দগ্ধ দুপুরে এক কিশোরীকে
লেবনচুষ খেতে দেখেছিলাম।
তার বেণী দুলিয়ে হাঁটার ছন্দ
সদ্যজাত হরিণ শাবকের মত।
এলোমেলো পায়ে যে সারাক্ষণ
মাতৃ স্তন খুঁজে ফেরে! কখনো
বিপুলানন্দে দৌড়ে যায়, ফিরে আসে।
রঙচটা বিকেলে এক তরুণীকে
ভ্রু বাঁকা করে চাইতে দেখেছিলাম।
বাঁকানো ভ্রু কত কি বলে বুঝতে পারিনি;
আমি তখন দৌড়ে বেড়াই, এদিক থেকে
ওদিকে যাই, পাহাড় থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ি,
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই, স্বপ্ন বেচি!
বিমলানন্দে বাঁকানো ভ্রুর অস্ফুট কথা
নিলাম করি সীতা-রামের কুম্ভ মেলায়।
ঝিমধরা রাতে এক রমণীর ঠোঁটে অবজ্ঞার
ফ্রেমে বাঁধানো পোট্রেট দেখেছিলাম।
সযত্নে লালিত তাচ্ছিল্যের রঙে আঁকা
পুরোনো পোট্রেট ঘসে মেজে নতুনের মত!
আমি তখন স্থির থাকি, নিরব থাকি,
স্বপ্ন নয়, পাহাড় নয়, শুধুই আমার
নিঃশব্দের নিঃসঙ্গ চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকি।
ধনুকের মত বাঁকানো ভ্রু ধনুক হয়ে
তীর খুঁজে নেয়, লক্ষ্যভেদে তীর ছুড়ে দেয়!
তখনো আমি স্থানুর মত পলকহীন তাকিয়ে থাকি!
সরতে পারি না, সরাতে পানি না,
বিস্ময়ে বিস্ফোরণে পায়ে আমার শেকড় গজায়।
সেই থেকে আমি অন্ধ।
রূপ রস সুধা কিছুই দেখিনা, কেননা
অন্ধেরা স্বভাবতই দেখার অভিনয় করে না!
ধোঁয়াটে ধূসর অন্ধ চোখে ঘুম আসে না!
তখনো আমি নিঃস্ব নই, আছে বুকের
গহিনে চেনা মানুষের হাজার স্মৃতি।
প্রিয় মানুষের আপন কথা, বানানো ব্যথা।
দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ভ্রুকুটি মেশানো সামান্য কথা
অসামান্য হয়ে তীব্র বেগে ছুটে আসে,
ইথারে চেপে শত গুণ হয়ে ছুটে আসে।
আমি তখন খাদের কিনারে শেষ ধাপে!
সামনে ধেয়ে আসা শেল, পেছনে গহীন খাদ।
নিশ্চিত আমি, নিশ্চিত আমি মরণ দেখেও
দাঁড়িয়ে থাকি, কেননা দুপাশেই মৃত্যু!
শেল বেধা বুকে রক্ত ঝরে না, তবুও
সেই থেকে আমি মৃত। কায়াহীন ছায়া!
কারা এসে কফিনে পেরেক পোঁতে!
কারা এসে কফিন ঠেলে ঠেলে নেয়!
ওরা এসে কফিনে দাপাদাপি করে!
ওরা জানে না, শত চেষ্টাও মৃতেরা জাগে না।
ওরা এসে স্নান সারে, সুগন্ধী মাখে!
চোখের কোণায় কালো দাগ দেখে!
সরাতে চায়, সরতে চায়,স্মৃতিভ্রুণের মৃত্যু চায়!
ওরা জানে না, জানতে পারে না,
মৃত্যু মানেই ফুলস্টপ, মৃত্যু মানেই ডট!
২২ মার্চ ২০০১১
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



