আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ৩ > নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৯

শেয়ারঃ
0 0 0



ট্রাক্টরটা ঘটাং ঘটাং করে ছুটে চলেছে। দুপাশে বড় বড় ছাতার মত শিরিষ গাছের সারি পেছনে চলে যাচ্ছে। ছোটখাট কোন ঝাঁকিতেও পেছনের ট্রলিদুটো বেয়াড়া ভাবে দুলে উঠছে। একটানা ইঞ্জিনের গর্জন ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। কি ভেবে যেন ট্রলির কেউই কোন কথা বলছেনা। হয়ত অজানা দেশের কথা ভেবে কিংবা কি এক আশংকায় সবাই জড়সড় হয়ে কুন্ডলি পাকিয়ে বসে আছে। বিকেলের ধক্কল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি আমি। চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাচ্ছি বড় বাজারের চৌরাস্তায় বোমা! সে সময় খেয়াল হয়নি, এখন এই ট্রলিতে বসে হাঁটুর কাছে হাত দিতেই ব্যথা করে উঠল, হাঁটু আর কনুই ছড়ে গেছে। রক্ত জমে শুকিয়ে আছে। আমার কোন ফুলপ্যান্ট ছিলনা। হাফপ্যান্ট পরা থাকায় হাঁটু আর কনুইয়ের এই দশা। একটু যেন শীত শীত লাগছিল, অথচ তখন প্রায় গরমকাল। কোন বাস বা ট্রাক আমাদের ক্রস করে উল্টো দিকে যাচ্ছেনা। মাঝে মাঝে দুএকটা বাস বোঝাই হয়ে আমাদেরকে পেছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছে। একেবারে ছোট বোনটি মা’র কোলে মাথা গুঁজে শুয়ে আছে, বাকি দুই বোন মায়ের দুপাশে মা’কে জড়িয়ে বসে আছে। একটু দূরে বাবা মাথা নিচু করে বসে আছেন। একসময় বাবা বিড় বিড় করে বলে উঠলেন-‘এতটা বছর পর আবার পশ্চিম বঙ্গ! আবার সেই কোলকাতা’! আমি বাবার পাশে পাল্লায় হেলান দিয়ে বসা। বাবার বিড় বিড় শুনে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম-‘আপনি আগেও কোলকাতা গেছেন’? বাবা কিছুক্ষণ আমাকে দেখে বললেন-‘তুই জানিস না’? ‘না’! ঠিক সেই সময় পেছন থেকে বিলকিস চাচী (এক ইপিআর নায়েকের বউ, আমাদের পাশের বাসাতেই ছিল, তিনি একাই আমাদের সঙ্গী) বলে উঠলেন-‘ভাই আমরা কি কোলকাতায় যাচ্ছি’? ‘না, আমরা যাচ্ছি মুর্শীদাবাদ’ বাবা বললেন। তারপর বাবা যেন আমাকে শোনানোর জন্য বলতে শুরু করলেন......

‘আমার আব্বাজান আলীগড় থেকে পড়াশুনা শেষ করে নিউ আলিপুরে একটা কিতাবের লাইব্রেরী দিয়েছিলেন। তখনকার দিনে আব্বাজনদের জন্য কোলকাতাই কাছের শহর। খুলনা থেকে পড়তে এসে সেখানেই বাড়ি কিনে থাকতে শুরু করলেন। তারপর গেলেন আমার বড় ভাই। তিনি কোলকাতায় পড়াশুনা শেষ করে হাইকোর্টে পেশকারের চাকরি নিলেন। ভাবীকেও নিয়ে গেলেন। তারও কয়েক বছর পর আমি তোর নোয়া চাচাও কোলকাতা গিয়ে স্কুলে ভর্তি হলাম। নোয়া ভাই ভাল ছাত্র ছিল, কিন্তু আমি নাটকের দলের সাথে ঘুরে বেড়াতাম বলে ম্যাট্রিকে রেজাল্ট খারাপ করলাম। তোর বড় চাচা খুব রেগে গিয়ে আমাকে বাড়ি (খুলনা) পাঠিয়ে দিল! বাড়ি ফিরে রাগে আর পড়াশুনাই করলাম না। দুই বছর পরে আবার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলাম। তারপর আমাদের গ্রামে ভীষণ অভাব নেমে এলো, কারো ঘরে চাল নেই, নতুন পাকিস্তান সরকার রিলিফ দিত। আমি আর তোর সেজ চাচা লাইনে দাঁড়িয়ে রিলিফ আনতাম। একবার রিলিফের চাল বেঁচে দিয়ে যাত্রা দেখতে গেলে তোর দাদী ভীষণ বকাবকি করল। আমি রাগ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে খুলনা শহরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। তখন নতুন বাহিনী ইপিআর এ লোক ভর্তি করছিল। আমি ভর্তি হয়ে গেলাম। তার কয়েক বছর পর ৬৫ সালের যুদ্ধের সময় তোর দাদীর পীড়াপীড়িতে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। তার পর থেকেই স্কুলের এই চাকরি.....মাঝ পথে আমি বাধা দিয়ে বললাম- ’আপনাদের কোলকাতার সেই বাড়িটা আছে’? ‘না, মিয়া ভাই ৪৭ সালের পর সেই বাড়ি এক্সচেঞ্জ করে খুলনায় বসুপাড়ায় নিজের নামে বাড়ি কিনেছিলেন, কিন্তু আমাদের কারো ভাগ নেই সেই বাড়িতে.....’ কথা শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন মানুষ আমাদের ট্রাক্টর আটকে দিল! বাবা নেমে গেলেন (বাবার হাতে তখন একটা রাইফেল, সেটা ট্রলিতেই রেখে গেলেন)। কিছুক্ষণ পর বাবা আবার ট্রলিতে উঠলে মা জানতে চাইলেন- ‘কি হয়েছে’? ‘কিছুনা ওরা চুয়াডাঙ্গার খবরাখবর জানতে চাচ্ছিল’। তারপর আর কেউই কোন কথা বলল না। রাত ৮টা বা ৯টার দিকে আমরা মেহেরপুরে পৌঁছুলাম। এক অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম!

আমরা চুয়াডাঙ্গা ছাড়ার সময় যেমন সুনশান দেখেছিলাম মেহেরপুরে তার উল্টো। সারা শহরে লোকজন গিজ গিজ করছে! শহর ভর্তি লোকজন দেখে আমাদের ভয় কেটে যাচ্ছিল । বাবা বললেন-‘সব জায়গা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে, তার মানে সব খানেই মিলিটারী ঢুকে গেছে’! ভিড় ঠেলে আমাদের ট্রাক্টর এসে থামল সরকারী স্কুলের সামনে, সেখানে আগেই শত শত মানুষ এসে উঠেছে। আমরা নেমে কোনমতে মালপত্র নিয়ে একটা ঘরে গিয়ে ঢুকলাম। বাবা আবার বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন কয়েক ঘন্টা পর। যদিও আমাদের কাছে কেরোসিনের স্টোভ ছিল, তবুও এখানে রান্না করার উপায় নেই। বাবা কিছুতেই আমাদের কাছে বসছেন না, হন্তদন্ত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাধ্য হয়ে আমি হোটেল থেকে খাবার আনলাম। আমরা ছিলাম বাবা সহ ৭ জন, কিন্তু ট্রলিতে মোট ২০/২৫ জন ছিল, সবার জন্যই খাবার আনতে হলো। একা পারব না বলে আমার পরের বোনটিকে সাথে নিয়ে খাবার আনলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে যে যার মত টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। জেগে রইলাম আমি আর মা। মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। মা কখনো কি এমন জায়গায় থেকেছে! আমার নিজের তেমন কোন অনুভূতি হচ্ছিলনা, কারণ এর আগেও আমি বাড়ির বাইরে রাত কাটিয়েছি! (একবার বাবার সাইকেল চুরি করে নিয়ে অনেক দেরী করে ফেরার পর বাবা মেরেছিলেন। সেই মার খেয়ে বাড়ির কাছেই একটা লাইটপোস্টের নিচে সারারাত ছিলাম। বাবা রাগ করে আনতেও যাননি!)

অনেক রাতে বাবা ফিরে আবার আমাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। মা’কে বলে গেলেন-মেয়েদের দিকে খেয়াল রেখো। বাবা আমাকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে একটা পুরোনো বাড়িতে ঢুকলেন। ঘরে ঢুকেই আমার গা ছমছম করে উঠল! পনের-কুড়িজন মানুষ, কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের কোণে গাদা করে রাখা রাইফেল, স্টেনগান আর ব্যাগ ভরা গুলি। আমাকে ঘরের কোণে বসিয়ে বাবা তাদের সাথে কি কি সব বলাবলি করে অনেক রাতে সেই স্কুলে ফিরলেন। আমরা ফিরে দেখলাম মা জেগে বসে আছেন। আমিও শুয়ে পড়লাম। মা আর বাবা বসেই থাকলেন। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা। সকালে হৈহুল্লোড় চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গল। এখন আর ট্রাক্টর নেই। যে যার মত মালপত্র গুছিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরাও আমাদের মালপত্র (একটা স্যুটকেস, একটা টিনের বাক্সো আর একটা সাইড ব্যাগ এই ছিল আমাদের মালপত্র) গুছিয়ে রিক্সায় উঠলাম। শহর থেকে মাইল খানেক দূরে প্রায় শুকনো একটা নদী। তার উপর বাঁশের মাচার সাঁকো। সেই সাঁকোর উপর দিয়ে রিক্সা পার হয়ে গেল। ট্রলির কুড়ি-পঁচিশ জনের কে কোথায় গেল জানিনা, আমরা রিক্সায় যাচ্ছি সাত জন। আমরা চার ভাই-বোন, বাবা-মা আর সেই রেজাউল মামার আত্মিয়টি, যার বয়স ষোল-সতের। তার নাম খুব সম্ভবত বুড়ি।

গ্রাম্য পথ ধরে রিকসা চলছে। আমাদের সবারই মুখ বন্ধ । আমার সব চেয়ে ছোট বোনটি যে সারাক্ষণ বকবক করতো সেও কেন জানিনা একটি কথাও বলছিলনা! কয়েক ঘন্টা পর একটা সিমেন্টের ফলক দেখে বাবা রিকসা থামাতে বললেন। বাবা নেমে গেলেন। আমি কিছু না বুঝে বাবার সাথে সাথে নেমে গেলাম। ফলকটার পাশে গিয়ে বাবা বললেন-‘এটা কি চিনিস’? আমি মাথা নাড়ালাম। এর নাম ল্যান্ডমার্ক। কাছে যেয়ে দেখলাম ওটার গায়ে একটা নম্বর লেখা। বাবা বললেন-‘ সীমানা শেষ। আমরা এবার ভারতে প্রবেশ করছি’। কিছুই না, দুপাশের মাটি একই রকম, তার পরও কেমন যেন মনে হলো। একটা শিহরণ! অজানা দেশে ঢোকার শিহরণ। বাবা কি মনে করে যেন বড় একটা নিশ্বাস ছাড়লেন। মা’র চোখ ছল ছল করে উঠল। বোন তিনটি কোন কিছু না বুঝে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল। আমার কষ্ট না আতংক হচ্ছিল তা বুঝতে পারছিলাম না। তবে ‘অন্য দেশে’ এসে গেছি মনে করে শিহরণ হচ্ছিল। আবার মনে হচ্ছিল, এখানে পাক আর্মির বোমা পড়বে না, তাই ভালও লাগছিল। বাবার রাইফেলটা রিকসার পাদানিতে শোয়ানো ছিল। ঘটাং ঘটাং শব্দ করায় হোক বা অন্য কোন কারণে হোক বাবা রাইফেলটা খাড়া করে ঘাড়ের সাথে মিশিয়ে রাখলেন। কিছুক্ষণ পর একটা কার্লভার্টের নিচে নামতেই কয়েকজন লোক ছুটে এলো। তাদের একজন প্রশ্ন করল-‘আপনারা জয় বাংলার লোক’? বাবা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাতেই আবার প্রশ্ন-‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা’? বাবা এবারো ঘাড় নাড়ালো। লোকটি আরও কি যেন বলতে যাচ্ছিল, তার পাশের একজন বলল- ‘যেতে দাও এরা শরণার্থী’। বাবা বিড় বিড় করে বললেন-‘রাইফেলটা আনা ঠিক হলো না!’। কেন জানিনা বাবা মনে হয় নতুন এক ধরণের ভয়ে ভীত হলেন, কারণ এরপরই তিনি রাইফেলটা রিকসার পাদানিতে রেখে পা দিয়ে ঢেকে রাখলেন।

মেঠো পথে রিকসা ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে এগিয়ে যাচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল। এই পথে যারাই আমাদের দেখছে তারাই দাঁড়িয়ে ভাল করে দেখার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করছে, কেউ শুধু ওপারের ঘটনা জানতে চাইছে, কেউবা উল্টোপাল্টা প্রশ্নও করছে। আরও ঘন্টাখানেক পর আমরা যে পথে যাচ্ছিলাম সেটা সোজা চলে গেল। আর আমাদের রিকসা ডান দিকে মোড় নিয়ে আরও চিকন পথে এগুতে লাগল। কিছুক্ষণ পরই দেখলাম গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটা জায়গা। পথটা সোজা সেখানে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে। আমাদের রিকসা গিয়ে থামল বিএসএফ ক্যাম্পের গেটে। লাল বাজার বিওপি। বাবা রিকসা থেকে নেমে গিয়ে বিএসএফ সেন্ট্রির সাথে অনেকক্ষণ কথা বলল। তারপর ফিরে এসে আমাদের সবাইকে নামিয়ে রিকসা ছেড়ে দিল। আমরা গেটের পাশে মালপত্র সমেত বসে থাকলাম। বাবা কে নিয়ে সেই বিএসএফ সেন্ট্রি ভেতরে চলে গেল। ইতিমধ্যে আমাদেরকে ঘিরে ছোটখাট একটা জটলা তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আমাদের এটা ওটা জিজ্ঞেস করছে। আমরা হ্যাঁ-হু করে উত্তর দিচ্ছিলাম। আরও অনেকক্ষণ পর বাবা এসে বললেন- শরণার্থীদের ঢোকার অনুমতি আছে, কিন্তু রাইফেল নিয়ে এসেছি বলে ওরা ওপর থেকে পারমিশন নিয়ে তারপর যেতে দেবে। আমি এসবের কিছুই না বুঝে পা টান টান করে মাটিতে বসে থাকলাম। একটা ব্যাপারে আমি খুব আশ্চর্য হচ্ছিলাম! আমার বোন তিনটি কেউ কোন কথা বলছেনা। এমনকি তারা কোন কিছু খেতেও চাচ্ছেনা! মা মাঝে মাঝে ব্যাগ থেকে পাউরুটি, বিস্কুট বের করে ছোট দুই বোনকে খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু বড়টি কিছুই মুখে দিচ্ছেনা। সারাক্ষণ আমার পাশে আমার হাতধরে থাকছে! কোনরকম ঘটনা ছাড়াই মুহূর্তগুলো পার হয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ মেহেরপুরের দিক থেকে একটা জিপ ধুলো উড়িয়ে বিএসএফ ক্যাম্পের গেটে এসে থামল। ফর্সামতন এক অফিসার লাফ দিয়ে নামল। বিএসএফ সেন্ট্রি তাকে স্যালুট দিল। তিনি গটগট করে বিওপি’র ভেতরে চলে গেলেন। আমি ব্যাজ দেখে র‌্যাঙ্ক বুঝিনা, মুক্তিযোদ্ধা না ক্যাপ্টেন না মেজর তা বুঝতে পারলাম না। অফিসার বলতে আমি জানতাম মেজর আর ক্যাপ্টেন। বাবাকে দেখলাম কেমন যেন মুখ কালো করে বসে আছেন। কতক্ষণ পার হয়েছে মনে নেই এক সময় সেই অফিসার ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলেন। গাড়িতে উঠতে যেয়ে একবার আমাদের দিকে তাকালেন। তারপর সোজা হেঁটে এলেন আমাদের দিকে। বাবা দাঁড়িয়েই ছিলেন। বাবার পাশে এসে ভাল করে দেখে বললেন-‘ আপনি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের লোক না?’ বাবা মিলিটারীদের মত স্যালুট দিয়ে বললেন-‘ইয়েস স্যার, ইনামুল হক ফ্রম চুয়াডাঙ্গা ইউনিট’। কি ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে আমার কোনই ধারণা ছিলনা। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছি।

অফিসার বললেন-‘পালাচ্ছেন? দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন’? বাবা থতমত খেয়ে বললেন-‘না স্যার পালাচ্ছিনা, আমি আমার পরিবারকে মুর্শীদাবাদে রেখে আসতে যাচ্ছি.....’ বাবার কথা শেষ না হতেই তিনি হুকুম করলেন- ‘নো, ইউ শ্যুড ব্যাক উইথ মি’..... বাবা কাতর মিনতি করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন এই ছোট্ট একটা ছেলে কি করে সেখানে যাবে, কি ভাবে তারা অচেনা যায়গা খুঁজে পাবে, ভীন দেশ..... বাবাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আবারও হুকুম হলো। বাবা একবার পেছন ফিরে তাকালেন, মুখে হাত চাপা দিয়ে কান্না থামালেন, আমাদের কাছে এসে একে একে সবার মাথায় হাত দিয়ে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বললেন-‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে’, আমার কাছে এসে আমার ঘাড়ে হাত রেখে বললেন-‘ ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....আমার বুক ফেটে কান্না আসলেও শক্ত হয়ে থাকলাম, কিন্তু যেই বাবা ঘুরে জিপে উঠতে যাবেন আমি তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম.... বাবা এতক্ষণ নিরবে কাঁদছিলেন, এবার তিনিও আমাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কাঁদতে থাকলেন.....জিপটা স্টার্ট দেওয়াই ছিল, বাবা আমাকে ছাড়িয়ে জিপের পেছনে উঠে বসলেন, ধুলো উড়িয়ে জিপটা চলে গেল!

‘স্যাকরিফাইস’! ‘স্যাকরিফাইস’ কথাটি বলেলন আমার পেছনে দাঁড়ানো এক বিলাতী সাহেব। মা তিন বোনকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন..... আমি একা দাঁড়িয়ে জিপের ধুলো ওড়ানো পথের দিকে চেয়ে কাঁদছি, আমার মনে হলো আমাকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আমি হাতড়ে হাতড়ে কুলে আসতে চাচ্ছি কিন্তু পারছিনা......কতক্ষণ কেঁদেছিলাম মনে নেই এক সময় দেখলাম আমার মুখের সামনে একটা লম্বা চোঙামত কি যেন ধরা, তিনজন বিলাতী সাহেব আমার মুখের সামনে ওটা ধরে রেখেছে। সেন্ট্রি জানাল তোমার কান্না রেকর্ড করছে, ওরা জার্নালিস্ট। হিচকি তুলতে তুলতে একসময় আমার কান্না থামল। মনে পড়ল বাবার শেষ কথাগুলো..... ‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে, ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....’ চোখ মুছে আমি মা’র কাছে গিয়ে বসে মা’র কান্না থামালাম। সেই বিলাতীরা তাদের ব্যাগ থেকে চকোলেট, টফি বের করে বোনদের হাতে দিল । মা ব্যাগ থেকে একটা চিরকুট আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। মা’র যেন আর কিছুই বলার ছিলনা। আমি কাগজটা মেলে ধরলাম, দেখতে পারছিলাম না, এতক্ষণে খেয়াল করলাম সূর্য ডুবে গেছে, চারিদিক আবার আঁধার হয়ে গেছে , কাগজটায় লেখা- মোঃ রেজাউল ইসলাম, সুন্দরপুর, কান্দি, মুর্শীদাবাদ। কাগজের টুকরোটা বুক পকেটে রেখে চোখ মুছে উঠে দাঁড়াল হাফপ্যান্ট হাওয়াই সার্ট স্যান্ডেল পায়ে ঘাড়ে ব্যাগ ১১ বছরের এক কিশোর! পথ চলা শুরু হলো............

চলবে............

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নির্মম বাস্তবতাএকাত্তরযুদ্ধস্মৃতিএক কিশোরের বেঁচে থাকার লড়াই। ;এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১'৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171'71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan.... ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫০
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: আবারো এক নিঃশ্বাসে......

পুরোটা পথ সাথে থাকব আশা করি...

অটঃ....আপনি যদি আরেকটু আগে পোস্টটা দিতেন....অনেক রাত হয়ে গেছে.
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫

লেখক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। আমিও বুঝতে পারছি পোস্ট দিতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু কি করব ভাই! সারাদিন অন্নের যোগানে ব্যস্ত থেকে রাতে বাসায় ফিরে মা'য়ের দেখাশোনা, বাসার এটা ওটা করতেই রাত ১০ টা! তখন শুরু করে শেষ হতে হতে রাত ১২ টা!

আগামীকাল ছুটি আছে, কালকের পর্বটা আরও আগে দিতে পারব।
ভাল থাকবেন।

২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪
সারণী বলেছেন: অসাধারণ............ প্রিয়তে যুক্ত
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৬

লেখক বলেছেন:
কৃতজ্ঞতা।
আশা করি পরের পর্বেও পাঠক হিসেবে থাকবেন।

৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫
পাথুরে বলেছেন:
ও আমার দেশের মাটি
তোমার পরে ঠেকাই মাথা।

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম মনজুর ভাই।



প্রিয়তে....
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৮

লেখক বলেছেন:
কোন বিরতি ছাড়াই প্রতিদিন একটি করে পর্ব দিতে চাচ্ছি। জানিনা পারব কি-না! তবে চেষ্টা করে যাব।

ধানশালিকের ঠোঁটে রোদের বিচ্ছুরণ
সোনারোদ মাখা নিকোনো উঠোনে
ছোট্ট দু'পায়ে টোনাটুনি বসে আলাপনে রত...

৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৭
এমিল বলেছেন: এবার আমিও অন্যদের মত বলতে বাধ্য হ'লাম আরেকটু বড় হলেও কারো স্ক্রলিং করতে সমস্যা হবে না। নেক্সট পর্ব আরো বড় করবেন...
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২২

লেখক বলেছেন:
পরের পর্বটা বড় হবে। কাল অফিস নেই, তাই সময় পাওয়া যাবে।

লেখার কষ্ট কোন কষ্টই না, মূল কষ্ট অন্যখানে!

যেমন আজকের পর্বটার শেষ দিকে কয়েকটা লাইনেই সময় লেগেছে আধা ঘন্টা!
বার বার ভুল হতে থাকে, ঝাপসা দেখি...

৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৮
জোবাইর বলেছেন: হৃদয় কাঁপানো লেখা, খুবই ভালো লেগেছে। ব্লগে অনিয়মিত হওয়ায় আগের পর্বগুলো মিস্‌ করেছিলাম। আজ পড়লাম। পোস্টের শেষে আগের পর্বগুলোর লিঙ্ক দিলে মনে হয় ভালো হতো। ধন্যবাদ।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩

লেখক বলেছেন:
এর পরের পর্বের সময় আগের লিঙ্কগুলো এ্যাড করে দেব। আজই ভাবছিলাম দেব, কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় হলো না।

ধন্যবাদ জোবাইর।

৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৮
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: দুই পর্ব একসঙ্গে পড়লাম। ভালো লাগল এবারও। যেহেতু স্মৃতিচারণটা দীর্ঘই হবে অনুমান করি, পর্ব ভাগ করে লিখলে মনে হয় ভালো হতো।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১

লেখক বলেছেন:
পাঁচ পর্বের পর থেকে পর্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ভাবছি। এর পর থেকেই যুদ্ধপর্ব শুরু.......

ধন্যবাদ আবারও।

৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৮
পরশমনি বলেছেন: পথ চলতে থাকুন। পরবর্তী পর্বের প্রত্যাশায়।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন:
ভাল বলেছেন। পথেই যেন শেষ হয় এই পথচলা....

৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪
আমি এবং আঁধার বলেছেন: আপনার বাবার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো। লেখা কেমন লেগেছে তা আর বললাম না। চালিয়ে যান।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন:
স্যাকরিফাইস! আর আমার বাবা এ দু'য়ের পার্থক্যরেখা টানার চেষ্টা করিনি কখনো.......

শুভেচ্ছা রইল।

৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪
একরামুল হক শামীম বলেছেন: এমন একটা ধারবাহিকের জন্য গত বছর থেকেই অপেক্ষা করছিলাম।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন:
তোমার কপালে মার আছে! তুমি নিশ্চই জানো যে এই লেখার পেছনে তোমার অনুপ্রেরণা কতখানি!

আগে দেওয়া পর্ব দুটি একফাঁকে দেখে নিও। আর এই ধারাবাহিকে আশা করি শেষ পর্যন্ত থাকবে।

১০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৯
শয়তান বলেছেন: এরকমভাবেই চাচ্ছিলাম পার্টগুলি । চলুক
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬

লেখক বলেছেন:
এক একটা ঘটনাক্রম এক একটা পর্বে আনতে চাচ্ছি। তাই সেই ঘটনাক্রম শেষ হয়ে নতুন ঘটনাক্রমের শুরু হলেও দুই ঘটনাক্রমকে একসাথে আনলে পড়ার গতি বাধাগ্রস্থ হতে পারে ভেবে এভাবে এগোচ্ছি...

১১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১
শ।মসীর বলেছেন: চলুক.......।একটা না পাবার বেদনাও ভর করল সে সাথে..........এমন আরও কত ঘটনা আছে আমাদের, আফসোস সবাই রাজনীতির মারপেচে বন্দী :(:(
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন:
আমি-আপনি-সে ও তাহারা কেউই রাজনীতির মারপ্যাঁচের বাইরে নয়। আমরা তো অমন শত শত না-পাওয়ার বেদনা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হয়ে আছি!

১২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫০
একরামুল হক শামীম বলেছেন: সবগুলো পর্বই পড়বো।
ঘটনাক্রম অনুযায়ী পর্ব, এই বিন্যাস ঠিক আছে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শামীম।

১৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫
শ।মসীর বলেছেন: স্বাধীনতার সাথে আরও কতকিছু যে জড়িয়ে আছে, সে সব গৌরব গাঁথা সব আর আমাদের জানা হলনা।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন:
সেটাই, সব কিছু আমাদের জানা হলো না। হয়ত অনেক কিছুই অনুচ্চারিত রয়ে যাবে, হয়ত অনেক আত্মত্যাগ নিরবে নিভৃতে স্বীকৃতিহীন মৃত্যুবরণ করবে.......

১৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১০
হোরাস্‌ বলেছেন: আগের পর্বগুলার মত এ পর্বও অসাধারণ হয়েছে। অধীর আগ্রহে পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৫

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ হোরাস্ ।
দেখি আপনার আগ্রহ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারি কি-না।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।

১৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৮
পল্লী বাউল বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আপনার লেখার মাধ্যমে দেখছি। অনেক ধন্যবাদ পোস্টগুলোর জন্য।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৬

লেখক বলেছেন:
এতদিন পরে বদ্দা!!
কোথায় ছিলেন দাদা!!
আমি কিন্তু মনে মনে আপনাকে খুঁজছিলাম!!!

১৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৩
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
আগের পর্ব পড়ে বলেছিলাম না জানি পরের পর্বে কি অপেক্ষা করছে,,,,,,,,,,
সত্যি হলো তাই।
আগামী পর্বের অপেক্ষায়........
দম আটকানো অপেক্ষা।

শুভকামনা ।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮

লেখক বলেছেন:
আমিও দম আটকে এই অপেক্ষায় আছি......যে করেই হোক মরি-বাঁচি আমাকে এই যন্ত্রণার ভারী বোঝা হালকা করতে হবে...এতটা বছর ধরে বয়ে বয়ে ক্লান্ত আমি.....

শুভকামনা সাজি। ভাল থাকবেন।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৭

লেখক বলেছেন:
বরফাহত না বজ্রাহত.....?

১৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১৫
রাগ ইমন বলেছেন: আমাদের সৌভাগ্য আপনার লেখার হাত জোড়াও ভীষন ভালো । কয়জন আর লিখতে পেরেছে এমন করে ?

ছবির মত ভেসে উঠছে ১৯৭১ ! দুর্দান্ত!

‘ আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে, ভয় পেয়না, তোমার উপর দায়িত্ব থাকল, নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে.....’

এটাকে পোস্টার করে শহর ছেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে । বরাহ নন্দন গুলা যখন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা , সার্টিফিকেট আর কোটা খোঁজে তখন বলতে ইচ্ছে হয় , আসল মুক্তিযোদ্ধা " কারা নয়" সেইটা তোদের লোভী চকচকে জিহবা গুলা দেখলেই টের পাওয়া যায় ।

যুদ্ধটা কিন্তু সকলের সমান সুখের ও স্বাধীনতার জন্য হয়েছিলো , "কোটাভুক্ত কারো কারো বিশেষ সুবিধার" জন্য না ।


এই লেখাটা অপরবাস্তব এ দিলে আপত্তি আছে?

২০০৯ এর স্মৃতিকথার ভিতর এই একটাই মানোত্তীর্ণ মনে হচ্ছে পড়ে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

লেখক বলেছেন:
যুদ্ধটা আমাদের- আমার অনেক কিছু কেড়ে নেওয়ার বদলে যা দিয়েছে তার কোন নিরুপিত মূল্য হয়না। আজ যে আমি গতরখাটা মানুষকে আমার ঈশ্বর বলি, সে ওই যুদ্ধেরই অবদান।

আপনার মন্তব্যগুলো আলাদা প্রেরণা যোগাচ্ছে। সাথে থাকবেন। অনেক কিছুই উঠে আসবে একে একে।

না, আপত্তি নাই

২০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: মনজুর ভাই, দারুণ!!!!

(একটা অনুরোধ করি, আরো বেশী ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন।)
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন।
আমি আসলে খুব একটা ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করি না। আচ্ছা বেশী ট্যাগ, কি-ওয়ার্ড ব্যবহারে কি ব্যাঞ্জনা বা বিশেষত্ব আছে?

ঠিক আছে, আজ কিছু কি-ওয়ার্ড বানাব।

২১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৪
রাজর্ষী বলেছেন: ভালো লাগলো জনাব। সাথে আছি।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন:
আমারও ভাল লাগল আপনি সাথে থাকায়....

২২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫
ত্রিশোনকু বলেছেন: অপূর্ব। পরের পর্বের প্রতিক্ষায়।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

লেখক বলেছেন:
মনে মনে যাদের খুঁজি তারাই যদি এত দেরি করে আসেন
তাহলে আশাহত হই কি-না?

২৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৬
নাজমুল আহমেদ বলেছেন: দারুন বর্ননা। এইরকম বর্ননার একটা বইও এক নিমিষে পড়তে কোন কষ্টই হবে না। বাবা চলে গেছে দেশ রক্ষার কঠিন দায়িত্বে আর মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার রক্ষার আর একটা কঠিন দায়িত্বের মধ্যে আপনি ....... চোখ বন্ধ করে দু'টি চরিত্র কল্পনা করতে চেষ্টা করছি।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ নাজমুল।

আগামী কোন এক পর্বে আমার এই ঘটনার চেয়েও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার বর্ণনা আসবে।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন:
পড়তেই থাকো।

শেষে তোমার বলার পালা আসবে দাদু।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩

লেখক বলেছেন:
এখন আবার নতুন করে ভিজছে.......

২৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: পথ চলা শুরু হল নাকি আরেকটি যুদ্ধ?
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪

লেখক বলেছেন:
আরেকটি যুদ্ধ।
বাঁচা এবং বাঁচানোর যুদ্ধ।
এক যুদ্ধের ভেতরে অজস্র যুদ্ধ।

২৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪
নির্ঝরিনী বলেছেন: এই পর্বটা পড়ে কখন যে চোখে নদী বয়ে গেল, নিজেই টের পেলাম না।

আপনার লিখার সময়ে আরও কত নদী যে বয়ে যাচ্ছে, সেটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি...

লেখা চলুক, সাথে আছি....

+++++
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭

লেখক বলেছেন:
কষ্ট হয়। আসলেই কষ্ট হয়। একসাথে হুড়মুড় করে সব কথা বেরিয়ে আসতে চায়! তাদের ঠেকিয়ে একটু একটু করে এগোনোও কষ্টকর। ঝাঁপসা হওয়া চোখ আবার সতেজ করতে হয়...........লেখা চলবে.....শুভেচ্ছা আপনাকে।

২৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৪
রাগ ইমন বলেছেন: ট্যাগিং বা কী ওয়ার্ডের গুরুত্ব অবশ্যই আছে । আমি সারভাইকাল ক্যান্সারের উপরে প্রকাশিত বাংলা লেখা খুঁজতে গিয়ে দেখি আমার লেখা গুগুলের প্রথম লিঙ্কে । এইটা যে ট্যাগ এর অবদান , সেইটা সাথে সাথেই বুঝাছি।

যত ভালো ভাবে শব্দ বেছে ট্যাগ করবেন তত বেশি মানুষ , সহজেই আপনার লেখাটা ইন্টারনেটে খুঁজে পাবে । আমরা সেইটাই চাইছি । অনেক অনেক অনেক বেশি মানুষ আপনার লেখা পড়ুক।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০

লেখক বলেছেন:
ভাল একটি দিক উন্মোচিত হলো। আমি এই ব্যাপরটা নিয়ে কিছুই ভাবতাম না!
পরের পর্ব থেকে কাজটা করব। সাথে আগের লিঙ্কগুলোও চলতি পর্বে দিয়ে দেব।

কৃতজ্ঞতা।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আলিম আল রাজি।

৩০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬
নির্ঝরিনী বলেছেন: আমার বাবা সেইসময় ময়মনসিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র ছিলেন...
সেখান থেকেই সিদ্বান্ত নিয়েছিলেন, প্রশিক্ষন নিয়েই যুদ্ধ করবেন।
কোন রাস্তা দিয়ে যে সীমানা পেরিয়ে ছিলেন, সেটা এখন মনে পড়ছে না...

যাবার পথের কিছু কিছু টুকরো ঘটনা শুনেছিলাম...

সেই স্মৃতিগুলো মনে পরছে....
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

লেখক বলেছেন:
সময় করে একদিন বাবার কাছে শুনে নেবেন। আপনার বাবাও হয়ত নিবিষ্ট শ্রোতা পেয়ে তার সকল কথা শেয়ার করবেন। অনেকটা হালকা হবেন।

আপনার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।

৩১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০২
নাজনীন১ বলেছেন: আপনার দায়িত্ব ছিল সীমানা পেরোনোর পর, আর আমার বাবার দায়িত্ব ছিল বাড়িতে বসেই মা-বোন, বাড়ির মেয়েদের পাহারা দেয়া, প্রতিবন্ধী সেজে রাজাকার সামলানো।

বাবার পরপরই যে চাচা উনি স্কুল ছাত্র ছিলেন, অল্প বয়সেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আর বাবা ছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজের বিএসসি ছাত্র। আমাদের দাদাবাড়ির বিভিন্ন ঘরের মোট সাতজন ছেলে (ভাই, চাচা, চাচাতো ভাই) গিয়েছিলেন যুদ্ধে, আমার বাবা আর আরেকজন চাচার ছিল বাড়ি পাহারা দেবার। কেউ বাড়ি ছেড়ে যায়নি, যদিও ঠিক বাড়ির পাশের বাজারেই আর্মির ক্যাম্প ছিল। বাড়িতে দুবার বোমাও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু মূল বসবাসের বাড়িগুলো রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে হওয়ায়, শুধু চারটি বৈঠকখানার দুটো ধ্বংস হয়ে যায়।

মাঝে মাঝেই রাজাকাররা বাড়ি ঘুরে যেত। একবার আমার দাদাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা জেনেছিল আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা। দাদা সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন, উর্দু বলতে পারতেন, ধার্মিকও ছিলেন, দাড়ি ছিল মুখে, তাই বেশী টর্চার করেনি, কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পরে ছেড়ে দিয়েছিল। আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচাও একবার ধরা পড়েছিল, কোন রকম মিথ্যা অভিনয় করে ঐ যাত্রা ছাড়া পায়, তারা কনুইয়ের ট্রেনিং-এর দাগ দেখতে পায়নি, তাহলে খবর ছিল।

বিভিন্ন সময়ে বাবার মুখে, দাদুর মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছি, অনেকদিন আগে। আজ আপনার এ লেখা পড়ে কিছুটা শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৫

লেখক বলেছেন:
খুব ভাল করেছেন। আরও ভাল হয় যদি ওই বীরত্বগাঁথা আপনার নিজের পরিবারের সাথে শেয়ার করেন(জানিনা আপনার পরিবার বলাটা ঠিক হল কি-না!), কেননা এই প্রজন্ম মোবাইল পিসি সিডি আর মিউজিকের টানে সমাজ সংসার থেকে অনেকটা দূরে চলে গেছে!

আমি এক একদিন আমার দুই মেয়েকে নিয়ে বসি, কিন্তু ওদের সময় কই? স্কুল,প্রাইভেট, কোচিং, হিন্দি সিরিয়াল, আরও কত কি? ওরা সময় দেয়না। ওরা ইন্সট্যান্ট জমানার ফাস্ট ফুডের খরিদদার!!

৩২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৪
জাতেমাতাল বলেছেন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সাহিত্য হিসাবে প্রচুর কালজয়ী রচনা পড়েছি। আপনার এই সিরিজ পড়তে এসে সে সব সাহিত্যের একটা নির্যাস যেন পাচ্ছি। ধ্রুপদী সাহিত্যের যাবতীয় গুন আপনার রচনায় বিদ্যমান।

একটানে সব গুলো পর্ব পড়ে ফেললাম, আর তারপর বেশ কতক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে থাকলাম... নিজেকে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম আপনার জায়গায়। একটা কিশোর কিভাবে রাতারাতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিনত হয়।

বোঝার চেষ্টা করছিলাম এগুলো লেখার সময় আপনার মনের
অবস্থা কেমন হচ্ছিল। বিশেষ করে আজকের পর্বটা এত মন খারাপ করা অসহায়ত্ব নিয়ে লেখা।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২০

লেখক বলেছেন:
লেখার সময়কার মনের অবস্থা বর্ণনা করার মত নয়! আপনি অনেকটাই অনুভব করেছেন। ঘটনাক্রমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতিরা যে ভাবে ভিড় করে আসে সেখান থেকে মন শক্ত করে সেল্ফ এডিটের পর নির্যাস বের করা আসলেই মনকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।

নারে ভাই, কোথায় ধ্রুপদী সাহিত্য আর কোথায় আমি! গতরখাটা কলমমজুর আমি, লিখে যাচ্ছি আমার ক্যানভাস মেলে ধরে................

খুব ভাল লাগল আপনাকে দেখে।

৩৩. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৪৩
তামিম ইরফান বলেছেন: বলার মতো কিছু খুজে পাইলাম না.....
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৭

লেখক বলেছেন:
পড়তে থাকো তামিম.....আমার সাথে সেই পুরো সময় দেখতে পাবে।

৩৪. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
রাগ ইমন... দ্য বস।

মনজুর ভাই, আপনার জন্য কয়েকটা কি-ওয়ার্ডঃ

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী, বাংলাদেশী, বাংলাদেশ, ১৯৭১, ৭১, '৭১, মনজুরুল হক, স্মৃতিকথা, গেরিলা, পাকিস্তান, পূর্ব বাংলা, বিহারী, 1971, 71, '71, bangladesh, freedom fighter, liberation war, bangladeshi, bangla, east pakistan, west pakistan, ....

এ ধরনের লেখা অনেক মানুষের সামনে আনা উচিত। কি-ওয়ার্ডে বেশী বেশী ইংরেজী শব্দ যোগ করলে ভাল হয়।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন।
পরের পর্বগুলোতে আপনার দেওয়া এই ট্যাগ এ্যাড করে দেব। সত্যি কথা বলতে কি আমি এই ট্যাগ নিয়ে আগে মোটেই সিরিয়াসলি ভাবতাম না।

এখন বুঝতে পারছি অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

৩৫. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৪
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

দৃশ্যগুলো কল্পণা করে নিতে পারলে , সেই ভীষণ দুঃসময়ের কষ্টটা ততোখানি বুঝতে পারি, যতোখানি অনেক দিন পরে, স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরে, আয়েসে বসে পড়তে পড়তে অনুভব করা যায় । ততোখানি অবশ্যই নয়, কিম্বা , তার কিয়দাংশ নিশ্চয়ই নয়, যতোখানি কষ্ট আপনি-আপনারা, বাংলা মায়ের সোনার সন্তানেরা সেই সময় করেছিলেন, পেয়েছিলেন ।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪

লেখক বলেছেন:
কিছু বলার মত খুঁজে পেলাম না শিপন।
খুব নিচের দিকে বা একেবারে পেছনের বেঞ্চে বসার যে অভিজ্ঞতা, তাই হয়েছে বিগত জীবনে। এখন আর কোন কিছুই চাইবার নেই কারো কাছে। সকল পাওয়া পূর্ণ হয়েছে আমার!!

৩৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২১
চতুষ্কোণ বলেছেন: এই পর্বে কেন কমেন্ট করা হয় নাই বুঝলামনা!! ভাইয়া আপনার প্রতিটা পর্ব অসাধারণ হচ্ছে!
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪

লেখক বলেছেন:
তাতে কি আছে? এই যে এখন করলেন! এটাই তো আমার স্বীকৃতি পেয়ে গেলাম।

৩৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭
যীশূ বলেছেন: অসাধারণ লেখা! সোনা দিয়ে বান্ধায়ে রাখা উচিত।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১

লেখক বলেছেন:
না ভাই, বিনিময় তো হয়না এসবের।

৩৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: কাগজের টুকরোটা বুক পকেটে রেখে চোখ মুছে উঠে দাঁড়াল হাফপ্যান্ট হাওয়াই সার্ট স্যান্ডেল পায়ে ঘাড়ে ব্যাগ ১১ বছরের এক কিশোর! পথ চলা শুরু হলো...........

কি নির্মম বাস্তবতা।?

পরের প্ররবে যাচ্ছি।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন:
আসুন..........

৩৯. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৬
নীরজন বলেছেন: প্রিয়তে নেওয়া ছাড়া আর কিই বা করার আছে?????
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন:
অশেষ কৃতজ্ঞতা।

৪০. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩২
যীশূ বলেছেন: আমি বিনিময়ের কথা বলিনি। আপনি বোধহয় ভুল বুঝেছেন।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৭

লেখক বলেছেন:
আসলেই ভুল বুঝেছিলাম। কিছু মনে করবেন না যীশু।

৪১. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯
মেহবুবা বলেছেন: পরে পড়তে হবে , একবার ব্যস্ততায় পড়েছি ।
আপাতত: প্রিয়তে থাক । পরে এসে পড়ব ।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৪

লেখক বলেছেন:
আপনি ভাল আছেন মেহবুবা?
আপনিও স্মৃতিকাতর মানুষ, হয়ত এই লেখাটা ভাল লাগতে পারে।

৪২. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪২
অপ্‌সরা বলেছেন: সেই অতটুকু বয়সেই তোমার ঘাড়ে এত দায়িত্ব এসে পড়লো।
তাই তো তুমি এমন। তবে তোমার লেখা পড়ে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি কি পরিমান কষ্ট পেয়েছিলে তোমরা, সাথে দেশের মানুষেরাও।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন:
সেই থেকেই ভার বয়ে বয়ে এত বড় হয়েছি।
আজো তাই সেই একই ভার বয়ে চলেছি.......

এড়াতে পারিনা!

৪৩. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৯
পি মুন্সী বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধা: অপর, অপরের প্রতি দায়বোধ।

আপনি এবং বাবা - অপর........ এক প্যারালাল।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০০

লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ মুন্সী।

এই যুদ্ধ অনেককে অনেক কিছু দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে তার চেয়েও বেশি, কিন্তু আমাকে যা দিয়েছে সে জন্য আমি গর্ব বোধ করি। আমার চিন্তা আর অভিজ্ঞতাকে একটা টান মেরে বড় রাস্তায় এনে ফেলেছে।

দ্বন্দ্বিকতার প্রাথমিক সূত্র - "ভাব আগে না বস্তু আগে" সেই মীমাংশাও করে দিয়েছিল ওই সময়। নিত্য নতুন বস্তুগত অভিজ্ঞতা আর প্রতি পলে পলে জীবনের মোড় পরিবর্তন আমার বোঝার সহায়ক হয়ে উঠেছিল।

৪৪. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৯
নিবিড় অভ্র বলেছেন: পথ চলা শুরু হলো............


শিহরিত.....
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৯

লেখক বলেছেন:
আমার এই পথ চলায় আপনাকে সাথী হিসেবে আমন্ত্রণ.....

৪৫. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
মেহবুবা বলেছেন: ঠিক করেছিলাম , এক একদিন বসে দুটো করে পর্ব পড়বো ।
কিন্তু এই একটা পর্ব পড়ে কেমন হয়ে গেলাম ; আর পড়তে পারবো না আজ এর পরের পর্ব ।

আপনি লিখুন , এ সব অনেকের কথা ; আপনার মতই । তাদের জন্য লিখুন ।
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৬

লেখক বলেছেন:

ঠিক বলেছেন মেহবুবা, এটা অনেকের কথা; মুখপাত্রের মত আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে কেবল.........

৪৬. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৬
ত্রেয়া বলেছেন: অসাধারণ.... ১১ বছরের ঐ ছেলেটির প্রতিটি ভাবনা এত স্পষ্ট আপনার অক্ষরগুলোয়...... আমি মুগ্ধ হয়ে পড়ছি।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২০

লেখক বলেছেন:
জীবন বহতা নদীর মত এঁকেবেকে ছুঁটে চলে নিদৃষ্ট গন্তব্যে, কোথাও পতিত হতে। আমাদের সেই গন্তব্য ছিল মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে বাঁচার চেষ্টা করা।

কৃতজ্ঞ।

৪৭. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৪
জনৈক আরাফাত বলেছেন: শেষ দৃশ্যটা ভাবতেই কান্নায় ভিজে গেলাম।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন:
কি এক দিন ছিল ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয়!

 

মোট সময় লেগেছে ১.১০০৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ