনের কান্নাকাটি এইটা প্রথম আলো থিকা নেওয়া

মৃত্যুর নিয়তিকে মেনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনি। তাই ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁরা নিশ্চুপ ছিলেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই তাঁরা হেঁটে গেছেন ফাঁসির মঞ্চের দিকে। তবে একজন মুহিউদ্দিন (আর্টিলারি) ফাঁসির মঞ্চে যেতে কিছুটা বিলম্ব করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার রাত ১২টা পাঁচ মিনিট থেকে একটা পাঁচ মিনিট পর্যন্ত দুজন দুজন করে এবং শেষে একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়। প্রতিটি ফাঁসি কার্যকরের পরই ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমান নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করেন। ফাঁসি কার্যকর করার পর লাশগুলো ঢোকানো হয় কফিনে। এরপর নেওয়া হয় অ্যাম্বুলেন্সে।
ফাঁসি কার্যকর করার সময় স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান সিকদার, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লার রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার, ভারপ্রাপ্ত সির্ভিল সার্জন মুশফিকুর রহমান, ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার ও কারা তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম উপস্থি ছিলেন। এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ফাঁসি কার্যকরের মুহূর্ত সম্পর্কে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ কমিশনার শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমি জানতে পারি, আজ (২৭ জানুয়ারি) রাতেই খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমাকেও সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। ফাঁসি কার্যকর করার আগে ১১টার দিকে কারা তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত সব কর্মকর্তার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এরপর ফাঁসির মঞ্চ পরীক্ষা করা হয়। ১২টার দিকে দুই খুনিকে হাতকড়া পরিয়ে কয়েদির পোশাকে আনা হয়। মাথায় ছিল কালো জমটুপি। এই টুপি পরলে কিছু দেখা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টায় কারা তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম ফাঁসির প্রস্তুতি সম্পর্কে উপস্থিত কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এরপর ৪২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি শাহজাহানের নেতৃত্বে তিন জল্লাদ মঞ্চের সামনে আসেন। তাঁরা ফাঁসির রশি টেনে পরীক্ষা করেন এবং এক ধরনের পিচ্ছিল পদার্থ লাগান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, রাত সাড়ে ১১টায় কারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন ও দুই জল্লাদ ফাঁসির সেলে যান। তাঁরা খুনিদের সঙ্গে কথা বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। ইমাম পাঁচজনকেই তওবা পড়ান। একপর্যায়ে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া ও কালো রঙের জমটুপি পড়ানো হয়।
এরপর ফাঁসির সেল থেকে দুই সহকারী জল্লাদ প্রথমে সৈয়দ ফারুক রহমানকে আনেন। তিনি জল্লাদদের সহযোগিতায় স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে মঞ্চে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর আনা হয় শাহরিয়ার রশিদকে। মঞ্চে তোলার পর দুজনের পা বেঁধে গলায় ফাঁসির রশি পরানো হয়। রাত ১২টা পাঁচ মিনিটে সব প্রস্তুতি যখন শেষ, তখন কারা তত্ত্বাবধায়ক তাঁর হাতের রুমালটি ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে জল্লাদ মঞ্চের লিভার টান দিলে দুই খুনির পাঁয়ের নিচের পাটাতন সরে যায়। দুজনেই ঝুলতে থাকেন মঞ্চের কূপে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ১৫ মিনিট পর কূপের দরজা খুলে সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে যান। সিভিল সার্জন নাড়ির স্পন্দন দেখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ রশি থেকে নামানো হয়। এরপর লাশ পাশের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই কর্মকর্তা জানান পরের ঘটনা প্রবাহ। তাঁদের মতে, ‘রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে একইভাবে কয়েদির পোশাক ও কালো জমটুপি পরিয়ে আনা হয় এ কে এম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ও বজলুল হুদাকে। তাঁদের মঞ্চে এনে একইভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রাত একটায় মুহিউদ্দিনকে (আর্টিলারি) আনতে দুই জল্লাদ সেলে গেলে তিনি বলেন, ‘সময় দেন। বাঁচতে চাই। ক্ষমা করা যায় না?’ এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর তাঁকে এক প্রকার জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে। সেখানেও চিত্কার করে কান্নাকাটি করেন তিনি।
ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত দুই কর্মকর্তা জানান, সবার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে লাশগুলোর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। সিভিল সার্জন খুনিদের মৃত্যু নিশ্চিত করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর লাশগুলো একে একে কফিনে ঢুকিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাত তিনটার দিকে একে একে বেরিয়ে আসেন কর্মকর্তারা। গাড়িতে ওঠার সময় সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ফাঁসির আগে সব আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। সবার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় কয়েদিরা একেবারেই নিশ্চুপ ছিলেন।
কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে রাত তিনটায় স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি মেনেই পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
ফাঁসি কার্যকর করার আগে পরিবারের স্বজনদের রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় কয়েদি ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বজলুল হুদার পরিবার তাঁর লাশ হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য আবেদন করে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয়।
[প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন কামরুল হাসান, আনিস রহমান, শরিফুল হাসান ও আয়নাল হোসেন]
২০. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪১
মগ্নতা বলেছেন: পাভেল করচাগিন এর একটি পোস্ট: ৭৫'র পট পরিবর্তনে সাধারন মানুষের মাঝে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছিল। তাদেরও সাজা হওয়া উচিৎ।

১৯৭২ সালে আমি খুবই ছোট। তিন ভাই আর বাবা মাকে নিয়ে আমাদের পরিবার। বাবা কখনোই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন।
দেশ স্বাধীন হবার পরও শেখ মুজিব পাকিস্তানের জেলে বন্দী ছিল। আমার মনে আছে বাবা আর মা তিনটা রোজা রেখেছিলেন। যাতে খোদা পাক শেখ মুজিবকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। যেদিন শেখ মুজিব বাংলাদেশে আসেন সেদিন বাবা বলেছিলেন আজই মাত্র দেশ স্বাধীন হোল। আজ আমাদের ঈদ।

৭২ থেকে ৭৫, সময় পরিবর্তন হচ্ছিল যেন খুব দ্রুত। এ সময়ে অনেক নতুন নতুন উপাদান আমাদের সমাজে এসে হাজির হয় - জাসদ, মাওলানা ভাসানী, সিরাজ সিকদার, দুর্ভিক্ষ, লাল বাহিনী, রক্ষী বাহিনী, শুধু ৪টি বৈধ পত্রিকা, সব দল নিষিদ্ধ , বাকশাল, শেখ কামাল, দলীয় চোরাকারবারী, শেখ মণি, গাজী গোলাম মোস্তাফা, কম্বল ইত্যাদী ইত্যাদী।

১৫ আগস্ট সকালে বাসায় আমরা সকালের নাস্তার টেবিলে বসতে যাবো।
বাবা রেডিও হাতে হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন।
আমার মনে আছে বাবা বললেন - দেশের সবাই ভীরু আর কাপুরুষ না। আজ বুকের উপরে চেপে থাকা পাথর সরলো।
আমি তখন আর নিতান্তই শিশু না। খুব ভালো করেই বুঝলাম শুধু বাবা না, অনেকের চোখে মুখে স্বস্তি।
ফারুক ডালিমদের ঘটনাটা অনেককেই স্বস্তি দিয়েছিল।

আজ যখন ফারুক ডালিমদের বিচার হোল তখন তাদেরও বিচার হওয়া উচিৎ যারা এ ঘটনার কারনে স্বস্তি পেয়েছিল (মানে ঘটনাটাকে সমর্থন করেছিল) । কারণ তাদের এই সমর্থন ফারুক ডালিমদের এ ঘটনা ঘটানোর শক্তির বড় উৎস ছিল।

জানি এটা সম্ভব না। কারন, এ যে দু চার জন না। অনেক।




(বাবা এরই মাঝে পরলোকগত হয়েছেন, বাবার সাথে সব বিষয়ে যে আমি একমত ছিলাম তা না তবে এই বিষয়ে তার অনুভুতি ঠিক বুঝেছিলাম বলে মনে হয়)।



২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: সামহোয়ার থিকাই নেওয়া।

২১. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১২
মগ্নতা বলেছেন: ডেডলাইন ১২:০১

* তওবা পড়েনি ঘাতকরা। ছিল না শেষ ইচ্ছা, পছন্দের খাবার। শেষ গোসলও করেনি ফারুক

* বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো এমন অনেকে জড়িত, যা আমরা জানি। শেষ ইচ্ছা ছিল এগুলো বলার কিন্তু বলতে চাই না : ল্যান্সার মহিউদ্দিন ও আর্টিলারি মহিউদ্দিন

ডেডলাইন ১২:০১: পারভেজ খান, কালের কণ্ঠ থিকা নেওয়া।

কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে তওবা পড়ানো হয় (মুসলমান হলে)। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পাঁচ ঘাতক তওবা পড়তে অস্বীকৃতি জানায়। তাই তওবা ছাড়াই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
কারাবিধি অনুযায়ী ফাঁসির আসামিদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার শেষ ইচ্ছা কী; পছন্দের কোনো খাবার খেতে চায় কি না; শেষবারের মতো কিছু বলার আছে কি না। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করার আগেও পাঁচ আসামির কাছে এসব জানতে চেয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পাঁচ আসামির সবাই বলেছে, এসব কিছুর ইচ্ছা তাদের নেই। উপরন্তু দুজন বলেছে, এসব করে আর বলে লাভ কী? কারণ তাদের ভাষায়, শাস্তি দেওয়ার নামে যা করা হচ্ছে, তা অবৈধ।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তারা এমন কিছু জানে, যা প্রকাশ করলে অনেকের মুখোশ খুলে যাবে। বের হয়ে আসবে থলের বিড়াল। কিন্তু মরার আগে আর কাউকে তারা বিব্রত করতে চায় না। তবে একজন কিছু চেয়েছিল। তার চাওয়া ছিল মৃত্যুর আগে নয়, মৃত্যুর পর যেন তার লাশ হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। তার স্বজনরাও কারাগারে মৌখিকভাবে এই আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু লিখিত কোনো আবেদন করেননি বলে তা সম্ভব হয়নি।
এ রকম অনেক নাটকীয় ঘটনার পর বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরের পালা। কারাগারের বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তওবায় অনীহা : বুধবার রাত ১১টার দিকে কারা কর্মকর্তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পুকুরপাড় মসজিদের ইমাম মনির হোসেনকে রজনীগন্ধা সেলে নিয়ে যান পাঁচ বন্দিকে তওবা পড়াতে। কিন্তু ইমামসহ কারা কর্মকর্তাদের অবাক করে দিয়ে পাঁচ বন্দির কেউই তওবা পড়তে রাজি হয়নি। তারা বলেছে, আমরা নিজেরাই তওবা পড়তে পারি। কোনো আনুষ্ঠানিকতার তওবা বা ইমামের প্রয়োজন নেই। এরপর ইমাম সাহেব তাঁর মতো করে তওবা পাঠ করে শোনান।
শেষ ইচ্ছা বলে কিছু নেই : শেষ ইচ্ছার কথা বলা হলে পাঁচ বন্দির সবাই বলেছে, তাদের কোনো শেষ ইচ্ছা নেই। লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি) ও মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) বলেন, শাস্তি দেওয়ার নামে যা করা হচ্ছে, তা অবৈধ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো এমন অনেকে জড়িত, যা আমরা জানি। শেষ ইচ্ছা ছিল এগুলো বলার, কিন্তু তা বলতে চাই না। বললে অনেক রাজনীতিক রাঘব বোয়ালের নাম প্রকাশ পাবে। বের হয়ে আসবে থলের বিড়াল। মারা যাওয়ার আগে আর কাউকে বিপদে বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না।
মেজর (অব.) বজলুল হুদা বলে, 'আমার শেষ ইচ্ছা যা, তা কারা কর্মকর্তাদের সামনেই এর আগে স্ত্রীকে বলেছি। স্ত্রীকে বলেছি, জীবন তো আর এমন হওয়ার কথা ছিল না। তাকে আরো বলেছি, পরকালে তার সঙ্গে আবার দেখা হবে। সবাই দোয়া করবেন, যাতে আমি পরকালে স্ত্রীর দেখা পাই।'
শেষ ইচ্ছার কথা না জানালেও সবাই বলেছে, তাদের কবর যেন স্বজনদের পাশে দেওয়া হয়।
খাবারে পছন্দ নেই : বন্দিদের বলা হয়েছিল তাদের বিশেষ কিছু খেতে ইচ্ছা করছে কি না। তারা বিশেষ পছন্দের কোনো খাবারের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। ফলে রুটিন হিসেবেই তাদের শেষবেলার খাবার দেওয়া হয়। এই তালিকায় ছিল ভাত, রুটি, ডাল, গরুর মাংস, আলু-টমেটো-ফুলকপি দিয়ে তৈরি সবজি আর গরুর দুধ। সবাই এসব খেয়েছে, তবে পরিমাণে অল্প। বিকেলে অবশ্য তাদের নিজেদের টাকা থেকেই (প্রিজনার্স ক্যাশ) সিঙাড়া, পুরি ও কেক এনে খায়। তবে সরবরাহ করার আগে প্রতিটি খাবারই কারা কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দিতেন।
রায় শোনার পরও অবিচল : ওই দিন রাত ১০টার দিকে স্বজনরা চলে যাওয়ার পরপরই সোয়া ১০টায় কারা কর্মকর্তারা সেলে গিয়ে বন্দিদের জানান, আজই তাদের সাজা কার্যকর করা হবে। কিন্তু কাউকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। মনে হয়েছে, এ রকম প্রস্তুতি তারা নিয়েই রেখেছিল। কেউ কোনো কান্নাকাটিও করেনি। যা করেছে তা স্বজনদের সামনে এবং তাঁদের কাছে পেয়ে। অবশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ পেয়ে প্রায় সবাই বলেছে, তারা অপরাধী না। ন্যায্য বিচার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
গোসল-পোশাক : মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সবাইকে গোসল করতে বলা হয়। সবাই গোসল করতে রাজি হলেও লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান রাজি হয়নি। তার গোসলের ইচ্ছা বা প্রয়োজন নেই বলে সে জানায়। সেলের পাশেই গোসলখানা। চার বন্দি মগে করে নিজেরাই পানি ঢেলে গোসল করে। এ সময় কারা মসজিদের ইমামও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর উপস্থিতির প্রায় পুরো সময়ই দোয়া-দরুদ পড়ে গেছেন।
বন্দিরা অনেক সময় তাদের সাধারণ পোশাক পরত। তবে গোসলের পর সবাইকে কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরতে বলা হয়। তারা সে পোশাকই পরে। এ সময় কেউই কোনো আপত্তি করেনি। এই পোশাক হচ্ছে সাদা-কালো ডোরাকাটা ফতুয়া ধরনের পাঞ্জাবি আর পায়জামা।
ফাঁসির মঞ্চ : রজনীগন্ধা সেলের মাত্র কয়েক গজের মধ্যেই ফাঁসির মঞ্চ। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় মঞ্চ। ঝোলানো হয় ম্যানিলা রোপ বা ফাঁসির দড়ি। চারপাশে জ্বালানো হয় উচ্চক্ষমতার লাইট। মঞ্চের অদূরে সারি সারি সাজানো হয় চেয়ার। এই চেয়ারে এসে একে একে বসতে থাকে ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট আর চিকিৎসকের দল। কারা কর্মকর্তাদের কয়েকজন জল্লাদদের সঙ্গে নিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার হাতল বা লিভার টেনে পরখ করে দেখেন পায়ের নিচের পাটাতন একপাশ খুলে নিচে ঝুলে যায় কি না। পাটাতনের নিচেই ১০ ফুট গভীর কূপ। রশিতে মাখানো হয় বিশেষ এক ধরনের তেল। এক এক করে মঞ্চের পাশে সারিবদ্ধ করে রাখা চেয়ারে এসে বসেন ঢাকার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহা কারা পরিদর্শক, উপ মহা কারা পরিদর্শক, ঢাকার সিভিল সার্জন, সহকারী সিভিল সার্জন, কারাগারের তিন চিকিৎসকসহ ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা। মঞ্চের অদূরে আরেক পাশে অবস্থান নেয় ১২ জন জল্লাদ। ১২ জন শসস্ত্র কারারক্ষী ও নিরাপত্তা-আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক সদস্যও এ সময় উপস্থিত হন। ফাঁসি কার্যকর করার সময় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল এক শর ওপর।
এক এক করে পালা : রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারা কর্মকর্তারা যান রজনীগন্ধা সেলে। কর্মকর্তারা দুই ভাগে ভাগ হয়ে একদল যান ৬ নম্বর কক্ষে কর্নেল ফারুকের কাছে। এ সময় সে পায়চারি করছিল। আনুষ্ঠানিক কিছু কথা শেষে কারা কর্মকর্তারা হাতকড়া দিয়ে কর্নেল ফারুককে দুই হাত পেছন করে বেঁধে ফেলেন। এরপর তার মুখ ঢেকে ফেলা হয় মোটা কালো কাপড়ের তৈরি মুখোশ বা 'যমটুপি' দিয়ে। এ সময়ও ইমাম সাহেব উপস্থিত থেকে তাদের তওবা পড়ানোর চেষ্টা করেন এবং দোয়া-দরুদ পড়েন।
কারা কর্মকর্তাদের আরেক দল যায় ৭ নম্বর কক্ষে লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের কাছে। তাকেও একইভাবে প্রস্তুত করা হয়। এ সময় শাহরিয়ার বলে, 'আমাকে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন দেন, কিছুই বলার নেই। কারণ আপনারা ফাঁসি কার্যকরের কোনো নিয়মই মানেননি।'
ডেডলাইন রাত ১২: ০১ : সেল থেকে মঞ্চের দিকে আনা হয় কর্নেল ফারুক আর শাহরিয়ারকে। তারা হেঁটে আসছিল। তবে অনেকটা জোর করেই টেনে আনা হাচ্ছিল বলে মনে হয়েছে। ১২ টা ১ মিনিটে প্রথমে মঞ্চে ওঠানো হয় ফারুক এবং পরে শাহরিয়ারকে। একই মঞ্চে দূরত্ব রেখে দুজনকে পাশাপাশি দাঁড় করানো হয় পাটাতনের ওপর আর ঝুলন্ত রশির নিচে। বেঁধে ফেলা হয় দুজনের পা। জল্লাদ কালু এসে গলায় রশি পরিয়ে দেয় দুই বন্দির গলায়। তার পাশে এসে দাঁড়ায় অন্য দুই জল্লাদ শাহজাহান ও হাফিজ। গলার রশি পরখ করে দেখেন সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম। এরপর তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান।
ফাঁসির মঞ্চের সারিবদ্ধ চেয়ারে সবাই বসে। শুধু এক হাতে লাল রঙের রুমাল, আরেক হাতে ঘড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম। উপস্থিত সবার দৃষ্টি মঞ্চের দিকে। জল্লাদ কালুর দৃষ্টি জেল সুপারের হাতের রুমালের দিকে আর জেল সুপারের দৃষ্টি তাঁর হাতে ধরে রাখা ঘড়ির দিকে। পিন পতন নীরবতা।
এভাবেই ঘড়িতে রাত ১২টা ৫ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার তাঁর হাতে থাকা রুমাল ফেলে দেন মাটিতে। রুমাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের লিভার টেনে ধরে জল্লাদ কালু। একটি লিভার টানতেই পাটাতন সরে যাওয়ায় ঝুলে পড়ে ফারুক আর শাহরিয়ার। ঝরে গেল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দুই ঘাতক। এভাবেই ঝুলতে থাকে আধা ঘণ্টা। এরপর অবশিষ্ট ৯ জন জল্লাদ এসে তাদের দুজনের লাশ নামিয়ে স্ট্রেচারে উঠিয়ে নেমে যায় মঞ্চ থেকে। লাশ রাখা হয় মঞ্চের অদূরে রাখা চৌকিতে। সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে তিন কারা চিকিৎসক যান সেখানে। মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর শুরু হয় ময়নাতদন্ত।
রাত ১২: ৩০ : একদিকে চলছে ময়নাতদন্ত, আরেক দিকে তখন সব প্রক্রিয়া শেষ করে মঞ্চের দিকে আনা হচ্ছে যমটুপি পরা অবস্থায় বজলুল হুদা আর ল্যান্সার মহিউদ্দিনকে। তাদের দুজনকেও যেন অনেকটা টেনে-ঠেলেই মঞ্চে আনা হয়। জল্লাদরা বন্দিদের দুই হাত ধরে আছে দুপাশ থেকে। মঞ্চে প্রথমে ওঠানো হয় বজলুল হুদা, পরে ল্যান্সার মহিউদ্দিনকে। পুরো সময়ই দোয়া-দরুদ পড়ছিলেন ইমাম মনির হোসেন। আগের মতোই আবারও পিন পতন স্তব্ধতা। রাত যখন ১২টা ৩৫ মিনিট, তখনই আবার সেই লাল রুমালের পতন। কালুর লিভার টানা। সঙ্গে সঙ্গে পতন আরো দুই ঘাতকের। লাশ নামানোর পর শুরু হয় ময়নাতদন্ত। এখন রইল বাকি এক। মহিউদ্দিন আর্টিলারি।
রাত ১২: ৫০ : মঞ্চে পিন পতন স্তব্ধতা চললেও ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ভেসে আসছে টানা চিৎকার_'আমি ঘাতক নই, বাবা। আমাকে ছেড়ে দাও, বাবা। বাবা, তোমাদের পায়ে পড়ছি, আমাকে ফাঁসি দিয়ো না। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বাবা।' 'বাবা বাবা' বলেই বেশি চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। চিৎকার করছিল মহিউদ্দিন আর্টিলারি। তাকে অনেকটা পাঁজাকোলা করেই মঞ্চে আনা হয়। (জানা যায়, সে কিছুটা অসুস্থ ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, দেহের এক পাশ কিছুটা প্যারালাইসিস ছিল আর্টিলারি মহিউদ্দিনের। তবে কারা সূত্র এই অসুস্থতার কথা স্বীকার করেনি। মঞ্চে আনার পরও ছটফট করছিল সে। বসে পড়ে পাটাতনের ওপর। সেখানেও চিৎকার করতে থাকে।
রাত ১টা ৫ মিনিটে জেল সুপারের হাত থেকে পড়ে যায় সেই লাল রুমাল। সচল হয় কালু জল্লাদের হাত। ঝুলে পড়ে মহিউদ্দিন আর্টিলারি।
এক ডজন জল্লাদ : এই পাঁচ ফাঁসি কার্যকর করতে তিন জল্লাদ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এরা হচ্ছে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ঢাকার কালু মিয়া। এর আগে সে আরো সাতটি ফাঁসি কার্যকর করেছে। আরেকজন নরসিংদীর শাহজাহান ভুইয়া। হত্যা মামলায় সে ৪২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। এর আগে সে আরো ১৭টি ফাঁসি কার্যকর করেছে। শেষ দলনেতা গাজীপুরের হাফিজ। সে হত্যা মামলায় ৪৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। এর আগে আরো সাতটি ফাঁসি কার্যকর করেছে। বাকি ৯ জন হচ্ছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাসুম (আগে আরো দুটি ফাঁসি কার্যকর করেছে), কামরুজ্জামান (এই প্রথম), তানভির হাসান রাজু (আগে আরো চারটি কার্যকর করেছে), আবুল (৫০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, এই প্রথম), মোয়াজ্জেম (এই প্রথম), মনির হোসেন (এর আগে আরো দুটি কার্যকর করেছে), জালাল ব্যাপারী (এই প্রথম), শেখ সানোয়ার (এই প্রথম) ও বাবুল আলী (এর আগে আরো দুটি ফাঁসি কার্যকর করেছে)।
সেই কক্ষগুলো এখন : বন্দি না থাকলেও কক্ষগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে বন্দিদের বই, কাগজপত্র ও নিত্যব্যবহারের যেসব সরঞ্জাম ছিল, সেগুলো ব্যাগে ভরে যার যার কক্ষের মেঝেতে রাখা হয়েছে। কারা সূত্র মতে, এগুলো পরে ওয়ারিশদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
কার কেমন আচরণ ছিল : গতকাল বৃহস্পতিবার কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা আর কারারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বন্দিদের নানা আচরণের কথা। ফিরোজ নামের একজন কারা ফার্মাসিস্ট জানান, শাহরিয়ার আর ফারুক দুজনই মজার মজার কথা বলে রক্ষীদের সঙ্গে হাসি-রহস্য করত। তাঁকে দেখলেই বলত, কী খবর, ফিরোজ সাঁই? কেমন আছেন? মহিউদ্দিন আর্টিলারি প্রায় প্রতিদিনই রোজা রাখত। নামাজ পড়ত নিয়মিত। কারারক্ষীদের অনুরোধ করত নামাজ পড়ার জন্য। রক্ষীদের হাতে সে অনেকটা জোর করেই তসবি তুলে দিত। দাড়ি রাখতে বলত সবাইকে। বলত, যারা বিয়ে করেনি, তারা দাড়ি রাখলে ভবিষ্যতে সুন্দর বউ পাবে।
অন্য একাধিক সূত্র মতে, শাহরিয়ার ছিল কিছুটা কড়া মেজাজের। কাপড় ধুয়ে শুকানোর জন্য মেলে দেওয়ার পর বা ঘরে এসে কেউ তার কাপড় স্পর্শ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠত। এমনকি এসব নিয়ে কারা কর্মকর্তা বা চিকিৎসকদের সঙ্গেও উচ্চবাচ্য করত।
কর্নেল ফারুক প্রচুর বই পড়ত। তার ঘর ছিল যেন ছোটখাটো একটা লাইব্রেরি। মারা যাওয়ার কদিন আগেও আত্দীয়স্বজন তার সঙ্গে দেখা করে প্রচুর বই দিয়ে যান। এসব বইয়ে কেউ হাত দিলে সে রেগে যেত।
চিকিৎসকরা বলেন : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন মো. শামসুদ্দীন, মেডিক্যাল অফিসার রথীন্দ্রনাথ কুণ্ডু ও মেডিক্যাল অফিসার রফিক আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্দিদের কেউ তাঁদের সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। কারো বড় ধরনের কোনো অসুখ ছিল না। গত ১৯ তারিখের পর থেকে তাঁরা ছয় ঘণ্টা পর পর গিয়ে এই পাঁচ বন্দির খোঁজখবর নিতেন। ফাঁসির রাত ১১টার দিকে তাঁরা এই বন্দিদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা স্বাভাবিক ছিল। তবে রক্তের চাপ বা ব্লাড প্রেসারের সিস্টোলিক হিসাবটা কিছুটা বেশি ছিল। চিন্তার কারণে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ঢাকার সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে তাঁরা প্রথমে সার্ভাইক্যাল ভারটিব্র্যাক এবং স্পাইনাল কর্ড কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এর পরপরই ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারণ লিখে সনদপত্র দেন।
কারা কর্মকর্তা বলেন : কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে কথা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'খুবই স্বাভাবিক আর সম্পূর্ণ কারা বিধিমতেই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে আর্টিলারি মহিউদ্দিন কিছুটা সমস্যা করার চেষ্টা করেছে। এর আগেও আমি একাধিক ফাঁসি কার্যকর করেছি। তবে এই পাঁচ বন্দির কাছ থেকে মৃত্যু কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা পেয়েছি, আগে কখনো সে রকম পাইনি। বন্দি হিসেবেও তারা যথেষ্ট শান্ত ছিল।'
২২. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৪
মগ্নতা বলেছেন: ইমাম তওবা পড়ালেও ৫ দণ্ডপ্রাপ্ত তা অনুসরণ করেনি

হালিম মোহাম্মদ: আমাদের সময় থিকা নেওযা।

কারা কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত পুকুরপাড় জামে মসজিদের ইমাম কারী হাফেজ মনির হোসেন কনডেম সেলে বঙ্গবন্ধুর ৫ হত্যাকারীকে তওবা পড়ালেও তাকে অনুসরণ করে হত্যাকারীরা তওবা পড়েননি। সন্ধ্যার পর থেকে ফঁাসির মঞ্চে নেয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কোরঅানের বিভিন্ন অায়াত পড়ছিলেন তারা। এর অাগে রুটিন অনুযায়ী বিকেলে নিজ উদ্যেগে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ছাড়া দুই মহিউদ্দিন এবং বজলুল হুদা গোসল করেছেন। সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান সন্ধ্যার পর গোসল করেন বলে এক কারা কর্মকর্তা জানান।

গত ২৭ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত হাফেজ মনির হোসেন কনডেম সেলের সামনে করিডোরে দাঁড়িয়ে সকলকে তওবা পড়ান। কিন্তু হত্যাকারীরা তার কথা অামলে না নিয়ে নিজেদের মতো দোয়া দরুদ পড়ছিলেন। এ সময় ডিঅাইজি প্রিজন্স ঢাকা বিভাগ গোলাম হায়দার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম ও জেলার মুখলেসুর রহমান ইমামের সঙ্গেই ছিলেন। রাত পৌনে ১১টায় ডেপুটি জেলার নাসির উদ্দিন, বাহার, কামরুল ইসলাম, এমরান ও মাসুদ দণ্ডপ্রাপ্তদের নতুন কয়েদি পোষাক পরানোসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

কারা কর্মকর্তারা জানান, ২ জল্লাদ যম টুপি পরিয়ে কনডেম সেল থেকে ফাসির মঞ্চে নেয়ার সময় ফারুক রহমান উচ্চ স্বরে কলেমা পড়তে-পড়তে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে ফাঁসির মঞ্চে উঠেন। পাশাপাশি ফঁাসির মঞ্চে দঁাড় করানো হয় রশিদকে। রাত ১২টা ৫ মিনিটে দুজনের ফঁাসি কার্যকর করা হয়। এর অাধ ঘণ্টা পর ২ জল্লাদ একই কায়দায় বজলুল হুদাকে নিয়ে যায় ফঁাসির মঞ্চে। কিন্তু বাধ সাধে ল্যান্সার একেএম মহিউদ্দিন। তার ডান পায়ের অনুভূতি কম থাকায় ২ জল্লাদ তার ২ হাতের ডানায় ধরে ফঁাসির মঞ্চে নিয়ে যায়। এরপরই বজলুল হুদা ও ল্যান্সার মহিউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেল থেকে অাসামি বের করে নেয়া এবং উচ্চস্বরে কথা বলার কারণে পাশের কক্ষে থাকা অার্টিলারি মহিউদ্দিন বিষয়টি অঁাচ করতে পারেন। তিনি সেলে বসে কান্নারত অবস্থায় দোয়া দরুদ পড়ছিলেন। এ সময় ২ জল্লাদ তাকে ধরে ফঁাসির মঞ্চে নিয়ে যান। ফঁাসির মঞ্চে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন অামি কোনো অন্যায় করিনি, অামাকে ছেড়ে দাও, অামি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমান্ড মেনেছি। রাত ১টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে, অার্টিলারি মহিউদ্দিন মাসের অধিকাংশ দিনই রোজা রেখেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিনও তিনি রোজা রেখেছিলেন। বিকেলে স্বজনদের কাছে ফঁাসির খবর শুনে তিনি রাতে কোনো খাবার খাননি।
২৩. ০১ লা জুন, ২০১০ রাত ১০:২২
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন: খুনীদের পক্ষে সাফাই যারা গায় তারা কেমন মানুষ!

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৯১৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আত্মমগ্ন জল।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই