আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ১৬ > ঘন কুয়াশায় দুটি প্রাণের বিসর্জন

২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৩

শেয়ারঃ
0 0 0



কুয়াশা ভেদ করে জিপ এগিয়ে চলেছে। মাটির এবড়োথেবড়ো রাস্তায় ঝাঁকি খেতে খেতে চলেছি আমরা। এবার আমার সাথে যারা তাদের দু’একজন আমাকে নিয়ে প্রশ্ন কলল, আবার তাদেরই কেউ কেউ উত্তরও দিয়ে দিল। আমাকে কিছুই বলতে হলো না! তাদের একজনের কথা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে। তিনি বলেছিলেন-‘ও কে, ওর বয়স কত, ও মরে যেতে পারে কিনা, এসব কোন প্রশ্নই নয়। ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়.....’! এই কথাগুলো হয়ত একটু এদিক-ওদিক হতে পারে, তবে তার এই কথাগুলো কি কারণে যেন আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। আর এই কথাটিই আমি পরে অনেককে বলেছি, নিজেকে শুনিয়েছি। আমি যখন পাড়ার ছেলেদের সুর করে রাতে পড়া মুখস্থ করতে শুনতাম, সকালে যখন তাদের বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যেতে দেখতাম, তখন নিজের কাছেই নিজেকে কি রকম যেন ছন্নছাড়া মনে হতো! বাবা-মা’র বিয়ের পর অনেক দিন তাদের সন্তান হচ্ছিল না। তারা এ নিয়ে অনেক দোয়া-তাবিজ, চিকিৎসাও করিয়েছিলেন। মা-দাদীর কাছে শুনেছি একটা সন্তানের জন্য আমার বাবা-মা আল্লার কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন। সেই ফরিয়াদের পরই আমি জন্ম নেওয়ায় বাবা বলেছিলেন-‘আল্লা আমার ফরিয়াদ মঞ্জুর করেছে, তাই ওর নাম রাখা হলো-মঞ্জুর’। সে কারণে বাবা আমাকে নিয়ে খুব বড় আশা করতেন। ডাক্তার বানাবেন, ইঞ্জিনীয়ার বানাবেন, আরো কত কি স্বপ্ন! আর এখন আমার স্কুল নেই পড়াশুনা নেই, আমি যুদ্ধের ময়দানে ঠোকর খেয়ে বেড়াচ্ছি! এসব ভেবে মন খারাপ হলে ওই জিপের সেই লোকটির কথা মনে হতো-‘ ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়’!

একসময় জিপ থেমে গেল। আর যাবে না। আমরা যার যার মত নেমে গেলাম। ওখান থেকে বাঙ্কার খুব বেশি দূরে নয়। নিঃশব্দে হেঁটে চলেছি। শুধু প্যান্ট বা লুঙ্গির খস খস আওয়াজ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। মুখ ঘুরিয়ে জিপটা ফিরে গেল। আরো পরে আমরা বাঙ্কারে পৌঁছুলাম। বাঙ্কারে মাত্র চার-পাঁচজন ছিল। আমরা পৌঁছুনোর সাথে সাথে তারা তৈরি হয়ে নিল। ঠিক হলো বাঙ্কারে দুই-তিন জনকে রেখে সবাই আরো ভেতরে ফ্রন্ট লাইনে চলে যাবে। সবাই নিজ নিজ রাইফেল, এসএলআর, গ্রেনেড গুছিয়ে আমাকে আর একজনকে রেখে বেরিয়ে গেল। যাবার আগে আমাদের দুজনকে পই পই করে বলে গেল- বাঙ্কারে অনেক গোলাবারুদ আছে, কোন ভাবেও যেন আমরা দুজনেই একসাথে ঘুমিয়ে না পড়ি। ওরা চলে যাওয়ার পর সেই লোকটি আমাকে বলল-‘একজনকে বাঙ্কারের বাইরে থাকতে হবে, তুমি ছোট মানুষ এখন তুমি থাকো, পরে মাঝ রাত থেকে আমি থাকব’। আমি মাথা নেড়ে রাজি হয়ে গেলাম। তার কথা শেষ হতেই আমি বাঙ্কারের বাইরে পাহারায় যাওয়ার জন্য বেরুতেই তিনি ধমক দিলেন-‘খালি হাতে যাচ্ছো কেন? তুমি কি বন্দুক চালাতে পার’? আমি ‘পারি’ বলায় বললেন-‘তাহলে যে খালি হাতেই যাচ্ছো’? আমি থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি একটা এসএলআর নিয়ে কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলাম। আবার ফিরলাম এক মিনিটের মধ্যেই-‘কাকু আমার ভয় করলে আপনাকে ডাকব’? হ্যাঁ হ্যাঁ, নিশ্চই, কোন ভয় নেই, আমি আছি না’? আমি নিঃশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে গেলাম। আমি জানতাম আমাদের এই বাঙ্কার থেকে ঠিক মাইল খানেকের মধ্যেই আর কয়েকটা বাঙ্কারের কোন একটায় বাবা আছেন।

ঘন কুয়াশায় একটু দূরেও কিছে দেখা যায় না। কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই। আকাশে অনেক তারা জ্বলে আছে কিন্তু কুয়াশায় তাও দেখা যাচ্ছে না। কেমন যেন ধোঁয়াটে ব্যাপার। আমার মনে হলো একটা বড় ময়লা পুরোনো হয়ে যাওয়া মশারির মধ্যে থাকলে যেমন একটু দূরের কিছু দেখা যায়না, এখানেও ঠিক তেমনি! ঝিঝি পোকার একটানা চিৎকার, মাঝে মাঝে হুতোম প্যাঁচা ডেকে ওঠা, কখনো কখনো শুকনো পাতার ওপর দিয়ে কোন কিছু চলে যাওয়ার সড় সড় করা আওয়াজ আর সারাক্ষণ "আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনা" এই রকম একটানা গুমগুম চাপা শব্দ। এই চাপা ঝিমধরা রাতে আমি একা দাঁড়িয়ে আছি এসএলআর কাঁধে। এসএলআর টা অনেক ভারী মনে হচ্ছে! আগের বার নদী পেরিয়ে পাক সেনাদের অবস্থানে অপারেশনে যাওয়ার সময় এত ভারী লাগেনি। বুঝতে পারলাম না আজ কেন ভারী মনে হচ্ছে! এই নিঃশব্দ আঁধারে হঠাৎ হঠাৎ অনেক দূরে কোথাও টাস্ করে একটা-দুটো গুলির শব্দ ভেসে আসছে। অদ্ভুত ব্যাপার! গুলির শব্দ শুনলে ভাল লাগছে! আমার সবচেয়ে কাছের লোকটি দিব্যি ঘুমিয়ে পড়েছেন। একবার নিচে নেমে দেখে আসলাম। ভাবলাম ডাকি, কিন্তু মনে পড়ল-এই প্রথম রাতে আমি পাহারা দেব, আর মাঝ রাত থেকে তিনি। আবার ফিরে গেলাম বাইরে। রাত কয়টা বাজে কোন ধারণাই নেই। আমাদের কারো কাছেই ঘড়ি নেই। মনেও পড়েনা কারো হাতে ঘড়ি দেখেছি কি-না। একসময় এসএলআরটা কোলের উপর রেখে বসে পড়লাম।

হাঁটুর উপর দুই হাত আড়াআড়ি করে রেখে কোলে এসএলআর নিয়ে বসে আছি.....কখন যে ঝিমুনি এসেছে জানিনা, মাথাটা ওই হাতের উপর রেখে আমি মনে হয় ঘুমিয়েই পড়েছিলাম.....সড় সড় করে কি যেন দৌড়ে গেল! চমকে উঠে দাঁড়ালাম! আতংকে সাথে সাথে এসএলআর ঘাড়ে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে শুরু করলাম! থর থর করে কাঁপছি! শব্দটা আবার ফিরে এলো। একটু দূরে মুখ উঁচু করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে দুটো বেজি! এতক্ষণ পরে ফোঁস করে চেপে রাখা নিঃশ্বাস ছাড়লাম। এবার নিজেকে নিজেই বকাবকি করলাম! আর বসা যাবে না। বসলেই ঘুম আসে। রাত এখন কয়টা বাজে? একবার মনে হলো লোকটাকে ডাকি। এতক্ষণ একা একা আমার আর সময় পার হচ্ছিল না। মনে হচ্ছে এক একটা মিনিট যেন এক এক ঘন্টার সমান। নিজের উপরেই রাগ হলো! কেন এখানে থাকতে গেলাম! টিমের সাথে গেলে তো এই একা একা ভয়ে কাঁপতে হতো না। আরো কিছুক্ষণ পরে বাধ্য হয়ে ভেতরে গেলাম। লোকাট ঘুমাচ্ছেই....পাশে বসে আস্ত আস্তে গায়ে হাত রেখে কাকা, কাকা, ও কাকা... কোন সাড়াশব্দ নেই! একটু জোরে ধাক্কা দিতে পাশ ফিরে শুলেন। উঠলেন না। আবার ফিরে গেলাম বাইরে। এবার মেজাজ খারাপ হচ্ছে! আশ্চর্য্য, লোকটা তো বলেইছিল সে মাঝরাত থেকে পাহারা দেবে, মাঝ রাত হতে আর কত বাকি?

যখন সময় পার হতে চায় না তখন মনে হয় এরকমই হয়। কত কি মনে পড়ে.....চুয়াডাঙ্গার সেই ছোটবেলার কথা, আরো ছোটবেলার খুলনায় মামাবাড়ির কথা..... একের পর এক লাইন দিয়ে সেই সব কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। একবার মাথায় হাত দিয়ে দেখলাম চুল ভিজে গেছে! কেন? চুল ভিজল কেন? বৃষ্টি তো নেই! শিশিরে যে চুল ভিজে যেতে পারে সেটা মাথায় এলো না। ভেতরে গিয়ে একটা ক্যাপ খুঁজলাম, নেই। শেষে বাধ্য হয়ে একটা হেলমেট মাথায় দিয়ে এলাম। এত বড় যে মাথায় ওটা ঢল ঢল করছে। আবার যেন ঘুম না আসে সেজন্য চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি। একটু দূরে একটা শ্যাওড়া ঝোঁপ। শ্যাওড়া ঝোঁপ খুব ঝাঁকড়া আর ঘন হয় জানতাম। খুব ছোট বেলায় শ্যাওড়া গাছের তলে দাঁড়ালে মাথায় বৃষ্টি পড়ত না মনে আছে। গ্রামে শুনেছিলাম শ্যাওড়া গাছে নাকি ভূত থাকে! রেবেকা নামের যে মেয়েটি আমাকে কোলে করে পাড়া বেড়িয়ে বেড়াত তার এলামেলো চুল দেখে মা বলত-শ্যাওড়া গাছের ভূত! ভূত কথাটা মাথায় আসতেই ভূতের ভয চেপে বসল! একটু আগেই যে গাছটা দেখেছি গাছই, সেটা এখন মনে হচ্ছে সাদা চাদর গায়ে কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে! না! শুধু দাঁড়িয়ে আছে না, একটু একটু করে আমার দিকে হেঁটে আসছে! আবারো চোখ বড় করে ভাল ভাবে দেখলাম! নাহ্ ভূতটা আমার দিকেই আসছে.....এক ঝটকায় হেলমেটটা একহাতে ধরে দৌড়ে ভেতরে নেমে গেলাম। কাকা ওঠেন কাকা ওঠেন..... এমন জোরে ধাক্কা দিলাম যে এবার লোকটা উঠে বসল। ‘মাঝ রাত হয়ে গেছে’ বলে আসলে আমি তাকে ডিউটি বদলাতে বলতে চাচ্ছিলাম। তিনি উঠেই বাইরে এসে বললেন-‘এখন রাত বারটাও হয়নি, আর একটু পরে আমি দেব, তুমি আর কিছুক্ষণ থাক"। জোর করে কিছু বলতেও পারলাম না। আবার গিয়ে দাঁড়ালাম। এবার আমার আরো বেশি রাগ হচ্ছে লোকটার উপর (আমি তখনো জানিনা এই লোকটি গত দুই রাত একমুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেনি!)

আমি আবার নিজের পজিশনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন আর পুরোনো কিছু ভাবছি না। শুধু ভাবছি কখন সকাল হবে। রাত প্রায় শেষ, পুব দিকে একটু একটু আলো মত হয়ে উঠছে। এমন সময় সারারাতের সেই সুনশান নিরবতা হঠাৎ খান খান হয়ে গেল! একসাথে শত শত রাইফেলের গুলি..... কড় কড় করে একটানা গুলি শুরু হয়ে গেল। গুলির শব্দ হতেই দেখলাম সেই লোকটা বেরিয়ে এসে যে দিক থেকে গুলির শব্দ আসছিল সেই দিকে বন্দুক তাক করে শুয়ে পড়ল, আমাকে ইশারা করতে আমিও শুয়ে পড়লাম। হেলমেটটা আমার মুখ ঢেকে দিলে আমি টান মেরে হেলমেট ফেলে দিলাম। তা দেখে সাথে সাথে তিনি হেলমেটটা পরতে বললেন। তারপর নিজেই হেলমেটটা সাইজ করে দিয়ে বললেন-‘ড্রেস পরা দেখলেই আমার অর্ডারের অপেক্ষা করবে না, গুলি করবে, পারবে তো? আমি মাথা ঝাঁকালাম। আবার বুক ঢিপ ঢিপ করা শুরু হলো। মনে হচ্ছে আমার বুকের শব্দ মনে হয় এই কাকাও শুনতে পাচ্ছে! গুলি আর থামেনা। একটু থেমে থেমে গুলি হয়েই যাচ্ছে। লোকটা বিড় বিড় করছে- কর্ডনে পড়ে গেল নাকি? এমন ভাবে গুলি হচ্ছে যেন আর কখনো থামবে না। এক একবার মনে হচ্ছে আর বুঝি হবে না, কিন্তু একটু পরেই আবার একটানা গুলি। লোহার শিকে একটা কাঠি দিয়ে টেনে গেলে যেমন শব্দ হয় সেই রকম শব্দ হলে লোকটা বলছে-"কুত্তাদের মেশিনগান"। আবার যখন একটা সিঙ্গেল হয় বলেন-আমাদের কাউন্টার। ওই ভাবে উপুড় হয়ে আছি তো আছিই, অনেক পরে গুলি থামল। তাও উঠলাম না। এসময় লোকটা বলল – আর হবে না, ওঠো। তারপর যেন এই প্রথম দেখছে আমাকে, সে ভাবে বলল-তুমি তো সারারাত সেন্ট্রি দিলে! ছি ছি, আমার এটা উচিৎ হয়নি। আমি মাথা নিচু করে আছি, কি বলব?

সূর্য উঠে আলো হলে কুয়াশা কেটে গেল,কিন্তু পুরোপুরি ওঠেনি। তখন অনেক দূরে দেখা যাচ্ছিল। লোকটা আর বাঙ্কারের ভেতরে গেল না। আমরা পাশাপাশি বসে থাকলাম। একটু পরে আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে বললেন-‘ আমার একটা ছোট ভাই আছে তোমার বয়সের। সে তো খেলাধুলাও ঠিকমত পারে না, আর তুমি কাকু কি করে সারা রাত জেগে থাকলে’? মনে মনে তখন আমার রাগও হচ্ছে আবার কষ্টে কান্নাও পাচ্ছে। তিনি আবার বললেন-আমার মন বলছে আজ খারাপ কিছু একটা ঘটেছে.... আমি কি খারাপ ঘটতে পারে তা জানি, তারপরও তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। এত ক্লান্ত লাগছে যে মনে হচ্ছে এখানেই কাৎ হয়ে শুয়ে পড়ি.......এমন সময় দেখলাম আমাদের টিমের লোকেরা ফিরছে। আমি কিছু বুঝিনি, কিন্তু ওই লোকটা দেখেই বুঝে ফেলেছে! বিড় বিড় করে বলছে-ইন্নালিল্লাহে অইন্নালিল্লাহি রাজেউন.....আমি বোকার মত তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। টিম আরো কাছে আসলে লোকটা একটু জোরেই বলল- টু ক্যাজ্যুয়াল্টি ! এতক্ষণে বুঝলাম কেন তিনি ইন্নালিল্লাহে পড়ছিলেন। আমার জানা ছিল না টিমে কয়জন গেছিল! সেই নিহত দুই জনের লাশও নেই। টিম একেবারে বাঙ্কারের কাছে আসার পর জানা গেল একজন নিজের গ্রেনেড ছুঁড়তে গিয়ে নিজের শরীরেই ফেটে মারা গেছে। তার লাশ নিয়ে টিম পিছিয়ে আসার সময় মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে শেষের একজন মারা গেছে। তারপর দুজনের লাশই ফেলে রেখে এসেছে। হিসেবটা হলো লাশ আনার সময় পেছন থেকে আক্রমন হলে লাশ ফেলেই পালাতে হবে, তা না হলে লাশ বহনকারীও মারা যেতে পারে। বাঙ্কারের ভেতরে কোন কথাবার্তা নেই। সবাই যেন কবরের মধ্যে বসে আছি। অন্ধকার কবর! আমার মুখটা তেতো হয়ে গেছিল। উঠে গিয়ে ওয়াটার বটল থেকে পানি খেলাম। আমার দেখাদেখি সবাই সেই বতল থেকে পানি খেল। আবার সবাই চুপ। কে? কে? সেই দুই জন কে? জানিনা। ক্যাম্পে যেয়ে লিস্ট দেখলে জানা যাবে। আমরা কেউ জানিনা। শুধু জানি ”ক্যাজ্যুয়াল্টি” । জিপ আসার অপেক্ষায় না থেকে আর একটু পরে আমরা ক্যাম্পে ফিরে চললাম। সব্জি ক্ষেতের পাশে কেউ কেউ অত ভোরেও কাজে লেগে গেছে, কয়েকটা ছোট ছেলে মেয়ে মুলোর ক্ষেত থেকে মুলো তুলছে.....আরো দূরে জমির আলে বসে একজন বিড়ি টানছে......তারা কেউ জানল না আমার দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেশের মাটিতে ফেলে এলাম...........

চলবে..........

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১'৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171'71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan.... ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৯
ম্যাকানিক বলেছেন: গত কয়দিন নেটের আশে পাশে ছিলাম না আর আজকে এসেই আপনার লেখা আর মনে মন্তব্য করতে যেয়ে প্রথম হতে যাচ্ছি।
সেই দুই জনের নামি কি পরে জানতে পেরেছিলেন?
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ পেরেছিলাম, তবে এখন আর মনে নেই। মা'র কাছে শুনে একজনের নাম জাকির মনে পড়লেও আর একজনের নাম মনে করতে পারনি। এই জাকিরের কথা মা'র সাথে কয়েকদিন আলোচনা করায় মা মনে রেখেছিলেন।

আজ ব্লগডে'র অনুষ্ঠান থেকে ফিরে অনেক দেরী হয়ে গেল লিখতে।

২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৩
রাগিব বলেছেন: আপনাকে অনুরোধ, এই স্মৃতিচারণটি বই আকারে বের করুন। নিদেনপক্ষে ইবুক। আজকালকার প্রজন্মের জানা দরকার মুক্তিযুদ্ধের এমন অভাবনীয় বাস্তবতা ...
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগিব।

বই বের করার কথা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আসছে ফেব্রুয়ারী বইমেলায় বের হতে পারে।

ইতিমধ্যেই বন্ধু "ক-খ-গ" একটা ই-বুক করেছেন, এবং আপডেট করছেন।

৩. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪০
ফারহান দাউদ বলেছেন: অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে, অনেক বেশি দাম।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৯

লেখক বলেছেন:
অনেক দামে কেনা সেই স্বাধীনতা যখন বিশাল সংখ্যক মানুষের মুখে খুব কমদামী খাবারের নিশ্চয়তাও দেয়না তখন দাম আর মূল্যের পার্থক্য নিয়ে ধন্ধে পড়ে যাই!

ধন্যবাদ ফারহান।

৪. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪১
জাতেমাতাল বলেছেন: ... ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়’!

বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হক'এর জন্য অনেক শ্রদ্ধা...
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৬

লেখক বলেছেন:
এই ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় আমি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতায় বিমোহিত।

৫. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৩
শয়তান বলেছেন:
লোহার শিকে একটা কাঠি দিয়ে টেনে গেলে যেমন শব্দ হয় সেই রকম শব্দ হলে লোকটা বলছে-"কুত্তাদের মেশিনগান"। আবার যখন একটা সিঙ্গেল হয় বলেন-আমাদের কাউন্টার।

---

অবাকই হই মাঝে মাঝে । এরকম অসম একটা যুদ্ধে আমরা কিভাবে জিতেছিলাম ।ভেতরে কতটুকু মনোবল থাকলে এমন একটা যুদ্ধে জেতা যায় ।

সাবাশ বীর বাঙালী । স্যালুট !
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৬

লেখক বলেছেন:
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত একটা বাহিনীর বিরুদ্ধে ল্যাজা-সড়কি নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার মত "পাগল" এদেশে আছে বলে এই মাত্র পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলে ষোল কোটি লোক বসবাস করে, অথচ কেউ কারো মাংস খুবলে খায় না!!!!

এটা যখন ভাবি তখন গর্বে বুকটা ভরে ওঠে! আবার শোষণের মাত্রা দেখে ঘেন্নায় গা রি রি করে ওঠে!!!

নোনাধরা দেওয়ালের চটায় প্রিয় মানুষের মুখ এই আমার স্বদেশভূমি! ইনহাস্ত ওয়াতানাম!!

৬. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯
পি মুন্সী বলেছেন: আমি ভাবতাম আমাকে কেউ ইমোশনাল করতে পারে না। আজ আপনি আমারে শুয়াইয়া ফেলাইছেন। ক্যাজ্যুয়ালিটি নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন নিজেকেই ক্যাজ্যুয়ালিটির জায়গায় বসিয়ে ফেলেছিলাম জানি না। বোধহয়, আগামি কোন যুদ্ধের কথা ভাবছিলাম।

যাই হোক আমার মনে হচ্ছে আপনি নাটক সিনেমার পরিচালক হিসাবে খারাপ করবেন না। আপনার "লোকটা" যার সাথে আপনি বাঙ্কারে ছিলেন - এই বাস্তব চরিত্রটা বর্ণনা সাংঘাতিক হয়েছে। প্রথমে আপনার যা মনে হচ্ছিল সেই নেগেটিভ চরিত্রটা কীভাবে ধাপ ধাপে গভীর ইতিবাচক হয়ে উঠছে - সত্যিই সিনেমা নাটককে হার মানায়; অথচ আজীব ব্যাপার হলো, আপনি কোন স্ক্রিপ রাইটারের মত কল্পনায় চরিত্র সৃষ্টি করছেন না।

আমার মানুষ:
আমার মুক্তিযোদ্ধা। অদ্ভুত একটা শব্দ। মুক্তিযোদ্ধা আমার মানুষ।

মানুষ কাছে "অপর" - এই দুস্তর পারাবার দূরত্ত্ব ঘুচিয়ে একাকার হয়ে যাবার একটা বাসনা সবসময় আছে। মানুষের যেমন ব্যক্তি, স্বাতন্ত্র, স্বার্থও লালন করে তেমনি একইভাবে, এই বাসনাটাও সত্যি। বাসনাটা স্পিরিচুয়াল; আর এই স্পিরিচুয়ালিটির ভিতরেই একমাত্র সে নিজেকে জীবন্ত, রাজনৈতিক মানুষ বলে উপলব্দি করতে পারে। এটা বাদে দিলে যে শরীরটা থাকে সে তো একটা বিষয়আশয় মাত্র।
মুক্তিযোদ্ধা তেমনই একটা শব্দ যেখানে মানুষ তাঁর "অপর"কে অতিক্রম করে একাকার হয়ে যায়; কোন বিশেষ বৈশিষ্টে আলাদা করে কাউকে চেনা যায় না, কমিউনিটি হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা সেই মিলন বিন্দু।

"আমার দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেশের মাটিতে ফেলে এলাম" - আমার দুজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার - এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে এলোমেলো এসব কথা লিখে ফেললাম।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন:

"মুক্তিযোদ্ধা তেমনই একটা শব্দ যেখানে মানুষ তাঁর "অপর"কে অতিক্রম করে একাকার হয়ে যায়; কোন বিশেষ বৈশিষ্টে আলাদা করে কাউকে চেনা যায় না, কমিউনিটি হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা সেই মিলন বিন্দু।"
কি অসাধারণ কথাটি কত সাধারণ করে বললেন! অবিভুত হবো না আপ্লুত হবো নির্ণয় করতে পারলাম না।

মানুষের এই গুণাবলিকেই স্টাবলিশমেন্টের ভয়! তারা এখানেও বাঁধ দিতে চায়! এক একটা মানুষকে তারা "টিপাইমুখ" করে ফেলতে চায়। আমরা আর "আমার" বলয়ে থিতু হতে পারিনা। বারে বারেই বেরিয়ে এসে আমিত্বকে লালন করে আমিত্বের প্রাসাদ গড়ি, সৌধ গড়ি। মায়ামরিচিকায় বেলোয়ারিঝাঁড়ে সূর্যালোক খুঁজি!

এখনো স্বপ্ন দেখি............

৭. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪১
ফিরোজ-২ বলেছেন: আপনাকে অনুরোধ, এই স্মৃতিচারণটি বই আকারে বের করুন। নিদেনপক্ষে ইবুক। আজকালকার প্রজন্মের জানা দরকার মুক্তিযুদ্ধের এমন অভাবনীয় বাস্তবতা ...
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন:
আশা করছি হবে।
ভাল থাকুন ফিরোজ-২

৮. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৭
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়’! ---

কথাটা আমার বুকের মধ্যেও গেঁথে গেল। ভাল থাকুন ভাইয়া।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন:
তখন বুঝিনি কি অসম্ভব শক্তিমান একটি কথা তিনি আমায় শেখালেন! আজ এতটা বছর পরে যখন পেছন ফিরে দেখি সেই নাম না জানা লোকটির কাছে চিরঋণী হয়ে পড়ি! বয়স অনুমানে হয়ত আজো তিনি বেঁচে আছেন। যেখানেই থাকুন, তিনি যেন ভাল থাকেন!!

এত বছর পরে এতটা দূর থেকে সশ্রদ্ধ স্যালুট!!!

৯. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৪
লুৎফুল কাদের বলেছেন: ‘ ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়’!
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬

লেখক বলেছেন:
এটাই আমার বড় পরিচয় ছিল।
এখনো এটাই আমার বড় পরিচয়।

১০. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন: আপনের লেখার/পোস্টের সাথে আপনার য়েপিয়ারেন্স/স্বভাবের মিল পাওয়া যায় না।
দুইমুখো দুইমুখো লাগে।
১১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯
ত্রিশোনকু বলেছেন: "ওর দেশ শত্রু কবলিত, ওকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, ও দেশে ফিরতে চায়, এটাই ওর বড় পরিচয়’! -"

-অসামান্য উক্তি।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬

লেখক বলেছেন:
সেই নাম না জানা লোকটির কাছে চিরঋণী হয়ে পড়ি! বয়স অনুমানে হয়ত আজো তিনি বেঁচে আছেন। যেখানেই থাকুন, তিনি যেন ভাল থাকেন!!

এত বছর পরে এতটা দূর থেকে সশ্রদ্ধ স্যালুট!!!

১২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৭
অপ্‌সরা বলেছেন: রাগিব বলেছেন: আপনাকে অনুরোধ, এই স্মৃতিচারণটি বই আকারে বের করুন। নিদেনপক্ষে ইবুক। আজকালকার প্রজন্মের জানা দরকার মুক্তিযুদ্ধের এমন অভাবনীয় বাস্তবতা ...



একদম আমার মনের কথা বলেছে রাগিব ভাইয়া।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন:
আমার বোনটির মনের কথাও যদি তাই হয় তাহলে তো বের করতেই হবে।

আগের পোস্টে তোমার মন্তব্যের পরে পি.মুন্সী'র মন্তব্য পড়ে দেখো।

এবার মাথাগুঁজে লেখাটা শেষ করি আগে.........

১৩. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৫
যীশূ বলেছেন: সাহসী যোদ্ধা!!!!!!!
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১১

লেখক বলেছেন:
না ভাই, ক্ষুদ্র এক ইহিতাস কথক।

১৪. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৪
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: দেশের জন্য অকাতরে প্রান দেয়ার এই ঘটনাগুলো পড়লে একটা কথাই শুধু মনে হয়, আহারে।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। আপনি খুব নরম মনের মানুষ।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন:
শুভেচ্ছা।

১৬. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৯
দেশী পোলা বলেছেন: একটা খেদ রয়ে যায় মনে, ওপারের বাঙালীদের কি আপনাদের যুদ্ধ দেখে কোনদিন যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা করেনি?
২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন:
কোন বাঙালিদের কথা বলছেন?
পঃবঙ্গের বাঙালিরাতো এই যুদ্ধকে মনে করত ভারতের"ষড়যন্ত্র"! তারা পাকিস্তানকে পূণ্যভূমি জ্ঞান করত। নিজেরা হয়ত জমিজমার মায়া ছেড়ে আসতে পারিনি, কিন্তু ভাই বা অন্য কোন না কোন আত্মিয়কে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছে!

তারা বলত-পাকিস্তানকে ভেঙ্গে ভারত পূর্ব বাংলাকে দখল করে নেবে। তারা ভারতে থেকেই পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখত(এটা আবার সবাই নয়)।

১৭. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৭
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: কতটা দাম দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতা তা আমরা এখনও হয়ত সঠিকভাবে অনুভব করতে পারি না।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৭

লেখক বলেছেন:
পারি, তবে অস্বীকার করতে পারলে সেটুকুও আর স্বীকার করি না।

১৮. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
নির্ঝরিনী বলেছেন: ”ক্যাজ্যুয়াল্টি" শব্দটা আমার কাছে আগে একরকম ছিলো, এখন সম্পূর্ন অন্যরকম মানে...

সেই কিশোর বয়সে, অমন একটা ফাঁকা জায়গায় একা সারারাত পাহারা দেয়া...আপনার সাহসকে শ্রদ্ধা মনজু ভাই।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন:
এর চেয়েও বেশী সাহসের কাজ ছিল অচেনা এক দেশে ঠিকানাহীন বাবাকে খুঁজে বের করা! আর সেই কাজে আমাকে আমার মায়ের পাঠিয়ে দেওয়া!!

ধন্যবাদ নির্ঝরিনী। ভাল থাকুন।

১৯. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫০
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
ব্যস্ততায় কদিন ব্লগে আসা হয়নি.....
শুধু মনে হচ্ছিল তারপর কি হলো?

আবারও সেই উৎকন্ঠার সাথে সময় পার হওয়া.....।অন্ধকারে একা একটা কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে যুদ্ধ দেখা।
এ অনুভূতির কোন তুলনা নেই.......

ভালো থাকবেন মনজুরুল ভাই।
শুভকামনা।
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০

লেখক বলেছেন:
কি যে এক মায়ার বাঁধনে জড়ালেন!

আমিও মনে মনে খুঁজছিলাম-সাজি কই?
শুনলাম ভয়ানক শীত ওখানে! মাইনাস ২০ !! কী ভয়ংকর!!

ভাল থাকুন সাজি। সাবধানে থাকুন। নিরাপদে থাকুন।

২০. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুতেছিলো আমাদেরি আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৬

লেখক বলেছেন:
অসামান্য পঙ্তিতে মুগ্ধ
কোন কিছু বলবার রইল না!

২১. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

সেই ভয়াবহ দৃশ্যগুলো কল্পণা করতেও ভয় হয় ।

১৪-১৫ একসঙ্গে পড়লাম ।
০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৩

লেখক বলেছেন:
পাথর ঘসে আলো জ্বালানো সেই মানুষগুলি ধাক্কা খেতে খেতে এখন একেবারে কোণায় চলে গেছে, আর একটু ধাক্কা লাগলেই পড়ে যাবে অতলে!

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৯৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ