সকালে আমরা ৫.৩০ শে উঠি, শরীর চর্চা। ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে জানালার পাশে বসা। সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা এইজন্যই। শরীরচর্চা উপলক্ষ মাত্র। ৭টায় ওপাশে নড়াচড়া শুরু হয়। হস্টেলের তিনটি তল। প্রত্যেক তলার বারান্দার কোনায় বেসিন আছে। কিন্তু নিচ তলায় সবচাইতে বেশী ভীড়, ঠেলাঠেলি। ওপরের তলায় কিন্তু ফাঁকা তাও সবাই নিচ তলায় মুখ ধোবে। কারন?
কারন একটাই। জানালা আর হস্টেলের মাঝখানে যে গাছটা দেখা যাচ্ছে সেটা। এই গাছটার ডালের জন্য আমাদের জানালা টা ওপরতলা দুটো থেকে দেখা যায়না। আর ওরা জানে আমরা এই সময়টায় জানালায় থাকি। অদ্ভূত টান, বিনিসুতার বাঁধন। টেনে ওপর থেকে নিচে নিয়ে আসে। আমরা সব লক্ষ করি। লক্ষ্যটাও স্থির করার চেষ্টা চলে।
ছুটির দিনে বিকেলে ওরা দল বেঁধে ঘরের পাশ দিয়ে হাওয়া খেতে যায়। পারিজাত, সুমনা, দোয়েল, তমা, কত কে। ঐ সময়টা আমাদের পর্দা নামানো থাকে। তবে পর্দার পেছনে আমরা থাকি। কখনো বাইরে গিয়ে দাড়াই। চোখে চোখ, হাসাহাসি হয়। পূর্ণমের আবার পারিজাতকে খুব পছন্দ। গন্ডগোল লাগাবে বোঝা যাচ্ছে।
রাতে ওদের বারান্দায় লাইট জ্বলে। আমাদের ঘরেও। মাঝখানের মাঠ অন্ধকার। মাঠ পার করে আমাদের কোয়ার্টার থেকে গান ভেসে যায় "আর কত রাত একা থাকব""। শিরশিরানো অনুভূতি।
( আমাদের কোয়ার্টার অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ এরিয়ায়। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৯.৩০ পর্যন্ত কোন কুকুরও পা ফেলেনা। ছুটির দিনেতো কথাই নেই। ব্যাপার টা কল্পনা করে দেখুন। তিনটা জোয়ান ছেলের কাছে এটা জেলে থাকার সমান। তাই এটা সময় কাটানোর জন্য আমাদের কল্পনা মাত্র। বিল্ডিং টা সত্যিই আছে তবে লেডিস হষ্টেল নয়, ট্রেজারী বিল্ডিং। সময় কাটানোর জন্য ওটাকে লেডিস হষ্টেল ভেবে নেওয়া হয়েছে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

