আমার প্রিয় পোস্ট

কচ্ছপ ও বানরের গল্প

১৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:৩৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

একদিন এক বানর খুব মন খারাপ করে নদীর পাড় ধরে হাঁটছিলো। নদীর পারে রোদ পোয়াচ্ছিলো এক কচ্ছক। সে জিজ্ঞেস করলো, "কি বানর ভাই, মন খারাপ কেন?"

ঃ আর বলো না কচ্ছপ, চাষীরা সব কলাগাছ উপড়ে ফেলেছে, খাবার কিছুই নেই, তাই মনের দুঃখে নদীর পারে হাঁটছি _ বানরের দু'চোখ দিয়ে অশ্রম্ন ঝরে।

বানরের দুঃখে কাতর হয়ে সরলমনা কচ্ছপ বললো, "আহা আহা কাঁদছো কেন ভাইয়া। চলো আমরা নিজেরাই কলার চাষ করিগে। কিছুদিন সবুর করলেই দেখবে আমরা নিজেদের ফসল নিজেই খেতে পারছি"।

ঃ আচ্ছা চলো তাহলে।

বানর এবং কচ্ছপ একসঙ্গে বনে গেলো এবং নষ্ট করা কলাগাছগুলো গোড়া তুলে আরেক জায়গায় এনে বুনতে চাইলো। কিন্তু বানর ভাবলো, তার জন্য যেহেতু গাছে চড়া সহজ সেহেতু কোনও উঁচু গাছের মাথাতেই কলাগাছ বুনলে কচ্ছপ আর তাতে ভাগ বসাতে পারবে না। যে কথা সেই কাজ। সে করলো কি কলাগাছের গোড়াটি রেখে এলো নারকোল গাছের মাথায়।
কিন্তু কচ্ছপ তার গাছটি সুন্দর করে মাটিতে পুঁতে দিলো।

কিছুদিন যাওয়ার পর দু'জনে আবার ফিরে এলো তাদের লাগানো কলাগাছ দেখতে। বানর দেখলো তার গাছটি জন্মায়নি, গাছের মাথায় কলাগাছ হয় নাকি? কিন্তু কচ্ছপের কলা গাছগুলি শুধু বড়ই হয়নি, বরং কাদি কাদি পাকা কলা ঝুলছে সেসব গাছে। বানর তর তর করে গাছে উঠে সেগুলো মহানন্দে খেতে লাগলো। নিচে বসে কচ্ছপ বললো, "বানর ভাইয়া, আমাকে একটু দাও না, আমার সামান্যেই চলে যায়।"
কিন্তু বানর কি আর কচ্ছপকে মনে রাখে, তার ধর্মই হলো অন্যকে ধোঁকা দেওয়া। যাহোক বানরের এই কর্মে কচ্ছপের খুব রাগ হলো। কচ্ছপ মনে মনে ভাবলো কি করে বানরকে একটা শিৰা দেওয়া যায়। ভাবতে ভাবতে বুদ্ধিও বের করলো।

বানর যখন গাছে বসে পাকা কলা খেয়ে গাছের মাথায় কলা-ঘুম দিচ্ছে কচ্ছপ তখন ধীরে ধীরে অনেকগুলো চোখা বাঁশ এনে গাছের নিচে খাড়া করে পুঁতে দিলো। তারপর হঠাৎ করেই চেঁচিয়ে উঠলো. "কুমির আসছে, কুমির আসছে" বলে। কচ্ছপের চিৎকারে হঠাৎ ভয়ে বানরের ঘুম ভেঙে গেলো এবং বানর সোজা পড়লো এসে গাছের নিচে পূঁতে রাখা চোখা বাঁশের ওপর, আর কি, বানর অক্কা পেলো। কচ্ছপ তখন বানরকে টুকরো টুকরো করে তার আরও স্বজাতির কাছে গিয়ে বিক্রি করে এলো। এবং আসার সময় একথাও বলতে ভুললো না যে, তোমরা এখন তোমাদের স্বজাতির মাংস খাচ্ছো।

কচ্ছপের এই আস্পর্ধা দেখে বানররাজ খেপে গেলো, তারা বেসবল ব্যাট ট্যাট নিয়ে কচ্ছপকে মারতে এলো। তারা প্রথমেই কচ্ছপকে মারতে গেলে খোলের ভেতর থেকে কচ্ছপ হাসতে লাগলো আর বলতে লাগলো, "আমার খোলশ ভেঙে আমাকে মারার সাধ্য তোমাদের নেই হে বানর"। এসময় এক বুদ্ধিমান বানর বললো, "চলো ওকে ধরে পানিতে ফেলে আসি"। এর কথা শুনে কচ্ছপ মায়াকান্না কেঁদে উঠলো, " না ভাই আমাকে পানিতে ফেলো না, আমি মরে যাবো গো. . . "। কিন্তু কচ্ছপের কান্না ওরা শুনলো না, ওরা কচ্ছপকে ধরে পানিতে ফেলে নদীর পারে দাঁড়িয়ে জটলা করতে লাগলো।

কচ্ছপ তলিয়ে গেলো আবার কিছুৰণের মধ্যে ভুক্ করে ভেসে উঠলো একটি বিশাল লবস্টার নিয়ে। সেই লবস্টার দেখেতো বানরদের জিভে জল এলো, তারা জানতে চাইলো "কচ্ছপ ভাইয়া, এতো বড় লবস্টার কি করে ধরলে?" কথায় তখন গুড় মেশানো।

ঃ বলবো কেন? - কচ্ছপ দাম বাড়ায়।

ঃ বলোই না, আমরা তোমাকে প্রতিদিন একটি করে লবস্টার ধরে খাওয়াবো, তোমাকে আর বাকি জীবন কোনও কষ্ট করতে হবে না। বলো না _ বানরদের সম্মিলিত কণ্ঠ।

ঃ আচ্ছা এতো যখন বলছো তখন বলছি কিন্তু তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করো না, দেখো।

ঃ না না তুমি বলো কচ্ছপভাইয়া।

ঃ তবে শোনো, আমি আমার হাতেপায়ে পাথর বেঁধে জলে ডুব দিয়েছি, আর সঙ্গে সঙ্গে লবস্টার আমাকে খেতে এলে আমি ওকে ধরেই উপরে উঠে এসেছি।


কচ্ছপের কথা শেষ হওয়া মাত্র বানরেরা তাদের হাতে পায়ে বড় বড় পাথর বেঁধে জলে ঝাঁপ দিলো। কিন্তু আর উঠতে পারলো না।

শোনা যায়, বানরদের সেই প্রজাতি-দোষ এখনও রয়ে গেছে এখনও তারা মানুষের বিরম্নদ্ধে বার বার এরকম ক্থটচাল চালে আর নিজেরাই হরে-দরে মরে।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ২৭০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: হুমমম...কিন্তু এই বাঁদুরে গপপো কি আর বাঁদরের চোখে পড়বে ? মরাল অফ দি স্টোরি মাথায় ঢুকবো না, কোনদিন ঢুকে নাই :(
২. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: অরূপ করেছি, এবার দেখুন, ঠিক আছে?
৩. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ২:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: পনার বান্দর আমার বান্দরের চাইতে সাহেবী বান্দর। লবস্টার খায়। ভাল হয়েছে।
৪. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আশ্চর্য তীরন্দাজ, বানর তো এখন আইফেলেও উঠছে, আর ফরাসি ললনা-সানি্নধ্যেও আছে।
৫. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: টাচে আছে ! বলেন কি ?
৬. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: কোনটার মধ্যে য়ে মন্তব্য করি বুঝে পাই না। পুরনো জিনিষ রিমিক্স হলে য়ে মন্দ হয়না, আপনার গল্প তারও প্রমান। কিন্ত ভাই, ললনাদের কথা কি জানি বল্লেন, েকটু খোলাসা করে বলেন না, শুনিয়া পরানডা জুড়াই...। এই অধমের দিকে তো কোন ললনাই তাকাইলোনা, দুষ্ক কোথায় লুকাই? ইচ্ছে হয় রাইনে ডুবি, মাগার পানি এত্ত ঠান্ডা, মরার আগেই মনে হয় জইমা জামুগা...। আপনার সিরিজের 4র্থ খন্ড নামতেছে না কেন?
৭. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আশ্চর্য প্যারি'র রাস্তা দিয়া যে হাঁটে সে বুঝি চোখ বন্দ কইরা রাখে? আর চোখ খুলা রাখলে কি যেনো শপ আছে না সেইখানেও চোখ না যাইয়া পারে? প্যারি কি জন্য বিখ্যাত জানেন না? এটাও বইল্যা দিতে হইবো?
৮. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আমি প্যারি যাবো ললনা দেখতে? তবেই হইছে, পয়সা নাই। তার চেয়ে বান্দর দেখতে মজা বেশি। আমারে কি জানি শপের দিকে যাইতে কন? শিয়ালরে ভাংগা বেড়া দেখাইয়েন না রে ভাই, দোহাই আপনার
৯. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: মহুয়া অনলাইনে আসবেন নাকি?
১০. ১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: হু আসতে পারি....
আপনার ঠিকানা দিন, আমার এমএসএন..আপনার?

 



 


যদি ভালোবাসি
ভালোবেসে চাই
সবটুকু চাই
অল্পে আমার বিশ্বাস নাই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৩৩২