আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

সোয়াত যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয়>ওবামা-জারদারীর দুঃশ্চিন্তা>আমরা কতটুকু নিরাপদ ?

১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0

দুপাশের দেওয়াল সোজা উঠে গেছে আকাশে!একেবারেই খাড়া। পাথুরে পাহাড় ভীষণ একাকী দাঁড়িয়ে আছে।কোথাও কোথাও মারাত্মক ভাবে বেঁকে গেছে পাহাড়গুলো। তারই বুক চিরে কালসেটে রঙের পিচঢালা পথ। শুন শান! কোথাও কেউ নেই! টানা গাড়ি চালিয়ে যাওয়া সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরাই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছে এই জনপদের আসল চেহারা।কিছুদূর পর পরই কয়েকটি করে পোড়া গাড়ি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও মৃত কংকালের মত ব্যাটল ট্যাংক হুমড়ি খেয়ে শুয়ে আছে! কোথাও কোন জনমানুষের চিহ্ন নেই! আকাশে চক্কর দিচ্ছে শকুন আর বাজপাখি। খাবার খুঁজতে থাকা কাক আর চিলেরাও একটু নিচু দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে।মাইলের পর মাইল এমন সায়েন্স ফিকশন মুভির বাস্তব দৃশ্যাবলির মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ করে দুএকজন মানুষ উঁকি দিচ্ছে।গাড়ির শব্দ পেয়ে আবার সরে পড়ছে। গোটা এলাকাটা স্থানুর মত বুকে গন্ধক আর বারুদের গন্ধ মেখে বিভিষিকা হয়ে শুয়ে আছে যেন..... এটাই সোয়াত! এখনকার সোয়াত!
খুব ছোট বেলায় একটা মুভি দেখেছিলাম, “রোড টু সোয়াত” নামে। কমেডিয়ান ল্যাহেরী ছিল বলে, আর রঙিন ছিল বলে আমরা হুড়োহুড়ি করে দেখতে গেছিলাম।কমেডিধাঁচের সারা ছবিতে অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছড়াছড়ি। মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখেছিলাম আমরা। ফটিক জলের ঝর্ণা, সবুজ পাহাড় আর নানা রঙের ফুলের সমাহার। সোয়াতকে বলা হতো “জামিন পার বেহেস্ত”। সেই সোয়াত এখর বিরান ভাঙ্গাচোরা মৃতপুরী। জনমানবহীন কোন এক ভিন গ্রহের ছবি যেন। কারা করল এই হাল? পাকিস্তান সেনাবাহিনী? নাকি তালিবানরা?

গত কিছুদিন ধরেই সোয়াতের আশেপাশে তালিবানরা একটু একটু করে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করছিল। শরীয়া আইন চালু করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারকে বাধ্য করেছিল তাদের শরীয়া আইনকে স্বীকৃতি দিতে। ওখানকার জনপদে র্দোদন্ড প্রতাপে খুঁটি গেঁড়েছিল তালিবানরা। এখবর আমরা সংবাদপত্রেই জেনেছিলাম। রোজই একটু একটু করে তালিবানদের অগ্রাভিযান চলছিল। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো সকলেই ছুটে এসেছিল সোয়াতে। এক্সক্লুসিভ রিপোর্টও হচ্ছিল ঘন্টায় ঘন্টায়। পাকিস্তান সরকার প্রথম প্রথম ভেবেছিল, অনেকদিন ধরে সীমান্ত প্রদেশে যেমন চলছে, এটাও তার বাইরে কিছু নয়। কিছুদিন পরে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে। না, এমনিতেই কোন কিছু ঠিক হয়নি। পাকিস্তানের পশ্চিমা বন্ধু আমেরিকা, ব্রিটেন জোর তাগাদা দিচ্ছিল তালিবানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু কে নেবে? জারদারীর সরকারের নিজেরই পায়ের তলে শক্ত মাটি নেই। তারা কিভাবে দেশে গৃহযুদ্ধের দানবকে ডেকে আনবে? শেষ পর্যন্ত তাই ডেকে আনতে হলো।

সরকার ঘোষণা দিয়ে সোয়াত এবং এর আশেপাশের বিস্তির্ণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিতে শুরু করল। লাখ লাখ মানুষ অবর্নণীয় কষ্ট স্বীকার করে রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে সরে এলো। জাতিসঙ্ঘের যেন এমন কিছুরই অপেক্ষা থাকে! তারা রাতারাতি তাবু-টাবু নিয়ে হাজির। হাজার হাজার তাবু আর লাখ লাখ মানুষ তবুও খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নিল। একাত্তরে ঠিক যে অবস্থার শিকার হয়েছিল এই বাংলাদেশের মানুষ। খাবার নেই, পানি নেই, মাথার ওপর আচ্ছাদন নেই। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তীর্থের কাকের মত খাবার যোগাড় করা। একজনের খাবার দিয়ে চার-পাঁচ জনের সংসার চালানো, সবই হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে যাকে স্ট্রং ল্যাঙ্গুয়েজে বলা হচ্ছে- হিউম্যান ডিজাষ্টার!
এমাসের ৩ তারিখ থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী সোয়াতে সর্বাত্মক আক্রমন শুরু করেছে। সরাসরি কনভেনশনাল ওয়ার! কাগজগুলোতে খবর হয়েছে দেড়শ মতো তালিবান আর ৫/৬ জন সেনা সদস্য নিহত। আসল খবর হচ্ছে নিহতের সংখ্যা এর চার-পাঁচ গুণ।হেলিকপ্টল্টার গানশিপ থেকে জঙ্গিদের অবস্থানে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ স্থল হামলা শুরু হয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে জঙ্গিরাও। চলছে তুমুল লড়াই। সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ক’দিনের অভিযানে ৬৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া নিহত হয়েছে ৫ সেনা ও ৩৫ জন সাধারণ মানুষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বৈঠকের প্রাক্কালে সোয়াতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এ অপারেশন শুরু হলো। গতকালই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওবামা-জারদারি বৈঠক। এ সময় জারদারির সঙ্গে ছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।

এদিকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কারণে সোয়াত উপত্যকা থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে এ পর্যন্ত বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ, হুহু করে এই সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের সময় সোয়াতের মিঙ্গোরা শহরে একটি এতিমখানায় আটকা পড়েছে ৮০ শিশু ও ২০ জন কর্মী। শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, জানা যায়নি। মিঙ্গোরা শহরে মূল লড়াই চললেও ধীরে ধীরে তা পুরো সোয়াত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬০ মাইল দূরবর্তী সীমান্ত প্রদেশের বুনের জেলায়ও সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে ২৭ জঙ্গি নিহত ও আটটি যান ধ্বংস হয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগজনক একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়। এতে বলা হয়েছে, জঙ্গি দমন প্রশ্নে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে পাকিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের উত্থান এবং দেশটির পরমাণু অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেছেন, তাদের পরমাণু অস্ত্র ‘নিঃসন্দেহে নিরাপদ’ হাতে আছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, সরকারের জন্য তালেবান কোনো হুমকি নয়।

এই ঘটনার সবচেয়ে অভিনব দিক হচ্ছে, আমেরিকার সকল দুঃশ্চিন্তা এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে পারমানবিক বোমা গুলোর উপর! তারা ভীষণ ভাবে চিন্তিত যে, ওই বোমা বোধ হয় যে কোন সময় তালিবানদের হাতে চলে যাবে! পাক সরকারের পূর্ণ আশ্বাসের পরও পেন্টাগন বিশ্বাস রাখতে পারছে না।তালিবানরা যে ধীরে ধীরে পাকিস্তানকে গ্রাস করে নেবে এটা এই বিষয়ে যারা সামান্যতম খোঁখবরও রাখেন তারা বলে দিতে পারবেন। মেশিনরুমের ফ্র্যাংকেনস্টাইন একসময় তার স্রষ্টাকেই যে হত্যা করে সেটা আগে লেখায়, কল্পনায় আর সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আফগান যুদ্ধের পর তার বাস্তব ডেমোনেস্ট্রেশনও আমরা দেখেছি। আফগানের পর পরই যে পাকিস্তানের পালা সেটাও গত আফগান যুদ্ধের পর থেকেই বেশ জোরেসোরে বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছিল।

পাকিস্তান যে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদের উর্বর জন্ম এবং লালন-পালন ক্ষেত্র সেটা পাকিস্তানের পূর্ববর্তি প্রেসিডেন্ট মোশাররফও স্বীকার করে গেছেন। সমাজতন্ত্রী নজিবুল্লা কে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আমেরিকাকে একেবারে উদোম হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে শুধু নয়, নিজেদের ভূখন্ডে তালিবানদের ট্রেনিং আর সংগবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে পাকিস্তান পেয়েছিল কোটি কোটি ডলার আর নিঃশর্ত আমেরিকান সমর্থন। তারই জোরে ফৌজি শাসক মোশাররফ দীর্ঘ মেয়াদে শাসন চালাতে পেরেছিলেন। সারা পাকিস্তান জুড়ে মসজিদে মাদ্রাসায় পাখির মত গুলি খেয়ে মানুষ মরছে। বিদেশী অতিথিরাও একাধিকবার হোটেলের সামনে বা হোটেলের ভেতরেই মরেছে।ক্রমশঃ পাকিস্তান হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসবাদের লীলাভূমি। সেই লীলাভূমিতে সন্ত্রাসীরা যে লীলা খেলা করবে তাতে তো অবাক হওয়ার কিছু ছিলনা! বিশ্বের কেউ অবাক হয়ওনি। কিন্তু সেই ফ্রাংকেনস্টাইনকে দমনের জন্য যে লাখ লাখ মানুষকে ভয়াবহ অব¯থায় ফেলতে হবে সেটি বোধকরি পাকিস্তান সরকারও ভাবেনি।

এখন আর একটি বিপদ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের ঘুম হারাম! তাদের সেনাবাহিনী কি তালিবান জঙ্গি নির্মূলে একাট্টা? এ প্রসঙ্গে খবর হচ্ছে, বেসামরিক সরকারের কর্তৃত্বে এ লড়াই কত দীর্ঘ হবে এবং তা কতটা সফল হবে তা কেউ বলতে পারছে না। এ অবস্থায় নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গিদের নির্মূল প্রশ্নে পাকিস্তানি বাহিনী একাট্টা নয়, দ্বিধাবিভক্ত। অনেক সামরিক কর্মকর্তা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে দ্বিধান্বিত ।
রিপোর্টে বলা হয়, জঙ্গি নির্মূল অভিযান জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও পাকিস্তানের জনগণ বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছে না। এমনকি সোয়াতের জনগণ মনে করে সরকারের সঙ্গে তালেবানদের স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সামরিক অভিযানের কারণে সোয়াতে শরিয়া আইন চালু করার ওই চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে।পাকিস্তানে জঙ্গিদের উত্থান নিয়ে এ মুহুর্তে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় দেশটির পরমাণু অস্ত্র।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বলেছেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র যাতে জঙ্গিদের হাতে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। এতে প্রচন্ডচাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এসব নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল হোয়াইট হাউসে জারদারি ও হামিদ কারজাইর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেন। এ বৈঠককে সামনে রেখে মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জারদারি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, তাদের পরমাণু অস্ত্র সঠিক হেফাজতে আছে এবং জঙ্গিরা সরকারের জন্য এ মুহূর্তে হুমকি নয়। তিনি বলেন, পাকিস্তানে ৭ লাখ সদস্যের সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তালেবান জঙ্গিরা কিছুই করতে পারবে না। জারদারি আরো বলেন, পাকিস্তানের পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই!

এতো বড় আজব কথা! আমেরিকার হাতে পরমানু অস্ত্রের সঠিক তথ্য নেই! তবে কার কাছে আছে? তাহলে কি পাকিস্তানে আমেরিকার হস্তক্ষেপ আসন্ন? যদিও এখন পর্যন্ত আমেরিকা সরাসরি তাদের সেনা পাঠায়নি, কিন্তু পাক বাহিনী কোন কারণে দ্বিধা বিভক্ত হলে বা ব্যর্থ হতে শুরু করলেই যে আমেরিকান সৈন্য নেমে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। যদিও মাঝেমধ্যেই আফগানি¯তানের ঘাঁটি থেকে উড়ে গিয়ে পাকিস্তানের অনেক ভেতরে তালিবান অবস্থানের উপর মার্কিন বিমান বোমা ফেলে আসছে। একবার যদি সরাসরি মার্কিন সেনারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে কি ঘটতে পারে? পাক বাহিনী অবধারিতভাবেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই আঞ্চলিক যুদ্ধটাই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে মোড় নিতে পারে।

এতো গেল পাকিস্তানের কথা। এর পর কি বাংলাদেশ? নিশ্চিতভাবেই তাই।আমাদের মহাজোট সরকার যতই সুখস্বপ্নে বিভোর থেকে বলুন না কেন যে, আমাদের দেশে জঙ্গিরা কোন ভীতিকর ফ্যাক্টর না। আমরা জানি ঠিক এই ধরণের কথাই মোশাররফ বলতেন। আফগানিস্তানের সাফল্যের পর যেমন পাকিস্তানে তালিবানের পুর্নজন্ম হয়েছে, ঠিক সেভাবেই পাকিস্তানের ‘সাফল্যের’ পরে এই বাংলাদেশেও তালিবান এবং তাদের বিভিন্ন ফ্যাক্শনের জন্ম এবং পুর্নজন্ম হতে পারে। পারেই। কেননা, যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ছোট সাফল্য আগামীর বড় বড় সাফল্যকে হাত ধরে ডেকে আনে। পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে তালিবান পয়দা হওয়ার মত যথেষ্ট উর্বর জন্মক্ষেত্র আছে। যথেষ্ট উপাদান সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের ভেতরকার ধর্মভীরুতাই আমাদেকে একসময় ‘ধর্মবাঁচানোর আন্দোলনে’ সামিল করে দিতে পারে। মধুমাস কেটে যাবার পরেও সরকার যদি এই আপাত ক্ষুদ্র কিন্তু আদপে বৃহৎ সমস্যার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয় তাহলে আমাদেরকেও এখনকার পাকিস্তানের মত মাশুল গুণতে হবে। হবেই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): তালিবানবিরোধী যুদ্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৩
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: দীর্ঘ লেখা, সময় করে পড়বো....আপাতত:বিষয়ব্স্তুর জন্যেই প্লাস।

আমাদের নেতানেত্রীরা (খালেদা জিয়া সম্প্রতি দেশে জঙ্গি নেই বলে মন্তব্য করেছেন/আজকে দেখলাম এরশাদও একই কথা বললেন! পাকিস্তানেও কিন্তু মাস দুয়েক আগেও তালেবানের নেটওয়ার্ককে অবহেলা করা হয়েছে এভাবেই!) তো নিশ্চিন্ত এ ব্যাপারে।

প্রথম আলোর একটা রিপোর্ট দেখলাম, মালয়েশিয়া ভিত্তিক এক জঙ্গি সংগঠন শীর্ষ দূতাবাসগুলোতে উড়োচিঠি পাঠিয়ে বলেছে, তাদের প্রধান বিস্ফোরক বস এখন বাংলাদেশে! আতংকের কথা!

১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:০৬

লেখক বলেছেন:

আগে বৈষম্য আর অত্যাচারিতের আশ্রয়স্থল ছিল সমাজতন্ত্র। সোভিয়েত ভাঙ্গার পর এখন মনে করা হয় আশ্রয় হতে পারে ধর্মাত্মবাদে। তাই যেখানেই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার, সেখানেই উগ্র মৌলবাদে আশ্রয়। সুতরাং এদের বিকাশ ঘটবেই। তা সে যতদিন পরেই হোকনা কেন। আমাদের নিরাপদ ভাবার কোন কারণ নেই।

২. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৫
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন: ঠিক সেভাবেই পাকিস্তানের ‘সাফল্যের’ পরে এই বাংলাদেশেও তালিবান এবং তাদের বিভিন্ন ফ্যাক্শনের জন্ম এবং পুর্নজন্ম হতে পারে। পারেই। কেননা, যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ছোট সাফল্য আগামীর বড় বড় সাফল্যকে হাত ধরে ডেকে আনে। পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে তালিবান পয়দা হওয়ার মত যথেষ্ট উর্বর জন্মক্ষেত্র আছে। যথেষ্ট উপাদান সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের ভেতরকার ধর্মভীরুতাই আমাদেকে একসময় ‘ধর্মবাঁচানোর আন্দোলনে’ সামিল করে দিতে পারে


চরম সত্য কথা
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৩৬

লেখক বলেছেন: আমরা কি এভাবেই সারা দেশব্যাপী বোমা হামলায় জর্জরিত হলাম না! আজ যাদের অবহেলায় আমলে আনছি না, কাল তারাই হয়ত আমাদের সকল মনযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে!!

৩. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: আমেরিকা নতুন করে কোন যুদ্ধে জড়াবে না, তারা চাইছে পাকিস্তানীরা যাতে একে অন্যকে মারে, পাকিস্তানী সৈন্যরা যদি তালেবানদের ক্ষতম করতে পারে তাহলে কম খরচে,আমেরিকান সৈন্য না মেরে এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা গেল।

এতটা সোজা হলে খুবই ভাল ছিল, কিন্তু কোন দল জিতবে সেটা এখনও নিশ্চিত না, জেতার পরে পরমাণু অস্ত্রের ক্ষমতা কার কাছে যাবে, এ বিষয়গুলির ফয়সালা দরকার।

বিপন্ন মানুষগুলোর জন্যে সহমর্মীতা ।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:০৫

লেখক বলেছেন: বিপন্ন মানুষ সারা বিশ্বে একই রকম বিপন্ন। এই মানুষদের পরিচয় কি, জাত কি, ধর্ম কি? সেটি মোটেই বিবেচ্য নয়। যারা বিপন্ন, তারা সব দেশে একইভাবে বিপন্ন।

ধন্যবাদ নাজিম, চমৎকার মন্তব্যের জন্য।

৪. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৯
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: পড়লাম.............যুদ্ধের খবর পড়তে ভাল্লাগে না। আপনার লিখাটা বিশ্লেষণধর্মী তাই পড়লাম। কিন্তু কি হয় বলেন।


কিছুই হয় না।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:০৭

লেখক বলেছেন:
যেদিন থেকে মানুষ গুহা ছেড়ে দালানে বসবাস করতে শুরু করেছে, সেদিন থেকেই তার জন্য যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আমরা চাইলেও যুদ্ধকে এড়াতে পারিনা।

কেবলমাত্র একটি যুদ্ধই পারে আর একটি অন্যায় যুদ্ধকে প্রতিহত করতে।

৫. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:২৫
শয়তান বলেছেন: আপনি একটা প্রচ্ছন্ন ইংগিত দিয়েছেন পাক সামরিক বাহিনীতে দুইটা মত পার্থক্যতা নিয়ে । এই দ্বিধাবিভক্তির ব্যপারটা আরেকটু খোলাশা করবেন কি ?
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন:
খেয়াল করবেন টার্ম গুলোঃ
*"ল্যাড়কে লেঙ্গে হিন্দুস্তান"। পাক সেনারা কিন্তু কখনো ভারত বলেনা! তারা মনে করে তারা "পাক"ভূমির মানুষ। ওরা "হিন্দু(নাপাক)"ভূমির।

*আচ্ছে ইনসান বান্না তো ফৌজি বানো।

*সিনে পার গোলি খাওগি তো বেহেস্ত যাওগি-কসম খুদাকি।

*মেরা শাহী পাঁচসো সাল তাক হিন্দুস্তাঁকি হুকুমাৎমে রাহি(মুসলিম শাসন)

*খুদা ক্যারে তো মুসলিনে দুনিয়াকি কব্জা কারেগা।

*মায়দানে জং পার মর মিট্টি তো শাহীদ বানোগি।বেহেস্ত তুমহারি হ্যায়।

*হামারি সাত এটোম বাগায়রা বাগায়রা ভি নেহি, খুদা ভি মওজুদ হ্যায়।

এই শ্লোগানগুলি পাক সেনাদের প্রিয় শ্লোগান। একসময় এখানেও চালু ছিল(এখনো এই মাজেজা বঙ্গ দেশেও বিদ্যমান)। এর থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তাদের মধ্যে ধর্ম কত মারাত্মকভাবে গেঁথে আছে। তালিবান অর্থ- তালেব-ই-আলীম, অর্থাৎ আল্লার পথে ধর্ম বিষয়ে পন্ডিৎ। তাই তালিবানদের প্রতি স্বভাবতই সেনাদের মহব্বত আছে। সরকার তালিবানদের সাথে যে শরীয়া চুক্তি করেছে, সেটা বাস্তবায়নের আগেই তাদের নির্মূল করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছে। এটাকে সেনাদের একটা বড় অংশ "ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" মনে করছে! আরো মনে করছে, নাসারা আমেরিকার পরামর্শে জারদারী একাজ করছে। আমরা কেন "ভাই"কে মারব? আমরা তো তৈরি আছি হিন্দুকে মারার জন্য! এইধরণের ভাবনা আর মার্কিনের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ অনেক সেনা কর্মকর্তা পছন্দ করছে না। যদি কোন কারণে সেনারা ব্যর্থ হয়, তাহলে এই বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। সেটা সেনাদের ভাবনায়তেও আছে। তাই তারা চায়না, মার্কিনীরা এই অজুহাতে এসে মাতব্বরি করুক। মোটামুটি এই হচ্ছে ফ্যাক্ট।

৬. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:২৫
শিট সুজি বলেছেন: বাংলাদেশও খুব একটা নিরাপদ না। তবে তালেবানরা পাকিস্তানের বিভিন্নরকম জনসমর্থন পেয়েছে। ধর্মই ছিল এখানে মুল ফ্যাক্টর।
পাকিস্তানের অনেক মানুষ আমেরিকা, ইসরাইল, ভারতসহ বিভিন্ন কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং শহীদ হওয়ার জন্য মোটিভেটেড। বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা হলেও ভিন্ন। ধর্মপ্রান লোক এদেশে অনেক হলেও ধর্মান্ধের সংখ্যা কম। হালকা পাতলা কিছু সংগঠন আছে। গত সরকারের আমলে আস্কারা পেয়ে এদের এক দল বিরাট মহড়া দেখিয়ে গিয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় সরকারের আন্তরিক নজরদারি থাকলে জঙ্গিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। এজন্য মাদ্রাসা শিক্ষাব্যাবস্থা ঢেলে সাজান দরকার।

চমৎকার লেখা । +
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:১৫

লেখক বলেছেন:
"পাকিস্তানের অনেক মানুষ আমেরিকা, ইসরাইল, ভারতসহ বিভিন্ন কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং শহীদ হওয়ার জন্য মোটিভেটেড। বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা হলেও ভিন্ন। ধর্মপ্রান লোক এদেশে অনেক হলেও ধর্মান্ধের সংখ্যা কম। হালকা পাতলা কিছু সংগঠন আছে। গত সরকারের আমলে আস্কারা পেয়ে এদের এক দল বিরাট মহড়া দেখিয়ে গিয়েছে।"

এটাই যদি শেষ কথা হতো তাহলে বোধকরি আমাদের খুব একটা চিন্তার কিছু ছিলনা। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ ভাবে ভাবা যাচ্ছেনা। আমি এভাবে দেখি--

"চূড়ান্ত বিচারে এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়"। প্রায় বেদবাক্যে পরিণত হওয়া এই কথাটির ওপর আমার বিন্দুমাত্র আস্থা নাই। আমি মনে করি এই বাণীটি শাসকচক্র তাদের স্বার্থের কারণে তৈরি করেছে, এবং বিস্তার ঘটিয়েছে। এটা আমেরিকাকে কিছুটা খুশি করার জন্য বানানো। একাত্তরের পরে মাত্র দেড়/দুই দশকে একটি দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন র্রেডিক্যাল চেঞ্জ আসার কথা নয়, তার পরও এসেছে! সেটা ওই ভেতরে ভেতরে সুপ্ত ধর্মান্ধতা লালন করার জন্যই।

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন: নিশ্চিভাবেই।

৮. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৫০
গোলন্দাজ বলেছেন: মাদ্রাসা শিক্ষাব্যাবস্থা ঢেলে সাজান দরকার। ++++
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:১৮

লেখক বলেছেন:
তার পাশাপাশি আরো কিছু কাজ করা দরকার। কি কাজ ? সরকার তা ভাল করেই জানে। প্রথম বন্ধ করা দরকার জুম্মার নামাজের খুৎবা। এটা এখন আর ধর্মীয় কোন বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। পুরোটাই রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা।

৯. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৫৮
শয়তান বলেছেন: তাহলে তালেবানদের সাথে জারদারী সরকারের করা শরীয়া চুক্তিটা কি কোন আইওয়াশ ছিল ?
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন:
না, আইওয়াশ না। বাধ্য হয়ে বিদ্রোহ দমন করতে ওই চুক্তিটা গিলতে হয়েছিল, কিন্তু চুক্তির পর পরই তালিবানরা বিপুল উদ্যোমে ঝাঁপিয়ে পড়ে! জারদারী ভেবেছিল চুক্তির পর তারা ঠান্ডা হয়ে তাদের আঞ্চলিক দাবি-দাওয়া নিয়েই থাকবে। তারা যে পুরোটা গ্রাস করতে উদ্যত হবে সেটা ভাবেনি।

১০. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৫৮
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:

বাংলাদেশ তালেবানদের হাতে পতন হবেনা বলে আমি মনে করি। আপনি যদি তালিবানদের উৎপত্তির দিকে তাকান তাহলে দেখবেন এই তালিবান কারা। তালিবান মূলত পশতুন উপজাতির একটা আন্দোলন।

যাকে এভাবে ধরি,আফগানিস্তানে ৭০% এর ও বেশী হচ্ছে পশতুন উপজাতি গোষ্ঠী। বাকি যারা আছে তারা ,উজবেক ,তাজিক ও হাজারা জাতিগোষ্ঠী। এখানে বলে রাখি তালিবানদের বিরুদ্বে যে যে দলটি বরাবরের মতই যুদ্ব করে আসছে ওরা হচ্ছে উত্তরান্চলীয় জোট। যারা এই শেষের তিন জাতি গোষ্ঠী। বর্তমানে উজবেক ও তাজিক দলটি রাশিয়ার অনুগত। আর হাজারা জাতিটা শিয়া বলে ওরা ইরানের প্রতি অনুগত। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্বে যুদ্বের সময় এই পশতুনরাই বৃহৎ ভুমিকা পালন করে অন্যান্যদের চেয়ে। এই পশতুনরাই বরাবরই এই দেশের প্রধান হয়ে থাকেন। জহির শাহ হতে মোল্লা ওমর হয়ে হামিদ কারজাই। আরেকটা কথা হলো এরা সবাই কান্দাহারের অধিবাসী। এখনো আমেরিকানদের বিরুদ্বে যারা লড়াই করে যাচ্ছে ওরা সবাই পশতুন আফগানী। এদের মাতৃভাষা পশতু। এই পশতুনরা আগে পুরো আফগান জুড়ে এবং পাকিস্তানের উত্তরান্চালীয় এলাকায় নিয়ে থাকতে। পরে বৃটিসদের দেশ ভাগের সময় এই পশতুনদের দুইভাগ করে দেয়। এক ভাগ পড়ে যায় পাকিস্তানে যা ক্ষুদ্র অংশ আর বাকীটা আফগানিস্টানে। এখানে বলে রাখি যে পাকিস্তান অংশে যে পশতুনরা পড়ে গেছে ওদের সবাই পাঠান বলে ডাকে।

এরা দুটি দেশে থাকলে ও এদের বন্ধন বরাবরের মতই অটুট। যেহেতু একই ভাষা এবং একই জাতি তাই এরা সকল সামাজিক কার্যক্রম একসাথেই করে। সুখ দুঃখ বিয়ে শাদী সবই হয়। কোন বর্ডার বা দেয়াল নেই এদের মাঝে। এই উপজাতিরা স্বাধীনচেতা বলে পাকিস্তান সরকার কখনোই এদের খোচাতে চায়নি। সীমান্ত ছিল অরক্ষিত।


আফগানিস্তানে সোভিয়েত হামলা শুরু হলে এই আফগান পশতুনরা সহ অন্যরা পাকিস্তানের পাঠান বা পশতুনদের এলাকা পেশাওয়ার হতে কোয়েটা পর্যন্ত শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।

অনেকটা বাংলাদেশের মত। আমরা যেমন ভারতে শরনার্থী হয়েছি এবং ট্রেনিং নিয়েছি যুদ্ব করার জন্য। ওরা ও তেমনই করেছে।

তখন পাকিস্টান ছিল আতংকিত। যদি কম্যুনিজমের হাতে আফগানিস্তানের পতন হয় তাহলে পরবর্তী টার্গেট হবে পাকিস্টান। আমেরিকা এবং সৌদীদের সহয়তায় তৎকালিন জিয়াউল হক আফগানিদের ট্রেনিং সহ সমরাস্র সরবরাহ করে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন পরাজিত হয়। মাঝখানে গৃহযুদ্বের পর তালিবানরা ধীরে ধীরে আফগানিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

যা পশতু মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে কান্দাহার হতে শুরু হয়।


বাকিটা পরে নিয়ে আসছি।

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:২৮

লেখক বলেছেন:

আপনার এই দুই পর্ব দিয়ে একটা আলাদা পোস্ট হতে পারত, ভাববেন নাকি !

১১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:১২
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @কায়েস মাহমুদ..................আলোচনার অপেক্ষায় আছি।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:১৫

লেখক বলেছেন:
কায়েস মাহমুদের প্রথম লাইনটার সাথে শেষের কথাগুলো ঠিক খাপ খেল না! দেখা যাক আরো কিছু আসুক।

১২. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:১৫
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: বাংলাদেশের জঙ্গী আর তালেবান পছন্দগো পাকিস্তানী রপ্তানী করা যাইতে পারে, তাগো ভাইব্রাদারগো পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১২

লেখক বলেছেন:
জেহাদও রপ্তানী হতে পারে। একবার আমরা আল-কায়দা ভাইদের ওখানে রপ্তানী হয়েছিলাম।

১৩. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:২৫
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:

বাকিটা কালকে দেবো। বিদুৎ চলে গেছে। ল্যাপটপের চার্য ও শেষ পর্যায়ে।

ধন্যবাদ ভালো থাকুন।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৩৩

লেখক বলেছেন:

আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার প্রথমটুকুও বেশ। কাল বাকিটুকু দিলে আমরা উপকৃত হবো।
ভাল থাকুন।

১৪. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৩৭
দিগন্ত বলেছেন: Click This Link

এই লেখায় পারভেজ হুদভয়ের সাক্ষাতকারে বিষয়টি এসেছে। কিছু অংশ তুলে দিলাম -

এই তালিবানদের কি সত্যিই পাকিস্তান-সমাজে কিছু অবদান আছে?

পৃথিবীর সর্বত্র মানুষ যা চায় পাকিস্তানীদেরও তাই দাবী। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান, চাকরি-বাকরি, উন্নত বিচারব্যবস্থা ও উন্নয়নমুখী সরকার আর সুরক্ষা। এর সাথে আছে শিক্ষা ও চিন্তা ও ধর্মাচরণের স্বাধীনতা যা ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইটস ডিক্লারেশনে আছে। এর পরে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব, বিদেশনীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু। এ কারণে, পাকিস্তানে এই তালিবান-গোত্রীয়রা কোনো অবদান রেখেছে বলে মনে হয় না। তারা পরিবার-পরিকল্পনা-বিরোধী, সংখ্যালঘু-বিরোধী, নারীশিক্ষার বিরোধী। বহির্বিশ্ব সম্পর্কে এদের কোনো জ্ঞান নেই, জানার কোনো ইচ্ছাও নেই। তারা শুধু যুদ্ধের মাধ্যমেই সমাধান খোঁজে। পাকিস্তানে এবারের ভোটে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে জনগণ এদের পছন্দ করে না।

পাকিস্তানে কিছু গোষ্ঠী আছে যারা আমেরিকা-বিরোধী ও কড়া ধর্মীয় আইন প্রবর্তন করার পক্ষে, আর উল্টোদিকে দেশের সরকার আমেরিকার বন্ধুদেশ বলে নিজেদের দাবী জানায়। এই মেরুকরণের কারণ কি? পাকিস্তানে উগ্রবাদের উত্থানে এই মেরুকরণের ভূমিকা কতটা?

পাকিস্তানে মৌলবাদী শক্তির উত্থানের মূলে আছেন আমেরিকা ও রোনাল্ড রেগানের সমর্থিত পাকিস্তানী জেনারেল জিয়া উল হক। আজ থেকে বছর পঁচিশেক আগে, এই দুই নেতা হাত মিলিয়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের তাড়ানোর জন্য দেশে উগ্রবাদী শক্তির বীজ বপন করেন। সেই সময়ে মৌলবাদের প্রসারে আমেরিকা খুশীই হত, কারণ সেই প্রসার তাদের লক্ষ্যপূরণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করত। সেই একই সময়ে, জেনারেল জিয়ার আমলে সারা দেশে একটা সামাজিক পরিবর্তন দেখা দেয়। সব সরকারি অফিসে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করা হল, জনসমক্ষে অপরাধীদের বেত্রাঘাত করা শুরু হল, রমজানে উপোস না করলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের সময় ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানেরও পরীক্ষা নেওয়া শুরু হল এবং সব মুসলিমদের জন্য জিহাদ বাধ্যতামূলক করা হল। কিন্তু আজকে সেই উগ্রবাদীদের সাথেই সরকারের লড়াইতে যেতে হয়েছে, আবার সেই আমেরিকারই নির্দেশে। দেশের আর্মি ও সরকার আমেরিকার সাথে থাকলেও তাই জনগণ স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা বিরোধী।

সরকারের উগ্রবাদ-বিরোধী যুদ্ধ কি আপনি সমর্থন করেন?

জীবনে এই প্রথমবারের মত আমি মনে করি আর্মিকে সমর্থন করা দরকার, যতক্ষণ তারা নিরীহ লোকদের ছেড়ে শুধু উগ্রবাদীদের খুঁজে মারতে পারবে। দুঃখের বিষয়, নিজেদের কাজ কমানোর জন্য আর্মি এখন কোনো গ্রামে কিছু উগ্রবাদী আছে বলে সন্দেহ করলেই গোটা গ্রামশুদ্ধু উড়িয়ে দিচ্ছে। এরকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

পাকিস্তান একসময় তালিবানদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে। আল-কায়দার সদস্যদের ধরে দেবার জন্য সদস্যপিছু পাকিস্তানকে সি-আই-এ টাকা দেয়। সেই টাকা নাকি পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তালিবানদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করে?

আর্মি তালিবানদের হাতে পর্যুদস্ত হলেও তারা এখনও “ভাল” আর “খারাপ” তালিবানদের মধ্যে তফাৎ করে। “ভাল” তালিবানেরা শুধু আমেরিকা, ন্যাটো ও ভারতীয়দের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, আর “খারাপ” তালিবানেরা পাকিস্তানের আর্মির বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায়। যখন আমেরিকানরা আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে, এই “ভাল” তালিবানেরা তখন আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কে সাহায্য করবে। জালালুদ্দিন হাক্কানি এরকমই এক “ভাল” তালিবান নেতা। আবার মৌলানা ফজলুল্লাহের মত নেতা হলেন “খারাপ” তালিবান কারণ এরা পাকিস্তান আর্মিকেও ছেড়ে কথা বলেন না। আর্মি সাধারণত এদের “ভারতের চর” আখ্যা দিয়ে প্রচার চালায়।

পাকিস্তান নিউক্লিয়ার স্টেট। এই নিউক্লিয়ার বোমা তালিবান বা আল কায়দার হাতে চলে যাবার সম্ভাবনা কতটা?

আমি বেশী চিন্তিত এই ভেবে যদি কোনোভাবে কিছু নিউক্লিয়ার বোমা তৈরীর অন্তর্বর্তী পদার্থ (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) তাদের হাতে চলে যায়। মজার কথা পশ্চিমের দেশগুলো আজকাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরীতে ততটা মনযোগী নয়। নিউক্লিয়ার বোমা আজ আর ক্ষমতার মেরুকরণ করে না, কারণ সুস্থচিন্তার কোনো রাষ্ট্র কখনই এই বোমা ব্যবহার করতে পারবে না। এর ফলে আজকে নিউক্লিয়ার বোমা পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকেই সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব। জঙ্গীদের হাত থেকে বোমা বাঁচানোর এই একটা পথই খোলা আছে।
১৫. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৪০
দিগন্ত বলেছেন: প্রেসিডেন্ট জারদারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে উনি উগ্রবাদীদের খুঁজে তাদের ট্রেনিং ক্যাম্প ধ্বংস করবেন। কিন্তু কাজে সেরকম কোনো লক্ষণ দেখছি না। উনি কি এর চেয়ে বেশী কিছু করতে চান না? নাকি এর থেকে বেশী কিছু করার ক্ষমতাই ওনার নেই?

আসল ক্ষমতা পাকিস্তানের আর্মির হাতে। এই উগ্রবাদীদের সাথে লড়াইতে দু’হাজার সেনা মারা পড়েছে। তাও আর্মি ভেতর থেকে নিশ্চিত নয় যে এই উগ্রবাদীরা পাকিস্তান দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখার পরিপন্থী। আমি এদের এই দ্বিধার কারণ বুঝি। বছরের পর বছর ধরে আর্মিতে এই বুঝিয়ে লোক নেওয়া হয়েছে যে তারা ভারতের সাথে যুদ্ধ করবে ও ইসলামকে রক্ষা করবে। কার্যত, এখন তারা লড়াই করছে এমন এক দলের সাথে যারা ইসলামের আরো বড় রক্ষক। শুধু তাই নয়, আর্মিকে এখন ভারতের সাথে যুদ্ধও করতে হচ্ছে না। এই ধোঁয়াশা থেকেই তাদের ডিমরালাইজেশন আর তার সাথে যোগ হয়েছে গণসমর্থনের অভাব। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানী সেনাদের অনেকেই তাই যুদ্ধের আগেই আত্মসমর্পণ করে দিচ্ছে।

এই লড়াই-এর অন্তিম ফলাফল সম্পর্কে আপনার ভবিষ্যৎবাণী কি? পাকিস্তানে উগ্রবাদীরাই জিতবেন, না পশ্চিমারাই আর্মির সাহায্যে তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হবেন?

সমস্যা খুবই গুরুতর কিন্তু সমাধান অসম্ভব কিছু নয়। গত এক দশকে আমেরিকার সাম্রাজবাদী নীতি ও ইরাক আক্রমণের ফলে জনমানসে আমেরিকা বিরোধী এক মনোভাব তৈরী হয়েছে যার ফলে যারাই আমেরিকার বিরোধিতা করছে তাদেরই তারা সমর্থন করতে পিছপা হচ্ছে না। পাকিস্তানীরা তালিবানদের সামাজিক ও আচার-আচরণগত নীতি সমর্থন করে না। অথচ তারা আমেরিকা-বিরোধী বলে গণসমর্থন পায়। আমি আশা রাখছি বারাক ওবামা ক্ষমতায় এলে আমেরিকা পাকিস্তানের যে ক্ষতি করেছে তার কিছু ক্ষতিপূরণ করবে। কিন্তু মূল কথা হল, পাকিস্তানীদের নিজেদেরই এই সমস্যা সমাধান করতে হবে, বুঝতে হবে কোনো সভ্য দেশ হিসাবে দাঁড়াতে গেলে এসব চলে না। পাকিস্তানকে পশ্চিমা সমর্থন কিছুটা গোপন রাখতে হবে হয়ত। একই ভাবে, পাকিস্তানকে আলাদা করে শাস্তি দিলে বা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তালিবান বা সমগোত্রীয়রা রাষ্ট্রের আরো বেশী ক্ষমতা দখল করে ফেলবে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:০২

লেখক বলেছেন:

খুব ভাল একটি কাজ করলেন। আপনার এই লিংক আর লেখাটি অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। আমরা মোটামুটি পারভেজ হুদভয়ের সাথে একমত। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে আরো কিছু খুটিনাটি বিষয় আসে বটে, তবে এটাই বর্তমান পাকিস্তানের অবিতব্য।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:০৫
তনুজা বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ -------অনেকগুলো অ্যাংগেল থেকে এসেছে ।
মানবিক বিপর্যয়, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে দ্বিধাবিভক্তি, আমেরিকার উদ্বেলিত শোক, সরকারের চিরাচরিত দৃষ্টিভ্রম ------রাষ্ট্র যখন তার সর্বস্ব পণ করে আত্মহত্যার মিশনে-- কে পারে উদ্ধার করে

ভুল থেকে ভুলে চাক্রিক এক বিপর্যয়। আগে ধারণা ছিল এবং সত্য যে বাংলাদেশ থেকে মাইগ্রেশন সর্বাধিক কিন্তু এদিকে না এলে বুঝতাম ও না ঐ রাষ্ট্রের কথা । ছাত্র থেকে মধ্যবিত্ত সহস্র পরিবার নীরবে ছেড়ে আসছে ------প্রতিবছর নাম লেখাচ্ছে অভিবাসীর খাতায় -----তাদের সন্তানরা বেড়ে উঠেছে ইংরাজি মাধ্যমে তারা জানে দেশের ভবিষ্যত ইমিগ্রেশন

পাকিস্তান --আমাদের থেকেও দুর্ভাগা জনগণ , আরও অনিশ্চিত নিয়তি যে দেশকে তাড়া করছে
১০ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:০১

লেখক বলেছেন:

এই দিকটা আমার ভাবনায় ছিলনা! এমনিতে জানি ওরা আমাদের চেয়ে অনেক আগে থেকেই বিদেশমুখি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে এই পরিমান ক্ষয়ে গেছে সেটা জানলাম।

একটা দেশ, জন্ম থেকেই যে যুদ্ধকে সবকিছুর সমাধান ভেবে আসছে। আর সেভাবেই তারা নিজেদেরকে তৈরি করেছে।

জনসাধারণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিন্দু পরিমানে মূল্য দেয়নি পাকিস্তানী শাসকরা। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দেশটা একসময় চার-পাঁচ খন্ডও হয়ে যেতে পারে।

১৭. ১০ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:০৬
শয়তান বলেছেন:
ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দেশটা একসময় চার-পাঁচ খন্ডও হয়ে যেতে পারে।

--------- একমত । এটাই হয়ত শেষ পরিনতি ।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ এটাই শেষ পরিণতি!

১৮. ১০ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:১৭
তনুজা বলেছেন: পাকিস্তান নিয়ে আমাদের অনুভূতি দুইরকম -----ইতিবাচক বা নেতিবাচক ------দুটোই চরম

কিন্তু একটি দেশের মুক্তবুদ্ধির পক্ষশক্তির পেইনটা কি পরিমাণ ভাবেন,
তারা এই নিশ্চিত নির্ধারিত পুর্বাভাসপ্রাপ্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর দেখছে নীরবে

অর্ধশতকের ও বেশি হয়ে গেল
এই সময়টায় তাদের জাতিগত উপার্জন বলতে গেলে কিছুই না

তারপরও আত্মঘাতী ভুল থেকে বের হতে পারে নি--------আমার খারাপ লাগে যখন শিল্প -সংস্কৃতি- সম্পদে সমৃদ্ধ একই 'উপমহাদেশীয়' সভ্যতার অংশ (শব্দটা ইচ্ছে করে ভুল দিলাম) এভাবে ক্ষীণ হতে থাকে অরিজিনটা কিন্তু ভিন্ন নয়----এই দুর্ভাগ্যে তাই বেদনাই বোধ করি।
গৌরবের কিছু হলে তাও বহন করতাম অবশ্যই ----নৃতাত্ত্বিক মূল্যবোধে


এত ঈর্ষা, এত অস্থিরতা ----একদিকে শোষণমুখি,জাত্যভিমানী, সামন্ততান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র , অন্যদিকে নিজেরাই নিজেদের ভুলের আর আন্তঃপ্রাদেশিক দ্বন্দ্বের শিকার
১০ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯

লেখক বলেছেন:
এই মন্তব্য নিয়ে বড় করে লেখার উপাদান আছে। আজ পারছি না। এক্ষুনি ঘুমাব। কাল থেকে আবার রোজনামচা!

১৯. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:০৪
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: একটা দেশে যখন সরকারের চাইতে অন্য কোন গোষ্ঠীর ক্ষমতা বেশি হয়, তখনি যুদ্ধ শুরু করতে হয়। পাকিস্তান এখন যুদ্ধ না শুরু করলে যদি আমেরিকা সৈন্য আনতো, আমার সাপোর্ট থাকতো। আমি অবাক হইয়া ভাবি, একটা পুরো জাতি এমন হারামি আর ঘাউড়া কেমনে হয়?


আর এই বিষয়েও কনফিডেন্ট, যেহেতু আমাদের দেশে পাবলিক সাপোর্ট জঙ্গিদের পক্ষে নাই, জঙ্গিদের দৌড় তাই চোরাগোপ্তা হামলা পর্যন্তই। বিপ্লব ওদের কর্ম নয়। ৬৪ জেলায় পটকা ফুটাইয়া নিজেদের গায়ে ফোস্কা ফেলা ছাড়া কিছু করার সামর্থ্য ওদের নাই। তবে সাম্প্রতিক কিছু এনজিওর জঙ্গি ফান্ডিং ব্যাপারটা উদ্বেগজনক।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:২৭

লেখক বলেছেন: ব্যাপারটাতো আমাদের জঙ্গিরা ঘটাবেনা। ঘটাবে তাদের গডফাদাররা। সেটা যে ঘটাবে, তাতো আলামতেই দেখা যাচ্ছে! মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ত্রিশ লাখ জঙ্গির শুককীট পয়দা হয়েছে এই জনপদে। তারা তো দিনদিনই বাড়ছে। সেই বাড়ায় বাতাস দিচ্ছে আরবের এনজিও, আর আমাদের ঈমানীজোশঅলা বুজর্গরা। ভয়টা ওখানেই।

২০. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৫
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
বাকিটুকু এখানে দিচ্ছি,

তালিবানদের আফগানিস্তান দখলের পরেও পাকিস্তানের পশতু জাতির এলাকাগুলো শান্তই ছিল। সোভিয়েতের যুদ্বের সময় যারা শরনার্থী হয়ে পাকিস্তানে এসেছে ,পাকিস্তানি পশতুনরা (পাঠানরা ) তাদের অনেককেই নিজেদের জায়গা ছেড়ে ঘর বাধঁতে দিয়েছে। নিজেদের ভেড়া,ছাগল ওদেরকেও কিছু দিয়েছে। ওদের আফগানিস্তানে নানার বাড়ি আর নিজের বাড়ি পাকিস্তানে। ফুফু বা খালার বাড়ি হয়ত পাকিস্তানে কিন্তু নিজের বাড়ি আফগানিস্তানে। ওদের আসা যাওয়ায় কোন ভিসা লাগেনা , পাসপোর্ট লাগেনা।

পাকিস্তানের জন্মের পর হতে পাক-আফগানের বিশাল সীমান্ত কখনোই পাহারা দিতোনা। পাকিরা দেওয়ার দরকারও মনে করত না। এতে পাকি সরকারের অনেক খরচ বেচে যেত।

সোভিয়েত আফগানিস্তানে প্রবেশ করার পর পাশ্চাত্যের মিডিায়র নোংরা প্রচারনা চালানো হয়।
পাকিস্তানিদের বোঝানো হয় যে আফগানিস্তান যদি কম্যুনিজমের হাতে পতন হয় তাহলে পাকিস্তানও তাদের হাতে পতন হতে সময় লাগবেনা।ওরা তোমাদের মসজিদ মাদ্রাসা সব ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক পরে জিমি কার্টারের সাথে মিলিত হয়। তখন আই এস আইয়ের প্রধান ছিল গেনারেল হামিদ গুল। সে হচ্ছে পাকিস্টানি পশতুন বা পাঠান।
অভিযোগ আছে যে এখোনো সে বিভিন্নভাবে পাকিস্তানি তালিবানদের সহয়তা করে।

ছয়টা জিহাদি সংঘঠনের অধীনে আফগানরা গেরিলা যুদ্ব শুরু করে সোভিয়েতের বিরুদ্বে। আফগানিরা কখনোই কনভেনশনাল বা গতানুগতিক যুদ্ব করেনি। যেহেতু অস্র সস্রে তারা অনেক পিছিয়ে আছে তাই ওরা গেরিলা স্টাইলেই যুদ্ব করত।
গেরিলা যুদ্ব হচ্ছে, হিট এন্ড রান। আঘাত কর এবং পালিয়ে যাও বা এমবুশ করা।

হিট করেই রান করা মানে কারো ঘরে বা বাড়িতে আশ্রয় নিবে।ওখানে পালিয়ে থাকবে ,গৃহস্হ ওদের নিজের খাবার দিয়ে দিবে খাওয়ার জন্য বা ভাগাভাগি করে খাবে।

পুকুরের পানি ছাড়া যেমন মাছ বাচঁতে পারেনা , জনসাধারনের সাহায্য সমর্থন ছাড়া গেরিলা যুদ্ব চলতে পারেনা।

পশতু তালিবানরা ক্ষমতার সময়ও পাকিস্তানের পশতু এলাকা ছিল ঠান্ডা। ওখানে পাকিস্তানি প্রশাসন ছিলনা। বিভিন্ন উপজাতির বয়িজৈষ্ঠরাই লয়া জিগরার কাউন্সিলের মাধ্যমে ঐ এলাকা শাসন করা হয়।
সোভিয়েত যুদ্বের সময় এরা ও আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ব করেছে। ফিরে এসেছে ব্যাপক অস্র সস্র নিয়ে। এখনো এদের সবার ঘরে ঘরে কয়েকটা একে-৪৭ আছে। সাথে আছে রকেট চালিত গ্রেনেড । আরো বিভিন্ন ধরনের অস্র। এদের পরিবারের সবাই অস্র চালনায় পারদর্শী।

২০০১ এর পরে তালিবানদের পতন হয়। তালিবানরা এখানে পালিয়ে আসে,সাথে আল-কায়েদা। এরা তাদের সাধ্য মত সাহায্য করে। এরা বর্ডার পার হয়ে আমেরিকান সৈন্যদের আক্রমন করে আবার ফিরে আসে। আমেরিকানরা পাকিস্তানের প্রতি অনুরোধ করে পাক সৈন্য বর্ডারে নিয়ে এসে এই পশতু পাকিস্তানিদের বাধা দেওয়া ও লুকানো তালিবান আর আল-কায়েদাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।

পাকিস্তান হুকুম পালন করার জন্য এগিয়ে আসে। শুরুতে এই পাকি পশতুনরা সৈন্যদের এড়িয়ে যেতে চাইলে এখন আর পারছেনা ওডের বাধা দেওয়াতে। শুরু হয় সংঘর্ষ পাকি সৈন্যদের সাথে এদের।

২০০৪ সালের দিকে তরুন উপজাতিয় নেতা বায়তুল্লাহ মেশুদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। তারপর দ্রুত এরা বহিবিশ্বে তালিবান নামে পরিচিত হয়।
মোশার্রফের সময় এরা চুক্তি করে মাঝে মাঝে শান্ত থাকলেও লাল মসজিদ হামলার পর এরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিদের বিমান বাহিনীর সদস্যদের বহন করা বাসে আত্বঘাতি হামলা, আইএসআই এর লোকদদের বহন করা বাসে আত্বঘাতি হামলা সহ অনেক সামরিক অফিসারকে এরা হত্যা করে।

এখানে লক্ষ করুন এরা তালিবানদের শাসন আমলে ও এখানে কোন ইসলামি শরিয়া আইন করার জন্য কিছুই করেনি। পাকিদের ভুল মার্কিন তোষননীতির জন্যই এদের উথ্থান।

২০০২ হতে এই পর্যন্ত পাকিস্তান জেট প্লেন দ্বারা প্রচুর বম্বিং করত এই এলাকায়।
আমি দেশের বাইরে থাকার সময় অনেক পাঠানদের সাথে কথা বলেছি ।

এমনিতেই এই পাঠানদের ক্ষোভ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্বে।ওদের ওখানে হাসপাতাল নেই।ওদের মেয়েরা প্রসব বেদনায় কাতরাতে কাতরাতে মারা যায়। সরকারি উন্নয়ন ও নেই ওখানে। নওয়াজ শরীফ পান্জাবী হওয়ায় সে ক্ষমতায় আসলে সব চাকরী হয় পান্জাবীদের। বেনজীর ভুট্টোর দল আসলে হয় সিন্ধীদের। পাঠান আর বেলুচিরা শূন্য।

বেলুচিদের পাকৃতিক সম্পদ বেশী হলে ওরা ভাগে কিছুই পায়না। নিজেদের দারিদ্র এবং ক্ষুদাকে এই লোকগুলো ভাগ্য বলে মেনে নেয়।
কয়েক বছর আগে এদের নেতা বোগতিকে হত্যা করে মোশার্রফ। ওদের বিরুদ্বে কেন্দ্রিয় সরকারের অত্যাচার লিখলে আমাকে একটা বই লিখতে হবে। এই বেলুচীদের হাজার হাজার পুরুষ বাদ দেই, হাজার হাজার নারীদের পাকি সৈন্যরা বন্দী করে রেখে যৌন নির্যাতন চালায় সবসময়।

যে কোন স্বাধীনতাকামীকেই মেরে ফেলা হয় এবং ওদের নারীদের জেলে ভরা হয়।
পাঠানদের চেয়ে এদের উপর বেশী নির্যাতন চললেও এরা পাঠানদের মত প্রতিরোধ করতে পারেনা।
বা পাকিস্তানের তালিবানদের ও প্রভাব সেখানে নেই।

এই বেলুচদের মত বাংলাদেশেও তালিবানদের প্রভাব যে কারনে হবেনা।

#১ দীর্ঘ দশ বছর সোভিয়েতের মত এক পরাশক্তির বিরুদ্বে যুদ্ব করে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক বাহিনী না হওয়া।ওরা সেনাবাহিনীর মত
কোন পতিকৃতিতে গুলি চালিয়ে প্রশিক্ষন নেয় নাই। ওরা জীবন্ত মানুষের মাথায় গুলি করে প্রশিক্ষন নিয়েছে যুদ্বক্ষেত্রে।
#২ এই পশতুনরা সবসময় স্বাধীনচেতা ,কারো আধিপত্য না মেনে নেওয়ার মানসিক অবস্হা। ১৯ শতকে ব্রিটসরা ২০০০০ সৈন্যের এক বাহিনী পাঠিয়েছে কাবুলে। তৎকালিন আধুনিক অস্রে এগিয়ে থেকেও ব্রিটিসরা পরাজিত হয়। এই বিশ হাজার সৈন্যের মাত্র একজন সৈন্য ছাড়া সবাই কে এরা মেরে ফেলে। ঐ জীবিত সৈন্যের নাম ডাঃ ব্রাইডন । ওকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শুধু মাত্র ব্রিটিসদের খবর দেওয়ার জন্য যে সবাইকে মারা হয়েছে।
#৩ ভৌগলিক অবস্হানঃ হিন্দুকুশ পর্বতমালার দেশ এই আফগান বড়ই দুর্গম । আছে গিরি গুহায় ভরা।যা তালিবানদের নখদপর্নে।
#৪ এই তালিবানরা পাকিস্তানের শুধু পশতু উপজাতি বা পাঠান এলাকার বাইরে যেতে পারবেনা।এরা পারবে শুধু পাঠান এলাকায়। পাকিস্তানে জাতি জাতি বিরোধ প্রবল। পাঠানদের পান্জাবীরা বা সিন্ধিরা কখনোই মেনে নেবেনা।

আরো আছে যেমন , সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক কাঠামো।

আর ওদের সেনাবাহিনীর বিরোধটা সংক্ষেপে বলি। পাঠান যারা পাকি সেনাবাহিনীতে আছে ওরা তাদের এলাকায় বোম্বিং করতে গেলে ওদের হাত কাপবে। কিন্তু পান্জাবী বা সিন্ধুদের কাপবেনা। তাই এই বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনীর যে ইউনিট রা পান্জাবী বা সিন্ধি ওদের ব্যবহার করা হয়। আবার বেলুচ দের বিরুদ্বে পাঠান,সিন্ধু বা পান্জাবীদের ইউজ করা হয়।
আমাদের স্বাধিনতার যুদ্বের সময় অনেক বাঙ্গালি সেনা পালিয়ে যেভাবে মুক্তিযুদ্বে যোগ দিয়েছে। একজন বাঙ্গালি হয়ে আরেক বাঙ্গালিকে হত্যা করতে ওদের হাত কাপতো। সেই হতেই এদের এই কৌশল।

আরো লিখার ইচ্ছে আছে। বিভিন্ন সমস্যায় আছি এখন ব্যাস্ত আমি।

ভাল থাকুন শুভ রাত্রি।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৩০

লেখক বলেছেন: চমৎকার! এই স্বাক্ষাৎকারটা বলে দিচ্ছে পাকিস্তানের আসল সিনারিওটা।

২১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৪৯
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: সময়োপযোগী লেখা।কায়েস মাহমুদের বিশ্লষনটা যথার্থ হয়েছে।

সমস্যার শুরুটা আসলেই অনেক গোঁড়াতে।সেই ৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই।

সংক্ষেপে বলি, সোয়াতে কখনোই ব্রিটিশ আইন কার্যকর ছিলো না;সেখানটায় ইসলামি ল এবং সেই সাথে উপজাতীয় নিয়ম-কানুনের সমন্বয়ে এক যৌথ আইনব্যবস্থা বলবৎ ছিলো।পাকিস্তান হওয়ার পর সেখানে অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবেই ব্রিটিশ ল প্রয়োগ করা হয়।

সোয়াতের অধিবাসীদের ব্রিটিশ ল সম্পর্কে প্রধান অভিযোগ তারা এই আইন-কানুন ঠিকমতো বোঝেনা( আইন-কানুন আসলেই অনেকটা অভ্যস্ততার ব্যাপার, হুট করিয়ে চাপিয়ে দিলেই তা কাজে দেয়না); আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়।এইটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবী।

এতোদিন লুচ্চা জমিদার আর হাটুদের সরকার সে আবেদন কান দেয়নি কিন্তু তালিবানরা যেই হুংকার দিতে শুরু করেছে অমনি তারা চুক্তিতে সই করতে গেছে।
যেহেতু এখন টেক্কা তালিবানদের হাতে, তাই তারা চায় তাদের আইন।

ব্রিটিশ শাসনাধীন সময়ে যে আইন বলবৎ ছিলো, তা অনেকটা ধর্মীয় হলেও মানবিক অন্তত তালিবানদের আইনের চেয়ে অনেক মানবিক।

দুই বদমায়েশের চিপায় পড়ে আমজনতার ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা।

আর আনবিক বোমা আমেরিকার পশ্চাদদেশ দিয়ে ..ুকিয়ে দরকার।শুওরের বাচ্চাদের আগে হুশ হয়নি।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৩১

লেখক বলেছেন:

একমত শিমুল। এভাবে ভাবতে পারলে আমরা পাকিস্তানের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পারব। যে শিক্ষাটা আমাদের জন্য খুবই জরুরী।

২২. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:০৮
মনজুরুল হক বলেছেন:

"সোয়াতে এখন সত্যি সত্যিই কী ঘটে চলেছে সেটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এ অবস্থা সৃষ্টি হলো কী করে? মহিলাদের কেন প্লাস্টিক ব্যাগের মতো নিষিদ্ধ করা হবে না, সেটাই তালেবান এক বালকের জিজ্ঞাসা। এখানে বিষয়টি দৃষ্টিভঙ্গির। আসলে প্লাস্টিক ব্যাগটি যেমন কারখানায় উৎপন্ন তেমনি এই তালেবানি বালকটিও এক ভিন্ন কট্টরবাদী আদর্শিক কারখানার সৃষ্টি। সেখানেই তার এ ধরনের মানসিকতা গড়ে দেওয়া হয়েছে"।

লেখাটুকু অরুন্ধুতী রায় এর।
২৩. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৩১
শয়তান বলেছেন: সোয়াতের অধিবাসীরা না সমাজপতিরা কারা আসলে শরিয়া আইনে ফেরত যেতে চাইছে@ আহসান হাবিব শিমুল
১১ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫

লেখক বলেছেন:
শিমুল সম্ভবত লগঅফ।
আমিই দিলাম উত্তরটা.....

সমাজপতিরা চাইছে ফেরৎ যেতে। অধিবাসীরা চিরকালই সমাজপতিদের অধিনস্ত।

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শুভ্র।
আপনার কাছ থেকে আলোচনা আশা করেছিলাম।

২৫. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৩০
সত্যান্বেষী বলেছেন: লেখক বলেছেন: 'আগে বৈষম্য আর অত্যাচারিতের আশ্রয়স্থল ছিল সমাজতন্ত্র। সোভিয়েত ভাঙ্গার পর এখন মনে করা হয় আশ্রয় হতে পারে ধর্মাত্মবাদে। তাই যেখানেই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার, সেখানেই উগ্র মৌলবাদে আশ্রয়। সুতরাং এদের বিকাশ ঘটবেই। তা সে যতদিন পরেই হোকনা কেন। আমাদের নিরাপদ ভাবার কোন কারণ নেই।'


good analysis
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৮

লেখক বলেছেন:

অক্টোবর বিপ্লব সেসময় যেমন পৃথিবীকে মোটাদাগে দুভাগে ভাগ করে দিয়েছিল, এখনো তেমনি, সমাজতন্ত্রের সাময়ীক সেটব্যাক পৃথিবীকে দুভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে।

একভাগ মনে করছে আর কখনো সমাজতন্ত্র ফিরে আসবেনা, সুতরাং পুঁজিবাদ আর ধর্মাত্মবাদেই মুক্তি।

অন্য ভাগ মনে করছে, সাময়ীক সেটব্যাকের পর আবার সমাজতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত, সুতরাং মানব সভ্যতা আবারো সমাজতন্ত্রের হাতেই পুনর্ণিমান হবে।

আমরা এর কোন ভাগে পড়ি ?

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:১২

লেখক বলেছেন:
জ্বি না স্যার। আমরা যদি তাই পড়তাম তাহলে মাও সে তুং এর বই হাত থেকে নামিয়ে কেউ একজন বলতেন না...

"ওনারা এসে গেছে, আমাকে বোধহয় মেরে ফেলা হবে। তোমরা তোমাদের কাজ চালিয়ে যেও....."

তার পরদিন খুব ভোরে ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় তার লাশ দেখতে হতো না চষা ধানক্ষেতে, পরদিন কাউকে না কাউকে পাওয়া যেত একটা নামকাওয়াস্তে প্রতিবাদটুকু করতে! সেই সব মৃত্যু, এবং আরো মৃত্যু যা এদেশের বিশাল সংখ্যক "বিবেকবান" মানুষকে আনন্দিত করেছে, উৎফুল্ল করেছে! এদেশের মানুষ বাম সমাজতন্ত্রিদের যাচ্ছেতাই বলে গালাগাল করে পুলক লাভ করে। সমাজতন্ত্রি আর কমিউনিস্টদের গালাগালি করা যেন এখানে স্ট্যাটাসে ওঠার সিঁড়ি!

কি করে ?
কি করে বলি-আমরা ২য় টা ?

২৮. ১৩ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫১
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে তালিবান পয়দা হওয়ার মত যথেষ্ট উর্বর জন্মক্ষেত্র আছে। যথেষ্ট উপাদান সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের ভেতরকার ধর্মভীরুতাই আমাদেকে একসময় ‘ধর্মবাঁচানোর আন্দোলনে’ সামিল করে দিতে পারে।


পুরোপুরি একমত।
১৩ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন:
এটাই আমাদের সো-কল্ড মডারেট প্রগ্রেসিভরা ভাবতে ভুলে যান! তারা মনে করেন (শুধু মনেই কনে না, দৃঢ় ভাবে বিশ্বাসও করেন), বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু তবে ধর্ম্মান্ধ নয়!!

এই জাব্দা আহম্মকি ব্যাখ্যাটা শুনলে খুব অসহায় বোধ করি।
আরে বাবা তাই যদি হবে তাহলে ইসলাম পছন্দ দলের সংখ্যা ৭৮ হয় কি করে?
জামাত প্রায় দেড় কোটি ভোট পায় কি করে?

এই সব নামরদ আহম্মকি আরো কতদূর পেছনে টেনে নেবে সেটা ভেবেই শংকীত হই।

অনেক দিন পর? ভাল ছিলেন তো ?

২৯. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৩২
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: সত্যি বলছ - আমার বিশ্বাস হয় না যে হাতে গোনা কিছু উগ্র লোকের ধর্মান্ধতা একটা দেশকে ধর্মীয় আলেয়ায় পথহারা করতে পারে। সেটা করার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ, আর মডারেট মুসলমানরা ঠিক সেটাই তৈরি করে দেয়, দিচ্ছে। অনেকটা অল্প আঁচে খাবার গরম করার মত - খাবারটা স্রেফ পঁচে যায়, কারণ ঐ পরিমান তাপই ব্যাক্টেরিয়ার জন্য দরকার।

ছিলাম একরকম, শরীরটা ইদানিং ভালো যাচ্ছে না তেমন। আপনাদেরকে মিস করছিলাম। আশা করি এখন থেকে খানিকটা নিয়নিত হতে পারব। আপনার খবর কি? খারেজী মশায়কেও তো দেখছ না! মনির হাসান, শুভ, ইকরাম, মিশু মিলন এরাই বা কোথায়?
১৪ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন:
"হাতে গোনা কিছু উগ্র লোকের ধর্মান্ধতা একটা দেশকে ধর্মীয় আলেয়ায় পথহারা করতে পারে। সেটা করার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ, আর মডারেট মুসলমানরা ঠিক সেটাই তৈরি করে দেয়, দিচ্ছে।

এটাই আসল কথা। কিন্তু মানে কে? শোনে কে? আমাদের মাথার ওপর রাহু চেপে না বসা অব্দি আমাদের হুশ নামক দরোজাটা খোলে না!

আমি আছি ভালই, তবে স্বস্তিতে নেই।
খারেজি ফিরেছেন। বেড়াচ্ছিলেন।
মনির আপাতত জেনারেল।
বাকিরা আছে তো দেখি, তবে একটু ছন্নছাড়া গোছের।

নিয়মিত হচ্ছেন, এটা তো ভাল খবর। সাথে থাকুন কমরেড।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৭৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ