তোমার সূর্য ওঠার আগেই আমাকে উঠতে হয়...
তোমার সূর্য জ্বলার আগেই আমাকে জ্বলতে হয়।
তোমার যখন আড়মোড়া ভাঙ্গে বালিশ জড়ানো ঘুমে
আমি তখন উঠোন নিকোই চুপচাপ নিঃঝুমে।
তোমার সূর্য তেজে পূবের আকাশ লাল
আমার তখন ফুটছে হাড়ি, দিনআনা কিছু চাল।
উঠিয়ে মেয়ে, উঠিয়ে ছেলে, নিভিয়ে পেটের জ্বালা
গুটি গুটি পায়ে, আমার শুরু তোমার জন্য চলা।
লেখার এই অপপ্রয়াস আমাদের কাজের মাসিকে (আমাদের এখানে বাড়ির কাজের মহিলার এটাই প্রচলিত শব্দ) উৎসর্গিত। অবাক করা মহিলা।
মাসীর রোজনামচাঃ
ভোর ৪.৩০ শে ঘুম থেকে ওঠেন। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, অন্যথা হবার নেই। একদমে নিজের বাড়ির কাজকর্ম সেরে ছেলেমেয়েদের জন্য রান্না করে ঠিক ৭.৩০ শে রওনা দেন। ১ ঘন্টা হেঁটে আমাদের কোয়ার্টারের সামনেরটায় পৌছান। সেখানকার ডাক্তারবাবুর জন্য রান্না করেই একছুটে আমাদের এখানে। আমাদের অফিসে দেরী হয়ে যাবে। আমাদের রান্না করে, খাইয়ে দাইয়ে আবার সেখানে। ঘরদোর পরিস্কারের পাট শেষ হয়নি। সেখানে শেষ করে আবার আমাদের এখানে। ২ টা নাগাদ বাড়ি। কিছু খেয়েদেয়ে মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। বাড়ি ফিরে ৫ টায় আবার সকালের দ্বিতীয়পর্বের পুনরাবৃত্তি। প্রায় রাত ৮টায় বাড়ি ফেরা। ঘুমিয়ে আবার ওঠা সেই ভোর ৪টায়।
মাসীর কাহিনীঃ
বিয়ে হয়েছিল ১৬-১৭ তে। মাসী ভারতীয় হলেও স্বামী ছিলেন বাংলাদেশের। কোন কারনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন বোঝা যায়নি সেটা ছিল সাময়িক। বাড়ির লোক বিয়ে দিয়েই খালাশ। বিয়ের পরে প্রথম সন্তান উপহার দেন। সন্তান জন্মের পরে তিনি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশ চলে যান। ফিরেও আসেন, দুই বছর পর। আবার দ্বিতীয় উপহার। কিছু দিন কাটিয়ে চলে যান। আবার আসেন দুই বছর পর। তৃতীয় উপহার নিয়ে। চলেও যান। আর ফেরেন নি। ততদিনে মাসীর দায়িত্ব বেড়ে গেছে অনেক। স্বামীর ফেরার আশা ত্যাগ করে নিজেই পথে নামেন। সেই থেকে চলছে। চলবেও। তিন সন্তানের লালন পালন সহজ কথা নয়। তাই খাবার যোগাতে সক্ষম হলেও বাকী কিছু পূরন করা হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই ছেলে বখে গেছে। মেয়েরা একদম নাবালিকা। জিজ্ঞাসা করলে বলেন আর কি করবো! মাসে ১৫০০ টাকা রোজগার আর গরুর দুধ বিক্রী করে যতদিন বেঁচে আছি করে যাব। জিজ্ঞাসা করি, কারোর প্রতি কোন ক্ষোভ আছে? না নেই, সব আমার কপাল। বেশী কথা বাড়ায় না মাসী। দুঃখ বাড়বে বলে আমরাও কিছু বলতে পারিনা।
আমাদের সাথে মাসীঃ
মাসী আমাদের ঘরে ঢোকা মাত্রই আমাদের চিৎকার, রাজধানী এক্সপ্রেস চলে এসেছে, সবাই সাবধান। সাবালক হবার পর থেকেই আমার খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অরুচি। এক দিন চেয়েও পাইনি বলেই হয়তো। মা একটা রসগোল্লা খাওয়ানোর জন্য আমার পেছনে ঘুরে বেড়ালেও আমার পাত্তা পাওয়া দুস্কর। যাই হোক মাসী আমাকে খাওয়াবেই। মাসীর ভয়ে আমি রান্না শেষ হওয়ার আগেই অফিস পালাই। ফিরিও মাসী সন্ধ্যায় চলে যাওয়ার পর। মাসের মেসের বাজেট ওভার হয়ে যায়। অথচ মাসী হাজার বলা সত্তেও তিন পদের কম রান্না করবে না। কিছু বললেই বলবে, তোমরা সারা দিন কাজ কর, এইভাবে খেলে তোমাদের চলবে!!! কি বলবো!! মাসীর জন্য মানিয়ে নিয়েছি অনেক কিছু। অফিসের আগে রান্না না হলেও আমাদের সবাই চুপচাপ অফিস চলে যায় না খেয়ে। তাতেও মাসীর মন খারাপ হয়। কি করবো, এর চাইতে বেশী কিছু করারও নেই। জীবন এভাবেই চলে, এটাই সত্যি। আই স্যালুট টু দিস ওয়েমেন।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।