somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[ রম্য ] এখন ন্যাড়া পাইবে কো্থায় ??!!

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশেষ ন্যায়সংগত অনুরোধ :
মানুষের জীবনে থমকে যাবার মতো স্মৃতিচারন (অ!)যোগ্য কিছু ঘটনা থেকেই থাকে, যা থেকে আনন্দ, সুখনুভুতি ও লাল রংয়ের লজ্জা (!) খুজে পায়। তেমনি একটি ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। তবে অনুরোধ রাখি এই বলে যে, আমি বলবো, আপনারা শুনবেন, হাসি পেলে হাসবেন, এবং পরিশেষে ভুলে যাবেন।

পুনশ্চ : যেহেতু ঘটনার প্রেক্ষাপট টিনএজ বয়সের, তাই ঘটনাটা ডিজুস-মার্কা ভাষাতেই বলার চেষ্টা করবো ।
-------------------------------------------------

১৯৯৭ সাল, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি (মনোজগতে এডভান্স লেভেল) । রোজার ঈদ। ক্লাসমেট তানিয়া ফোন করে বলল, কোথায় আছিস, চলে আয় বাসায়, বাবা-মা বলেছে আসতে, অপেক্ষায় আছি...টু...টু...টু...টু। মানে বলা শেষ তো ফোন রেখে দিলো। এর কোনো মানে হয়??!! আমরা বন্ধুরা প্ল্যান করছি ওয়ান্ডারল্যান্ড-এ যাবো, আমাদের নানীকে সালাম করে (সালামী বাবদ তার ফাষ্টফুড-সপ এ মাগনা খেয়ে) টাংকি মারার মতো যৌবনদীপ্ত মহান কাজে নিজেদের কে নিয়োজিত করবো । হায়! কোথ্থেকে এই তানু-বুড়ি ফোন করে গিট্টু লাগাইয়া দিলো, মনে মনে গাইল পাড়তে লাগলাম,

বুড়ি থুত্তরি
ভাজবো তোরে, চিবিয়ে খাবো,
আওয়াজ তুলে কুড়মুড়ি ।।
সব বরবাদ, গুরুজনের দোহাই দিয়ে,
ধ্যাত্তরি, বুড়ি থুত্তরি ।

[সাধুদের সাধু কথা বলাই উত্তম]
দুই বন্ধুকে [সুমন- ইতালী প্রবাসী, আনিস- আমেরিকা প্রবাসী] নিয়া তিনজনে দুইটি দ্বিচক্রযানযোগে [ভটভটিতে] তানু-বুড়ির বাড়িতে রওনা হইলাম। মধ্যবাড্ডা পৌছাইতে ১৩ মিনিটের মতো লাগিয়া গেল। পৌছাইয়া আংকেল-আন্টিকে কদমবুছি করিয়া খাইতে বসিয়া গেলাম। বিস্তর ঈদ আয়োজন। পোলাও-কোরমা, কাবাবস(বহু-বচন ভেদে), চটপটি, ফুচকা খাইয়া উদর পুর্তি করিয়া খাইলাম । উদর-মস্তিক গরম হইয়া গেল। সুমি আপু অতি সদয় হইয়া একবোল আইসিক্রম নি্য়া আসিলেন। উদরস্থ কিন্চিত পরিমান শুন্যস্থান আছে বলিয়া অনুভুত হইলো না, তবুও, আপুর উদ্দীপনামুলক বানী আমাদেরকে আইসিক্রম খাইতে অনুপ্রানিত করিলো। খাইলাম, ঢেকুর তুলিলাম, শুকরিয়া জানাইয়া সকলের কাছ হইতে দোয়া লইয়া রামপুরা বনশ্রীর উদ্দেশ্যে রওনা হইলাম।

বাড়ী প্রস্থানের পুর্বে আমার মা জননী রামপুরা বনশ্রীতে তাহার মামা-মামী এর কাছ হইতে ঈদ-বিশেষ দোয়া লইতে আদেশ দিয়াছেন। তাই বাড্ডা হইতে রামপুরার উদ্দেশে রওনা হইলাম। ঐ খানে আমার এক দোস্ত আছে। সেলিম । তাহার বাসায় তো যাইতেই হবে।

নানা-নানীকে কদমবুছি করিয়া বিদায় নিবার জন্য প্রানান্তকর ব্যর্থ চেষ্টা করিয়া বন্ধুদিগের মুখপানে চাহিয়া রহিলাম। তাহাদের কান্না-কান্না চেহারায় খাবার ভীতি দেখিয়া আমার মহত্ হইতে ইচ্ছা হইলো । নানা-নানীকে জোর প্রচেষ্টায় বুঝাইতে ব্যর্থ হইলাম । তাহারা তাদের নাতীদিগকে না খাওয়াইয়া প্রস্থান করিতে দেবেন না । অগত্যা উপান্তর না দেখি্য়া মোরগ-পোলাও খাইতে বসিলাম । অনেক কষ্টে মোরগ-পোলাও খাইলাম । খাওয়ার পর মনে হইতেছিল পেটের ভিতর একটু পর পর মোরগ ডাকিয়া উঠিতেছে - কুক্-কুরুকু কুক্-কুরুকু । অবশেষে মাতার নির্দেষমতো আশীর্বাদ লইয়া বন্ধুদের লইয়া সেলিমের বাড়ীর উদ্দেশে রওনা হইলাম। ১টি রোড পরেই তাহার বাড়ী ।

আন্টি (সেলিমের মাতা) আমাকে পুত্রবত্সল আদর করিয়া থাকেন । তিনি নিরবে খাবার আয়োজন করিয়া খাবার টেবিলে যাইতে আদেশ করিলেন । কিংকতর্ব্যবিমুড় হইয়া যন্ত্রের ন্যয় নতমস্তকে খাবার টেবিলে বসিলাম । আনিসকে বিপুল বেগে প্রকৃতি আহ্বান করিয়া বাচাইয়া দিল । আনিস প্রকৃতি-সাক্ষাত করিয়া আন্টির কাছ হইতে বিদায় লইয়া বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হইয়া গেল। প্রকৃতি তাকে বারংবার কাছে ডাকার পুবার্ভাষ দিতেছিল । একদুপুরে ৫/৬ বার ধনী খানা খাইলেতো উদর মহাশয় আউট-অব-অর্ডার হইবেই । আমরা আন্টির আদেশে খানা খাইতে বসিলাম, আর ভাবিলাম খানদানি বংশের পোলাপাইন আমরা । না খাইলে বংশের সুনাম-ঐতিহ্য পাছে ক্ষুণ্য হ্য় । খাইলাম । পেটতো ফুলিয়া ঢোল । আউট-অব-অর্ডার না হইলেও আউট-অব-কন্ট্রোল হইয়া গেল ।

[ ঘটনার সুত্রপাত হইলো মাত্র, পাঠক দয়া করিয়া গাইল পারবেন না । নির্দোষ সমাপ্তি শীঘ্রই হইবে, ত্যাক্ত-বিরক্ত না হইয়া অগ্রসরে অনুরোধ রহিল । ]

যাহাই হোক, সকল বন্ধুবর ওয়ান্ডারল্যান্ড-এ অপেক্ষারত আছে । যাইতে হইবে তাড়াতাড়ি । বিদায় লইয়্যা ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর উদ্দেশ্যে রওনা হইলাম । সুমন ভতভটি (মোটরবাইক) চালাচ্ছিল । রামপুরা ব্রীজ এর উপর উঠিতেই কোত্থেকে এক ন্যাড়া কাপড় উড়িয়া আসিল । বিরক্তি ভরে উহা ফেলিয়া খোষ-গল্প করিতে করিতে ওয়ান্ডারল্যান্ড এ পৌছাইয়া গেলাম ।

বাইক থেকে নামিয়া দাড়াইলাম । বন্ধু সুমন নামিয়া আমার দিকে হতভম্ব, কিংকতর্ব্যবিমুড় ও লাল হইয়া তাকাইয়া রহিয়াছে । বুঝিতে পারিলাম না । অনেকক্ষণ তাহার দিকে তাকাইয়া চক্ষু-দৃষ্টি অনুসরন করিলাম । আমার মাথায় বজ্রপাত হইলো । আমার ঈদ-পায়জামা (আড়ং হইতে কেনা ৩০০ টাকা দিয়া) যথাস্থানে নাই । কোমর হইতে নামিয়া মাটি গড়াগড়ি খাইতেছে । আমার চিত্কার করি্য়া কাদিতে ইচ্ছা হইলো । বন্ধু সুমন আমাকে ইশারা দিয়া দ্রুত টিকেট কাটিতে ছুটিয়া গেল । ৪ খানা বান্দর সদৃশ বালিকা (ষোড়শ হইতে অষ্টাদশী) আমার দিকে তাকাইয়া খিল খিল করিয়া হাসিতেছে । আমার মাথা গরম হইয়া যাইতেছিল, মুখ লজ্জায় লাল থেকে খয়েরী হইয়া যাইতেছিল, চক্ষু দুইখানি জল ত্যাগের জন্য অনুমতি লাভের উত্সাহ দেখাইতেছিল । লোকজন কেউ কেউ বলাবলি করিতেছিল, আহ! কি হইতে কি হইলো !!??? বেচারা লজ্ঝায় আধখান হইয়া গেছে !!!! এখন ন্যাড়া পাইবে কো্থায় ??!!

বন্ধু সুমন টিকিট লইয়া আমার হাত ধরিয়া নানীর দোকানে লইয়া চলিল । আমি এক হাত দিয়া পায়জামা ধরিয়া চলিলাম । দোকানের ভিতর ঢুকিয়া নানীকে হাম্বা হাম্বা স্বরে ডাকিতে থাকিলাম । বিপদ সংকেত বুঝিয়া নানী দৌড়াইয়া আসিলেন । অবস্থা বুঝিয়া বলিলেন, লজ্জা নারীর ভুষন, বেটা মানুষ এতো লজ্জা পাইলে কি চলে । গায়ের চাদর খুলিয়া লুংগির মতো পড়িতে বলিলেন, আর পায়জামা দিতে বলিলেন । দিলাম । উনি পেপসির স্ট্ট টানিয়া লম্বা করিয়া ন্যাড়া বানাইতে ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন । ইতিমধ্যে বান্দর সদৃশ ৪ বালিকা দোকানে উপস্থিত হইয়া কেনাকাটার ঢংয়ে মজা লুটিতে থাকিল । আমি মাটিকে আয়না মনে করিয়া নিজের চেহারা দেখিতে চেষ্টা করিতে থাকিলাম ।

জয়তু নানী, ইত্যবস্যরে তিনি ৩ টা স্ট্র যোগে নতুন ন্যাড়া বানায়ে ফেলি্যাছেন , আমি তাহাকে বীরংগনা সখিনা উপাধীতে ঐদিন ভুষিত করিলাম । আমি পায়জামা পড়িলাম আর মনে পড়িল ঐ লোকদের কথা, 'এখন ন্যাড়া পাইবে কো্থায় ??!!' আমার ইচ্ছা হইলো তাহাদেরকে আমার ন্যাড়াটা দেখাইয়া আসি, আর বলি, বীরংগনা সখিনারা থাকিতে চিন্তা কী!!!!

[ আমার জীবনের বাস্তব ঘটনার ক্ষুদ্র অংশ । আগামীতে আরো বলার ইচ্ছা আছে । তবে আপনাদের সাড়া পেলে তবেই । ]

[ রম্য ]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×