somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সামু ব্লগের পিক-অফ পিক আওয়ার সম্পর্কে জানতে চাই ....... যাহোক, দিনের কোন সময়টাতে সামুতে পোস্ট সবচেয়ে বেশী পড়ে, কোন সময়টাতে সবচেয়ে বেশী সদস্য লগ-ইন থাকেন, কোন সময়টাতে কবিতার পোস্ট বেশী পড়ে, কখন ভারী ভারী আলাপ চলে আর কখন খুচরা আলাপ চলে ইত্যাদি পরিসংখ্যান সহ কেউ পোস্ট দিলে উপকৃত হতাম। সকলকে ধন্যবাদ।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29534758 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29534758 2012-02-04 09:58:19 মনের আয়নায় .... তারাশঙ্কর, পাঠ প্রতিক্রিয়া। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সাহিত্যম্ কলিকাতা-৭৩
প্রথম প্রকাশ: ১৩৮৩ বাংলা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মনের আয়নায়” বইটি পড়লাম। আত্মজীবনীমূলক এ বইতে লেখক তার নিজের দেশ-গ্রামের কথা, সময়ের কথা, নিজের বেড়ে উঠার কথা- ভিতর বাহির পূর্বাপর ইত্যাদি আপাতবিচ্ছিন্ন খন্ডচিত্রের মত করে বর্ণনা করেছেন। তারপরও তা পড়তে গিয়ে বেশ একটা সম্পূর্ণ ক্যানভাস বলে মনে হতে বাধা নেই। এতে লেখক নিজের মনের গতি প্রকৃতি নিবিষ্ট পটুয়ার একাগ্রতা ও দক্ষতায় পটস্থিত করেছেন। পাঠককেও টেনে নিয়ে গেছেন মনোজগত মন্থনের আগ্রহের দিকে। এতে এসেছে তার নিজের যুগের ভ্রান্তি, অজ্ঞানতা, অবিচার, অন্ধত্বের কথা। তেমনি আবার সেসব কিছুকেই যে তিনি ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে বা ঘৃণ্যবস্তুর মত পায়ে ঠেলেছেন তা নয়। ওসবকে তিনি যুগের বাস্তবতা হিসেবেই জ্ঞান করেছেন। অন্যদিকে তার নিজের যুগের হাওয়ার বিপরীতে যুগান্তরের নতুন হাওয়াকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সবকিছুর ওপরে মানুষের মানব হয়ে উঠার সাধনাকে মূল্য দিয়েছেন। সকল ভ্রান্তি, নতুন বা পুরাতন, সমস্তকিছুর মধ্যেই প্রকৃত রসগ্রাহীর মনে বয়ে চলেছে চিরন্তন সর্বময় শক্তির মহাপ্রতিষ্ঠার সাধনরস। সকল বৈপরীত্য, মতভেদ, আর তত্ত্বের কচকচির খটোমটো খোলসের অন্তরে যে বীজমন্ত্র তাকেই তিনি বড় করে সর্বব্যাপী আকারে প্রত্যক্ষ করার আবেদন রেখেছেন পাঠকের কাছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29502829 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29502829 2011-12-14 17:51:06
"বিসমিল্লাহ"র যুগান্তকারী ব্যাখ্যা
‘বিসমিল্লাহ’ বলে কাজ শুরু করার উপকারীতা সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে কাজ শুরু করা অসংখ্য মুসলিমের জীবনে একটা নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’র উচ্চারণ দ্বারা অগণিত মুসলিম প্রতিদিন মনের প্রশান্তি, কাজে সফলতার আত্মবিশ্বাস আর পলে পলে মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য উপভোগ করে চলেছেন। ‘বিসমিল্লাহ’র ফজিলত সম্পর্কে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনা প্রচূর হয়েছে। আমরা সকলেই কমবেশী তা শুনেছি জেনেছি। আজ একুশ শতকের দ্বারপ্রান্তে এসে আধ্যাত্মিক আলোচনার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান-দর্শনের আলোকে ‘বিসমিল্লাহ’র প্রয়োজন ও গুরুত্বকে উপলব্ধি করার সময় এসেছে বটে। আমরা একটু পেছন থেকে আলোচনা শুরু করতে চাই।
জগতস্থিত প্রাণীকূলের মাঝে মানুষ এক মহান সৃষ্টি। আমরা জানি, মানুষ একসময় পশুপাখির সাথে বনজঙ্গলেই বাস করত কিন্তু সে শুধুমাত্র তার বুদ্ধি, মমনশীলতা ও উচ্চাঙ্গের কল্পনাশক্তি দ্বারাই বনজঙ্গল থেকে বের হয়ে এসে সভ্যতা নির্মাণ করেছে। মানুষের আছে কল্পনাশক্তি যা পশুপাখির নেই। মানুষ বনজঙ্গলের পরিবেশে একটু অবসরের সময়ে নির্জনে বসে কল্পনার পাখা মেলে নিজেকে দেখতে চেয়েছে উন্নততর কোনো অবস্থায়। সে নিজের দিব্যচোখে নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবনায় লিপ্ত হয়েছে, মগ্ন থেকেছে বনজঙ্গলের চাইতে উন্নততর কোনো পরিবেশে নিজেকে স্থাপন করার চিন্তায়। এভাবে দেখা যায় মানুষ তার কল্পানশক্তি ও মননশীলতার দ্বারা বনজঙ্গলের সংকীর্ণ, সীমাবদ্ধ পরিসরকে ছাড়িয়ে আরও বড়, মুক্ত এবং আদর্শমানের কোনো পরিসরে স্থানান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। তার সেই স্বপ্নই তাকে বর্তমান সভ্যতা পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে এসেছে। জঙ্গলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে আজকের চোখ ধাঁধানো, গতিময় আর প্রাণবন্ত জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে। সভ্যতা আজ এত অগ্রসর হয়েছে যে, আজকের মানুষের বসবাসের গন্ডি আর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নেই। আজকের প্রতিটি মানুষ হয়ে দাড়িঁয়েছে বিশ্বমানব। উচ্চগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা পৃথিবীকে এনে দিয়েছে আজকের মানুষের হাতের মুঠোয়। ফলে আজকের মানুষ চিন্তাভাবনায় আন্তুর্জাতিক হয়ে উঠছে। প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব গন্ডি পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে যেন। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে নিয়ে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। মানুষ তার প্রাগৈতিহাসিক বুনো জীবন পেরিয়ে, গোত্রবদ্ধতা ছাড়িয়ে, জাতীয়তার সংকীর্ণতা এড়িয়ে আজকে আন্তর্জাতিক গন্ডিতে পা ফেলেছে। মানুষের এই অপ্রতিরোধ্য গতির পরবর্তী গন্ডি কোনটি? আমরা কি তা ভাবতে পারি? এখানেই ‘বিসমিল্লাহ’র একটি দর্শনগত বিবেচনা রয়ে গেছে।
পৃথিবী আর এর মানবগোষ্ঠি যুগে যুগে বিভিন্ন পথে বিভিন্ন গতিতে চলে আসছে। আর এসবের মাঝে কোনো কোনো গোষ্ঠি অন্তুরের নিভৃতে জাতীয়তা-আন্তুর্জাতিকতা ইত্যাদি সমস্ত কিছুরই ঊর্দ্ধে এক চিরন্তন গন্ডিতে বসবাস করে এসেছে এবং আসছে। আর সেটাই হচ্ছে ‘বিসমিল্লাহ’র গন্ডি। সেটা মানব অস্তিত্বের এমন এক মহাজাগতিক অবস্থান যেখানে পৌঁছানো অনেকের পক্ষে অচিন্ত্যনীয়। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা সেই মহাজাগতিক অবস্থানে বসবাস করে নিরবে নিভৃতে একটি ভিতরবাসী জীবন যাপন করে চলেছেন। মহাজগতের সীমানা কানায় কানায় পূর্ণ করে জীবনের রস আস্বাদন করে চলেছেন। যাদেরকে বস্তবাদী ভোগের পাল্লায় মাপতে গেলে হয়ত গণণার মধ্যে ধরা যায় না। অথচ তারাই হচ্ছেন চিরকালের সুপারহিউম্যান। তারা জাতীয়তা, আন্তর্জাতিকতা ইত্যাদির ঊর্দ্ধে উঠে মহাজগতের সীমানায় নিজেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন। নিজের এই পার্থিব জীবন যাপনকে এক চিরকালীন অখন্ডতায় উপলদ্ধি করতে পারেন।
‘বিসমিল্লাহ’ বলে প্রত্যেক কাজ শুরু করার ফলে ব্যক্তিমানুষের জীবনের প্রতিটি খন্ড খন্ড কাজ আল্লাহর সূত্রে এক চিরন্তন ঐক্য লাভ করে। বিষয়টি সহজ ভাষায় ব্যাখা করা যাক। পৃথিবীতে যাপিত আমাদের ব্যক্তি-জীবন খন্ড খন্ড ঘটনার সমষ্টিমাত্র। আমরা স্থান ও কালের দূরত্বে থাকার কারণে আমরা দৈনন্দিন প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পারি না। তা করা সম্ভব নয়। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে একাধিক স্থানে উপস্থিত থাকতে পারে না। একজন মানুষ যখন বাড়ী ছেড়ে বের হয়ে কর্মক্ষেত্রে কাজ সেরে পুনরায় বাড়ীতে ফেরে তখন মধ্যবর্তী যে সময়টুকু সে বাড়ীতে ছিল না সেই সময়টুকুর মধ্যে বাড়ীতে ঘটিত ঘটনাবলীর সাথে তার কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে না। এভাবে প্রতিদিনই তার বাড়ীতে ঘটিত ঘটনাবলীর কিছু অংশের সাথে তার সংশ্রব ঘটে মাত্র। একইভাবে বাজারে গেলে প্রতিদিনই বাজারে ঘটিতব্য খন্ড খন্ড কিছু ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের সংযোগ ঘটে মাত্র। এভাবে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা খন্ড খন্ড ঘটনার সাক্ষী হিসেবে বেঁচে থাকি। সে হিসেবে আমাদের জীবনটাকে আমাদের নিকট খন্ড খন্ড ঘটনার জোড়াতালি হিসেবে মনে হওয়ার কথা। অথচ সবসময় দৃশ্যপট বদল হয়ে চলা সত্বেও বাস্তবপক্ষে আমাদের মনে আমাদের নিজেদের জীবনটাকে একটা গল্প বা উপন্যাসের মত নিরবিচ্ছিন্ন বলেই মনে হয়। এর কারণ কী?
একটি গল্প বা উপন্যাসের একজন লেখক বা স্রষ্টা থাকেন। একজন গল্প বা উপন্যাসের লেখক কী করেন? তিনি জীবনের খন্ড খন্ড ঘটনাগুলিকে এবং সবসময় বদলে যাওয়া দৃশ্যপটকে একটি পরিণতির দিকে চালিত করার চেষ্টা করেন। কোনো গল্পের পিছনে যখন একজন ভাল গল্পকার বা লেখক বা গল্পস্রষ্টা থাকেন কেবল তখনই আমরা একটি ভাল গল্প আশা করতে পারি। একজন ভাল গল্পকার বা লেখক বা গল্পস্রষ্টার সূত্রেই আমরা ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্যপট বদলে যাওয়া খন্ড খন্ড ঘটনার জোড়াতালিকে একটি অখন্ড ও ধারাবাহিক বিবরণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। গল্পটির শুরু থেকে শেষ পরিণতি পর্যন্ত একটি যৌক্তিক মাত্রা টেনে দিতে পারি। অতএব, বলা যায় একজন ভাল লেখক একটি ভাল গল্পই উপহার দিবেন। বিপরীতভাবে বলা যায়, একটি ভাল গল্পের পিছনে অবশ্যই একজন ভাল লেখক বা গল্পস্রষ্টা থাকবেন। এক্ষণে প্রশ্ন, আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য খন্ড খন্ড ঘটনাকে, প্রতিক্ষণে বদলে যাওয়া দৃশ্যপটকে আমরা কীভাবে গল্প বা উপন্যাসের মত একটি অখন্ড বিবরণ হিসেবে বিশ্বাস করে থাকি? কারণ ব্যক্তিমানুষ হিসেবে আমি অন্তরের গভীরতম প্রদেশে এটাই বিশ্বাস করে থাকি যে আমার জীবনের একজন গল্পকার বা স্রষ্টা রয়েছেন। আমি যদি আমার জীবনকে একটি ভাল গল্প বা উপন্যাস হিসেবে মানি তবে অবশ্যই আমাকে মানতে হবে যে, আমার জীবনের খন্ড খন্ড ঘটনাগুলিকে এবং প্রতিক্ষণে বদলে যাওয়া দৃশ্যপটগুলিকে যৌক্তিক মাত্রা টেনে দিয়ে অখন্ডতা প্রদান করার জন্য সেখানে একজন রয়েছেন যিনি আমার জীবন এবং এই দৃশ্যমান জগতের স্রষ্টা। একারণেই আমার জীবনের প্রতিটি খন্ড কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার দ্বারা আমি গল্পকারকে (স্রষ্টাকে) স্মরণ করি। এর দ্বারা আমি সচেতনভাবে আমার খন্ড কাজটিকে চিরকালীন অখন্ডতার সীমানায় পৌঁছে দেই। আর আমি যদি আমার যাপিত জীবনকে একটি ভাল গল্প হিসেবে না মানতে পারি। তখন আমার জীবনকে আমার কাছে খাপছাড়া, নিকৃষ্ট, শতধাখন্ডিত, পরম্পরাহীন একটি ফেলনা জিনিষ বলে হয় এবং তখনই আমার কাছে স্রষ্টার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। আর আমি যদি আমার জীবনকে সুখ-দুঃখ মিলিয়ে একটি ভাল গল্প হিসেবে মনে করতে পারি কেবল তখনই আমি একজন সৃজনশীল, গঠনমূলক চিন্তাসম্পন্ন প্রাণী হিসেবে জগতে বেঁচে থাকতে পারি। সেক্ষেত্রে আমার জীবনে অবশ্যই স্রষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। আর আমি যদি নিজেকে কোনো গঠনমূলক ও সৃজনশীল চিন্তার প্রাণী হিসেবে মূল্য দিতে না পারি, যদি নিজের যাপিত জীবনকে নিজের কাছে তুচ্ছ ও ফেলনা বলে মনে হয়, তবে বুঝতে হবে আমি পাপের চাকুতে কেটে কেটে নিজের জীবনকে শতধা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। আমার পরম্পরাহীন খন্ড খন্ড কাজকর্ম আমার সত্তাকে শতধা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং আমার জীবন একটি পরিপূর্ণ গল্পের আকার নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি আমার জীবনের কোনো গল্পকারকে/স্রষ্টাকে খুঁজে পাব না। সেক্ষেত্রে আমাকে আমার শতখন্ডিত অস্তিত্বের যন্ত্রণা নিয়ে আমার ফালতু জীবনের ভার বয়ে বেড়াতে হয়। তখনই আমি হয়ে উঠি হতাশাবাদী নাস্তিকের দলের একজন।
কাজেই এটা পরিস্কার যে, মানুষ হিসেবে আমি যদি আশাবাদী, জীবনমুখী, সৃষ্টিশীল এবং ইতিবাচক হয়ে থাকি তবে অবশ্যই আমার জীবনের খন্ড খন্ড কাজগুলিকে অখন্ডতায় ও চিরকালীন ঐক্যে গ্রথিত করে রাখার জন্য একটি চিরন্তন সূত্র খুঁজতে হবে। আর সেই চিরন্তন সূত্রই হচ্ছে ‘বিসমিল্লাহ’। প্রতিটি খন্ড কাজের শুরুতে ‘আল্লাহর নামে শুরু করলাম’- একথা বলার দ্বারা আমি সচেতনভাবে আমার খন্ড কাজটিকে অখন্ড সময়প্রবাহের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে দিই।
পরিশেষে বলা যায় আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া খন্ড খন্ড ঘটনাকে আমরা মেনে নিতে পারি কারণ আমাদের মনের গভীরে এক স্থান-কাল নিরপে কোনো একজন দ্রষ্টা বা দর্শকের উপস্থিতি রয়েছে। এই স্থান-কাল নিরপেক্ষ দর্শকই হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বস্থানে ও সর্বকালে একইসঙ্গে একইসময়ে বিরাজিত থেকে সকল ঘটনা নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রত্যক্ষ করে চলেছেন। তাঁর সূত্রেই আমরা আমাদের শতখন্ডিত জীবন ও বিচ্ছিন্ন সব অভিজ্ঞতাকে অখন্ডতায় উপলদ্ধি করতে পারি। স্থানের দূরত্বে এবং সময়ের দূরত্বে থাকার কারণে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনামালা সম্পর্কে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি না এটা ঠিক। তবে আমরা স্থান-কালের ঊর্দ্ধে বিরাজিত মহান স্রষ্টা ও দৃষ্টা মহামহিম আল্লাহ তায়ালার ওয়াস্তে ঘটনাসমূহের ব্যাপারে একটি ঐক্যের ধারণা লাভ করে থাকি। চিরকালীন মানব মন এই যুক্তি অবলম্বন করে যে, ব্যক্তিসত্তা হিসেবে আমি যদিও ঘটনা সম্পর্কে নিরবিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি না কিন্তু স্থান-কালের ঊর্দ্ধে বিরাজিত মহান এক সত্তা রয়েছেন যিনি প্রতি মূহুর্তের প্রত্যেক ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রত্য করে চলেছেন। আমি স্থান-কাল নিরপেক্ষ সেই মহান সত্তাকে বিশ্বাস করি। ফলে আমি আমার জীবনের খন্ড খন্ড ঘটনামালাকে তাঁর সূত্রেই একক এবং অখন্ড হিসেবে গ্রহণ/বিবেচনা/বিশ্বাস করতে পারি।
প্রকৃতপে উপরে বর্ণিত মানসিক অবস্থাটি জগতস্থিত সকল মানুষের মনেরই একটি সাধারণ অবস্থা (Common State)। কিন্তু মনের এই গতি বা অবস্থাটি সম্পর্কে জগতের সকল মানুষ সমানভাবে সচেতন নয়। বেশীরভাগ মানুষ তাদের মনের এই অবস্থাটি লালন করে মনের গভীরতম প্রদেশে, একেবারে অবচেতনার তলদেশে যেখানে সে নিজেই নিজের খবর রাখেনা। বস্তুগত শিক্ষায় যতই পারদর্শী হই না কেন আমাদের অনেকেরই মনের পরিশীলন মহাজাগতিক পর্যায়ে উর্ত্তীণ হয় নি। জাগতিক অর্থে শিক্ষিত অথচ অপরিশীলিত ও আনকালচার্ড মন তার নিজের খবর নিজেই রাখে না। ফলে মানব মনের এই অবস্থাটিকে মনের সচেতন স্তরে ধারণ করার মত মনের গভীরতা খুব কম মানুষেরই রয়েছে। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে প্রত্যেক কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার চর্চা করার দ্বারা মানুষের মহাজাগতিক অবস্থিতির ভাবটিকে মনের সচেতন স্তরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা বাতলে দিয়েছেন। তাই বিসমিল্লাহর চর্চার মাঝে ব্যক্তি-মানুষের এবং মানব সভ্যতার বহু কল্যাণ রয়েছে।
আমরা জানি, বনজঙ্গলের মানুষ আজ সভ্যতা নির্মাণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ আজ বনজঙ্গলের সীমা ছাড়িয়ে, গোত্রবদ্ধতার হীনতা দূরে সরিয়ে, জাতীয়তার সংকীর্ণতা এড়িয়ে, আন্তর্জাতিকতার সীমানায় পা রেখেছে। মানুষ আজ আর কোনো নির্দিষ্ট ‘দেশ’ বা গন্ডিবদ্ধ স্থানের বাসিন্দা নয়, মানুষ আজ পৃথিবী নামক এই গ্রহের বাসিন্দা হয়ে উঠতে চাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানুষের পরিচয় পেতে যাচ্ছে। কিন্তু এরও চেয়ে একধাপ এগিয়ে কিছু কিছু মানুষ তাদের মহাজাগতিক পরিচয়কে উপভোগ করে চলেছে শুধুমাত্র ‘বিসমিল্লাহ’র কল্যাণে। তারা প্রত্যেক কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার দ্বারা জীবন চলার পথে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে একটি ঐক্য গঠন করে নেন। আর এই ঐক্যের সূত্র হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা। মহান আল্লাহই হচ্ছেন মহাজগতের চূড়ান্ত উদ্দিষ্ট। ঘটিতব্য সকল ঘটনার পরেও যে উদ্দিষ্ট বাঁকী থাকবেন তিনিই মহান আল্লাহ। তিনিই পরম উদ্দিষ্ট। ব্যক্তিমানুষের অস্তিত্ব ও কাজকর্ম যেহেতু পরম উদ্দিষ্টকে লক্ষ্য করে তাই তার কোনো একটি কাজ যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন তার খন্ড খন্ড কাজগুলির মাঝে একটি ঐক্য রয়েছে। এই ঐক্যের বোধ মনের সচেতন স্তরে ধারণ করার জন্য মুসলিম ঐতিহ্যে প্রতিটি কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। এই উচ্চারণ মানুষের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজকেও মহাজাগতিক প্রোপটে স্থাপন করে। ঐ কাজের গুরুত্ব ও পবিত্রতা সর্বোচ্চ মাত্রায় অনুভূত হয়। এভাবে দেশ-কাল, জাতীয়তা, আন্তর্জাতিকতা ছাড়িয়ে মানুষের মনোজাগতিক অবস্থানটি চিরকালীন অখন্ডতার রাজ্যে, মহাজগতের সীমানায় মুক্তি লাভ করে। বিসমিল্লাহর উচ্চারণ একজন মানুষের চিন্তা ও কাজের ঐক্যকে সংস্থিত করে। আমাদের ইহজীবনের খন্ড খন্ড কাজগুলি যদি এক একটি ফুল হয় তবে বিসমিল্লাহ হচ্ছে মহাজাগতিক সুতা বা সূত্র। আমাদের সুন্দর সুন্দর কাজের ফুলগুলি বিসমিল্লাহর সুতায় গেঁথে অমরত্বের মালা তৈরী হয়। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ, আমাদের প্রেম-ভালবাসা, আমাদের এই প্রিয় সংসারযাপন মহাকালের আবর্তনের মাঝে অর্থহীন বুদবুদের মত হারিয়ে যায় না। বিসমিল্লাহর সুতায় গেঁথে আমাদের জীবন হয়ে উঠে অর্থপূর্ণ। আমাদের প্রতিটি পদেেপর পিছনে, প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের পিছনে, প্রতিটি কর্মফল লাভের পিছনে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ইশারা রয়েছে। তিনিই আমাদেরকে এই জীবন, চলাফেরার শক্তি, চিন্তাভাবনা করার শক্তি ও অনুভূতি দান করেছেন। তিনিই জীবনের নিগূঢ় সত্য। কেবল তাঁরই স্মরণে আমাদের ইহজাগতিক অবস্থিতিটি একটি মহাজাগতিক ও চিরন্তন রূপ পেতে পারে। অতএব ‘বিসমিল্লাহ’ শুধু একটি ধর্মীয় আচারমাত্র নয় এটি একটি উচ্চাঙ্গের দর্শন। আমাদের অনেকের ধারণা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ-অযোগ্য বিলাসী ভাবনাচিন্তাই হচ্ছে দর্শন। কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ দর্শন সম্পর্কে আমাদের এই ধারণাকে খন্ডন করে। ইসলামের সমস্তটাই উচ্চাঙ্গের দর্শন কিন্ত তা কোনো অকেজো দর্শন নয়। ইসলামের দর্শন মঙ্গলময় জীবনে বিকল্পহীনভাবে অনুশীলনযোগ্য বটে। আমীন।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29477634 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29477634 2011-11-03 20:03:09
"নাস্তিক" শব্দের আসল অর্থ কী? অনেক পাঁড় নাস্তিকেও জানেন না। ন = নঞর্থক, নাই, প্রয়োজন হয় নাই।
অস্তি = অস্তিত্ব, ভৌত জগত, প্রকৃতি ইত্যাদি।
ইক = মতবাদী, মতবাদ পোষণকারী।

একেবারে শাব্দিক অর্থের বিশ্লেষণে নাস্তিক বলতে এমন মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বুঝায় যারা মনে করেন এই ভৌত জগত বা প্রকৃতিকে 'অস্তিতে' আসবার 'প্রয়োজনই' হয় নাই।
ভৌত জগতের অস্তিত্ব অনাদিভাবেই ছিল। অস্তিত্বর কোনো সূত্রপাত হয় নাই। অস্তিত্বই সংয়ম্ভূ। ইত্যাদি ইত্যাদি ..
সহজে বুঝলে সহজ। না বুঝলে অনেক কথা মনে আসবে। মনোযোগ দিলে অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।

বৈদিক যুগে যে বা যারা বেদ মানত না তাকে পন্ডিতরা 'নাস্তিক' বলেছেন। আর আমি ভাবছি এত শব্দ থাকতে পন্ডিতরা ঈশ্বর অস্বীকার কারীদেরকে নাস্তিক বললেন কেন। কালক্রমে অনেক শব্দই তার 'মূল' থেকে অনেক দূরের অর্থ প্রদান করে। বৈদিক যুগের পন্ডিতরা 'নাস্তিক' শব্দটি দ্বারা একটি ধর্মীয় অভিধা বুঝাতে চাইতেন কিন্তু মূল অর্থ হিসেবে "নাস্তিক" শব্দটি একটি দার্শনিক অভিধা। যেখানে 'ন + অস্তি' একটি দার্শনিক সিধান্ত।

ন = নাই, প্রয়োজন হয় নাই।
অস্তি = অস্তিত্ব।

এখানে ইঙ্গিত এটাই যে, অস্তিত্ব নিজেই সয়ম্ভূ। অস্তিত্ব অনাদী। এ অস্তিত্বের শুরুটা কাউকে করে দিতে হয় নাই। সে হিসেবে 'অস্তিত্বের' সূচনাকারী বলে কেউ নেই যাকে 'ঈশ্বর' বলে মনে করা যায়।
এ মতবাদে বলা হয় অস্তিত্ব গ্রহণ করার 'প্রয়োজনই' হয় নাই। এ ভৌত প্রকৃতির অস্তিত্ব চিরন্তনভাবেই ছিল। 'শক্তি' বা 'বস্তু' ইত্যাদি যে কোনো একটি আকারে 'অস্তিত্ব' চিরন্তনভাবে বর্তমান। বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে শক্তি বস্তুর আকারে প্রকাশিত হয়েছে মাত্র। এটাই 'নাস্তিক্যবাদের' দার্শনিক দিক। আর 'অস্তিত্ব' যদি চিরন্তন হয়ে থাকে তাহলে 'ঈশ্বরের' অস্তিত্বের আর প্রয়োজন থাকছে কোথায়? তাই নাস্তিক মানে "ঈশ্বরে অবিশ্বাসী" ব্যক্তি এমন নয়। বরং নাস্তিক কথার আসল অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যিনি মনে করেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকারই কোনো প্রয়োজন নাই যখন প্রকৃতি নিজেই সয়ম্ভূ। এটাই হচ্ছে 'নাস্তিক্যবাদের' দার্শনগত এবং মৌলিক বিবেচনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29366166 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29366166 2011-04-20 17:17:18
আমার ব্লগ-জীবনের সেরা পোস্ট অনেকেই তাদের ব্লগের সাবটাইটেল বা স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন। কেউ আবার প্রোফাইল লেখার জায়গাতে মনের কথা লিখে থাকেন।
এসব সাবটাইটেল বা স্ট্যাটাস বা প্রোফাইল যা-ই বলুন না কেন আমি খুব আগ্রহের সাথে গেগুলি পড়ি। আমার মনে হয় ব্লগারদের ব্লগের সাবটাইটেলে লেখা এসব ছোট ছোট চুম্বক কথাগুলি ব্লগারদের কোনো পোস্টের চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তা বেশী গুরত্বপূর্ণ কারণ সেগুলি একজন ব্লগারের জীবনবোধকে এবং মননকে প্রবলভাবে প্রকাশ করে। মানুষটি সম্পর্কে একটি স্পস্ট ধারণা পাওয়া যায়।
আজ আমি কয়েকজন ব্লগারের ব্লগে ঢু মেরেছিলাম শুধুমাত্র তাদের সাবটাইটেল বা স্ট্যাটাসটি সংগ্রহ করার জন্য। আমি যখন কাজ শুরু করি তখন ২৪৫ জন ব্লগার লগড ইন ছিলেন। আমি বিশেষ কোনো ক্রম অনুসরণ ছাড়াই দৈবচয়নের মাধ্যমে কয়েকজনের স্ট্যাটাস সংগ্রহ করেছি আপনাদের সামনে সেগুলি তুলে ধরব বলে। যাদেরটি এখনো পাইনি ভবিষ্যতে সেগুলিও সংগ্রহের ইচ্ছা রইল।

এই পোস্টের মাধ্যমে আজ কয়েকটি স্ট্যাটাস বা সাবটাইটেল প্রকাশ করছি এবং আমার পছন্দের চারটি স্ট্যাটাসের বয়ান বা ব্যাখ্যা নিজের মত করে লিখছি। পরবতীতে সবগুলিরই ব্যাখ্যা লেখার ইচ্ছা রইল।


ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

ইমন জুবায়েরের স্ট্যাটাসটি নিয়ে ব্যাখ্যা করার কী আর আছে! কথা তো পরিস্কার। বাযোকেমিস্ট্রীর ভাষায় জীবনকে রসায়ন বিজ্ঞানের ছাচেঁ ফেলে ব্যাখ্যা করা যায় অনেকটাই। এমনকি মানুষের আবেগ অনুভূতি, প্রেম-ভালাবাসও প্রাণরসায়নের কারুকাজ হিসেবে ঠিকই ব্যাখ্যা করা যায়। তারপরও কথা থাকে। প্রাণরসায়নই যদি মানব জীবনের শেষ কথা হতো তবে মানুষ বেঁচে আছে কী করে? প্রাণরসায়ন একজন নারীর প্রতি পুরষের আকর্ষণকে রসায়নের মারপ্যঁাচে বুঝাতে পারে কিন্তু চাদেঁর প্রতি যে মানবমনের আকর্ষণ সেখানে কোন রসায়ন কাজ করে?
এ প্রশ্নটি তুলেছেন লেখক।

এ থেকে আমি বুঝি লেখক জীবনকে কতটা ভালবাসেন, মর্যাদা দেন। বিজ্ঞান মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছে বটে, ভবিষ্যতে আরো দিবে কিন্তু বিজ্ঞান মানবের উর্দ্ধে নয়। বিজ্ঞান কখনই মানবকে গ্রাস করতে পারবে না। সবার উপরে মানুষ সত্য ।।

সুলতানা শিরীন সাজি
বেঁচে থাকাটা দারুণ ব্যাপার ....

নাইস একটা কথা। এ কথাটা যে আমি কতভাবে কতবার বুঝবার চেষ্টা করেছি তা আমিই জানি। যেমন:
ইমাম গাজ্জালী (রহ<img src=" style="border:0;" /> কে তার এক প্রিয় শিষ্য একদিন এসে বললেন, “হুজুর আজ এক আশ্চর্য ঘটনা দেখে এলাম।
হুজুর বললেন, “বল, কী ঘটনা?”
শিষ্য বললেন, “আমার পরিচিত এক যুবক কাল রাতে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেছে। তার কোনো রোগ ছিল না। কেউ তাকে হত্যাও করেনি। সম্পূর্ণ সুস্থ টগবগে এক যুবককে সকালে তার ঘরে মৃত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি”
হুজুর বললেন, “শোনো ব্যাটা, মারা যাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের ব্যাপার না। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তোমার আমার এই বেঁচে থাকাটা। চিন্তা করে দেখো, জন্মিলে মরিতে হবে- একথা তোমার জ্ঞানের মধ্যেই রয়েছে। তুমি অনেককেই চোখের সামনে মরতে দেখেছো। ফলে জানা জিনিষ কী করে আশ্চর্যের ব্যাপার হতে পারে, যে ঘটনা তোমার জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে তা কোনো আশ্চর্যের ব্যাপার না। আশ্চর্যের ব্যাপার এই বেঁচে থাকাটা কারণ তুমি এই জীবনে আসার আগে কি জানতে যে, এমন সুন্দর একটা জীবন তুমি গ্রহণ করতে/পেতে যাচ্ছ? তুমি কি জানতে? এমন আকাশ-বাতাস-ফুল-ফল-প্রণয়ী-পরিণীতা-পরিবার-সুখ-দুখ-হাসি-কান্না ভরা একটি পৃথিবী তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে তা কি তোমার জ্ঞানের মধ্যে ছিল?”

তা সত্যিই, সুলতানা শিরীন সাজি। বেঁচে থাকাটা দারুণ ব্যাপার। আাপনাকে ধন্যবাদ।

আরিফ জেবতিক
হাতে রইল পেন্সিল

ক্ষ্যামা করুন। ইনি কিন্তু আপনার আমার লাইনে নাই। হাতে রইল পেন্সিলের গল্পটা তো জানেন।
শিক্ষক বেয়াড়া ছাত্রকে পড়াচ্ছেন। দুই অংকের যোগ শেখাতে হাতে রেখে যোগ করার নিয়ম বুঝাচ্ছিলেন শিক্ষক। বুঝানো শেষে ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “বলতো, ৭ আর ৫ যোগ করে ১২ এর ২ নামালে হাতে কত রইল?” বেয়াড়া ছাত্রের উত্তর, “হাতে রইল পেন্সিল”
তাহলে বুঝুন এবার! ছাত্র কি মাস্টারের লাইনে আছে না-কি নিজের লাইন ছেড়েছে? কোনোটাই নয়।
অতএব, সাধু সাবধান। আরিফ জেবতিকের কিন্তু ‘হাতে রইল পেন্সিল’। মানে আপনি মাস্টার, আপনি যাওয়া আসা করেন কিন্তু কিছু শেখাতে আসবেন না। ভুল করে কিছু শেখানোর চেষ্টা করলাম না-তো?

শফিউল আলম চৌধুরী
ম্যভাই

ম্যাভাই! মিয়া ভাই! আহ! কি আদরের ডাক, শ্রদ্ধার ডাকও বটে। আমাদের দেশে বড় ভায়রাকে মিয়া ভাই বলে, কেউ কেউ অবশ্য সম্বন্ধীকেও মিয়া ভাই (ম্যাভাই) বলে থাকে। আপন বড় ভাইকেও শ্রদ্ধার খাতিরে মিয়া ভাই বলে কেউ কেউ। আমি জানিনা চৌধুরী সাহেব ব্লগে ব্লগে বড় ভায়রা আর বড় সম্বন্ধী খুজে বেড়াচ্ছেন কি-না। তবে ব্লগের সবাইকে যে উনি আপন করতে চান তা জানামাত্র আমার মনটা চনমচ করে উঠেছিল বটে। সেই হিসেবে আমাকেও উনি ম্যাভাই (মিয়া ভাই) বলেছেন। তার ডাক শুনে মনটা আমার কানায় কানায় ভরে গেছে।

আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন ...........

মাহী ফ্লোরা
আমি তোমার আকাশ কালো করা
ঝড় রোদ্দুর মিথ্যে আশার বিষ;
ভুক্তভোগী প্রেম সোহাগী শালিক পাখির ছানা
তোমার তবু চক্ষু ভেজা,
আমার জন্য দুঃখ অহর্নিশ!!

হমপগ্র
ধর্মপুত্রযুধিষ্ঠিররা সাবধান

মো আরিফ উদ্দিন
জীবনের প্রতিটি স্তরে পরাজিত একজন। জীবনে আমি শুধু হেরেই গেলাম, যে চাইলাম বা পাবার জন্য চেষ্টা করলাম তা কখনই পেলাম না।


জুবেরী
চিন্তার নিরংকুশ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি না। চিন্তার দায়বদ্ধতা মানুষ,সমাজ,সভ্যতার কাছে।
চিন্তা নিরন্তর

মধুমিতা
Never Say Never Again


স্বপ্নশিকারী
পড়,জান,জানাও

অবয়ব
পৃথিবীতে এখনো ভাল মানুষের সংখ্যাই বেশি
নিপাতনে সিদ্ধ

খারেজি
ঘাসগুলি খুব গোপনে ফোটায় ছোট ছোট সাদা ফুল
উঁকি দাও ফুল!
এইপথে আলো জ্বেলে এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে, সে অনেক শতাব্দীর মনীষির কাজ.....

পদ্মপুকুর
সময় বছর খায়, বছর সময় খায়...

শফিউল আলম চৌধূরী
দিন আসে দিন যায়, শুধু চিন্তা করি কি করলাম, কিন্তু ভাই যা হবার তাই চিন্তা করেও পরের দিন গুলিকে সুন্দর করতে পারিনা
যেমন কটছিল তেমনই কাটে, তাই এখন আর চিন্তা করিনা

সোজাসাপ্টা
সোজা, সহজ ও সরল

ইমন কুমার দে
আমি কী বলিব কার কথা, কোন সুখ কোন ব্যাথা.........
আমার নাই কথা তবু সাধ শত কথা ক্ই ।
ওলো সই ওলো সই, আমার ইচ্ছা করে তোদের মতোন
মনের কথা কই ।

আলোকিত পৃথিবী
মাথার ভিতর অসংখ্য পোকাদের বসবাস। সুখ পোকা, দুখ পোকা, স্বপ্ন পোকা...। আমিও তো আসলে একটা পোকা। পোকার জীবন-যাপন আমার...
তখন সত্যি মানুষ ছিলাম, এখন আছি অল্প

কাঙ্গাল মুরশিদ
কাঙ্গালের কথা বাসি হইলে ফলে

বাষ্প
কোথায় যাব। নো ল্যান্ড ফর এ সেড ডল।
মুক্তি দিয়ে কী হবে, মুক্তি চাই না

অনিকেত
নয়ন মেলে দেখি, যা কিছু সুন্দর

গ্রাউন্ড ফ্লোর
নীচের তলায় সাপখোপ থাহে

ধইঞ্চা
সব জ্বালাইয়া দিব ।

অর্থহীন প্রলাপ
সহজ সরল কঠিন রুক্ষ

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
নিজের জন্য লিখি


কাকাতুয়৮৪২
চলো সবাই

কঠিনলজিক
আবেগ নয় যুক্তী, মানুষ কে করে সৃস্টির সেরা
সম্মান জানাই তাকে আমার বিরুধ্যে সত্য বলে যে

আমি মঈন
এক অজানা পথের একলা পথিক পাড়ি দিতে চায় বহু পথ...

আরিয়ানা
যে পাখি আকাশে ওরে আকাশ ছোবার ইচ্ছেয়

সানজিদা হোসেন
আমার বেলা যে যায় সাঁঝবেলাতে........

গ্যাব্রিয়েল সুমন
প্রজাপতির মন নিয়ে গবেষনা করছি...

তবুও যাই স্বপ্নের কাছে, তবুও পুড়ি স্বপ্নের আঁচে।

এক মুসাফির
প্রথম যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে,
তুমি মাত্র কেদেছিলে,হেসেছিল সবে
এমন জীবন করিতে হইবে গঠন মরনে হাসিবে
তুমি,কাদিবে ভূবন।
মহান রাব্বূল আলামিনের দরবারে এমন একটি জীবন কামনা করি।



মাহবুবুল ইসলাম (সুমন)
মাগো আমি অন্ধ
তাই নষ্ট হয়েছি,
ভালবাসা বুঝিনি
অসীমকে পার করে
সীমাবদ্ধকে খুজে নিয়েছি....
আল্লাহর সব সৃস্টিকে ভালোবাসতে চাই


সুরঞ্জনা
মানুষ মানুষের জন্য...

. আমার নাইবা হলো পারে যাওয়া...


ইমরান চৌধুরী
ইচ্ছা ঘুড়ি. .

আমি কেউ নই . .

জাফর বায়েজিদ
বিশাল সমুদ্রের জল কিন্তু লবনাক্ত ...

সাবধানে থাকুন ...

ফাহাদ চৌধুরী
'অন্ধকার; মৃত নাসপাতিটির মতন নীরব'

On the road of chaos you will eventually find your bliss ....!!


শান্ত কুটির
প্রতিটাদিন অসম্ভব রকম বৃত্তাকার গড়াতে গড়াতে যেখানে শুরু আবার সেখানেই শেষ

ধানশালিক
ঘুমনাই

উল্টো মানুষ
আমি যেন এক উল্টো মানুষ,
ভুলো মনে ওড়াই শুধু স্মৃতির ফানুস,
যে আমারে দূঃখ দ্যায়,
তারে দেই ক্ষমা,
কত শত অবহেলা,
বূকে রেখে জমা-----------

বড় হওয়া বড় ভাল। তার চেয়ে বড় ভাল, ভাল হওয়া।

নষ্ট কবি
স্থপতি হলাম........কবি যে কবে হতে পারবো জানিনা,,,,,,,,,,,,,,,,তার আগেই নষ্ট হয়ে গেলাম.....

টোকাই সিকদার
ফুটপাত,কে বলে আমি টোকাই,আমি মধ্য রাতে ঘরে ফেরা এক র্কমচারী

স্রষ্টার কলম জড় জগতের কলম এর মত নয়.তার ক‍লমের কোন স্বর বা অক্ষর নেই.তার লেখনিতে কোন কালির অংকন নেই.


নিঃসঙ্গ পথিক..
সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায়...
সত্যিকারের মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টায়...

নিঃসঙ্গ পথিক।।

মন মোর মেঘের সঙ্গী
যখন তুমি আমি কেউ নেই.....


জুবায়ের হাসান
অসাধারণের প্রত্যাশায়.......

সাধারণ কিছুই অনেক সময় অসাধারণ হয়ে যায়

ফেরিওলা
কোন দলে নাম নেই
তবু দলাদলি করে,
কেটে গেলো সব সময়!

রোবট ভিশন
রানিং এন্ড রানিং...

বিবেকহীন মানুষ
বিবেক একটা ফালতু আবেগের নাম
বিবেক নিয়ে ক্যাচাল ভাল্লাগেনা....


চতুরঙ্গ
করর্পরেট চাকর... সাধারন ভাবনা


যৈবন দা
হারিয়ে গেসি , হাজারো চেনা মুখ আর অচেনা আবেগের ভিড়ে।
close your eyes and try to see

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29364469 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29364469 2011-04-17 20:10:23
আমি ভাই কলকাতা শহরে নতুন !
হরে কর কমবা জিওবা রুদে রকা রখানা।

আসেল ওতে লেখা ছিল-
হরেক রকম বাজী ও বারুদের কারখানা।

তো কোন কথার কী ব্যাখ্যা তা এই ব্লগ জগতে না আসলে জানতে পারতাম না।

আমি তো ভাই কলকাতা শহরে নতুন ............... !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29364281 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29364281 2011-04-17 13:23:20
খুব মডারেট একটি কবিতা মায়ে চায় ভোট, অতপর ভেট।
বেটা বসে সাগর পারে
সাদাদের বুদ্ধি ধারে।
কী করে সরল পথের
সাদাসিধা মানুষদের
করা যায় জীবজানোয়ার।
যার নাই মানবরতন
আজীবন তার খোঁয়াড় সাধন।
ওরা যদি মানুষ হতো
রীতিনীতির মূল্য দিতো।
ওরা চায় জীবজানোয়ার
দিগন্তজোড়া খোঁয়াড়।

গাধাদের স্বপ্ন ছিল
মানুষের খোঁয়াড় হবে।
এ স্বপন ঠিক কি বেঠিক
জনগণ প্রমাণ দেবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29279811 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29279811 2010-11-29 01:37:20
ডেসটিনিওয়ালাদের এত ধৈর্যর কারণ কি?? http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094412 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094412 2010-02-10 01:42:19 ডেসটিনি একটি চোর-বাটপারের কারখানা : একটি সহজ প্রমাণ কেউ কেউ বলবেন, ডেসটিনিতেও সমাজের অনেক গণ্যমান্য হোমরা চোমরা আছেন। তা থাকতে পারে। কারণ, শয়তানের ধাড়ী, গডফাদারের বাবা- এরা তো সমাজের হোমরা চোমরাই হয়ে থাকে। কিন্তু সমাজের সাধারণ, শিক্ষিত, সংখ্যাগরিষ্ঠ, নাগরিক মানুষ যারা সমাজের বৃহত্তম অংশ তাদের কাছে ডেসটিনি একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। প্রমাণ-
Click This Link
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094385 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094385 2010-02-10 00:47:38
ডেসটিনি একটি সমাজবিরোধী ও মানবতা বিধ্বংসী আন্দোলন http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094359 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29094359 2010-02-10 00:15:35 ডেসটিনির ভাগ্য, ভাগ্যের ডেসটিনি... http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29092016 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29092016 2010-02-06 00:10:53 শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের যুগান্তকারী বাণী ..... ১ হ’টে যাওয়া বরং দুর্ব্বলতা নয়কো, তুমি কোনোকিছু করতে প্রাণপণ চেষ্টা করা সত্বেও যদি বিফলমনোরথ হও- ক্ষতি নাই, তুিম চেষ্টা ছেড়ো না, ঐ অম্লান চেষ্টাই তোমাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। যে পরিমাণে দুঃখের কারণে মন সংলগ্ন হয়ে অভিভূত হবে, সেই পরমাণে হৃদয়ে ভয় আসবে ও দুর্ব্বলতাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। যদি রক্ষা পেতে চাও, ভয় আর দুর্ব্বলতা বলে কিছু রেখো না, সৎচিন্তা ও সৎকর্ম্মে ডুবে থাক।
দুর্ব্বল মন চিরকালই সন্দিগ্ধ- তারা কখনই নির্ভর করতে পারে না, তাই প্রায়ই রুগ্ন কুটিল ইন্দ্রিয়পরবশ হয়। তাদের নিকট সারাটা জীবন জ্বালাময়। শেষে অশান্তিতে সুখদুঃখ ডুবে যায়। কি সুখ, কি দুঃখ বলতে পারে না, জিজ্ঞেস করলে হয়তো বলে, “বেশ” –তা-ও অশান্তি! অবসাদে জীবন ক্ষয় হয়ে যায়।
দুর্ব্বল হৃদয়ে প্রেমভক্তির কোনো স্থান নেই। পরের দুর্দ্দশা, ব্যাথা দেখে পরের মৃত্যু দেখে নিজের দুর্দ্দশা বা মৃত্যুর আশঙ্কা করে ভেঙ্গে পড়া এলিয়ে পড়া বা কেঁদে আকুল হওয়া- ওসব দুর্ব্বলাত।
যারা শক্তিমান তারা যা-ই করুক, তাদের নজর নিরাকরণের দেিক- যাতে ও-সব অবস্তায় আর না কেউ বিধ্বস্ত হয় প্রেমের সহিত তারই উপায় চিন্তা করা, - বুদ্ধদেবের যা হয়েছিল- ঐ হচ্ছে সবল হৃদয়ের দৃষ্টান্ত।
তুমি বলো না তুমি ভীরু, বলো না তুমি কারুরুষ, বলো না তুমি দুরাশয়! পিতার দিকে নজর কর, আবগভরে বল- “ওগো, আমি তোমার সন্তান, আমার আর জড়তা নেই, আর দুর্ব্বলতা নেি আমি আর কুপুরষ নই, আমি তোমাকে ভুলে নরকের দিকে ছুটে যাব না, আর তোমার জ্যোতির দিকে পিছন ফিরে আর “অন্ধকার অন্ধকার” চিৎকার করব না।
দুর্ব্বলতার সময় সুন্দর ও সবলতার চিন্তা করিও- আর অহঙ্কারে পিয় ও দীনতার চিন্তা করিও তবে মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুণœ থাকিবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29033736 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29033736 2009-10-28 23:12:32
তৌফিক এলাহী চৌধুরী ও ভানুর কৌতুক "না। দ্রিমু য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রব ট্রাত্রেই দ্রিমু।"
আচ্ছা ভানু যদি আমাদের তৌফিক এলাহী চৌধুরী হইতেন তাহলে তিনি কী কইতেন বইলা আপনাদের মনে হয়?
আমার মনে হয় তিনি কইতেন- "টাইম আগাইয়া দ্রিছ্রি য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রব ট্রাত্রেই দ্রিমু। গ্রমক্রালেও দ্রিমু, শ্রীতক্রালেও দ্রিমু।"
একেবারে নচ্ছার গোঁয়ার আরকি। ভানুর কৌতুকটি কেবল কৌতুক নয় ওতে মানুষের অহংকার যখন ফুসে ওঠে, মানুষ যখন নিজের ভুল সহজ-স্বাভাবিকতায় স্বীকার করার মত মহত্ব দেখাতে পারে না। তখন কেমন গোয়ারের মত হাস্যকর আচরণ করে তা-ই দেখানো হয়েছে। র-ফলার সঠিক ব্যবহার ভানু জানত না, কেউ তাকে ভুলটি ধরিয়ে দেবার পর সে বুঝতে পারে যে তার ভুল হচ্ছে কিন্তু সে ভুল স্বীকার করার মত নৈতিক সাহস তার নেই। তাই সে অহংকারে মরিয়া হয়ে গোঁয়ার এক নচ্ছার হয়ে ওঠে। আমাদের বিদুৎ বিভাগের মাথামুরুব্বীরা ভানুর কৌতুক থেকে কী শিক্ষা নেন তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি।
আমার তো মনে হয় বর্তমান সময় না পিছানোর যুক্তিসংগত কোনো কারণ অপেক্ষা নিচের কারণগুলিই বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের কাছে-
১। টাইম আগাইয়া দেওনে প্রতক্ষ্যগোচর কোনো লাভের হিসাব সরকার জনগণকে দেখাইতে/বুঝাইতে পারে নাই। এ অবস্থায় টাইম পিছাইয়া দিলে তা হইবো একধরনের নীতিগত পরাজয়। তাই "লাভ হইতাছে, লাভ হইবো" বইলা টাইম না পিছানোর গোঁ ধরছে। অনেকটা সেই "দ্রিমু য্রখ্রণ ত্রখ্রন স্রব ট্রাত্রেই দ্রিমু"- আরকি।

২। আর কিছু সেভিং যদি হইয়াও থাকে সেই অতিরিক্ত বিদুৎ দিয়া এলিট লোকজন গরমকালে সু্টকোট গায়ে চাপাইয়া সারাদিনমান এসি চালাইতে পারব আর শীতকালে রুম গরম রাখতে পারব। সামান্য এই দানে এলিটরা তো সরকারের উপর দিলখুশ থাকবো।

৩। সরকারের ক্ষমতা এখনও ৪ বছর চলতে হইব। বছরে দু্ইবার টাইম আগানো আর পিছানো কইরা বি,এন,পি কে বছরে দুইবার একটা আন্দোলন করার মত ইসু হাতে তুলে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে "এক ইসু একবার দিছি, আর দিমুনা"- এই নীতিই ভাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29033346 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29033346 2009-10-28 11:38:31
আমরা তবে গুরু মারা শিষ্য, তাইতো এ অদৃষ্ট !!! কিছুদিন আগের এক জরিপে প্রকাশ আমেরিকার সরকারে নারী অংশীদারিত্বের দিক থেকে আমেরিকা দেশটির অবস্থান ৬১ তম!! আমার প্রশ্ন ৬২ তম অবস্থানে আদেৌ কোনো দেশ ছিল কি-না।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29031837 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29031837 2009-10-25 21:57:19 নলকূপই আর্সেনিক দূষণের কারণ ঃ সরষের মধ্যে ভূত?? http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29016686 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29016686 2009-09-27 21:41:00 খন্ডকালীন লেখকের কাজ খুঁজছি। এ ব্যাপারে কারো কোনো যোগাযোগ থাকলে দয়া করে জানাবেন।
মোবাইল ০১৭১৬৭৩২৮৬৩

রেফারেন্স ঃ

১। শেখ কোহেতুর আলম।
উপাধ্যাক্ষ,
তেজগাঁও কলেজ
ঢাকা।

২। মোঃ ওসমান গণি।
বিভাগীয় প্রধান (অবঃ)
ইংরেজী বিভাগ
সরকারী আযিযুল হক কলেজ, বগুড়া।

৩। মোঃ নজরুল ইসলাম।
অধ্যক্ষ (অবঃ)
সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ,
সিরাজগঞ্জ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29016624 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29016624 2009-09-27 20:14:07
গীবত করা একটি জংলী অভ্যাস-ঃ কোরাণ ও হাদীসের আলোকে
প্রিয় ভাইয়েরা আমার! গীবত মানুষের জন্য অত্যন- ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। যে হাদীসটির উল্লেখ করা হলো তাতে নবীয়ে পাক (সাঃ) অত্যন- সংক্ষিপ্তভাবে অথচ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন গীবত কাকে বলে আর গীবত করা কতখানি নোংরা একটা ব্যাপার। গীবত হচ্ছে একজন ব্যক্তির অনুপসি'তিতে তার দোষ অন্যের নিকট বলা- যদিও সকলেই জানে যে সেই ব্যক্তি সত্যিই দোষী। মোটকথা, কোনো দোষী ব্যক্তির প্রমাণিত দোষ সম্পর্কে বলাবলি করাই গীবত। একটা লোক দোষ করেছে যেটা সকলেই জানে তারপরও বিনা কারণে শুধুই কিছুটা মজা বা আনন্দ করার জন্য ঐ ব্যক্তির অসাক্ষাতে তার তার দোষ সম্পর্কে বলাবলি করাই গীবত। ভাইয়েরা! চিন-া করে দেখুন, নবী (সাঃ) বলেছেন যে, ঐ ব্যক্তি যদি প্রমাণিতভাবে দোষী হয়ে থাকে তবেই কেবল তার দোষ সম্পর্কে বলা হবে গীবত আর যদি তার দোষ ইতিমধ্যে প্রমাণিত না হয়ে থাকে অথবা সত্যিকার অর্থে সে যদি দোষী না হয়ে থাকে তবে তার দোষ সম্পর্কে বলাবলি করলে তা হবে “বুহতান” বা মিথ্যা অপবাদ যা গীবতের চাইতেও ঘৃণ্য অপরাধ এবং গীবতের চাইতেও কঠিন গুনাহের কাজ। বিবেক বিবেচনা সম্পন্ন একজন ভদ্রলোক সাধারণতঃ এরূপ মিথ্যা অপবাদ দেয়ার কাজটি করেন না। কিন' গীবত আমাদের দ্বারা প্রায়ই হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আমাদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। গীবত থেকে বেঁচে থাকতে হলে প্রথমে আমাদেরকে গীবতের সংজ্ঞাটি ভালভাবে বুঝে নিতে হবে। দেখুন! নবীয়ে পাক (সাঃ) কত সুন্দরভাবে, সংক্ষিপ্ত ভাষায়, স্পষ্ট বর্ণনায় গীবতের সংজ্ঞা দিয়েছেন অথচ আমাদের তা বুঝতে যেন কষ্ট হচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ আমরা আসলে এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে চাই না। অথচ সৃষ্টজগতের সেরা প্রাণী হিসেবে আমাদের এ বোধটি থাকা উচিত যে, একজন মানুষ তার মানবিক দূর্বলতা থেকে এক মুহুর্তের প্ররোচনায় কোনো দোষ বা অপরাধ করে থাকতেই পারে এবং সেই অপরাধের জন্য সে ইতিমধ্যে শাস্তি পেয়ে থাকতে পারে অথবা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে থাকতে পারে। তাছাড়া আমার নিজের মধ্যে যে এরকম মানবিক দূর্বলতা নেই তা নয়। হতে পারে আমি নিজেও ঐরকম দোষ করে থাকতে পারি। তাই আমি যখন অন্যের নিকট কোনো দোষী ব্যক্তির দোষ অকারণে বর্ণনা করতে থাকি বা শুনতে থাকি তখন আমার লজ্জা পাওয়া উচিত। গীবত বলা বা শোনার ব্যাপারে এই প্রকারের লজ্জাবোধ যার মধ্যে আছে কেবল তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত মুসলামন এবং সত্যিকারের ভদ্রলোক। আর গীবত করা যাদের কাছে “ঘী-ভাত” এর মনে হয় তাদের পোষাক আশাক আর চেহারাসুরত যেমনই হোক না কেন তারা অসভ্য ও নির্লজ্জ।

বিসমিল্লহির রাহমনির রাহীম।
“আর তোমরা একজন অন্যজনের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের অসাক্ষাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? প্রকৃতপক্ষে তোমরা তো এটাকে ঘৃণ্যই মনে কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী পরম দয়ালু।” (সুরা হুজুরাত- ৪৯ : ১২)
গীবত কতখানি ন্যাক্কারজনক ব্যাপার তা বুঝতে আমরা এই আয়াতে কারীমার দিকে মনোযোগ দেই। দেখুন ! আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বলছেন, গীবত করা হচ্ছে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমতুল্য। এখানে তুলনাটা কত পরিস্কার! প্রথমতঃ আদম সন-ান ভাই-ভাই। রক্তের সম্পর্কে না হোক, স্বভাবের সম্পর্কে ভাই-ভাই। ঐ দোষী ব্যক্তি যে রক্ত-মাংসের তাড়ানায় দোষ করেছে ঐ রক্ত-মাংসের তৈরী আমি নিজেও। তাই সেই ব্যক্তি যে দূর্বল মুহুর্তে, যে পরিসি'তিতে পড়ে দোষ বা অপরাধ ঘটিয়েছে ঐরকম দূর্বল মুহুর্ত আমার জীবনে আসলে আমিও যে ঐ প্রকার অপরাধ করতাম না তার গ্যারান্টি কে দেবে? তাই আচরণগত দিক থেকে আদম সন-ানরা একই মৌলিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তাই তারা পরস্পর ভাই-ভাই। একজন ব্যক্তি যখন অন্য একজন অনুপসি'ত দোষী ভাইয়ের নামে গীবত করে তখন সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খায় বটে। এখানে “মৃত” বলতে “অনুপসি'ত” বুঝাচ্ছে। একজন মৃত ব্যাক্তির শরীর থেকে গোশত খুলে নিলেও মৃত ব্যক্তি যেমন কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না তেমনি কোনো অনুপসি'ত ব্যক্তির নামে হাজারটা সত্যমিথ্যা দোষের কথা বর্ণনা করে গেলেও অনুপসি'ত থাকার কারণে সে ঐসব কথার কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। অথচ ঐ একই কথা তার সাক্ষাতে বলা হলে সে নিশ্চয়ই আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু না কিছু বলতে চাইত। এমনকি আমরা জানি, আদলতে দোষী ব্যক্তির বিচার চলকালেও কেবলমাত্র আসামীর উপসি'তিতেই মামলার শুনানী বা আসামীর দোষ পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। যদি আসামী উপসি'ত না থাকে তবে পত্রিকার মাধ্যমে তাকে উপসি'ত হওয়ার নোটিশ দেয়া হয় এবং তারপরই কেবল দোষী ব্যক্তির বিচার শুরু হয়। এভাবে দেখা যায় আল্লাহ তায়ালার দেয়া বিধান মানুষের আইন-আদালতে প্রয়োগ করা হয়। কারণ এটাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিধান। তারপরও মানুষের তৈরী বিধানের সাথে আল্লাহর দেয়া বিধানের কোনো তুলনাই চলে না। আল্লাহর বিধান মানুষের বিধানের চাইতেও সর্বদিক দিয়ে উত্তম, কল্যাণকর আর মানবতাবাদী। আর তাই তো আল্লাহ তায়ালা গীবত করার অভ্যাসকে নিরুৎসাহিত করেছেন। শুধু আইন-আদালতে নয়, এমনকি দৈনন্দিন সামাজিক আচার আচরণেও অনুপসি'ত ব্যক্তির দোষচর্চা বা গীবত করাকে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছেন তিনি। কারণ এরই মধ্যে রয়েছে উত্তম ফলাফল, চিরকালীন কল্যাণ আর মানবতার বিজয়। অনুপসি'ত আসামীর নামে শুনানী না করাটা সার্বজনীন নিয়ম, সকল দেশের আইন-আদালতের নিয়ম। আর সর্বোত্তম আইন হচ্ছে আল্লাহর আইন। তাই আল্লাহ তায়ালা অনুপসি'ত ব্যক্তির দোষচর্চাকে নিষেধ করেছেন কেবল আইন-আদালতের পরিসরেই নয়, এমনকি সামাজিক মেলামেশার পরিসরেও যাতে করে মানুষ অকল্যাণ থেকে বাঁচতে পারে ও মানুষের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ লাভ হয়।
আল-কুরআনে ও হাদীসে গীবত বলা ও শোনাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে কারণ সে ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ থাকে না। হতে পারে সে দোষী কিন' তারও নিজের পক্ষে কিছু বলার থেকে থাকতে পারে। তাই তার অনুপসি'তিতে তার দোষ চর্চা করা আর মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে গোশত খুলে নেয়া একইরুপ ব্যাপার। দেখুন! আল্লাহ তায়ালার দেয়া উপমাটি কত স্পষ্ট আর অর্থময়। এখানেই শেষ নয়। আল্লাহ তায়ালা আর বলেছেন, গীবত করার অর্থ কেবল মৃত ভাইয়ের শরীরের গোশত খুলে নেয়ার ব্যাপার নয়, বরং মৃত ভাইয়ের গোশত খুলে নিয়ে তা খাওয়ার মত ঘৃণ্য ব্যাপার। এ তুলনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, একজন মুমিন মুসলমান ও একজন ভদ্রলোক হিসেবে তোমাদের পক্ষে গীবত বলা বা শোনার মত অভিরুচি থাকাটাই উচিত নয়। মানুষ হয়ে নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত রুচি কেবল অসভ্যদেরই থাকে। শোনা যায়, জংলী মানুষেরা মানুষের গোশত খেয়ে থাকে। তাই গীবত করাটা হচ্ছে অসভ্য, বর্বর, জংলী একটা অভ্যাস। কাজেই সাবধান। তোমরা যারা সভ্যতার দাবীদার তাদের পক্ষে গীবত করা বা শোনার অভ্যাস বড়ই অশোভন। মোটের উপর গীবত হলো সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এক ফেতনা। অতএব, প্রিয় ভাইয়েরা আমার! আমরা সকলেই গীবত বলা থেকে তো বটেই এমনকি গীবত শোনা থেকেও বিরত থাকব ইনশাআল্লাহ। কোনো গীবতকারীকে আমরা প্রশ্রয় দেবনা। একথা নিশ্চিত জেনে রাখবেন, যেই ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের দোষ সম্পর্কে বলে থাকে কোনো সন্দেহ নেই যে সেই ব্যক্তি আপনার অনুপসি'তিতে অন্যের সামনে আপনার দোষও বলে থাকে। অতএব সাবধান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে গীবত বলা ও শোনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন। আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29015575 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29015575 2009-09-25 16:53:11
ইভ টিজিং কারা করে ?? ......... এরা বেড়ে উঠে ঠিক যেন কাকের বাসায় কোকিলের ছাও। কাক যখন টের পায় এটা কোকিলের বাচ্চা তখন লাথি মেরে বের করে দেয়। ‍'কোকিলের ছাও যাও! যাও! যাও!"
পরকীয়ার ছাওদেরকে তাদের তথাকথিত বাবা-মা' রা লাথি মেরে বাড়ীর বের করে দেয় না বটে। কারণ ওতে তাদের নিজেদেরই দূর্বলতা সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এদের বাবা মা এদেরকে লাথি মারে মনোজাগতিক স্তরে। পরকীয়ার সন্তানদেরকে এদের তথাকথিত বাবা-মা রা মানসিকভাবে লাথি মারে অর্থাৎ এসব সন্তানদের ভাল নৈতিক শিক্ষা দেয় না, এ সন্তানরা কোথায় যায় কি করে কোনোই খোঁজ নেয় না। অনেকটা সেই কাকের বাসায় কোকিলের ছাও যেমন তেমনটাই ...........
'পরকীয়ার ছাও যাও! যাও! যাও!!' ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29014467 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29014467 2009-09-22 22:44:06
এইবেলা কবিতার পাঠক পাওয়া গেছে তাই পোস্টাইলাম .. সারা অঙ্গে ঢেউ তার তবু মেয়ে কবিতা বোঝেনা
..আল-মাহমুদ।
_________________
আজকের কবিতা ঃ ওয়ার্ডসওয়ার্থের আই ওয়ান্ডারড লোনলি এজ এ ক্লাউড।

I Wandered Lonely As a Cloud
একাকী এক মেঘের মত ঘুরে বেড়াই আমি

by William Wordsworth
কৃত- ওয়ার্ডসওয়ার্থ

I wandered lonely as a cloud
একাকী এক মেঘের মত ঘুরে বেড়াই আমি
That floats on high o’er vales and hills
পাহাড় আর উপত্যকার ঐ উঁচুতে যে মেঘ ভেসে যায়
When all at once I saw a crowed,
ঠিক তখনই হঠাৎ করে দেখতে পেলাম এক সমাবেশ,
A host of golden daffodils;
থোকায় থোকায় গুচ্ছে গুচ্ছে স্বর্ণালী ড্যাফোডিল;
Beside the lake, beneath the trees,
লেকের ধারে বৃক্ষসারির নিচে,
Fluttering and dancing in the breeze.
মৃদু হাওয়ায় দোল খায় আর নাচে।
Continuous as the stars that shine
And twinkle in the milky way,
ছায়াপথের মাঝে উজ্জ্বল ঝিকিমিকি
তারকারাজির মত সুবিন্যস্ত,
They stretched in never-ending line
Along the margin of a bay:
তারা বিস্তিৃত হয়ে আছে
বেলাভূমির সীমানা বরাবর অশেষ সারিতে।
Ten thousand saw I at a glance,
একনজরে দেখতে পেলাম অযুত-লক্ষ (ফুল)
Tossing their heads in sprightly dance.
মাথা দোলাচ্ছে তারা স্বতঃস্ফুর্ত নাচের মুদ্রায়।
The waves beside them danced; but they
তাদের পাশে ঢেউগুলো নাচছিল কিন্তু তারা
Outdid the sparkling waves in glee;
হাস্যে-লাস্যে ঝিকিমিকি ঢেউগুলিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছিল;
A poet could not but be gay,
In such a jocund company
এরকম আমুদে এক সঙ্গী পেলে কোনো কবি
আনন্দিত না হয়ে পারে না।
I gazed-and gazed but little thought
আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম; ভেবে পেলাম না-
What wealth the show to me had brought;
আমার জন্য এই দৃশ্যের মাঝে কী সম্পদ রাখা ছিল

For oft when on my couch I lie
In vacant or in pensive mood
কারণ যেমনটি প্রায়শঃই আমি শূণ্যমনে ব্যথাবিধুর হৃদয় নিয়ে
বিছানায় শুয়ে থাকি
They flash upon that inward eye
Which is the bliss of solitude
তখন তারা (ড্যাফোডিলগুলি) দৃশ্যমান হয়ে উঠে আমার
অর্ন্তগত দৃষ্টির সামনে (যে দৃষ্টি) নিঃসঙ্গতার দান;
And then my heart with pleasure fills
আর তখনই আমার হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে
And dances with the daffodils.
আর নাচতে থাকে ড্যাফোডিলের সাথে।


সাধারণভাবে বুঝবার পক্ষে কবিতাটি অত্যন্ত সহজ। গীতি কবিতার সুর ও স্বাচ্ছন্দ্যে কবিতাটি সুখপাঠ্য। এর উপমা নির্মাণ অত্যন্ত সরল কিন্তু আবেগময় যা পাঠককে হালকা মেঘের মতই ভেসে নিয়ে যায়। কবিতার শুরুতেই মেঘের মত ভেসে ভেসে আকাশ থেকে দেখা ড্যাফোডিল ফুলের বিস্তীর্ণ সমাহারের একটি স্কাই ভিউ পঠককে চমৎকৃত করে। ঠিক পরের স্তবকেই আবার ছায়াপথের উজ্জ্বল ঝিকিমিকি তারকারাজির উপমা পাঠককে যেন অন্য সবকিছুর অস্তিত্ব ভুলিয়ে দেয়। যেন মনে হয় বিশ্বচরাচর কেবল ড্যাফোডিল ফুলে ভর্তি। ড্যাফোডিলের স্বতঃস্ফুর্ত নাচের মুদ্রা যেন পাঠককেও উচ্ছল করে তোলে। এভাবে প্রথম দুই স্তবকের সরল কিন্তু শক্তিশালী চিত্রকল্পের ব্যবহার আছে যা পাঠককে আকর্ষণ করে।
তৃতীয় স্তবকের শুরুতে লেকের জলের ঝিকিমিকি ঢেউগুলির সাথে ড্যাফোডিলের নাচকে কনট্রাস্ট করার মাধ্যমে ড্যাফোডিলের উচ্ছলতা ও সৌন্দর্যকে আরও প্রকটিত করে তুলেছেন। তারপর সেই দৃশ্যের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন।
চুতর্থ স্তবকে এসে তিনি একটি কবিমনকে উন্মোচিত করেছেন এবং কবিতা রচনার মূলসূত্র তথা কবিতার সংজ্ঞা দিয়েছেন। যেহেতু তিনি নিজেকেই নিজে কবি আখ্যা দিয়েছেন তাই ৪র্থ স্তবকে সেই কবির ব্যাথাবিধুর মনের সাক্ষাৎ পাই। এ মন সৃষ্টিযন্ত্রণায় কাতর। আদর্শের সন্ধানে ব্যস্ত। বাস্তবতা আর আদর্শের মাঝখানের ফাঁকটুকু পূরণ করতে ব্যস্ত। এ মন গূঢ় অর্ন্তদৃষ্টির অধিকারী কবির অখন্ড অবসরের সময়ে যখন হঠাৎ করেই তার অর্ন্তদৃষ্টির সামনে পূর্বে দেখা ড্যাফোডিলের স্মৃতি ভেসে ওঠে তখনই এই শক্তিশালী ভাবব্যঞ্জনাময় কবিতাটি রচিত হয়। এভাবে কবি এ কবিতায় কবিতা রচানার তাড়নাগত দিকটির নির্দেশ করেছেন। একজন কবি বা শিল্পী প্রতিনিয়ত গভীরভাবে তার চারপাশের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে চলেন। কিন্তু ঠিক পর্যবেক্ষণের মুহুর্তেই তিনি তাঁর শিল্পরচনা করেন না। বরং কোনো অবসর সময়ে নিঃসঙ্গ নিস্তব্ধ মুহুর্তে যখন তার উপর প্রবল অনুভূতি ভর করে তখনই তিনি পূর্বে দেখা ঘটনাকে স্মৃতি অবলম্বনে পুনঃপাঠ করেন এবং শিল্পরচনা করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই কবিতাটি যেন তার দেয়া কবিতার সংজ্ঞাকেই পরিস্ফুট করে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ কেবলই একজন কবি ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাহিত্যে নতুন একটি ধারার প্রবর্তক। রোমান্টিক ধারার অগ্রপথিক। শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও তত্ত্ব ছিল। তিনি কবিতার সংজ্ঞা দিয়েছিলেন এভাবে, মেমোরিজ রিকালেক্টেড ইন ট্র্যাংকুইলিটি। তাঁর মতে কবিতা হচ্ছে, নিঃসঙ্গতার মুহুর্তে রোমন্থনকৃত স্মৃতি। বর্তমান কবিতাটি যেন ঠিক ওয়ার্ডসওয়ার্থের দেয়া কবিতারই সংজ্ঞাকে কবিতার মাধ্যমেই ফুটিয়ে তুলে।
কবিতার প্রেমিকদের জন্য এ এক ঐতিহাসিক অনবদ্য কবিতা। বার বার পড়বার আর হৃদয়ঙ্গম করবার মত কবিতা।
সকলকে ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29011882 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29011882 2009-09-17 05:44:40
স্টপিং বাই উড্স অন এ স্নোয়ি ইভনিং- রবার্ট ফর্স্টের একটি কবিতার বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখা দিলাম। কবিতা বোদ্ধারা পছ্ন্দ করবেন...
রবার্ট ফর্স্ট

এই বনটা কার তা আমি জানি বলে মনে হচ্ছে
যদিও তার বাড়ী গ্রামে-
সে আমাকে দেখতে পারবে না যে, আমি
এখানে তার বন তুষারপাতে ভ’রে যেতে দেখার জন্য থেমেছি।

আশেপাশে কোনো খামার ছাড়া
বন ও বরফে পরিণত খালের মাঝখানে
বছরের সবচেয়ে অন্ধকারময় সন্ধ্যায় এখানে দাঁড়ানোটাকে
আমার ছোট ঘোড়াটি নিশ্চয়ই অদ্ভুত বলে ভাবছে।

সে তার গলায় বাঁধা ঘন্টাটি মৃত বাজায়
কোনো ভুল হচ্ছে কি-না তা জানতে;

আর অন্য একমাত্র শব্দ হচ্ছে মৃদু-প্রবাহিত
বাতাস আর পতশীল তুষারের শব্দ।
মনোরম অরণ্য। অন্ধকার ও গভীর।
কিন' আমার অনেক প্রতিশ্রুতি রাখবার আছে;
ঘুমাবার আগে অনেক মাইল যাবার আছে
অনেক মাইল যাবার আছে ঘুমাবার আগে।।

এটি রবার্ট ফর্স্টের অত্যন- সহজ মসৃণ গতির একটি সুবোধগম্য কবিতা। এ কবিতাটিতে রবার্ট ফর্স্টের কবিতার সাধারণ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এতে কবির প্রকৃতিপ্রেমের চাইতে কবিমনের উচ্চমার্গীয় দার্শনিকতারই প্রকাশ বেশী আছে। কবিতার প্রথম লাইনটিই ভাবুক পাঠককে চমকে দেয়। তাই তো! এই বিশ্বচরাচর, এই যে জীবনজগত, এই যে সমাজ সংসার; এই বনটি কার তা আমরা জানি বলে মনে হয় কিন' আদৌ জানি না। কোন্‌ ঈশ্বর এ বিশ্বাচরাচর তৈরী করলেন তা আমরা ভাবতে চাই কিন' ভেবে পাই না। মনে হয় তাকে চিনি কিন' চিনি না। এভাবে একটি দার্শনিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে কবিতাটি এগিয়েছে। কবিতায় কবি চলার পথে একটু থেমে বনের মধ্যে তুষারপাত দেখছেন। ইতিমধ্যে তার ছোট ঘোড়টি গলার ঘন্টা বাজিয়ে তাকে পথ চলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। শেষ স-বকে কবি তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছেন। প্রথম দুই স-বকে প্রকৃতির সাথে নিবিড় ঘনিষ্ঠতার বর্ণনা দিয়ে শুরু হলেও তা শেষ হয়েছে প্রবল দার্শনিকতার মধ্য দিয়ে। এ কবিতায় চলতে চলতে হঠাৎ থামা (স্টপিং বাই উড্‌স) যেন জীবনের ক্লানি-কে নির্দেশ করে। হাজারো দায়িত্ব নিয়ে জীবনে চলতে চলতে আমরা মাঝে মাঝে কি একটু থেমে দায়িত্বহীন নির্ভার অবসর পেতে চাই না? একটু উদাসীন হয়ে উঠি না? কিন' দায়িত্ববোধ আমাদেরকে তা করতে দেয় না। ঘোড়ার গলার ঘন্টার মত আমাদের বিবেক আমাদেরকে আমাদের কর্তব্য সম্বন্ধে সজাগ করে দেয়। আর তখনই আমাদের মনে পড়ে এ জীবন সুন্দর (দি উড্‌স আর লাভলী), আবার এক হিসেবে অনিশ্চিত (ডার্ক) আবার গভীর অনুভূতি দিয়ে অনুভব করার মত (এন্ড ডীপ)। সর্বোপরি দায়িত্বশীলতাই জীবন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29008344 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/29008344 2009-09-11 00:12:04
ডিজুস= রসভান্ডখানি। বিজ্ঞাপন ভন্ডামি আর নগ্ন বেণিয়াবৃত্তি
বন্ধু আড্ডা গান এখানেই, হারিয়ে যাও...
দুনিয়ার সুখ অনলি অন মাই ডিজুস....
রাজী থাকলে আড্ডা হবে..
(হুবহু হলোনা বোধহয়)

এই যে, আহ্বানের ধারা। বেণিয়ার এই যে প্রলোভনের ভাষা- এগুলি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অবশ্যই করা উচিত।
এই যে, হারিয়ে যাওয়ার আহ্বান। নৈতিকভাবে এটা কোন পর্যায়ে পড়ে? বেণিয়া তার ব্যবসার জন্য একটি জাতির তরুণ প্রজন্মকে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে বলছে "ফ্যান্টাসির" জগতে। মিথ্যা বানোয়াট গল্পবাজী, কল্পিত রোমান্স আর বড়াই ভড়ং করার জগতে নিয়ে গিয়ে ফেলতে চাইছে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে।
কোন সাহসে ???

আবার বলছে, দুনিয়ার সুখ অনলি অন ডিজুস। একটি কিশোর বা কিশোরী, "সুখ" সম্পর্কে যার ধারণাই তৈরী হয় নাই। যে কি-না বাপের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফুটায়। তাকে বলা হচ্ছে লক্ষ্যহীন ভাবে অবিরত বন্দুক ছুঁড়তে।

এসব নিয়ে, বিজ্ঞাপনের ভাষা নিয়ে, বেণিয়ার চৌর্যবৃত্তি ঠেকানোর জন্য, সর্বোপরি দেশ-জাতি ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য এক্ষুণি জনসচেতনতা গড়ে তোালা দরকার।

নতুন প্রজন্ম নতুন কিছু ব্যবহার করবে, নতুন জিনিষে অভস্ত্য হবে এটা চিরকালের নিয়ম। তাতে কারো কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি তখনই যখন তাদেরকে কেউ বিভ্রান্ত করে নিচে নামাতে চায় বেণিয়াস্বার্থের জন্য।

যাদের শিরোনাম "ডি জুস"= রসভান্ডখানি।

এরা তরুণ প্রজন্মের রস শুষে নিতে চায়। যাদের রস এখনও পোক্ত নয় তাদের সেই রস শুষে যারা টাকা কামাতে চায় তাদেরকে এক্ষুণি প্রতিহত করা দরকার।

অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া দরকার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28925067 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28925067 2009-03-16 13:16:28
মৃত্যু ও পরকাল
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
"তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদেরকে নাগালে পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দূর্গে অবস্থান করলেও।" (সুরা নিসা, ৪ ঃ ৭৮)

এক বুযুর্গ ব্যক্তির নিকট তাঁর শিষ্য এসে বললেন, 'হুজুর আজ এক আশ্চর্য ঘটনা দেখে আসলাম।' হুজুর বললেন 'কি ঘটনা?' শিষ্য বললেন, 'আমার পরিচিত এক যুবক রাতে সুস' অবস'ায় বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল কিন্তু সকালে তাকে মৃত পাওয়া গেছে। অথচ তার কোনো রোগ ছিল না। কেউ তাকে হত্যাও করেনি। সে ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ টগবগে এক যুবক। তার এরকম মৃত্যুর ঘটনায় আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি।' বুযুর্গ বললেন, 'চিন্তা করে দেখো, মৃত্যুটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমাদের এই বেঁচে থাকাটা।” এই যে জীবন না চাইতে পেয়েছি এটাই হচ্ছে সত্যিকারের আশ্চর্যের বিষয়। তোমার যখন জন্ম হয়েছে তখন তুমি জান যে, তোমাকে মৃত্যু বরণ করতেই হবে। কিন্তু তোমার জন্মের আগে কি তুমি জানতে যে, তোমাকে এরকম একটা সুন্দর জীবন গ্রহণ করতে হবে? তোমার জন্মের আগে কি তুমি জানতে যে, সুখ-দুঃখ আর হাসিকান্না ভরা একটা পৃথিবী তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে? তাহলে কোনটা বেশী আশ্চর্যের বিষয়- জীবনটা না মৃত্যুটা? শিষ্য বললেন, "আমি বুঝতে পেরেছি।”
তাই প্রিয় ভাইয়েরা আমার! চিন্তা করে দেখুন এই যে আমরা বেঁচে আছি- এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। কিভাবে সম্ভব হলো এই জীবন? আমি কি মহান স্রষ্টাতে বিশ্বাস না করে পারি? স্রষ্টাতে যার বিশ্বাস নাই এই জীবনে বেঁচে থাকাতে তার কোনো আশ্চর্যবোধ নাই। যার আশ্চর্য বোধ নাই তার কোনো আনন্দ নাই। আর যে ব্যক্তি এই সুন্দর জীবন দানের জন্য স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানায়, শুকরিয়া আদায় করে তার মধ্যে আনন্দের ঝর্ণা বয়ে যায়। জান্নাতের শান্তি তার জন্য কায়েম হয়ে যায়। "আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আল-আমিন। আর রাহমানির রাহীম। .....”
এই জীবন যেমন কেউ চেয়ে পায়নি তেমনি না চেয়েও পায়নি। এ পৃথিবীতে কেউ নিজের ইচ্ছায় আসেনি তেমনি আসার ইচ্ছা ছিলনা বলেও আসেনি। আমার এই জীবন আমার আল্লাহর দান। আমার এই বেঁচে থাকা, আমার এই শরীর-মন, আমার জন্ম-মৃত্যু সমস্তই আমার আল্লাহর ইচ্ছা, আমার স্রষ্টার হুকুম যিনি সমস্ত বিশ্ব জাহানের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি প্রবল ক্ষমতাধর।
"তাহারা বলে, কে আবার আমাদেরকে একত্রিত করবে যখন আমাদের হাড়গুলি পচে গলে যাবে? বলুন, তিনি সেই আল্লাহ যিনি তাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি বিষয়ে সুনিপুণ-বিশেষজ্ঞ। (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ ঃ ৭৮-৭৯)
অবিশ্বাসীগণ মুহাম্মদ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করত যে, কে আবার আমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন আমাদের মৃত্যুর পর? এ প্রশ্ন শুধু মক্কার কাফেরদের নয়, চিরকালের কাফের-অবিশ্বাসী-নাস্তিকদের প্রশ্ন এটা। এ প্রশ্ন সকল যুগের মুর্খ থেকে মহাপন্ডিত অনেক মানুষকেই বিভ্রান্ত করেছে এবং করছে। এ এক চিরকালীন প্রশ্ন। তাই এ প্রশ্নের চিরকালীন উত্তর মহান আল্লাহ তায়ালা লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন মহাগ্রন' আল-কুরআনে বুদ্ধিমান মানুষদের বুঝবার জন্য।
ভাইয়েরা আমার! প্রশ্নটি যত কঠিন ও জটিল আমার আল্লাহর দেয়া উত্তরটি ততই সহজ ও সরল। মৃত্যুর পর কে আবার আমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন- এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন তিনি তাঁর নিজের ইচ্ছাতেই পুনরায় সৃষ্টি করবেন। ভেবে দেখুন কি দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর! যারা পুনরায় সৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন করে তারা কি প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে না? যারা প্রথমবার সৃষ্টির কথা বেমালুম ভুলে যায়, প্রথম সৃষ্টির ব্যাপারে যারা আশ্চর্য বোধ করে না তারা অবশ্যই জ্ঞানী হতে পারে না। প্রথম সৃষ্টির ব্যাপারে যারা আশ্চর্যান্বিত বোধ করে না, মহান স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করে না তারা কাফের। কারণ তারা নিজেরা নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে এসেছে বলে মনে করে।
"তারা কি স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্ট হয়েছে নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? নাকি ওরা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে?” (সূরা : তুর, ৩৫-৩৬)
তারা নিজেদেরকেই নিজেদের স্রষ্টা বলে মনে করে। নিজেদের সৃষ্টি সম্বন্ধে তারা সত্য অস্বীকার করেছে এবং মিথ্যা অবলম্বন করেছে তাই তারা কাফের বা সত্য গোপনকারী। আর সত্য গোপনকারীদের নিকট কখনও মহাসত্যের পথ উন্মোচিত হয় না। সত্য উন্মোচিত হয় সত্য অবলম্বনকারী বা মু’মিন ব্যক্তিদের নিকট যারা বিশ্বাস করে যে, আমাদের এই জন্ম-মৃত্যু সমস্তই আমাদের আল্লাহর ইচ্ছা, আমাদের স্রষ্টার হুকুম। তিনি সমস্ত বিশ্ব জাহানের মালিক। তিনি সৃষ্টি ও ধ্বংসের মালিক। তিনি পুনরায় সৃষ্টি করার মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি প্রবল ক্ষমতাধর।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন এবং পথ প্রদর্শন করুন। আমাদের সকলের উপর তিনি তাঁর রহমত নাযিল করুন। আমীন। আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28920103 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28920103 2009-03-04 22:36:47
লাল-নীল কাপড়ের গোয়েন্দা "ক্লূ" ঃ যত কয় তত নয়।
লাল, নীল, সাদা কাপড় পাওয়াটিকে যত বড় গোয়েন্দা 'ক্লু" বলে প্রচার করা বা মনে করা হচ্ছে আদৌ তা নয়। ওগুলি ছিল অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মাঠে ও রাস্তার দুপাশে লাগানো রং বেরংয়ের ডেকোরেশন ফ্লাগ। জোয়ানরা সেগুলিই মুখ বাঁধার কাজে ব্যবহার করেছে। আহত এক বিডিআর সৈনিক (হাসপাতলে চিকিৎসাগ্রহণরত) এক টি.ভি সাক্ষাতকারে বলেছে। যদিও সাক্ষাতকারটি এক মিনিটেরও ছিল না। ..
কেন জানিনা, ছোট এই ব্যাপারটিকে বিরাট একটি গোয়েন্দা "ক্লু" হিসেবে সবাই প্রচার করছে। সেনা অফিসার থেকে শুরু করে বড় বড় রথী মহারথী আলোচকরাও লাল-নীল কাপড়েরর বিষয়টাকে বিরাট এক "ক্লু" বলে প্রচার করছেন।
পুরা ব্যাপারটিই সেরকম নয় তো?

হত্যাযজ্ঞ সমর্থন করার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু ব্যাপারটিকে পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে যেসব সূত্র ধরে সেইসব সূত্র বা কারণগুলি এপ্রোচ করাটা সঠিক হচ্ছে তো?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28918335 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28918335 2009-03-01 09:32:57
সাদা পদ্ম লাল দেখায় কখন ? জীবনে সফলতা আসে কখন?
বর্তমান সমস্যাটা কি আদৌ কোনো সমস্যা না-কি তা আমার ভুল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার ফল? এটা অধিকতর ভাল কিছু নয় তো?

আপনি জানেন সবকিছু নির্ভর করে আপনি কিভাবে কোনোকিছুকে গ্রহণ করছেন তার উপর। ... ... আপনি যা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন তার মূলে রয়েছে আপনি কিভাবে সবকিছুকে গ্রহণ করেন তার উপর। এটাই (দৃষ্টিভঙ্গি) আপনি যাকিছু করেন তাতে ইতি-নেতি পার্থক্য তৈরী করে। সবকিছুতে। শুনুন, যখন আমি বড় হয়ে উঠছিলাম এবং এমনকি আমার পরিণত বয়সেও আমি যেকোনো কিছু নিয়ে 'চিরসুখী’ হয়ে উঠতাম। অবশ্য সেগুলি কখনই বেশীদিন টিকত না। আমি সবসময় ভাবতাম যদি আমি ভিন্নধরনের সঙ্গ পেতাম .. মনে হত আমি কখনই সঠিক কথা উপস'াপন করতে পারছি না। আমি সবসময় চাইতাম পথের ধারের সবকিছুই। আমি অন্য কেউ হতে চাইতাম। আমি কখনই স্বসি- বোধ করতাম না। আপনি লক্ষ্য করেছেন কি এইমাত্র আমি যাকিছু উল্লেখ করলাম তা কোনোকিছুই বাস-ব কোনো বিষয় নয়। সেগুলি ছিল সবই আমার মাথার মধ্যে। কেবলই আবেগ। .. নিরেট আবেগ। চিন-ামাত্র। চিন-া কি কখনও বাস-ব হতে পারে? হ্যাঁ, তা আপনি এখন যে চেয়ারে বসে আছেন সেই চেয়ারের মতই বাস-ব। আমি নিজেও বিষয়টি বহুদিন যাবৎ বুঝতে পারি নি। এবং বেশীরভাগ মানুষই কবর পর্যন- চলে যায় কি চিন-া কিভাবে করে তা না জেনে বুঝেই। কিন' যখন আমি চিন-ার শক্তি সম্পর্কে শিক্ষা নিলাম আমার জীবনের সবকিছুই আমুল বদলে গেল। আমার সমস্যা আর সমস্যা থাকল না। তা হয়ে উঠল চ্যালেঞ্জ। আমি এসব সম্পর্কে আগেই জানতাম যেমনটি, আমি নিশ্চিত, আপনিও জানেন। কিন' অবশেষে যখন তা আমার মধ্যে স'ায়ী হয়ে গেল এবং আমি নিজেই আবিস্কার করলাম যে আমাদের চিন-া কিভাবে আমাদেরকে গড়ে তুলতে পারে আবার ভেঙ্গেও ফেলতে পারে, আমি তখন আর আগের মত থাকলাম না। তখন আমি যা-ই করতেছিলাম তাতেই উন্নতি করতে লাগলাম। আমি আশা করি এ শিক্ষা পেতে আমাকে যেসব কিছুর মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে চুড়ান- শিক্ষা পেতে আপনাকে তা করতে হবে না। আজকের কর্মময় দিন; এবং আমি আশা করি আজকের দিনটিই আপনার জন্য দিনবদলের দিন হোক.. আজকের এ কর্মময় দিন; আপনার পিঠের উপরের বিরাট বোঝাটি ক্ষুদ্র একটি বাদামের দানার মত হালকা হয়ে যাবে। যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ব্যাপারটিকে অত্যন- কমই গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। আপনি এখনই করতে পারেন এমন কিছু কাজের কথা বলা গেল, বাঁকীটা আজ কি আগামী কাল কি আপনার পরবর্তী সমস- দিনগুলির জন্য। যখনই মনে হবে আপনি কোনো সমস্যায় পড়েছেন আপনি সে সমস্যার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। এটা কি আসলে কোনো সমস্যা না-কি তা একটি চ্যালেঞ্জ। সেরকম সময়ে (এবং সেরকম সময় প্রতিদিন হাজারবার আসবে) আপনার লক্ষ্য থাকবে এই প্রশ্নটি করা: এটা কি সেরকমই আর একটা চ্যালেঞ্জ নয় যা আমি প্রায়ই সম্মুখীন হতে থাকব? নিজেকে বিরতিহীনভাবে এ প্রশ্নটি করতেই থাকুন। 'বিরতিহীনভাবে’ বলেছি এজন্য যে, চ্যালেঞ্জ মাঝে মাঝে বিরতিহীন দ্রুততার সাথেই হাজির হয়ে থাকে। তাই নয় কি? বজ্র-ঝড়ের মত। আপনি বলবেন, 'তা তো বুঝলাম। কিন' ঐ লোকটি- আমার সমস্যা, আমার ছেলেপিলে- আমার সমস্যা, আমার বাড়ীওলা- আমার সমস্যা, চাকুরীতে আমার ওপরওলা- আমার সমস্যা। আমি এসব ব্যাপারে কিছুই করতে পারছি না! আমি আর পারছি না!’’ ঘুরে দাঁড়াও! আপনি কেবল তখনই পারবেন সবচে খারাপ অবস'াকে বদলে দিতে যদি শুধু নিজেকে বলেন, “ঘুরে দাঁড়াও”! সেগুলি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। সেগুলি আসলেই তাই। যদিও আপনি সেইভাবে চিন্তা করছেন না তাই বলে সেগুলি যে চ্যালেঞ্জ এই সত্যটি বদলে যায় না। সেগুলি হচ্ছে পরীক্ষা .. আপনার জন্য পাশ ফেলের পরীক্ষা। যদি আপনি পাশ করেন তবে আপনার উন্নতি হবে। যদি আপনি ফেল করেন তবে আপনি হতাশ হবেন এবং ঐ একই ঘটনা ঘটতে থাকবে। এ-ই হচ্ছে জীবন। এই সত্য, এই তথ্য, অস্বীকার করার উপায় নাই। এইভাবে দেখাটি যেন একটি পরিচ্ছন্ন ঘের কাঁচের ভিতর দিয়ে সবদিক থেকে দেখার মত। এভাবে আপনি সত্যটি দেখতে পারবেন। আপনার প্রতি এমন কিছু ঘটবে না যা আপনার বহন ক্ষমতার চেয়ে বেশী। আপনি যে কোনো কিছুই লাভ করতে পারবেন। যদি আপনি সত্যিকারের অনর্-দৃষ্টির উদাহরণ চান তবে ক্রিস্টোফার রিভ্‌ কে দেখুন। ইনি সুপারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এখন তিনি শরীরের একটি পেশীও নড়াতে পারেন না। তিনি দুইটি বই লিখেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে এমন সব চ্যালেঞ্জ জয় করার ব্যাপারে আশাবাদী করেছেন যা তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া চ্যালেঞ্জের চেয়ে অনেকাংশেই সহজ। যদি আপনি একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে চান, যদি সত্যিকারের বিপুল কোনো লক্ষ্যে পৌঁছতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার পথের বাধাগুলিকে সঠিক নিরিখে দেখে নিতে হবে। সেগুলিকে দেখতে হবে উন্নতির সোপান হিসেবে। এবং আপনার সচেতনতা থাকতে হবে যে, যখনই আপনি কোনো কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে শুরু করবেন তখনই আপনাকে লক্ষ্যভেদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে- দু্রত। বাধাকে আপনি লাফ দিয়ে ডিঙ্গাতে পারবেন না। বাধা যদি ডিঙ্গাতেই হয় তবে গুঁড়ি মেরে এগিয়ে যান কিন' কব্জা করে ছাড়-ন.. এবং চালিয়ে যান। এইভাবে এগুনো ছাড়া সমস্যামুক্ত সুখাচ্ছন্ন জীবন লাভ করার চিন-া করা বাতুলতা মাত্র। আমাকে বিশ্বাস করুন। আমি জানি। আজকের জন্য সুখী হতে পছন্দ করুন। আগামীকালের জন্য ভাবনা ছেড়ে দিন। আগামীর জন্য প্রস'ত হোন কিন' ও নিয়ে মগ্ন হবেন না। কেবলমাত্র আজকের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবেলা করুন এবং হাসুন। সবকিছু সবসময় আপনি যেভাবে চান সেভাবে ঘটবে না। প্রায়ই এমন সময় আসবে যখন মনে হবে কোনো কিছুই ঠিকমত চলছে না। সেগুলিকে স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করুন। তাহলেই যখন পরিসি'তি যখন বাগ মানতে চায় না তখন আপনি স্বচ্ছভাবে চিন-া করতে পারবেন এবং একমুহুর্ত সময়ও আকুল কান্নায় নষ্ট না করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান- নিতে পারবেন। কারণ আপনার পরবতী সিদ্ধান-টিই হয়তবা চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে তাকে বিজয়ে পরিণত করে দিতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914663 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914663 2009-02-22 12:57:17
কোয়ান্টাম মেকানিক্স ঃ বাই চান্স??
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পারমানবিক পর্যায়ে আমাদের এই ভৌত জগতটি, আমরা যতটা নিশ্চয়তামূলক বলে মনে করি, আদপে তা নয়। পারমানবিক পর্যায়ে এই ভৌত জগতটি একই সঙ্গে একাধিক সম্ভাবনা ধারণ করে। সেখানে একটি পরমানুর কোনো নিদির্স্ট মুহুর্তের অবস্থান নিশ্চয় করে বলা যায় না- শুধু বলা যায় ঐ মূহুর্তে পরমাণুটির কোন স্থানটিতে অবস্থান করার 'সম্ভাবনা", লক্ষ্য করুন "সম্ভাবনা"- সবেচেয়ে বেশী। এই "সম্ভাবনা" নির্ণয়ের বিদ্যাই হচ্ছে 'কোয়ান্টাম বলবিদ্যা"।

এ থেকে একটা বিতর্ক তৈরী হয় যে, পারমানবিক জগতের এই সামান্য অনিশ্চয়তা বৃহত্তর ভৌত জগতে বড় ধরনের বিকল্প সম্ভাবনা তৈরী করতে পারে কি-না। অর্থাৎ আমাদের এই বাস্তব জগতটিতে "চান্স" বা "দৈব" র একটি ভূমিকা আছে কি-না। ইত্যাদি..

ভালো থাকুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914382 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914382 2009-02-21 20:10:26
পরিবার ব্যবস্থার কী দরকার? তবে পরিবার প্রথার মৌলিক রূপটি এক থাকলেও যুগে যুগে তার চেহারাটি বিভিন্ন দিকে গতিপ্রাপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলেছে। যেমন বর্তমান যুগের ধারায় দেখা যাচ্ছে বড় পরিবারগুলি ভেঙ্গে ছোট ছোট একক পরিবার তৈরী হচ্ছে আর নারীরা পূর্বের তুলনায় বর্তমানে বিপুল সংখ্যায় বাড়ীর বাইরের কর্মজগতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে। পরিবার গঠনের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন (অথবা বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কয়েকজন) স্ত্রী প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার ও কিছু নিয়ন্ত্রিত আচরণ মেনে চলার অঙ্গীকার করে। এটা হচ্ছে পরিবারের মৌলিক রূপ। কিন্তু পরিবারে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসরত দুজন নারী-পুরুষের দায়দায়িত্ব ও অধিকারের ক্ষেত্রটি বিভিন্নযুগে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক-অর্থনৈতিক টানাপড়েনের দ্বারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। যেমন সামন্তযুুগে বা জমিদারী যুগে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীরাও বাড়ীর বাইরে কৃষি জমিতে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিল। কারণ জমিদারী যুগে সাধারণ মানুষ কোনো জমির মালিক হতে পারত না। একজন সাধারণ মানুষের যত অর্থ সম্পদই থাকুক না কেন তিনি কোনো ভূমির মালিক হতে পারতেন না। কারণ তখন জমি বিক্রয়ের বা ব্যক্তি মালিকানায় ভূমি প্রদানের কোনো নিয়ম ছিল না। লোকেরা বার্ষিক খাজনার ভিত্তিতে ভূস্বামী বা জমিদারের নিকট থেকে জমি ভোগের অধিকার পেত কিন্তু জমির মালিক হতে পারত না। তাছাড়া সে সময়ে টাকার প্রচলন এখনাকার মত এত বেশী ছিল না। সাধারণ জনগণের হাতে নগদ টাকা খুব কমই থাকত। লোকেরা জমিতে উৎপাদিত ফসলের দ্বারা জমিদারের খাজনা পরিশোধ করত। ফলে জমিতে যারা যত বেশী ফসল উৎপাদন করতে পারত তারা জমিদারকে তত বেশী খাজনা দিতে পারত আর পরবর্তীতে তারা তত বেশী জমি ভোগের অধিকার পেত। এভাবে সে যুগে মানুষের প্রধান লক্ষ্যই ছিল জমিতে বেশী বেশী ফসল উৎপাদন করা। আর সেই ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সুবিধার চেয়ে শারীরিক শ্রমই প্রধান ছিল। তাই বেশী বেশী ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যরা সকলে মিলে অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী-সন্তানাদি সকলে মিলে মাঠের কাজে লেগে পড়ত। এভাবে সামন্তযুগে বা জমিদারী যুগে স্বামীদের সাথে স্ত্রীরাও বাড়ীর বাইরে মাঠের কাজে কঠোর পরিশ্রম করত।
তারপর এলো শিল্পযুগ। এ সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে হঠাৎ করেই কলকারখানার ব্যাপক বিস্তার ঘটল। শারীরিক শ্রমের বদলে পাওয়ার-ইঞ্জিন (ঢ়ড়বিৎ বহমরহব) দ্বারা কলকারখানার চাকা ঘুরতে লাগলো। উৎপাদনের গতি বাড়ল। কারখানা মালিকের লাভ বাড়ল। অপরদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ল। আগে যেখানে ১০০ টা তাঁতের কলে ১০০ জন তাঁতী শারীরিক শ্রম ব্যবহার করে কাপড় উৎপাদন করত। শিল্পযুগে এসে সেখানে ১ টা মেশিনেই ১০০ টা তাঁতের কাজ হতে লাগল। ১০০ জন তাঁতী বেকার হয়ে পড়ল। আর তাদের মধ্যে ১ জন হয়ত শিল্প কারখানার বেতনভোগী শ্রমিক হিসেবে চাকুরী পেল। এভাবে শিল্পযুগে এসে শতকরা ১ জন লোক কারখানার বেতনভোগী শ্রমিকে পরিণত হল। পক্ষান্তরে শতকরা ৯৯ জন লোক হয়ে পড়ল বেকার। যেখানে শতকরা ৯৯ জন লোক উৎপাদনমুখী কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেকার হয়ে পড়ল সেখানে নারীদের বাড়ীর বাইরের উৎপাদনমূলক কাজে জড়িত হওয়ার মোটেই কোনো সুযোগ থাকলো না। ফলে শিল্পযুগে নারীরা পুনরায় ঘরের কাজে আবদ্ধ হয়ে পড়ল। এ অবস্থা চলতে লাগলো বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর অল্প সময়ের ব্যবধানে দু'টি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলো। বিশ্বের প্রধান দেশগুলি দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যুদ্ধে উন্মত্ত হয়ে উঠল। ছোট ছোট দেশগুলি কোনো না কোনোভাবে এই দুই দলের এক দলে যোগ দিতে বাধ্য হলো। কেউ কেউ নামে মাত্র নিরপেক্ষ থাকতে চেষ্টা করলেও প্রকৃতপক্ষে সমস্ত বিশ্বই যেন দুভাগ হয়ে যুদ্ধে মেতে উঠেছিল। যদিও সভ্যতার ইতিহাসে দুটি বিশ্বযুদ্ধের স্থিতিকাল অল্পই ছিল কিন্তু ঘটনা হিসেবে তা ছিল যুগান্তকারী। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী যুগ থেকে যুদ্ধ-পরবর্তী যুগের মানুষের ধ্যান-ধারণা, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ ও আচার আচরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়ে গেল সম্পূর্ণ বিপরীত। বিশ্বযুদ্ধের মত জঘন্য ঘটনাটির মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেল যে, ক্ষমতা ও স্বার্থের লোভে মানুষ কতটা নিষ্ঠুর ও অবিবেচক হতে পারে। কতটা অবলীলায় বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। কতটা নিপুণ-নিষ্কম্প হাতে মানববিধ্বংসী অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। যুদ্ধপূর্ব যুগে সদ্‌গুণ সম্পন্ন প্রাণী হিসেবে মানুষের যে পরিচয় ছিল বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে সে পরিচয় ধূলিসাৎ হয়ে গেল। মানুষে মানুষে ভালবাসা এবং মানব মনের কোমল দিক সম্পর্কে যে আস্থা ছিল তা ভেঙ্গে গেল। যুদ্ধ-পরবর্তী যুগে মানুষে মানুষে সন্দেহ আর অবিশ্বাসই যেন সত্য হয়ে দেখা দিল। আর দশটা প্রাণীর মত মানুষের মধ্যেও হিংসা, ঘৃণা, লোভ, ক্রোধ আছে তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নেয়া হল। সাহিত্যের ভাষায় এ ঘটনাকে বলা হয় উরংরষষঁংরড়হসবহঃ বা ‘মোহভঙ্গ’। মানুষের ভাল ভাল গুণাবলী সম্পর্কে যে অবাস্তব কল্পনা বা ‘মোহ’ ছিল তা যেন ভেঙ্গে গেল। পুরাতন আদর্শবাদী মূল্যবোধগুলি ভেঙ্গে নতুন আধুনিক বাস্তববাদী মূল্যবোধ গঠিত হতে লাগলো। নতুন এই মূল্যবোধগুলি ছিল মধ্যপন্থী এবং জীবনঘনিষ্ঠ। নতুন এই মূল্যবোধের বিচারে দেখা গেল মানুষ যেমন সর্বগুণের আধার কোনো স্বর্গীয় প্রাণী নয়, তেমনি মানুষ আবার পশুও নয়। মানুষ যদি সর্বগুণের আধার স্বর্গীয় কোনো প্রাণী হতো তবে পরপর দুটি মানবধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতো না। আবার সে যদি আর দশটা পশুর মত একটা পশু হতো তবে সভ্যতার ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সেই ভয়ংকর বিশ্বযুদ্ধ থামত না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। যুদ্ধাক্রান্ত মানুষের কান্না, আহাজারি আর সভ্যতার অনিশ্চিত ভাবিষ্যত ভেবে মানুষ যুদ্ধ ছেড়ে আবার শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বে শান্তি পুনঃস্থাপিত হয়েছে। গঠিত হয়েছে বিশ্বের রাষ্ট্রগুলির সম্মেলন কেন্দ্র জাতিসংঘ। গৃহীত হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের নীতি। তাই যুদ্ধ পরবর্তী যুগে এসে বলা হল মানুষ স্বর্গীয় প্রাণীও নয় আবার সে একেবারে পশুও নয়। মানুষ মানুষই। এভাবে শুধু জগতে মানুষের অবস্থান সম্পর্কেই নয়, নারীর অধিকার সম্পর্কে, নারী-পুরুষ বৈষম্য সম্পর্কে, পরিবারে উভয়ের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে পুরাতন মূল্যবোধ ভেঙ্গে নতুন আধুনিক জীবনঘনিষ্ঠ মূল্যবোধ গঠিত হতে লাগলো। সেই নতুন মূল্যবোধের নিরিখেই প্রশ্ন দেখা দিল নারীরা কেন অফিস আদলত-কলকারখানা-ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার পাবে না। এ প্রশ্নের জবাবে সকলেই যেন একটা উদার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করল। ফল হিসেবে যুদ্ধপরবর্তী যুগে অফিস-আদলত-ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বাইরের কর্মজগতের সর্বত্র পুরুষের পাশাপাশি নারীর সদর্প উপস্থিতিকে মেনে নেওয়া হল। এভাবে যুদ্ধপরবর্তী যুগে নারীরা বাইরের কর্মগজতে তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে লাগলো (মূল বইয়ের ১২ পৃষ্ঠার মাঝের চিত্র দ্রস্টব্য)। কর্মজীবি নারীরা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবে পরিবারে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে লাগলো। পুরুষের পাশাপাশি সকল কর্মে নারীর যোগ্যতাও প্রমাণ হলো। ফলে ‘পুরুষের কাজ’ আর ‘স্ত্রীলোকের কাজ’ বলে কোনো ভোদভেদ থাকলো না। পরিবারে ‘স্বামীর কাজ’ আর ‘স্ত্রীর কাজ’ বলে দু’ধরনের কাজের সীমারেখা থাকলো না। সময়, সুযোগ, সুবিধা সর্বোপরি পরিবারের কল্যাণের প্রয়োজনে সংসারের সব ধরনের কাজ উভয়ে মিলেই করতে লাগল (মূল বইয়ের ১২ পৃষ্ঠার ডান পার্শ্বের উপরের চিত্র)। আধুনিক যুগে পরিবর্তনশীল পারিবারিক গতিধারার আর একটি লক্ষ্যণীয় বৈশিষ্ট্য হল বড় পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া। শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে এটা হচ্ছে বলে মনে হয়। কোনো একটি স্থানে একটি নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন হলে সেই কারখানায় দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করতে আসবে। একসময় তারা চাইবে তাদের দূরবর্তী যৌথ পরিবার ছেড়ে কারখানার নিকটস্থ এলাকায় এসে শুধু নিজের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একক পরিবার গড়তে। আবার নগরায়নের ফলে একটি পশ্চাদপদ জায়গায় নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ঐসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা সকলেই একইভাবে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে তুলবে। উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাচ্ছে। আত্মীয়তার বন্ধন কমে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে। অবশ্য বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ার অর্থ পরিবার প্রথা উঠে যাচ্ছে তা নয়। এর অর্থ পরিবারের স্থিতিশীলতা কমে যাচ্ছে। বিবাহ বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এক পরিবারের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ঐ স্বামী/স্ত্রী পুনরায় অন্যত্র বিবাহের মাধ্যমে নতুন পরিবার গঠন করছে। বলা যায় বর্তমানে উন্নত বিশ্বে পরিবার প্রথা একটি অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। অন্যদিকে ইউরোপ আমেরিকার মত অতি উন্নত পশ্চিমা দেশগুলিতে বিবাহ প্রায়ই ভেঙ্গে যায়। সেসব দেশে নারী এবং পুরুষ উভয়ের সমান অর্থনৈতিক ক্ষমতা, উভয়ের স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাতকেই এর কারণ হিসেবে মনে করা হয়। সেসব দেশে এমন ঘটনার কথাও শোনা যায় যে, বিছানার চাদরের রং কেমন হবে তা নিয়ে উভয়ে একমত না হতে পারায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। শিক্ষাদীক্ষায়, অর্থনৈতিক ক্ষমতায় সমান স্বামী এবং স্ত্রীর মাঝে সামান্য বিষয়ে পছন্দ ও রূচিবোধের অমিল হলেই ব্যক্তিত্বের সংঘাত বেধে যায়। পশ্চিমা দেশের এসব ভাঙ্গনমুখর পরিবারের সন্তানেরা প্রচন্ড মানসিক সমস্যার মধ্যে পড়ে। পশ্চিামাবিশ্ব সুস্থ্য পারিবারিক ধারায় ফিরে না আসতে পারলে শীঘ্রই মানসিক রোগগ্রস্ত একটি উন্মত্ত প্রজন্মের মুখোমুখি হবে কি-না তা ভবিষ্যতই বলতে পারবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914354 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28914354 2009-02-21 18:39:05
ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক তবুও বসন্ত আজ। আর আজ ব্লগে ধীর গতির আলাপ সালাপের কারণ কি? সবাই কি বসন্ত উদযাপনে কায়মনে ব্যস্ত? কায়া ও মন উভয় নিয়েই ছুটছে স্বজন বান্ধবদের কাছে। আর আমরা গুটিকয় ভাগ্যহীন এখানে বাণী দিচ্ছি?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28910723 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28910723 2009-02-13 20:35:25 ইসলামী চেতনা ও সংস্কৃতি ঃ একুশ শতকীয় পাঠ-১ আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজ্বীম।
বিস্‌মিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সুরা বাকারা, ২০:২৯) আলহামদুলিল্লাহ! তিনি সেই মহান আল্লাহ যিনি আমাদেরকে এখানে একত্রিত করেছেন। তিনি সেই মহান সত্ত্বা যিনি বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তাঁর মহত্ব ও অনুগ্রহের কথা। তিনি সেই মহান সত্ত্বা যিনি মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সৃষ্টিরহস্যের কথা। তিনি সেই করুণাময় সত্ত্বা যিনি ঘোষণা করেছেন নিজেই নিজের মহত্বের কথা। তিনি সেই মহান আল্লাহ যিনি তাঁর প্রেরিত কিতাবে বারবার ঘোষণা করেছেন নিজের বড়াইয়ের কথা। যাতে করে মানুষ ভুলে না যায় যে, বড়াই একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব উপলব্ধি করার জন্য। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর করুণা ও মহিমা অনুসন্ধান করার জন্য এবং তাঁর এবাদত করার জন্য।
সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আল আমিনের প্রতি যিনি নিজের বড়ত্বের কথা নিজেই ঘোষণা করেন। তিনি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি বিশ্বজগতের স্রষ্টা। তিনি অনুগ্রহ করে মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি মানুষের স্রষ্টা যাতে করে মানুষ এই পৃথিবীতে তার প্রকৃত অবস্থানের কথা ভুলে না যায়। যাতে করে মানুষ স্রষ্টার মত অহংকারী হয়ে না উঠে। কারণ অহংকার এবং বড়াই একমাত্র আল্লাহর জন্য। আর মানুষের জন্য কল্যাণ হচ্ছে আল্লাহর এবাদতের মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করা। আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করে তাঁর কিতাবে মানুষকে বারবার চিন্তা-ফিকির করার তাগিদ দেন কারণ ফিকির ছাড়া মানুষ খুব সহজেই নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায় এবং অহংকার করতে শুরু করে। ফিকির ছাড়া মানুষ স্রষ্টার মত অহংকারী হয়ে ওঠে। তখন সে হয় স্রষ্টার নিকট বেঈমান আর মানুষের নিকট অন্যায়কারী। তাই ফিকির ছাড়া ঈমান নাই, ঈমান ছাড়া হেদায়াত নাই, হেদায়াত ছাড়া জান্নাত নাই, জান্নাত ছাড়া শান্তি নাই। নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে যে মানুষ চিন্তা করে না সে যেন নিজেকে জাহান্নামের অন্ধাকরের মধ্যে লুকিয়ে রাখল। আর যে মানুষ নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করল সে যেন আল্লাহর তাগাদাকে পূরণ করল এবং সে যেন জান্নাতের বাগানে ফুল হয়ে ফুটে উঠল। তার ঈমান যেন আল্লাহর শক্তিতে শক্তিমান হয়ে উঠল।
পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, আধিপত্য তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। (সুরা তাগাবুন ৬৪:১)
প্রতিপালক তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন এরপর পথ প্রদর্শন করেছেন।” (সুরা তাহা ২০:৫০)
আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে হেদায়াত নসীব করুন। আমীন। আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28910717 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28910717 2009-02-13 20:22:35
http://groups.google.com/group/uttoronmagazine সত্যিই দারুণ। আপনার পছন্দ হবেই। ভাল লাগবে আশা করি। একবার ভিজিট করুন। অন্যদেরকে ইনভাইট করুন। ঠিকানা- http://groups.google.com/group/uttoronmagazine]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28900543 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28900543 2009-01-21 20:28:17 বাংলা ভাষার প্রথম আত্ম-উন্নয়ন বিষয়ক ম্যাগাজিন। ভিজিট প্লিজ। আশা করি ভাল লাগবে। সত্যিই দারুণ। আপনার পছন্দ হবেই। ভাল লাগবে আশা করি। একবার ভিজিট করুন। অন্যদেরকে ইনভাইট করুন। ঠিকানা- http://www.geocities.com/uttoronmagazine
পুন: পোস্ট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28900540 http://www.somewhereinblog.net/blog/mohajagotik/28900540 2009-01-21 20:11:55