আজও নীলুর সাথে ঝগড়া হলো।
আজকাল যে কি হয়েছে দু'জনার, শুধু শুধু ঝগড়া লাগে। কাউকে যে বলবে এ দুঃখের কথাগুলো তারও কোন জো নাই। জীবনে নীলু ছাড়া কখনও আর কাউকে কোন ভাবেই জড়ায়নি। বন্ধুদের যে সময় দেবার কথা ছিল তা নীলুর সাথে শেয়ার করেছে, বন্ধুরা কূয়োর ব্যাং বললে- নিজেকে বুঝিয়েছে বাইরে যাবার দরকার নাই, তোর কূয়াই ভালো। তাই জীবনে ভালমত কোন বন্ধুও জোটেনি। ভেবেছিল আমার আর কোন বন্ধু দরকার নাই, নীলুই আমার বন্ধু... নীলুই আমার বউ। হাতে আগুনের ছ্যাকা খেয়ে চমকে উঠে অর্জন, "আরে এই ধানাই পানই ভাবতে ভাবতে কখন যে সিগারেট টা শেষ হয়ে গেল, ধূর শালার ৫টা টাকাই গচ্ছা গেল মাত্র দুই টান দিয়েছিলাম।" রুমমেটরা সব ঘুমিয়ে পড়েছে।"নাহ্ যাই মশারটা খাটিয়ে শুয়ে পড়ি, কাল সকাল সাড়ে আট টায় ক্লাস আছে।"
একটা সময় কত সুন্দর, কত সুখের ছিল ওদের সম্পর্কটা। দু'জন চোখ বন্ধ করলেও শুধু দু'জনকেই দেখতো আর চোখ খোলা থাকলেতো কোন কথাই নেই।তখন দু'জনার চাওয়া পাওয়ার সীমাটাও ছিল অনেক কম... চোখ বন্ধ করে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে চোখ মেলে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে নেয় অর্জন, দু'টো সুখটান দিয়ে মাথার ভিতরে অক্সিজেনের সরবরাহটা সাভাবিক করে, "আচ্ছা আমার চাওয়ার পরিধিটা কি খুব বেশি ? আমিতো বেশি কিছু চাইনা !" সময় গড়ালে স্বাভাবিক ভাবেই সম্পর্কের মাঝে কিছু দাবী চলে আসে - এই সাধারণ ব্যাপারটা নীলুকে কিছুতেই বুঝাতে পারেনা সে, আবার নীলুর চাওয়া মত পর্দানশীল প্রেমও করতে পারেনা।জীবনে কখনও কারুর সাথে সেভাবে মিশেনি যে মনের কথা খুলে বলবে - কষ্ট ভাগাভাগি কিংবা পরামর্শ করবে।আরও একটা সিগারেট জ্বালিয়ে যেন নিজের একাকিত্বের নীরব এক সঙ্গী খুঁজে ফেরে সে, কোথায় যেন পড়েছিল, "সিগারেট ছলনাময়ী নারীর চেয়ে অনেক ভাল কেননা যদিও অনন্ত পোড়ায় তবুও তো দু'ঠোটের মাঝে নিবিড় ভাবে পাওয়া যায়।"
শুয়ে থাকতেও বিরক্ত লাগছে আস্তে করে উঠে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে চলে গেল অর্জন। "আরে চমৎকার চাঁদ উঠেছেতো !" - রুমে শুয়ে একটুও বুঝতে পারেনি। চাঁদটাকে একখন্ড ভেজা মেঘ ঢেকে নিল।অর্জনের বুকের ভিতরটা খাঁ খাঁ করে ওঠে। মেঘের শেষ জলকণাগুলো যখন আস্তে আস্তে চাঁদকে মুক্ত করছে অর্জনের মনে হল কে যেন চাঁদকে লজ্জায় রাঙ্গিয়ে দিল। আবারও একরাশ একাকিত্ব মেঘের মত ওকে ঢেকে দিল।ছাদে আর ভাল লাগলনা ওর, রুমে ফিরে চলল ব্লগে আড্ডা দেবার জন্য পিসিটা চালু করল।
কিভাবে কিভাবে যেন রাত্রীর সাথে ব্লগে বন্ধুত্ব হয়ে গেল ওর। ব্লগ থেকে দু'জনে চলে গেল ম্যাসেন্জারে। রাত্রী নামের মেয়েটার সাথে ওর দুঃখের একটা সাঁকো তৈরী হয়ে গেল।মনে হল এতদিনে একজন বন্ধু পাওয়া গেল যার সাথে সে কষ্টগুলো শেয়ার করতে পারে, নীলুর সমস্যাগুলো নিয়ে পরামর্শ করতে পারে... চ্যাটিং করতে করতে পাওয়ার চলে গেল। মনে মনে ঈশ্বর এবং নিজের মানব জন্মকে আরও একবার অভিশাপ দিয়ে শুতে চলে গেল। আশ্চর্য্য পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল অর্জন।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্লগে বসল সে যদি রাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু নাহ ! রাত্রীর দেখা সম্ভবত শুধু রাত্রেই মেলে। সারাটা দিন ক্লাস ও অন্যান্য ব্যস্ততা শেষে পৌনে নয়টার দিকে ব্লগে বসল অর্জন। খুশিতে চোখে মুখে একশ একটা লাল গোলাপ ফুটে উঠল ওর। আবার দু'জনে চলে গেল ম্যাসেন্জারে। অনেক কথা হল। ফোন নম্বরেরও আদান প্রদান হয়ে গেল দু'জনার। অর্জন কেমন যেন একটা অনাবিল আস্থা খুঁজে পায় রাত্রীর মাঝে। না, এটা প্রেম নয়। অন্য রকমের একটা ভালবাসা... বন্ধুত্বের টান....
এদিকে ঈদ নাকের ডগায় চলে এল। ঈদ করতে অর্জন চলে যায় গ্রামের বাড়িতে। বাসায় অন্যান্য ব্যস্ততার মাঝে রাত্রীকে তেমন একটা সময় দিতে পারেনা সে। নীলুর সাথেও তেমন একটা যোগাযোগ হচ্ছেনা। বিক্ষিপ্ত মন বাড়িতে বেশ কষ্টে দিন কাঁটতে থাকে ওর।এরই মাঝে মড়ার উপর খড়ার ঘাঁ-এর মত মোবাইল সেটটা নষ্ট হয়ে যায় অর্জনের। কারও সাথেই যোগাযোগ করতে পারেনা সে। একদিন পর ছোট বোনের সেটে সীমটা ঢুকিয়ে দু'জনকেই ট্রাই করে সে। কিন্তু এখানেও বিধিবাম- রাত্রীর নাম্বারটা ওর মোবাইল সেটে সেভ করা ছিল।ছোট বোনের সেটে সীম ভরে মাঝে মধ্যে তবুও নীলুর সাথে কিছু কথা হয় কিন্তু রাত্রীর সাথে যোগাযোগের কোন উপায় খুঁজে পায়না সে । মাঝে মঝে দুপুরে, সন্ধ্যার পরে সাধারণত যে যে সময় রাত্রী বেশি ফোন দিত সে সময়ে সীমটা ছোট বোনের সেটে ভরে রাখে সে, কিন্ত ভাগ্য দেবী আর প্রসন্ন হয়না।
ঢাকা পৌঁছেই মোবাইল সেটটা সারিয়ে নেয় অর্জন। রুমে তন্ন তন্ন করে খোঁজে - কোথাও রাত্রীর নাম্বর লিখে টিখে রেখেছে নাকি কিন্তু কোথাও পায়না। অগত্যা বিষন্ন মনরথে রাত্রীর ফোনের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে...
এক...
দুই......
তিন......
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


