ধর্মে যতকথা শোনা যায় প্রকৃতপক্ষে তত কাজ হয়না। তবে গালগপ্প ভরা ধর্মীয় বাণী আর রিতিনীতি মেনে চলে বলো কয়জন? কোরআন ও শরীয়া মতে ধর্মে এই করা যাবে না, সেই করা যাবে না; নানান সুরে কথার অলংকারে ভরা আলেম ওলামাদের ওয়াজ নসিয়ত শুনলেই জানা যায় স্ব ধর্মের আদলে গড়া তাদের অন্তর। ধর্মের কোন খুটি নাটি বিষয়াদির কথা ধরে তাদের কাছে জানার জন্য যদি বলা হয় তারা এক বাক্যে পাশ কাটিয়ে যান। কারন হিসাবে আমি প্যান্ট সার্ট পড়া মানুষ; মাথায় টুপি নাই, গায়ে জুব্বা নাই, মুখে দাড়ী নাই, মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজের সারিতে আমায় দেখতে পায়না; সব মিলিয়ে তাদের ভাষায় একজন বেনামাজী মুশরিক তার সাথে আবার কিসের কথা।
আমার প্রশ্নঃ
১। আমার গায়ে জুব্বার বদলে যদি স্ক্রীন গেঞ্জি কিংবা জামা প্যান্ট থাকে তবে কি আমার আল্লাহ্ সমন্ধে জানার আগ্রহ থাকতে পারেনা?
২। মাথায় টুপির বদলে যদি ফ্যালকাপ আর মুখে দাড়ীর বদলে যদি ক্লিন সেভ থাকে তাহলেকি আমার এবাদত হবে না। কিংবা আল্লাহ্ তা কবুল করবেন না?
৩। মসজিদে যদি না যায় কিংবা কেউ আমাকে নামাজ পড়তেই দেখল না তা থেকে কি ধরে নেয়া যেতে পারে যে মানুষটি বেনামাজী?
এমনতো হতে পারে কেউ হাতে ব্যাসলেট, মাথায় ঝুটি, স্ক্রীন গেঞ্জি কিংবা জামা প্যান্ট পরেও তার অন্তর মুমিন। আর মাথায় টুপি গায়ে জুব্বা, মূখে দাড়ী ও হাতে তসবি তার পরেও সেই মুমিন নয়। আসলে কে মুমিন এর জন্য কোন পোশাক পরিচ্ছদের দরকার হয়না দরকার হয় শিরক মুক্ত, কু-চিন্তা মুক্ত নফস্ এর। যে নফস্ নিজের নিয়ন্ত্রে চলে।
অনেকে আছেন যারা কেউ কেউ গোপনে আল্লাহ্র তাকুয়া আদায় করে। আল্লাহ্ র এবাদত কেবল মসজিদেই করতে হবে তানাহলে হবে না এমন কথা কেউ হলপ করে বলতে পারবে না। আর কেউ যদি বলে মসজিদ ছাড়া ইবাদত হবে না তাকে অবশ্যই ভালো করে জান্তে হবে গোপন ইবাদত কি? এবং কেনই গোপন ইবাদতের কথা আল্লাহ্ বলেছেন। রাসুল (সাঃ) পাহাড়ের গুহায় গোপনে কি ইবাদত করতেন। এই সব বিষয় গুলি ভালো করে জান্তে হবে। পোশাক আশাক দিয়ে কোন ইবাদত হয়না, দাড়ী টুপি দিয়ে কোন প্রর্থনা হয় না। প্রকৃত পক্ষে সালাত কিংবা আল্লাহ্ র তাকুয়া আদায় হয় অন্তরের চাওয়া পাওয়ার উপর ভিত্তি করে। অনেককে বলতে শূনেছি কাবার দিকে মূখ করে পেশাব-পায়খানা করা যাবে না এনম হাদীস ও আছে নিম্নে বর্ণনা করা হলো
১। আবু আইউব আনছারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: রাছুল (সাঃ) বলেছেন, মল-মুত্র ত্যাগের সময় কেহ কেবলামুখী বসবে না। কেবলার দিকে পিঠও দিবে না,পূর্ব বা পশ্চিমমুখী বসবে না। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, আ. হক; হাদিছ নং-১১৪, পৃ: ১২৫; হামিদিয়া লাইব্রেরী]
২। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, লোকেরা বলে, যখন তুমি পেশাব-পায়খানায় বসবে, তখন তুমি কিবলার দিকে কিংবা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করবে না। আমি একদিন আমাদের ঘরের ছাদে উঠে দেখলাম রাছুল্লাহ (সাঃ) দু'টি ইটের উপর বসে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পায়খানা- পেশাবের জন্য বসে আছেন। [ দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, আ. হক; হাদিছ নং-১১৫, পৃ: ১২৫; হামিদিয়া লাইব্রেরী।
প্রকৃতপক্ষে কিবলার দিকে কিংবা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মূখ করে পেশাব-পায়খানা করা যাবেনা এটা ঠিক নয়। অবশ্য এমন যদি কোন কঠিন বিধান থাকতো তবে আল্লাহ্ কোরআনে স্পষ্ট বলে দিতেন আর সব অন্য বিষয় গুলির মত। মনে রাখতে হবে আমার মনের উদ্দেশ্য কি? আমার উদ্দেশ্য কেবলাকে অপবিত্র করা নয়। পেশাব-পায়খানার যেমন একটা উদ্দেশ্য আছে। ঠিক কাবা আর বায়তুল মোকাদ্দাস সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। পেশাব-পায়খানা যদি কেবলাকে খাটো করা হয় তবে বলতেই হয় যে, আমারা অনেকেই নামাজ আদায়ের সময় জায়নামায ব্যবহার করি। সেই জায়নামাযে নানান মসজিদ, মদিনা শরিফ এমনকি কাবা ঘরের ছবি দেখি যেটা নামাজ আদায়ের সময় পায়ের নিচে থাকে। তবেকি আমরা বলবো যে, মসজিদ, মদিনা শরিফ ও কাবা ঘরকে নামাজিরা পদদলিত করছে? আমি জানি উপরে উল্লেখিত হাদীসের বিপরিত মূখি কথা আলেম ওলামাদের জানা নাই আর থাকলেও সেই জ্ঞান নেই যে, জ্ঞানের কথা কোরআন বলেছে। অনেকে ঘুমানোর কথাও বলেছে একই; কাবার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো যাবে না। আমি সেলিম জাহাঙ্গীর মনে করি কোন দিক বা স্থান এটা মূল বিষয় নয় প্রকৃত সত্য হলো আমার মনের আসল উদ্দেশ্য। আমি মনে করি ইসলাম ধর্ম এত জটিল কোন ধর্মনয় তা কোরআনে মাবুদ স্পষ্ট অনেকবার বলেছেন।
--চলবে১/২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

