সকালে পত্রিকা খুলেই মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো।
ময়মনসিংহে একই পরিবারের ৯ জন ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছে।
ঈত্তেফাক থেকে সঞ্চায়িত:
ময়মনসিংহ শহরে হৃদয় বিদারক ঘটনা একই পরিবারের ৯ জনের ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা
।। শেখ মহিউদ্দিন আহম্মদ, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা ।।
ময়মনসিংহ শহরতলী কাশর ইটখলা এলাকায় একই পরিবারের ৯ জন একসাথে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি জানতে এবং তাদের লাশ এক নজর দেখতে আসা শত শত কৌতূহলি জনতার ভিড় সামলাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনার পরপর এই রেলপথে ট্রেন চলাচল সন্ধ্যা পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় উভয় পথে যাতায়াতকারী একাধিক ট্রেনের যাত্রীসাধারণের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ডিসি মোঃ শামসুল আলম, এসপি মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে শহরের কাশর ইটখলাস্থ নিজ বাড়ির সামনের রেলপথে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী জিএম এক্সপ্রেস নামের ২৫৪ নং একটি চলন্ত ট্রেনের নিচে মৃত আনোয়ার ফকিরের স্ত্রী হেনা আনোয়ার (৬০) পুত্র আরিফ আনোয়ার (৩০) ও রাহাত আনোয়ার (২২), কন্যা আক্তারী আনোয়ার (৩৫), মুর্শেদা আনোয়ার (২৭), মুন আনোয়ার (৩০) ও শবনম আনোয়ার (১৮), নাতি মৌলা আনোয়ার (৮) এবং নাতনী মৌ আনোয়ারকে (১০) সাথে নিয়ে একযোগে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে রেলপথের ৩ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তাদের পড়ে থাকা লাশের একাধিক খণ্ডিত অংশ সংগ্রহ করে জিআরপি পুলিশ হেফাজতে নেয়।
পরিবারটির এমন হৃদয়বিদারক পরিণতির কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, শহরের কাশর ইটখলা এলাকায় আশির দশকে জমি কিনে বাড়ি করেন আনোয়ার ফকির নামের এক ব্যক্তি। একজন আধ্যাত্মিক সাধক হিসাবে পরিচয় ছিল আনোয়ার ফকিরের। তবে স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে তাদের কোন সখ্যতা ছিল না। পরিবারটি ছিল একঘরের মত। সূত্র জানায়, গত প্রায় ৫/৬ বছর পূর্বে আনোয়ার ফকির মারা যাবার পর তার লাশের দাফন ও কবর দেয়া নিয়ে তার পরিবার এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। যে কারণে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর এই পরিবারটিতে একদিকে শুরু হয় প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধ এবং অন্যদিকে অভাব-অনটন। আর এসব কারণে এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভর করে এক ধরনের হতাশা। যার ফলস্বরূপ আনোয়ার ফকিরের বিধবা পত্নী হেনা আনোয়ার অনেকটা বাধ্য হয়ে তার ২ পুত্র ও ৪ কন্যা এবং নাতি-নাতনীদের নিয়ে একযোগে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই পরিণতির শিকার হতে বাধ্য হয়। অবশ্য এর সত্যতাও মেলে এই পরিবারটির বাড়িতে প্রবেশ করলে। চারদিকে বাঁশের বেড়া দেয়া একতলা দালানের এই বাড়ির এক পাশের উঠনের মধ্যে তারা একটি বিশাল আকৃতির কবর খুঁড়ে রাখেন। আর বাসার বারান্দায় পাওয়া যায় একটি লাশের কফিন। বাসার অভ্যন্তরের প্রতিটি কক্ষে ছিল সাজানো-গুছানো এবং পরিপাটি। ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোও তারা রেখে গেছে সাজিয়ে-গুছিয়ে। এসব দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা তাদের এই আত্মহত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন বেশ ক’দিন আগে থেকেই। পুলিশ বাসার অভ্যন্তর থেকে হাতের লেখা ৩টি ডায়েরি উদ্ধার করেছে।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



