এই বছরে অনেকগুলো এশিয়ান চলচ্চিত্র দেখলাম। এশিয়ান বলতে হিন্দি না, হিন্দি চলচ্চিত্র দেখা বাদ দিয়েছি গত বছর থেকে। কোরিয়া, জাপান আর চীন এই তিন দেশের চলচ্চিত্র আমার লক্ষ্যবস্তু। আর যেহেতু আমি রোমান্টিক কমেডির পোকা, কোরিয়ান ছবি দেখেছি সবচেয়ে বেশি। আসুন চলে যাই চলচ্চিত্র পর্যালোচনায়:
Sad Movie (2005)
http://www.imdb.com/title/tt0475711/

Click This Link
চলচ্চিত্রের নাম দেখলেই বোঝা যায় চলচ্চিত্রটি দু:খের। আটজন মানুষের ভেতর সম্পর্ক, সেই সম্পর্কে দু:খ, দু:শ্চিন্তা এবং বিচ্ছেদের কাহিনী নিয়ে এই ছবি।
প্রথম গল্প একট অগ্নিনির্বাপক আর তার বান্ধবী সু-জাঙকে নিয়ে। সু-জাঙ এক টিভিতে খবর পাঠিকা (বোবাদের জন্য চিহ্ন দিয়ে সে খবর পাঠ করে)। সে অপেক্ষা করে আছে কখন তার বয়ফ্রেন্ড তাকে প্রপোজ করবে, তার ধারণা যদি প্রপোজটা বয়ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে আসে, তাহলে পরবর্তী সময় যখন তার বয়ফ্রেন্ড অগ্নিনির্বান করতে গিয়ে আগুনে ঝাপ দিতে যাবে, তখন হয়তো তার কথা মনে রেখে আগুনের সামনে ইতস্তত বোধ করবে। অন্যদিকে অগ্নিনির্বাপক বয়ফ্রেন্ড অপেক্ষা করছে প্রপোজের জন্য ভালো সুযোগের অপেক্ষায়। দ্বিতীয় গল্পটি এক ভেঙ্গে যাওয়া ভালবাসার সম্পর্ক নিয়ে। মেয়েটি সম্পর্কটি ভেঙ্গে দেয়, কারণ ছেলেটি বেকার। ছেলেটি এক কাজ শুরু, ভাবে হয়তো যদি সে ভালো ইনকাম করতে পারে, হয়তো মেয়েটি ফেরত আসবে। তৃতীয় গল্পটি এক বোবা মেয়ের (প্রথম গল্পের খবর পাঠিকার ছোট বোন), এক থীম পার্কে কস্টিউম ক্যারেক্টার হিসেবে চাকরী করে। সেখানে পরিচিত হয় এক তরুণ চিত্রকরের সাথে। যদিও মেয়েটি ছেলেটিকে পছন্দ করা শুরু করেছে, কিন্তু সে ছেলেটিকে তার কস্টিউমের মুখোশ সরিয়ে তার মুখটি দেখতে দেয়না। সর্বশেষ গল্পটি এক মৃত্যুপথযাত্রী মা আর তার ছেলের। মা তার চাকুরী নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলো যে তার সময়ই ছিলোনা, তার ছেলের জন্য। যখন মা হাসপাতালে ভর্তি হলো তার অসুস্থতার জন্য, মা ছেলে সম্পর্ক কাছাকাছি আসতে শুরু হলো। ছবিটির শেষে আপনি বুঝতে পারবেন, প্রতিটি সম্পর্কই কোননা কোন ভাবে শেষ হয়েছে, আর আপনার চোখের কোনায় রেখে গেছে কয়েক ফোটা পানি। সাউথ কোরিয়ান এই চলচ্চিত্রটি বের হয়েছে ২০০৫ সালে।
অনলাইনে দেখুন:
http://stagevu.com/video/krlubapzavgs
Wedding Dress (2010)
http://www.imdb.com/title/tt1764738/

Click This Link
এই চলচ্চিত্রটির কাহিনী Sad Movie এর শেষের কাহিনীটির মতই। এক ব্যস্ত মা আর তার ছোট মেয়ের জীবন নিয়ে কাহিনী। মা একজন বিয়ের পোশাকের ডিজাইনার। সে তার কাজ নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে, তার মেয়ের জন্য সে সময়ই দিতে পারে না। কিন্তু যখন মা জানতে পারে তার ক্যান্সার হয়েছে, তখন সে চেষ্টা করে তার মেয়ের স্বাদ গুলো যত পারা যায় মিটিয়ে যাবার জন্য আর ডিজাইন করতে থাকে তার জীবনের শেষ বিয়ের পোষাক। মায়ের অবস্থা যখন আস্তে আস্তে খারাপ হতে থাকে, ছোট্ট মেয়ে তা বুঝতে পারে। সে চেষ্টা করে, যতটুকু পারা যায় মায়ের ইচ্ছেগুলো একের পর এক পূরণ করতে মায়ের অজান্তে। এই ছবিটিও সাউথ কোরিয়ান আর বের হয়েছে ২০১০ সালে (যদিও উইকিপিডিয়ায় লেখা ৯ জানুয়ারী ২০০৯)।
অনলাইনে দেখুন:
http://stagevu.com/video/hgpkinwdrmbh
Aftershock (2010)
http://www.imdb.com/title/tt1393746/

Click This Link
১৯৭৬ সালে চায়নাতে এক ভূমিকম্পে মারা যায় প্রায় ২৪০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ। আফটারশক চলচ্চিত্রটি এই ভূমিকম্পকে দিয়েই শুরু।
বাবা-মা আর জমজ ভাই-বোনের এক মোটামুটি সুখের সংসার। প্রচন্ড গরমের এক রাত্রে যখন জমজ ভাই বোন ঘরে ঘুমুচ্ছে, তার বাবা-মা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা তাদের ট্রাকের পেছনে সময় কাটাচ্ছিল সংসারে নতুন একজনকে আনার জন্য (!
এখানেই শুরু হয় কাহিনী। মা আর তার জমজ সন্তানের মাঝে সম্পর্ক নিয়ে যে ড্রামা, তাই নিয়ে এই ছবি। ২০১০ সালে বের হওয়া চীনের এ ছবিটিতে ভুমিকম্পের ফাটাফাটি মূহুর্তগুলো যতটানা আকর্ষন করবে, তার চেয়ে বেশি কাদাবে এই সম্পর্কের টানাপড়োনের কাহিনীগুলো।
অনলাইনে দেখুন:
Click This Link
http://stagevu.com/video/hmgabkwkogcp

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


