




গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে বনসাই চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন বনসাই বুঝি আলাদা প্রজাতির কোন গাছ। কিন্তু বনসাই তা নয়। বনসাই অন্য যে কোন গাছের মতো গাছ, পার্থক্য শুধু তার আকৃতি আর বিন্যাসে। অনেকের ধারণা, বনসাই হয়তো প্রকৃতির সঙ্গে নিষ্ঠুরতা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তা নয়, আপনার চারপাশের বিশাল প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বড় কোন গাছেরই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ বনসাই। গাছকে নির্দিষ্ট আকৃতিতে ধরে রাখার জন্য বনসাই শিল্পীকে কিছু কৌশল ব্যবহার করতে হয়। তার মানে এই নয়, বনসাই একটি অসুস্থ বা অপুষ্ট গাছ। বনসাইয়ের প্রথম শর্তই হলো সুস্থ, পরিপূর্ণ একটি গাছ তৈরি করা; তবে তা আকারে ছোট। আর এইটুকু করতে গিয়ে বনসাই শিল্পীকে প্রয়োজন মতো গাছের শেকড় কাটা, ডালপালা ছাটার মতো যেটুকু নিষ্ঠুরতা দেখাতে হয় যে কোন শিল্পকর্মে তার চেয়ে বেশি নিষ্ঠুরতাই রয়েছে।
মানুষের ভিড়ে পৃথিবী থেকে গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই বিবেচনায়, আপনার ঘরে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক একটি নিম গাছ থাকে তাহলে মন্দ কী, হোক না তার আকার একটু ছোটই! ঘরের মধ্যে যদি আমরা মাছ, পাখি, কুকুর, খরগোস পুষতে পারি তাহলে টবের মধ্যে একটা ছোট্ট আমলকি গাছ রাখলে ক্ষতি কী! একবার ভেবে দেখুন, আপনার শোবার ঘরের বিছানার পাশেই টবে ২০ বছরের একটি ছোট্ট করমচা গাছে লাল-সবুজ করমচা ধরেছে! হ্যাঁ, খুব কম জায়গায় আপনার প্রিয় কিছু গাছকে ঠাঁই দিতে পারেন আপনি বনসাইয়ের মাধ্যমে। রূপে-গুণে একেকটা বনসাই হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনযাপনের প্রিয়তম সঙ্গী।
সভ্যতার সহযোগী হিসেবেই মানুষের জীবনে বাড়ছে অস্থিরতা। খুন, ধর্ষন, রাহাজানি, ছিনতাই নানা অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষ। মানবিক আবেগের সুচারু বহিঃপ্রকাশের হার ক্রমশই কমে আসছে। এই নিঠুর-কঠোর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যদি দিনের কয়েক মুহূর্ত গাছ নিয়ে সময় কাটায় তার মানবিক গুণাবলী বাড়বে বৈ কমবে না। এই সব পরিপ্রেক্ষিতে জীবন্ত গাছকে বনসাই শিল্পে রূপদানের প্রয়োজনে গাছের শেকড় কাটা, পাতা কাটা কি খুব নিষ্ঠুর কিছু বলে মনে হচ্ছে? একটি সার্থক বনসাই করতে হলে শিল্পীকে গাছের সঙ্গে দিনের পর দিন অনেক সময় কাটাতে হয়। যে মানুষ দীর্ঘদিন, দীর্ঘসময় গাছের সঙ্গে কাটায় তার পক্ষে কি কোন অপরাধে জড়ানো সম্ভব। একজন শিল্পীর পরিশুদ্ধতায় ঋদ্ধ হতে পারেন বনসাই শিল্পী। তাই বনসাইয়ের নিষ্ঠুরতা নিয়ে কথা না-বলে আসুন আমাদের সামাজিক নিষ্ঠুরতার দূর করি আর বনসাই চর্চার মাধ্যমে কিছু গাছের মাধ্যমে নিজের আয়ুকে বাড়িয়ে তুলি। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বনসাই শিল্পী মরে গেছেন, কিন্তু তাদের করা বনসাই বেঁচে আছে দু-তিনশ বছর ধরে। আর এই বনসাইয়ের মাধ্যমেই তারা বেঁচে আছেন, থাকবেন।
সর্বোপরি জীবহত্যা মহাপাপ বলে মাছ, মাংস না-খেয়ে থাকা যেমন নেহাতই বোকামি তেমনি বনসাইয়ের জন্যে গাছকে কাটা নিষ্ঠুরতা ভাবাও তেমনি বোকামি। কেননা, মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে মাছ মাংস না-খেলেও শাক-সবজি যে খেতেই হয়। আর আজকের যুগে কে না জানেন গাছেরও প্রাণ আছে, অতএব শাক-সবজি খাওয়াও জীব হত্যারই শামিল! তাছাড়া প্রতিমুহূর্তে নিঃশ্বাসের সঙ্গে অসংখ্য ভাইরাস, ব্যকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, শরীর তার নিজেকে সুস্থ রাখার প্রয়োজনে হত্যা করছে। জীবহত্যা মহাপাপীদের বিচারে তাই আমরা সবাই হত্যাকারী। যাক, ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই। শেষ কথা এবং মূল কথা এই যে, বনসাইকে নিষ্ঠুর শিল্পকর্ম বলতে গেলে পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকাটা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে গণ্য হবে।
গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে বনসাই চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন বনসাই বুঝি আলাদা প্রজাতির কোন গাছ। কিন্তু বনসাই তা নয়। বনসাই অন্য যে কোন গাছের মতো গাছ, পার্থক্য শুধু তার আকৃতি আর বিন্যাসে। অনেকের ধারণা, বনসাই হয়তো প্রকৃতির সঙ্গে নিষ্ঠুরতা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তা নয়, আপনার চারপাশের বিশাল প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বড় কোন গাছেরই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ বনসাই। গাছকে নির্দিষ্ট আকৃতিতে ধরে রাখার জন্য বনসাই শিল্পীকে কিছু কৌশল ব্যবহার করতে হয়। তার মানে এই নয়, বনসাই একটি অসুস্থ বা অপুষ্ট গাছ। বনসাইয়ের প্রথম শর্তই হলো সুস্থ, পরিপূর্ণ একটি গাছ তৈরি করা; তবে তা আকারে ছোট। আর এইটুকু করতে গিয়ে বনসাই শিল্পীকে প্রয়োজন মতো গাছের শেকড় কাটা, ডালপালা ছাটার মতো যেটুকু নিষ্ঠুরতা দেখাতে হয় যে কোন শিল্পকর্মে তার চেয়ে বেশি নিষ্ঠুরতাই রয়েছে।
মানুষের ভিড়ে পৃথিবী থেকে গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই বিবেচনায়, আপনার ঘরে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক একটি নিম গাছ থাকে তাহলে মন্দ কী, হোক না তার আকার একটু ছোটই! ঘরের মধ্যে যদি আমরা মাছ, পাখি, কুকুর, খরগোস পুষতে পারি তাহলে টবের মধ্যে একটা ছোট্ট আমলকি গাছ রাখলে ক্ষতি কী! একবার ভেবে দেখুন, আপনার শোবার ঘরের বিছানার পাশেই টবে ২০ বছরের একটি ছোট্ট করমচা গাছে লাল-সবুজ করমচা ধরেছে! হ্যাঁ, খুব কম জায়গায় আপনার প্রিয় কিছু গাছকে ঠাঁই দিতে পারেন আপনি বনসাইয়ের মাধ্যমে। রূপে-গুণে একেকটা বনসাই হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনযাপনের প্রিয়তম সঙ্গী।
সভ্যতার সহযোগী হিসেবেই মানুষের জীবনে বাড়ছে অস্থিরতা। খুন, ধর্ষন, রাহাজানি, ছিনতাই নানা অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষ। মানবিক আবেগের সুচারু বহিঃপ্রকাশের হার ক্রমশই কমে আসছে। এই নিঠুর-কঠোর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যদি দিনের কয়েক মুহূর্ত গাছ নিয়ে সময় কাটায় তার মানবিক গুণাবলী বাড়বে বৈ কমবে না। এই সব পরিপ্রেক্ষিতে জীবন্ত গাছকে বনসাই শিল্পে রূপদানের প্রয়োজনে গাছের শেকড় কাটা, পাতা কাটা কি খুব নিষ্ঠুর কিছু বলে মনে হচ্ছে? একটি সার্থক বনসাই করতে হলে শিল্পীকে গাছের সঙ্গে দিনের পর দিন অনেক সময় কাটাতে হয়। যে মানুষ দীর্ঘদিন, দীর্ঘসময় গাছের সঙ্গে কাটায় তার পক্ষে কি কোন অপরাধে জড়ানো সম্ভব। একজন শিল্পীর পরিশুদ্ধতায় ঋদ্ধ হতে পারেন বনসাই শিল্পী। তাই বনসাইয়ের নিষ্ঠুরতা নিয়ে কথা না-বলে আসুন আমাদের সামাজিক নিষ্ঠুরতার দূর করি আর বনসাই চর্চার মাধ্যমে কিছু গাছের মাধ্যমে নিজের আয়ুকে বাড়িয়ে তুলি। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বনসাই শিল্পী মরে গেছেন, কিন্তু তাদের করা বনসাই বেঁচে আছে দু-তিনশ বছর ধরে। আর এই বনসাইয়ের মাধ্যমেই তারা বেঁচে আছেন, থাকবেন।
সর্বোপরি জীবহত্যা মহাপাপ বলে মাছ, মাংস না-খেয়ে থাকা যেমন নেহাতই বোকামি তেমনি বনসাইয়ের জন্যে গাছকে কাটা নিষ্ঠুরতা ভাবাও তেমনি বোকামি। কেননা, মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে মাছ মাংস না-খেলেও শাক-সবজি যে খেতেই হয়। আর আজকের যুগে কে না জানেন গাছেরও প্রাণ আছে, অতএব শাক-সবজি খাওয়াও জীব হত্যারই শামিল! তাছাড়া প্রতিমুহূর্তে নিঃশ্বাসের সঙ্গে অসংখ্য ভাইরাস, ব্যকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, শরীর তার নিজেকে সুস্থ রাখার প্রয়োজনে হত্যা করছে। জীবহত্যা মহাপাপীদের বিচারে তাই আমরা সবাই হত্যাকারী। যাক, ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই। শেষ কথা এবং মূল কথা এই যে, বনসাইকে নিষ্ঠুর শিল্পকর্ম বলতে গেলে পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকাটা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে গণ্য হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



