আমরা শহুরে মানুষেরা যেভাবে গর্ব করে বলি আমার বাবা,চাচা,কাকা...ব্যবসায়ী,আমলা,ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার।সেভাবে কাউকে বলতে শুনিনি আমার বাবা,চাচা,কাকা...চাষী বা কৃষক।
পরোক্ষভাবে তাদের ঘৃনা করার কারন কি?তাদের টাকা পয়সা কম নাকি ছোট স্ট্যাটাস।এই প্রশ্নটা তাদের জানা আছে কিনা তাও জানি না।উত্তরটা হয়তো কৃষক ভাইদেরও জানা নেই।
কঙ্কালসার কৃষকেরা উত্তরটা শুনলে হয়ত নীরবে চক্ষুর পানি ঝড়াবে।তাদের এ চক্ষুর পানিতে হয়ত আবাদি জমি বানের জলের মত ভেসে যাবে।
আই এম এফ,বিশ্বব্যাংকের কথা শুনে পাট চাষীদের বেকার করছি,কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়ে দিচ্ছি,সারের মূল্য,সেচের জন্য ব্যবহ্রত জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছি।
অন্যদিকে বিদেশী কোম্পানীগুলোও সমান তালে বাড়াচ্ছে বীজ,কীটনাশক,হরমোন,পাওয়ার টিলার,সেলো পাম্পের দাম বাড়াচ্ছে ইচ্ছে মতো।তার উপর নকল জিনিস পত্রের খড়গতো রয়ে গেছে।
কৃষকরা আমাদের অপমানের সাথে সাথে শোষিতও হচ্ছে।
ইদানিং কালে অনেকে পত্রপত্রিকায় ও টকশোতে গলা ফাটিয়ে বলছে কৃষকদের রোজি রোজকার দ্বিগুন হয়ে গেছে।তাদের যুক্তিটা এরকম,আগে চালের দাম ছিল ১৬ টাকা সের বর্তমানে ২৭ টাকা।
বড়ই অদ্ভুট ও উদ্ভট যুক্তি।তারা কি এটা জানে বীজ ,সার, কীটনাশক,বালাইনাশকের দাম আগে কত ছিল আর বর্তমানে কত।যারা গলা ফাটান তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা একবার তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকের কাছে যান।তাদের সাথে কথা বলুন।
১ অগ্রহায়ন জাতীয় কৃষি দিবস ঘোষিত হয়েছে ৬ অক্টোবর।এ বছর ৯৩ লাখ টাকা খরচ করে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত করা হবে।
আমরা যারা কৃষক নই তারা খরচ করব এই টাকা।
আবার এই টাকা আদায় করে নেব কৃষকদের কাছ থেকেই।আগামী মৌসুমে কৃষক হয়ত দেখবে সার,বীজ,কীটনাশক ইত্যাদির মূল্য কেজি প্রতি ১ টাকা বেড়ে গেছে।
আমি জানি না, কৃষিতে ভর্তুকি বাড়িয়ে দেওয়া হবে,কৃষি উপকরনের মূল্য কমানো হবে এমন ঘোষনা আগামীকালের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা দেবেন কিনা?
নাকি কঙ্কালসার কৃষকদের নিয়ে আরেকটি নাটক মন্ঞ্চায়িত হবে।
নাটক মন্ঞ্চায়িত হোক আর নাই হোক।তারা যেন আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হতে বন্ছিত না হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



