আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আসুন আরব বর্বরদের ঘৃণ্য থাবা হতে বাকীদের মাথা বাঁচাতে তিনটি দাবীতে সোচ্চার হই - ও.জামান
- বিডিং রাউন্ড ২০১১: গ্যাস লুটের নতুন ধান্দা - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর সাথে পিএসসি চুক্তি: প্রথম আলোয় ম.তামিমের সহজ পাঠের প্রতিক্রিয়া - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর সাথে চুক্তি নিয়ে ডেইলিস্টারের মিথ্যাচারের জবাবে - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর কাছ থেকে কত টাকা খেয়ে প্রথম আলো এইরকম মিথ্যা রিপোর্ট করেছে? - দিনমজুর
- দুর্ঘটনার রাজা কনোকোফিলিপস ও বঙ্গোপসাগরের আসন্ন বিপদ: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিপি-ব্লোআউটের আলোকে - দিনমজুর
- কনোকো-ফিলিপস এর হাতে তুলে দেয়া হলো সাগরের গ্যাস ব্লক ১০ ও ১১ - দিনমজুর
- টেলিকম বহুজাতিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রথম আলোর অস্থিরতা - দিনমজুর
- নাস্তিক নির্ধর্মী কাফেরগন - হুশিয়ার সাবধান! - দাঁড়িপাল্লা
- অবিশ্বাসী কেউ ইসলামের সমালোচনা করলে মুসলমান ভাই-ব্রেদেরণদের উত্তেজিত হওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নাই। - হোরাস্
- বিমান বন্দরের নামে আড়িয়াল বিলে রাষ্ট্রীয় ভূমি আগ্রাসন! - দিনমজুর
- ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবি হত্যার ইতিবৃত্ত - পিডিএফ সংস্করণ - নাঈম
- ·٠•●♥ •●♥ •♫♫♫♫♫ কালেকশনে রাখুন উপমহাদেশের সেরা কিছু ইনস্ট্রুমেন্টাল এ্যালবাম - আমার আপলোড করা ♫♫♫·٠ -•●♥ ♫♫♫·٠ - কবির চৌধুরী
- হামীম গার্মেন্টস এ আগুন: গার্মেন্টস না লাশের কারখানা? - দিনমজুর
- হে রক্তমাংসহীন মেহনত! আল্লার দোহাই, পুড়ে পুড়ে কয়লা হও!! আমাদের অনেক উন্নয়ন দরকার - একজন নাগরিক
- দোহারের গান এবং আমাদের ধনী পিতার ফকির সন্তানদের গল্প - অনার্য তাপস
- কোরান কি অলৌকিক গ্রন্থ? - ১ - সজীব আকিব
- সংশোধিত ড্যাপ আবশ্যক - সচল জাহিদ
- কর্ণেল তাহের আজো প্রাসঙ্গিক ১: কর্ণেল তাহেরের পিপলস আর্মি - দিনমজুর
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- মানালি থেকে লাদাখের পথে: (তৃতীয় পর্ব- দ্বিতীয় ভাগ) - আহাদিল
- নূন্যতম মজুরী নিয়ে সমঝোতার সাজানো নাটক - দিনমজুর
- জিয়া কর্তৃক তাহের হত্যাকান্ড নিয়া পি মুন্সী’র ‘অবজেবক্টিভ’ ত্যানা প্যাচাপ্যাচি প্রসঙ্গে একখান রি-অ্যাকশান পোষ্ট! - মাদারি
- পার্বত্য চট্টগ্রাম: কান্না যেমন করে রক্তের রূপ পরিগ্রহ করে - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ভাষার জন্য একটি প্রান্তিক জাতিসত্তার সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস: বাংলাদেশে কি সকল জাতির সকল ভাষা সমান স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবে ? - কুঙ্গ থাঙ
- সংখ্যাগুরু -vs- সংখ্যালঘুঃ স্বাধীন বাঙালি যখন শাসক...সংখ্যালঘু পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসীরা যখন শোষিত...আর দেশের ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়ার চিন্তায় উন্মাদপ্রায় আমরা ! - আইরিন সুলতানা
- পাহাড়ে সমতলীর বসবাসের অধিকার ও CHT কমিশনের মতলব - পি মুন্সী
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- বাঘাইছড়ি হত্যাযজ্ঞ: পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্ব নাকি শাসক শ্রেণীর ঔপনিবেশিক আধিপত্য? - দিনমজুর
- কয়েকটি মজার ছবি ও একটি কৌতুক (১৮+) - কুঙ্গ থাঙ
- একটু আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমার ধারনাটুকু বদলে দিলেন আমার বাবা - শ।মসীর
- ৩০ মিনিটের ভাষা আন্দোলন এবং গ্রামীণ ফোনের ”কাছে থাকা”! - দিনমজুর
- একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হলোঃ “আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস্”... - মুনশিয়ানা
- দেশে 'সন্ত্রাস' বিরোধী অভিযান ও চলমান 'ক্রসফায়ার' প্রসঙ্গ- (চতুর্থ অংশ) - মাহাদি হাসান
- থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ফ্যান্টাসি - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস: দ্রুত সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করুন। - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- একাত্তরে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ - একরামুল হক শামীম
- বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে ২ পয়সার ভাবনা - বিডি আইডল
- বাংলা ব্লগ দিবসের গরম গরম ছবি... (লাইভ স্ট্রীম থেকে নেওয়া) !!! - এস.কে.ফয়সাল আলম
- ফিরে দেখা ২০০৯ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ - ফিউশন ফাইভ
- পার্বত্য জনগনঃ উদ্বাস্তু হতে হতে ক্রমশঃ আলাদা হয়ে যাওয়া... জেগে ওঠা বিচ্ছিন্নতার বোধ... - মুনশিয়ানা
- বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (৮) - পি মুন্সী
- পাশ্চাত্য সংগীত যারা ভালবাসেন তাদের জন্য অসাধারণ কিছু গানের লিস্ট (না শুনলে মিস করবেন) - নগর সংগীত
- আইন ভেংঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষার বিপজ্জনক রাজনীতি - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- নির্যাতন-৬ বেআইনী টিএফআই সেল, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন - সায়েমুজজ্জামান
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- আসুন, গড়ে তুলি জ্ঞানের ভাণ্ডার - রাগিব
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- বেড়িবাঁধ দখল করে তৈরী হচ্ছে ৯টি শিপইয়ার্ড - আিক
- আগুনের রেস (উৎসর্গ: মনজুরুল হক) - প্রশ্নোত্তর
- রাষ্ট্রের হাতে যদি নাগরিক নিরাপত্তা না পায় তবে সেই রাষ্ট্র ব্যর্থ - প্রশ্নোত্তর
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- কমপিউটারের কিছু শর্টকাট/ কীবোর্ড কমান্ড টিপস - জোবাইর
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- যানজটে জীবনজট-২: সম্ভাব্য সমাধান - ফারহান দাউদ
- পূনশ্চঃ ইসলামী ব্যাংক : তত্ত্ব ও প্রয়োগের অসঙ্গতি ও কিছু কথা - (শেষ পর্ব) - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- ফ্রি হোস্টিং এবং ডোমেইনসহ মাত্র এক ঘণ্টায় তৈরি করুন নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট - পান্থ বিহোস
- সিরাজ শিকদার : ভুল বিপ্লবের বাঁশীওয়ালা! ১ - অমি রহমান পিয়াল
- টিপাইমূখ বাধ সংকলিত লিংক সমূহ - কিরিটি রায়
- সেলিব্রিটি সিনড্রোম - ফারহান দাউদ
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ) - পি মুন্সী
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই - পি মুন্সী
- সর্বগ্রাসী অপ-‘বাদ’ বনাম একজন আরজ আলী মাতুব্বর এবং... [যুক্তিবোধ ও চিন্তা-চেতনায় সহনশীল পাঠকদের জন্য এই পোস্ট সংরক্ষিত] - রণদীপম বসু
- সেনাবাহিনীর আকাম কুকাম সমগ্র পর্ব ২ - লাশ
- সেনাবাহিনীর আকাম কুকাম সমগ্র পর্ব ১ - লাশ
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- মধ্যযুগীয় মোল্লাবাদ বনাম সুফীবাদ - লাশ
- তিয়ান'আনমেন রক্তক্ষয়ের ২০ বছর : কি ঘটেছিল তখন ? - মেহরাব শাহরিয়ার
- আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ আ ক খ - অপ্সরা
- প্রভাকরণের মৃত্যু ও তামিল ইলম - ফিরে দেখা ইতিহাস - দিগন্ত
- আসবেন আরজ আলী? - তনুজা
- আইনস্তাইন বললেই হল! সমাজতন্ত্রের মরা ভূত আর জাগবে না (উৎসর্গ ব্লগার ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান) - ভালো-মানুষ
- ডিম্বের সন্ধানে - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কল্পনা চাকমা এখন কোথায়? - বিপ্লব রহমান
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- পিলখানা গণহত্যা: গুজবের ময়না তদন্ত - ঘনাদা
- প্রধানমন্ত্রী যেসব কথার জবাব দিতে পারেন নি..... - নাস্তিকের ধর্মকথা
- একটি বিদ্রোহ পরবর্তী বিশ্লেষন শ্রেণী সংঘাতই কি বিডিআর বিদ্রোহের মূল কারন? - জামাল ভাস্কর
- বিডিআর নৈরাজ্য: লাশের মাপকাঠিতে বিদ্রোহের পরিসীমা - দিনমজুর
- লাশ উৎসব - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- একটা পুরানো দালান : ইষ্ট পাকিস্তান : আমাদের আর্মির জবাবদিহিতা - শূন্য আরণ্যক
- বিডিআরের জওয়ানদের যৌক্তিক দাবী: ঘটনা,শংকা এবং ভবিষ্যৎ - ফারহান দাউদ
- আর্মির সত্যভাষণে বিডিআর ভিলেন??!! - নিকো৮১২৩
- সবুজ সততা দেখানো শুরু হয়ে গেছে , আসল সত্য কি ? - রাগ ইমন
- মুক্ত/ নাস্তিক/ সংশয়ী/ ধর্মদ্রোহী'দের যুদ্ধটা ... আসলে কাদের বিরুদ্ধে, কিসের বিরুদ্ধে ? - মনির হাসান
- ভাগীরথীকে নিয়ে লিখা আমার ছোটগল্প - মেঘ
- ইজরায়েল কিভাবে গাজায় মহাবিপর্যয় তৈরি করেছে(শেষ পর্ব) - আহসান হাবিব শিমুল
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- নারীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন: বাংলাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুনপৌনিক ঘটনার নিষিদ্ধ আলোচনা- দ্বিতীয় কিস্তি - মুনীর উদ্দীন শামীম
- কমরেড হায়দার আকবার খান রনোর খোলা চিঠি (শেষাংশ) - দিনমজুর
- কমরেড হায়দার আকবার খান রনোর খোলা চিঠি - দিনমজুর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- যৌবনযাত্রা, যৌনতা এবং বর্তমান ব্লগ-বিতর্কঃ পুনর্মূল্যায়ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এবং একজন স্বঘোষিত পর্নোষ্টার - জাতেমাতাল
- জনস্বার্থের পোস্ট: ব্লগে আপনার নিজের সেরা লেখা কোনটি? (সবার অংশগ্রহন বাধ্যতামূলক)
- জ্বিনের বাদশা
- প্রসঙ্গ ৭ ই নভেম্বর: জিয়া ভার্সাস কর্ণেল তাহের --- যে বিষয়গুলোতে যুক্তি খুঁজে পাইনা - জ্বিনের বাদশা
- একজন ব্লগারের নিষ্ঠা ও আমাদের নির্লিপ্ততার আক্কেল সেলামি - রাগ ইমন
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- আরব-ভূমিতে গ্রীক দর্শনের পঠন-পাঠন, আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ইসলামের উদ্ভব ও কোরআনঃ ইতিহাসের পাঠ থেকে একটি বিশ্লেষণ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব (শেষ পর্ব) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- আস্তিক-নাস্তিক সমাচার - চার্বাক দর্শন। (শেষ কিস্তি) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- নেপালে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মিথ এবং কিছু জরুরী ভাবনা - দিনমজুর
- আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ - দিনমজুর
- আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ -২ - দিনমজুর
- হায়রে কৃষি!!!!!!!!!! সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও একটি বিশ্লেষণ - দিনমজুর
- প্রাইভেটাইজেশন - দিনমজুর
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -১ - দিনমজুর
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -২ - দিনমজুর
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
- মুক্তমনার অভিজিৎ ও বিপ্লব পাল- বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ, ল্যামার্ক, লাইসেঙ্কো, নভেম্বর বিপ্লব, সমাজতন্ত্র, কেরোনস্কি, প্রতি বিপ্লব, পুঁজিতন্ত্র, ঠিকাদারতন্ত্র.... ইত্যাদি - দিনমজুর
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
- কিভাবে অভ্র ব্যবহার করে বাংলা লিখতে হয় (বিস্তারিত) - মৃত হাসানের প্রেতাত্মা
- পলিটিক্যাল ইসলাম কয় কারে? - সাধক শঙ্কু
- "হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি মৃগীরোগী ছিলেন" এর মূল লেখার জবাব - জামালiiuc
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- "নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন" শীর্ষক পোস্টের তথ্যসূত্র ও টীকাঃ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কোরআনের চ্যালেঞ্জঃ যেখানে সব্বাই ফেল মারছে!!!- ১ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- আজ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুদিন.....আজ আমার কষ্টের দিন..... - মনজুরুল হক
- সারা দেশে জামাতের শিক্ষা বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং দেশদ্রোহীতার একটি সাম্প্রতিক দলীল - আদৃতা আবৃত্তি
- আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস - একরামুল হক শামীম
- অভিজিৎ এর "মার্ক্সবাদ কি বিজ্ঞান" শীর্ষক প্রবন্ধের প্রতিক্রিয়ায়- ২ - দিনমজুর
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের একমেবাদ্্বিতীয়ম ঈশ্বর চেতনা - শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- সকল জামাত বিরোধী, রাজাকার বিরোধী পোস্টের সংকলন। - হ্যারি সেলডন
- টেকি পোস্ট ঃ কমেন্টে ফটো দিবেন কিভাবে ?? - শয়তান
- এন্টি গল্প > শেষরাতের একফালি চাঁদ > - মনজুরুল হক
এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ৩ > নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৯
![]()
ট্রাক্টরটা ঘটাং ঘটাং করে ছুটে চলেছে। দুপাশে বড় বড় ছাতার মত শিরিষ গাছের সারি পেছনে চলে যাচ্ছে। ছোটখাট কোন ঝাঁকিতেও পেছনের ট্রলিদুটো বেয়াড়া ভাবে দুলে উঠছে। একটানা ইঞ্জিনের গর্জন ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। কি ভেবে যেন ট্রলির কেউই কোন কথা বলছেনা। হয়ত অজানা দেশের কথা ভেবে কিংবা কি এক আশংকায় সবাই জড়সড় হয়ে কুন্ডলি পাকিয়ে বসে আছে। বিকেলের ধক্কল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি আমি। চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাচ্ছি বড় বাজারের চৌরাস্তায় বোমা! সে সময় খেয়াল হয়নি, এখন এই ট্রলিতে বসে হাঁটুর কাছে হাত দিতেই ব্যথা করে উঠল, হাঁটু আর কনুই ছড়ে গেছে। রক্ত জমে শুকিয়ে আছে। আমার কোন ফুলপ্যান্ট ছিলনা। হাফপ্যান্ট পরা থাকায় হাঁটু আর কনুইয়ের এই দশা। একটু যেন শীত শীত লাগছিল, অথচ তখন প্রায় গরমকাল। কোন বাস বা ট্রাক আমাদের ক্রস করে উল্টো দিকে যাচ্ছেনা। মাঝে মাঝে দুএকটা বাস বোঝাই হয়ে আমাদেরকে পেছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছে। একেবারে ছোট বোনটি মা’র কোলে মাথা গুঁজে শুয়ে আছে, বাকি দুই বোন মায়ের দুপাশে মা’কে জড়িয়ে বসে আছে। একটু দূরে বাবা মাথা নিচু করে বসে আছেন। একসময় বাবা বিড় বিড় করে বলে উঠলেন-‘এতটা বছর পর আবার পশ্চিম বঙ্গ! আবার সেই কোলকাতা’! আমি বাবার পাশে পাল্লায় হেলান দিয়ে বসা। বাবার বিড় বিড় শুনে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম-‘আপনি আগেও কোলকাতা গেছেন’? বাবা কিছুক্ষণ আমাকে দেখে বললেন-‘তুই জানিস না’? ‘না’! ঠিক সেই সময় পেছন থেকে বিলকিস চাচী (এক ইপিআর নায়েকের বউ, আমাদের পাশের বাসাতেই ছিল, তিনি একাই আমাদের সঙ্গী) বলে উঠলেন-‘ভাই আমরা কি কোলকাতায় যাচ্ছি’? ‘না, আমরা যাচ্ছি মুর্শীদাবাদ’ বাবা বললেন। তারপর বাবা যেন আমাকে শোনানোর জন্য বলতে শুরু করলেন......
‘আমার আব্বাজান আলীগড় থেকে পড়াশুনা শেষ করে নিউ আলিপুরে একটা কিতাবের লাইব্রেরী দিয়েছিলেন। তখনকার দিনে আব্বাজনদের জন্য কোলকাতাই কাছের শহর। খুলনা থেকে পড়তে এসে সেখানেই বাড়ি কিনে থাকতে শুরু করলেন। তারপর গেলেন আমার বড় ভাই। তিনি কোলকাতায় পড়াশুনা শেষ করে হাইকোর্টে পেশকারের চাকরি নিলেন। ভাবীকেও নিয়ে গেলেন। তারও কয়েক বছর পর আমি তোর নোয়া চাচাও কোলকাতা গিয়ে স্কুলে ভর্তি হলাম। নোয়া ভাই ভাল ছাত্র ছিল, কিন্তু আমি নাটকের দলের সাথে ঘুরে বেড়াতাম বলে ম্যাট্রিকে রেজাল্ট খারাপ করলাম। তোর বড় চাচা খুব রেগে গিয়ে আমাকে বাড়ি (খুলনা) পাঠিয়ে দিল! বাড়ি ফিরে রাগে আর পড়াশুনাই করলাম না। দুই বছর পরে আবার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলাম। তারপর আমাদের গ্রামে ভীষণ অভাব নেমে এলো, কারো ঘরে চাল নেই, নতুন পাকিস্তান সরকার রিলিফ দিত। আমি আর তোর সেজ চাচা লাইনে দাঁড়িয়ে রিলিফ আনতাম। একবার রিলিফের চাল বেঁচে দিয়ে যাত্রা দেখতে গেলে তোর দাদী ভীষণ বকাবকি করল। আমি রাগ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে খুলনা শহরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। তখন নতুন বাহিনী ইপিআর এ লোক ভর্তি করছিল। আমি ভর্তি হয়ে গেলাম। তার কয়েক বছর পর ৬৫ সালের যুদ্ধের সময় তোর দাদীর পীড়াপীড়িতে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। তার পর থেকেই স্কুলের এই চাকরি.....মাঝ পথে আমি বাধা দিয়ে বললাম- ’আপনাদের কোলকাতার সেই বাড়িটা আছে’? ‘না, মিয়া ভাই ৪৭ সালের পর সেই বাড়ি এক্সচেঞ্জ করে খুলনায় বসুপাড়ায় নিজের নামে বাড়ি কিনেছিলেন, কিন্তু আমাদের কারো ভাগ নেই সেই বাড়িতে.....’ কথা শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন মানুষ আমাদের ট্রাক্টর আটকে দিল! বাবা নেমে গেলেন (বাবার হাতে তখন একটা রাইফেল, সেটা ট্রলিতেই রেখে গেলেন)। কিছুক্ষণ পর বাবা আবার ট্রলিতে উঠলে মা জানতে চাইলেন- ‘কি হয়েছে’? ‘কিছুনা ওরা চুয়াডাঙ্গার খবরাখবর জানতে চাচ্ছিল’। তারপর আর কেউই কোন কথা বলল না। রাত ৮টা বা ৯টার দিকে আমরা মেহেরপুরে পৌঁছুলাম। এক অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম!
আমরা চুয়াডাঙ্গা ছাড়ার সময় যেমন সুনশান দেখেছিলাম মেহেরপুরে তার উল্টো। সারা শহরে লোকজন গিজ গিজ করছে! শহর ভর্তি লোকজন দেখে আমাদের ভয় কেটে যাচ্ছিল । বাবা বললেন-‘সব জায়গা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে, তার মানে সব খানেই মিলিটারী ঢুকে গেছে’! ভিড় ঠেলে আমাদের ট্রাক্টর এসে থামল সরকারী স্কুলের সামনে, সেখানে আগেই শত শত মানুষ এসে উঠেছে। আমরা নেমে কোনমতে মালপত্র নিয়ে একটা ঘরে গিয়ে ঢুকলাম। বাবা আবার বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন কয়েক ঘন্টা পর। যদিও আমাদের কাছে কেরোসিনের স্টোভ ছিল, তবুও এখানে রান্না করার উপায় নেই। বাবা কিছুতেই আমাদের কাছে বসছেন না, হন্তদন্ত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাধ্য হয়ে আমি হোটেল থেকে খাবার আনলাম। আমরা ছিলাম বাবা সহ ৭ জন, কিন্তু ট্রলিতে মোট ২০/২৫ জন ছিল, সবার জন্যই খাবার আনতে হলো। একা পারব না বলে আমার পরের বোনটিকে সাথে নিয়ে খাবার আনলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে যে যার মত টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। জেগে রইলাম আমি আর মা। মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। মা কখনো কি এমন জায়গায় থেকেছে! আমার নিজের তেমন কোন অনুভূতি হচ্ছিলনা, কারণ এর আগেও আমি বাড়ির বাইরে রাত কাটিয়েছি! (একবার বাবার সাইকেল চুরি করে নিয়ে অনেক দেরী করে ফেরার পর বাবা মেরেছিলেন। সেই মার খেয়ে বাড়ির কাছেই একটা লাইটপোস্টের নিচে সারারাত ছিলাম। বাবা রাগ করে আনতেও যাননি!)
অনেক রাতে বাবা ফিরে আবার আমাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। মা’কে বলে গেলেন-মেয়েদের দিকে খেয়াল রেখো। বাবা আমাকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে একটা পুরোনো বাড়িতে ঢুকলেন। ঘরে ঢুকেই আমার গা ছমছম করে উঠল! পনের-কুড়িজন মানুষ, কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের কোণে গাদা করে রাখা রাইফেল, স্টেনগান আর ব্যাগ ভরা গুলি। আমাকে ঘরের কোণে বসিয়ে বাবা তাদের সাথে কি কি সব বলাবলি করে অনেক রাতে সেই স্কুলে ফিরলেন। আমরা ফিরে দেখলাম মা জেগে বসে আছেন। আমিও শুয়ে পড়লাম। মা আর বাবা বসেই থাকলেন। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা। সকালে হৈহুল্লোড় চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গল। এখন আর ট্রাক্টর নেই। যে যার মত মালপত্র গুছিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরাও আমাদের মালপত্র (একটা স্যুটকেস, একটা টিনের বাক্সো আর একটা সাইড ব্যাগ এই ছিল আমাদের মালপত্র) গুছিয়ে রিক্সায় উঠলাম। শহর থেকে মাইল খানেক দূরে প্রায় শুকনো একটা নদী। তার উপর বাঁশের মাচার সাঁকো। সেই সাঁকোর উপর দিয়ে রিক্সা পার হয়ে গেল। ট্রলির কুড়ি-পঁচিশ জনের কে কোথায় গেল জানিনা, আমরা রিক্সায় যাচ্ছি সাত জন। আমরা চার ভাই-বোন, বাবা-মা আর সেই রেজাউল মামার আত্মিয়টি, যার বয়স ষোল-সতের। তার নাম খুব সম্ভবত বুড়ি।
গ্রাম্য পথ ধরে রিকসা চলছে। আমাদের সবারই মুখ বন্ধ । আমার সব চেয়ে ছোট বোনটি যে সারাক্ষণ বকবক করতো সেও কেন জানিনা একটি কথাও বলছিলনা! কয়েক ঘন্টা পর একটা সিমেন্টের ফলক দেখে বাবা রিকসা থামাতে বললেন। বাবা নেমে গেলেন। আমি কিছু না বুঝে বাবার সাথে সাথে নেমে গেলাম। ফলকটার পাশে গিয়ে বাবা বললেন-‘এটা কি চিনিস’? আমি মাথা নাড়ালাম। এর নাম ল্যান্ডমার্ক। কাছে যেয়ে দেখলাম ওটার গায়ে একটা নম্বর লেখা। বাবা বললেন-‘ সীমানা শেষ। আমরা এবার ভারতে প্রবেশ করছি’। কিছুই না, দুপাশের মাটি একই রকম, তার পরও কেমন যেন মনে হলো। একটা শিহরণ! অজানা দেশে ঢোকার শিহরণ। বাবা কি মনে করে যেন বড় একটা নিশ্বাস ছাড়লেন। মা’র চোখ ছল ছল করে উঠল। বোন তিনটি কোন কিছু না বুঝে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল। আমার কষ্ট না আতংক হচ্ছিল তা বুঝতে পারছিলাম না। তবে ‘অন্য দেশে’ এসে গেছি মনে করে শিহরণ হচ্ছিল। আবার মনে হচ্ছিল, এখানে পাক আর্মির বোমা পড়বে না, তাই ভালও লাগছিল। বাবার রাইফেলটা রিকসার পাদানিতে শোয়ানো ছিল। ঘটাং ঘটাং শব্দ করায় হোক বা অন্য কোন কারণে হোক বাবা রাইফেলটা খাড়া করে ঘাড়ের সাথে মিশিয়ে রাখলেন। কিছুক্ষণ পর একটা কার্লভার্টের নিচে নামতেই কয়েকজন লোক ছুটে এলো। তাদের একজন প্রশ্ন করল-‘আপনারা জয় বাংলার লোক’? বাবা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাতেই আবার প্রশ্ন-‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা’? বাবা এবারো ঘাড় নাড়ালো। লোকটি আরও কি যেন বলতে যাচ্ছিল, তার পাশের একজন বলল- ‘যেতে দাও এরা শরণার্থী’। বাবা বিড় বিড় করে বললেন-‘রাইফেলটা আনা ঠিক হলো না!’। কেন জানিনা বাবা মনে হয় নতুন এক ধরণের ভয়ে ভীত হলেন, কারণ এরপরই তিনি রাইফেলটা রিকসার পাদানিতে রেখে পা দিয়ে ঢেকে রাখলেন।
মেঠো পথে রিকসা ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে এগিয়ে যাচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল। এই পথে যারাই আমাদের দেখছে তারাই দাঁড়িয়ে ভাল করে দেখার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করছে, কেউ শুধু ওপারের ঘটনা জানতে চাইছে, কেউবা উল্টোপাল্টা প্রশ্নও করছে। আরও ঘন্টাখানেক পর আমরা যে পথে যাচ্ছিলাম সেটা সোজা চলে গেল। আর আমাদের রিকসা ডান দিকে মোড় নিয়ে আরও চিকন পথে এগুতে লাগল। কিছুক্ষণ পরই দেখলাম গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটা জায়গা। পথটা সোজা সেখানে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে। আমাদের রিকসা গিয়ে থামল বিএসএফ ক্যাম্পের গেটে। লাল বাজার বিওপি। বাবা রিকসা থেকে নেমে গিয়ে বিএসএফ সেন্ট্রির সাথে অনেকক্ষণ কথা বলল। তারপর ফিরে এসে আমাদের সবাইকে নামিয়ে রিকসা ছেড়ে দিল। আমরা গেটের পাশে মালপত্র সমেত বসে থাকলাম। বাবা কে নিয়ে সেই বিএসএফ সেন্ট্রি ভেতরে চলে গেল। ইতিমধ্যে আমাদেরকে ঘিরে ছোটখাট একটা জটলা তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আমাদের এটা ওটা জিজ্ঞেস করছে। আমরা হ্যাঁ-হু করে উত্তর দিচ্ছিলাম। আরও অনেকক্ষণ পর বাবা এসে বললেন- শরণার্থীদের ঢোকার অনুমতি আছে, কিন্তু রাইফেল নিয়ে এসেছি বলে ওরা ওপর থেকে পারমিশন নিয়ে তারপর যেতে দেবে। আমি এসবের কিছুই না বুঝে পা টান টান করে মাটিতে বসে থাকলাম। একটা ব্যাপারে আমি খুব আশ্চর্য হচ্ছিলাম! আমার বোন তিনটি কেউ কোন কথা বলছেনা। এমনকি তারা কোন কিছু খেতেও চাচ্ছেনা! মা মাঝে মাঝে ব্যাগ থেকে পাউরুটি, বিস্কুট বের করে ছোট দুই বোনকে খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু বড়টি কিছুই মুখে দিচ্ছেনা। সারাক্ষণ আমার পাশে আমার হাতধরে থাকছে! কোনরকম ঘটনা ছাড়াই মুহূর্তগুলো পার হয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ মেহেরপুরের দিক থেকে একটা জিপ ধুলো উড়িয়ে বিএসএফ ক্যাম্পের গেটে এসে থামল। ফর্সামতন এক অফিসার লাফ দিয়ে নামল। বিএসএফ সেন্ট্রি তাকে স্যালুট দিল। তিনি গটগট করে বিওপি’র ভেতরে চলে গেলেন। আমি ব্যাজ দেখে র্যাঙ্ক বুঝিনা, মুক্তিযোদ্ধা না ক্যাপ্টেন না মেজর তা বুঝতে পারলাম না। অফিসার বলতে আমি জানতাম মেজর আর ক্যাপ্টেন। বাবাকে দেখলাম কেমন যেন মুখ কালো করে বসে আছেন। কতক্ষণ পার হয়েছে মনে নেই এক সময় সেই অফিসার ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলেন। গাড়িতে উঠতে যেয়ে একবার আমাদের দিকে তাকালেন। তারপর সোজা হেঁটে এলেন আমাদের দিকে। বাবা দাঁড়িয়েই ছিলেন। বাবার পাশে এসে ভাল করে দেখে বললেন-‘ আপনি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের লোক না?’ বাবা মিলিটারীদের মত স্যালুট দিয়ে বললেন-‘ইয়েস স্যার, ইনামুল হক ফ্রম চুয়াডাঙ্গা ইউনিট’। কি ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে আমার কোনই ধারণা ছিলনা। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছি।
অফিসার বললেন-‘পালাচ্ছেন? দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন’? বাবা থতমত খেয়ে বললেন-‘না স্যার পালাচ্ছিনা, আমি আমার পরিবারকে মুর্শীদাবাদে রেখে আসতে যাচ্ছি.....’ বাবার কথা শেষ না হতেই তিনি হুকুম করলেন- ‘নো, ইউ শ্যুড ব্যাক উইথ মি’..... বাবা কাতর মিনতি করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন এই ছোট্ট একটা ছেলে কি করে সেখানে যাবে, কি ভাবে তারা অচেনা যায়গা খুঁজে পাবে, ভীন দেশ..... বাবাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আবারও হুকুম হলো। বাবা একবার পেছন ফিরে তাকালেন, মুখে হাত চাপা দিয়ে কান্না থামালেন, আমাদের কাছে এসে একে একে সবার মাথায় হাত দিয়ে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বললেন-‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে’, আমার কাছে এসে আমার ঘাড়ে হাত রেখে বললেন-‘ ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....আমার বুক ফেটে কান্না আসলেও শক্ত হয়ে থাকলাম, কিন্তু যেই বাবা ঘুরে জিপে উঠতে যাবেন আমি তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম.... বাবা এতক্ষণ নিরবে কাঁদছিলেন, এবার তিনিও আমাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কাঁদতে থাকলেন.....জিপটা স্টার্ট দেওয়াই ছিল, বাবা আমাকে ছাড়িয়ে জিপের পেছনে উঠে বসলেন, ধুলো উড়িয়ে জিপটা চলে গেল!
‘স্যাকরিফাইস’! ‘স্যাকরিফাইস’ কথাটি বলেলন আমার পেছনে দাঁড়ানো এক বিলাতী সাহেব। মা তিন বোনকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন..... আমি একা দাঁড়িয়ে জিপের ধুলো ওড়ানো পথের দিকে চেয়ে কাঁদছি, আমার মনে হলো আমাকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আমি হাতড়ে হাতড়ে কুলে আসতে চাচ্ছি কিন্তু পারছিনা......কতক্ষণ কেঁদেছিলাম মনে নেই এক সময় দেখলাম আমার মুখের সামনে একটা লম্বা চোঙামত কি যেন ধরা, তিনজন বিলাতী সাহেব আমার মুখের সামনে ওটা ধরে রেখেছে। সেন্ট্রি জানাল তোমার কান্না রেকর্ড করছে, ওরা জার্নালিস্ট। হিচকি তুলতে তুলতে একসময় আমার কান্না থামল। মনে পড়ল বাবার শেষ কথাগুলো..... ‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে, ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....’ চোখ মুছে আমি মা’র কাছে গিয়ে বসে মা’র কান্না থামালাম। সেই বিলাতীরা তাদের ব্যাগ থেকে চকোলেট, টফি বের করে বোনদের হাতে দিল । মা ব্যাগ থেকে একটা চিরকুট আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। মা’র যেন আর কিছুই বলার ছিলনা। আমি কাগজটা মেলে ধরলাম, দেখতে পারছিলাম না, এতক্ষণে খেয়াল করলাম সূর্য ডুবে গেছে, চারিদিক আবার আঁধার হয়ে গেছে , কাগজটায় লেখা- মোঃ রেজাউল ইসলাম, সুন্দরপুর, কান্দি, মুর্শীদাবাদ। কাগজের টুকরোটা বুক পকেটে রেখে চোখ মুছে উঠে দাঁড়াল হাফপ্যান্ট হাওয়াই সার্ট স্যান্ডেল পায়ে ঘাড়ে ব্যাগ ১১ বছরের এক কিশোর! পথ চলা শুরু হলো............
চলবে............
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নির্মম বাস্তবতা, একাত্তর, যুদ্ধস্মৃতি, এক কিশোরের বেঁচে থাকার লড়াই। ;এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী, বাংলাদেশী, বাংলাদেশ, ১৯৭১, ৭১, '৭১, মনজুরুল হক, স্মৃতিকথা, গেরিলা, পাকিস্তান, পূর্ব বাংলা, বিহারী, 1971, 71, '71, bangladesh, freedom fighter, liberation war, bangladeshi, bangla, east pakistan, west pakistan, .... ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতিকথা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। আমিও বুঝতে পারছি পোস্ট দিতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু কি করব ভাই! সারাদিন অন্নের যোগানে ব্যস্ত থেকে রাতে বাসায় ফিরে মা'য়ের দেখাশোনা, বাসার এটা ওটা করতেই রাত ১০ টা! তখন শুরু করে শেষ হতে হতে রাত ১২ টা!
আগামীকাল ছুটি আছে, কালকের পর্বটা আরও আগে দিতে পারব।
ভাল থাকবেন।
সারণী বলেছেন:
অসাধারণ............ প্রিয়তে যুক্ত
লেখক বলেছেন:
কৃতজ্ঞতা।
আশা করি পরের পর্বেও পাঠক হিসেবে থাকবেন।
পাথুরে বলেছেন:
ও আমার দেশের মাটি
তোমার পরে ঠেকাই মাথা।
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম মনজুর ভাই।
প্রিয়তে....
লেখক বলেছেন:
কোন বিরতি ছাড়াই প্রতিদিন একটি করে পর্ব দিতে চাচ্ছি। জানিনা পারব কি-না! তবে চেষ্টা করে যাব।
ধানশালিকের ঠোঁটে রোদের বিচ্ছুরণ
সোনারোদ মাখা নিকোনো উঠোনে
ছোট্ট দু'পায়ে টোনাটুনি বসে আলাপনে রত...
এমিল বলেছেন:
এবার আমিও অন্যদের মত বলতে বাধ্য হ'লাম আরেকটু বড় হলেও কারো স্ক্রলিং করতে সমস্যা হবে না। নেক্সট পর্ব আরো বড় করবেন...
লেখক বলেছেন:
পরের পর্বটা বড় হবে। কাল অফিস নেই, তাই সময় পাওয়া যাবে।
লেখার কষ্ট কোন কষ্টই না, মূল কষ্ট অন্যখানে!
যেমন আজকের পর্বটার শেষ দিকে কয়েকটা লাইনেই সময় লেগেছে আধা ঘন্টা!
বার বার ভুল হতে থাকে, ঝাপসা দেখি...
জোবাইর বলেছেন:
হৃদয় কাঁপানো লেখা, খুবই ভালো লেগেছে। ব্লগে অনিয়মিত হওয়ায় আগের পর্বগুলো মিস্ করেছিলাম। আজ পড়লাম। পোস্টের শেষে আগের পর্বগুলোর লিঙ্ক দিলে মনে হয় ভালো হতো। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
এর পরের পর্বের সময় আগের লিঙ্কগুলো এ্যাড করে দেব। আজই ভাবছিলাম দেব, কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় হলো না।
ধন্যবাদ জোবাইর।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
দুই পর্ব একসঙ্গে পড়লাম। ভালো লাগল এবারও। যেহেতু স্মৃতিচারণটা দীর্ঘই হবে অনুমান করি, পর্ব ভাগ করে লিখলে মনে হয় ভালো হতো।
লেখক বলেছেন:
পাঁচ পর্বের পর থেকে পর্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ভাবছি। এর পর থেকেই যুদ্ধপর্ব শুরু.......
ধন্যবাদ আবারও।
লেখক বলেছেন:
ভাল বলেছেন। পথেই যেন শেষ হয় এই পথচলা....
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
আপনার বাবার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো। লেখা কেমন লেগেছে তা আর বললাম না। চালিয়ে যান।
লেখক বলেছেন:
স্যাকরিফাইস! আর আমার বাবা এ দু'য়ের পার্থক্যরেখা টানার চেষ্টা করিনি কখনো.......
শুভেচ্ছা রইল।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এমন একটা ধারবাহিকের জন্য গত বছর থেকেই অপেক্ষা করছিলাম।
লেখক বলেছেন:
তোমার কপালে মার আছে! তুমি নিশ্চই জানো যে এই লেখার পেছনে তোমার অনুপ্রেরণা কতখানি!
আগে দেওয়া পর্ব দুটি একফাঁকে দেখে নিও। আর এই ধারাবাহিকে আশা করি শেষ পর্যন্ত থাকবে।
লেখক বলেছেন:
এক একটা ঘটনাক্রম এক একটা পর্বে আনতে চাচ্ছি। তাই সেই ঘটনাক্রম শেষ হয়ে নতুন ঘটনাক্রমের শুরু হলেও দুই ঘটনাক্রমকে একসাথে আনলে পড়ার গতি বাধাগ্রস্থ হতে পারে ভেবে এভাবে এগোচ্ছি...
লেখক বলেছেন:
আমি-আপনি-সে ও তাহারা কেউই রাজনীতির মারপ্যাঁচের বাইরে নয়। আমরা তো অমন শত শত না-পাওয়ার বেদনা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হয়ে আছি!
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শামীম।
লেখক বলেছেন:
সেটাই, সব কিছু আমাদের জানা হলো না। হয়ত অনেক কিছুই অনুচ্চারিত রয়ে যাবে, হয়ত অনেক আত্মত্যাগ নিরবে নিভৃতে স্বীকৃতিহীন মৃত্যুবরণ করবে.......
হোরাস্ বলেছেন:
আগের পর্বগুলার মত এ পর্বও অসাধারণ হয়েছে। অধীর আগ্রহে পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ হোরাস্ ।
দেখি আপনার আগ্রহ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারি কি-না।
লুৎফুল কাদের বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।
পল্লী বাউল বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আপনার লেখার মাধ্যমে দেখছি। অনেক ধন্যবাদ পোস্টগুলোর জন্য।
লেখক বলেছেন:
এতদিন পরে বদ্দা!!
কোথায় ছিলেন দাদা!!
আমি কিন্তু মনে মনে আপনাকে খুঁজছিলাম!!!
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
আগের পর্ব পড়ে বলেছিলাম না জানি পরের পর্বে কি অপেক্ষা করছে,,,,,,,,,,
সত্যি হলো তাই।
আগামী পর্বের অপেক্ষায়........
দম আটকানো অপেক্ষা।
শুভকামনা ।
লেখক বলেছেন:
আমিও দম আটকে এই অপেক্ষায় আছি......যে করেই হোক মরি-বাঁচি আমাকে এই যন্ত্রণার ভারী বোঝা হালকা করতে হবে...এতটা বছর ধরে বয়ে বয়ে ক্লান্ত আমি.....
শুভকামনা সাজি। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন:
বরফাহত না বজ্রাহত.....?
রাগ ইমন বলেছেন:
আমাদের সৌভাগ্য আপনার লেখার হাত জোড়াও ভীষন ভালো । কয়জন আর লিখতে পেরেছে এমন করে ? ছবির মত ভেসে উঠছে ১৯৭১ ! দুর্দান্ত!
‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে, ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....’
এটাকে পোস্টার করে শহর ছেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে । বরাহ নন্দন গুলা যখন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা , সার্টিফিকেট আর কোটা খোঁজে তখন বলতে ইচ্ছে হয় , আসল মুক্তিযোদ্ধা " কারা নয়" সেইটা তোদের লোভী চকচকে জিহবা গুলা দেখলেই টের পাওয়া যায় ।
যুদ্ধটা কিন্তু সকলের সমান সুখের ও স্বাধীনতার জন্য হয়েছিলো , "কোটাভুক্ত কারো কারো বিশেষ সুবিধার" জন্য না ।
এই লেখাটা অপরবাস্তব এ দিলে আপত্তি আছে?
২০০৯ এর স্মৃতিকথার ভিতর এই একটাই মানোত্তীর্ণ মনে হচ্ছে পড়ে।
লেখক বলেছেন:
যুদ্ধটা আমাদের- আমার অনেক কিছু কেড়ে নেওয়ার বদলে যা দিয়েছে তার কোন নিরুপিত মূল্য হয়না। আজ যে আমি গতরখাটা মানুষকে আমার ঈশ্বর বলি, সে ওই যুদ্ধেরই অবদান।
আপনার মন্তব্যগুলো আলাদা প্রেরণা যোগাচ্ছে। সাথে থাকবেন। অনেক কিছুই উঠে আসবে একে একে।
না, আপত্তি নাই
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
মনজুর ভাই, দারুণ!!!!(একটা অনুরোধ করি, আরো বেশী ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন।)
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন।
আমি আসলে খুব একটা ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করি না। আচ্ছা বেশী ট্যাগ, কি-ওয়ার্ড ব্যবহারে কি ব্যাঞ্জনা বা বিশেষত্ব আছে?
ঠিক আছে, আজ কিছু কি-ওয়ার্ড বানাব।
রাজর্ষী বলেছেন:
ভালো লাগলো জনাব। সাথে আছি।
লেখক বলেছেন:
আমারও ভাল লাগল আপনি সাথে থাকায়....
ত্রিশোনকু বলেছেন:
অপূর্ব। পরের পর্বের প্রতিক্ষায়।
লেখক বলেছেন:
মনে মনে যাদের খুঁজি তারাই যদি এত দেরি করে আসেন
তাহলে আশাহত হই কি-না?
নাজমুল আহমেদ বলেছেন:
দারুন বর্ননা। এইরকম বর্ননার একটা বইও এক নিমিষে পড়তে কোন কষ্টই হবে না। বাবা চলে গেছে দেশ রক্ষার কঠিন দায়িত্বে আর মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার রক্ষার আর একটা কঠিন দায়িত্বের মধ্যে আপনি ....... চোখ বন্ধ করে দু'টি চরিত্র কল্পনা করতে চেষ্টা করছি।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ নাজমুল।
আগামী কোন এক পর্বে আমার এই ঘটনার চেয়েও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার বর্ণনা আসবে।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
পড়ি
লেখক বলেছেন:
পড়তেই থাকো।
শেষে তোমার বলার পালা আসবে দাদু।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
চোখ ভিজে আসে....
লেখক বলেছেন:
এখন আবার নতুন করে ভিজছে.......
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
পথ চলা শুরু হল নাকি আরেকটি যুদ্ধ?
লেখক বলেছেন:
আরেকটি যুদ্ধ।
বাঁচা এবং বাঁচানোর যুদ্ধ।
এক যুদ্ধের ভেতরে অজস্র যুদ্ধ।
নির্ঝরিনী বলেছেন:
এই পর্বটা পড়ে কখন যে চোখে নদী বয়ে গেল, নিজেই টের পেলাম না।আপনার লিখার সময়ে আরও কত নদী যে বয়ে যাচ্ছে, সেটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি...
লেখা চলুক, সাথে আছি....
+++++
লেখক বলেছেন:
কষ্ট হয়। আসলেই কষ্ট হয়। একসাথে হুড়মুড় করে সব কথা বেরিয়ে আসতে চায়! তাদের ঠেকিয়ে একটু একটু করে এগোনোও কষ্টকর। ঝাঁপসা হওয়া চোখ আবার সতেজ করতে হয়...........লেখা চলবে.....শুভেচ্ছা আপনাকে।
রাগ ইমন বলেছেন:
ট্যাগিং বা কী ওয়ার্ডের গুরুত্ব অবশ্যই আছে । আমি সারভাইকাল ক্যান্সারের উপরে প্রকাশিত বাংলা লেখা খুঁজতে গিয়ে দেখি আমার লেখা গুগুলের প্রথম লিঙ্কে । এইটা যে ট্যাগ এর অবদান , সেইটা সাথে সাথেই বুঝাছি। যত ভালো ভাবে শব্দ বেছে ট্যাগ করবেন তত বেশি মানুষ , সহজেই আপনার লেখাটা ইন্টারনেটে খুঁজে পাবে । আমরা সেইটাই চাইছি । অনেক অনেক অনেক বেশি মানুষ আপনার লেখা পড়ুক।
লেখক বলেছেন:
ভাল একটি দিক উন্মোচিত হলো। আমি এই ব্যাপরটা নিয়ে কিছুই ভাবতাম না!
পরের পর্ব থেকে কাজটা করব। সাথে আগের লিঙ্কগুলোও চলতি পর্বে দিয়ে দেব।
কৃতজ্ঞতা।
আলিম আল রাজি বলেছেন:
প্রিয়তে ++++++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আলিম আল রাজি।
নির্ঝরিনী বলেছেন:
আমার বাবা সেইসময় ময়মনসিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র ছিলেন...সেখান থেকেই সিদ্বান্ত নিয়েছিলেন, প্রশিক্ষন নিয়েই যুদ্ধ করবেন।
কোন রাস্তা দিয়ে যে সীমানা পেরিয়ে ছিলেন, সেটা এখন মনে পড়ছে না...
যাবার পথের কিছু কিছু টুকরো ঘটনা শুনেছিলাম...
সেই স্মৃতিগুলো মনে পরছে....
লেখক বলেছেন:
সময় করে একদিন বাবার কাছে শুনে নেবেন। আপনার বাবাও হয়ত নিবিষ্ট শ্রোতা পেয়ে তার সকল কথা শেয়ার করবেন। অনেকটা হালকা হবেন।
আপনার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।
বাবার পরপরই যে চাচা উনি স্কুল ছাত্র ছিলেন, অল্প বয়সেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আর বাবা ছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজের বিএসসি ছাত্র। আমাদের দাদাবাড়ির বিভিন্ন ঘরের মোট সাতজন ছেলে (ভাই, চাচা, চাচাতো ভাই) গিয়েছিলেন যুদ্ধে, আমার বাবা আর আরেকজন চাচার ছিল বাড়ি পাহারা দেবার। কেউ বাড়ি ছেড়ে যায়নি, যদিও ঠিক বাড়ির পাশের বাজারেই আর্মির ক্যাম্প ছিল। বাড়িতে দুবার বোমাও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু মূল বসবাসের বাড়িগুলো রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে হওয়ায়, শুধু চারটি বৈঠকখানার দুটো ধ্বংস হয়ে যায়।
মাঝে মাঝেই রাজাকাররা বাড়ি ঘুরে যেত। একবার আমার দাদাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা জেনেছিল আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা। দাদা সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন, উর্দু বলতে পারতেন, ধার্মিকও ছিলেন, দাড়ি ছিল মুখে, তাই বেশী টর্চার করেনি, কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পরে ছেড়ে দিয়েছিল। আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচাও একবার ধরা পড়েছিল, কোন রকম মিথ্যা অভিনয় করে ঐ যাত্রা ছাড়া পায়, তারা কনুইয়ের ট্রেনিং-এর দাগ দেখতে পায়নি, তাহলে খবর ছিল।
বিভিন্ন সময়ে বাবার মুখে, দাদুর মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছি, অনেকদিন আগে। আজ আপনার এ লেখা পড়ে কিছুটা শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো।
লেখক বলেছেন:
খুব ভাল করেছেন। আরও ভাল হয় যদি ওই বীরত্বগাঁথা আপনার নিজের পরিবারের সাথে শেয়ার করেন(জানিনা আপনার পরিবার বলাটা ঠিক হল কি-না!), কেননা এই প্রজন্ম মোবাইল পিসি সিডি আর মিউজিকের টানে সমাজ সংসার থেকে অনেকটা দূরে চলে গেছে!
আমি এক একদিন আমার দুই মেয়েকে নিয়ে বসি, কিন্তু ওদের সময় কই? স্কুল,প্রাইভেট, কোচিং, হিন্দি সিরিয়াল, আরও কত কি? ওরা সময় দেয়না। ওরা ইন্সট্যান্ট জমানার ফাস্ট ফুডের খরিদদার!!
জাতেমাতাল বলেছেন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সাহিত্য হিসাবে প্রচুর কালজয়ী রচনা পড়েছি। আপনার এই সিরিজ পড়তে এসে সে সব সাহিত্যের একটা নির্যাস যেন পাচ্ছি। ধ্রুপদী সাহিত্যের যাবতীয় গুন আপনার রচনায় বিদ্যমান। একটানে সব গুলো পর্ব পড়ে ফেললাম, আর তারপর বেশ কতক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে থাকলাম... নিজেকে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম আপনার জায়গায়। একটা কিশোর কিভাবে রাতারাতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিনত হয়।
বোঝার চেষ্টা করছিলাম এগুলো লেখার সময় আপনার মনের
অবস্থা কেমন হচ্ছিল। বিশেষ করে আজকের পর্বটা এত মন খারাপ করা অসহায়ত্ব নিয়ে লেখা।
লেখক বলেছেন:
লেখার সময়কার মনের অবস্থা বর্ণনা করার মত নয়! আপনি অনেকটাই অনুভব করেছেন। ঘটনাক্রমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতিরা যে ভাবে ভিড় করে আসে সেখান থেকে মন শক্ত করে সেল্ফ এডিটের পর নির্যাস বের করা আসলেই মনকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
নারে ভাই, কোথায় ধ্রুপদী সাহিত্য আর কোথায় আমি! গতরখাটা কলমমজুর আমি, লিখে যাচ্ছি আমার ক্যানভাস মেলে ধরে................
খুব ভাল লাগল আপনাকে দেখে।
তামিম ইরফান বলেছেন:
বলার মতো কিছু খুজে পাইলাম না.....
লেখক বলেছেন:
পড়তে থাকো তামিম.....আমার সাথে সেই পুরো সময় দেখতে পাবে।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
রাগ ইমন... দ্য বস।
মনজুর ভাই, আপনার জন্য কয়েকটা কি-ওয়ার্ডঃ
এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী, বাংলাদেশী, বাংলাদেশ, ১৯৭১, ৭১, '৭১, মনজুরুল হক, স্মৃতিকথা, গেরিলা, পাকিস্তান, পূর্ব বাংলা, বিহারী, 1971, 71, '71, bangladesh, freedom fighter, liberation war, bangladeshi, bangla, east pakistan, west pakistan, ....
এ ধরনের লেখা অনেক মানুষের সামনে আনা উচিত। কি-ওয়ার্ডে বেশী বেশী ইংরেজী শব্দ যোগ করলে ভাল হয়।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন।
পরের পর্বগুলোতে আপনার দেওয়া এই ট্যাগ এ্যাড করে দেব। সত্যি কথা বলতে কি আমি এই ট্যাগ নিয়ে আগে মোটেই সিরিয়াসলি ভাবতাম না।
এখন বুঝতে পারছি অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
দৃশ্যগুলো কল্পণা করে নিতে পারলে , সেই ভীষণ দুঃসময়ের কষ্টটা ততোখানি বুঝতে পারি, যতোখানি অনেক দিন পরে, স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরে, আয়েসে বসে পড়তে পড়তে অনুভব করা যায় । ততোখানি অবশ্যই নয়, কিম্বা , তার কিয়দাংশ নিশ্চয়ই নয়, যতোখানি কষ্ট আপনি-আপনারা, বাংলা মায়ের সোনার সন্তানেরা সেই সময় করেছিলেন, পেয়েছিলেন ।
লেখক বলেছেন:
কিছু বলার মত খুঁজে পেলাম না শিপন।
খুব নিচের দিকে বা একেবারে পেছনের বেঞ্চে বসার যে অভিজ্ঞতা, তাই হয়েছে বিগত জীবনে। এখন আর কোন কিছুই চাইবার নেই কারো কাছে। সকল পাওয়া পূর্ণ হয়েছে আমার!!
লেখক বলেছেন:
তাতে কি আছে? এই যে এখন করলেন! এটাই তো আমার স্বীকৃতি পেয়ে গেলাম।
যীশূ বলেছেন:
অসাধারণ লেখা! সোনা দিয়ে বান্ধায়ে রাখা উচিত।
লেখক বলেছেন:
না ভাই, বিনিময় তো হয়না এসবের।
কি নির্মম বাস্তবতা।?
পরের প্ররবে যাচ্ছি।
লেখক বলেছেন:
আসুন..........
নীরজন বলেছেন:
প্রিয়তে নেওয়া ছাড়া আর কিই বা করার আছে?????
লেখক বলেছেন:
অশেষ কৃতজ্ঞতা।
যীশূ বলেছেন:
আমি বিনিময়ের কথা বলিনি। আপনি বোধহয় ভুল বুঝেছেন।
লেখক বলেছেন:
আসলেই ভুল বুঝেছিলাম। কিছু মনে করবেন না যীশু।
লেখক বলেছেন:
আপনি ভাল আছেন মেহবুবা?
আপনিও স্মৃতিকাতর মানুষ, হয়ত এই লেখাটা ভাল লাগতে পারে।
অপ্সরা বলেছেন:
সেই অতটুকু বয়সেই তোমার ঘাড়ে এত দায়িত্ব এসে পড়লো।তাই তো তুমি এমন। তবে তোমার লেখা পড়ে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি কি পরিমান কষ্ট পেয়েছিলে তোমরা, সাথে দেশের মানুষেরাও।
লেখক বলেছেন:
সেই থেকেই ভার বয়ে বয়ে এত বড় হয়েছি।
আজো তাই সেই একই ভার বয়ে চলেছি.......
এড়াতে পারিনা!
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ মুন্সী।
এই যুদ্ধ অনেককে অনেক কিছু দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে তার চেয়েও বেশি, কিন্তু আমাকে যা দিয়েছে সে জন্য আমি গর্ব বোধ করি। আমার চিন্তা আর অভিজ্ঞতাকে একটা টান মেরে বড় রাস্তায় এনে ফেলেছে।
দ্বন্দ্বিকতার প্রাথমিক সূত্র - "ভাব আগে না বস্তু আগে" সেই মীমাংশাও করে দিয়েছিল ওই সময়। নিত্য নতুন বস্তুগত অভিজ্ঞতা আর প্রতি পলে পলে জীবনের মোড় পরিবর্তন আমার বোঝার সহায়ক হয়ে উঠেছিল।
লেখক বলেছেন:
আমার এই পথ চলায় আপনাকে সাথী হিসেবে আমন্ত্রণ.....
মেহবুবা বলেছেন:
ঠিক করেছিলাম , এক একদিন বসে দুটো করে পর্ব পড়বো ।কিন্তু এই একটা পর্ব পড়ে কেমন হয়ে গেলাম ; আর পড়তে পারবো না আজ এর পরের পর্ব ।
আপনি লিখুন , এ সব অনেকের কথা ; আপনার মতই । তাদের জন্য লিখুন ।
লেখক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন মেহবুবা, এটা অনেকের কথা; মুখপাত্রের মত আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে কেবল.........
ত্রেয়া বলেছেন:
অসাধারণ.... ১১ বছরের ঐ ছেলেটির প্রতিটি ভাবনা এত স্পষ্ট আপনার অক্ষরগুলোয়...... আমি মুগ্ধ হয়ে পড়ছি।
লেখক বলেছেন:
জীবন বহতা নদীর মত এঁকেবেকে ছুঁটে চলে নিদৃষ্ট গন্তব্যে, কোথাও পতিত হতে। আমাদের সেই গন্তব্য ছিল মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে বাঁচার চেষ্টা করা।
কৃতজ্ঞ।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
শেষ দৃশ্যটা ভাবতেই কান্নায় ভিজে গেলাম।
লেখক বলেছেন:
কি এক দিন ছিল ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয়!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















পুরোটা পথ সাথে থাকব আশা করি...
অটঃ....আপনি যদি আরেকটু আগে পোস্টটা দিতেন....অনেক রাত হয়ে গেছে.