মোবাইল কোর্ট বৃহস্পতিবার মিরপুর নবাবেরবাগ এলাকার মেসার্স রনি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে কৃষি জমিতে ব্যবহৃত পটাশ সার দিয়ে তৈরি স্যালাইন উদ্ধার করে। মোবাইল কোর্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ মাইনুল ইসলাম রনিকে একলাখ টাকা জরিমানা এবং তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। এদিকে সরকারের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি হাতে-গোনা কয়েকটি কোম্পানির ওরস্যালাইন ব্যতীত বাজারের সিংহভাগ ওরস্যালাইন নকল ও ভেজাল বলে জানা গেছে।
মানবদেহের জন্য এ সকল স্যালাইন খাবারের অনুপযোগী ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরীায় প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী টেস্টি খাবার স্যালাইন ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে। ড্রাগটেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীাকালে এই স্যালাইনে সুগন্ধি ছাড়া আর কোন রোগ প্রতিরোধের উপাদান নেই বলে পরীায় জানা যায়। পরীাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, এই পরীার রিপোর্ট ওষুধ প্রশাসনে কয়েক দফা প্রেরণ করা হয়েছে। অথচ টেস্টি স্যালাইন ও পটাশ সার সংশ্রিমণে তৈরি বিষাক্ত খাবার স্যালাইনে বাজার সয়লাব। এই স্যালাইন খাওয়ার পর কিডনি তাৎণিক নষ্ট হওয়ার আশংকা বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান।
কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ হারুন অর রশীদ বলেন, পটাশ সার মিশ্রিত তৈরি স্যালাইন খাওয়ার পর কিডনি অকেজো ছাড়াও তাৎণিকভাবে দেহে পটাশিয়াম ও ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যায় এবং ঐ সময় হঠাৎ হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়া লিভার নষ্ট ও ক্যান্সারসহ মরণব্যাধি হওয়ার আশংকা বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান। তবে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই স্যালাইন সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।
বৃহস্পতিবার র্যাব-৪ এর একটি দল ক্যাপ্টেন মোঃ মশিউল আলম ও ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট মিরপুর নবাবেরবাগ রনি কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালায়। কারখানায় পটাশ সার সংমিশ্রণে ওরস্যালাইন তৈরি করা অবস্থায় প্রমাণ পায়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক রনি চোরাইভাবে ঐ সার স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে বলে জানা যায়। সম্প্রতি উক্ত কমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকারিভাবে ৩০ টন ওরস্যালাইন উৎপাদন করে সরবরাহ করার জন্য দরপত্র গ্রহণ করেছে। পটাশ সার দিয়ে ইতিমধ্যে ৩.৫ টন ওরস্যালাইন তৈরি করেছে বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিরা জানায়। মোবাইল কোর্ট তৈরি উক্ত ওরস্যালাইন জব্দ করেছে। সূত্র-দৈনিক ইত্তেফাক।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


