আমার প্রিয় ছবি : সিল্ডার’স লিস্ট
দৈর্ঘ : ১৯৫.৫ মিনিট
রঙ : সাদাকালো, আংশিক রঙিন
দেশ : আমেরিকা
ভাষা : ইংরেজি, হিব্র“, জার্মান, ফ্রেঞ্চ, পলিশ
পরিচালনা : স্টিভেন স্পিলবার্গ
প্রযোজনা : স্টিভেন স্পিলবার্গ, জেরাল্ড আ মলেন, ক্যাথলিন কেনেডি, ব্রাঙ্কো লুসটিগ
চিত্রনাট্য : স্টিভেন স্পিলবার্গ, মূল উপন্যাস : টমাস কেনেলি
অভিনয় : লিয়াম নেসন, বেন কিংসলে, রাল্ফ ফিয়াসে, কেরোলিন গুডাল, এমবেথ ডেভিডজ
সঙ্গীত : জন উইলিয়ামস
চিত্রগ্রহণ : জানুসজ কামিনস্কি
সম্পাদনা : মাইকেল কান
কাহিনী সংক্ষেপ : ব্যর্থ জার্মান ব্যবসায়ী অস্কার সিল্ডার যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে ব্যাবসায়িক সাফল্যের আশায় নাৎসী অধিকৃত পোলান্ডে আসেন। ন্যাশনাল সোসাল পার্টির সদস্য এসএস অফিসার ও ভের্মাখট কতৃপক্ষকে ব্যাপক ঘুষ দেন দিয়ে মিলিটারির সহায়তায় আর্মি মেসের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরির জন্য একটা কারখানা দেন। এ ব্যাপারে ইউডার্ন [ইহুদি কাউন্সিল]-এর অফিসার ইতজাক স্টার্ন তাকে সাহায্য করে। এই কারখানা খুলে শিল্ডার নাৎসীদের খুশি করে এবং তারা তাকে হের ডাইরেক্টর [মিস্টার ডাইরেক্টর] উপাধি দেয়। কিন্তু পোলান্ডের লোকদের না-নিয়ে শিল্ডার তার কারখানা ইহুদিদের নেয়, কারণ ইহুদিরা শস্তা শ্রম দেয়। এদিকে স্টার্ন নকল কাগজপত্র তৈরি করে দেখায় যে জার্মানদের যুদ্ধে সহায়তা দিতে আর শ্রমিক লাগবে। আর এইভাবে যতো শ্রমিক নিতে পারে ততোই ভাল, কারণ এর মাধ্যমে তারা ইহুদিদের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের হাত থেকেও বাঁচাতে পারবে। এসএস ক্যাপ্টেন আমোন গুথ ক্রাকোতে আসে কনসানট্রেশন ক্যাম্প তৈরি করতে। তার আদেশে জায়গা খালি হতে থাকে, এবং সামনে যাকে পাওয়া যায় তাকেই হত্যা করা হয়। সিল্ডার পাহাড়ের উপর থেকে এ সব দেখেন। পর্যাপ্ত ঘুষ দেয়ার মাধ্যমে সে তখনও এসএস-এর সহায়তা পেতে থাকে। এ সময় সিল্ডার তার কর্মীদের জন্য একটা সাবক্যাম্প তৈরি করে। শুরুতে তার উদ্দেশ্য টাকা কামানো হলেও পরে সে স্টার্নকে আদেশ দেয় যতো বেশি করে সম্ভব ইহুদিরে বাঁচাতে। যুদ্ধের গতি বদলাতে বার্লিন থেকে আদেশ আসে কনসানট্রেশন ক্যাম্পের কাজ বন্ধ করতে এবং মৃত ইহুদিদের দেহাবশেষ ধ্বংস করে, জীবিতদের আউসভিজ কনসানট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিতে। সিল্ডার জানে কনসানট্রেশন ক্যাম্পে যাওয়া মানেই অবর্ণনীয় অত্যাচার এবং অবশেষে মৃত্যু। সে তার কর্মীদের বাঁচানোর জন্য আমোন গুথকে বলে, কর্মীদের তিনি তার নিজের শহর মোরাভিয়ার পুরনো কারখানায় নিয়ে যেতে চান। গুথ প্রতিটি কর্মীর জন্য নির্ধারিত হারে টাকা চান। সিল্ডার তার যোগ্য কর্মীদের তালিকা করতে থাকেন। এবং তার তালিকা মতো অধিকাংশ কর্মীই নিরাপদে পৌঁছে যায়। কিন্তু ইহুদি নারী আর শিশুদের বহনকারী ট্রেনটি ভুলক্রমে আউসভিজে চলে যায়। সিল্ডার নিজে আউসভিজ যান এবং ক্যাম্প কমাণ্ডার রুডলফ হুসকে এক পোটলা হীরা ঘুষ দিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার সময় এসএস অফিসাররা শিশুদের আটকে দেয়। সিল্ড যুক্তি দেখান, এই শিশু শ্রমিকদের ছোট্ট হাত আর্টিলারি সেলের সরু অংশের ভেতরেটা পলিশ করতে খুব কাজে লাগে। তার কথায় শিশুরা প্রাণে বেঁচে যায়। এদের সবাইকে নিয়ে মোরায়িভয়ার কারখানা এনে নিরাপদে রাখেন তিনি। এমনকি এসএস প্রহরীদেরও বলে দেন, যেন তার কোন কর্মীর গায়ে হাত দেয়া না-হয়। সিল্ডারের স্ত্রীও তাকে সহায়তা করে। যুদ্ধ শেষ হয়, ভের্মাখটরা পরাজিত হয়। সিল্ডারের কাছে তখন আর কোন টাকা নেই। এসএস গার্ড ইহুদিদের ধ্বংস করে দিতে বলে। কিন্তু সিল্ডার তাদের ছেড়ে দেন। সবার কাছ থেকে বিদায় নিতে এলে কর্মীরা তাদের ভালবাসা জানায়। একজন কর্মীর বাঁধানো দাঁত দিয়ে তারা সিল্ডারের জন্যে একটি সোনার আংটি তৈরি করেছে যেখানে লেখা আছে, ‘যে একজনের জীবন বাঁচায় সে গোটা বিশ্বকেই বাঁচায়।’ আবেগাপ্লুত সিল্ডার আফসোস করে, কাঁদে আর অনুশোচনা করে এই ভেবে যে, তার কাছে আরও টাকা থাকলে আরও ইহুদির জীবন বাঁচাতে পারতো। পরদিন সকালে নতুন সূর্য উঠে, রেড আর্মির তত্ত্বাবধানে ইহুদিরা মুক্ত হয়। এরপর আমন গুথের বিচার হয়। কাহিনী এবার চলে যায় আরও কয়েক বছর পরে। আমরা দেখতে পাই সিল্ডারের কারখানার শ্রমিকরা লাইন ধরে তার কবরে একটা করে পাথর সসম্মানে রেখে যাচ্ছে। আমরা জানতে পারি, পোলান্ডের ৪০০০ হাজার ইহুদিকে শিল্ডার রক্ষা করেছিলেন। ছবি শেষ হয় ‘ নিহত ছয় হাজার ইহুদির স্মরণে’ কথাটি দিয়ে।
বিশেষত্ব : যাদের ধারণা স্পিলবার্গের ছবি মানেই স্পেশাল এফেক্ট, ডাইনোসর, ভিনগ্রহের মানুষ তাদের জন্য এ ছবি দেখা অবশ্য কর্তব্য। শুধু মাত্র এই একটি ছবি দেখেই বোঝা যাবে স্পিলবার্গ কতো বড় মাপের শক্তিশালী পরিচালক। স্পেশার এফেক্ট দূরের কথা এমনকি এ ছবিতে স্পিলবার্গ সামান্যতম রঙের ব্যবহার করতেও যেন বহুবার ভেবেছেন। ছবির বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতি রেখেই প্রায় সাদা-কালো এ ছবির চিত্রায়ণ করা হয়েছে খুবই সরল, অথচ জোরালোভাবে। লিয়াম নেসন, রাল্ফ ফিয়াসে আর বেন কিংসলের অসাধারণ অভিনয় এ ছবির বাড়তি প্রাপ্তি। সাতটি অস্কার পাওয়া এ ছবিকে ২০০৭ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিট্যুট সেরা আমেরিকান একশ ছবির মধ্যে অস্টমে ঠাঁই দিয়েছে।
বিশেষ তথ্য :
১. স্পিলবার্গ এ ছবির জন্য কোন স্টোরিবোর্ড তৈরি করেননি। তিনি এ ছবিকে তথ্যচিত্রের মতো চিত্রায়ণ করতে চেয়েছিলেন। এ ছবিকে তথ্যচিত্রের ধাঁচ দেয়ার জন্য তিনি সব সময় টুইস্টেড ক্রস [১৯৫৬] এবং সোয়া [১৯৮৫] ছবি দুটো দেখতেন। এ ছবিদুটো তাকে অনুপ্রেরণা দিতো। এ ছবির ৪০ ভাগ শ্যূটিং হাতে নেয়া ক্যামেরায় হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি ক্রেন, প্রলি, জুম লেন্স, স্টেডিক্যাম এ সব জিনিসকেও বর্জন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এর ফলে ছবিতে একটা স্বতঃস্ফুর্ততা এসেছিলো, একটা সীমা রেখাও ছিলো এবং সর্বোপরি বিষয়ের সঙ্গে এটি সঙ্গতিপূর্ণ।’ এবং এই সব কিছুর সহায়তা ছাড়া নিজেকে স্পিলবার্গে একজন চিত্রকর মনে হয়েছিলো। যন্ত্রপাতি কমিয়ে দেয়ায় বাজেটও কমে গিয়েছিলো, তাতে করে ছবিকে অনেক দর্শকের কাছে হিট করানোর দুঃশ্চিন্তা ছিলো না। ফলে বাণিজ্যিক দিক বাদ দিয়ে স্পিলবার্গ শিল্পের দিকে অনেক মনোযোগ দিয়েছিলেন।
২. শুরুর এবং শেষের দৃশ্য এবং লাল কোট পরা বালিকা ও মোমবাতি জ্বালানোর দৃশ্যটি ছাড়া বাকী ছবিটি সাদাকালো চিত্রায়িত হয়েছে। তথ্যচিত্রের ধরণকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই ছবির প্রায় পুরোটাই সাদা-কালোতে চিত্রায়ণ করা হয়েছিলো। চিত্রগ্রাহক জানুস কামিন্সকির মতে এতে করে ছবিতে জার্মান এক্সপ্রেসেনিজম এবং ইতালীয় নিউ রিয়ালজমের প্রভাব পাওয়া গিয়েছিলো। তাছাড়া দর্শককে একটা চিরায়ত আবহ দিতেও এ সাদা-কালো চিত্রায়ন জরুরি ছিলো। দর্শক যেন বুঝতে না-পারে এ ছবি কখন চিত্রায়িত হয়েছে সে জন্য সাদা-কালো এবং সামান্য একটু রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোপরি স্পিলবার্গ এই ছবির বিষয়টি রঙের সৌন্দর্যে রাঙিয়ে দিতে চাননি।
৩. জন উইলিয়ামকে এ ছবির সঙ্গীত করতে বলা হলে তিনি স্পিলবার্গকে বলেন, ‘এ ছবির জন্য আমার চেয়ে ভাল কোন সুরকার দরকার।’ জবাবে স্পিলবার্গ বলেছিলেন, ‘আমি জানি। কিন্তু তারা সবাই মারা গেছে।’ উইলিয়াম প্রধান সুরটি পিয়ানোতে বাজিয়েছেন, পরে স্পিলবার্গের পরামর্শে বেহালা বাজানোর জন্য ইতজাক পার্লম্যানকে নেন।
৪. সব মৃত লোকের মাঝখানে ছোট্ট মেয়েটি জীবিত। তাই শুধু মাত্র তাকেই দেখা যায় একটা লাল কোট পরে থাকতে। স্পিলবার্গ অবশ্য এই লাল কোটের বালিকার ধারণাটি মূল উপন্যাসেই পেয়েছেন বলে দাবী করেন।
৫. আমোন গুথের চরিত্রের জন্য টিম রুথকে ভাবা হয়েছিলো। রাল্ফ ফিয়ান্সে ১৩ কেজি ওজন বাড়ানোর জন্য প্রচুর মদ্যপান করেছেন।
৬. মার্টিন স্ক্রুসেস ১৯৮০ সালে এ ছবি পরিচালনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তার ধারণা ছিলো কোন ইহুদি পরিচালকই এ ছবি ভাল করে বানাতে পারবেন।
৭. স্পিলবার্গকে আউসভিজের ভেতরে শ্যূট করার অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি তাই গেটের বাইরেই ঠিক সেই রকম একটি ক্যাম্প তৈরি করে শ্যূট করেছেন।
৮. এ ছবির পরিচালনার জন্য স্পিলবার্গ কোন টাকা নেননি। টাকা দিতে চাইলে তিনি বলেন, এ জন্য টাকা নিলে সে টাকা হবে ‘রক্তাক্ত টাকা’।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।