আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

সামনে রমজান মাস পাবলিক চিপড়ে মুনাফা তুলে নেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়!

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৯

শেয়ারঃ
0 0 0

আমাদের সমাজে কতগুলি কথা বা বাণী আছে, যা আপনি দেখবেন না, তেমন ভাবে শুনবেনও না, কিন্তু তার নেতিবাচক অস্তিত্ব হাড়ে হাড়ে অনুভব করবেন।অস্থিমজ্জায় অনুভব করবেন। যেমন ‘আশাবাদ’। এই বচনটি শুনবেন বটে তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবের ধারেকাছে আসবে তা জানাও যাবেনা।তেমনি ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’, যখন-তখন এই বাণীটি শোনা যাবে আমাদের মন্ত্রী আর আমলাদের জবানে। যে কোন অন্যায় বা অবিচারের ফিরিস্তি শুনে তারা বলবেন-এই অবিচার বন্ধ করতে আমার সরকার ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’! তেমনি আর একটি কর্পোরেট বুলি-‘সিন্ডিকেট’। আজকাল এই সিন্ডিকেটের বিভিন্ন রকম-ফের দেখা যায়। পেশাজীবী প্রায় প্রত্যেকটি গ্র“পেরই এক একটি সিন্ডিকেট আছে। তবে সবচেয়ে কার্যকর এবং ধনন্তরী সিন্ডিকেটটির নাম ‘ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট’।

এর কোন দাপ্তরিক ঠিকানা নেই, নেই কোন স্বশরীরী অস্তিত্ব। তার পরও এটি বর্তমান সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাধর গ্র“প। সরকারের হাতে যে সকল ক্ষমতা বলয়ের চাবিকাটি আছে তার সবগুলো দিয়েও এই মহাক্ষমতাধর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারে না মহামহিম সরকার। নিন্দুকেরা বলেন-সরকার আদপে কাজটি করেন না, কারণ এই সিন্ডিকেট থেকেও সরকারের বিশেষ বিশেষ খাতায় বিশেষ আমোলনামারূপে কিছু ‘গৌরীসেন’ জমা হতে থাকে। আর সে কারণেই সরকার এদের দেখেও না দেখার ভান করেন। সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সাথে সাথে কিছু ক্যারিশমা দেখিয়েছিল বটে! যার কোন কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নাই।

তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে, সরকারের ব্যবসায়ী অংশ সরকারকে প্রাথমিক সুনামের জন্য ক’দিনের জন্য ‘ব্রেক’ দিয়েছিল! অবস্থাদৃষ্টে তো তা-ই মনে হয়। কারণ তত্তাবধায়ক সরকারের আমলের ৪৪ টাকা দরের আটা রাতারাতি ২৩/২৪ টাকায় নামে কি করে? ১শ ২০ টাকা দরের সয়াবিন তেল ৮০ টাকায় নামে কি করে? পয়লা মর্তবায় সরকারকে এই গুডবুক উপহার দিয়ে যারা গত কয় মাসে সামান্য কম লাভ করছিল, সেই তারাই এখন সুদে-আসলে কাটায় কাটায় তা পুরণের জন্য হণ্যে হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আর সেই ঝাঁপিয়ে পড়া দেখে তাদের সামনে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী উদাত্ত ঘোষণা দিয়ে বলেছেন-‘আপনার মুনাফা করুন, তবে মাত্রাতিরিক্ত করবেন না’! ব্যবসায়ীরাও সুবোধ বালকের মত মন্ত্রী মহোদয়ের বাণী শুনে মুচকি হেসেছেন। হাসবেন না-ই বা কেন? তারাতো ভাল করেই জানেন যে, কোন মন্ত্রী বা সরকারের কারো পক্ষেই তাদেরকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা(এখানে ইচ্ছা পড়তে হবে) নেই। কেন নেই সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন। আমরা আপাতত সেই দামি প্রশ্নের পেছনে দৌড়াব না।

মাত্র ২০ জন মার্চেন্ট এর সিন্ডিকেট রোজা সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার দাও মারার জন্য দা-বটি ধার দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। গলা তারা কাটবেনই, এখন প্রশ্ন হচ্ছে কতখানি কাটবেন বা কি ভাবে কাটবেন? আমরা আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতায় দেখি এই কাটাকাটির ক্ষেত্রে তারা কোন কৃপা দেখান না। মুনাফায় কৃপার কোন স্থান নেই। মুনাফা সতত মুনাফাই, তা কত নির্মম ভাবে আসবে বা কত নিচু কায়দায় আসবে সেটি নিয়ে তাদের কোনই মাথাব্যথা নেই। থাকার কথাও নয়। প্রথমে যে বলেছিলাম অশরীরী বা ইনভিজিবল! আসলে কিন্তু তা নয়। সিন্ডিকেট বীর দর্পে দাঁড়িয়ে আছে সরকারের নাকের ডগাতেই। কোন লুকোছাপার ব্যাপার নেই। সবই খুল্লামখুল্লা! এবার তাদের মহান কির্তিকাহিনীর সারাংশ দেখুন....................

ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকার বড় বড় ২০টি কোম্পানিই মূলত ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করছে। এরাই সিন্ডিকেট করে একচেটিয়াভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। রোজা যত ঘনিয়ে আসছে, পণ্যের দাম তত বাড়ছে। এখনই অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারক ১৩ কোম্পানি এবং চিনি প্রস্তুতকারক ছয় কোম্পানিসহ মোট ২০ কোম্পানি মূলত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব কোম্পানিই আটা, মসুর ডাল, ছোলা, বুটের ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য আমদানি ও বাজারজাত করছে। কোম্পানির মালিকরা যোগসাজশ করে একই ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব করে প্রতিদিন তারা স্বল্প আয়ের হতদরিদ্র মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
এই অবস্থায় বাণিজ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেট ভাঙ্গার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেও ব্যবসায়ীদের সেই প্রতিশ্রুতি বা সাবধানবাণী তেমন কোন প্রতিক্রিয়া করতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীর সামনে বৈঠকে বসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখার এন্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কাগজে-কলমে আর সংবাদপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। আর এর পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আর কি বলতে পারেন সেটা মাথায় রেখেই সিন্ডিকেট নতুন স্ট্রাটিজি নেবে।

মন্ত্রী আরো বলেছেন-সরকারের হাতে পর্যাপ্ত পণ্যের মওজুদ আছে, চিন্তার কোন কারণ নেই! আসলেই চিন্তার কোন কারণই নেই, কেননা মূল্য বাড়তে বাড়তে কতই আর বাড়বে! নিশ্চই ছোলা ২শ টাকা কেজি হবে না!, নিশ্চই চিনি ১শ টাকা কেজি হবে না! আর তা যদি হয়ও তাহলেই বা মন্ত্রীদের সমস্যা কোথায়? আমলা সরকারী চাকুরে, সরকারের নানা রঙের তরফদার,তহশীলদার, দফাদার, গাতিদার, এলেমদার, চাটুকার.....এদের তো সমস্যা হবার কথা নয়। সমস্যা যাদের হয় বা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে তাদের মনে হয় সমস্যা নিয়েই জন্ম! তারা সমস্যা ছাড়া বাঁচে কি ভাবে! এদের জন্য তো মন্ত্রী মহোদয়ের সমস্যাহীন দিনাতিপাত সমস্যাসংকুল হয়ে উঠতে পারেনা! বালাই সাট!


ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৩টি কোম্পানি মূলত ক্রড অয়েল আমদানি করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে সয়াবিন ও পাম তেল বাজারজাত করছে। তাদের হাতের মুঠোয় সারাদেশের বাজার এবং বাজারের ক্রেতাসাধারণ। ঢাকা অঞ্চলের কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল মিলস লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড এবং রহিমা ফুড করপোরেশন (নারায়ণগঞ্জ)। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোম্পানিগুলো হলো এমএম ভেজিটেবল অয়েল মিলস, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স, সামাননাজ সুপার অয়েল লিমিটেড, এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, নুরজাহান সুপার অয়েল লিমিটেড, মারিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড এবং উত্তম অয়েল মিলস। চট্টগ্রামের পিএইচটি গ্রুপ গম, ছোলা, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য আমদানি ও বাজারজাত করছে। একচেটিয়াভাবে বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত প্রধানত ছয়টি কোম্পানি। এরাই চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কোম্পানিগুলো হলো সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, আবদুল মোনেম সুগার মিলস লিমিটেড এবং দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড। ভোজ্যতেল ও চিনি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ওইসব শিল্প গ্রুপভুক্ত আলাদা কোম্পানি হওয়ায় সিন্ডিকেটভুক্ত মোট কোম্পানির সংখ্যা ২০টি।
বাজারে চাল ছাড়া সব পণ্যের দাম বাড়ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ও ব্যবসায়ী নেতারা দফায় দফায় সভা করে বলছেন, পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে। দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এসব বক্তব্যের আড়ালে মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলাসহ অন্যান্য পণ্যের। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কম দামে কেনা পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে যে ভোজ্যতেল বাজারজাত করা হচ্ছে, তা ২০০৭-০৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ কম দামে আমদানি করা হয়েছে। গত অর্থবছরের শেষদিকে কম দামে আমদানি করা ভোজ্যতেলই বর্তমান ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথমদিকে বাজারজাত করা হচ্ছে।

বেশি লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, “অবশ্যই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করা যাবে না। যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করতে হবে।” ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার ব্যাপারে করণীয় কী হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “ঠিক না থাকতে দিলে অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই যে মন্ত্রী মহোদয় বললেন-“ঠিক না থাকতে দিলে অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এই যে হুমকি দিলেন তিনি, আইনগত ব্যবস্থা বলতে আমরা কি বুঝব ? তাদেরকে ধরে ধরে কি জেলে পোরা হবে? তাদের ব্যবসার লাইসেন্স কি বাতিল করা হবে? তাদেরকে কি ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হবে? না। এসবের কোনটিই করা হবেনা। আমরা যারা ভুক্তভূগী তারা জানি, এসবের কিছুই করা হবেনা। শুধু মাঝে মাঝে তাদের ডেকে চা-চক্রে আপ্যায়ন করা হবে। তারাও চা পানের ফাঁকে ফাঁকে ক্যামেরার দিকে হাসু হাসু মুখে তাদের মুখস্থ বাণী বর্ষণ করে যার যার ডেরায় ফিরে যাবেন।

মন্ত্রী মহোদয় এরপর টিভি চ্যানেলে মুখটাকে যথাসম্ভব দীপ্ত শপথের ভঙ্গিতে রেখে দৃঢ়(আবার সেই দৃঢ়!) ভাবে উচ্চারণ করবেন-‘ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছেন, তারা অধিক মুনাফা করবেন না’। তাঁর কথাটি ফুরোবে-নটে গাছটি মুড়োবে! এর পর কাগজে কাগজে এই নিয়ে রম্য রচনা ছাপা হবে! কাগজে কোন এক সুন্দরী ভাবির ছবি ছেপে নিচে ক্যাপশনে বলা হবে-“বাজারে আগুন! অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাঝারি আয়ের মানুষেরা দিশেহারা”! এরকম ডজন ডজন খবর ছাপা হওয়ার পর আবারো মন্ত্রী মহোদয়য়ের চেহারা মুবারক দর্শন ঘটবে। তিনি বলবেন-“ সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে মওজুদ করার কারণে পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি না হলেও কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে, আর সেই ফাঁকে কিছু হৃদয়হীন ব্যবসায়ী কারসাজি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে”!

সাধারণ মানুষ এতসব শোনাশুনির তোয়াক্কা না করে রক্ত পানি করা পয়সা দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে আরো একবার রমজানের ফজিলত অস্থি-মজ্জায় উপলব্ধি করার কোশেশ করে যাবেন। যেমনটি তারা যুগ যুগ ধরে করে আসছেন। বিএনপি-জামাত বলি, তত্তাবধায়ক বলি আর বিপুল ভোটে জয়ী মহাজোট সরকার বলি- ঘুরে ফিরে তো সেই যে লাউ সেই কদু! তাহলে আমরা শানেনজুলে কি পেলাম? কিছুই না। একেবারেই কি কিছু পাইনি? তা কি করে হয়! নিশ্চই কিছু না কিছু তো পেয়েছিই। কি সেটা? হ্যাঁ, আমরা আগের বারের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ধরণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি! আর পেয়েছি আমাদের সমগোত্রের একজন ‘সাধারণ’ কে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন- তিনি বড়লোকের মন্ত্রী নন। এটাই সাকুল্লে সাধারণ মানুষের নিট প্রাপ্তি। তিনি আমাদের মন্ত্রী! এটাই বা কম পাওয়া বলি কি করে? এখন আর যা-ই হোক, আমাদের এই মন্ত্রীকে তো আর আমাদের কষ্ট বুঝতে অক্ষম ধনিক শ্রেণীর শোষক বলা যাবে না!

মিলিটারি আর সিভিল ব্যুরোক্র্যাসির সম্মিলনের এই এক গুণ! এমন ধারালো ব্লেড দিয়ে কাটা হবে যে কোন দাগই টের পাওয়া যাবে না! ধর্মের নামে, ধর্ম মাসকে পুঁজি করে, ধর্মের বাধ্যবাধকতার নামে এমন বেরহম শোষণ আর কোন ধর্মে, আর কোন সমাজে হয় বলে শোনা যায়না। আমাদের পাশে তো আরো কয়েকটি ভিন্ন ধর্মের মানুষদের বসবাস আছে! কই সেখানে তো এমন জোঁকের মত রক্ত শুষে নেওয়ার কথা শোনা যায়না? তাহলে কি গলদ আরো পেছনের কোন জন্মপত্রে বা গোঁড়ায়? পুরো ব্যাপারটাই কি নির্মম নৃসংস ধর্মীয়-বাণিজ্যিক শোষণ? যে ঘরে তিন বেলা হাড়ি চড়ে না সেখানেও কি করে যেন রেওয়াজ আর কেতার বেনোজল হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে এই মাসটি এলেই! কেন? এই অনাদিকালের অমীমাংসিত প্রশ্ন তোলা থাক আর বারের জন্য।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রমজানে মুনাফা! ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩২

লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস!

২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:২০
*পাগলা জগাই* বলেছেন: ভয়াবহ চিত্র! আপনার লেখার ভক্ত হয়ে যাচ্ছি! +

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন:
আমিওতো আপনার মন্তব্যের ভক্ত হয়ে গেছি!

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৫৫

লেখক বলেছেন:
হম। পড়ে আসলাম। ভাল লেখা। তবে এখানে আপনার নিজস্ব কিছু চিন্তা-চেতনার ক্লিপিংস থাকলে আরো ভাল হতো। হুবহু কপি মনে হয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে বাঁকা হরফে লেখকের কিছু কমেন্টস থাকলে দুইটা সময়কে মেলানো যায়। যেমন ঐ বইটার সময়কাল যে একাত্তর, সেখান থেকে আজকের বাংলাদেশে সেই উপাখ্যান কি ভাবে রিট্রেট করে বা এই প্রজন্মের কাছে ব্যাপারগুলো কিভাবে পৌঁছায়, অথবা তাদের ভ্যালুজ কি? এই সব বিষয় আনতে চেষ্টা করবেন পরের পর্বে। তাহলে লেখাটা সর্বাঙ্গীন হয়ে উঠবে।

সুযোগ পেয়ে অযাচিত জ্ঞান দিয়ে ফেললাম, স্যরি।

৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:০৯
ধীবর বলেছেন: মঞ্জুরুল ভাই, চমৎকার একটি লেখার শেষ প্যারাতে এসে ছন্দ হারিয়ে ফেলায় দুঃখ পেলাম। তবে সংযমে মাসে মচ্ছবের চলটির সাথে আদি ধর্মীয় ব্যাবস্থার সরাসরি যোগসুত্র কোথাও পাইনি। এটা আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবন বৈত নয়। তবে এব্যাপারে ধর্মীয় নেতাদের ক্রমাগত সাবধানবানীটি ছোট বড় সকলেই তোয়াক্কা করছেন না বলেই, এমন অবস্থার সৃস্টি বলে আমি মনে করছি।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন:

আমি আসলে এই প্রশ্নটি এড়িয়েই যেতে চাইছিলাম, কিন্তু কথন এড়ানো যায় বটে সত্য নয়। দেখুনঃ

ধরে নিন আমি একজন ব্যবসায়ী(মজুদদার) । আমি জানি এই মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর নিতান্ত গরিবকেও ইফতারে কিছু ভালমন্দ খেতে হয়, আমি আরো জানি টোটাল কনজাম্পশনের দিকে দেখলে আমি পাই কিছু জরুরী আইটেম অতি আবশ্যক। এবং তার মূল্য বাড়িয়ে দিলে আমার হাতে গোটা চারেক যুৎসই অজুহাতও থাকে। এবার আমি বাড়ালাম। আর যেহেতু ভোক্তা শুধু পানি দিয়ে ইফতার করবে না তাই আমার পণ্য বিক্রি হবেই। এই আমি কি এই কাজটা অন্যমাসে পারব? অন্য মাসে কি কেউ ইসবগুলের ভূষি কিনবে? শসা কিনবে? গাজর কিনবে?বেসন, বেগুন পেঁয়াজ, জিলাপি, কলা...এই পণ্যগুলো অন্য সময় না হলেও চলে।এই মাসের যেহেতু ধর্মীয় এবং প্রথাগত ঐতিহ্য আছে সেহেতু বিক্রি নিশ্চিত এবং মুনাফা নিশ্চিত।

নিশ্চই রোজাদাররা সেহরীর সময় শুধু আলু ভর্তা দিয়ে খাবে না, তাদের কম করে হলেও মাছ-মাংস চাই। এই যে "চাই" এটা তো বাকি ১১ মাসে না হলেও চলে!

এটা গেল ব্যবসায়ী হিসেব। ধর্মীয় কেতা আর ফেরেপবাজীর হিসেবটা খুবই শ্রুতি এবং দৃষ্টিকটু। রোজার সাথে সম্পর্ক নাই এমন পণ্যেরও কি দাম বাড়ে না? বাড়ে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বাঙালি মুসলমান ব্যবসায়ীরা সারা বছর অপেক্ষা করে এই একটি মাসের জন্য! তা না হলে পানি কচু, কচুর লতি, পান-সুপারীর দাম বাড়বে কেন?কেন বাড়বে রিক্সাভাড়া, বাসভাড়া?

মসজিদে মসজিদে খতম তারাবীর হাদীয়া কম করে হলেও ১২ হাজার। কোথাও ১৫-২০ হাজার পর্যন্ত। কেন? ওই ইমাম কি সারা বছর বেতনভূক ইমামতী করেননি? তিনি কি সারা বছর বেতন পাননি? তাকে কি মসজিদ সংলগ্ন ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি? তাহলে ? এটা "রোজার ইনকাম"।সমগ্র সরকারী-বেসরকারী অফিসে কি এই মাসে বাড়তি ঘুষ চলে না? এনকি যে রিকসা চালক সর্বদাই শোষিত, সেও এই মাসে ভাড়ার উপর "বকশিশ" দাবী করে। ঈদের আগে তো বকশিশ বাধ্যতার পর্যায়ে চলে যায়।

ব্যাপারটা এমন প্রথালব্ধ হয়ে গেছে যে, ছোট মাছকে বড় মাছ খাবে সেটা যেন এই মাসে ওপেন ডেমোনেস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়! এ টু জেড। কে না?চন্ডাল চামার থেকে শুরু করে মাননীয় বিচারপতি পর্যন্ত এই রোজা, ইবাদত,সিয়াম, সাধনা, ত্যাগের মহিমা ইত্যকার বিশেষণের আড়ালে নিরেট মুনাফা তুলে নেয়। যার ক্লাইমেক্স আসে ঈদের আগে "চাঁনরাত" পর্যন্ত।

ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা না থাকলে মানুষ জেনেশুনে তরবারীর তলায় ঘাড় পেতে দিত না। অন্য মাসের সাথে এই মাসের বেসিক তফাৎ এখানেই।

৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৪০
প্লাটো বলেছেন: সুন্দর উপস্থাপনা। তবে উপসংহার এ এসে একটু ধাক্কা খেলাম। মনে হলো তীর টা প্রথম অবস্থায় শোষন মেক্যানিজম এর দিকে স্থির থাকলেও শেষে এসে চলমান প্রথা বা আচার অনুষ্ঠানের দিকে ছোঁড়া হলো। আরেকটি ব্যাপার, শোষন শোষনই, একে ধর্মিয়-বানিজ্যিক-শোষন বলা বা প্রাসংগিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলাদা নামকরণ করার অবকাশ নাই। এটার শত সহস্র রুপ, লক্ষ নিযুত প্রকাশ।শোষন যে ইস্যুতেই হোক না কেন এটার পরিচয় বা নাম একটাই, আর এই নির্মমতার দায়দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সেই গুটি কয়েক শোষক পরিবারের আর তাদের প্রশ্রয়দাতাদেরই।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন:
শুধুই গোটা কয়েক শোষক নয়। এর দায় সমাজের। রাষ্ট্রের। সরকারের। ধর্মবেত্তাদের। এবং অতি অবশ্যই সোস্যাল কন্টেন্টে যারা সোসাইটিতে তরফদারী করেন, তাদের। পত্র-পত্রিকায় যে রকমারী ইফতারের বয়ান ছাপা হয় তাকে কোন ধর্মীয় নেতা থামান? বরং তারা স্টুপিড বক্সে বসে এত্তো এত্তো অনুশাসন আর ফরমালিটিজের ফতোয়া দেন!

৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০৪
সন্ন্যাসী কবি বলেছেন:
মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের মানুষ কোন উপকার-ই পাচ্ছে না:( । শুধু আঙুল পুলে ২য় স্তরের কিছু মানুষ ব্যানানা বাংলাদেশ গড়ছে!! তার সাথে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলা গড়ার স্বপ্ন!! চোরেরা চুরি করবে আর মনিব কে বলবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছি। মালহাবা।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রক্তচোষা পশু।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন:
এতে কোনই সন্দেহ নাই!

৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:৫২
জাতি জানতে চায় বলেছেন: একটা প্রয়োজনীয় কিন্তু অসাধারন পোস্ট উপসংহারে এসে কিভাবে কেচে যায়, এটা তার একটা ভাল উদাহরণ। মনজুরুল ভাই, আপনে যে এইটা ইচ্ছা কইরা করছেন, আমার মত নয়া ব্লগারও বুঝে ;) এসব ব্যবসায়ীদের যেই চরিত্র, এইসব ধর্মীয় সময়ের সুযোগ না থাকলেও তাগোর জন্য সমস্যা নাই। অবশ্য ধার্মিকরাও কম যায় না! সংযমের মাসে যেভাবে গিলে তা নিয়া আর কি কমু!! যাই হোক এত ভাল লেখাটার শেষ প্যারাটা এরকম না করলেও পারতেন!

সময় নিয়া কষ্ট কইরা লেহার লাইগগা ধইন্যবাদ।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন:
হুম, পোস্ট তাহলে "কেচে"ই গেল! কি আর করা! হ্যাঁ ভাই। আমি ইচ্ছা করেই লিখেছি।

আমি-আপনি জানি ব্যবসা মানেই কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি। মজুদ মানে হচ্ছে আরো বেশি মুনাফার জন্য বাজারে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা। সে যাক। বিশ্বের সকল ব্যবসায়ীরাই মুনাফা করে। সেটা তার পেশা। তারা তাদের পেশায় সৎ। তবে তফাৎটা হলো-

আমাদের ব্যাপারিদের মত আর কেউ(খ্রীষ্টান,হিন্দু,বৌদ্ধ,শিখ,জৈন,পারসিক) ধর্মীয় অনুশাসন এবং ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাকে পুঁজি করে একচেটিয়া মুনাফা করে না।এটা প্রমানিত। আর এই একচেটিয়া মুনাফাখোররা এই সমাজের হর্তা-কর্তা। তাদের টিকি ছোঁবার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই।

৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:১০
ফারহান দাউদ বলেছেন: প্রতিটা ডায়ালগ একদম ফর্মায় ফেলা, বাচ্চাদেরও মুখস্ত হয়ে গেছে। রোজা আসার ১৫ দিন আগেই দামে যে অবস্থা, রোজার মাস কিভাবে যাবে ভেবে এখনই ঘাম ছুটে যাচ্ছে। মন্ত্রী মহোদয়দের বাড়িতে এমনিতেই ভেট চলে যায়, আমাদের কথা ভাবার সময় নাই তাদের। আমরা পাবলিক হইলাম রামছাগল, সব বুঝি, তারপরে তাদের পায়ে ধরে সব দিয়ে আসি। আবার সুযোগ পাইলেই নিজেরাই নিজেদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে বড়লোক হবার তালে থাকি। আমাদের কিছু হবে না।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন:
উপায় আছে ফারহান! তবে তা কষ্টকর। সত্যিকারের সিয়াম হলো নিজের বাড়িতে কঠোর ডিকটেটরশিপ চালু করা। প্রচলিত প্রথা আর কেতার বাইরে আলাদা ভাবে জীবন যাপনের প্রাকটিস করা। সরকার, সুশীল, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের তোয়াক্কা না করে সেল্ফ ডিপেন্ডেড হওয়া। সেটা আসলেই কষ্টকর।

"আল্লাহ ব্যবসাকে করেছেন হালাল আর সুদকে করেছেন হারাম" এই বাক্যটির আড়ালে চলে/চলছে/চলবে ধুন্ধুমার বাণিজ্য! বাণিজ্যে বেসাতি লক্ষ্ণী!!

৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:২৪
সাগর ঢাকা বলেছেন: @জাতি জানতে চায় ...ভালো বলেছেন :)

চমত্কার একটা লেখা ..কিন্তু শেষ এর দিকে অযাচিত ভাবে ধর্ম কে না জড়ালে হত না? ব্যবসায়ীরা , ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদ রা , সবসময় সুযোগ সন্ধানী , সেটা রমজান হোক , আর পূজা হোক. নিজেদের লাভ আদায় করবে, রমজান মাস সেটার একটা সুযোগ দিছে ...
এক জন গরিব মানুষ ধর্ম পালন করে কিছু তা মানসিক শান্তি পেলে কার ক্ষতি ? গরিব মানুষ এর জন্য ধর্ম ছাড়া আর কে আছে বলুন ..নাকি আপনি চান সবাই ধর্ম ছেড়ে দিক , তাতে এই সিন্ডিকেট এর ক্ষতি হবে ! :) .....

আসলে মাঝে মাঝে হতাশ লাগে , আমাদের কি মুক্তি নাই , আপনার তো অনেক পড়াশোনা, কি ভাবেন এই দেশের পরিনতি? নাকি আমি হতাশা বাদী !
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন:
নাহ্। আমি চাই এই শোষণের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকার/ধর্মবেত্তা/সমাজপতিরা যেন আরো একটু সরব হোন। যারা এখন সিন্ডিকেটের ক্রীড়ানক।

১০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:২৮
*পাগলা জগাই* বলেছেন: জাতি মামা, আপনে না কালকে কৈলেন আপনে বছর-পুরানা ব্লগার ;)
খোমায় মুকুশটা ঠিকঠাক মত বহে নাইক্যা ;) ধরা খায়া গেছেন ;) গুরুপ ধৈরা একই বালছাল ইকো করতাসেন ধরা না খায়া উপায় কি। য়ু নীড টু বি মোর ক্রিয়েটিভ বাডি ;)
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৭

লেখক বলেছেন: "জাতি" ১৪ নম্বরে উত্তর দিয়েছেন!

১১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
লড়াকু বলেছেন: অসাধারণ বিশ্লেষণ। প্রিয়তে রাখলাম।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লড়াকু।

১২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:১২
মনজুরুল হক বলেছেন:

দেখা যাচ্ছে শেষ প্যারা নিয়ে মতদ্বৈততা ঘটছে! বিষয়টা এক্ষুনি বিস্তারে লিখতে পারছিনা, কামলায় ব্যস্ত আছি। রাতে সবিস্তারে বলা যাবে। শুধু এতটুকুই বলে রাখি.....

সামগ্রীক ছিবড়ে নেওয়ার ব্যাপারটা কিন্তু একটা ধর্মীয় পর্বকে কেন্দ্র করেই। এমনিতে কি দেশে এখন কোন দুর্যোগ আছে? এই বিশেষ পর্ব উপলক্ষে সাধারণ মানুষকে যেহেতু অতিরিক্ত পণ্য সম্ভার বাধ্য হয়েই কিনতে হবে তাই সেই "বাধ্য" হওয়াটাকেই মূলধন করে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবাই সবাইকে খুবলে খাওয়ার প্রাকটিস চলবে সারা মাস জুড়ে। এটাকে আমরা অস্বীকার করব কি ভাবে?
১৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: প্লাস দিলাম পুরো লেখায় মানে উপসংহারসহ । আপনার উপসংহারে যে প্রশ্ন/অনুসন্ধিচ্ছা এসেছে তা' আমারও মনের কথা । "ধর্মের নামে, ধর্ম মাসকে পুঁজি করে, ধর্মের বাধ্যবাধকতার নামে এমন বেরহম শোষণ আর কোন ধর্মে, আর কোন সমাজে হয় বলে শোনা যায়না। " এখানে ধর্মীয় একটি মাসকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসা হচ্ছে তার দিকেই নজর দেয়া হয়েছে । ইসলাম তা' সমর্থন করে কি করে না সেটা এখানে বিষয় নয় । ইসলামের সমালোচনা আর ইসলামের এক আমলের মাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ব্যবসার সমালোচনা এক নয় ।
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ মানিক। আমার অব্যক্ত কথাগুলি চমৎকার গুছিয়ে বলেছেন।

নিচে "পল্লী বাউল" এর লাইনটা কোট করলাম...."সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ধর্ম আর ব্যবসা পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলছে।"

১৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১
জাতি জানতে চায় বলেছেন: *পাগলা জগাই*@ বেহুদা পাগলামি করেন কেন? সামু চিনি একবছরের উপর হইলেও নিয়মিত খুব বেশি দিন না। আর রেজিঃ নিছি ১-২ সাপ্তাহ অইব। আর মুনজুরুল ভাইয়ের তুলনায় ব্লগে আমি নতুনই! আমার মন্তব্য কইলাম স্ট্রেইট! ঐদিন কি খুব দুঃখ পাইছিলেন???? ;)
১৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮
বৃত্তবন্দী বলেছেন: আসলে ছিদ্রান্বেষণ কিছু কিছু মানুষের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য হয়ে পড়েছে। তা না হলে পুরো পোস্টের বিশ্লেষণের দিকে চোখ না গিয়ে চোখ গেলো উপসংহারের দিকে???

যাদের উপসংহার ভালো লাগে নাই, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আছে

আচ্ছা বলবেন কি এই যে একটা উৎসবকে সামনে রেখে একমাস ধরে বিপুল মুনাফার যে ক্ষেত্রটা তৈরী হয় সেই উৎসবটা কি ধর্মীয় নয়? এরকম ধর্মীয় উৎসব কেন্দ্রিক মুনাফালোভীদের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় কি পরোক্ষভাবে ধর্মই দিচ্ছেনা?
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন:
"এই যে একটা উৎসবকে সামনে রেখে একমাস ধরে বিপুল মুনাফার যে ক্ষেত্রটা তৈরী হয় সেই উৎসবটা কি ধর্মীয় নয়? এরকম ধর্মীয় উৎসব কেন্দ্রিক মুনাফালোভীদের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় কি পরোক্ষভাবে ধর্মই দিচ্ছেনা?"

নিশ্চই দিচ্ছে। সকল প্রকার মিডিয়ায় যে ভাবে সিঙ্গা ফুকে প্রচার হচ্ছে তাতে করে এখন কর্পোরেট হারামজাদারাও রোজা-ঈদকে ইনক্যাশ করা শুরু করেছে।

১৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৩৩
মেহবুবা বলেছেন: রোজা কারো কারো ক্ষেত্রে অ-সংযম সাধনা , বুঝতে পারি প্রতি রোজায় ।
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন:
এবং প্রতিবার বিপুল ভাবে উপলব্ধি করি.....চমৎকার বলেছেন।

ভাল আছেন মেহবুবা? আপনাকে দেখলেই তনুজার কথা মনে পড়ে! মাত্র ক'দিন আগের কথা। কি সুন্দর দিনগুলি ছিল! কি থেকে কি হয়ে গেল! এখন ফাঁকা লাগে......

১৭. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:০১
পল্লী বাউল বলেছেন: সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ধর্ম আর ব্যবসা পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলছে। তথ্যবহুল চমৎকার পোস্টটির জন্য মঞ্জু ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫০

লেখক বলেছেন:
অসাধারণ মন্তব্য।
আপনার মন্তব্যটি অনত্র কোট করলাম।
অনেক ধন্যবাদ পল্লী বাউল।

১৮. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১০
মনজুরুল হক বলেছেন:

আমাদের কাটমোল্লারা (মূলত নারীলোভী) নারীদের ছলে-ছুঁতোয় ফতোয়া দিয়ে দররা মারে। তাদের জনসমক্ষে অপমান করে। তাদের ধারণা এতে করে সমাজে "পাপ" কমে আসবে! এই তথাকথিত সমাজপতিরা কি নতুন ধরণের ফতোয়া দিতে পারেন না রোজা বা ঈদকে সামনে রেখে?

ফতোয়াঃ
১. ইফতারে পানি/ভাত/রুটি ছাড়া বিলাসবহুল খাদ্য গ্রহণ হারাম!
২. সেহরীতে মাংস খাওয়া মকরূহ!
৩. ঈদে নতুন কাপড় পরা শিরক!
৪. রোজা/ঈদে বকশিশ দেওয়া/নেওয়া হারাম!
৫. তারাবীর নামাজের পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম!

এরকম কয়েকটি ফতোয়াও যদি তারা সমাজে স্টাবলিস্ট করতে পারত তাও কিছুটা লাগাম পরানো যেত চেমো উকুনের মত বেপারীদের।
১৯. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩৯
মনুমনু বলেছেন: মনজুরুল হক সাহেব মন্তব্যটি অন্যভাবেও দিতএ পারতেন।

সমাজকে আজ খাও খাই ইন্সটিন্ক্ট এ গড়ে ফেলা হয়েছে। ""আমার এটা চাই"" শব্দটি দিয়ে আমাদের টিভি র মাধ্যমে মগজে বেধে ফেলা হয়েছে।
"" লেখপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে"" এই কথাটিই আমাদের সমাজে দূর্নীতির মূল বীজ। এই শিক্ষাটি এই মূহুর্তে পাঠ্যবই হতে সরিয়ে ফেলা দরকার।
লিখক সাহেবকে প্লাস
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন:
বনিক সমাজ বা কর্পোরেট সমাজের এটাই মূল নীতি। মানুষের ভোগেচ্ছাকে নিত্যনতুন পদ্ধতিতে নবায়ন করো! ভোগেচ্ছা বাড়লেই পণ্যের ব্যবহার বাড়বে, মুনাফা বাড়বে।
আপনার উক্তির জন্য ধন্যবাদ। একটা কি বাদ পড়ল?.................

"আপনি বাঁচলে বাপের নাম"
"নিজের বুঝ পাগলেও বোঝে"
"চাচা আপন প্রাণ বাঁচা"

এসবই কি মানুষকে সেলফিস করে দেয়নি? আত্মকেন্দ্রীক করে দেয়নি?

২০. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৪৩
নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন:
(কারণ তত্তাবধায়ক সরকারের আমলের ৪৪ টাকা দরের আটা রাতারাতি ২৩/২৪ টাকায় নামে কি করে? ১শ ২০ টাকা দরের সয়াবিন তেল ৮০ টাকায় নামে কি করে? পয়লা মর্তবায় সরকারকে এই গুডবুক উপহার দিয়ে যারা গত কয় মাসে সামান্য কম লাভ করছিল, সেই তারাই এখন সুদে-আসলে কাটায় কাটায় তা পুরণের জন্য হণ্যে হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।)

বিষয়টা মনেহয় ওরকম নয়। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় আটার দাম বারার পিছনে ব্যবসায়ীদের মুনাফার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক একটা বিষয় কাজ করেছে তা হচ্ছে গোটা ইউরোপে খরার কারনে গমের উৎপাদন কম হওয়া আর গমকে জৈব জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারেই গমের দাম কমেছে। আবার ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ১৩৪০ ডলারের তেল ৭৮০ ডলারে নামে, আর জ্বালানী তেল ১৬৭ ডলার হতে ৪৫ ডরার পর্যন্ত নামে। ফলে কাকতালিয় ভাবে জিনিসের দাম খানিকটা কমেছিল বা এখনও কম। আর চালের দাম কমার কারণ কৃষক বাধ্য হয়েই পানির দরে ধান বিক্রি করেছে।

তবে আপনার মূল উপলব্ধিটা ঠিক আছে। ভুল হলে বলবেন।
সুন্দর পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ

আমার সাম্প্রতিক পোষ্টগুলিতে আপনার মন্তব্য আশাকরি।
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫২

লেখক বলেছেন:
আমি এই বিষয়টা বিস্তারিত বলিনি স্থানাভাবে। বিষয়টা এমনঃ.............................

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠা-নামার খবরটা ব্যবসায়ীরা মনে করে জনগণ খোঁজ রাখেনা, তাই তারা একবার বেশি দামে কিনে সেই ইনভয়েস দিয়ে মাসের পর মাস পার করে দেয়। যেমনঃ বাজেটে যে পণ্যের দাম বাড়ার ঘোষণা হয় তা বাজেটের পরদিনই কার্যকর! যুক্তি- বাজেটে বেড়েছে! আবার যে পণ্যের দাম কমে তা খোলাবাজারে কমে না। যুক্তি- এটা আগের ইম্পোর্ট! এই "আগের ইম্পোর্ট" বা আগে আনা মাল আর সারা বছর শেষ হয় না!

নিশ্চই গমের দাম কমেছিল, ক্রুড ওয়েলের দাম কমেছিল। কিন্তু মহাজোট সমর্থক ব্যবসায়ীরা না চাইলে বাজারে দাম কমত না! তারা না কমানোর অনেক অজুহাত জানে। তারা যারা তত্তাবধায়ক আমলে মামলায় পড়েনি বা গ্রেফতার হয়নি তারা মহাজোটের পক্ষে কৃতজ্ঞতা দেখাতেই "কিছুটা রিল্যাক্স" মুডে ছিলেন। এখন মাহে রামাদানে আর সেই সুযোগ দেবেন না।

গত কয়েক দিনে অনিয়মিত ছিলাম। নিশ্চই আপনার পোস্টে যাব। ভাল থাকবেন।

২১. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৬
অ্যামাটার বলেছেন: এখন রমজান মাস/মুনাফা লুটার এই শ্রেষ্ঠ সময়!
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন:
এই হেডিংয়ের লেখাটা রোজার শুরুতে আসবে।
আর সেটা লিখবেন আপনি।
প্রমিজ!!

২২. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৬
জাতি জানতে চায় বলেছেন: মনজুরুল হক@ আপনে ১৮নং মন্তব্যটিও শেষ প্যারার মতই। এই কাটমোল্লাদের দিয়া আপনে ধর্ম টানতাছেন কেন এটা বুঝতাছিনা। এরা যে মাতব্বর আর চেয়ারম্যান মার্কা লোকদের ইশারায় আর অর্থে ফতওয়া দেয় এটা আপনি জানেন না বলেতো আমার বিশ্বাস হয় না। সংযমের মাসে অসংযমী হওয়াটা কি ধর্মের দোষ, নাকি কপট পাবলিকের দোষ যাদের অনেকেই ব্যাপক ঘুষ খাইয়া বা বিভিন্ন উপায়ে ব্যাক্তি ও রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাত কইরা ব্যাপক দান খয়রাতের মাধ্যমে সমাজ সেবক ও জনদরদী বইন্যনা জান। যেসব সমাজে ধর্মের প্রভাব নাই সেসব সমাজেও কিন্তু এসব দেখা যায়।

আর আপনে যেসব ফতওয়ার কথা বলছেন, এই গুলা দিলে তো কালকাই ধর্ম কিভাবে মানুষের স্বাধীনতা কাইড়া লইল সেইটা নিয়া আপনাদের পোস্টের অভাব হইব না। আপনাদের জ্ঞানী মাথা আর চমৎকার লেখনির হাতেরাই যখন এইটা নিয়া পজিটিভ কিছু না করে উল্টা পথে চলেন তখন বইখা যাওয়া গরীব কাটমোল্লা গুলা কেন পজিটিভ কিছু করব সেইটাইতো বুঝতাছিনা!!!
২৩. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:২৩
আবাব বলেছেন: ====== “ঠিক না থাকতে দিলে অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এই যে হুমকি দিলেন তিনি, আইনগত ব্যবস্থা বলতে আমরা কি বুঝব ? তাদেরকে ধরে ধরে কি জেলে পোরা হবে? তাদের ব্যবসার লাইসেন্স কি বাতিল করা হবে? তাদেরকে কি ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হবে? না। এসবের কোনটিই করা হবেনা। আমরা যারা ভুক্তভূগী তারা জানি, এসবের কিছুই করা হবেনা। শুধু মাঝে মাঝে তাদের ডেকে চা-চক্রে আপ্যায়ন করা হবে। তারাও চা পানের ফাঁকে ফাঁকে ক্যামেরার দিকে হাসু হাসু মুখে তাদের মুখস্থ বাণী বর্ষণ করে যার যার ডেরায় ফিরে যাবেন। ====

১ জন খুন করুন, সারাজীবন জেল অথবা ফাসি, ২০ জন এর বেলায় মানসিক হাসপাতাল, আর ২০০০০০ কে খুন করুন, আপনি আমন্ত্রিত জেনেভায়।
এত মানুষকে পিষে টাকা নামক অমৃত বের করছে ঐ ব্যাবসায়ীরা, তাদের সাথে দুটো মিষ্টি কথা না বললে চলে?
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪১

লেখক বলেছেন:
ভাল বলেছেন।
আমাদের এখন এভাবেই বিপরীত থেকে দেখার অভ্যেস করতে হবে !!

২৪. ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:২৮
অরণ্যদেব বলেছেন: বস নয়া ফতুয়াডি জুশ হৈসে ;) তয় ঐডি মুল্লারা আজমাইতে পার্বো না। তাইলে তো ইনকাম শ্যাষ :(
২৫. ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:২৫
প্লাটো বলেছেন: ব্যস্ত থাকায় আসতে দেরী হয়ে গেল।ধন্যবাদ আপনার উত্তরের জন্য। আমার পাঁচ নাম্বার কমেন্টের প্রতিত্তরে আপনি লিখেছেন -’’শুধুই গোটা কয়েক শোষক নয়। এর দায় সমাজের। রাষ্ট্রের। সরকারের। ধর্মবেত্তাদের। এবং অতি অবশ্যই সোস্যাল কন্টেন্টে যারা সোসাইটিতে তরফদারী করেন, তাদের। পত্র-পত্রিকায় যে রকমারী ইফতারের বয়ান ছাপা হয় তাকে কোন ধর্মীয় নেতা থামান? বরং তারা স্টুপিড বক্সে বসে এত্তো এত্তো অনুশাসন আর ফরমালিটিজের ফতোয়া দেন! ’’

আমি বলব , আসলে ঠগ্ বাছতে গিয়ে আপনি গাঁ উজাড় করে ফেলেছেন।কে একমাত্র এবং শুধুই একমাত্র অপরাধী সেটা কখনই আমার উল্লিখিত বক্তব্যর বিষয়বস্তু বা কনটেক্সট ছিলনা। স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধিতে না হওয়ারই কথা,যদি না এটা বিটিভির সেই স্কুলবিতর্ক প্রতিযোগীতা হয়।

সমাজ,সংস্কার,লোকবিশ্বাস ইত্যাদিকে সব অপরাধের সঙ্গেই প্রত্যক্ষ বা পরক্ষো ভাবে জড়িয়ে ফেলা যায় এবং এটা বহু চর্চিত একটা তরিকা।তবে এসব ঢালাও শব্দের আড়ালে মূল অপরাধীকে পাশ কাটিয়ে যাওয়াটা নীতি বিরূদ্ধ কাজ হবে বলে মনে করি। আর সমস্যার মূল কেন্দ্র ছেড়ে পেরিফেরিতে গিয়ে অপরাধী খোঁজার আপ্রাণ প্রচেষ্টা যুগে যুগে অসহায় জজ মিঞাদের দোষি সাব্যস্ত করার চিরন্তন কায়দার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

আলোচ্য পরিপ্রেক্ষিতে মূল অপরাধী টা কে? রিং লিডার টা কে? খাদ্যসামগ্রী মজুদ্‌দারি করে যে গোষ্ঠিটা অসহায় জনগনের রক্ত শোষন করে তারা? না গ্রামের মসজিদ মন্দির কমিটির দয়ায় আশ্রিত, হোন্ডা হাঁকানো রাজনৈতিক রক্তচক্ষুর নীচে কুন্ঠিত , দূর্বিণীত পেশিশক্তির কাছে ভীত হতদরিদ্র কাঠমোল্লা আর পুরোহিত সমাজ? রমজান মাসে ছোলাটা মুড়িটা গোস্তটা সে কেন কম খেতে নিষেধ করেনা এটাই তার দন্ডনীয় অপরাধ ? !!

সমাজের শোষণ-বঞ্চনা, ঘুষ-দূর্ণীতি,অবৈধ-অস্ত্র, সীমান্তচোরাচালান, মুদ্রা পাচার ,শিশু পাচার, মাদক ব্যবসা, খাস জমি দখল, ক্ষুধার্তের ত্রান সামগ্রী আত্মসাৎ, প্যারাসিটামলে বিষ ,খেলাপী ঋণ, অর্থের লোভে কিংবা প্রভাবশালীর নেক নজরে থাকার জন্য নীতি বিবর্জিত সাংবাদিকতা আর সর্বগ্রাসী মাদকাসক্তির মূল কারণ কি এই শ্রেনী আর তাদের অসচেতনতা?!! উল্লিখিত অপরাধের সাথে এই পেট চালানো মোল্লা-পুরহিত শ্রেণী কতখানি সম্পৃক্ত আর তাদের কোন বুদ্ধিদীপ্ত ফতোয়াতে এই সমস্যার সমাধান অত্যাসন্ন একটু বাখ্যা করবেন কি?
১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন:
"সমাজের শোষণ-বঞ্চনা, ঘুষ-দূর্ণীতি,অবৈধ-অস্ত্র, সীমান্তচোরাচালান, মুদ্রা পাচার ,শিশু পাচার, মাদক ব্যবসা, খাস জমি দখল, ক্ষুধার্তের ত্রান সামগ্রী আত্মসাৎ, প্যারাসিটামলে বিষ ,খেলাপী ঋণ, অর্থের লোভে কিংবা প্রভাবশালীর নেক নজরে থাকার জন্য নীতি বিবর্জিত সাংবাদিকতা আর সর্বগ্রাসী মাদকাসক্তির মূল কারণ কি এই শ্রেনী আর তাদের অসচেতনতা?!! উল্লিখিত অপরাধের সাথে এই পেট চালানো মোল্লা-পুরহিত শ্রেণী কতখানি সম্পৃক্ত আর তাদের কোন বুদ্ধিদীপ্ত ফতোয়াতে এই সমস্যার সমাধান অত্যাসন্ন একটু বাখ্যা করবেন কি?"

আপনার এই বক্তব্যে সহমত। শুধুমাত্র মোল্লা-পুরহিতকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়েছে এমনটি কি পোস্টে খুঁজে পেলেন? আমিতো তা বলিনি! বলা হয়েছে আপনার ওই বর্ণিত শ্রেণীর সাথে সাথে একটা বিশেষ মাসে বিশেষ কিছু মানুষ শোষণের নতুন মাত্রা আবিষ্কার করে।

তাদের কোন ফতোয়াতেও কাজ হবেনা। কারণ শত সহস্র বছর ধরে চলে আসা রেওয়াজ সহজে ফিকে হবেনা। কিন্তু আম জনতার মাংস খুবলে খাওয়ার ধর্মাশ্রয়ী ব্যবস্থাকে এনশিওর করা কি কোন সামাজিক গুরু দায়িত্বে পড়ে? উত্তর হচ্ছে-না। তাহলে এবার বলুন এই ধর্মাশ্রয়ী বুলিবাগিশদের এই সময়ে করণীয় কী?

২৬. ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫০
নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন:
@@@ছৈয়দ শেইমছুল হুক
আপনি সুনাদর মন্তব্য করেছেন। কিন্তু আসলে শুধু বাংলাদেশি ব্যাবসয়ী নয়, ব্যাবসায়ী মানেই রক্তচোষা। কারন ব্যাবসার উদ্দেশ্যই হচ্ছে পুজি বিনিয়গ করে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নেওয়, সেখানে মানবতার পরাজয় ঘটলেও সমস্যা নেই।
১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:২৫

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস।

২৮. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩৪
প্লাটো বলেছেন: ১। ধন্যবাদ আপনাকে। আমার পাঁচ ও পঁচিশ নম্বর কমেন্ট এবং তৎসম্পর্কিত প্রতিত্তরের ধারাবাহিকতায় বলছি-

আপনার কাছে আমার মূল যে প্রশ্ন ছিলো, আলোচনার সুবিধার্থে নীচে আবার উল্লেখ করলাম

“আলোচ্য পরিপ্রেক্ষিতে মূল অপরাধি টা কে? আসল রিং লিডার কে? খাদ্যসামগ্রী মজুদদারি করে যে গোষ্ঠিটা অসহায় জনগনের রক্ত শোষন করে তারা? না গ্রামের মসজিদ মন্দির কমিটির দয়ায় আশ্রিত, হোন্ডা হাঁকানো রাজনৈতিক রক্তচক্ষুর নীচে কুন্ঠিত, দূর্বিণীত পেশিশক্তির কাছে ভীত হতদরিদ্র কাঠমোল্লা আর পুরোহিত? রমজান মাসে ছোলাটা মুড়িটা গোস্তটা সে কেন কম খেতে নিষেধ করেনা এটাই তার দন্ডনীয় অপরাধ ?”

এখনো আপনার কাছ থেকে উত্তর সুনির্দিষ্ট ভাবে আসেনি। আশা করছি পাবো।অপরাধের দায়দায়িত্ব বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে না দিয়ে সর্বপ্রথম উপরের প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি বড় প্রয়োজন।

২। কমেন্ট পঁচিশ এ এসে আপনি সহমত হয়েছেন যে ফতোয়া দিয়ে এর কেশাগ্র ও স্পর্শ করা যাবেনা।এর অর্থ আপনি আপনার আঠারো নম্বর কমেন্টের শেষাংশের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন এবং শোষনের কন্ট্রোল মেকানিজমটাতে মোল্লা-পুরহিত শ্রেণীর প্রভাব যে নাই বললেই চলে সেটাও আপনি স্বীকার করেছেন। আসলেই, তারা চাইলেও কি না চাইলেও কি।এর স্টেয়ারিংটা আছে অন্য কোথাও অন্য কারো হাতে। সংক্ষেপে বলি। যদি এটাই আপনি পরিস্কার ধরতে পারেন তবে সমাধানের নৈতিক দায়িত্ব শুধু মোল্লাদের ঘাড়ে কেন দিচ্ছেন? যারা নিজেরাই অসহায় তারা আবার কি সমাধান দিবে? এটা আপনার স্ববিরোধিতা বলে মনে করি। সর্বশেষে ,সমাজের জঞ্জাল সাফ করার দায়িত্ব সংবিধান অনুযায়ী সর্বপ্রথম কার? যদি সে তা না করে থাকে তবে দায়িত্বটা কি এরপরপরই মোল্লাদের ঘাড়ে পড়ে, না এর মাঝে আর কোন স্তর আছে?

৩।আপনার শেষাংশের বক্তব্যে আরো নতুন কিছু চিন্তা বা প্রশ্নের অবকাশ থেকে গেল বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত কথা বলা যাবে, তবে সর্বাগ্রে আমার ১ নং পয়েন্টে আপনার সুনির্দিষ্ট উত্তরটি আশা করছি। আবারো ধন্যবাদ।


১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৩

লেখক বলেছেন:
আলোচ্য পরিপ্রেক্ষিতে মূল অপরাধি খাদ্যসামগ্রী মজুদদারি করে যে গোষ্ঠিটা অসহায় জনগনের রক্ত শোষন করে তারা। আর তারা এই কাজটি করার জন্য মোক্ষম অজুহাত হিসেবে সামনে পায় পুরো একটি মাসকে। এই মাসের ধর্মীয় অনুশাসন আর প্রথাগত আচার এর চল না থাকলে ওই মজুদদার গোষ্ঠি দিনেদুপুরে এই পরিকল্পিত অনাচারটি করতে পারত না। পূজোর সময় নিশ্চই এই কাজটি হবে না! কারণ পুজোর স্থায়িত্ব মাত্র তিন দিন। তার পরও ওই তিন দিনে বিশেষ বিশেষ আইটেম বাজারে আক্রায় হয়ে ওঠে।

এটা একটা টোটাল কর্পোরেট বাণিজ্য। এর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত সমাজের এলিট শ্রেণী এবং তাদের বেনিফিশিয়ারীরা। আর তাদের রক্ষাকর্তা সরকার এবং সরকারের অর্গান সমূহ।

২৯. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৫
রাগ ইমন বলেছেন: হইবে না কিছুই । অন্তত মধ্যবিত্ত দিয়া হইবে না । কারনটা বলি, আমরা সকলেই চাই ,

১। আমি গলা ফাটাইয়া বলিব
২। অন্যেরা কষ্ট করিয়া পরিবর্তন করিবে
৩। আমি ভোগ করিব আর বলিব আমিই প্রথম বলিয়াছিলাম যে পরিবর্তন দরকার ।


এই ব্লগেই আমি বলেছিলাম, নিজের সংসার এ খরচ কমানোর জন্য আমরা সবাই যদি চৈনিক আর ভারতীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকে থাকি তো সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশ গরীব হয়, আমাদের চাষী ব্যবসায়ীরা মার খায় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশী পণ্যের দাম আরো বেড়ে গিয়ে একটা ভিষাস সাইকেল তৈরী হয় । এর থেকে বের হতে হলে ,

দেশী জিনিস কিনতে হবে । খরচে না কুলালে পরিমাণে কমিয়ে দিতে হবে । এইটা হইলো দেশপ্রেমের প্রয়োগ । শুধু মনে মনে বাংলাদেশকে ভালোবাসি বলে কাজে কর্মে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিলে সেইটা প্রকৃত দেশ প্রেম না ।

ঝাড়ি খাইসি । সংসারের খরচ কমানোর জন্য ভারত , চীন এর অর্থনীতি চাঙ্গা করাটাকে কেন আমি দেশপ্রেমের সাথে মিশাইলাম !

তো ওইটাই আর কি ।

অন্যেরা কৃচ্ছতা সাধন করুক । আমি খাইয়া লই । আর দোষ সবই অন্যদের । আমার কিছুই করার ছিলো না , এখনো নাই । বুঝলেন?
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৯

লেখক বলেছেন:
গ্লোবালাইজেশনে কোন একটি দেশকে "চাঙ্গা" কিংবা কোন একটিকে "টিসে" দেওয়ার সুযোগ কই? গ্যাট এর অধীনে আপনি ইচ্ছে করলেই শিফন-জর্জেট আমদানী ঠেকাতে পারবেন না! এমনকি বোতলজাত পানি আমদানীও ঠেকানোর এন্তেজাম নাই। আবার ইচ্ছে করলেই এরোপ্লেন বানিয়ে রপ্তানীও করতে পারবেন না! ব্যাপারটা খরচ কমানো-বাড়ানো না, আসলে প্রয়োজন এবং অত্যাবশকীয়র মধ্যেকার দ্বন্দ্ব। ক্লিয়ার ?

হ্যাঁ বুঝলাম। আপনার কথকীর ভক্ত হয়েছি আগেই। এখন নেশা ধরে যাচ্ছে !!!!

৩০. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৪
ভালো-মানুষ বলেছেন: ড়মজান হৈল ত্যাগের মাস। মানবচরিত্রের যত ভালোগুণ আছে সকল ত্যাগের মাঝেই তার মহিমা ;)
২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২৯

লেখক বলেছেন:
এমনই মহিমা যা খালি চোখে দেখা যায়না! দূরবীন লাগে!!;)

২২ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ গাই অব গিসবর্ন।

৩২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৩
মদনঠাকুর বলেছেন: আশাকরি আপনাদের এবারে ঈদ আরো আনন্দঘন হয়ে উঠভে ।

ঈদের আগে একটি অবশ্যপাঠ্য গুরুত্বপূর্ন পোস্ট
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন:

শুকুরালহাম্দুলিল্লাহ! এই পবিত্র দিনের আগের রজনীতে এই মহান পুস্টখানি অবলোকিত করাইয়া আপনি অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হইলেন!! লা-আম বাজু মোজ্জেরুন!!

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪০০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ