মৃত্যু ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুনাই
--------------------------------------------------------
আমার এক বন্ধু কে একবার পরীতে আছর করেছিল। পরীরাজ্যের থেকে পরী তাকে এনেদিত গরম গরম রসগোল্লা। তার মধ্যে আমরা অনেক অস্বাভাবিকতার ছাপ লক্ষ্য করতাম। ডানপিঠে ছেলেটি ক্রমশঃ ঘরকুনো ব্যাঙ হয়ে গেল। আমরা তাকে ছাড়াই রোজ সময়কে চুরি করে পশ্চিমের দিকে ভেসে যাওয়া বিকেলে দাঁড়িয়ে থাকতাম গোধুলির মেয়েদের জন্য। সে কোন নারীর দিকে চোখ ভরে তাকাতোনা। এমনকি নদীর ধারে ও যেতনা। পরী তাকে নাকি বলেছিলো -
নদী দেখনা; তাহলে নারীর বুকের নাবিক হবে
আমার সেই বন্ধুটি নারীর বুকের নাবিক হবার স্বপ্নকে এড়িয়ে চলতো; আর নদীমুখো হয়নি। পরীরাজ্যের মেয়ের পথ চেয়ে বসে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে ব্যাকুল হয়ে যেত। ছুটে যেত গা ছিম ছিম করা পোড়াবাড়ীর জঙ্গলে প্রায়শ রাতে। একবার লক্ষ্য করলাম সে আর আমাদের পরীর গল্প শুনায় না তার উঠোনে বসে। শুনায় না রসগোল্লার কথা। তার চোখমুখে দেখতে পেতাম আশ্চর্য্য রকমের একটা ভয়ের ছাপ। কি গভীর মৌনতায় রাতজাগা নির্ঘুম চোখ মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতো। মাঝে মাঝে ঠোটের কোনায় একটা তাচ্ছিল্যের হাসি আমাদের শরীরে ভয়ের বাতাস মেখে দিত। আমাদের কথার উত্তর সে দিতনা। আর দেয়নি সে।
নদী
----নারী
-------মাটি
মাটি দেখনা; তাহলে মাটির বুকের ফসিল হবে
এইকথাটা পরী তাকে বলেনি কখনো। চলে যাবার যে প্রকৃতগত একটা শক্তি আছে, সেই প্রথাকে ভাঙ্গার শক্তি পরীর মেয়ের ছিলনা। আমাদের ছিলনা; ছিলনা গোধুলির মেয়ের।
সে হারিয়ে যাবার পর; আমাদের শরীরে এসে লেপ্টে গেলো বুক পকেট সমেত জামা। চুলের সিথিতে চলে এলো উত্তম কুমার। গোড়ালী ছোয়া প্যান্ট আর জামার পকেটে এসে জমতে থাকলো কাগজের পরীরা। সেই পরী আমাদের গরম গরম রসগোল্লা কিনে দেয়; সস্তা ধোঁয়া কিনে দেয়।
আমরা
নদী দেখি; জলকে প্রনাম করা কাশের বনে কলসীভরার ছুতোয় আসা কোমর সমেত জলে নারী দেখি।হা করা নদীতে কলসী ডোবে; নদী-নারীর গ্রীবা চুইয়ে কামাতুর ঘাম দেখি বিলীন হতে চাওয়া বিদীর্ণ অন্ধকারে।
দেহজঘামে ভেজা নাবিক হয়ে পার্শ্ব চরিত্ররা দূরের সমুদ্রে হাওয়া হয়ে যায়। মাঝে মাঝে তারা পাড়ে ভিরলে কথা হয়, আড্ডা হয়। পরী বের হয়ে আসে আমাদের বুক পকেট থেকে। আমরা চা খাই-ধোঁয়া খাই। কিন্তু আমরা কেউ গভীর মৌনতায় মাটির দিকে তাকিয়ে থাকিনা। পরী আমাদের অমরত্বের সাহস কিনে দিতে পারেনা এবং এটাও জানি; মৃত্যু ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুনাই।
-------------------------
আল্লাইয়ার
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


