হে প্রশংসিত আজ্ঞাপালনকারী, আমার পেরিত পবিত্রগ্রস্থ ও আমার প্রিয় সংবাদবাহক আমার প্রিয়পুরুষ সম্পর্কে উহারা কত বিভ্রান্তি ও কলুষ ছড়াইয়াছে আপনি জানেন কি? উহারা সকল বিষয়ের অন্তঃস্থল জানিতে চায় অথচ অন্তঃস্থল জানা কতই না সহজ করিয়াছি আমি, তথাপিও উহারা আমা হইতে মুখ ফিরাইয়া লয় ও অযথা তর্কবিতর্ক করে। আপনি জানেন, উহাদিগকে আমি সকল কিছুর সঙ্গেই পরিচিত করাইয়াছি। অতঃপর উহাদের কতক বলিল, উহারা উহাদের জ্ঞানকে স্থিত করিবে অথচ উহারা পূর্বহ্নেই জানিয়াছিল যে, মূলে আমিই সমস্তকিছু ঘটাইতে ইচ্ছা করি। আমি উহাদের দম্ভ দেখিতে ইচ্ছা করি। হায়! উহারা যদি উহাদের দাম্ভিক মুখমন্ডল স্বচক্ষে দেখিতে পাইত উহারা কতই না লজ্জিত হইত। প্রত্যেকেই তো নিজকে মস্তক-কর্তিত অবস্থায় দেখে আর এই চিন্তায় যাহারা নত হয় তাহারাই তো জ্ঞানী ও সুপথপ্রাপ্ত। 'শূণ্য' ও 'এক' এর মধ্যবর্তী পার্থক্য 'নয়' ও 'দশ' এর মধ্যবর্তী পার্থক্যের সমান নহে।
টীকা ও ব্যাখ্যা
পবিত্রগ্রন্থঃ আল-কুরআন
আমার প্রিয় সংবাদবাহক আমার প্রিয়পুরুষঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), পুরুষ বলতে 'সত্ত্বা' অর্থে বুঝতে হবে।
সকল বিষয়ের অন্তস্থলঃ বস্তু ও ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
উহাদিগকে আমি সকলকিছুর সঙ্গেই পরিচিত করাইয়াছিঃ আদম (আঃ) কে সৃস্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সকল বস্তু নাম শিক্ষা দেন। আল-কুরআনের ভাষাভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা আদম (আঃ) কে কেবল বস্তুসমুহের নাম শিক্ষা দিয়েছেন তা নয়। এখানে 'বস্তুর নাম শেখানোর' অর্থ হলো আদমকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বস্তুর আচরণ ব্যাখ্যা করারা ও এইভাবে বস্তু থেকে উপকারীতা লাভের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যার ফলে মানুষ দুনিয়াতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।
প্রত্যেকেই তো নিজকে মস্তক-কর্তিত অবস্থায় দেখে আর এই চিন্তায় যাহারা নত হয় তাহারাই তো জ্ঞানী ও সুপথপ্রাপ্তঃ
প্রত্যেক মানুষ দুনিয়াতে এতকিছু দেখতে পারে। ঐ দূর আকাশের তারাটিও চোখমেলে দেখতে পারে কিন্তু সে নিজের মাথাসহ মুখমন্ডল যা কি-না তার নিকট সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বলে মনে হয় তা সে নিজ চোখে দেখতে পারে না। একথার দ্বারা মানুষের সৃস্টিগত সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষ তার ইন্দ্রিয়সমুহের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যত জ্ঞানই অর্জন করুক না কেন তা চূড়ান্ত জ্ঞান নয় কখনোই। মানুষের বস্তুতান্ত্রক জ্ঞান যথেস্ট সমৃদ্ধ হলেও মানুষ নিজের স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সমূহে মানব অস্তিত্ব, বস্ত ও ঘটনার স্বরূপ সম্পর্কে জানার কোনো পদ্ধতি নেই এবং এ নিয়ে কোনো আগ্রহও নেই। বস্তগত বিজ্ঞানচর্চায় কোনো কিছুর স্বরূপ জানাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয় এবং তা নির্দ্বিধায় এড়িয়ে যাওয়া হয়। অতএব, আল্লাহতে ইমান এবং কোরআনের জ্ঞানের আলোকে মানুষ নিজের অস্তিত্বের স্বরূপ সম্পর্কে পূর্ণ ধারনা পেতে পারে। ইমানবিহীন বস্তুতান্ত্রিক ব্যাখ্যা মানুষের স্বরূপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পারেনা। অস্তিত্বের ব্যাখ্যায় 'ওহি' বা 'প্রত্যাদেশ'মূলক জ্ঞানই চূড়ান্ত। তাই এটা বুঝতে হবে যে, আল্লাহ মানুষেে বস্তুতান্ত্র্রিক জ্ঞান দিয়েছেন বস্তু বস্তুর আচরণ বুঝবার জন্য ও বস্তু থেকে ফায়দা লাভ করার জন্য। আর রাসুলের মাধ্যমে ওহীর জ্ঞান পাঠিয়েছেন বস্তু ও ঘটনার চূড়ান্ত অবস্থা ও স্বরূপ বুঝবার জন্য। আজ অনেক মানুষ বস্তুতান্ত্রিক জ্ঞানের চাকচিক্য দেখে ওহীর জ্ঞানের কথা ভুলে যাচ্ছে। তাই প্রকৃত জ্ঞানী তারাই যারা বুঝতে পেরেছেন যে, বস্তুতান্ত্রিক জ্ঞান চূড়ান্ত জ্ঞান নয়, ও নিয়ে বড়াই করা চলেনা। মানুষের ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে যারা বিনীত হয়। ওহীর জ্ঞানের দিকে মুখ ফেরায় তারাই প্রকৃত জ্ঞানী।
'শূণ্য' ও 'এক' এর মধ্যবর্তী পার্থক্য 'নয়' ও 'দশ' এর মধ্যবর্তী পার্থক্যের সমান নহেঃ
যদিও এখানে বীজগণিতীয় হিসাবে ০ ও ১ এর মধ্যবর্তী পার্থক্য ৯ ও ১০ এর মধ্যবর্তী পার্থক্যের সমান (-১)। কিন্তু এখানে বীজগণিতীয় হিসাব বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। এই বাক্যবন্ধের উদ্দেশ্য আল্লাহর সৃস্টিক্ষমতা ও মানুষের সৃস্টিক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য বোঝানো। আল্লাহ শূণ্য (০) থেকে যে কোনো কিছুকে উপস্থিত করতে পারেন, অনস্তিত্বকে অস্তিত্ব দিতে পারেন। আরো একটা ইঙ্গিত এই যে, ১ হচ্ছে মৌলিক সংখ্যা। অর্থাৎ আল্লাহ যা কিছু উপস্থিত করেন তা 'মৌলিক'। আল্লাহ হচ্ছেন সৃস্টির মুল। অন্যপক্ষে, মানুষের সৃস্টিক্ষমতা এরকম যে, সে শুধু অস্তিত্বশীল বস্তু ও ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বস্তু ও ঘটনার রূপান্তর করতে পারে। আল্লাহ মানুষকে সীমাবদ্ধ সৃস্টিক্ষমতা দান করেছেন। এখানে আরো ইঙ্গিত এই যে, দশমিক হিসাব পদ্ধতিতে ৯ হচ্ছে সর্বোচ্চ অংক। অর্থাৎ মানুষকে সব্বোচ্চ সুবিধা ও অনুকূল অবস্থা প্রদান করা সাপেক্ষে সে ৯ কে ১০ এ রূপান্তরিত করতে পারে। নিজের সুবিধায় বিজ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারে। বিভ্ন্নি পরিবেশে বস্তু কেমন আচরণ করে তা শিখে মানুষ বস্তু থেকে ফায়াদ উঠাতে পারে। ৯ ও ১০ উভয়ে অমৌলিক সংখ্যা। অর্থাৎ মানুষ যাকিছু সৃস্টি করে তা অমৌলিক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



