শেষ কিস্তিতে এমপ্লয়ি এনগেজমেন্ট নিয়ে বেশ কমপ্রেসড কিছু কথাবার্তা বলেছিলাম। সামনে ওগুলি এলাবোরেট করার ইচ্ছা আছে। তার আগে আরো কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই এনগেজমেন্ট নিয়ে।
ঘরের শত্রু বিভীষন
আপনি কি জানেন যে সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের ~১০% কর্মী পুরোপুরিই প্রতিষ্ঠানটির বিপক্ষে কাজ করে? খেয়াল রাখবেন, আমি কিন্তু বলিনি 'বিপক্ষে থাকে', আমি বলেছি বিপক্ষে 'কাজ করে'। বিপক্ষে আরো বেশি কর্মীই থাকতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে মানুষ নিজের কোম্পানী ডুবতেছে এরকম একটা কথা বলে সেরকম একটা ইগো হিট পায়। কিচেন টকে এসবের প্রাদূর্ভাব সেরকম।
গবেষনা বলে যে এই ১০% এর মূল স্টিমুলাস 'ডিজএনগেজমেন্ট'। এখানে আরেকটা ট্যানজেনশিয়াল কনসেপ্ট হল 'এলিয়েনেশন'। এলিয়েনেশন বড়ই বাজে একটা জিনিস। একজন এমপ্লয়ি যদি 'ফ্রাস্ট্রেটেড' হয়, ভয় কম। ফ্রাস্ট্রেশন দূর করা তুলনামূলকভাবে সহজ। এলিয়েনেশন পুরোপুরি অন্য কারনে হয়। একদম বিপরীত স্কিলসেট, বাজে/বিপরীত এটিচুড, ইউনিটের সাথে একেবারেই বনিবনা না হওয়া, করাপশন - এরকম ভারিক্কি রকমের বাজে জিনিসগুলো কম্বিনেশনে এলিয়েনেশন বাড়ায়। কম্প্রিহেনসিভ ইন্টারভেনশন না করলে এলিয়েনশন ওই ১০% 'এ্যাকটিভলি ডিজএনগেজড' এমপ্লয়ীর সৃষ্টি করে।
ইমোশন বনাম রিজন - আবেগ বনাম যুক্তি
আরেকটা গবেষনালব্ধ তথ্য যেটা আমার বেশ গুরুত্বপূর্ন মনে হয় সেটা হল আবেগী বা ইমোশনাল এনগেজমেন্টের গুরুত্বটা। এটা এতই বেশি এফেক্টিভ যে যৌক্তিক বা র্যাশনাল এনগেজমেন্ট পাত্তাই পায় না। পাক্কা চার গুন বেশি গুরুত্বপূ্র্ন ইমোশনাল এনগেজমেন্ট!
ধরেন, একটা কাজ দেয়া হল যেটা আপনার, আপনার বস, কারোরই অত ভাল লাগে না। বস আপনাকে র্যাশনালি এনগেজ করল: "মনওয়ার, এটা তো করতেই হবে এই এই পারপাজে... এটা না করলে এটা করা যাবে না। চলেন করে ফেলি।" কিন্তু বস যদি আমাকে ইমোশনালিও এনগেজ করে, যদি আমাকে বুঝায় কাজটা ভাল করে করার মজাটা কি, আমার মতামতটা নেয় (যদিও আমি তাকে শুধু বলি এই কাজটা হুদা কামে করা, ফালতু, তিতা হইয়া করুম!!), এটা কিভাবে আমার প্রফেশনালিজমকে এনহান্স করবে, এটার এন্ড এফেক্ট এবং ভাল করে না করার এন্ড এফেক্ট (গল্পের আকারে রিয়েল-লাইফ উদাহারন বেশ কাজে লাগে), সে যে বুঝতেছে আমার ভাল লাগতেছে না এটা করতে, মাঝে মাঝে চ্যাট উইন্ডোতে আমাকে ভেন্টিং অপারচুনিটি দেবে - এগুলি ইমোশনাল এ্যাসপেক্ট। অবশ্যই এগুলো বাধ্যতামূলক না, কিন্তু এইসব এপারেন্টলী বেইললেস কাজই ইমোশনালি কাজের সাথে কর্মীদের এনগেজ করে। আরো কত রকমের আছে, নিজেদের আগ্রহ, এম্বিশন, অ্যাসপারেশন শেয়ার করা ইত্যাদি। প্রফেশনালিজম বলতে আমরা যে রবোটিক, আল্ট্রা-মেকনিস্টিক ধারনাটা পাই, এই ইমোশনাল এনগেজমেন্টের কনসেপ্টটা তা কতটা ডিসপ্রুভ করে দেখলেন?
তারপর, একটু ম্যাক্রো লেভেলেই দেখেন না কেন? কিছু কাজে কষ্ট করে এই জিনিসটা করা লাগে না, যেমন ভূমিকম্পের সারভাইভর খোঁজা, বা নাইন-ইলেভেনের পরে যা করলো নিউ ইয়র্কের মানুষ। বা যেমন ধরেন গাজার লোকজনকে সাহায্য করতে উদ্বুদ্ধ করা। আবার কিছু ক্ষেত্রে এটা ছাড়া রেজাল্ট বেশ ক্যাটাস্ট্রফিক, যেমন ভিয়েতনাম বা ইরাকে মার্কিন সেনাদের কমব্যাট এফেক্টিভনেসের সাথে দেশের জনগনের যুদ্ধ সমর্থনের সম্পর্কটা।
আগে যেটা বলেছি, বড় বড় করপোরেশগুলোতো অ-ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সিংহভাগ কাজই কম্পার্টমেন্টালাইজড। কাজের অর্থবহতা হারিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। ইমোশনাল এনগেজমেন্ট এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা ফ্যাক্টর হতে পারে মোটিভেশনেও। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



