ইবলিসকে দুনিয়াতে মুমিন ব্যািক্তদের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে পাঠানো হয়েেছ। আর আখেরাতে হাশরের মাঠে মানুষ ও জ্বীনের বিচারকাজ শেষে মৃত্যুকেও ধ্বংস করে দেয়া হবে। ইবলিসও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
অত্যন্ত ভালভাবে লক্ষ্য করা দরকার যে, ‘ইবলিস’ শব্দের বিপরীত শব্দ ‘আল্লাহ’ -বিষয়টি এমন নয়। ‘ইবলিস’ শব্দের বিপরীত শব্দ ‘মুমিন’ হতে পারে। ‘ইবলিস’ এবং ‘মুমিন’ উভয়েই ‘আল্লাহ তায়ালার’ সৃস্ট ‘মাখলুক’ বা সত্ত্বা। ‘আল্লাহ’ -একাই এক জাত। ‘আল্লাহ’ একাই এক ‘জাতের’। ঐ জাতের আর কোনো কিছু (সত্ত্বা) থাকা সম্ভব নয়।
আল্লাহ জগতে ‘ইবলিস’ আর ‘মুমিন’ দুই জাতের দুই মাখলুককে পরস্পরের শত্রু হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়ছেন। কেন পাঠিয়েছেন- সেটি ভিন্ন আলোচনা।
আরো বুঝে নেয়া দরকার যে, ইবলিস আল্লাহর ‘জাত’ বা সত্তাকে অস্বীকার করার কারণে ‘অভিশপ্ত’ হয় নাই। সে অভিশপ্ত হয়েছ। বস্তবাদীতা অনুশীলন করার কারণে। ইবলিস স্বয়ং জানে যে, তার নিজের সত্তা ‘আল্লাহর’ ইচ্ছার মুখােপক্ষী। এটা সে ‘অিভশপ্ত’ হওয়ার আগেও জানত এবং নিরবধি জানে ও স্বীকার করে। ‘আল্লাহর’ সাথে তার বিরোধের স্থানটি ভিন্ন…..
অতএব, ‘ইবলিস’ সত্তা বা ক্ষমতা কোনোদিক দিয়েই ‘আল্লাহ’ শব্দটির বিপরীত শব্দ নয়।
আল্লাহ আদমকে সৃস্টি করার পর যখন আযাযীলকে বললেন আদমকে সেজদা করতে, তখন আযাযীল তা করতে অস্বীকার করল এই যুক্তিতে যে, আদম মাটির তৈরী আর সে নিজে আগুনের তৈরী। আযাযীল ‘অভিশপ্ত’ হল….
এখানে সে অভিশপ্ত হল ‘আল্লাহ’ আস্বীকার করা বা আল্লাহর ক্ষমতায় অবিশ্বাস করার কারণে নয়। সে অভিশপ্ত হল তার ভ্রান্ত বস্তবাদী বিশ্বাসের কারণে। সে এই যুক্তিতে আদম কে সেজদা করতে চাইল না যে, আদম মািটর তৈরী অন্যপক্ষে সে নিজে আগুনের তৈরী। সে এই যুক্তি গ্রহণ করতে পারল না যে, আল্লাহ স্বয়ং যখন হুকুম করেছেন অতএব আদম নিশ্চয়ই আযাযীল অেপক্ষা উত্তম। সে যুক্তি খাড়া করল যে, ‘আগুন’ ‘মাটি’ অপেক্ষা উত্তম। তার গোয়াতৃুিম ও আত্মরম্ভিতা এটাই িছল যে, আগুন দহনশীল, উদ্ধগামী আর মাটি নরম ও নিম্নগামী। এভাবে বাহ্যদৃিস্টতে দেখাটাই তার কাছে বড় হয়ে দঁাড়াল ….. যেমনটি আমােদর আজকালকার বন্তবাদীদের দশা। (তাদের কাছে চোখের দেখাটাই সত্য)। এটাই ছিল ইবলিসের বস্তবাদী প্রকল্প। আল্লাহর হুকুমের শক্তিতে বিশ্বাস হারনোই তার ‘অভিশপ্ত’ হওয়ার কারণ। সে বুঝলো না মাটি দেখতে যেমনই হোক আর আগুন যত দাহ্যশক্তিগুণসম্পন্নই হোক আল্লাহ যখন হুকুম করেন তখন আগুন অেপক্ষা মাটি অবশ্যই শক্তিশালী। আর আজো তা প্রমাণিত হয়েই চলেছে। আগুন অেপক্ষা মাটিই শক্তিশালী। আগুন ব্যবহার করে আজ মাটির মানুষ সভ্যতা আর ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



