somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জনাব বরবটি ওরফে মিস্টার বিন
মিস্টার বিন আধঘন্টার একটি টিভি সিরিজ। ১৪ পর্বের এই ব্রিটিশ কমেডির নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোয়ান এটকিনসন। এর বিভিন্ন পর্বগুলো লিখেছেন রোয়ান এটকিনসন, রবিন ড্রিসকল, রিচার্ড কুর্টিস এবং একটি পর্ব লিখেছেন বেন এলটন। এর প্রথম পর্বটি প্রচারিত হয় ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি আইটিভি-তে এবং শেষ পর্বটি প্রচারিত হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৯৫, হেয়ার বাই মিস্টার বিন অভ লন্ডন নামে। পাঁচ বছরে এই টিভি পর্বসমূহ ব্রিটেন ছাড়াও সারা বিশ্বে অগুণিত দর্শককে মুগ্ধ করে এবং বহু পুরস্কার জিতে নেয়। বিশ্বের প্রায় ২০০ চ্যানেলে এই শো বিক্রি হয়েছে। এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র এবং একটি কার্টুন সিরিজও তৈরি হয়েছে। সু ভার্চু প্রযোজিত, পিটার বেনেট জোনস কার্যনিবাহী প্রযোজক।


বিনের সূচনা
রোয়ান এটকিনসন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালেই এই চরিত্রের সূচনা হয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এমএসসি’র ছাত্র এটকিনসন ১৯৮০-এর দশশতের গোড়ায় সালে এডিনবরা ফ্রিঞ্জে রবার্ট বক্স চরিত্র নিয়ে একটি কমেডি করেন। এই চরিত্র নিয়ে ১৯৭৯ সালে আইটিভি’র সিটকম কেনড লাফ -এ তিনি অভিনয় করেন। রবার্ট বক্স চরিত্র থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে মিস্টার বিনের সৃষ্টি। ১৯৮৭ সালে জাস্ট ফর লাফ নামে কানাডা মন্ট্রিয়ালে এক কমেডি উৎসবে এটকিনসন প্রথম মিস্টার বিন চরিত্রে অভিনয় করেন। এই উৎসবের কোঅর্ডিনেটরদের এটকিনসন জানান, তিনি ইংরেজিভাষী নয়, বরং ফরাসীভাষীদের জন্যে আয়োজিত অংশে অভিনয় করবেন। আয়োজকরা বুঝতে পারেনি একটিও ফরাসী সংলাপ না থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি এই নাট্যাংশ ফরাসীদের মাঝখানে করতে চাচ্ছেন। এটকিনসন আসলে পরীক্ষা করে দেখতে চাইছিলেন, ভিন্নভাষীদের কাছে প্রায় সংলাপহীন তার এই কমেডি কি প্রভাব সৃষ্টি করে।


বিনের বৈশিষ্ট্য

রোয়ান এটকিনসনের মতে মিস্টার বিন হলেন ‘একজন প্রাপ্ত বয়স্কের শরীরে বাস করা একটি শিশু।’ যে কিনা দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। প্রথম অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত এই চরিত্রে নাম মিস্টার বিন হিসাবে চিহ্নিত হয়নি। শুরুতে মিস্টার কুলিফ্লাওয়া (ফুলকপি) ইত্যাদি সবজির নামেও নামকরণের চেষ্টা করা হয়। এটকিনসন প্রথম যুগের ফরাসী কমেডি মঁসিয়ে হুলো দেখেছিলেন। ফরাসী কমেডিয়ান ও পরিচালক জ্যাকুয়াস তাতি’র এই চরিত্র মিস্টার বিন তৈরিতে প্রভাব রেখেছে। অন্যদিকে নির্বাক যুগের একাধিক চলচ্চিত্রের ফিজিক্যাল কমেডির প্রভাবও এর মধ্যে প্রবল। উল্লেখ্য সেই সময়ের ব্রিটিশ টিভি কমেডি শোগুলো মূলত সংলাপ নির্ভর ছিলো। মিস্টার বিন তুলনায় সংলাপ নেই বলেই চলে। এই সংলাপহীনতার কারণেই মিস্টার বিন প্রায় অপরিবর্তিতভাবে বিশ্বের বহুদেশে প্রচারিত হয়েছে নির্বিঘেœ।
মিস্টার বিন চরিত্রগতভাবে শিশুর মতো সরল এবং স্বার্থপর, বুদ্ধিশুদ্ধি কম এই লোকের মধ্যে ভাঁড়ের লক্ষণ আছে। প্রতিদিনের কাজে অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা তার স্বভাবগত। উত্তর লন্ডনের হাইবারি-তে ছোট্ট একটা ফ্লাটে তিনি বসবাস করেন। তাকে প্রায় সদাই উলেনের রুক্ষ¥ জ্যাকেটে দেখা যায় সাথে লাল টাই। একটা ডিজিটাল ক্যালকুলেটর ঘড়ি পরেন তিনি, যেটা কখনোই হারাতে চান না। তিনি খুব কম কথা বলেন, কথা বললেও প্রায় বিড়বিড় করে নিচু কণ্ঠে একটা দুটা সংলাপ দেন। পৃথিবী যেভাবে চলে সেটার ব্যাপারে এই লোকটির যেন কোন ধারণা নেই। একধরণের প্রতিবাদ ওর মধ্যে আছে। টিভি দেখা, সাঁতার কাটা, চার্চে যাওয়ার মতো সরল বিষয়গুলোকে তাই সে ভীষন জটিল করে ফেলে। অবাস্তব সমাধান দিয়ে সবকিছুকে দেখেন তিনি। প্রতি পর্বের শুরুতে তাকে দেখা যায় আকাশ থেকে পরতে। সে যেন ভিন গ্রহের কোন বাসিন্দা। পৃথিবীর জটিলতাগুলি তাকে ছোঁয় না।


তার কোন বন্ধু নেই, আÍীয়স্বজন নেই। একমাত্র টেডি বিয়ারটির সাথেই তার গল্পগুজব। তার সঙ্গে টেডি আচরণে মনে হয় টেডি জীবন্ত। মিস্টার বিন তার টেডিকে সম্মোহন করালে দেখা যায়, সে নিজে টেডিকে হাত দিয়ে ঠেলে ঘুম দিয়ে দিচ্ছে। সকাল বেলা টেডিকে ঘুম থেকে না উঠানো, টেডির জন্য ক্রিসমাস উপহার কেনা সবই টেডিকে প্রাণ দিয়েছে। জরুরি মুহূর্তে টেডি নানা কাজে লাগে, যেমন ব্রাশ হিসাবে কাজে লাগানো। হেয়ার বাই মিস্টার বিন পর্বে দেখি সে একটা পোষা প্রাণীদের শো-তে বিজয়ী হয়।

বিনের গাড়ি

গাড়ির একটা আলাদা ভূমিকা আছে মিস্টার বিন সিরিজে। বিন এখানে ব্রিটিশ লেল্যান্ড মিনি ১০০০ সিরিজের গাড়ি চালান। প্রথম পর্বে তার গাড়িটি ছিলো ১৯৬৯ সালের বিএমসি মিনি এমকে ২-এর একটি কমলা গাড়ি। এই গাড়িটি একটা দূর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেলে তারপর থেকে ১৯৮৫ মডেলের সবুজ গাড়ি যার বনেট কালো ব্যবহার করেন তিনি। এই প্রায় এন্টিক গাড়িতে তিনি চলন্ত অবস্থায় কাপড় বদলান, দাঁত মাজেন, গাড়ির উপরে সোফা বসিয়ে তাতে চড়ে বেড়ান। পার্কি টোল এড়ানোর জন্য এই গাড়ি নিয়ে তিনি নানা কৌশল ব্যবহার করেন। আবার এই গাড়ি দিয়ে প্রায়শই পার্কিংয়ের সময় অন্যের গাড়ি ঠেলে দেন। এই গাড়িটিও যথেষ্ট অদ্ভুত। এই গাড়ির নিরাপত্তার জন্য মিস্টার বিন সাধারণ তালা ব্যবহার করেন। চাবি না নিয়ে তিনি স্টিয়ারিং নিয়ে চলে যান যাতে চোর তার গাড়ি নিতে না-পারে। একটি একটু বলা যেতে পারে ব্যক্তিগতভাবে মিস্টার বিন কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের মালিক এবং তার অন্যতম প্রিয় বিষয় হলো গাড়ি। তার সংগ্রহে বিশ্বের দামী দামী গাড়ি আছে, একাধিক কার রেসে তিনি অংশ নিয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই একজন এক্সপার্ট ড্রাইভার।
বিনের বান্ধবী
দুটা পর্বে আমরা ইরমা গবকে দেখি যে মিস্টার বিনের গার্ল ফ্রেন্ড। মাটিলডা জিগলার অভিনীত এই চরিত্রটিকে দেখে মিস্টার বিন গোজ টু টাউনে অন্য একজনের সাথে ডিস্কোতে নাচতে। আপাতভাবে তার প্রতি মনোযোগ না দিলেও বিন তখন খুব ঈর্ষাকাতর হয়ে উঠেন। মেরি ক্রিসমাস মিস্টার বিন পর্বে দেখি বিন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরমাকে প্রস্তাব দেয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠে না। এবং ইরমা তাকে চিরতরে ছেড়ে চলে যায়। এ ছাড়াও রবিন ড্রিসকল একাধিক পর্বে একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রিচার্ড ব্রায়ার্স, এঙ্গুস ডেইটন, নিক হ্যানকক, পল বন-এর মতো নামজাদা অভিনেতারা মিস্টার বিনের বিভিন্ন পর্বে অভিনয় করেছেন।
বিন কার্টুন
২০০২ সালে মিস্টার বিন এনিমেটেড কার্টুন হিসাবে দেখানো শুরু হয়। ২৬টি পর্বে পরিচালিত এই কার্টুনে কিছু নতুন চরিত্র দেখা যায়, যেমন বিনের বিরক্তিকর বাড়িওয়ালি মিসেস উইকেট এবং তার একচোখ কানা পাজি বিড়াল স্ক্রেপার। রোয়ান এটকিনস স্বয়ং কার্টুন বিনের কণ্ঠ দিয়েছেন। এবং বিনের সব কর্মকাণ্ড মূল পর্বগুলোর প্রতি আনুগত্যশীল।
বিন বই
মিস্টার বিনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি বই প্রকাশ হয়েছে। মিস্টার বিন’স ডায়রি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে আর মিস্টার বিন’স পকেট ডায়রি প্রকাশিথ হয় ১৯৯৪ সালে। এই দুটো বই বিষয়বস্তুর দিক থেকে প্রায় কাছাকাছি, আকার আর প্রকৃতিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দুটো বই-ই আসলে বিনের রেখার ডায়রি, তার হাতের লেখায় ছাপা এই ডায়রিতে মিস্টার কোথায় থাকে, তার বাড়িওয়ালি, বান্ধবী সম্পর্কে কিছু তথ্য রয়েছে। ২০০২ সালে কার্টুন সিরিজের চরিত্র নিয়ে বাচ্চাদের জন্য প্রকাশ করা হয় মিস্টার বিন’স ডায়েরি।
টেলিভিশন
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করেই এটকিনসন ফানি ম্যান নামে একটি শো করেন। এঙ্গাস ডেটনকে নিয়ে তিনি সফরে বেরিয়ে পড়েন। এই শোটি পরে টেলিভিশনের জন্য ধারণ করা হয়। এই শোর সাফল্যের পরেই তিনি আইটিভির জন্য ক্যান্ড লাফটার করেন ১৯৭৯ সালে। এরপর এটকিনসন তার বন্ধু প্রযোজক জন লিয়ডের নট দ্য নাইন ও ক্লক নিউজ এ অভিনয় করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি এ শোর কিছু স্ক্রিপ্টিংও করেন তিনি। এই শোর সাফল্যর পর রিচার্ড কুর্টিসের সঙ্গে মধ্যযুগের প্রেক্ষাপটে দ্য ব্ল্যাক এডার লেখেন। এতে তিনি অভিনয়ও করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল নাগাদ ব্ল্যাক এডারের একাধিক সিক্যুয়াল তৈরি হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29500638 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29500638 2011-12-11 13:03:14
প্রাচ্যনাটের মায়ের মুখ
প্রাচ্যনাট এর ২২তম প্রযোজনা ‌মায়ের মুখ। আর্নল্ড ওয়েস্কারের প্রোট্রেট অব ফোর মাদার নামের নাটকটি অনুবাদ করেছেন মুম রহমান, নির্দেশনা কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন

Mayer Mukh. 22nd Production of Prachyanat. DIrected by Kazi Toufkul Islam, Play : Arnold Weker, Translated by : Moom Rahaman.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29452819 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29452819 2011-09-22 11:33:20
৫০ হাজার টাকা মূল্যের তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার সামু ব্লগে প্রকাশিত আমার গল্প পড়তে চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
Click This Link
Click This Link

উল্লেখ্য এই দুটি গল্পই আমার পুরস্কার প্রাপ্ত পান্ডুলিপিতে ঠাই পেয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29448960 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29448960 2011-09-16 09:36:00
ব্রেখট ও তার এপিক থিয়েটার জেনারেল, মানুষ জীবটি বেশ কাজের
সে উড়তে ওস্তাদ, সে মারতে ওস্তাদ।
কিন্তু তার একটি গলদ :
সে ভাবতেও পারে।[/si

জেনারেল, ব্রেটল্ট ব্রেখট [অনুবাদ : বিষ্ণু দে]



যে জার্মানি থেকে একদা নির্বাসিত হয়েছিলেন ইউজিন ব্রেটল্ট ব্রেখট সেই জার্মানি আজ তাকে নিয়ে মাতামাতি করে। শুধু জার্মানিতেই নয় ১৯৯৮ সালে সারাবিশ্বই ব্রেখটের জš§শতবর্ষ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তার হাওয়া বাংলাদেশেও এসে লাগে। বাংলাদেশে ব্রেখটই একমাত্র বিদেশি নাট্যকার যার নাটক সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হয়েছে।
ইউজিন ব্রেটল্ট ফ্রেডরিক ব্রেখট (১৮৯৮-১৯৫৬) একাধারে কবি, গল্পকার, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা। তবে সব পরিচয় ছাড়িয়ে তার নাট্যকার পরিচিতিই আজ সারা বিশ্বে স্বমহিমায় ভাস্বর। বিশ্বের প্রচলচিত নাট্য ধারার বিরুদ্ধে একাই একটি তীব্র প্রতিবাদের নাম ব্রেটল্ট ব্রেখট। খ্রীস্টপূর্ব এ্যারিস্টটলীয় নাট্যভাবনার বিপরীতে নতুন নাট্যরীতির জনক হিসাবেই শুধু নয়, সারা বিশ্বের শ্রেণী শোষণের বিরুদ্ধে ব্রেখট এক বিপ্লবী নাট্যতাত্ত্বিক। তার প্রণীত ফেরফ্রেমডেন, গ্যাসটুস এবং সর্বোপির এপিক থিয়েটার তত্ত্ব এখন পর্যন্ত নাট্যতত্ত্বে সর্বাধিক আলোচিত মতবাদ। তবে ব্রেখটকে শুধুমাত্র নাট্যকার বা তাত্ত্বিক বললে অন্যায় হবে, কেননা তিনি একজন রাজনীতি সচেতন সমাজকর্মী। তার নাট্যচিন্তা ছিলো তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উৎসারিত। ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, শাসক-শোষিতের দ্বন্দ তার নাটকে সুস্পষ্ট। কখনোবা তিনি মন্দের কাছে ভালোর পরাজয়ও দেখান। কেননা, রোমান্টিক বিপ্লবের চেয়ে তার কাছে বিদ্যমান সত্য শ্রেয়। আর কে না জানে, আজকের সমাজেও প্রায়শই কিংবা বলা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মন্দের কাছে ভাল নিষ্পেশিত, পরাজিত।
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই নাট্যকার জšে§ছেন ১৯৯৮ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি দক্ষিণ জার্মানির আগুস্তবার্গ-এ। বাবা ছিলেন সামান্য ক্যাথলিক দোকানদার। মা ছিলেন গোড়া প্রটেস্টট্যান্ট। তিনি নিজেও দীক্ষিত হয়েছে প্রটেস্টট্যান্ট মতে, মায়ের আদর্শে তিনি ব্যাপটিস্ট হয়েছেন। প্রচলিত বুর্জোয়া শিক্ষা ব্যবস্থাতেই তার বেড়ে ওঠা। চার বছরের প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে পদার্পন করেন কনিগলিচেস রিয়েলজিমনেসিয়ামে। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তার পরবর্তী জীবনের পথটা তৈরি হয়েছিলো। ১৬ বছর বয়সে (১৯১৪) তার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। কবিতা আর নাটক নিয়ে অনুরক্ত হওয়ার আগেই তিনি মেডিকেল সায়েন্সে অধ্যয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মিউনিখের লুডভিগ ম্যাক্সমিলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর ১৯১৮ সালে তিনি যোগ দেন আগুস্তবার্গ মিলিটারি হাসপাতালে। সেখানেই তিনি সরাসরি মুখোমুখি হন মানব যন্ত্রণার।
বেভারিয়ান বিপ্লব চলাকালে তিনি তার প্রথম নাটক বাল লেখেন। এটি হান্স জেস্ট-এর দ্য লোনলি ওয়ান এর ছায়া অবলম্বনে লেখা। ১৯১৯ সাল থেকে তার যাত্রা শুরু হয় কম্যুনিজমের সাথে। বিভিন্ন কারণে এই সময় থেকেই তিনি ক্রমশ পড়ালেখা থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে একদিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ালেখাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে শুরু করেন নাট্য সমালোচনা। এ সময় তিনি বেভারিয়ান লোকজ ধারার সাথে পরিচিত হন এবং নিজের প্রিয় ব্যাঞ্জোটি নিয়ে শুরু করেন বেশ ক’টি ব্যালেড (গীতিনাট্য) রচনা। এ বছরই তার প্রথম ছোট গল্পটি প্রকাশিত হয় এবং মুহূর্তে বার্লিনে তার নাম ছড়িয়ে পরে। পরের বছর ব্রেখট বিয়ে করেন অভিনেত্রী মেরিয়ান জোফকে। সে বছরই তিনি ড্রামস ইন নাইট নাটকের জন্যে ক্লেইস্ট পুরস্কার লাভ করেন। ১৯২৪ সালের বসন্তে ব্রেখট মঞ্চায়ন করেন এডওয়ার্ড দ্য সেকেন্ড। সে বছরের শরতেই চলে আসেন বার্লিনে। বার্লিনে বসবাসের পর থেইে তার নাট্যজীবনের বিকাশ ঘটে প্রবলভাবে। তখনকার বিখ্যাত নাট্য পরিচালক আরউন পিসকাটর তাকে উদ্বুব্ধ করেন এপিক থিয়েটারের কনসেপ্ট নির্মাণে। তাদের দুজনের মেল বন্ধনে থিয়েটার খুঁজে পায় নতুন ভাষা। একই সঙ্গে ব্রেখট বেশ কটি মিউজিকাল প্লে সৃষ্টি করেন। ব্রেখটের শিল্প চেতনার পাশাপাশি আর্থনৈতিক সাফল্যও আসতে থাকে। ১৯২৮ সালে এসে তিনি রচনা করেন তার বিশ্ববিখ্যাত নাটক দ্য থ্রি পেনি অপেরা। জন গে’র বেগার্স অপেরা অবলম্বনে এ নাটকটি রচিত।
১৯৩০ সালে ব্রেখট মঞ্চস্থ করেন তার প্রথম কম্যুনিস্ট নাটক দ্য মেজার্স টেকেন। ১৯৩২ সালে তিনি হান্স ইসরাইলের সাথে নির্মাণ করেন প্রথম চলচ্চিত্র স্কুলে ওয়াম্পে। মুক্তির সাথে সাথেই বিতর্কিত এই চলচ্চিত্রকে জার্মানিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। হিটলারের নাৎসীবাহিনীর উত্থানের সাথে সাথে ব্রেখট আর সব শিল্পী-সাহিত্যিকের মতোই জার্মানি ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি প্যারিসে এসে ঠাঁই নেন। এখানে তার একাধিক নাটক মঞ্চস্থ হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। ১৯৩৫ সালের ৮ জুন হিটলার সরকার তার জার্মান নাগরিকত্ব বাতিল করে। এ বছরই নিউইয়র্কে তার আরেক বিখ্যাত নাটক দ্য মাদার মঞ্চস্থ হয়। ইউরোপের বেশ কটি দেশ ঘুরে তিনি এবার পাড়ি জমান আমেরিকাতে। আমেরিকার নানা শহরে তার একাধিক নাটক পেশাদারীভাবে মঞ্চস্থ হয়। নাট্যকার ও পরিচালক হিসাবে তার সাফল্য বাড়তে থাকে।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। তিনি জার্মানি ফিরে যান। সেখানে আবার নিজের দল করেন। যুদ্ধত্তোর জার্মানীতে ব্রেখটের নাটক সাফল্যের সাথে মঞ্চস্থ হতে থাকে। ১৯৫১ সালে জার্মানীদের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ক্রমশ সারা ইউরোপে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। একাধিক দেশে তার নাটকগুলো মঞ্চস্থ হতে থাকে। সারা বিশ্ব যখন ব্রেখটকে শ্রদ্ধার সাথে বরণ করতে প্রস্তুত তখন ১৯৫৬ সালের ১৪ আগস্ট তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার নাটক যেন আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের অগ্রসর প্রায় প্রতিটি দেশ ও ভাষাতেই ব্রেখটের নাটক মঞ্চস্থ হতে থাকে। আজও পৃথিবীতে তার অনুসারীর কোন অভাব নেই।

জার্মান নাট্যকার হলেও ব্রেখট নাটক লিখেছেন সারা বিশ্বের মানুষের জন্যে। তার নাটকে মানবতা আর বিশ্বভাতৃত্ব’র পাশাপাশি যুদ্ধ আর শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তাই ব্রেখটের জনপ্রিয়তা ও আদর অন্য যে কোন ভিনদেশি নাট্যকারের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের মঞ্চে ব্রেখট চর্চায় পথিকৃত বলা যায় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়কে। আসাদুজ্জামান নূরের অনুবাদ এবং পরিচালনায় ব্রেখটের দেওয়ান গাজীর কিস্সা বাংলাদেশের মঞ্চের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক মঞ্চায়িত নাটক। এই দল থেকেই আবদুস সেলিমের অনুবাদে এবং আতাউর রহমানের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় গ্যালিলিও। এই দুটি নাটকেই নাম চরিত্রে আলী যাকেরের অভিনয় দর্শক মহলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। ১৯৯১ সালে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিট্যুট (আইটিআই) ঢাকায় নাট্য উৎসবের আয়োজন করে। সেখানে এপিক থিয়েটারের অন্যতম চর্চাকারী বিশ্বখ্যাত জার্মান পরিচালক ফ্রিৎজ বেনেভিৎস ব্রেখটের লোক সমান লোক নাটকটি পরিচালনা করেন। শম্ভু মিত্র প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল বহুরূপী দ্য থ্রি পেনি অপেরার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত বাংলা নাট্যরূপ তিন পয়সার পালা মঞ্চায়ন করে। অজিতেশের নান্দীকারও এ নাটকটি মঞ্চে সফলভাবে উপস্থাপন করেছিলো। বাংলাদেশের নাগরিক নাট্যাঙ্গনও একই নাটক জনতার রঙ্গশালা নামে মঞ্চস্থ করে। ব্যতিক্রম নাট্য সম্প্রদায় উপস্থাপন করে বিধি ও ব্যতিক্রম। ঢাকা থিয়েটার চিরকাল স্বদেশিয় নাট্য চর্চা করে গেলেও হুমায়ূন ফরিদীর পরিচালনায় মঞ্চস্থ করে ব্রেখটের আর্তুই উই অবলম্বনে ধূর্ত উই। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের আরেকটি ব্রেখট প্রযোজনা সৎ মানুষের খোঁজে। নাট্যচক্র মঞ্চস্থ করে ককেশিয়ান চক সার্কেল।

ব্রেখটের সব নাটক
১. বাল (১৯১৮)
২. দ্য ওয়েডিং (১৯১৯, দ্য পেটি বুর্জোয়া ওয়েডিং নামে প্রকাশিত হয়েছিলো)
৩. দ্য বেগার অব দ্য ডেড ডগ (১৯১৯)
৪. হি এক্সরসিস আ ডেভিল (১৯১৯)
৫. লাইট ইন ডার্কনেস (১৯১৯)
৬. ড্রামস ইন দ্য নাইট (১৯১৮-২০)
৭. ইন দ্য জাঙ্গল অব দ্য সিটিজ, ইন দ্য সোয়াম্প (১৯২১-২৩)
৮. এওয়ার্ড দ্য সেকেন্ড (১৯২৩-২৪, ক্রিস্টোফার মার্লোর একই শিরোনামের নাটক অবলম্বনে)
৯. আ ম্যান’স আ ম্যান (১৯২৪-২৫)
১০. দ্য এলিফ্যান্ট কাফ (১৯২৪-২৫)
১১. ওয়ারেন হেস্টিংস (১৯২৫, ফুক্ট ভাগনারের সাথে যৌথভাবে লেখা)
১২. দ্য থ্রি পেনি অপেরা (১৯২৮, জন গে’র লেখা ব্যালাড বেগার্স অপেরা অনুসরণে লেখা)
১৩. হ্যাপি এ্যাণ্ড (১৯২৮, মিউজিকাল প্লে)
১৪. লিন্ডবার্গস ফ্লাইট (১৯২৮-২৯, ছোটদের জন্যে)
১৫. রাইজ এণ্ড ফল অব দ্য সিটি অব মেহেগনি (১৯২৮-২৯)
১৬. দ্য ডেডাকটেড প্লে অব বাডেন অন কনসেন্ট (১৯২৮-২৯)
১৭. হি হু সেজ ইয়েস স্কুল অপেরা (১৯২৯-৩০, জাপানি নো নাটক দ্বারা প্রভাবিত)
১৮. সেন্ট জোয়ান অব দ্য স্টকইয়ার্ড (১৯২৯-৩০, জোয়ান অব আর্কের জীবন অবলম্বনে)
১৯. হি হু সে নো (১৯৩০, হি হু সেজ ইয়েসের পূনর্লিখন)
২০. দ্য মেজার্স টেকেন (১৯৩০)
২১. দ্য একসেপশন এণ্ড দ্য রুল (১৯৩০)
২২. দ্য মাদার : দ্য লাইফ অব রেভুলেশনারি প্যালাজিয়া ভ্রাসোভা ফ্রম জার (১৯৩০-৩২, ম্যা´িম গোর্কির মাদার অবলম্বনে)
২৩. দ্য সেভেন ডেডলি সিন (১৯৩৩, ব্যালাড, আনা আনা নামেও পরিচিত)
২৪. দ্য রাউন্ড হেডস এণ্ড পিকহেডস (১৯৩২-৩৪, শেকসপিয়রের মেজার ফর মেজার দ্বারা অনুপ্রাণিত)
২৫. দ্য হোরেসিয়ান এণ্ড দ্য কিউবেসিয়ান (১৯৩৪)
২৬. সেনোরা কারারা’স রাইফেল (১৯৩৭)
২৭. দ্য প্রাইভেট লাইফ অব দ্য থার্ড রাইখ (১৯৩৫-৩৮, হিটলারকে নিয়ে রচিত)
২৮. গ্যালিলিও (১৯৩৮-৩৯, বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-এর জীবন অবলম্বনে রচিত)
২৯. মাদের কারেজ এণ্ড হার চিলড্রেন (১৯৩৯)
৩০. দ্য ট্রায়াল অব লুকুলাস (১৯৩৯, রেডিও নাটক)
৩১. দ্য গুড উইম্যান অব সেৎজুয়ান (১৯৩৮-৪০)
৩২. মি. পুনটিলা এণ্ড হিজ হায়ার্ড ম্যান মাট্টি (১৯৪০-৪১)
৩৩. দ্য রেসিসটিবেল রাইজ অব আরতুর উই (১৯৪১)
৩৪. দ্য ভিশন অব সিমন ম্যাকার (১৯৪১-৪৩)
৩৫. দ্য জিঞ্জার জার (১৯৪৪)
৩৬. দ্য ককেশিয়ান চক সার্কেল (১৯৪৪-৪৫, চীনা নাটক দ্য সার্কেল অব চক অবলম্বনে)
৩৭. দ্য এন্তিগোনে (১৯৪৭, সফোক্লিসের ক্লাসিক নাটক অবলম্বনে)
৩৮. দ্য ডেইজ অব কমিনিউন (১৯৫৭)
৩৯. দ্য প্রাইভেট টিউটর (১৯৫০)
৪০. রিপোর্ট ফর হার্বাস (১৯৫১)
৪১. দ্য ট্রায়াল অব জোয়ান অব আর্ক (১৯৫৬)
৪২. ডন জন (১৯৫২, মলিয়েরের ডন জুয়ান অবলম্বনে)
৪৩. করিওলোনাস (১৯৫২, শেকসপিয়রের ঐতিহাসিক নাটক অবলম্বনে)
৪৪. দ্য কংগ্রেস অব ভিটওয়াসার (১৯৫০-৫৪)
৪৫. ট্রাম্পেট এণ্ড ড্রামস (১৯৫৫)
৪৬. সোয়াইক ইন সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার (১৯৪১-৪৩)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29432448 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29432448 2011-08-15 12:53:39
চলচ্চিত্র : চিত্র বিচিত্র ১ বার্থ অব এ ন্যাশন বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা সফল ও বিতর্কিত ছবি । ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে ‘দ্য ক্ল্যান্স ম্যান’ নামে এ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছিলো। কিন্তু পরে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে এর নামকরণ বদলে যায়। ছবির প্রধাণ কালো চরিত্রে সাদারাই কালো সেজে অভিনয় করেছিলো। সত্যিকারের কালো নিগ্রোরা কেবল অপ্রধাণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলো। ক্যামেনুনের কাজের মেয়ে চরিত্রে একজন সাদা চামড়ার পুরুষ অভিনয় করেছিলো।


ফিল্মবোদ্ধাদের অন্যতম প্রিয় ছবি দ্য ব্যাটলশিপ পটেমকিন। ১৯০৫ সালে রাশিয়ার জারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জাহাজ পটেমকিনের নাবিকরা বিদ্রোহ করেছিলো। এ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এ ছবির বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য হলো ওডেসার সিঁড়িতে গণহত্যা। ওডেসার এই গণহত্যার দৃশ্যটি কাল্পনিক। জারদের বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং ছবিতে নাটকীয়তা সৃষ্টির জন্যই আইজেনেস্টাইন এই দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। অবশ্য এটুকু সত্য যে পটেমকিন বন্দরে পৌঁছানোর পর বিপুল মিছিল হয়েছিলো। দ্য টাইম এবং স্থানীয় ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছিলো ভিড় কমানোর জন্য ফাঁকা গুলি হয়েছিলো, কোন হতাহতর ঘটনা ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে রজার এবার্ট লিখেছেন, ‘‘আসলে সেখানে জারদের দ্বারা কোন গণহত্যা হয়নি, তবু তাতে ওডেসা দৃশ্যের ক্ষমতা কম নয়... এটা আইরনিকাল যে আইজেনস্টাইন দৃশ্যটি এতো স্বার্থকভাবে ধারণ করেছেন যে ওডেসার রক্তপাত সত্যিই ঘটেছিলো বলে আজ অনেকে বিশ্বাস করে।’’ এটি চার্লি চ্যাপলিনের অন্যতম প্রিয় একটি ছবি ছিলো।


দ্য প্যাশন অব জোয়ান অব আর্ক ছবিতে জোয়ানের হাত কেটে যাওয়ার দৃশ্যে একটা সত্যিকার ক্ষত থেকে রক্ত ঝরানো হয়েছিলো। অবশ্য সেটি জোয়ান চরিত্রে অভিনয়কারী ফালকোনেত্তির নয়, অন্য আরেকজনের রক্ত। এ ছবির প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবতা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তাই বাজেটের বিরাট অংশ খরচ হয়েছিলো সেট তৈরিতে। তবে মজার বিষয় হলো নিঁখুত এবং ঐতিহাসিক সত্যতা রক্ষা করে তৈরি এ সেট ছবিতে খুব কমই দেখা গেছে। কারণ পরিচালক ড্রায়ার ছবিতে এই পরিমাণ ক্লোজ আপ ব্যবহার করেছেন যে মূল্যবান সেট প্রায় দেখাই যায় না।


উন চিয়েণ্ট আন্দালিউ ছবির প্রথম দৃশ্যে তরুণের যে চোখটি কাটা হয় তা আসলে একটি বাছুরের চোখ। তীব্র আলোর খেলায় বুনুয়েল গরুর লোমশ মুখকে মানুষের ত্বকের মতো দেখাতে সক্ষম হন। মাত্র ১৬ মিনিটের এই নিরীক্ষামূলক ছবিতে বুনুয়েল এবং দালি প্রচুর অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখিয়েছে। তবু তাদের তৃপ্তি হয়নি। কারণ, বুনুয়েল শেষ দৃশ্যে দেখাতে চেয়েছিলেন একটি মৃত দেহকে পোকা-মাকড় খেয়ে শেষ করছে। বাজেট সংকটের কারণে চিত্রনাট্য থেকে এই দৃশ্যটি বাদ দিতে হয়। এ ছবি মুক্তির দিন দালি ও বুনুয়েল পকেটে পাথর ভর্তি থলে রেখেছিলো আত্ম-রক্ষার জন্য। তাদের ভয় ছিলো স্যুরিয়ালিস্ট এই ছবি দেখে ফরাসী দর্শক ক্ষেেেপ যাবে। কিন্তু দর্শক যখন ছবিটি উপভোগ করতে থাকলো দালি ও বুনুয়েল ভীষণ মর্মাহত হলেন। দালির মতে, এতে করে তাদের বিকালটাই উত্তেজনাহীন হয়ে গেলো। আসলে প্রচলিত ধারার চলচ্চিত্রের সব রীতি আঙ্গিক ভেঙে দর্শককে আঘাত করার জন্যেই এ ছবি বানানো হয়েছিলো। কিন্তু বানানোর পর থেকে আজ পর্যন্ত তথাকথিত অদ্ভুত, আজগুবি, ছোট্ট এই ছবিকে সবাই সাদরেই গ্রহণ করেছে। শুধু তাই নয়, এ ছবির প্রতিটি দৃশ্যে ভিন্নতর ব্যাখ্যা সৃষ্টি হয়েছে।


হলিউডের চিত্র জগতে গন উইথ দ্য উইন্ড ছবিতেই প্রথম নারী চরিত্রকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এই ছবিতে নবাগত ভিভিয়ান লে’র চোখ দিয়ে গৃহযুদ্ধের আগের ও পরের সময়টাকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ভিভিয়ান লে’কে আবিষ্কার করতে দুই বছর ধরে ১৪০০ অভিনেত্রীর অডিশন নিতে হয়েছিলো প্রযোজক-পরিচালকের। জোয়ান ক্রুফোর্ড, বেটি ডেভিস, পলেত্তা গডার্ড, ক্যাথারিন হেপবার্ন, জিন আর্থার, জোয়ান বেনেটের মতো তখনকার উঠতি অভিনেত্রীরা অডিশন থেকে বাদ পড়েন। তবে এতো বাছাই করে যে নায়িকা নেয়া হলোছিলো তার পারশ্রমিক ছিলো অতি অল্প। এ ছবির নায়ক ক্লার্ক গেবলের পারিশ্রমিক যেখানে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছিলো, সেখানে ভিভিয়ানের পারিশ্রমিক ছিলো ২৫ হাজার ডলার মাত্র। বিশাল বাজেটের এই ছবিতে শুধু মাত্র আটলান্টা শহর পুড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ধারণ করতে ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হয়। এই দৃশ্য ধারণের সময় শহরের নাগরিকরা সত্যি সত্যি আগুন লেগেছিলো ভেবে ফায়ার ব্রিগেড ডেকেছিলো। আটলান্টা শহর পুড়ে যাওয়ার এই দৃশ্য ধারণ করতে পুরনো কিছু সেট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এ ছবির একটি সংলাপের জন্য প্রযোজককে ৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিলো। আপত্তিকর আর মূল্যবান এই সংলাপটি হলো ‘ড্যাম’!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29431809 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29431809 2011-08-14 13:43:03
আমার প্রিয় ছবি : ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন
মুক্তিকাল : ২০০০
দৈর্ঘ : ১২০ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : চীন, তাইওয়ান, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : মান্দারিন ও ইংরেজি
পরিচালনা : এঙ লি
প্রযোজনা : লি কং সু, উইলিয়াম কং, এঙ লি
চিত্রনাট্য : দু লু ওয়াং (মূল উপন্যাস), হুই লিঙ ওয়াং, জেমস স্কামুস, কু জাং সাই
অভিনয় : চো ইয়ুন ফাত, মিশেল ইয়ো, ঝ্যাং জিয়ি, চ্যাং চেন
সঙ্গীত : তান দুন
চিত্রগ্রহণ : পিটার পাও
সম্পাদনা : টিম স্কুয়েরেস

কাহিনী সংক্ষেপ : ১৯৩০ সালে ওয়াং দুলু’র লেখা সিরিজ উপন্যাসের চতুর্থ খণ্ড থেকে এ ছবির কাহিনী রূপান্তরিত হয়েছে। কিন যুগের একজন বিখ্যাত যোদ্ধ লি মু বাই। বহুদিন আগে জেড ফক্সের হাতে তারা গুরু মারা যায় এক নারীর হাতে। মু বাই-এর সঙ্গে শো লিয়েনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারা একে অপরকে ভালবাসে, কিন্তু বলে না। মু বাই তার যোদ্ধা জীবনের সমাপ্তি চায়, সে তার বিখ্যাত তরবারিটি শো লিয়েনকে দেয় গ্রিন সাম্রাজ্যের কাছে উপহার হিসাবে পৌঁছে দিতে। স্যার তে’র কাছে এই উপহারটি পৌঁছে দেয়ার পরই তা চুরি হয়ে যায়। এদিকে শো লিয়েনের সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়ে যায় অভিজাত গভর্নর ইউ-এর কন্যা জেন-এর। মু বাই এদিকে স্যার তে’র সঙ্গে দেখা করতে আসে। মু বাই, শো লিয়েন আর স্যার তে’র চাকর বো মিলে আবিষ্কার করে, চোরটি গভর্নর ইউ-এর বাড়ির দিকে গেছে। পরে জানা যায়, জেন কৌতুহলের বশেই এটি চুরি করে।ে সে মু বাইয়ের গুরুর হত্যাকারী জেড ফক্স-এর কাছে যুদ্ধ শিখেছে। জেড ফক্স তাদেরকে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। এক পর্যায়ে মু বাই আবিষ্কার করে যে জেন গোপনে ওয়াদুং স্টাইলে যুদ্ধ করতে শিখেছে। জেড ফক্স তাকে গোপনে এই বিদ্যা শেখার জন্যে তিরস্কার করে। এদিকে লো নামের এক মরুভূমির দস্যু তাকে ভালবাসে এবং জেনের বিয়ে ঠেকাতে চায়। শো লিয়েন আর মু বাই লো-কে সাহায্যর উদ্যোগ নেয়। জেন বিয়ের আসর থেকে পালায়, আবার সে তরবারিটি চুরি করে। মু বাই ও শো লিয়েন তাকে অনুসরণ করে। শো লিয়েন তাকে বলে, তোমার জন্যে উদাং পাহাড়ে লো অপেক্ষা করছে। কিন্তু শো লিয়ানকে আঘাত করে জেন পালিয়ে যায়। মো বাই তাকে অনুসরণ করে। জেন ও মুবাইয়ের যুদ্ধ হয়। মুবাই জেনকে বলে, তার গোষ্ঠীর হলেই সে গ্রীণ ডাইনেস্টির তরবারি পাবে, কিন্তু জেন তাতে অস্বীকৃতি জানায়। মু বাই তরবারিটি পানিতে ফেলে দেয়। জেন পানিতে লাফিয়ে পড়ে। জেড ফক্স তাকে তাড়া করে, তাকে ঘুম পারিয়ে এক গুহায় ফেলে রাখে এবং তরবারিটি নিয়ে যায়। মু বাই এবং শো লিয়ান মিলিত ভাবে হামলা করে। জেড ফক্সকে হত্যা করে মু বাই প্রতিশোধ নেয়। এদিকে মু বাইও আহত হয়। শো লিয়ানের কোলে তাকে ভালবাসার কথা স্বীকার করে মু বাই মারা যায়। গ্রিন ডাইনেস্টি স্যার তে’র কাছে ফেরত আসে। আর জে ফক্স থেকে মুক্ত জেন তার ভালবাসার মানুষ লো’র কাছে ফিরে যায়।

বিশেষত্ব : কিন যুগের চীনের প্রেক্ষাপটে তৈরি ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন আবহমান চীনের এক গল্প। যে গল্পে যা খুশি ঘটতে পারে, এখানে আত্মা উড়ে আসে, দেবতারা মানুষের সমাজে চলে আসে, মানুষ লাফ দিয়ে দালান, গাছ পার হয়ে যায়। জেন যোদ্ধাদের আমরা এখানে দেখি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে, পানিতে ভাসতে পারে, গাছের মগডালে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারে। কর্ম, দুঃখ, ভালবাসা, আশা আর প্রতিশোধের বাধনে জড়িয়ে থাকা এই পৃথিবীর মানুষের এক লৌকিক গল্পের অলৌকিক রূপান্তর এই ছবি। যে কোন দর্শকের জন্যেই এ ছবি দেখা এক নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে। মাত্র ১৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারে তৈরি এই ছবি শুধু মাত্র আমেরিকাতেই ১২৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। আমেরিকার ইতিহাসে এই বিদেশি ছবিটি সর্ব্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবি। শুধু তাই নয়, ৪০টির মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। অস্কারে বিদেশি ছবি হিসাবে সব্বোর্চ্চ ১০টি মনোয়ন পাওয়ার রেকর্ড আছে এ ছবির। সেরা বিদেশি ছবি ছাড়াও সেরা শিল্প নির্দেশনা, সেরা সঙ্গীত ও সেরা চিত্রগ্রহনের জন্যে অস্কার পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। গোল্ডেন গ্লোবে সেরা বিদেশি ছবি ও সেরা পরিচালক, বাফটায় সেরা বিদেশি ছবি, পরিচালক, সঙ্গীত, পোশাক বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। ব্রডকাস্ট ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন এওয়ার্ডেও সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে। শিকাগো ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন এওয়ার্ডে সেরা বিদেশি ছবি ছাড়াও সবচেয়ে প্রতিশ্র“তিশীল অভিনেত্রী, সেরা সঙ্গীত, সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছে। ডিরেক্টর গিল্ড অব আমেরিকায় সেরা পরিচালক, হংকং ফিল্ম এওয়ার্ডে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা পার্শ্ব চরিত্রাভিনেত্রি, সেরা চিত্রগ্রহণ, সেরা এ্যাকশন কোরিওগ্রাফি, সেরা সুর, সঙ্গীত ও শব্দগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। এ ছাড়াও ইন্ডিপ্যান্ডেন্ট স্প্রিট, রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা, নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিকস, টরেন্টো ফিল্ম ক্রিটিকস সহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে এ ছবি। এ ছবি থেকে কমিক বই হয়েছে, এমনকি ভিডিও গেম হয়েছে। রটেন টমেটোতে ৯৭ ভাগ ভাল সমালোচনা হয়েছে এ ছবিকে নিয়ে।
বিশেষ তথ্য :
১. এ ছবির এ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি করেছে ইয়ং উ পিং। তিনি হলিউডে ম্যাট্রিক্সের মতো ছবির এ্যাকশন কোরিওগ্রাফি করেছেন। ছবিতে তিনি উক্সিয়া মার্শাল আর্ট রীতির ব্যবহার করেছেন। এরপরই উক্সিয়া রীতিরে হাউজ অব ফ্লাইং ড্রাগন, হিরো’র মতো ছবি তৈরি হয়।
২. ঝ্যাং জিয়ি এ ছবিগুলোর সুবাদেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়ে যান। পরে তিনি মেমোরিস অব এ গেইশা’তে অভিনয় করেন। তিনি অন্যান্যদের সাথে কয়েকমাস ধরে চীনা ক্যালিগ্রাফি শেখেন। উল্লেখ্য ছবিতে তাকে মার্শাল আর্ট করতে দেখা গেলেও তিনি কখনোই মার্শাল আর্ট শেখেনি, তবে খুব ভাল নাচতে পারেন। তাই মারামারির দৃশ্যগুলোতে তিনি তার নাচের কৌশলই বেশি ব্যবহার করেছেন।
৩. জেট লি’কে এই ছবির লি মু বাই চরিত্রের জন্যে ডাকা হয়, কিন্তু তিনি তখন রোমিও মাস্ট ডাই নিয়ে ব্যস্ত। হংকংয়ের অভিনেতা লিয়ন লাই-ও এ চরিত্র ফিরিয়ে দেয়। পরে চৌ উন ফাতকে নেয়া হয়।
৪. মিশেল ইয়ো মান্দারিন ভাষা বলতে পারেন না। তাকে একজন প্রশিক্ষক দেয়া হয় এবং তার ভাষায় সংলাপগুলো লিখে দেয়া হয়। শুটিংয়ের শুরুতে তার হাটুর পেশী ছিঁড়ে যায়, এ জন্যে আমেরিকা গিয়ে তাকে অপারেশন করাতে হয়। হাঁটু ঠিক না-হওয়া তিনি আমেরিকাতে থেকে এসে মারামারি ছাড়া দৃশ্যগুলো করে যেতেন।
৫. ক্রাইচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন একটি চীনা পুরাণের প্রবাদ। এর দ্বারা বোঝান হয়, তোমার শক্তিকে অন্যের কাছ থেে লুকিয়ে রাখো। ছবির চরিত্রগুলো এ কথাই প্রমাণ করেছে।
৬. একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী এ ছবির সুরকার মাত্র দু’সপ্তাহ পেয়েছিলেন ছবির সুরগুলো করতে।
৭. এটি একমাত্র মার্শাল আর্ট ছবি যা অস্কারে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছিলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29418626 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29418626 2011-07-23 20:38:33
অভিসার : গল্প
A Girl never pursues a man; but then, a mousetrap never pursues a mouse.
- রনি বার্কার (১৯২৯-২০০৫), ব্রিটিশ অভিনেতা, লেখক এবং ব্যবসায়ী

১.
‘পিয়া বাসন্তী রে কাহে তু সাতায়ে আ যা....’ এটা অঞ্জনের বড় প্রিয় গান। এই গানটা যখন সিডিতে বাজে তখন গাড়ির ভেতরটা মুহূর্তে বদলে যায়। এমনিতে অঞ্জনের নতুন কেনা জি করোলার ভেতরে বসে এসি ছাড়লে বাইরের কিছুই টের পাওয়া যায় না। রাস্তায় যতো ট্রাফিক থাকুক, অন্য গাড়ির হৈ হুল্লুড় আর হর্ণের বাহাদূরী থাকুক অঞ্জনের গাড়ির ভেতরে তা পৌঁছায় না। ড্রাইভিংটা সে নিজেই করে। নিজেকে বা গাড়িকে অন্য কারো হাতে দেয়ার পক্ষপাতি সে নয়। আর নিজে যেহেতু ড্রাইভিং করে তাই পুরো ব্যাপারটা সে আয়েশ করেই করার চেষ্টা করে। একমাস আগে নেয়া ২০১০-এর এই মডেলটার মধ্যে সব রকম আয়েশের সুবিধা এমনিতেই ছিলো, পাশাপাশি সিট কভার, পাপোশ, ডিভি প্লেয়ার, বোসের স্পিকার বাড়তি আয়োজন হিসাবে যোগ করে নিয়েছে সে। গাড়ি চালাতে চালাতে গান শোনা তার প্রিয় অভ্যাস। বাইরে যখন প্রবল গরম, ধূলা, ধোঁয়া আর শব্দদূষণ, তার গাড়ির ভেতরে তখন এসির শীতলতা আর সেমিক্লাসিকালের মুগ্ধতা।
এখন এই গানের সাথে সাথে সে হাত রাখে তনিমার হাতে। তনিমা’র শরীর থেকে শ্যানেল ফাইভের ঘ্রাণ এসে তার নাকে লাগে। গিয়ারটা বদল করতে গিয়ে অঞ্জন টের পায় আসলে তনিমার হাত নয়, তার এক হাত স্টিয়ারিংয়ে আরেক হাত গিয়ারে। আর যে ঘ্রাণটা এসে লাগছে তা তার গাড়ির ভেতরের এয়ারফ্রেশনারের। আসলে স্রেফ কল্পনায় সে তনিমার সঙ্গে লংড্রাইভে ভাসছিলো এতোক্ষণ। এবং এখন সে বিশ্বরোডের জ্যামে বন্দী। তবে এই তো আর কয়েক মিনিট, ক্রসিংটা ছাড়লেই অঞ্জনের গাড়ি উড়াল দেবে উত্তরার পথে। ১৩ নম্বর সেক্টরে যাবে সে। সেখানে ৭ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে তার জন্যে অপেক্ষা করছে তনিমা। একা। আরমাত্র ১৫ বিশ মিনিটের মধ্যেই শুরু হবে অঞ্জন-তনিমা’র অভিসার, এক নতুন স্বপ্নের সূচনা। এই কয়েকটা মিনিটকেও এখন অনন্তকাল মনে হয় তার কাছে। সে মোবাইল বের করো।
- কী করছো?
- অপেক্ষা।
-আমিও।
- আসছো না কেন?
- ট্রাফিক জ্যাম।
- কতদূর?
- এই তো বিশ্বরোড পার হবো।
- ঠিকানা মনে আছে তো?
- চেষ্টা করলেও তো ভুলতে পারবো না।
- দারোয়ানকে বলা আছে। গাড়ি সোজা ভেতরে ঢুকিয়ে দিও।
- ঠিক আছে, রাখি, সিগন্যাল ছাড়ছে।
- সাবধানে এসো।
- নো চিন্তা ডিয়ার, আই এম কামিং।
- লাভ ইউ।
- লাভ ইউ টু।
জ্যাম থেকে মুক্তি পাওয়া গেলো। এয়ারপোর্ট রোডে পরেই সে একটানে একশতে স্পিড তুলে দেয়, ক্রমে একশ দশ। গাড়িটা একটুও কাঁপে না, কোন গুঞ্জন নেই গাড়িতে, মনে মনে সে তৃপ্ত হয়। একেবেকে একটার পর একটা গাড়িকে পেছনে ফেলে সে এগিয়ে চলে বিজয়ি ভঙ্গিতে। জসিমউদ্দিন এসে আবার জ্যামে পড়ে। উত্তরার এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কল্যাণে এই জ্যাম। অঞ্জনের মেজাজটাই বিগড়ে যায়। সে গানটা বন্ধ করে। মিররে নিজের চেহারাটা দেখে। ব্যাক ব্রাশ ঠিক আছে, ক্লিন সেভ, জলপাই রঙা পোলো শার্ট, ভালই লাগছে নিজেকে। এখন তনিমার পছন্দ হলেই হয়। সে আবার তনিমাকে ফোন দেয়।
- কী হলো?
- আবার জ্যামে পড়েছি, জসিমউদ্দিনে।
- ওই স্কুলটা ছুটি হয়েছে নিশ্চই।
- হ্যাঁ, রাগ লাগছে।
- রাগ করো না প্লিজ, কয়েক মিনিটেই ছাড়া পেয়ে যাবে।
- তুমি নীল শাড়ি পড়েছো তো?
- আসলেই দেখতে পাবে।
- আসবো কী করে, এতো জ্যাম!
- একটু ধৈর্য ধরো। সবুরে মেওয়া ফলে।
- মেওয়া ফলবে তো?
- এসেই দেখো কী মেওয়া খাওয়াই।
কেমন একটা শিহরণ খেলে যায় অঞ্জনের শরীরে। আরও পনের বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রথম যেদিন নিশাকে চুমু খেয়েছিলো ঠিক এমনই শিহরণ লেগেছিলো। নিশাকে আর বিয়ে করা হয়নি তার। বিয়ে হয়েছিলো সুস্মিতার সাথে। সুস্মিতাকে বিয়ে করা অবশ্যই ভুল হয়েছে তার। এক কথায় সুস্মিতা বড় বেশি পুরুষালি। মেয়েলি কোন আবদার, অভিমান, আহ্লাদি, ন্যাকামি, ঢংÑই নেই তার মধ্যে। নিজেকে সমপর্ণ নয়, প্রকাশেই তার আনন্দ। সারাদিন পর অঞ্জন যখন ঘরে ফেরে তখন স্ত্রী নামের কোন মুখ দরজা খোলে না, কেননা, সুস্মিতা তখনও তার টিভি চ্যানেলে মেকআপ নেয়া নিয়ে ব্যস্ত। আটটার কি নয়টার সংবাদ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। আর ক্লান্ত বিরক্ত অঞ্জন স্রেফ স্বপ্ন দেখে, কেউ একজন একদিন ঘরে ফিরলে এক গ্লাস ঠাণ্ডা লেবুর শরবত হাতে তুলে দেবে, দরজা খুলে দিয়ে শুধু বলবে, ‘এ কি এ তো ঘেশে গেছো তুমি!’ হা, স্বপ্ন!
- কী হলো, চুপ কেন?
- না, ভাবছি।
- গাড়ি চালাতে চালাতে এতো কিছু ভেবো না মিস্টার ভাবুক, পরে না একটা দূর্ঘটনা হয়।
- কী হবে দূর্ঘটনা হলে?
- যাও, যতো সব বাজে কথা! কী ভাবছিলে?
- সুস্মিতার কথা।
- ও।
- রাগ করলে?
- রাগ করবো কেন? বউয়ের কথা তো ভাবতেই পারো। দেখো অঞ্জন, তোমাকে এখনও বলছি, তোমার মধ্যে বিন্দু মাত্র দ্বিধা থাকলেও এসো না। এখই জসিমউদ্দিন রোড থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলো।
- তোমার মধ্যে কোন দ্বিধা নেই?
- না।
- কেন?
- কারণটা তুমি জানো।
- তবু তোমার মুখে শুনতে চাই।
- কারণ আমি তোমাকে ভালবাসি। তাই তোমাকে নিয়ে আমার কোন দ্বিধা নেই।
সত্যিই তো ভালবাসলে আর দ্বিধা কিসের? অঞ্জন একটু লজ্জাই পায়। মেয়ে হয়েও তনিমার মনে কোন দ্বিধা নেই, তবে তার মনে কেন এতো দ্বিধা! সে কি তবে তনিমাকে নিঃস্বার্থ ভালবাসতে পারেনি? কিন্তু ভাল যদি না-ই বাসবে তাহলে কেন এই ছুটে চলা! ক’দিনেরই বা পরিচয় তনিমার সাথে? এখনও মাস পুরা হয়নি ফেসবুকের মাধ্যমে তনিমার সঙ্গে পরিচয়। তারপর মোবাইলে আলাপ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন Ñ কথা আর কথা। এরমধ্যেই তনিমার আদ্যোপান্ত জেনে গেছে অঞ্জন, অঞ্জনের সব কিছুও জানা হয়ে গেছে তনিমার। তনিমার স্বামী থাকে ইতালিতে, সেখানেই তার তিনটা দোকান আছে। তনিমা এখানে উত্তরার ফ্লাটে অসুস্থ শ্বাশুড়িকে নিয়ে পড়ে আছে দু’বছর হলো। স্বামী কোন এক বিচিত্র কারণে তাকে ইতালীতে নিতে চায় না, তনিমা বলে, ‘নিশ্চয় ইতালিতে ওর কেউ আছে, কিংবা কে জানে, সে সব কিছু নয়, বুড়ো মাকে দেখার একটা পারমানেন্ট দাসী পেয়ে ও নিশ্চিন্তে আছে। হয়তো ওর মা’র দেখাশোনার জন্যেই আমাকে বিয়ে করেছে।’ আজ বুড়ি বাসায় নেই, ছোট মেয়ের বাড়িতে গেছে গতকাল রাতে। এই সুযোগেই তাকে বাসায় ডেকেছে তনিমা।
‘ওই প্লাস্টিক বামে যা’- হেলপারের কথায় হুশ ফেরে অঞ্জনের। জ্যাম ছেড়ে দিয়েছে। সে মোবাইলটা রেখে গাড়ি টান দেয়। তিন মিনিটেই রবীন্দ্রস্মরণী পার হয়। রবীন্দ্রস্মরণী থেকে ভেতরে ঢুকে ১৩ নম্বর সেক্টরে চলে আসে, অবলীলায় ৭ নম্বর রোডটাও খুঁজে নেয় সে। রোডের মাথায় জিজ্ঞেস করতেই দোকানদার ‘সোনার হরিণ’ নামের বাড়িটা দেখিয়ে দেয়। গাড়ি গেটে আসতেই অঞ্জনের বুকটা কেমন ধুকপুক করে ওঠে। এখনও কোথায় যেন তার ভেতরে একটা দ্বিধা কাজ করছে। সুস্মিতা যদি জানতে পারে Ñ কেমন এক ভয়ের অনুভূতি তার গলার কাছে আটকে যায়! কিন্তু এই গেট থেকে কি সে ফেরত যাবে? নিজের অজান্তেই সে হর্ন দেয়। গেট খুলে যায়। দারোয়ান কায়দা করে সালাম দেয়। এগিয়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয়।
- স্যার দুইতলায় চইলা যান।
দোতলার প্রতিটি সিঁড়িতে অঞ্জন থেমে থেমে ওঠে। সে জানে, এই সিঁড়ির শেষ মাথাতেই তার জন্যে অপেক্ষা করছে ভিন্ন এক সুখ, অন্য এক জীবন। গাড়ির শব্দেই দরজা খুলে দাঁড়িয়েছিলো তনিমা। সে একটু নার্ভাস হাসি দেয়।
- এসো, ভেতরে এসো।
অঞ্জন শরীরের সবটা ভার সোফায় এলিয়ে দেয়। হঠাৎ করে তার নিজের শরীরটাকে খুব ভারী আর অচেনা মনে হয়। তার ইচ্ছে করছে এক্ষুণি ছুটে গিয়ে তনিমাকে জড়িয়ে ধরে, কিন্তু হারামী দ্বিধাটা তাকে সহজ হতে দেয় না। তনিমা কিন্তু খুব সহজেই পাশে এসে বসে। মুঠোর মধ্যে হাতটা নেয়।
- কী খোকাবাবু, নার্ভাস লাগছে?
- নাহ্!
- এখানে বসবে, না ভেতরে যাবে?
অঞ্জন কিছু বলে না। তনিমাই তাকে ছোট বাচ্চার মতো হাতে ধরে বেডরুমে নিয়ে যায়। চারিদিকে ভারী সোনালী পর্দা, বেডকভারটাও সোনালী। কিন্তু ঘরে কোন আলো জ্বালা নেই। দিনের বেলায়ও একটা আবছায়া ভাব। ঘরটার সাজসজ্জায় আভিজাত্য, জৌলুস আর গাম্ভীর্য এনে দিয়েছে টার্কিশ কার্পেট আর কোণায় রাখা ইতালিয়ান মার্বেলের নগ্ন নারী মূর্তিটি।
- আলো জ্বালবো?
- না, থাক।
- নাও, জুসটুকু খাও।
- কি এটা?
- ব্লাডি মেরি নয়, তরমুজের জুস, খাও শরীরটা ঠাণ্ডা হবে। আরাম করে বিছানায় বসো, আমি আসছি।
- তুমি কোথায় যাচ্ছো?
- আসছি বাবা।
তনিমা বের হয়ে যেতেই অঞ্জন বুঝতে পারে, সে বোকার মতো আচরণ করছে, নিশ্চয়ই তাকে খুব নার্ভাস আর কেলাস দেখাচ্ছে। সে নিজেকে বকা দেয়, এ সব কী হচ্ছে অঞ্জন মিয়া! তুমি তো ইন্টারমিডিয়েটে পড়া কচি খোকা নও, এতো ভয় কিসের! এই হাতের কাছের নারীটি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার হবে। এতে তো তোমার কোন দোষ নেই? তুমি তো তাকে খুঁজে বের করোনি, সে-ই তোমাকে ফেসবুকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো, বলেছিলো, আপনার নামটা সুন্দর? মানে কি এই নামের? তুমি বলেছিলে, ‘অঞ্জন’ মানে কাজল, কালো। আমি তো কালো তাই এমন নাম...
- বাসা চিনতে অসুবিধা হয়নি তো?
- না, একদম না।
তনিমা একদম গা ঘেষে বসে।
-কি?
- সুন্দর! তুমি ছবির চেয়েও সুন্দর!
- সত্যি!
- একদম সত্যি!
তনিমা এবার অঞ্জনের বুকে মুখ ঘষে। হঠাৎ আবেগে তার গলা জড়িয়ে আসে। অঞ্জনকে জড়িয়ে ধরে সে।
- কেন, তোমার সাথে আমার আরো আগে পরিচয় হলো না?
এ প্রশ্নের কোন উত্তর অঞ্জনের কাছে নেই। সে একটু অসহায় বোধ করে। তনিমা তার মাথাটা বুকের মধ্যে টেনে নেয়। তনিমার বুকে কী মিষ্টি ঘ্রাণ! অঞ্জন দিশেহারা হয়ে যায়। সে ক্রমশ তনিমার বুকের ভাঁজে নাক ডুবিয়ে দেয়। গরম নিশ্বাসের হাওয়া লাগে তনিমার বুকে। বিশাল পদ্মকুড়ির মতো বুক জোড়া ফুটে উঠতে থাকে, ঘ্রাণ বিলুতে থাকে। দুঁঠোট দিয়ে তনিমাকে চেপে ধরে অঞ্জন। এক অবারিতে চুম্বনে ছিঁড়ে দিতে চায় সব দ্বিধা। তনিমার জিভের স্বাদ এখন অঞ্জনের ঠোঁটের ভেতরে। দুজোড়া ঠোঁট, হাত, পা আর দুটো শরীর ক্রমশ এক হতে থাকে। একে অপরকে টানতে টানতে, কাছে আসতে আসতে, এক চূড়ান্তবিন্দুতে মিলে যায় তারা। তারা যেন দুটো বাচ্চা, যেন দুটো চিপসের প্যাকেট ছিঁড়ে এক গ্রাসে সবটুকু চিপস খেয়ে নিতে চায় যতো দ্রুত সম্ভব। রাস্তার পাশের গাড়ির হর্ন, পাশের বাড়ির বেড়ালের ডাক, ফেরিঅলার হাক, কিছুই আর তাদের স্পর্শ করে না। তনিমা আর অঞ্জন তখন নিজেদের খুঁড়ে আরও ভেতরে যাওয়ার জন্যে তৈরি।
- বাহ, ভালই তো জইমা উঠিছে অভিসার!
ছিটকে দূরে সরে যায় অঞ্জন।
বিশাল দেহী লোকটা একদম বিছানা ঘেষে দাঁড়ানো। মাথা জুড়ে টাক, লাল গেঞ্জি ফেটে বেরিয়ে আসছে ভূড়িটা। কিছু মানুষ আছে যাদের দেখলেই বোঝা যায় এরা ভাল মানুষ নয়, এ লোকটা তেমনি। কিন্তু তনিমার মধ্যে কোন বিকার নেই। সে ধীরে সুস্থে নীল শাড়ির আচল গুটিয়ে নেয়। ব্লাউজের হুকগুলো একটা একটা করে লাগায়।
অঞ্জনের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দেয়, কোথাও একটা ঝামেলা হয়ে গেছে!
- হোয়াট ইজ দিস, হোয়াটস গোয়িং অন!
- বিপদে পইড়লে খাস বাংলায় বাপ-মারে ডাকা উচিত, ইংরেজি ঝাড়লে কাম হবি না নে।
- তনিমা, এই লোকটা কে? কী হচ্ছে এখানে!
- বসেন অঞ্জন সাহেব, তড়পাইয়েন না। আমি আপনেরে সব ওয়াটারের মতো ক্লিয়ার কইরে বুঝায় দিতেছি। এই যে আমার হাতের ভিডিও ক্যামেরাটা দেখতিছেন এরমইধ্যে আপনেদের এতোক্ষণের সিনেমাটা পুরাপুরি উইঠা গেছে।
- এ সবের মানে কি? জানেন আমি কে?
- জানি, জানি, সব না-জাইনা এইসব কাজ করা যায় না। আপনের চৌদ্দগুষ্ঠির খুঁজ খবর হাতে নিয়াই না আমরা ফিল্ডে নাইমিছি!
- তনিমা, তুমি কিছু বলছো না, তারমানে, এই সবই কি ট্র্যাপ! তনিমা, ইউ ডোন্ট লাভ মি? তুমি আমাকে যা বলেছো...
- তার সবই মিথ্যা। ওর কুন দোষ নাই। ওই হইলো গিয়া স্রেফ একখান টোপ। আপনেরগোর মতো বড় বড় মাছ ধরতে এমন সুন্দর সুন্দর টোপ আমাগো লাগে।
নিজেকে এতোটা বোকা, পরাজিত আর অসহায় কখনোই লাগেনি অঞ্জনের। তার থুতনিটা নত হয়ে গলায় গিয়ে ঠেকে। বিরাট এক দীর্ঘশ্বাস বুক ঠেলে বেরিয়ে আসে।
- কিন্তু তনিমা, তুমি আমাকে বললে আমি এমনিতে যতো টাকা চাও দিতাম, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, ভালবাসতে শুরু করেছিলাম।
তনিমা কোন কথাই বলে না। একটু আগের উষ্ণ তনিমাকে এখন পাশে রাখে মার্বেলের মূর্তিটার মতোই নিথর আর শীতল মনে হয়। এক মহাজাগতিক উদাসীনতায় সে নিজের পায়ের রাঙা নখগুলোতে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে।
- টেকা পয়সা কেমন নিয়া আসছেন সাথে? বড় লুকের বউয়ের সাথে ডেটিং মারতে আসছেন নিশ্চয়ই ভারী হয়া আসছেন।
অঞ্জনের মনে পড়ে তাড়াহুড়া আর উত্তেজনায় তনিমার জন্যে কেনা গুচি’র পারফিউমটা গাড়িতেই রয়ে গেছে। খুব শখ করে কিনেছিলো। কিন্তু এখন আর এ সব ভেবে লাভ কি! সে পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে দেয়।
- এখানে হাজার দশেক আছে। আশা করি ব্যাংকের কার্ড আর কাগজপত্রগুলো ফেরত দেবেন?
- না, কার্ডগুলার সাথে পিন নাম্বারটাও দিয়া দেন, টাকা উঠায়া নিয়া আসি।
অঞ্জন মিইয়ে যায়। এতোটা ভরাডুবি সে কল্পনা করেনি। হঠাৎ দীর্ঘদেহি লোক বর্জ্রপাতের মতো হা হা হেসে ওঠে।
- ডরাইছেন? না, ডরাইয়েন না। নগদ যা আছে, তা-ই নিমু। অইসব ক্রেডিট কার্ড, এটিএম বুথের ঝামেলায় যামু না। আমরা আপনেগোর মতো না, যেইটে সামাল দিতে পারি না সেইটে করি না। তয়, আপনের করোলাটা রাইখা যান।
- জ্বি!
- জ্বি, গাড়িটা আমাগোর কাজে লাগবো।
- দেখুন, আপনার টাকা যা লাগছে আমি দিচ্ছি, আমার এইচএসবিসির একাউন্ট থেকে এখনও লাখ দেড়েক উঠাতে পারবো, গাড়িটা দয়া করে রাখবেন না।
- আপনের পরামর্শ চাইতেছে কোন হালায়?
লোকটার উদ্ধত ভঙ্গি দেখে অঞ্জনের রাগ চড়ে যায়। সেও বেশ চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, গাড়িটা আপনি হজম করতে পারবেন না। আমার সম্বন্ধি পুলিশের এসপি।
কিছু বোঝার আগেই ঠাস করে একটা চড় পড়ে অঞ্জনের গালে।
- শালা, বানচোত, আমারে ফাপড় দেস! তুই চাস তোর এই ভিডিওটা মার্কেটে ছাইড়া দেই নাকি তোর বউ সুস্মিতার কাছে পাঠায়া দেই... আমি কি হজম করতে পারমু তার চিন্তা করিস না, বরং নিজের হজম শক্তি নিয়া ভাব। যা, সোজা বাইর হয়া যা।
অপমানে, যন্ত্রণায়, ঘৃণায় অঞ্জনের চোখে পানি এসে যায়। তনিমার দিকে তাকায় সে। কিন্তু তনিমা যেন পাথরের মূর্তি, কিচ্ছু দেখছে না, কিচ্ছু শুনছে না।
- তনিমা, আমি, আমি চলে যাবো...
- যা না হিরো, আবার নাটক করোস ক্যা! সোজা ভাগ। ও খাড়া, মোবাইলটা দিয়া যা। বাহবা, নকিয়া, এন সিরিজি! বেশ! প্রেমের রাজা পরকিয়া সেটের রাজা নকিয়া, যা ভাগ।
মাথা নিচু করে অঞ্জন বেরিয়ে যেতে নেয়। লোকটা আবার পিছু ডাকে।
- খাড়া, এই নে, দুইশ টাকা রাখ, ট্যাক্সি কইরা বাড়িত যা, তোরা তো আবার ফার্মের মুরগি গাড়ি ছাড়া চলতে পারোস না।

২.
যখন ঘরে ফেরে তখন অঞ্জনের হাত-পা কাঁপছে, রাগে না ভয়ে তা বলা সম্ভব না। পুরোটা রাস্তা সে ভেবেছে, সুস্মিতাকে কি বলবে। মনে মনে একটা গল্পের ছক কেটে ফেলেছে সে। অন্যদিন এ সময় সুস্মিতা বাসায় থাকে না, কিন্তু বাইরে থেকে বেডরুমের আলো দেখেই সে বুঝতে পারে সুস্মিতা বাসায় আছে। কলিং বেল শুনে সেই দরজা খুলে দেয়। তাকে দেখেই সুস্মিতা বুঝেছে কোথাও একটা গণ্ডগোল হয়েছে।
- কী ব্যাপার তোমার মোবাইল কোথায়? এতোবার ফোন দিচ্ছি কোন জবাব নেই! কী হলো কথা বলছো না কেন?
- সুস্মিতা আমাকে ছিনতাইকারী ধরেছিলো।
- কি? কোথায়? কোন জায়গায়? কিভাবে? দাঁড়া, আমি একখুনি ভাইজানকে খবর দিচ্ছি।
- একটু দম নিতে দাও আগে।
- আসো, ভেতরে আসো।
- আমাকে একটু ঠাণ্ডা পানি দাও।
সুস্মিতা ঠাণ্ডা পানি আনতে আনতে অঞ্জন ঠাণ্ডা মাথায় গল্পটা আবার সাজিয়ে নেয়। এখন তাকে খুব নিঁখুত অভিনয় করে যেতে হবে। পানি হাতে দিতে দিতে সুস্মিতা জিজ্ঞেস করে, তোমাকে মারেটারেনি তো?
- না, গাড়িটা নিয়ে গেছে।
- গাড়ি নিয়ে গেছে! কী বলছো তুমি! নতুন কেনা গাড়ি!
- হ্যাঁ। কিচ্ছু করার ছিলো না আমার।
- তুমি কিছু করতেও পারবে না, যা করার আমিই করবো, আগে বলো, কোথায় কিভাবে ঘটনাটা ঘটলো?
- আমি একটু মিরপুরের দিকে গিয়েছিলাম, একটা মিটিং ছিলো। খুব পিপাসা লাগছিলো, একটা ডাব খেলাম। ডাবটা খেয়ে গাড়িতে ওঠার পরই দেখি কেমন যেন লাগছে। পরে বুঝেছি ডাবটায় কিছু একটা মেশানো ছিলো। স্টিয়ারিং হাত রাখতেই পেছন থেকে কেউ একজন পেটের কাছে ছুরি ধরে বললো, কোন আওয়াজ করবেন না, যেভাবে বলছি সেভাবে গাড়ি চালান। পাশের সিটেও একজন ওঠে বসলো।
- কি সর্বনাশ! তারপর?
- তারপর ওদের কথা মতো নানা অলিগলি পেরিয়ে একটা নির্জন পুরনো বাড়ির সামনে এলাম। ওরা আমাকে মানিব্যাগ দিতে বললো। দিলাম। মোবাইল দিতে বললো, দিলাম। তারপর গাড়ি থেকে নেমে যেতে বললো।
- দিনে দুপুরে এমন ঘটনা! এটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেলো! দাঁড়াও এক্ষুণি ভাইজানকে ফোন করছি।
- ওরা কিন্তু থানা-পুলিশ করতে মানা করেছে। বলেছে, প্রয়োজনে আমাকে বাসায় এসে গুলি করবে?
- এতো সোজা! আমি ওদেরকে ধরিয়ে ছাড়বো। ভাইজান আছে কি করতে, ওদেরকে ধরতেই হবে! পুলিশ চাইলে ঠিকই ধরতে পারবে।
এটা অবশ্য অঞ্জন জানে, এদেশে পুলিশ চাইলে সব অপরাধীকেই ধরতে পারে। কিন্তু কাদের ধরবে পুলিশ, অঞ্জন তো স্রেফ একটা গল্প ফেদেছে। এই উল্টোপাল্টা গল্প তাকে বাঁচাবে। নইতে যে তার গোপন অভিসারের কাহিনীও বের হয়ে যাবে। তাই বিকালে সুস্মিতার বড় ভাই এলেও তাকে সব ভুল ইনফরমেশন দিয়েছি অঞ্জন। সে নিশ্চিত যে তার দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে কাউকেই ধরা যাবে না।
বরং ওদেরকে সে নিজেই ধরবে সিদ্ধান্ত নেয়।
পরদিন সকালে অঞ্জন আবার সেই ‘সোনার হরিন’-এ গিয়ে হাজির হয়। কিন্তু আজ গেটে দেখা যায় অন্য দারোয়ান।
- কি চাই?
- এটা তনিমাদের বাসা না?
- জ্বি না, এইটা সোনার হরিন, শুটিং হাউজ।
অঞ্জন ফ্যালফ্যাল করে দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকি। মুহূর্তেই সে বুঝতে পারে, এরা তার ধরাছোঁয়ার অনেক উর্দ্ধে।
-কী অইলো ভাই?
- না, কিছু না। আচ্ছা, কাল কি এখানে কেউ শুটিং করেছে?
- আর কইয়েন না, কালকে ঝিলমিল ভিডিও নামে কারা নাকি ভাড়া নিছিলো, ভাড়ার টাকা না দিয়াই ফুটছে। কেন, আপনে তাগোরে চেনেন?
- না, আমাকে আসলে তনিমা বলে একজন কাল আসতে বলেছিলো আমি আসতে পারিনি, তাই ভাবলাম আজ কথা বলে যাই।
- ম্যানেজারের সাথে কথা কইবেন?
- না।
দারোয়ানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অঞ্জন ফিরে যায়। ফেরার পথে বারবার মার্বেলের নারী মূর্তিটার কথা মনে পড়ে তার। কে জানে কোথায় যেন ঐ মূর্তিটার সাথে তনিমার একটা মিল আছে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29410941 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29410941 2011-07-11 11:14:23
সর্বংসহা


Social science affirms that a woman's place in society marks the level of civilization.
- Elizabeth Cady Stanton


ভুলুর একটু ঝিমুনি এসেছিলো। বাসী ভাত খেলেই অমন হয়। এমন সময় দরজা খুলে গেলো। চতুর্থ খদ্দেরটি বেরিয়ে গেলো। ভুলু একবার লেজ নেড়ে চেনা খদ্দরকে তার শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলো। নুরানী তখনও ব্লাউজের বোতাম লাগাতে পারেনি। ভুলু ছুটে এলো। সোজা নুরানীর গাল চাটতে লাগলো।
Ñ আরে রাখ, রাখ, তোরও দেখি কেবল খাই খাই। ছিঃ, চেটেপুটে ভিজিয়ে দিয়েছিস একদম।
প্রিয় নুরানীর আল্লাদী ধমকে ভালই লাগে ভুলুর। এ পাড়ায় তখন সবে এসেছিলো নুরানী, তখনও তার নাম নুরানী হয়নি। প্রতিদিন তার উপর চলতো অকথ্য সব নির্যাতন। কোত্থেকে তখন কে জানে দরজা খোলা পেয়েই রাস্তার কুকুর ছানাটি সোজা নুরানীর বুকে এসেছিলো। নুরানী তাকে নিজের ভাগের পাউরুটি খেতে দিয়েছিলো। সেই রাস্তার ভুলু আজ নুরানীর অন্যতম রক্ষক। গেটে তার পাহারা সদা জাগ্রত। বাধা খদ্দের ছাড়া অন্য কারও আওয়াজ পেলেই ঘেউ ঘেউ করে ওঠে ভুলু। ভুলু জানে, নিজের স্বামী রুবেলের চেয়ে বেশি তাকে ভরসা করে নুরানী। রুবেলের মতো ভুলুকে শস্তায় কেনা যায় না, কিংবা হয়তো কেনাই যায় না মোটেও।
নুরানী তথাকথিত স্বামী রুবেলকে এক বোতল না, আধা বোতল মদ দিয়েই কেনা যায় যখন তখন। দিনের মধ্যে ১৮ ঘন্টাই সে থাকে মদের ঘোরে, বাকী ৬ ঘন্টা ঘুমায়। তবে মানুষ হলেও রুবেলের ঘ্রাণ শক্তি ভুলুর মতোই তীব্র। ঘরে কোন খদ্দের মদের বোতল খুললে সে দরজার বাইরে থেকে স্রেফ ঘ্রাণ নিয়ে বলে দিতে পারে জিনিসটা জরিনা না চোলাই। আর হিসাবে খুব কড়া রুবেল। ভুলু বসে থাকে দরজার সামনেই। আর রুবেল বসে থাকে রাস্তার উল্টোপাশে। সেখান থেকেই সে সজাগ দৃষ্টি রাখে নুরানীর দিকে। যতোই মাল খেয়ে টাল হয়ে থাকুক, ঠিকই হিসাব রাখে দিনে কয়টা খদ্দের এলো গেলো এ ঘরে।
ভুলুর আল্লাদ শেষ না হতেই ঘরে ঢোকে রুবেল। ভুলু ঘেও ঘেও করে ওঠে। রুবেল ক্রুব্ধ দৃষ্টিতে তাকায়। সে কিছুতেই ভুলুকে সইতে পারে না। ভুলু সেই ছোট্টবেলা থেকেই রুবেলের অনেক লাথি খেয়েছে এবং মুখ বুজে হজম করে গেছে। সে বোঝে তার প্রিয় নুরানী কোন এক বিচিত্র কারণেই এই বদখদ লোকটাকে পোষে। অবশ্যই প্রয়োজনে রুবেলের গলার তারগুলো ছিঁড়ে দিতে ভুলুর বাঁধবে না। কিন্তু নুরানীর স্বামী বলেই হয়তো এখনও ভুলু সংযম দেখিয়ে যাচ্ছে। নইলে...
রুবেল ঘরে ঢুকেই নুরানীকে জেরা করে।
-কতো টাকা হলো?
- তাতে তোর কী এলো গেলো! আবার শুদ্ধ ভাষা মারাচ্ছিস!
মনে মনে ভুলু বলে, বা, বেশ! নুরানীর এই সাহসটা তার বরাবরই ভাল লাগে। নুরানী জানে কখন শান্ত স্রোতে কথা বলতে হবে আর কখনই বা উদ্দাম ঢেউয়ের মতো কথার থাপ্পড় ঝেড়ে দিতে হবে। কিন্তু নুরানীর এই ঝাঁজটা ভাল লাগে না রুবেলের। সে টাল সামলাতে সামলাতে বলে, না, না, নুরানী সোনা, না, তুই তোকারি করে না। আগেও মানা করেছি সোনা, এবার কথা না-শুনলে মেরে থোতা মুখ ভোতা করে দেবো।
শেষের বাক্যটার মধ্যে সাপের হিসহিসানি ছিলো। নুরানী চোখের কোনা দিয়ে দেখে নেয়, ভুলু আছে কিনা কাছে। আছে, প্রিয় ভুলু বিছানার পাশেই আছে। অতএব নুরানী নির্ভীক। কিন্ত এই সময়ই বাইরে আওয়াজ শোনা যায়।
- আবার কী হলো!
- কে জানে, কোন ইসের ছেলে, কী ঘোট পাকাচ্ছে, দাঁড়া দেখি...
- থাক, তোমার আর দেখা লাগবে না, এসো, রাত অনেক হলো শুয়ে পড়া যাক।
- আজ মনে হচ্ছে তোর কাছে শুতে দিবি...
- ওরে আমার নাগর, একটু আগে না বললি, তুই তোকারি তোর পছন্দ না।
স্রোতের এই রূপটায় মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ভুলুর। ঘেন্না লাগে তার, রুবেলকে নুরানীর পাশে শুতে দেখলেই ঘেন্না লাগে ভুলুর। বিরক্ত হয়ে সে বেরিয়ে যায়। আর ঠিক তখনই দরজার একটা লম্বা ছায়া দেখা যায়। দরজাটা লাগাতে ভুলে গেছে রুবেল। দরজায় চেনা গন্ধ দেখে মনে মনে খুশিই হয় ভুলু। অন্তত আজ তার প্রিয় নুরানীকে রুবেলের সাথে রাত কাটাতে হবে না।
এদিকে মুহূর্তে মদ আর মিলনের ঘোর কেটে যায় রুবেলের মগজ থেকে।
- শালা, কোন...
একটা গালি দিয়ে সে দরজার দিকে আগায়। যতো জোরে আর যতো রাগে সে এগিয়েছিলো তার চেয়ে দ্রুত আর তার চেয়েও নরম হয়ে সে দাঁত বের করে হাসতে থাকে।
- আরে মুরুব্বি যে, আসেন, আসেন, আপনে এতো রাইতে...
ফিরোজকে মুরুব্বি বলেই ডাকে রুবেল। এমন নয় যে, বয়সে ফিরোজ তার বড়, বরং দুয়েক বছরের ছোট তো হবেই, এটা বরং সম্মানের ডাক। এই অঞ্চলের সবাই অবশ্য ফিরোজকে ফূর্তি ফিরোজ বলে ডাকে। সবাই জানে, ফিরোজ যেখানেই যাক সেখানেই, গান বাজনা, মদ, মেয়ের জম জমাট আসর বসে। তার জীবনে আনন্দ ফূর্তির কোন শেষ নাই। এমনকি দুর্মুখেরা বলে, ফিরোজ নাকি কাউকে গুলি করার সময়ও মুচকি মুচকি হাসে। ফিরোজের ডান হাত ব্যাইক্কা-বাবু বলে, মানুষ এমুনভাবে চলে যে, তাগোর ভাবে চক্করে মুনে অয়, তারা অমর, মাইনে কুনদিন মরবো না! কিন্তুক আমার ওস্তাদের সামনে পরলে সক্কলেই সিধা আজরাঈলের হাত পা-ও দেখতে পায়। তাই আমার ওস্তাদে মুচকি মুচকি হাইসা মনে করায়া দেয়, দেখ, তোরেও মরতে অইবো অখন।
- রুবেল ভালো আছো?
- জ্বি মুরুব্বি, আপনের দোয়া, যান, ডাইরেক্ট ভেতরে যান।
ফিরোজ বাম হাত দিয়ে ভুলুর মাথায়ও একটু আদর করে দেয়। ভুলু খুশি, সে জানে আজ তার খাবারে নির্ঘাত একটা পাউরুটি জুটবে। পাউরুটি তার খুবই প্রিয়। ভুলু লেজ নাড়তে থাকে, কিন্তু রুবেলের ভেতরটায় একটা কষ্টের কুমির কামড়ায়। সে বড়ো আশা করেছিলো, আজ নুরানীর পাশে শোবে। সারাদিন যতোই খদ্দের সামাল দিক রাতের বিছানায় সে নুরানীর স্বামী। দিনের খাটাখাটুনির শেষে রুবেলের গায়ের উপরই হাত-পা তুলে দিয়ে নুরানী ঘুমায়। তখন মাঝে মাঝেই সে ভাবে, নুরানীকে নিয়ে একদিন কোথাও চলে যাবে। দুজনে অন্য কোন জীবন খুঁজে নেবে। যদিও এসব ভাবনা সূর্যের আলোতে ঝলসে যায় তবুও রাতের দূর্লভ নির্জনতায় রুবেলের মনে হয়, আহা, নুরানী যদি দিনে-রাতে শুধুই তার হতো!
ফিরোজের গলার স্বর অথবা ভুলুর ডাকেই ভেতরের ঘর থেকে আচল সামলাতে সামলাতে নুরানী বেরিয়ে আসে।
- ফিরোজ ভাই, আপনে!
- কেমন আছো রানী?
- যান, আপনে ভেতরে বসেন। এই তুমি একটু শোনো।
ফিরোজ ভেতরের ঘরে যায়, আর নুরানী রুবেলকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে বলে, তুমি একটু বাইরে যাও না, রাগ করবা? বুঝতেই তো পারতেছো...
রুবেল সবই বোঝে। এ পাড়াতেই তার জš§। তবু ফিরোজের মুখে ‘রানী’ ডাকটা তার কাছে চিরতার রস মনে হয়। আর রুবেলের তিতা মুখ দেখতে ভুলুর বড়ই আরাম লাগে। নুরানী কয়েক ঘণ্টার জন্যে টাকা দিয়ে যারই হোক না কেন তাতে তার কোন কষ্ট নাই, কিন্তু রুবেল চিরতরে নুরানীকে আগলে রাখবে এটা ভাবলেই ভুলুর পেটের মধ্যে রাগ খলবল করে।
- এই টাকা কয়টা রাখো। যাও, সোনা, লক্ষ¥ী আমার!
পাঁচশ টাকার একটা কড়কড়া নোট রুবেলের হাতে গুজে দেয় নুরানী। রুবেলের মনটা মুহূর্তেই নতুন নোটের গন্ধে নেচে ওঠে। জরিনার বোতল তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। গুটি গুটি পায়ে বেরিয়ে যায় সে।
- ভুলু গেলাম, খেয়াল রাখিস, বলেই রুবেল চকিতে বেরিয়ে যায়।
- এহ্, আমারে কওয়া লাগবো, জীবন ভর নুরানীর খেয়াল তো আমি রাখুম, তোরা তো সব বেজন্মর বাচ্চা। দায়-দায়িত্ব তো আমার কাঁধেই, মনে মনে বলে ভুলু।
ভাগ্যিস ভুলুর মনের কথা বুঝতে পারে না কেউ। না, নুরানী অবশ্য তাকে বোঝে। ভুলুর মাথায় হাত বুলিয়ে নুরানী বলে, যাও, ভুলু সোনা, দরজার সামনে যাও।
দীর্ঘশ্বাস দিয়ে ভুলু বেরিয়ে যায়। একাগ্র হয়ে দরজায় বসে থাকে। কিন্তু নুরানী দরজা লাগালেও ভুলুর নাক-কান রয়ে যায় ঘরের ভেতরেই। সে ভেতরের প্রতিটি কথা শুনতে পায়, বুঝতে পায়।
যেমন ভুলু বুঝতে পারে এখন, ভেতরের ঘরে ফিরোজ শার্ট খুলে ফেলেছে। তার ঘামে ভেজা গেঞ্জি থেকে কড়া গন্ধ আসে।
- এই শীতে এতো ঘামছেন যে ভাই!
- তুমি আমার কোন মায়ের পেটের বোন, এতো ভাই ভাই করো ক্যান!
নিজের ইয়ার্কিতে নিজেই ছাদ ফাটিয়ে হাসতে থাকে ফিরোজ। রাতের নির্জনতা চিরে সে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। দরজার ওপারে ভুলু চমকে ওঠে ঘেউ ঘেউ করে জানিয়ে দেয়, আস্তে, হাসিহাসি আস্তে!
- তোমার এই কুত্তাটারে একদিন গুলি কইরা মারা দরকার, খামাখাই ঘেউ ঘেউ করে। কবেই যে গুলি করতাম, কেবল কুত্তা মাইরা পিস্তল কালা করতে চাই না বইলাই করি না।
আবার নিজের ইয়ার্কিতে বেমক্কা হাসতে থাকে ফূর্তিবাজ ফিরোজ। ভুলুও ঘেউ ঘেউ করে জানিয়ে দেয়, সুযোগ পেলে সে-ও কাউকে ছেড়ে কথা কইবে না।
- তোমার কুত্তাটা তোমারে বহুত মহব্বত করে আর আমাগোরে সতীন মনে করে।
বলেই ফিরোজ আবার হাসতে থাকে। নুরানী সে হাসিতে তাল দেয়। খদ্দেরের হাসি-কান্নায় তাকে ঠুকতে হয়। এই তো নিয়ম।
- কী গো রানী, দূরে দূরেই থাকবা, নাকি দাওয়াত দিয়া কাছে আনতে হইবো। শোনো, সারা শরীরে জব্বর ব্যাথা। সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেবে কোথা...
আবার এক পশলা হাসে ফিরোজ। নির্ঘাত আজ রাতে তার মাথায় খুন সওয়ার হয়েছে, নইলে কথায় কথায় এতো হাসির বন্যা ছুটতো না, ভাবে ভুলু। ভুলুর কেবলই মনে হয় কী যেন ঘটবে আজ, বাতাসে কেমন অচেনা গন্ধ! সে শুনতে পায় ফিরোজ বলছে, বুঝলা রানী, শরীরটায় বিষ-ব্যথা। ম্যাসেজ-ম্যুসেজ পারোনি, ব্যাঙ্ককের মাইয়াগুলা কি যে ভাল পারে এই সব কাজ। না, না, তুমি আবার গোস্যা কইরো না যেন, তুমি কী তাদের চেয়ে কম।
- তাই...
বিছানার পাশে বসতে বসতেই ফিরোজের পা-টাকে কোলে টেনে নেয় নুরানী। দু’হাতের তালু আর আঙুলে যতোটা কুলায় ততোটা আদর আর মোচড় দিতে থাকে নুরানী। আরামে ফিরোজের চোখ বুজে যায়। আদুরে গলায় সে বলে, লাইট নিভিয়ে দেও। এ সব মুহূর্তে আলো ভালো লাগে না তার।
আলো নিভে যায়। কিন্তু ভুলুর জন্যে আলো-অন্ধকার সমান। সে নাক-কান দিয়েই দুনিয়া দেখতে পায়। সে অনুভব করে, ভেতরে আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে আদম-হাওয়ার জাত। অন্ধকার আর নির্জনতায় কেবল কিছু অগ্রন্থিত ধ্বণির পদচারণা চলতে থাকে। পরিযায়ী পাখির মতো সময় ভাসতে থাকে। দরজার বাইরে কেবল ভুলুর গোঙানি বাড়ে। ঘরের ভেতরের হুটোপুটিও একদা শেষ হয়। শিশুর মতো নুরানীর বুকে মুখ লেপ্টে রাখে ফিরোজ। পেশাদার আদরের শেষে এখন সে ক্লান্ত আর ঘুম কাতর।
আর তখনই ভুলু দেখে, এগিয়ে আসছে সবুর দারোগা। এতো রাতে এই ব্যাটা এইখানে কী চায়! সে তো সচারাচর আসে না এখানে। ভুলু ঘেও ঘেও করে নুরানীকে সতর্ক করে দেয়। সবুর দারোগা কষে একটা লাথি দেয় ভুলুকে। ভুলু সে লাথি হজম করে। সে দেখেছে পুলিশের লাথি এখানকার সবাই হজম করে নেয়।
ভুলুর আওয়াজে নুরানী ঠিকই বুঝতে পারে বাইরে কিছু ঘটছে। ততোক্ষণে ফিরোজও বোঝে কেউ একজন দরজা ঠুকছে।
- রুবেল?
- না, তার তো এখন আসার কথা না! পুরা পাঁচশ টাকা দিছি।
- তাইলে?
বলেই বালিশের পাশে রাখা কালো যন্ত্রটা তুলে নেয় ফিরোজ।
- আহা, ওইটা রাখেন। আমি দেখি কে? এক কাজ করেন, আপনে বাথরুমে ঢোকেন।
ফিরোজ বাধ্য ছেলের মতো আদেশ মেনে নেয়। মেঝেতে থেকে শার্টটা তুলে সে বাথরুমে ঢুকে যায়। দরজায় অস্থির কড়া নাড়া বাড়ে। না, কড়া নাড়া নয়, কে যেন লাঠি দিয়ে দরজা পেটাচ্ছে।
- কেডা?
- খোলো, আমি সবুর।
অতএব দরজা খুলতে বাধ্য হয় নুরানী। সবুর দারোগার পেছন থেকেই উঁকি দিচ্ছে ভুলু। সে কেমন অস্থির পাক খায়। নুরানী কোন একটা ঝামেলার গন্ধ পায়।
- এতো রাইতেও খদ্দের আছে নাকি ঘরে।
- না, জ্বি না। আপনে, এমুন সময়?
- ঘরে ঢুকতে দিবা, নাকি দরজা থাইকাই বিদায় জানাবা?
- না, না, আসেন ভেতরে আসেন।
বাধ্য হয়ে সবুরকে ভেতরে ডাকে নুরানী। সবুর দারোগা সচারাচর আসে না এদিকে। মাসে দুমাসে একদিন, কখনো তা-ও না। বখরা চলে যায় নিয়মিতই। আসার দরকার তেমন পড়ে না, স্রেফ হঠাৎ ঘরের বউকে পানসে মনে হলে নুরানীর কাছে সে চলে আসে। আর কারো কাছে যায় না, শুধু নুরানীর কাছেই আসে।
- বুঝলা, আইজ এক হারামজাদা বহুত ভুগাইছে। একটুর জন্যে ধরতে পারি নাই।
বিরক্ত সবুর নিজেকে বিছানায় ছুড়ে দেয়।
-বাত্তি জ্বালাও, তোমারে একটু দেখি। বহুত দিন তোমারে দেখি না।
আচমকা আলোতে নুরানীর চোখ পিটপিট করে। বিছানার চাদরে তখনও বলিরেখা ফুটে আছে।
- কি, ঘরে কেউ আছিলো নাকি?
- না, না, কেউ না।
- রুবেল মিয়া কই?
একটা প্রশ্নেই নুরানী বুঝে যায় তাকে কী করতে হবে। কিন্তু নিজেকে স্থির রাখে সে। স্রেফ ভুলুর সঙ্গে একটা চোখাচোখি হয়।
- আপনে কি জেরা করতে আইছেন?
- ওই দেখো, জেরা করবো ক্যান? জানতে চাইলাম আর কি? ক্যান আইছি সেইটা তো বুঝতেই পারছো? নাকি পারো নাই।
- পারছি। কিছু মনে না করলে আপনে একটু ওই ঘরে বইতেন, আমি একটু গুছায়া লইতাম।
- বা, বা, স্পেশাল কিছু করবা মনে হয়। ভেরি গুড।
- জ্বি!
- না, আমি বসতেছি ওই ঘরে, তুমি বরং নিজেরে গুছায়া মুছায়া লও।
সবুর দারোগার মনে আনন্দই লাগে। নুরানীর আলাদা একটা রুচি আছে। এই কারণেই সে তার কাছে আসে। সারাদিন আজ যে অবর্ণনীয় খাটুনি গেছে তা মেটাতেই এখানে আসা। এখন শুধু তার আগমনেই নুরানী নিজেকে সাজাবে-গোছাবে ভাবতেই তার ভাল লাগে। আয়েশ করে সে একটা সিগারেট ধরায়। ধোঁয়াগুলো পাক খেয়ে খেয়ে এলেমেলো ঘুরতে থাকে। সিগারেটের ধোঁয়া দেখার মধ্যেও বুঝি একটা নেশা আছে। নিজের ফুঁকে দেয়া ধোঁয়াগুলো নিবিষ্ট মনে দেখতে থাকে সে।
গুটি গুটি পায়ে ভুলু এগিয়ে আসে সবুর দারোগার কাছাকাছি।
- কি রে আরেকটা লাত্থি খাবি?
- ঘেউ ঘেউ!
অকস্মাৎ কিছু বোঝার আগেই কে যেন লাফ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ভেতরের ঘর থেকে বের হয়েই সোজা বাইরের দরজায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইরে থেকে ঠাস করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় বেরিয়ে যাওয়া লোকটা। ঘটনার আকস্মিকতায় বিমুঢ় হয়ে যায় সবুর। কয়েক সেকেণ্ড পরেই তার মাথায় ম্যাজিকের মতো একটা নাম চলে আসে। সে একাই বিস্মিত হয়ে বলে, ফিরোজ!
আর তখনই দরজার বাইরে থেকে ফিরোজ কথা বলে ওঠে Ñ সবুর ভাই, আসি, দোয়া রাখবেন। নিজের বিখ্যাত আকাশ ফাটানো হাসি দিয়ে সে মিলিয়ে যায়। সবুর আক্রোশে ভেতর থেকে দরজায় লাথি দিতে থাকে। দরজা ককিয়ে ওঠে কিন্তু খোলে না, ভেতরে ভুলু ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। রাগের মাথায় ভুলুকে আরেকটা লাথি দেয় সবুর।
- খামাখা ওরে লাইত্থাইতাছেন ক্যা!
- ফিরোজ হারামজাদা তোমার এইখানে লুকাই ছিলো? তুমি তারে ঠাঁই দিছো।
- আমি তো সবাইরেই ঠাঁই দেই। আসেন ভেতরে আসেন। আমি রেডি।
- ভেতরে, তোমারে আমি চৌদ্দ শিকের ভেতরে নিয়া যামু। আমার সাথে চিটিংবাজি, তোমার এতো সাহস।
- হুদাই রাগ দেখায়েন না স্যার। আমরা তো কাউরে ফিরায়ে দেই না, আপনে আসলেও হ্যাঁ, উনি আসলেও হ্যাঁ। সবাই আমাগোর ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে।
- অই, আমি আর ওই এক হইলাম। একটা গুন্ডা-বদমাইশ আর পুলিশ এক হইলো। এক্ষন দরজা খোলার ব্যবস্থা কর, নইলে, বাইড়াইয়া সব ভাইঙ্গা ফালামু। - আর কতো ভাঙবেন, নদীর দুইপারের মতো ভাঙতে ভাঙতেই তো এইহানে আসা। যার ইচ্ছা বদনা ভইরা হাগার পানি নেয়, যার ইচ্ছা ওজুর পানি নেয়। আমারে কি ভাঙনের ডর দেহান স্যার।
- জ্ঞান কপচাও। এমুন শিক্ষা দিমু...
ব্যাস, সবুরের আস্ফালন অনেকক্ষন সহ্য করেছে নুরানী। ভুলুকে লাথি দেয়াতে তার মেজাজও খারাপ হয়ে গেছে। অতএব বেশ চিবিয়ে চিবিয়ে সে বলে, স্যার, হুদাই চিল্লায়েন না। আমাগোর হারানোর কিছু নাই। আপনেগো লুকাইয়া-চুরাইয়া যেটুক মান সম্মান আছে সেইটুকু খোয়াইয়েন না। চিল্লা ফাল্লা করলে জানাজানি হইবো, আপনে আমার এইখানে আসছিলেন। গুস্বা থু দিয়া ফালান। আসেন আমার কাছে। আপনেগোর চুর পুলিশ খেলা আমার ঘরের বাইরে কইরেন। যেই কামে আসছেন সেইটা করেন বরং।
নুরানী এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে দম নেয়। সবুর ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকে। কী করবে মুহূর্তখানেক বুঝতে পারে না। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরেই ভুলুর মতো বাধ্য পায়ে সে নুরানীর বিছানার দিকে যায়।
আর ভুলু যথাবিহিত নাক-কান খোলা রাখে নুরানীকে পাহারা দিতে থাকে।
কালের কণ্ঠ : সর্বংসহা





Social science affirms that a woman's place in society marks the level of civilization.
- Elizabeth Cady Stanton


ভুলুর একটু ঝিমুনি এসেছিলো। বাসী ভাত খেলেই অমন হয়। এমন সময় দরজা খুলে গেলো। চতুর্থ খদ্দেরটি বেরিয়ে গেলো। ভুলু একবার লেজ নেড়ে চেনা খদ্দরকে তার শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলো। নুরানী তখনও ব্লাউজের বোতাম লাগাতে পারেনি। ভুলু ছুটে এলো। সোজা নুরানীর গাল চাটতে লাগলো।
আরে রাখ, রাখ, তোরও দেখি কেবল খাই খাই। ছিঃ, চেটেপুটে ভিজিয়ে দিয়েছিস একদম।
প্রিয় নুরানীর আল্লাদী ধমকে ভালই লাগে ভুলুর। এ পাড়ায় তখন সবে এসেছিলো নুরানী, তখনও তার নাম নুরানী হয়নি। প্রতিদিন তার উপর চলতো অকথ্য সব নির্যাতন। কোত্থেকে তখন কে জানে দরজা খোলা পেয়েই রাস্তার কুকুর ছানাটি সোজা নুরানীর বুকে এসেছিলো। নুরানী তাকে নিজের ভাগের পাউরুটি খেতে দিয়েছিলো। সেই রাস্তার ভুলু আজ নুরানীর অন্যতম রক্ষক। গেটে তার পাহারা সদা জাগ্রত। বাধা খদ্দের ছাড়া অন্য কারও আওয়াজ পেলেই ঘেউ ঘেউ করে ওঠে ভুলু। ভুলু জানে, নিজের স্বামী রুবেলের চেয়ে বেশি তাকে ভরসা করে নুরানী। রুবেলের মতো ভুলুকে শস্তায় কেনা যায় না, কিংবা হয়তো কেনাই যায় না মোটেও।
নুরানী তথাকথিত স্বামী রুবেলকে এক বোতল না, আধা বোতল মদ দিয়েই কেনা যায় যখন তখন। দিনের মধ্যে ১৮ ঘন্টাই সে থাকে মদের ঘোরে, বাকী ৬ ঘন্টা ঘুমায়। তবে মানুষ হলেও রুবেলের ঘ্রাণ শক্তি ভুলুর মতোই তীব্র। ঘরে কোন খদ্দের মদের বোতল খুললে সে দরজার বাইরে থেকে স্রেফ ঘ্রাণ নিয়ে বলে দিতে পারে জিনিসটা জরিনা না চোলাই। আর হিসাবে খুব কড়া রুবেল। ভুলু বসে থাকে দরজার সামনেই। আর রুবেল বসে থাকে রাস্তার উল্টোপাশে। সেখান থেকেই সে সজাগ দৃষ্টি রাখে নুরানীর দিকে। যতোই মাল খেয়ে টাল হয়ে থাকুক, ঠিকই হিসাব রাখে দিনে কয়টা খদ্দের এলো গেলো এ ঘরে।
ভুলুর আল্লাদ শেষ না হতেই ঘরে ঢোকে রুবেল। ভুলু ঘেও ঘেও করে ওঠে। রুবেল ক্রুব্ধ দৃষ্টিতে তাকায়। সে কিছুতেই ভুলুকে সইতে পারে না। ভুলু সেই ছোট্টবেলা থেকেই রুবেলের অনেক লাথি খেয়েছে এবং মুখ বুজে হজম করে গেছে। সে বোঝে তার প্রিয় নুরানী কোন এক বিচিত্র কারণেই এই বদখদ লোকটাকে পোষে। অবশ্যই প্রয়োজনে রুবেলের গলার তারগুলো ছিঁড়ে দিতে ভুলুর বাঁধবে না। কিন্তু নুরানীর স্বামী বলেই হয়তো এখনও ভুলু সংযম দেখিয়ে যাচ্ছে। নইলে...
রুবেল ঘরে ঢুকেই নুরানীকে জেরা করে।
-কতো টাকা হলো?
- তাতে তোর কী এলো গেলো! আবার শুদ্ধ ভাষা মারাচ্ছিস!
মনে মনে ভুলু বলে, বা, বেশ! নুরানীর এই সাহসটা তার বরাবরই ভাল লাগে। নুরানী জানে কখন শান্ত স্রোতে কথা বলতে হবে আর কখনই বা উদ্দাম ঢেউয়ের মতো কথার থাপ্পড় ঝেড়ে দিতে হবে। কিন্তু নুরানীর এই ঝাঁজটা ভাল লাগে না রুবেলের। সে টাল সামলাতে সামলাতে বলে, না, না, নুরানী সোনা, না, তুই তোকারি করে না। আগেও মানা করেছি সোনা, এবার কথা না-শুনলে মেরে থোতা মুখ ভোতা করে দেবো।
শেষের বাক্যটার মধ্যে সাপের হিসহিসানি ছিলো। নুরানী চোখের কোনা দিয়ে দেখে নেয়, ভুলু আছে কিনা কাছে। আছে, প্রিয় ভুলু বিছানার পাশেই আছে। অতএব নুরানী নির্ভীক। কিন্ত এই সময়ই বাইরে আওয়াজ শোনা যায়।
- আবার কী হলো!
- কে জানে, কোন ইসের ছেলে, কী ঘোট পাকাচ্ছে, দাঁড়া দেখি...
- থাক, তোমার আর দেখা লাগবে না, এসো, রাত অনেক হলো শুয়ে পড়া যাক।
- আজ মনে হচ্ছে তোর কাছে শুতে দিবি...
- ওরে আমার নাগর, একটু আগে না বললি, তুই তোকারি তোর পছন্দ না।
স্রোতের এই রূপটায় মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ভুলুর। ঘেন্না লাগে তার, রুবেলকে নুরানীর পাশে শুতে দেখলেই ঘেন্না লাগে ভুলুর। বিরক্ত হয়ে সে বেরিয়ে যায়। আর ঠিক তখনই দরজার একটা লম্বা ছায়া দেখা যায়। দরজাটা লাগাতে ভুলে গেছে রুবেল। দরজায় চেনা গন্ধ দেখে মনে মনে খুশিই হয় ভুলু। অন্তত আজ তার প্রিয় নুরানীকে রুবেলের সাথে রাত কাটাতে হবে না।
এদিকে মুহূর্তে মদ আর মিলনের ঘোর কেটে যায় রুবেলের মগজ থেকে।
- শালা, কোন...
একটা গালি দিয়ে সে দরজার দিকে আগায়। যতো জোরে আর যতো রাগে সে এগিয়েছিলো তার চেয়ে দ্রুত আর তার চেয়েও নরম হয়ে সে দাঁত বের করে হাসতে থাকে।
- আরে মুরুব্বি যে, আসেন, আসেন, আপনে এতো রাইতে...
ফিরোজকে মুরুব্বি বলেই ডাকে রুবেল। এমন নয় যে, বয়সে ফিরোজ তার বড়, বরং দুয়েক বছরের ছোট তো হবেই, এটা বরং সম্মানের ডাক। এই অঞ্চলের সবাই অবশ্য ফিরোজকে ফূর্তি ফিরোজ বলে ডাকে। সবাই জানে, ফিরোজ যেখানেই যাক সেখানেই, গান বাজনা, মদ, মেয়ের জম জমাট আসর বসে। তার জীবনে আনন্দ ফূর্তির কোন শেষ নাই। এমনকি দুর্মুখেরা বলে, ফিরোজ নাকি কাউকে গুলি করার সময়ও মুচকি মুচকি হাসে। ফিরোজের ডান হাত ব্যাইক্কা-বাবু বলে, মানুষ এমুনভাবে চলে যে, তাগোর ভাবে চক্করে মুনে অয়, তারা অমর, মাইনে কুনদিন মরবো না! কিন্তুক আমার ওস্তাদের সামনে পরলে সক্কলেই সিধা আজরাঈলের হাত পা-ও দেখতে পায়। তাই আমার ওস্তাদে মুচকি মুচকি হাইসা মনে করায়া দেয়, দেখ, তোরেও মরতে অইবো অখন।
- রুবেল ভালো আছো?
- জ্বি মুরুব্বি, আপনের দোয়া, যান, ডাইরেক্ট ভেতরে যান।
ফিরোজ বাম হাত দিয়ে ভুলুর মাথায়ও একটু আদর করে দেয়। ভুলু খুশি, সে জানে আজ তার খাবারে নির্ঘাত একটা পাউরুটি জুটবে। পাউরুটি তার খুবই প্রিয়। ভুলু লেজ নাড়তে থাকে, কিন্তু রুবেলের ভেতরটায় একটা কষ্টের কুমির কামড়ায়। সে বড়ো আশা করেছিলো, আজ নুরানীর পাশে শোবে। সারাদিন যতোই খদ্দের সামাল দিক রাতের বিছানায় সে নুরানীর স্বামী। দিনের খাটাখাটুনির শেষে রুবেলের গায়ের উপরই হাত-পা তুলে দিয়ে নুরানী ঘুমায়। তখন মাঝে মাঝেই সে ভাবে, নুরানীকে নিয়ে একদিন কোথাও চলে যাবে। দুজনে অন্য কোন জীবন খুঁজে নেবে। যদিও এসব ভাবনা সূর্যের আলোতে ঝলসে যায় তবুও রাতের দূর্লভ নির্জনতায় রুবেলের মনে হয়, আহা, নুরানী যদি দিনে-রাতে শুধুই তার হতো!
ফিরোজের গলার স্বর অথবা ভুলুর ডাকেই ভেতরের ঘর থেকে আচল সামলাতে সামলাতে নুরানী বেরিয়ে আসে।
- ফিরোজ ভাই, আপনে!
- কেমন আছো রানী?
- যান, আপনে ভেতরে বসেন। এই তুমি একটু শোনো।
ফিরোজ ভেতরের ঘরে যায়, আর নুরানী রুবেলকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে বলে, তুমি একটু বাইরে যাও না, রাগ করবা? বুঝতেই তো পারতেছো...
রুবেল সবই বোঝে। এ পাড়াতেই তার জš§। তবু ফিরোজের মুখে ‘রানী’ ডাকটা তার কাছে চিরতার রস মনে হয়। আর রুবেলের তিতা মুখ দেখতে ভুলুর বড়ই আরাম লাগে। নুরানী কয়েক ঘণ্টার জন্যে টাকা দিয়ে যারই হোক না কেন তাতে তার কোন কষ্ট নাই, কিন্তু রুবেল চিরতরে নুরানীকে আগলে রাখবে এটা ভাবলেই ভুলুর পেটের মধ্যে রাগ খলবল করে।
- এই টাকা কয়টা রাখো। যাও, সোনা, লক্ষ¥ী আমার!
পাঁচশ টাকার একটা কড়কড়া নোট রুবেলের হাতে গুজে দেয় নুরানী। রুবেলের মনটা মুহূর্তেই নতুন নোটের গন্ধে নেচে ওঠে। জরিনার বোতল তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। গুটি গুটি পায়ে বেরিয়ে যায় সে।
- ভুলু গেলাম, খেয়াল রাখিস, বলেই রুবেল চকিতে বেরিয়ে যায়।
- এহ্, আমারে কওয়া লাগবো, জীবন ভর নুরানীর খেয়াল তো আমি রাখুম, তোরা তো সব বেজন্মার বাচ্চা। দায়-দায়িত্ব তো আমার কাঁধেই, মনে মনে বলে ভুলু।
ভাগ্যিস ভুলুর মনের কথা বুঝতে পারে না কেউ। না, নুরানী অবশ্য তাকে বোঝে। ভুলুর মাথায় হাত বুলিয়ে নুরানী বলে, যাও, ভুলু সোনা, দরজার সামনে যাও।
দীর্ঘশ্বাস দিয়ে ভুলু বেরিয়ে যায়। একাগ্র হয়ে দরজায় বসে থাকে। কিন্তু নুরানী দরজা লাগালেও ভুলুর নাক-কান রয়ে যায় ঘরের ভেতরেই। সে ভেতরের প্রতিটি কথা শুনতে পায়, বুঝতে পায়।
যেমন ভুলু বুঝতে পারে এখন, ভেতরের ঘরে ফিরোজ শার্ট খুলে ফেলেছে। তার ঘামে ভেজা গেঞ্জি থেকে কড়া গন্ধ আসে।
- এই শীতে এতো ঘামছেন যে ভাই!
- তুমি আমার কোন মায়ের পেটের বোন, এতো ভাই ভাই করো ক্যান!
নিজের ইয়ার্কিতে নিজেই ছাদ ফাটিয়ে হাসতে থাকে ফিরোজ। রাতের নির্জনতা চিরে সে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। দরজার ওপারে ভুলু চমকে ওঠে ঘেউ ঘেউ করে জানিয়ে দেয়, আস্তে, হাসিহাসি আস্তে!
- তোমার এই কুত্তাটারে একদিন গুলি কইরা মারা দরকার, খামাখাই ঘেউ ঘেউ করে। কবেই যে গুলি করতাম, কেবল কুত্তা মাইরা পিস্তল কালা করতে চাই না বইলাই করি না।
আবার নিজের ইয়ার্কিতে বেমক্কা হাসতে থাকে ফূর্তিবাজ ফিরোজ। ভুলুও ঘেউ ঘেউ করে জানিয়ে দেয়, সুযোগ পেলে সে-ও কাউকে ছেড়ে কথা কইবে না।
- তোমার কুত্তাটা তোমারে বহুত মহব্বত করে আর আমাগোরে সতীন মনে করে।
বলেই ফিরোজ আবার হাসতে থাকে। নুরানী সে হাসিতে তাল দেয়। খদ্দেরের হাসি-কান্নায় তাকে ঠুকতে হয়। এই তো নিয়ম।
- কী গো রানী, দূরে দূরেই থাকবা, নাকি দাওয়াত দিয়া কাছে আনতে হইবো। শোনো, সারা শরীরে জব্বর ব্যাথা। সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেবে কোথা...
আবার এক পশলা হাসে ফিরোজ। নির্ঘাত আজ রাতে তার মাথায় খুন সওয়ার হয়েছে, নইলে কথায় কথায় এতো হাসির বন্যা ছুটতো না, ভাবে ভুলু। ভুলুর কেবলই মনে হয় কী যেন ঘটবে আজ, বাতাসে কেমন অচেনা গন্ধ! সে শুনতে পায় ফিরোজ বলছে, বুঝলা রানী, শরীরটায় বিষ-ব্যথা। ম্যাসেজ-ম্যুসেজ পারোনি, ব্যাঙ্ককের মাইয়াগুলা কি যে ভাল পারে এই সব কাজ। না, না, তুমি আবার গোস্যা কইরো না যেন, তুমি কী তাদের চেয়ে কম।
- তাই...
বিছানার পাশে বসতে বসতেই ফিরোজের পা-টাকে কোলে টেনে নেয় নুরানী। দু’হাতের তালু আর আঙুলে যতোটা কুলায় ততোটা আদর আর মোচড় দিতে থাকে নুরানী। আরামে ফিরোজের চোখ বুজে যায়। আদুরে গলায় সে বলে, লাইট নিভিয়ে দেও। এ সব মুহূর্তে আলো ভালো লাগে না তার।
আলো নিভে যায়। কিন্তু ভুলুর জন্যে আলো-অন্ধকার সমান। সে নাক-কান দিয়েই দুনিয়া দেখতে পায়। সে অনুভব করে, ভেতরে আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে আদম-হাওয়ার জাত। অন্ধকার আর নির্জনতায় কেবল কিছু অগ্রন্থিত ধ্বণির পদচারণা চলতে থাকে। পরিযায়ী পাখির মতো সময় ভাসতে থাকে। দরজার বাইরে কেবল ভুলুর গোঙানি বাড়ে। ঘরের ভেতরের হুটোপুটিও একদা শেষ হয়। শিশুর মতো নুরানীর বুকে মুখ লেপ্টে রাখে ফিরোজ। পেশাদার আদরের শেষে এখন সে ক্লান্ত আর ঘুম কাতর।
আর তখনই ভুলু দেখে, এগিয়ে আসছে সবুর দারোগা। এতো রাতে এই ব্যাটা এইখানে কী চায়! সে তো সচারাচর আসে না এখানে। ভুলু ঘেও ঘেও করে নুরানীকে সতর্ক করে দেয়। সবুর দারোগা কষে একটা লাথি দেয় ভুলুকে। ভুলু সে লাথি হজম করে। সে দেখেছে পুলিশের লাথি এখানকার সবাই হজম করে নেয়।
ভুলুর আওয়াজে নুরানী ঠিকই বুঝতে পারে বাইরে কিছু ঘটছে। ততোক্ষণে ফিরোজও বোঝে কেউ একজন দরজা ঠুকছে।
- রুবেল?
- না, তার তো এখন আসার কথা না! পুরা পাঁচশ টাকা দিছি।
- তাইলে?
বলেই বালিশের পাশে রাখা কালো যন্ত্রটা তুলে নেয় ফিরোজ।
- আহা, ওইটা রাখেন। আমি দেখি কে? এক কাজ করেন, আপনে বাথরুমে ঢোকেন।
ফিরোজ বাধ্য ছেলের মতো আদেশ মেনে নেয়। মেঝেতে থেকে শার্টটা তুলে সে বাথরুমে ঢুকে যায়। দরজায় অস্থির কড়া নাড়া বাড়ে। না, কড়া নাড়া নয়, কে যেন লাঠি দিয়ে দরজা পেটাচ্ছে।
- কেডা?
- খোলো, আমি সবুর।
অতএব দরজা খুলতে বাধ্য হয় নুরানী। সবুর দারোগার পেছন থেকেই উঁকি দিচ্ছে ভুলু। সে কেমন অস্থির পাক খায়। নুরানী কোন একটা ঝামেলার গন্ধ পায়।
- এতো রাইতেও খদ্দের আছে নাকি ঘরে।
- না, জ্বি না। আপনে, এমুন সময়?
- ঘরে ঢুকতে দিবা, নাকি দরজা থাইকাই বিদায় জানাবা?
- না, না, আসেন ভেতরে আসেন।
বাধ্য হয়ে সবুরকে ভেতরে ডাকে নুরানী। সবুর দারোগা সচারাচর আসে না এদিকে। মাসে দুমাসে একদিন, কখনো তা-ও না। বখরা চলে যায় নিয়মিতই। আসার দরকার তেমন পড়ে না, স্রেফ হঠাৎ ঘরের বউকে পানসে মনে হলে নুরানীর কাছে সে চলে আসে। আর কারো কাছে যায় না, শুধু নুরানীর কাছেই আসে।
- বুঝলা, আইজ এক হারামজাদা বহুত ভুগাইছে। একটুর জন্যে ধরতে পারি নাই।
বিরক্ত সবুর নিজেকে বিছানায় ছুড়ে দেয়।
-বাত্তি জ্বালাও, তোমারে একটু দেখি। বহুত দিন তোমারে দেখি না।
আচমকা আলোতে নুরানীর চোখ পিটপিট করে। বিছানার চাদরে তখনও বলিরেখা ফুটে আছে।
- কি, ঘরে কেউ আছিলো নাকি?
- না, না, কেউ না।
- রুবেল মিয়া কই?
একটা প্রশ্নেই নুরানী বুঝে যায় তাকে কী করতে হবে। কিন্তু নিজেকে স্থির রাখে সে। স্রেফ ভুলুর সঙ্গে একটা চোখাচোখি হয়।
- আপনে কি জেরা করতে আইছেন?
- ওই দেখো, জেরা করবো ক্যান? জানতে চাইলাম আর কি? ক্যান আইছি সেইটা তো বুঝতেই পারছো? নাকি পারো নাই।
- পারছি। কিছু মনে না করলে আপনে একটু ওই ঘরে বইতেন, আমি একটু গুছায়া লইতাম।
- বা, বা, স্পেশাল কিছু করবা মনে হয়। ভেরি গুড।
- জ্বি!
- না, আমি বসতেছি ওই ঘরে, তুমি বরং নিজেরে গুছায়া মুছায়া লও।
সবুর দারোগার মনে আনন্দই লাগে। নুরানীর আলাদা একটা রুচি আছে। এই কারণেই সে তার কাছে আসে। সারাদিন আজ যে অবর্ণনীয় খাটুনি গেছে তা মেটাতেই এখানে আসা। এখন শুধু তার আগমনেই নুরানী নিজেকে সাজাবে-গোছাবে ভাবতেই তার ভাল লাগে। আয়েশ করে সে একটা সিগারেট ধরায়। ধোঁয়াগুলো পাক খেয়ে খেয়ে এলেমেলো ঘুরতে থাকে। সিগারেটের ধোঁয়া দেখার মধ্যেও বুঝি একটা নেশা আছে। নিজের ফুঁকে দেয়া ধোঁয়াগুলো নিবিষ্ট মনে দেখতে থাকে সে।
গুটি গুটি পায়ে ভুলু এগিয়ে আসে সবুর দারোগার কাছাকাছি।
- কি রে আরেকটা লাত্থি খাবি?
- ঘেউ ঘেউ!
অকস্মাৎ কিছু বোঝার আগেই কে যেন লাফ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ভেতরের ঘর থেকে বের হয়েই সোজা বাইরের দরজায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইরে থেকে ঠাস করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় বেরিয়ে যাওয়া লোকটা। ঘটনার আকস্মিকতায় বিমুঢ় হয়ে যায় সবুর। কয়েক সেকেণ্ড পরেই তার মাথায় ম্যাজিকের মতো একটা নাম চলে আসে। সে একাই বিস্মিত হয়ে বলে, ফিরোজ!
আর তখনই দরজার বাইরে থেকে ফিরোজ কথা বলে ওঠে, সবুর ভাই, আসি, দোয়া রাখবেন। নিজের বিখ্যাত আকাশ ফাটানো হাসি দিয়ে সে মিলিয়ে যায়। সবুর আক্রোশে ভেতর থেকে দরজায় লাথি দিতে থাকে। দরজা ককিয়ে ওঠে কিন্তু খোলে না, ভেতরে ভুলু ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। রাগের মাথায় ভুলুকে আরেকটা লাথি দেয় সবুর।
- খামাখা ওরে লাইত্থাইতাছেন ক্যা!
- ফিরোজ হারামজাদা তোমার এইখানে লুকাই ছিলো? তুমি তারে ঠাঁই দিছো।
- আমি তো সবাইরেই ঠাঁই দেই। আসেন ভেতরে আসেন। আমি রেডি।
- ভেতরে, তোমারে আমি চৌদ্দ শিকের ভেতরে নিয়া যামু। আমার সাথে চিটিংবাজি, তোমার এতো সাহস।
- হুদাই রাগ দেখায়েন না স্যার। আমরা তো কাউরে ফিরায়ে দেই না, আপনে আসলেও হ্যাঁ, উনি আসলেও হ্যাঁ। সবাই আমাগোর ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে।
- অই, আমি আর ওই এক হইলাম। একটা গুন্ডা-বদমাইশ আর পুলিশ এক হইলো। এক্ষন দরজা খোলার ব্যবস্থা কর, নইলে, বাইড়াইয়া সব ভাইঙ্গা ফালামু। - আর কতো ভাঙবেন, নদীর দুইপারের মতো ভাঙতে ভাঙতেই তো এইহানে আসা। যার ইচ্ছা বদনা ভইরা হাগার পানি নেয়, যার ইচ্ছা ওজুর পানি নেয়। আমারে কি ভাঙনের ডর দেহান স্যার।
- জ্ঞান কপচাও। এমুন শিক্ষা দিমু...
ব্যাস, সবুরের আস্ফালন অনেকক্ষন সহ্য করেছে নুরানী। ভুলুকে লাথি দেয়াতে তার মেজাজও খারাপ হয়ে গেছে। অতএব বেশ চিবিয়ে চিবিয়ে সে বলে, স্যার, হুদাই চিল্লায়েন না। আমাগোর হারানোর কিছু নাই। আপনেগো লুকাইয়া-চুরাইয়া যেটুক মান সম্মান আছে সেইটুকু খোয়াইয়েন না। চিল্লা ফাল্লা করলে জানাজানি হইবো, আপনে আমার এইখানে আসছিলেন। গুস্বা থু দিয়া ফালান। আসেন আমার কাছে। আপনেগোর চুর পুলিশ খেলা আমার ঘরের বাইরে কইরেন। যেই কামে আসছেন সেইটা করেন বরং।
নুরানী এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে দম নেয়। সবুর ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকে। কী করবে মুহূর্তখানেক বুঝতে পারে না। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরেই ভুলুর মতো বাধ্য পায়ে সে নুরানীর বিছানার দিকে যায়।
আর ভুলু যথাবিহিত নাক-কান খোলা রাখে নুরানীকে পাহারা দিতে থাকে।
কালের কণ্ঠ : সর্বংসহা

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29376192 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29376192 2011-05-06 11:05:19
আমার দেখা কিছু সেরা ছবি - আ বিউটিফুল মাইন্ড
মুক্তি : ২০০১
দৈর্ঘ : ১৩৬ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : ইংরেজি
পরিচালনা : রন হাওয়ার্ড
প্রযোজনা : ব্রায়ান গ্রেজার, রন হাওয়ার্ড
চিত্রনাট্য : সিলভিয়া নাসার (উপন্যাস), আকিভা গোল্ডসম্যান
অভিনয় : রাসেল ক্রো, এড হ্যারিস, জেনিফার কোনেলি, ক্রিস্টোফার প্লামার, পল বেটানি, জুড হির্স, এডাম গোল্ডবার্গ
সঙ্গীত : জেমস হর্নার
চিত্রগ্রহণ : রজার ডিয়াকিনস
সম্পাদনা : ড্যানিয়েল পি হ্যানলে, মাইক হিল
কাহিনী সংক্ষেপ : সিলভিয়া নাসার-এর পুলিৎজার মনোনয়ন প্রাপ্ত বেস্টসেলিং উপন্যাস আ বিউটিফুল মাইন্ড খ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে এ ছবি তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জন ন্যাসের জীবনীই এ গল্পের ভিত্তি। ১৯৪৭ প্রতিভাবান তরুণ জন ন্যাস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট করতে আসেন। অংকের জন্যে পুরস্কার প্রাপ্ত ন্যাস তার রুমমেট হিসাবে সাহিত্যের ছাত্র চার্লস হারম্যানকে পায়। এখানে তার পরিচয় হয় মার্টিন হ্যানসেন, রিচার্ড সোল, এইনসেল, বেন্ডারের মতো অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতিভাবান ছাত্রদের সাথে দেখা হয়। কিন্তু এদের সঙ্গে ন্যাসের তেমন সুম্পর্ক গড়ে ওঠে না। চার্লসকে ন্যাস বলে, সে মানুষের চেয়ে সংখ্যার সঙ্গে আরাম বোধ করে বেশি। যাহোক পড়ালেখা শেষ করে ন্যাস ম্যাসাচুট ইন্সটিট্যুট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে সম্মানজনক একটি পদ পায়। এখানে সোল ও বেন্ডারও তার সাথে যোগ দেয়। কিন্তু এমআইটিতে নিয়মিত ক্লাস নেয়ার চেয়ে ছাত্রদেরকে ব্ল্যাকবোর্ডে জটিল সব সমস্যা দিতে পছন্দ করেন তিনি। এদিকে তিনি ডিলিউশনে ভূগতে থাকে। একদিন এলিসিয়া নামের এক ছাত্রী তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এলিসিয়া তাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানায়। এমনকি তাদের মধ্যে প্রেম হয়, তারা বিয়েও করে। ন্যাসকে পেন্টাগনের সিক্রেট ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স আমন্ত্রণ জানা শত্র“ পক্ষের একটি টেলিকমিউনিকেশনের কোড ভেঙে দেয়ার জন্যে। ন্যাস তখনই তা ভেঙে দেয়। সবাই বিস্মিত হয়। এখানে উইলিয়াম পার্চারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পার্চার তাকে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন ঘেটে বিশেষ একটি প্যাটার্ন বের করার কাজ দেয়, যার আড়ালে সোভিয়েতদের একটি গোপন পরিকল্পনা লুকায়িত আছে। সোভিয়েত এক এজেন্ট ন্যাসকে তাড়া করে, তাকে গুলি করে। ন্যাস প্রাণে বেঁচে যায়, কিন্তু প্রচন্ড মানসিক চাপে অপ্রকৃত ব্যবহার শুরু করে। এলিসিয়া মানসিক হাসপাতালে খবর দেয়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লেকটার দেয়ার সময় সে লক্ষ্য করে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ন্যাস সরে যেতে চাইলে তাকে জোর করে মানসিক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ন্যাস মানসিক চিকিৎসককে সোভিয়েত কিডনাপার মনে করে। এলিসিয়া মেইল বক্স খুলে ন্যাসের টপ সিক্রেট তথ্যাদি দেখে ফেলে। ন্যাসকে এন্টিসাইকোথিক ওষুধ নেয়ার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় স্ত্রীর সাথে তার যৌন ও আবেগী সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং সর্বোপরি তার মেধার ক্ষতিও করে। হতাশ ন্যাস ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ন্যাসের মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এমনকি এর ফলে একবার তাদের সন্তান মরতে বসে। কিন্তু এলিসিয়া থাকে সাহায্য করে যায়। ন্যাস ক্রমশ বৃদ্ধ হতে থাকে। এ সময় সে তার এক সময়ের অপছন্দের মার্টিন হ্যানসেনের কাছে যায়। সে এখন প্রিন্সটনের অঙ্কের প্রধান। সে তাকে লাইব্রেরি ও অডিট ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু তার ডিল্যুশন চলতে থাকে। ১৯৯৪ সালে ন্যাস ক্লাস নেয়ারও সুযোগ পায়। অন্যান্য অধ্যাপকরা অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছে বলে তার গেইম থিওরির জন্যে তাকে সম্বর্ধনা দেয়। সেখানে ন্যাস চার্লস, মার্সের সাথে পার্চারকেও দেখে। এলিসিয়াকে পাশে নিয়ে জন ন্যাস সিজনোফ্রেনিয়া মতো মানসিক বৈকল্য কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং নোবেল পুরস্কার পায়।
বিশেষত্ব : ২০০২ সালে এ ছবি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালনা, সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং সেরা পার্শ্ব চরিত্র অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার পায়। বাফটায় সেরা অভিনতো ও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পায় এ ছবি।
বিশেষ তথ্য : স্কুলের পড়ার সময় জন ন্যাসের এক শিক্ষক বলেছিলেন, সে দুটো মগজ আর অর্ধেক হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। গণিত ও অর্থনীতির জগতে কিংবদন্তী তুল্য ন্যাসের জীবনে এ কথা সত্য প্রমাণিত হয়। অসাধারণ মেধাবী জন ন্যাস মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন না, সমাজের আচার রীতির সাথে একাত্ম হতে পারতেন না। এলিসিয়া যেন তার অর্ধেক হৃদয়কে পূর্ণ করে দেয়। ভালবাসা আর সহানুভূতি দিয়ে ন্যাসের মানসিক বৈকল্য মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। একজন আপাত ফুরিয়ে যাওয়া মানুষ আবার জীবনের স্বাভাবিক স্রোতে ফিরে আসে। সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং সেরা পার্শ্ব চরিত্রের জন্যে এ ছবি অস্কার পুরস্কার পায়।
১. ন্যাসের জীবনকে সঠিকভাবে চিত্রিত না-করায় এ ছবি নিয়ে সমালোচনা হয়। পরিচালক অবশ্য বারবার বলেছেন, এটি ন্যাসের জীবনের আক্ষরিক অনুকরন নয়। ছবিতে ন্যাসকে প্যান্টাগনের জন্যে কাজ করতে দেখা যায়, যা কখনোই তিনি করেননি। ১৯৬৩ সালে এলিসিয়ার সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং ২০০১ সালে আবার বিয়ে করে যা ছবিতে দেখানো হয়নি।
২. ব্র“স উইলিস, কেভিন কস্টনার, জন ট্রাভোল্ট, টম ক্রুজ, জনি ডেপ, ব্রাড পিটের মতো অভিনেতাদের জন ন্যাস চরিত্রের জন্যে ভাবা হয়েছিলো। টম ক্রুজ এ চরিত্র পাওয়ার জন্যে যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গ্ল্যাডিয়েটর দেখার পর রন হাওয়ার্ড রাসেল ক্রো-কেই এই চরিত্রের জন্যে চূড়ান্ত নির্বাচন করেন।
৩. নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটির শুটিং করা হয় নিউ জার্সি পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের প্র“ডেনসিয়াল হলে। এই দৃশ্যটি শ্যুট করতে আট ঘণ্টা সময় লাগে।
৪. জন ন্যাস স্বয়ং সেটে এসেছিলেন। যেভাবে তিনি হাত নাড়িয়ে ছিলেন তা রাসেল ক্রোকে মুগ্ধ করে। রাসেল ক্রো পরে ছবিতে তেমনিভাবে হাত নাড়েন।
৫. এলিসিয়া চরিত্রের জন্যে সালমা হায়েককে ভাবা হয়েছিলো, কারণ সেও এল সালভাদর থেকে এসেছে।
৬. চিত্রনাট্যকার আকিভা গ্লোডসম্যান এ ছবির জন্যে যথার্থ ছিলেন। কারণ আগে তিনি দীর্ঘদিন চাইল্ড কাউন্সিলার ছিলেন এবং এ সময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের জন্যে একটি পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। তার বাবা-মা বাড়িতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুদের জন্যে একটি দল তৈরি করেছিলেন।
৭. বানার্ড কলেজের অধ্যাপক ডেভ বায়ার ছবিতে এক অঙ্ক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। যে সব দৃশ্যে রাসেল ক্রো অঙ্ক করেছে সে সব দৃশ্যে তার হাত দেখানো হয়েছে।
৮. রাসেল ক্রো যাতে ঠিক মতো চরিত্রটির মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারে সে জন্যে ছবিটি চিত্রনাট্যের ধারাবাহিকতায় শুটিং করা হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29331367 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29331367 2011-02-21 15:04:31
আমার দেখা কিছু সেরা ছবি - আমেরিকান বিউটি
মুক্তি : ১৯৯৯
দৈর্ঘ : ১২২ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : ইংরেজি
পরিচালনা : স্যাম মেণ্ডেজ
প্রযোজনা : ব্র“স কোহেন, ডান জিঙ্কস
চিত্রনাট্য : আলান বল
অভিনয় : কেভিন স্পেসি, আনেটে বেনিং, থোরা বার্চ, মিনা সুভারি, পিটার গালাঘের, ভেস বেন্টলি
সঙ্গীত : টমাস নিউম্যান
চিত্রগ্রহণ : কনার্ড এল হল
সম্পাদনা : তারিক আনোয়ার, ক্রিস্টোফর গ্রিনবারি
কাহিনী সংক্ষেপ : বাইরে থেকে লেস্টার ও ক্যারোলিনকে যথার্থ স্বামী-স্ত্রী মনে হয়। তাদের বাড়ি-ঘর, সন্তান, প্রতিবেশি সব দিক থেকে তারা পূর্ণ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা গভীর হতাশায় নিমজ্জিত। মাঝ-বয়সী লেস্টার পৌঢ়ত্বের স্থবিরতায় ভূগছে। তার কন্যা জেন তাকে ঘৃণাই করে, স্ত্রী ক্যারোলিন তাকে সময় দেয় না। ক্যারোলিন তার রিয়েল এস্টেট ব্যাবসায় ব্যস্ত, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দী বাডি কেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। জেন পাশের বাড়ির অদ্ভূত ছেলে রিকি’র প্রেমে পড়ে। রিকি আড়াল ভিডিও ক্যামেরায় জেনের ছবি তোলে, সে ড্রাগ ব্যবসায় জড়িত। লেস্টার তার কন্যা জেনের বান্ধবী এঞ্জেলাকে দেখে মুগ্ধ হয়, সে এঞ্জেলাকে নিয়ে নানা ফ্যান্টাসিতে ভোগে। এঞ্জেলার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লেস্টার ব্যায়াম শুরু করে, তার একঘেয়ে চাকরীটি ছেড়ে দেয়। সে আবার তারুণ্যে ফিরে যেতে চায়। এঞ্জেলা মাঝ-বয়সী লেস্টারকে ব্যবহার করতে থাকে। আর লেস্টার ক্রমশ এক চূড়ান্ত পরিণামের দিকে এগুতে থাকে।
বিশেষত্ব : লেস্টার ও ক্যারোলিন ছবির একটা দৃশ্যে মিলিত হতে গেলে ক্যারোলিন তাকে সাবধান করে বলে, কাউচে যেন বিয়ার না পড়ে। লেস্টার হাউ তুলে বলে ‘এটা স্রেফ একটা কাউচ।’ কিন্তু আমেরিকান বিউটি স্রেফ একটা আমেরিকান সাজানো গোছানো ছবি নয়। মার্কিন মধ্যবিত্ত সমাজের সৌন্দর্যের প্রতি এ ছবি স্রেফ একটা কটাক্ষও নয়, কেননা, এ ছবিতে লেস্টারের মাঝ বয়সী জীবনের মাধ্যমে মার্কিন মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ, অপূর্ণ বাসনা আর বুড়ো হওয়ার তীব্র ভয় উঠে এসেছে। আমেরিকার সমাজের প্রেম, যৌনতা, সৌন্দর্য, বস্তুবাদ, আত্ম-স্বাধীনতা, মাতৃত্ব-পিতৃত্ব ইত্যাদিকে প্রহসনের দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তির পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছে এ ছবি। সারা বিশ্বে সাড়ে তিনশ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে। ৭২তম অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য ও সেরা চিত্রগ্রহনের পুরস্কার পেয়েছে এ ছবি। শিকাগো ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন ও ব্রডকাস্ট ফিল্ম ক্রিটিকস এসোসিয়েশন এ ছবিকে সেরা ছবির সম্মান দিয়েছে। গোল্ডেন গ্লোবেও এটি সেরা ছবি সহ সেরা পরিচালক ও সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছে। ২০০৮ সালে দশ হাজার পাঠক দেড়শজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং পঞ্চাশ জন সমালোচকের ভোটের মাধ্যমে এম্পারার ম্যাগাজিন সর্বকালের সেরা ছবির তালিকা বের করে, এ তালিকায় ৯৬ নম্বরে আমেরিকান বিউটি ঠাঁই পায়।
বিশেষ তথ্য :
১. এ ছবির ট্যাগলাইন বা মূল থিম হলো ‘লুক ক্লোজার’। ছবির পোস্টারে এই লাইন দেখা যায়। আমেরিকান সমাজকে আরও কাছ থেকে দেখার ইংগিত রয়েছে এই লাইনে। কিন্তু পরিচালক স্যাম মেন্ডেজ এই ট্যাগ লাইন শুরুতে ভাবেননি। ছবির সেট নির্মাণের এক কর্মী লেস্টারের অফিসের কিউবিকলে এই কথাটি লিখে দেয়। পরে সম্পাদনা টেবিলে স্যাম মেন্ডেজ এটি লক্ষ্য করেন এবং তার এতো ভাল লাগে যে এটিকেই তিনি থিম লাইন করেন।
২. কার্যনির্বাহী প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গ নিজে স্যাম ম্যান্ডেজকে এই ছবির পরিচালক হিসাবে সুপারিশ করেছেন। উল্লেখ্য, এটি স্যাম ম্যান্ডেজের প্রথম চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি মঞ্চ নাটকের নির্দেশক ছিলেন। দ্য ব্লু রুম এবং ক্যাবারে তার নির্দেশিত দুটি বিখ্যাত মঞ্চ নাটক। স্পিলবার্গ তার মঞ্চ নাটক দেখে বলেছিলেন, উনি একজন বড় মাপের ভিজ্যুয়ালিস্ট যার আছে অসাধারণ সিনেমাটিক স্টাইল। স্যাম স্পিলবার্গের কথাকে সত্য প্রমাণ করেছিলেন, প্রথম ছবিতেই সেরা পরিচালকের অস্কার পেয়েছেন তিনি।
৩. ছবিতে আমেরিকান বিউটি কথাটির নানা ব্যাখ্যা আছে। প্রযোজক ডান জিঙ্কসের মতে, ক্যারোলিন যে গোলাপ চাষ করে এটা তার দিকে ইংগিত দিতে পারে, কারণ এই সুন্দর গোলাপের আড়ালে রয়েছে কাটা। কিংবা এটা যথার্থ সুন্দরী এঞ্জেলাকে ইংগিত করতে পারে, এমনকি এটা আমেরিকানদের স্বপ্ন এবং দৈনন্দিন জীবনে সৌন্দর্য বলতে কী বোঝায় তার অর্থও বহন করে। চিত্রনাট্যকার ও সহ প্রযোজক এলান বলের মতে, এটা দ্ব্যর্থকতা বোধক। এটা এমন এক থিম যা দ্বারা আমরা বোঝাতে চেয়েছিলাম আপাত আমরা যা দেখি এর আড়ালে রয়ে গেছে অন্য কোন মানে।
৪. স্যাম মেন্ডেজ তার এই ছবিতে অত্যন্ত দক্ষ কলাকুশলীদের নিয়েছিলেন। সঙ্গীতের জন্যে টমাস নিউম্যানকে নেয়া হয় এবং চিত্রগ্রহনের জন্যে কিংবদন্তীতুল্য চিত্রগ্রাহক কর্নাড হলকে নেয়া হয়। কনার্ড আটবার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এই ছবির জন্য তিনি অস্কার পান।
৫. মিনা সুভারি ও থোরা বার্চকে হাই স্কুলের শিয়ারলিডার নাচের জন্যে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিলো। এই নাচটির কোরিওগ্রাফি করেছেন বিখ্যাত গায়িকা পওলা আব্দুল। ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের সাউথ হাই স্কুলে এটি শুটিং হয়।
৬. রিকি যে রেঁস্তোরায় কাজ করে সেখানকার বারটেন্ডার রূপে একজন প্রযোজক ব্র“স কোহেনকে দেখা যায়।
৭. স্যাম মেণ্ডেজ মিনা সুভারি ও থোরা বার্চকে ভিন্ন ভিন্ন রকম দেখাতে চেয়েছিলেন। ছবি যতো এগিয়ে যায় থোরা ততো কম ম্যাকআপ দিতে থাকে আর মিনা ততো বেশি মেকআপন দিতে থাকে। দুই বালিকার পার্থক্য তীব্র করতেই এই উদ্যোগ।
৮. ছবির পোস্টারে যে সুন্দরী নারী হাত ও পেট দেখা যায় তা আসলে মিনা সুভারির নয়; অভিনেত্রী মডেল কোল হান্টারের।
৯. কেভিন স্পেসি এবং আনেটে বেনিং পরিচালক স্যাম ম্যান্ডেজের প্রথম পছন্দ ছিলো। যদিও লেস্টার ও ক্যারোলিনের চরিত্রের জন্যে টম হাঙ্কস এবং চেভি চাসেকে বলা হয়। টম হাঙ্কস ম্যান্ডেজের পরের ছবি রোড টু প্রিডিসন (২০০২)-এ অভিনয় করেন।
১০. ছবির শুটিংয়ের সময় থোরা বার্চের বয়স ছিলো ১৭, তাই তাকে দিয়ে নগ্ন দৃশ্যটি করাতে নগ্ন দৃশ্যটি করাতে গেলে অভিভাবকের অনুমতি লাগতো। এই দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় থোরার বাবা-মাই শুধু নয়, চাইল্ড লেবার প্রতিনিধিও সেটে উপস্থিত ছিলেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29331288 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29331288 2011-02-21 12:55:51
আমার দেখা কিছু সেরা ছবি - দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই


মুক্তি : ১৯৫৭
দৈর্ঘ : ১৬১ মিনিট
রঙ : সাদাকালো, আংশিক রঙিন
দেশ : যুক্তরাজ্য
ভাষা : ইংরেজি
পরিচালনা : ডেভিড লিন
প্রযোজনা : স্যাম স্পিগেল
চিত্রনাট্য : মাইকেল উইলসন, কার্ল ফোরম্যান, পিয়েরে ব্যুলে (মূল উপন্যাস)
অভিনয় : উইলিয়াম হোলডেন, এলেক গিনিস, ঝ্যাক হকিন্স, সেস্যু হাওয়াকে
সঙ্গীত : ম্যালকোলম আর্নল্ড
চিত্রগ্রহণ : জ্যাক হিল্ডার্ড
সম্পাদনা : পিটার টেইলর
কাহিনী সংক্ষেপ : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। সিঙ্গাপুর আত্মসমর্পণ করলে একদল ব্রিটিশ সেনাকে বন্দী করে থাইল্যান্ডে আনা হয়। এখানে জাপানী এক বন্দী শিবিরে কর্ণেল সাইটোর সামনে তাদেরকে আনা হয়। কর্ণেল কাওয়াই নদীতে সেতু তৈরির জন্যে সবাইকে তৈরি হতে বলেন। এই সেতুটি জাপানীদের সমর কৌশলের বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সেনাদের কমাণ্ডার কর্ণেল নিকোলসন এতে আপত্তি জানান। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোন বন্দী অফিসার শারীরিক শ্রম দিতে বাধ্য নয়। জবাবে সাইটো কর্ণেল নিকোলাসকে শাস্তি দেয়। মেডিক্যাল অফিসার মেজর ক্লিপটন মধ্যস্থতা করতে এসেও শাস্তি পায়। এদিকে সৈন্যরা ইচ্ছা করে কাজ দেরীতে করতে থাকে। ১৯০৫ সালে রুশ-জাপান যুদ্ধের বিজয় উৎসবকে অজুহাত করে সাইটো নিকোলাসকে মুক্ত করে এবং তার অফিসারদের স্বাধীনভাবে কাজ করানোর অনুমতি দেয়। নিকোলাস তার কিছু অফিসারের আপত্তি সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন রিভেজ এবং মেজর হাগেসকে ব্রিজ তৈরির দায়িত্ব দেয়। কর্ণেল নিকোলাস চান ব্রিটিশ সেনারা এই সেতুটি তৈরি করুক।
এদিকে তিনজন বন্দী পালানোর চেষ্টা করে, দুজন মারা যায়, কিন্তু মার্কিন নেভি কমাণ্ডার শেয়ারস আহত হয়েও পালিয়ে যায়। বহুদিনের চেষ্টায় গ্রামের লোকদের সহায়তায় সে মাউন্ট লাভানিয়া হাসপাতালে পৌঁছায়। শেয়ারস ভাল চিকিৎসার আশায় এখানে নিজেকে ব্রিটিশ অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলো। সে মৃত আরেক অফিসারের পোশাক পরে আসে। এদিকে মেজর ভার্ডেন শেয়ারসের আসল পরিচয় জানতে পারে এবং তাকে বলে, সেতুটি ধ্বংস করতে।
এদিকে নিকোলাস নির্দিষ্ট সময়ে সেতু বানানোর কাজ করতে থাকে। শেয়ারস, ভার্ডেন ও কানাডিয় ল্যাফটেনেন্ট জয়েস কাওয়াই নদীতের কাছে আসে। তারা পানির নীচে বিস্ফোরক প্রতিস্থাপন করে।
জাপানী সৈন্য ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বহন করা ট্রেন নিয়ে পরদিন সকালে এই সেতুর উদ্বোধন করা হবে। ভাটাতে পানি কমে যাওয়া নিকোলাস বোমার তার দেখতে পায় এবং সাইটোকে জানায়। ট্রেনটি এগিয়ে আসতে থাকে। দুই দেশের দুই কর্ণেল ট্রেনটি বাঁচাতে চেষ্টা করতে থাকে। নীচে শত্র“রা সেতু ও ট্রেন ওড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। ছবি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে।
বিশেষত্ব : ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রি এই ছবিটিকে ‘সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক অথবা নন্দনতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনা করে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। এ ছবি অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা আবহ সঙ্গীত ও সেরা চিত্রগ্রহণ সহ ৭টি পুরস্কার জিতে নেয়। ব্রিটিশ অস্কার বলে খ্যাত বাফটা পুরস্কারে এ ছবি সেরা ব্রিটিশ চলচ্চিত্র, সেরা ব্রিটিশ অভিনেতা এবং বেস্ট ফিল্ম ফ্রম এনি সোর্স শিরোপা জিতে নেয়। গোল্ডেন গ্লোবেও এ ছবি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতার শিরোপা জিতে নেয়। এছাড়া নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিক এওয়ার্ড-এ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা ও সেরা পরিচালকের পুরস্কার পায়। ২০০৫ সালে ব্রিটিশি টিভি চ্যানেল চ্যানেল ফোর-এর এক জরিপে বিশ্ব সেরা ১০০ চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি ১০ম স্থানে ঠাঁই পায়। ১৯৫৮ সালের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি ছিলো এটি।

বিশেষ তথ্য :
১. শেয়ারসের চরিত্রটি চিত্রনাট্যকার কার্ল ফোরম্যান লিখেছিলেন হামফ্রে বোগার্টের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু বোগার্ট অন্য ছবিতে ব্যস্ত থাকায় হ্যারি কোনকে নেয়া হয়। কর্ণেল নিকোলাস চরিত্রে ক্যারি গ্র্যান্টকে ভাবা হয়েছিলো, কিন্তু ক্রাইসিস ছবির ব্যর্থতার কারণে তাকে আর নেয়া হয়নি। পরে চরিত্রটি লরেন্স অলিভিয়ারকে করতে বলা হয়, সে ব্যর্থতা প্রকাশ করলে এলেক গিনিস অভিনয় করেন এবং অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন। অবশ্য শুরুতে এলেক গিনিসও এ চরিত্রটি করতে রাজী ছিলেন না।
২. চিত্রনাট্যকার মাইকেল উইলসন ও কার্ল ফোরম্যান কমিউনিস্ট সন্দেহে কালো তালিকাভূক্ত ছিলো। ফলে চিত্রনাট্যকার হিসাবে তাদের নাম ছবিতে দেয়া হয়নি। ফলে পিয়েরে ব্যুলে চিত্রনাট্য রূপান্তরের জন্য অস্কার পেয়ে যান। উল্লেখ্য পিয়েরে ব্যুলে মূল উপন্যাসটি ফরাসী ভাষায় লেখেন এবং তিনি একবর্ণও ইংরেজি জানেন না। এক বর্ণ ইংরেজি না জানা ব্যক্তি ইংরেজি ছবির চিত্রনাট্য লেখার জন্যে অস্কার পুরস্কার পান এটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। ১৯৮৪ সালে কর্তৃপক্ষ মাইকেল উইলসন ও কার্ল ফোরম্যানকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু এ স্বীকৃতির জন্যে উইলসন বেঁচে ছিলেন না, আর ঘোষণা দেয়ার আগের দিন ফোরম্যানও দেহত্যাগ করেছিলেন। পরে ছবিতে তাদের নাম সংযোজন করা হয়।
৩. ছবিতে যে সেতু দেখানো হয় সেটি বানাতে খরচ হয়েছিলো ২৫০,০০০ ডলার। কোন অভিনেতা নির্বাচিত হওয়ার আগেই সেতুটি বানানো হয়ে গিয়েছিলো। বাস্তবে সেতুটি বানাতে সময় লেগেছিলো ৮ মাস এবং বানানোর দু’বছর পর ধ্বংস হয়েছিলো। এই সেতুটি বানাতে প্রায় ১ লক্ষ সেনাকে বাধ্য করা হয়েছিলো, সেতু নির্মাণকালে প্রায় ১২ হাজার সেনার মৃত্যু হয়।
৪. ছবির গল্পটি আংশিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি সত্যি ঘটনা থেকে নেয়া। ১৯৯১ সালে পিটার ডেভিস ‘দ্য ম্যান বিহাউন্ড দ্য ব্রিজ’ গ্রন্থে কর্নেল নিকোলাসের স্মৃতি লিপিবদ্ধ করেছেন।
৫. মূল উপন্যাসিক পিয়েরে বুল যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডে বন্দী ছিলেন। কর্নেল নিকোলাস চরিত্র সৃষ্টিতে তার যুদ্ধবন্দী জীবনে দেখা একাধিক ফরাসি অফিসারকে কাজে লাগিয়েছেন।
৬. শুটিং চলাকালে ডেভিড লিন স্রোতসিনি নদীতে যুবে যাচ্ছিলেন। জিডফ্রি হর্ন তার জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29326005 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29326005 2011-02-13 22:00:36
বিশ্বসেরা আরো ৫০ চলচ্চিত্র ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29321848 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29321848 2011-02-07 12:57:52 আমার দেখা কিছু সেরা ছবি - ফারেনহাইট ৯/১১
মুক্তি : ২০০৪
দৈর্ঘ : ১২২ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : ইংরেজি
পরিচালনা : মাইকেল মুর
প্রযোজনা : মাইকেল মুর, জিম চাজমেকি, ক্যাথলিন গ্লাইন, হার্ভে উইনস্টেন, বব উইনস্টেন
চিত্রনাট্য : মাইকেল মুর
অভিনয় : মাইকেল মুর, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বেন এফলাক, স্টিভি ওয়ান্ডার
সঙ্গীত : জেফ গিবস
চিত্রগ্রহণ :
সম্পাদনা : কুর্ট এঙ্গফার, টড এডি রিচম্যান, ক্রিস সুয়ার্ড
কাহিনী সংক্ষেপ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীরে চোখ রেখেছেন মাইকেল ম্যুর তার এই তথ্যচিত্রে। প্রকারান্তরে এই ছবিতে মাইকেল ম্যুর দেখিয়েছেন জর্জ ডব্লুউ বুশ কীভাবে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিনদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে, শুধু তাই নয় এ ছবিতে অনর্থক ইরাক হামলার সমালোচনাও করা হয়েছে। একজন ব্যর্থ ব্যবসায়ী জর্জ ডব্লিউ বুশ কীভাবে সৌদি রাজা ও বিন লাদেনের সহযোগিতায় প্রতারণামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। যখন সন্ত্রাসী হামলা হয় কীভাবে বুশ ব্যর্থ হয় এবং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে কীভাবে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করে Ñ এই সব সত্যই এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে। ছবিতে ম্যুর দেখিয়েছেন যে এ সন্ত্রাসী হামলার কথা বুশ আগে থেকেই জানতেন। এমনকি যখন প্রথম বিমানটি হামলা করে তখন তিনি ফ্লোরিডার একটা স্কুলের বাচ্চাদের সাথে গল্প করছিলেন। শুধু তাই নয় দ্বিতীয় বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উপর ভেঙে পড়লে যখন তিনি খবর পান যে, জাতি হুমকির মুখে তখন তিনি বাচ্চাদের গল্প পড়ে শোনাচ্ছিলেন। ম্যুর এ ছবিতে আরও দেখিয়েছেন যে, বুশ প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ভাবে মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিশেষত্ব : সাহসী এই তথ্যচিত্র মুক্তির সাথে সাথে আমেরিকা ও সারাবিশ্বে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়। সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসা সফল তথ্যচিত্র এটি। শুধু আমেরিকাতেই ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং সারা বিশ্বে ২২০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে এ ছবি। ২০০৪ সালে কান ফিল্ম ফ্যাস্টিভালে এ ছবি প্রদর্শনের পর সবাই ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান দেখায়, কানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর রেকর্ড। কানের সবচেয়ে বড় পুরস্কার পাম ডি’অরও এ ছবি পায়। ২০০৬ সালে এন্টারটেইমেন্ট উইকলি’র করা এক জরিপে বিশ্বের ২৫টি বিতর্কিত ছবির মধ্যে এটি তৃতীয় অবস্থানে আসে।
বিশেষ তথ্য :
১. কল্পবিজ্ঞান কাহিনীকার রে ব্রাডবারি’র ১৯৫৩ সালের উপন্যাস ফারেনহাইট ৪৫১ অনুসরণে এ ছবির নাম রাখা হয় ফারেনহাইট নাইন এলিভেন। ব্রাডবেরি অবশ্য তার উপন্যাস অনুকরণে এই নামকরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্রাডবেরি অবশ্য নিজে উইলিয়াম শেকসপিয়র থেকে ওয়াল্ট হুটম্যান পর্যন্ত বহু লেখকের উদ্ধৃতি বা লেখা থেকে তার একাধিক বইয়ের নামকরণ করেছেন।
২. মাইকেল ম্যুর প্রথম থেকেই এ ছবিকে আর (রেস্টিকটেড) রেটিং চেয়েছেন। কারণ তার বক্তব্য ছিলো, ১৫-১৬ বছরের বালকরা এ ছবি দেখলে ইরাক যুদ্ধে যেতে চাইবে। এ ছবি অবশ্য আর রেটিং পেয়েছিলো, ‘কিছু নৃশংস এবং অস্বস্তিকর দৃশ্য ও ভাষার জন্য।’
৩. ম্যুর একজন মার্কিন কণ্ডাকটার নিক বার্গের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। পরে তাকে ইরাকে কিডন্যাপ করা হয় ও হত্যা করা হয়। ম্যুর এই সাক্ষাৎকারটি আর ছবিতে রাখেননি। তিনি এই অংশটি মিডিয়াতে নয় বরং তার পরিবারকে দেন।
৪. চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটি একমাত্র তথ্যচিত্র যা সব ছবিকে পেছনে ফেলে ১ নম্বর অবস্থানে ঠাঁই নেয়।
৫. মাইকেল ম্যুর তার এই ছবিকে ইন্টারেনেটে সবার ডাউনলোডের জন্যে ছেড়ে দেন, যাতে করে প্রত্যেক আমেরিকান এটি দেখতে পারে।
৬. মাইকেল ম্যুর এ ছবিকে অস্কারে দিতে চাননি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন ২ নভেম্বর ২০০৪ -এ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ ছবিটি টিভিতে দেখানো হয়। এদিকে অস্কারের নিয়মের পরিপন্থি ছিলো সেটা। তাছাড়া ম্যুর এর আগেও সেরা তথ্যচিত্রের জন্যে অস্কার পেয়েছিলেন। অবশ্য কাহিনী চিত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অস্কারের বাধ্যবাধকতা কম এবং ম্যুর অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারের জন্যে এটি জমা দিতে চেয়েছিলেন। একাডেমি অব মোশন পিকচার্স আর্টস এণ্ড সায়েন্স এই তথ্যচিত্রের জন্যে অস্কারে তথ্যচিত্র জমা দেয়ার নিয়ম-কানুনে শিথিলতা আনে এবং এটিকে টিভিতে দেখানোর অনুমতি দেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29319843 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29319843 2011-02-03 23:05:18
সকাল-বিকাল কুকুর-বিড়াল http://www.theseekerchurch.com/funny-cats.jpg
মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ট সঙ্গী কুকুর। সেই গুহায় থাকাকালে বনের কুকুরকে মানুষ পোষ মানিয়ে নিজের শিকার সঙ্গী করে নিয়েছিলো। সেই প্রাচীনকাল থেকেই কুকুর বিড়ালের সঙ্গে বাস করছে মানুষ! সারা পৃথিবীতেই আজকে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে কুকুরের অবস্থান সবার উপরে। পাশ্চাত্তে তো কুকুরের জন্যে আলাদা হোটেল পর্যন্ত আছে। আমেরিকাকে কুকুরের দেশ বললে হয়তো মিথ্যে বলা হবে না। শুধু আমেরিকাতেই প্রায় ৬ কোটি কুকুর বাস করে। অন্যদিকে আইসল্যান্ডে কুকুর পোষা বেআইনী।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কুকুরটি ছিলো একটি ইংলিশ ম্যাসটিফ প্রজাতির কুকুর। এর ওজন ছিলো ৩৪৩ পাউন্ড, নাক থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। কুকুরের মধ্যে যতো হাইব্রিড হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজাতিটি হলো আইরিশ উলফ হাউন্ড। কুকুরের ঘ্রাণশক্তি কথা তো আমরা জানিই। কুকুরের আরও অনেক গুণই আছে। কিছু কিছু কুকুর আগে থেকেই বুঝতে পারে কোন বাচ্চার মৃগী রোগের প্রকোপ দেখা দিবে কিনা। এবং এ জন্য ওই কুকুরকে কোন প্রশিক্ষনও দেয়া লাগে না। কখনো একবার যদি কুকুরটি মৃগী রোগের প্রকোপ দেখে থাকে তাহলেই সে বুঝতে পারবে। শুধু যে বুঝতে পারবে তা নয়, সে বাচ্চাকে আঘাত থেকে সুরক্ষারও চেষ্টা করবে।
মানুষের মতো কুকুরেরও দুইবার দাঁত হয়। ছোট্ট কুকুর ছানার তাকে ৩০টি দাঁত আর বড় কুকুরের থাকে ৪২টি দাঁত। মানুষকে চিনতে হলে বুড়ো আঙুলের ছাপ নিতে হয়, তেমনি কুকুরকে সনাক্ত করতে হলে তার নাকের ছাপ নেয়া হয়।
যাদের বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে এবং যে সব বাচ্চারা কুকুর আর চকলেট পছন্দ করে তাদের জেনে রাখা উচিত, চকলেট কুকুর মেরে ফেলতে পারে। চকলেট কুকুরের øায়ু ব্যবস্থা ও হৃদপিণ্ডে আঘাত হানে। মাত্র কয়েক আউন্স চকলেট খাইয়ে একটি ছোট-খাটো কুকুরকে মেরে ফেলা সম্ভব।
প্রভূভক্তির উদাহরণ হিসাবে কুকুর সর্বশ্রেষ্ঠ। তবু মানুষ কেন রেগে গেলে কুকুরের নামটাই গালি হিসাবে ব্যবহার করে তা আজও রহস্য!
কুকুরের মতো বিড়ালও মানুষের সকাল-বিকালের নিত্য সঙ্গী। পাশ্চাত্তে বিড়ালের জš§দিন পর্যন্ত পালন করা হয়। পৃথিবীর অন্যম প্রাচীন সভ্যতা মিশরে বিড়ালকে খুবই পবিত্র মনে করা হতো। সেখানে কেউ ভুলক্রমেও বিড়াল হত্যা করলে সাজা হিসাবে তার মৃত্যুদণ্ড হতো। মানুষের মতো কুকুর-বিড়ালও কিন্তু বা-হাতি বা ডান-হাতি হয়। মুশকিল হলো এদের চারপায়ের মধ্যে কোনটা যে বা হাত আর কোনটা যে ডান হাত তা খুঁজে বের করা।
বিড়ালেরও বিশেষ গুণের শেষ নেই। বিড়ালের শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি ভীষণ তীক্ষ, সে আলট্রা সাউন্ড শুনতে পায়। আর খুব কম আলোতে সে পষ্ট দেখতে পায়। কয়েক গজ উপর থেকে ফেলে দিলেও বিড়াল দিব্যি নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। কোন সরু জায়গায় প্রবেশ করার আগে বিড়াল তার গোঁফ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে, এখান দিয়ে যেতে পারবে কি পারবে না।
সবশেষে বলতে চাই, লাট সাহেবের কুকুর গল্পটির কথা মনে আছে? সৈয়দ মুজতবা আলী সেখানে দেখিয়েছিলেন, লাট সাহেবের তিন পাঅলা একটা কুকুরের পেছনে যা খরচ হয় তার তিনভাগের একভাগ খরচ হয় পণ্ডিতমশায়ের পুরো পরিবার চালাতে। সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো একটি তথ্য শুনে। তথ্যটি হলো, আমেরিকায় বছরে কুকুর বিড়ালের খাবারের পেছনে ৭০০ কোটি ডলার খরচ হয়। আর পৃথিবীতে গড়ে প্রতিদিন ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় কুকুর-বিড়ালের খাবারের পিছনে।
তারা কি জানে, বছরে কতো মানুষ না-খেয়ে মারা যায়?
কুকুর বিড়ালের আলোচনা শেষ করতে চাই আরেকটি তথ্য দিয়ে, গত ৪০০০ বছরে কোন নতুন প্রাণী গৃহপালিত হয়নি।
মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ট সঙ্গী কুকুর। সেই গুহায় থাকাকালে বনের কুকুরকে মানুষ পোষ মানিয়ে নিজের শিকার সঙ্গী করে নিয়েছিলো। সেই প্রাচীনকাল থেকেই কুকুর বিড়ালের সঙ্গে বাস করছে মানুষ! সারা পৃথিবীতেই আজকে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে কুকুরের অবস্থান সবার উপরে। পাশ্চাত্তে তো কুকুরের জন্যে আলাদা হোটেল পর্যন্ত আছে। আমেরিকাকে কুকুরের দেশ বললে হয়তো মিথ্যে বলা হবে না। শুধু আমেরিকাতেই প্রায় ৬ কোটি কুকুর বাস করে। অন্যদিকে আইসল্যান্ডে কুকুর পোষা বেআইনী।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কুকুরটি ছিলো একটি ইংলিশ ম্যাসটিফ প্রজাতির কুকুর। এর ওজন ছিলো ৩৪৩ পাউন্ড, নাক থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। কুকুরের মধ্যে যতো হাইব্রিড হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজাতিটি হলো আইরিশ উলফ হাউন্ড। কুকুরের ঘ্রাণশক্তি কথা তো আমরা জানিই। কুকুরের আরও অনেক গুণই আছে। কিছু কিছু কুকুর আগে থেকেই বুঝতে পারে কোন বাচ্চার মৃগী রোগের প্রকোপ দেখা দিবে কিনা। এবং এ জন্য ওই কুকুরকে কোন প্রশিক্ষনও দেয়া লাগে না। কখনো একবার যদি কুকুরটি মৃগী রোগের প্রকোপ দেখে থাকে তাহলেই সে বুঝতে পারবে। শুধু যে বুঝতে পারবে তা নয়, সে বাচ্চাকে আঘাত থেকে সুরক্ষারও চেষ্টা করবে।
মানুষের মতো কুকুরেরও দুইবার দাঁত হয়। ছোট্ট কুকুর ছানার তাকে ৩০টি দাঁত আর বড় কুকুরের থাকে ৪২টি দাঁত। মানুষকে চিনতে হলে বুড়ো আঙুলের ছাপ নিতে হয়, তেমনি কুকুরকে সনাক্ত করতে হলে তার নাকের ছাপ নেয়া হয়।
যাদের বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে এবং যে সব বাচ্চারা কুকুর আর চকলেট পছন্দ করে তাদের জেনে রাখা উচিত, চকলেট কুকুর মেরে ফেলতে পারে। চকলেট কুকুরের øায়ু ব্যবস্থা ও হৃদপিণ্ডে আঘাত হানে। মাত্র কয়েক আউন্স চকলেট খাইয়ে একটি ছোট-খাটো কুকুরকে মেরে ফেলা সম্ভব।
প্রভূভক্তির উদাহরণ হিসাবে কুকুর সর্বশ্রেষ্ঠ। তবু মানুষ কেন রেগে গেলে কুকুরের নামটাই গালি হিসাবে ব্যবহার করে তা আজও রহস্য!
কুকুরের মতো বিড়ালও মানুষের সকাল-বিকালের নিত্য সঙ্গী। পাশ্চাত্তে বিড়ালের জš§দিন পর্যন্ত পালন করা হয়। পৃথিবীর অন্যম প্রাচীন সভ্যতা মিশরে বিড়ালকে খুবই পবিত্র মনে করা হতো। সেখানে কেউ ভুলক্রমেও বিড়াল হত্যা করলে সাজা হিসাবে তার মৃত্যুদণ্ড হতো। মানুষের মতো কুকুর-বিড়ালও কিন্তু বা-হাতি বা ডান-হাতি হয়। মুশকিল হলো এদের চারপায়ের মধ্যে কোনটা যে বা হাত আর কোনটা যে ডান হাত তা খুঁজে বের করা।
বিড়ালেরও বিশেষ গুণের শেষ নেই। বিড়ালের শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি ভীষণ তীক্ষ, সে আলট্রা সাউন্ড শুনতে পায়। আর খুব কম আলোতে সে পষ্ট দেখতে পায়। কয়েক গজ উপর থেকে ফেলে দিলেও বিড়াল দিব্যি নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। কোন সরু জায়গায় প্রবেশ করার আগে বিড়াল তার গোঁফ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে, এখান দিয়ে যেতে পারবে কি পারবে না।
সবশেষে বলতে চাই, লাট সাহেবের কুকুর গল্পটির কথা মনে আছে? সৈয়দ মুজতবা আলী সেখানে দেখিয়েছিলেন, লাট সাহেবের তিন পাঅলা একটা কুকুরের পেছনে যা খরচ হয় তার তিনভাগের একভাগ খরচ হয় পণ্ডিতমশায়ের পুরো পরিবার চালাতে। সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো একটি তথ্য শুনে। তথ্যটি হলো, আমেরিকায় বছরে কুকুর বিড়ালের খাবারের পেছনে ৭০০ কোটি ডলার খরচ হয়। আর পৃথিবীতে গড়ে প্রতিদিন ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় কুকুর-বিড়ালের খাবারের পিছনে।
তারা কি জানে, বছরে কতো মানুষ না-খেয়ে মারা যায়?
কুকুর বিড়ালের আলোচনা শেষ করতে চাই আরেকটি তথ্য দিয়ে, গত ৪০০০ বছরে কোন নতুন প্রাণী গৃহপালিত হয়নি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29301657 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29301657 2011-01-04 10:45:02
সবার উপরে গুরু সত্য
কাল রাতে দেশ টিভিতে চলছিলো গুরুর লাইভ শো। রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত জেগে এক রকম ঘোরের মধ্যেই দেখলাম গুরুর গান। মিউজিক লাইভ শো তো আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে এখন ডাল ভাত। এঙ্গা বেঙ্গা চেঙ্গা টাইপের কতো গায়ক গায়িকাই যে সেইসব লাইভে নির্জীব সঙ্গীত পরিবেশনা করলো তার কোন হিসাবই না। তবে খোদার কসম, ওস্তাদের উপরে কেউ না, গুরুই মহা সত্য জেমসের লাইভ দেখে তাই মনে হলো।
জেমসের গান যারা নিয়মিত শোনেন তাদের বলে দিতে হয় না, তিনি কি জিনিস। সাধারণত তিনি টিভি’র লাইভ টাইভে আসেন না, কাজেই কালকের শোটা তার ভক্তদের জন্য ব্যাপক প্রাপ্তি। আর তার গান যারা চেনে, জানেন, বোঝেন, তাদের জন্য বিশাল এক ঝটকা, আরও সোজা করে বললে ঝটিকা সফর। ইংরেজিতে যাকে বলে সারপ্রাইজ তাই ছিলো কালকের শোতে। তার ব্যান্ডের নতুন লাইন আপই এই বিস্ময়ের কারণ। ব্যান্ডে লাইন আপে পরিবর্তন কোন নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাংলাদেশে, [সম্ভবত বিশ্বেও] কোন এক পপুলার ব্যান্ডের লাইন আপে একজন সেতার বাজিয়ে আর হাওয়াইন গিটারিস্টের সংযুক্তি শুধু নতুনই নয়, অভিনবও। জেমসের তথা তার ব্যান্ড নগর বাউলের দুঃখিনী দুঃখ করো না জিকির, সুলতানা বিবিয়ানার মতো চিরচেনা গানগুলোতে সেতার আর হাওয়াইন গিটারের সংযুক্তি নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিলো। বিস্ময়কর লেগেছে সেতার বাজিয়েকেও। অল্প বয়স্ক এই নারী শুধু জেমসের গিটারের সাথে পাল্লা দিয়ে সেতারই বাজাননি সাথে সাথে হামিংও করেছেন। তার প্রাচ্য ঘরাণার সেতারের সাথে পাশ্চাত্ত ঘরাণারা হামিং বাংলা গানের জগতে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। আর হাওয়াইন গিটার খুবই নীরিক্ষামূলকভাবে এ দেশের দুয়েকটা গানে ব্যবহৃত হয়েছে [পুরনো দিনে]। ব্যান্ড সংগীত বিশেষ করে জেমস যে ধরণের গান গেয়ে থাকেন তার সঙ্গে আপাতত সে­া এণ্ড সফট হাওয়াইন গিটার সংযোজনের কথা কোনদিন আর কারো মাথায়ই আসবে না। আমি নিজে হাওয়াইন গিটার বাজিয়েছি দীর্ঘদিন, কোন দিন তারপরও স্বপ্নও দেখিনি গুরুর গানে এই মীরময় যন্ত্র ব্যবহৃত হতে পারে!
আরেকটু বড় করে বলি, এমনকি উপমহাদেশের আইকনিক সুরকার এ আর রহমানও সংগীতে বহু নীরিক্ষা করেছেন। অথচ তার সুরেও আমরা সেতার, হাওয়াইন গিটার আর লিড ও বেজ গিটারের মহাসম্মিলন দেখিনি/শুনিনি। আমার ছোট বুদ্ধিতে বারবারই মনে হচ্ছিলো গানের ফাঁকে ফাঁকে [ইন্টারল্যুডে] যেভাবে সেতার আর গিটারের বন্দিশ হলো তা এ দেশের গানের জগতকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার ইংগিত দেয়।
গুরু ভারতে দুচারটা গান করেছেন। যার সবগুলোই সুপার হিট। ভারতের প্রায় সবগুলো বড় মিউজিক রিয়ালিটি শোতে তার হাতেগোণা দুতিনটা গান ব্যাপকভাবে গাওয়া হয়। আমার ধারণা শুধু ভারতে নয়, গুরু চাইলে বিশ্ব সংগীতেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের গুরু একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গান গাইবে। একজন বব ডিলান, বব মার্লে, কার্লোস সান্তানা, মিক জ্যাগার থেকে তাকে কি খুব দূরে ভাবা যায়? আমি মনে করি, আমাদের নানা হতাশার মাঝে তিনি এক স্বপ্ন, বিশ্ব সঙ্গীত জয় করার স্বপ্ন। কেউ কি আছেন, গুরুর সেরা গানগুলোর ইংরেজি করতে পারেন, ওস্তাদকে অনুরোধ করতাম, কিছু ইংরেজি গান গাইতে।
কাল রাতে দেশ টিভিতে চলছিলো গুরুর লাইভ শো। রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত জেগে এক রকম ঘোরের মধ্যেই দেখলাম গুরুর গান। মিউজিক লাইভ শো তো আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে এখন ডাল ভাত। এঙ্গা বেঙ্গা চেঙ্গা টাইপের কতো গায়ক গায়িকাই যে সেইসব লাইভে নির্জীব সঙ্গীত পরিবেশনা করলো তার কোন হিসাবই না। তবে খোদার কসম, ওস্তাদের উপরে কেউ না, গুরুই মহা সত্য জেমসের লাইভ দেখে তাই মনে হলো।
জেমসের গান যারা নিয়মিত শোনেন তাদের বলে দিতে হয় না, তিনি কি জিনিস। সাধারণত তিনি টিভি’র লাইভ টাইভে আসেন না, কাজেই কালকের শোটা তার ভক্তদের জন্য ব্যাপক প্রাপ্তি। আর তার গান যারা চেনে, জানেন, বোঝেন, তাদের জন্য বিশাল এক ঝটকা, আরও সোজা করে বললে ঝটিকা সফর। ইংরেজিতে যাকে বলে সারপ্রাইজ তাই ছিলো কালকের শোতে। তার ব্যান্ডের নতুন লাইন আপই এই বিস্ময়ের কারণ। ব্যান্ডে লাইন আপে পরিবর্তন কোন নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাংলাদেশে, [সম্ভবত বিশ্বেও] কোন এক পপুলার ব্যান্ডের লাইন আপে একজন সেতার বাজিয়ে আর হাওয়াইন গিটারিস্টের সংযুক্তি শুধু নতুনই নয়, অভিনবও। জেমসের তথা তার ব্যান্ড নগর বাউলের দুঃখিনী দুঃখ করো না জিকির, সুলতানা বিবিয়ানার মতো চিরচেনা গানগুলোতে সেতার আর হাওয়াইন গিটারের সংযুক্তি নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিলো। বিস্ময়কর লেগেছে সেতার বাজিয়েকেও। অল্প বয়স্ক এই নারী শুধু জেমসের গিটারের সাথে পাল্লা দিয়ে সেতারই বাজাননি সাথে সাথে হামিংও করেছেন। তার প্রাচ্য ঘরাণার সেতারের সাথে পাশ্চাত্ত ঘরাণারা হামিং বাংলা গানের জগতে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। আর হাওয়াইন গিটার খুবই নীরিক্ষামূলকভাবে এ দেশের দুয়েকটা গানে ব্যবহৃত হয়েছে [পুরনো দিনে]। ব্যান্ড সংগীত বিশেষ করে জেমস যে ধরণের গান গেয়ে থাকেন তার সঙ্গে আপাতত সে­া এণ্ড সফট হাওয়াইন গিটার সংযোজনের কথা কোনদিন আর কারো মাথায়ই আসবে না। আমি নিজে হাওয়াইন গিটার বাজিয়েছি দীর্ঘদিন, কোন দিন তারপরও স্বপ্নও দেখিনি গুরুর গানে এই মীরময় যন্ত্র ব্যবহৃত হতে পারে!
আরেকটু বড় করে বলি, এমনকি উপমহাদেশের আইকনিক সুরকার এ আর রহমানও সংগীতে বহু নীরিক্ষা করেছেন। অথচ তার সুরেও আমরা সেতার, হাওয়াইন গিটার আর লিড ও বেজ গিটারের মহাসম্মিলন দেখিনি/শুনিনি। আমার ছোট বুদ্ধিতে বারবারই মনে হচ্ছিলো গানের ফাঁকে ফাঁকে [ইন্টারল্যুডে] যেভাবে সেতার আর গিটারের বন্দিশ হলো তা এ দেশের গানের জগতকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার ইংগিত দেয়।
গুরু ভারতে দুচারটা গান করেছেন। যার সবগুলোই সুপার হিট। ভারতের প্রায় সবগুলো বড় মিউজিক রিয়ালিটি শোতে তার হাতেগোণা দুতিনটা গান ব্যাপকভাবে গাওয়া হয়। আমার ধারণা শুধু ভারতে নয়, গুরু চাইলে বিশ্ব সংগীতেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের গুরু একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গান গাইবে। একজন বব ডিলান, বব মার্লে, কার্লোস সান্তানা, মিক জ্যাগার থেকে তাকে কি খুব দূরে ভাবা যায়? আমি মনে করি, আমাদের নানা হতাশার মাঝে তিনি এক স্বপ্ন, বিশ্ব সঙ্গীত জয় করার স্বপ্ন। কেউ কি আছেন, গুরুর সেরা গানগুলোর ইংরেজি করতে পারেন, ওস্তাদকে অনুরোধ করতাম, কিছু ইংরেজি গান গাইতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29239639 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29239639 2010-09-14 17:03:05
পৃথিবীর দীর্ঘতম চলচ্চিত্রটির নাম কি এটুকু পরেই যারা ক্লান্ত হয়ে গেছেন, তারা এবার একটু নড়েচড়ে বসুন, নিরীক্ষামূলক আরেক ছবির নাম সিনাম্যাটন, এটির দৈর্ঘ ১৫০ ঘন্টা। ৬ দিন ৬ ঘন্টা ব্যাপী এই ছবিকে অবশ্য কেউ মূল চলচ্চিত্র ঘরানা ফেলতে চায় না। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবি আসলে স্রেফ গিনিজ বুকে ঠাই পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি।
এরিখ ভন স্ট্রোহাইমের গ্রিড ছবিটি প্রায় সাড়ে আট ঘন্টার। এটি সবচেয়ে দীর্ঘ নির্বাক ছবি। অবশ্য ১৯২৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর একবারই মাত্র এ ছবি সাড়ে আট ঘন্টা দেখানো হয়েছিলো, এরপর ছবিটিকে কেটে ২ ঘন্টায় আনা হয়, অবশ্য পরিচালক এই কর্তন কখনোই মেনে নেননি। ১৯২৮ সলে চীনে মুক্তি পাওয়া দ্য বার্নি অব দ্য রেড লোটসকে বিশ্বের দীর্ঘতম নির্বাক ছবির স্বীকৃতি দেয়া হয়। ঝ্যাং সিচুয়ান পরিচালিত ২৯ ঘন্টার এ ছবিকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ১৮টি পর্বে ভাগ করে প্রচার করতো।
পপ আর্টের গুরু এন্ড্রি ওয়্যারহল এম্পারার নামে একটি ছবি করেছিলেন যার দৈর্ঘ ৮ ঘন্টা। এই সব অতিদীর্ঘ ছবিগুলো কিন্তু সিনেমাহল বা দর্শক তেমন করে গ্রহণ করেনি, স্রেফ রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছে। তুলনায় সাড়ে ছয় ঘন্টার ছবি ওয়ার এণ্ড পিস দর্শক নন্দিত হয়েছে।
অস্কার পাওয়া লরেন্স অলিভারের হ্যামলেট ৪ ঘন্টার ছবি। পোলান্ডের ডকুমেন্টারি ছবি সোয়া সাড়ে নয় ঘন্টা দৈর্ঘের।
পোলিশ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অত্যচারের উপর নির্ভর করে তৈরি এ ছবি অস্কারও পেয়েছিলো। জার্মানীতে ১৯৮০ সালে তৈরি বার্লিন আলেক্সান্দাপ্লাজ প্রায় ৩৯ ঘন্টার [৯৩১ মিনিট],১৯৮৪ সালে হাইমাট ছবিটিও এর কাছাকাছি দৈর্ঘের [৯৪০ মিনিট]। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ম্যাতরিয়োসকা মুক্তি পায় যার দৈর্ঘ ৯৭ ঘন্টা! ১৯৬৮ সালে চেকোস­াভাকিয়া থেকে মুক্তি পেয়েছিলো নান ছবিটি। বুরাখ বোসনিৎস পরিচালিত এ ছবির দৈর্ঘ ৯০৮ মিনিট। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29237182 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29237182 2010-09-08 20:39:07
আরো দুইটি ছোট ছোট ছোটগল্প মৃত্যু

মৃত্যুর চারদিন আগে থেকেই মা কথা বলতে পারতেন না। আমি দেখেছি তার নির্বাক চোখের চাহনি। মৃত্যু পথযাত্রী সব রুগীদের চোখে আমি সেই চাউনি দেখতে পাই। তবু আমি রুগীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখি। এরপরও অনেক রুগী সুস্থ হয়ে দেখা করতে আসে। রুগীর আÍীয়স্বজনের সাথেও দেখা হয়ে যায় প্রায়ই।
কিন্তু এই কবরস্থানেও দেখা হবে এক রুগীর বাবার সঙ্গে তা ভাবিনি।
দুদিন আগে সে এসেছিলো। তার সঙ্গে ফুটফুটে একটি মেয়ে। তিন-চার বছর বয়স। লোকটি খুব কাঁদছিলো, ডাক্তার সাহেব আমার একটিই মেয়ে। অসহায় লোকটি পারলে আমার পা জড়িয়ে ধরে। আপনি আমার মেয়েকে বাচাঁন।
আমি তাকে ধমক দিয়ে ওয়ার্ড থেকে বের করে দিয়েছিলাম। মেয়েটি কিন্তু একটাও কথা বলেনি। আমি জানি, তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আমার মায়ের সেই চাউনির মত।
আমি মেয়েটিকে ফেরত পাঠিয়ে ছিলাম, খামাখা হাসপাতালে রেখে কী লাভ, একটা বেডের অপচয়।
এখন এখানে তাকে দেখে বুঝতে পারি, মেয়েটি মারা গেছে। আমি লোকটির কাছে যাই। হাত রাখি তার পিঠে। আপনার মেয়েটি মারা গেছে, তাই না?
সে নিরুত্তর।
আমার মাও মারা গেছে, তিন বছর আগে। আমার ডাক্তার হওয়ার একমাস আগেই।
সে নিরুত্তর।
আচ্ছা মানুষ মরে কেন?
এইবার সে চোখ তুলে তাকায়, নির্বাক চোখ। আমি আঁতকে উঠি। লোকটার চোখে, সেই চাহনি যা তার মেয়ের চোখে ছিলো, যা আমার মা’র চোখে ছিলো।

বুড়ো ও মৃত্যুদূত
এক হাড় জিরজিরে বুড়ো ছিলো। বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে বুড়োর দিন চলতো।
বুড়োটা একদিন এক বাড়ির উঠোনে গিয়ে হাঁক দেয়, বাবাগো, মাগো, দুইটা ভিক্ষা দেন।
বাড়িতে তখন কেউ ছিলো না। খালি বাড়িতে মৃত্যুদূত এসে বসেছিলো। বুড়োর হাঁক শুনে মৃত্যুদূত বেরিয়ে এলো।
কে রে?
আমি হাড় জিরজিরে বুড়ো, আমারে গায়ের সব্বাই চেনে, তুমি চেনো না!
চিনিরে, তোকে ভাল করেই চিনি, প্রথমে বুঝতে পারিনি।
ও, তা তুমি কে বাপু?
আমি মৃত্যুদূত।
কে?
ঘাবড়াসনে বুড়ো, আমি মৃত্যুদূত।
ঘাবড়াবো কেন, আমি কি মরণকে ভয় পাই, তিনকুল গিয়ে চারকুলে ঠেকলো এখন আর মৃত্যুদূতকে ভয় কিসের!
তা ঠিক।
তো তুমি এখানে কী করতে এসেছো?
আমার যা কাজ!
কার জান নেবে তুমি?
এ বাড়ির বড় ছেলের। সেই জন্য অপেক্ষা করছি।
আহা, ছেলেটা নতুন বিয়ে করেছে, ওর জান নিয়ো না এখনি।
চুপ থাক বুড়ো, যেটা বুঝিস না সেটায় নাক গলাবি না।
তুমি বরং আমার জান নাও, আমার তো আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না।
তোর জান নিয়ে কী লাভ, তুই তো এমনিতেই ঘাটের মরা।
খবরদার, ঘাটের মরা বলবি না বলে দিচ্ছি!
এই বুড়ো, এই, তুই আমাকে ভয় পাস না?!
তোকে ভয় পাওয়ার কী আছে? সবাই তো মরবে তাহলে মরণকে ভয় কিসের!
তবে জেনে রাখ বুড়ো, একদিন তুইও মরণকে ভয় পাবি, আর যেদিন ভয় পাবি সেদিনই আমি আসবো বলে রাখলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29236189 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29236189 2010-09-06 20:19:43
আরো তিনটি ছোট ছোট ছোটগল্প
লোকটা কোন পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়নি। সেই নিয়ে লোকটার মনে কোন দুঃখ নেই। দুঃখ আছে তার আশেপাশের লোকদের। সে তাদের দুঃখ বুঝলে কিছু করতে পারে না। সবাই কি আর সফল মানুষ হয়! তবু শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের কী কৃপা, একটা জলজ্যান্ত মেয়ে লোকটাকে ভালোবেসে ফেললো। যদিও তার না আছে চেহারা-ছিরি, না আছে কোন গুণ-ধন!
মেয়েটি বলে ও একজন কবি, কত ভাবনাই না ওর মগজে ঘোরে।
লোকটা তো অবাক!
কবিতা, আমি তো কবিতা লিখতে পারি না! হ্যাঁ, এইটা ঠিক সারাদিন রাত আমি শুধু ভাবি, কি হলে কী হতো, কি না হলে কী হতো এই সব হাবিজাবি ভাবি, তা ভাবনাকে কেউ কবিতা বলে!
মেয়েটি কিন্তু ওইসব শোনে না। সে বলে, দেখো যা ভাবনায় আসে তাই লেখো।
কী আর করা। লোকটা কবিতা লিখতে লাগল। কিন্তু কবিতা তো ছাপাতে হবে। খুব ভয়, দ্বিধা নিয়ে সে গেল কাগজগুলোতে। সম্পাদক তাকে বলে, এইখানে তো চন্দ্রবিন্দু দিতে হবে, লোকটা মাথা নিচু করে থাকে। সম্পাদক বলে, এই ভাষায় তো কবিতা লেখা ঠিক না, লোকটা লজ্জা পায়। সম্পাদক বলে, ছন্দ কোথায়, লোকটা ফিরে আসে।
মেয়েটি খুব বিরক্ত হয়, ধুর, তুমি আসলেই একটা অপদার্থ, একটা কবিতাও ছাপাতে পারলে না!
লোকটা বলে, আমি তো আসলে কবি না।
তুমি আসলে কী?
আমি কিছু না।
ঠিক আছে, আমি চললাম।
মেয়েটি চলে যায়।
লোকটি তাকিয়ে থাকে।

দুঃখবাদী কবির সাক্ষাৎকার

আচ্ছা, আপনার কোনো দুঃখ নেই?
ঈশ্বরের দুঃখ থাকে আর আমার থাকবে না!
ঈশ্বরের দুঃখ, সত্যি আপনি বড় মজার মানুষ!
সত্যি, ঈশ্বর খুব শখ করে মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন।
না, জানতে চাইছিলাম, আপনার জীবনের সেরা দুঃখ কি?
কেন, সেই দুঃখকে পুরষ্কার দেবেন?
না, আপনার ভক্তরা জানতে চায়, কী কী দুঃখ আপনার।
কি হবে সে সব জেনে?
আপনাকে ওরা ভালবাসে।
ভালোবাসে!
জ্বী।
বেশ, কিন্তু আমি তো আমার দুঃখ দেখাতে পারবো না। আমি তো দুঃখের ছবি তুলে রাখিনি।
আপনি কি জানেন, আপনি কথা বললেই কবিতা হয়ে যায়?
কি কবিতা হবে আর কি কবিতা হবে না সে তো আপনারা জানেন।
আপনি কি সমোলোচকদের কথা বলছেন?
না, আমি পাঠকের কথা বলছি, পাঠক যাকে কবিতা বলবে তা-ই কবিতা।
পাঠক তো সবাই।
ঠিক আছে, কথা হচ্ছিল দুঃখ নিয়ে।
দুঃখ যদি ছবি হতো, ফটোগ্রাফার হতাম আমি, আমি আপনাকে দেখাতে পারতাম তার কালার, কম্পোজিশন।
কিন্তু আপনি তো কবি, আপনার কবিতাতেই আপনি দুঃখ তুলে ধরেছেন।
তাহলে এতো প্রশ্ন কেন?
আপনার মুখ থেকে জানতে চাই, মানে পাঠকের প্রশ্ন, কী এমন দুঃখ আপনার যার জন্য আপনার সব কবিতাই জলে ভেজা?
মুখের কথা তো কবিতার চেয়ে সত্যি নয়।
তা নয়, তবে কবিতায় তো সব কেমন সাজিয়ে গুছিয়ে বলা হয়।
ঈশ্বরও তো সাজিয়ে গুছিয়ে সব সৃষ্টি করেছেন।
আপনি খুব ঈশ্বর মানেন?
ঈশ্বর দুঃখের মতোই মহান।


ছোটগল্প

প্রেম আসেনি কখনও আমাদের বাড়িতে। প্রেমের ছোট বোন এসেছিলো আজ অফিসে। হাত ধরে বইমেলা নিয়ে গেল [এসবই জয় গোস্বামী জানে], বইমেলা নিয়ে গেল ছোট বোন। বলে, পছন্দ করুন দেখি দুটো কবিতার বই। না, না কবিতা নয়, আমি বেছে নেই ছোটগল্প। কবিতা নয়, ছোটগল্প হোক।
প্রেমের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল চিঠিতে। ব্যাপারটি ঠিক পত্রমিতালি নয়। চট্টলা গিয়েছিলাম নাটক করতে। সেখানেই নাটকের মেয়ে প্রেমের সাথে দেখা। ফিরে এসে চিঠিতে ধন্যবাদ। সে বয়সে কখনো নিজেকে পত্রী’র শুভংকর, কখনো গুহ’র রাজর্ষি মনে হয়। প্রেম কিন্তু অনেক প্র্যাকটিকাল। ভাঙে কিন্তু মচকায় না কিছুতেই। শুধু চিঠি নয়, মাঝে মাঝে উপহারও আসে কুরিয়ারে। জন্মদিন, ভ্যালেন্টাইন ডে-তে বোনাস হিসাবে পাওয়া যায় টেলিফোন।
কিন্তু কবিতা নয়, প্রেম শুনতে চায় ছোটগল্প। কি করি আমি, কতটাকা বেতন, বাড়িটা নিজেদের কিনা, এর আগে কোন মেয়ের সঙ্গে ইয়ে হয়েছে কিনা- প্রেমের প্রশ্ন এসব গদ্য জুড়েই।
একদিন চিঠি দেয় প্রেমের ছোট বোন- কি, ছোট বলে আমাকে এত অবহেলা, কেন একটাও চিঠি দিন না আমাকে, আপনি ভীষণ... জান, বলবো না ছাই! শুনুুন, সামনেই আসছি ঢাকাতে এসেই করব টেলিফোন, তখন দেখি কী করে এড়ান আমাকে!
এড়াতে চাইনা মোটেও, কেন এড়াবো! কী আমার মেয়ে ওইটুকু মিহিদানা! এসেছো যখন ব্যাস চল বইমেলা। হাত ধরো, মেলায় অনেক ভিড়। তারপর বল কেমন আছে প্রেম?
না, না, কবিতা নয়, ছোটগল্পই নেব আজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29231673 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29231673 2010-08-29 11:24:41
আরো তিনটি ছোট ছোট ছোটগল্প জোনাকি

আকাশরাজ ডেকে পাঠালেন জোনাকিকে।
কী রে, কি শুনি এসব? কী হয়েছে তোর?
প্রভু, কিছু না।
খাস না, ঘুমাস না, আমাকে বল কি হয়েছে তোর!
জোনাকি মাথা চুলকে বলে, অভয় দেন তো বলি।
বল।
প্রভু, আমি প্রেমে পড়েছি। সকলেই অবাক। সভাতেই শুরু হয় ফিসফিস। ঐটুকু পোকা সে পড়েছে প্রেমে!
কার প্রেমে পড়েছিস তুই!
রাত্রির প্রেমে পড়েছি আমি।
যে রাত্রি হাজার হাজার নক্ষত্র বুকে নিয়ে ঘুমায়, যে রাত্রি আকাশের বুকে নীল ঢেলে দেয় - তাকে কিনা ভালবাসে জোনাকির মতো সামান্য পোকা!
তুমি ভুলে যাও তাকে।
যেখানে আকাশ দেবতা মানা করে দিয়েছেন সেখানে তো আর কথা নেই। তবু জোনাকি শোনে না সে কথা। অনেক সাধ্য সাধনা করে সে হাজির হয় রাত্রির কাছে। রাত্রি তো জোনকির কথা শুনে হেসেই আকুল। তবু জোনাকি বড়ো নাছোড়বান্দা। বিরক্ত হয়েই রাত্রি বলে, ঠিক আছে তুমি যদি আমাকে ভালোবাসো, তবে আমার জন্য আলো হয়ে জ্বলো। ব্যাস, সূর্যের কাছ থেকে আলো চুরি করে আনতে যায় জোনাকি। কিন্তু ঐটুকু পোকা আর কতটুকু আলোই বা আনতে পারে। বরং সূর্যের প্রবল তেজে জ্বলে যায় সে।
দেবরাজের কাছে খবর যায়, তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, তোর সব প্রেম নিয়ে সারা জীবন তুই জ্বলবি। কিন্ত যতোক্ষন আকাশে সূর্য থাকবে ততোক্ষনে কেউ তোকে দেখবে না, কেবল রাত্রি এলেই তার মুখ দেখবি তুই। তবু রাত্রিকে পাবি না তুই।

ইলেকট্রিক করাত কল-১
এবার একটা ইলেকট্রিক করাত কিনেছি আমি। নিখুঁত ধার আর মসৃণ দাঁত। অনায়াসেই নিজেকে খণ্ড খণ্ড করতে এখন আর অসুবিধা নেই। আর কোন টানা হেচড়া নয়; এখন সবার কাজে লাগবো আমি। আম্মুর আর মন খারাপ হবে না। আমার একটা টুকরাকে সারাদিন তার কাছে রেখে যাবো। আম্মু পায়েস রাধঁবে আর আমার একটা অংশ পায়েসে চিনির পরিমাপে সন্তোষ প্রকাশ করবে। ঠিক তক্ষুনি আরেকটা টুকরাকে পাঠিয়ে দেবো সুমার কাছে। সুমা সেই টুকরাকে কোলে নিয়ে খেলবে, গান শোনাবে আর নিজস্ব কায়দায় আদর করবে। আমার তৃতীয় টুকরাটা অফিসে তখন তুমুল ব্যস্ত থাকবে। অবারিত দ্রুততায় একটার পর একটা ফাইল খুলবে, ডাটা এন্ট্রি করবে, সেভ দিবে আর আসন্ন প্রমোশনের আশায় নিজের পিঠ নিজেই চাপড়াবে। ছোট্ট আরেকটা টুকরো কিন্তু এসব কিছুতেই থাকবে না। সেই অন্য টুকরাটা অচেনা ধানক্ষেতের আল ধরে হাঁটতেই থাকবে আর ক্লান্ত হয়ে গেলে রসবতী খেজুর গাছের নিচে জিভ পেতে দেবে। আমার অন্য আরেকটা টুকরা তখন ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে ইংরেজী শব্দগুলোকে সামলাতে থাকবে আর আমার অন্য আরেকটা টুকরা তখন বাসের হেন্ডেল আকড়ে মতিঝিল আসতে না-আসতেই অন্য আরেকটা টুকরা গুলিস্তানের মোড়ে কচি শশায় দাঁত বসাবে; আর ঠিক তক্ষনি আমার আরেকটা টুকরা অসুন্থ বন্ধুকে দেখতে মেডিকেলের দিকে এগুতে থাকবে...
আর এইভাবে আমি টুকরায় টুকরায় ছড়িয়ে দেবো নিজেকে সবখানে। কেননা এতোদিনে একটা ইলেকট্রিক করাত কল কিনতে পেরেছি আমি।

ইলেকট্রিক করাত কল-২ রাত্রি নেমে গেছে। এবার সবগুলো টুকরা আবার জোড়া দেয়া জরুরি। কিন্ত তিনজন টুকরাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই। প্রতিদিনের মতো আজ ভোরে তারা বেরিয়ে গিয়েছিলো; এখন আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসে নেই, রোজ যেখানে বিকালে আড্ডা মারে সেখানেও নেই, নেই পুরনো বকুলতলাতেও। হাসপাতাল, থানা আর বেশ্যালয়ে খোঁজ করা যেতে পারে ইর্মাজেন্সি ভিত্তিতে। কিন্ত মুশকিল হলো, ফিনাইল, পুলিশ আর ব্যবহৃত ছায়ার গন্ধ আমার ভালো লাগে না।
কী আর করা, লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে আমার অন্য টুকরাগুলোকে জিজ্ঞাস করলাম তারা জানে কি-না কিছু! না, আমার ফিরে আসা টুকরাগুলোও জানে না, বাকী তিনজন কোথায় আছে!
তক্ষুণি, মেঘেদের মাঝে একটা আচঁড় দেখা গেলো। তক্ষুণি পাঠালাম দূত, তিনি জানালেন, না ওইখানে লুকায়নি আমার কোন টুকরা। দীর্ঘশ্বাস যতটুকু জমা ছিল খরচ হয়ে যাওয়ায় একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বন্ধুবরেষু বৃক্ষ শামীম রাজাকে জিজ্ঞাস করলাম, কি রে শালা শেষ পর্যন্ত আমার একটা টুকরা তুই রেখে দিলি, এতটা আÍীয়তা মানি না। শালার বেটা ঘাড়ে থাপ্পর দিয়ে সরে গেলো।
যাক।
এখন দূর্নাম আর দুর্মুখেরা থাকুক, কিছু ফিরে আসা থাকুক ঈদ বোনাসে। আমার আসলে অনেক কাজ। একদা বহু শখ করে কেনা ইলেকট্রিক করাত কলে নিজেকে যত টুকরা করেছিলাম, পাঠক, তোমাদের বলি, আমি মুম রহমান আমার তিনটা টুকরাকে আজ আর খুঁজে পাইনি। আর বলি, সেইসব টুকরার কোনো একটিতে কস্তরি গন্ধ ছিলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29219615 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29219615 2010-08-10 22:05:33
বন্ধুত্ব সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত উক্তি - জ্যাক দেলিল [১৭৩৮- ১৮১৩], ফরাসী কবি

একজন বিশ্ব¯ত বন্ধু দশ হাজার আত্মীয়ের সমান
- ইউরিপিদিস [গ্রীক নাট্যকার]

বন্ধত্ব একমাত্র সিমেন্ট যা সবসময় পৃথিবীকে একত্র রাখতে পারবে।
- উইড্রো উইলসন

যদি তুমি মানুষকে বিচার করতে যাও তাহলে ভালবাসার সময় পাবে না।
- মাদার তেরেসা

দুঃখ নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারে, কিন্তু আনন্দের পুরোটা উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই তোমাকে তা কারো সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।
- মার্ক টোয়েন

কখনো কোন বন্ধুকে আঘাত করো না, এমনকি ঠাট্টা করেও না।
- সিসেরো

কোন মানুষই অপ্রয়োজনীয় নয় যতোক্ষন তার একটিও বন্ধু আছে।
- রবার্ট লুই স্টিভেন্স

সর্বোৎকৃষ্ট আয়না হলো একজন পুরনো বন্ধু।
- জর্জ হার্বাট

বন্ধু কি? এক আÍত্মার দুইটি শরীর।
- এরিস্টটল

বন্ধুদের মধ্যে সবকিছুতেই একতা থাকে
- প্লেটো

আমার বন্ধুর জন্যে সবচেয়ে বেশি যা করতে পারি তা হলে শুধু বন্ধু হয়ে থাকা। তাকে দেয়ার মতো কোন স¤পদ আমার নেই। সে যদি জানে যে আমি তাকে ভালবেসেই সুখী, সে আর কোন পুরস্কারই চাইবে না। এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কি স্বর্গীয় নয়।
- হেনরি ডেভিড থিওরো

অন্ধকারে একজন বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা আলোতে একা হাঁটার চেয়ে ভালো।
- হেলেন কিলার

আহ্, কী ভালোই না লাগে - পুরনো বন্ধুর হাত।
- মেরি এঙলেবাইট

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29212830 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29212830 2010-08-01 17:19:13
সমালোচনা সস্পর্কে উক্তি -আব্রাহাম লিঙ্ক

সব সমালোচককে গুপ্তঘাতক দিয়ে হত্যা করা উচিত।
- মান রে

সমালোচকরা হলো হারেমের খোজার মতো । তারা প্রতি রাতে সেখানে থাকে, ব্যাপারটা হতে দেখে, কিভাবে হয় সেটাও জানে, কিন্তু নিজেরা করতে পারে না।
- ব্রনডান বেহান

অন্যের সমালোচনা করতে লোকে বিনা পয়সায় উপরী খাটে।
চার্লস করথিয়াস

সমালোচনা এড়াতে চাইলে Ñ কিছু কাে না, বলো না এবং কিছু হয়োও না।
-এলবার্ট হাবার্ড

সমালোচক? ওদের মগজের সবগুলো হাড্ডি আমার পছন্দ।
- ইউজিন ও নীল

তুমি যত ভাল আর সৎ সমালোচক হবে তোমার সৎকার অনুষ্ঠানে ততো কম বন্ধু ফুল পাঠাবে।
-জর্জ জিন নেইথেন

খারাপ সমালোচনার দিকে মন দিয়ো না। আজকের খবরের কাগজ কালকের টয়লেট পেপার।
- জ্যাক ওয়ার্নার

পোকামাকড় কামড়ায় হিংসার কারণে নয়, বাঁচার প্রয়োজনে। একই কথা সমালোচকদের জন্যও প্রযোজ্য। তারা আমাদের রক্ত কামনা করে, বেদনা নয়।
- ফ্রেডরিখ নিৎসে

ডিম না পেরে একজন সমালোচক কি অমলেট নিয়ে তার মতামত দিতে পারবে না?
- ক্লাইটন রসন

সময় হলো একমাত্র সমালোচক যার কোন উচ্চাকাঙ্খা নেই।
জন স্টাইব্যাক

তারা যুগ যুগ ধরে ভুল শব্দ খুঁজে বেড়ায়, যেগুলো তাদেরকে মূল্য দিবে, এবং শেষে তারা তা পায়ও।
-পিটার উইসটিনভ

আমেরিকান সমালোচকরা হলো আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। তাদের উভয়েরই আছে নির্বোধ ও অর্ধমৃত পর্ষদ।
এডর্য়াড এলবি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29207465 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29207465 2010-07-25 23:46:15
উত্তম কুমার সম্পর্কে বিখ্যাতদের উক্তি

‘‘এ রকম খাঁটি বাঙালি আমি কম দেখেছি। আমি নিজে ধুতি পাঞ্জাবি, কালোজিরে দিয়ে পারশে মাছের ঝোল, ঘরে পাতা দই, এ সবই পছন্দ করি। তবু বলব উত্তমদার মতো এমন ভাবনাচিন্তায়, হাঁটাচলায়, কথাবার্তায়, খাওয়াপরায় বাঙালি আমি বোধহয় কোনদিন হয়ে উঠতে পারব না।’’
- মিঠুন চক্রবর্তী, বাংলা ছবির উত্তম পরবর্তী নামকরা নায়ক, মৃণাল সেনের মৃগয়া ছবির মাধ্যমে অভিষেক, প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার। পরবর্তীকালে মুম্বাইয়ের হিন্দি ছবিতে ডিস্কো ডান্সার, রকি, অগ্নিপথের মতো অসংখ্য হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন।

‘‘অনেকেই ভাবেন আমি উত্তম কুমারের অভিনয়ের তীক্ষ্ম সমালোচক। ব্যাপারটা আদৌ তা নয়। ওঁর মতো বড় মাপের অভিনেতা আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। আমি ওঁর অভিনয়ের ভক্ত, গুণমুগ্ধ। আসলে কিছু ছবিতে ইমেজসর্বস্ব অভিনয়ে দেখে এই ভেবে ব্যথা পেয়েছি, এই হ্যাংওভারটা কাটিয়ে উঠতে পারলে ওঁর অভিনয়ের মাত্রা কোন্ জায়গায় গিয়ে পৌঁছোত। দুঃখটা পেয়েছি একজন গুণমুুগ্ধ হিসেবেই। সমালোচনা করেছি উত্তমকুমারের অভিনয়ের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা আছে বলেই।’’
- সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসার, অপরাজিত, গণশত্র“ ইত্যাদি বিখ্যাত ছবির নায়ক। তাকে কলকাতার ফিল্ম সোসাইটি চর্চা করা যুবকরা উত্তমের প্রতিদ্বন্দী হিসাবে দেখতে পছন্দ করতো।

‘‘আমার তো মনে হয় যে-ভাবে গোটা বাঙালি জাতির মুখ দেখা যেত উত্তমকুমারের মধ্যে সে-ভাবে আর কেউ পারবে না নিজের জাতকে তুলে ধরতে। ওভাবে ধুতির কোঁচাই ধরতে পারবে না কেউ।’’
- রাজেশ খান্না
‘‘যদিও আমার সঙ্গে উত্তমদাদার কোনো তুলনা হওয়া উচিত নয় কারণ দুজনে দুই ঘরানার, দুই ভাষার, দুই মেজাজের নায়ক, তবু একই ছবির রিমেক হলে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা এসে যায়। অন্তত দর্শক তো করেই। এখানে অবশ্য দায়িত্বটা আমার উপর পড়ায় একটু বেশি কঠিন হয়ে গেল কাজটা। তা কী আর করা যাবে। ‘অমর প্রেম’ সুপারহিট হয়েছিল সবাই জানে, অনেকেই হয়তো বলবে আমি দূর্দান্ত অভিনয় করেছি, কিন্তু আমি নিজে জানি উত্তমকুমার আমার থেকে একশো মাইল এগিয়ে ছিলেন।’’
- রাজেশ খান্না, হিন্দি ছবির কিংবদন্তী অভিনেতা। এখানে উল্লেখ্য, উত্তমকুমারের ‘নিশিপদ্ম’ ছবির রিমেক ‘অমর প্রেম’।

‘‘গৌরীশঙ্কর ও শঙ্কর সিং এই দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। উত্তম যে কতটা শক্তিমান অভিনেতা ‘ঝিন্দের বন্দী’ দেখেই আমি উপলব্ধি করতে পারি।’’
- গৌতম ঘোষ, পদ্মা নদীর মাঝি, পার, অন্তর্জলী যাত্রা ইত্যাদি ছবির পরিচালক

‘‘গঙ্গার বুকে আমি ও উত্তম এই রোমান্টিক দৃশ্যটা তখন দর্শকদের মুখে মুখে ফিরত। ‘শঙ্খবেলা’ ছবিটি আমি পরে আর দেখিনি। তবে স¤প্রতি টিভিতে ওই দৃশ্যটা আমি আবার দেখলাম। সেখানে একটা কথা বুঝলাম উত্তম মারাত্মক অভিনয় করেছিলেন। এটা খুবই ঠিক ‘শঙ্খবেলা’ পুরোপুরি রোমান্টিক ছবি। আর রোমান্টিক ছবির ক্ষেত্রে নায়ক হিসেবে উত্তমকুমারের কোন বিকল্প নেই।’’
- মাধবী চক্রবর্তী, সত্যজিৎ রায়ের ঘরেবাইরে দ্বারা বিখ্যাত নায়িকা হয়েছিলেন

‘‘শিল্পীদের মধ্যেই এমন কেউ কেউ থানে যাঁরা অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রেরণা হয়ে থাকেন। যাদের মধ্যে কাউকে দেখে সাহস পাওয়া যায়। এক কথায় শিল্পীদের শিল্পী। উত্তমকুমার ছিলেন তাঁদের একজন।’’
- তনুজা, হিন্দী ও বাংলা ছবি নায়িকা। তার কন্যা কাজলও হিন্দী ছবির নায়িকা হয়েছেন

‘‘সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে উত্তমকুমারের অভিনয় তুলনাহীন। আর ওকে ছাড়া যেন কাউকে মানাতও না ওই ভূমিকায়। ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিটা আমি বার তিনেক দেখেছি। ভাল অভিনয়ের ওই আরেক নমুনা। প্রায় প্রত্যেকটা চরিত্রই বেশ জটিল মানসিকতার। ‘গোলাপ কলোনি’ নামের আশ্চর্য বাগান-ডেয়ারিতে রহস্যের জট খুলতে ডাক পরে গোয়েন্দার। সেই গোয়েন্দার ভূমিকায় দূর্ধর্ষ অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার।’’
‘‘ডিটেকটিভ বলতেই আমাদের চোখে ভাসে ছিপছিপে, ধারালো, শক্তপোক্ত চেহারা। কিন্তু উত্তমকুমার তো ছিলেন এর ঠিক উলটো। নরম-সরম, প্রেমিক-প্রেমিক, আদুরে চেহারা। তাহলে কিভাবে ‘চিড়িয়াখানা’য় সফল হলেন উত্তম? তারথেকেও বড় প্রশ্ন অবশ্য, কেন সত্যজিৎ রায়ের মতো পরিচালক উত্তমকে বাছলেন। এ দুটো প্রশ্নের উত্তর আমার মনে হয় একই। উত্তম ভাল অভিনেতা ছিলেন বলে।’’
‘‘এদেশের সিনেমা বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিনেমা, অনেকক্ষেত্রেই সংলাপনির্ভর। সংলাপ বলার কায়দাটা উত্তকুমারের স্টাইলের অন্যতম। আর সেই ঘাড় দোলানো। মন জয় করা হাসি। উত্তমকুমারের গোড়ার দিকের অভিনয়ে হলিউডি ছাপ পাওয়া যায়। পরে একান্ত নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি করে নেন। হাঁটাচলা কথা বলা সবটার মধ্যেই একটি আভিজাত্য ছিল যে কিছুতেই এড়ানো যেত না। একটু মোটার ধাঁচ থাকলেও এক্সপ্রেশন ছোটাতে পারতেন নিখুঁতভাবে।’’
- শত্র“ঘœ সিনহা, হিন্দী ছবির বিখ্যাত অভিনেতা, অন্তর্জলী যাত্রার মতো বাংলা ছবিতেও অভিনয় করেছেন।

‘‘যদিও উত্তমদার আদি অকৃত্রিম পরিচয় রোমান্টিক নায়ক হিসাবে, তবুও আমার মনে হয় ‘অবাক পৃথিবী’ ছবিতে উত্তমদা যে চরিত্রটি চিত্রায়িত করেছিলেন, তারই প্রকাশ আমরা দেখেছি, পরবর্তীকালের বিভিন্ন অ্যান্টি হিরো-র মধ্যে।’’
উত্তমদার অভিনয় মেপে দেখার যন্ত্র আমাদের কেন, বিদেশেও আবি®কৃত হয়নি।’’
- বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, বাংলা ছবির অভিনেতা, মূল অ্যান্টি হিরো বা খল নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘‘লাল পাথর’-এর সেই চিৎকার করে বলা ‘আমাকে মুক্তি দাও’, সংলাপ বলার অনবদ্য সেই কায়দাটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। সেই যে উন্মাদ প্রেমিক, যে প্রেমিকার খুন-রাঙা বেদি মুছত আর হাহাকার করনত দিনরাত, উত্তমকুমার কী অপূর্ব ফুটয়েছিলেন! উতেপুর সিক্রির দেয়ালে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফেরা, তার আর্তনাদ আজও কানে বাজে। বাংলা আর হিন্দি দুভাষাতেই ছবিটা হয়েছিল। দুটোই দেখেছি আমি। তবে ‘লাল পাথর’-এর উত্তমকুমার আর ‘লাল পাথর’-এর রাজকুমারের কোনো তুলনাই চলে না। রাজকুমারের অভিনয় প্রতিভা সম্পর্কে পুরোপুরি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে পারি, উত্তমকুমার অতুলনীয়।’’
- শশী কাপুর, হিন্দি ছবির অভিনেতা এবং রাজকাপুরের ছোট ভাই

‘সংলাপ বলার নিজস্ব কায়দা ছিল উত্তমবাবুর। শঙ্কর সিং আর গৌরীশঙ্কর Ñ ডাবল রোলে, বিশেষ করে গৌরীশঙ্করের ভূমিকায় যেখানে এক শহুরে যুবাকে সাজতে হচ্ছে রাজকুমার, উত্তম এককথায় অতুলনীয়। একজন মদ্যপ, নারীবিলাসী অথচ সাদাসিধে, আরেকজন বুদ্ধিমান, শিক্ষিত। এ-কিন্তু মোটেই সহজ কাজ নয়। উত্তম কতটা বড়ো অভিনেতা ছিলেন প্রতিভার বিচারে, তা মাপার চেয়ে আমার মনে হয় আজকের দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই যে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান অভিনেতা। অ্যাক্টিং ছিল তাঁর কাছে উষ্টদেবতার মতো, ফুল বেলপাতা চন্দন ঠিকঠাক সাজিয়ে গুছিয়ে মন এক জায়গায় স্থির রেখে অভিনয় করতেন তিনি। যখন উত্তম দাঁড়াতেন ক্যামেরার সামনে, বাইরের পৃথিবীর সুখ-দুঃখ যেন স্পর্শ করতা না তাঁকে।’’
- শক্তি সামন্ত, হিন্দী ও বাংলা ছবির চলচ্চিত্র পরিচালক। উত্তমকুমারের জন্যেই তিনি ‘অমানুষ’ ছবিটি তৈরি করেছিলেন বাংলায়।
‘‘উত্তম আমার বন্ধু। এক কথায় গ্রেট, গ্রেট আর্টিস্ট। তবু যেন মনে হয় ওকে ঠিকমতো এক্সপ্লয়েট করা হয়নি।’’
-সুচিত্রা সেন, উত্তমের অসংখ্য হিট ছবির জুটি, বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম সুচিত্রা জুটি সবার উপরে


মা : চপলা দেবী
বাবা : সাতকড়ি বাবু



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29206540 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29206540 2010-07-24 19:09:02
আরো তিনটি ছোট ছোট ছোটগল্প ১. পালকের গল্প পাখির গায়ে লেগেছিলাম আমি। কেমন করে যেন খসে পড়েছি। পড়তে পড়তে আমি ঠাঁই পাই এক বাঁশ ঝাড়ের পায়ের তলায়। আর পাখি উড়ে গেলো দূরে। আমি পড়ে থাকলাম একা।
অনেকদিন পর একটি বালক আমাকে কুড়িয়ে পেলো। তখন ছিলো শীতকাল। বালকটি দূরবীন হাতে ঘুরছিলো। কুয়াশায় ভেজা আমার শরীর। প্রথমে তার জুতার নীচে চলে গেলাম আমি। বালক পা উঠাতেই আমাকে দেখতে পেলো। দেখতে পেলেই বা কী! অবহেলায় পড়ে থাকতে থাকতে আমার সেই রঙ হারিয়ে গেছে। আমি জানতাম কেউ আমাকে নেবে না। সে-ও আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছিলো, কিন্তু কী যেন কি ভেবে আবার ফিরে এলো! আমাকে উঠিয়ে নিলো। তার সরু দুই আঙুলের আদরে পরিষ্কার করলো আমাকে। তারপর তার ডায়রির পাতায় শুইয়ে আমাকে নিয়ে এলো ঘরে।
সেই থেকে আমি এই ঘরে আছি। আরও কয়েকজন ঝরা পালকের সঙ্গে আমি একটা ফুলদানীতে গলা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। সারাদিন যায়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকে। আমরা কয়েকজন পালক সন্ধ্যার অপেক্ষায় দিন কাটিয়ে দেই কোনভাবে। সন্ধ্যায় বালকটি ঘরে ফিরে এসে সব খুলে দেয়। তখন বুক ভরে নিঃশ্বাস নেই আমি। কিন্তু শান্তি পাই না। কেননা, রাত বাড়তেই আলো নিভিয়ে জোরে গান ছেড়ে বালকটি বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদে, প্রতিরাতে কাঁদে।
আর বালকের কান্নায় আমার মনে পড়ে, পাখির শরীর থেকে খসে গেছি আমি আর পাখি একবার আমার দিকে না-তাকিয়ে উড়ে গেছে দূরে, অনেক দূরে...

২. সন্দেহ মোমিন ভাই অপলক তাকিয়ে ছিলেন শূন্যে, তার চোখে কোন পানি নেই। আমাকে দেখে খুব স্বাভাবিক কন্ঠে বললেন, পারভিন, তুমি এসেছো, দেখো, মিলি মরে গেছে।
মৃত্যু সত্যিই এতো অনিশ্চিত, অনির্ধারত এবং অবধারিত! এমন তো কোন বয়স হয়নি তার, কোনো রোগ শোকও ছিলো না। হাসি খুশি একটা মানুষ, প্রায় বিনা কারনে হুট করে চলে যাবে! আমি কেঁদে ফেললাম।
কাঁদিস না, কাান্নাকাটি মিলি পছন্দ করে না। দেখ, বাচ্চা দুটোকে কিছু খাওয়াতে পারিস কিনা। রুমা-ঝুমা জড়াজড়ি করে দরজার এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি বেড়িয়ে গেলাম ওদেরকে নিয়ে।
ওরা ভালভাবেই খেলো। শুধু রুমা একবার জিজ্ঞেস করলো, আন্টি, মা আর আসবে না?
না আসবে না। তাতে কি, আমি আছি না।
ঝুমা আমাকে আঁকড়ে ধরলো। আমি থাকলাম কয়েকদিন, রুমা-ঝুমার পরীক্ষা চলছিলো।
এমন সময় মোমিন ভাই একদিন রাতের খাবার পর এলেন আমার ঘরে। নিঃশব্দে। আমি চমকে উঠলাম।
পারভিন, এবার তুমি চলে যাও।
বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। আমি বোকার মত তাকিয়ে রইলাম। তাহলে যে কথাটা ক’দিন আমার আড়ালে ঘুরছিলো তাই ঠিক!
আমি দূঃখিত পারভিন, তোমার কাছে আমি ঋণী, কিন্তু কী করবো মিলির মা তোমার থাকাটাকে অন্য চোখে দেখছেন। আমি লজ্জিত। মোমিন ভাই তখন কাঁদলেন অথচ মিলি আপুর মৃত্যূতেও তিনি কাঁদেননি।
পরদিন সকালে আমি কাউকে কিছু না বলে চলে এসেছি।
সময় পেলে রুমা-ঝুমাকে দেখতে যাই ওদের স্কুলে।

৩. স্বপ্নের বেলুন বেলুন উড়ালে মনে হয়, লাল নীল হলুদ সবুজ কিছু স্বপ্ন ওড়াচ্ছি।
স্বপ্ন তো ওড়াতে নেই। সবাই বরং তাকে ধরতে চায়।
হু, তা ঠিক। এমনি মনে হলো, তাই বললাম, বেলুন কিনে দেবে আমাকে?
তোমাকে লক্ষ বেলুন দিতে পারি।
এর বেশি কথা হয় না। তখনই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায়। জানি না, কেন মিলিকে নিয়ে এ স্বপ্নটা দেখি বারবার!
একদিন ওকে বলি, চলো তোমাকে কিছু বেলুন কিনে দেই।
ধুরও পাগল, বেলুন দিয়ে আমি কী করবো, বেলুন নিয়ে খেলার বয়স আছে আমার?
কত বয়স তোমার মিলি?
এই বারো কি তেরো!
তাহলে এইটুকু বয়সেই তোমার শরীর এত্তো উত্তাল!
অসভ্যতা করো না।
মিলির চিমটি খেয়ে আমি চুপসে যাই। কিন্তু স্বপ্নের বেলুন গুলো উড়তেই থাকে। তখন মিলিকে আমি স্বপ্নের কথা বলি।
মিলি অবাক হয় না, øেহমাখা গলায় বলে, তুমি এখনও ছেলে মানুষ রয়ে গেছো বাবু, ছেলেবেলায় বেলুন কেনার জন্য জেদ ধরতে?
আমার ছেলেবেলা বলে কিছু নেই। সেই বয়সটা একা ব্রক্ষপুত্রের তীর ধরে হেঁটে কাটিয়ে দিয়েছি আমি।
তখন মিলি আমাকে বুকে চেপে ধরে, পাগলরে, কই ছিলি তুই, খুব কষ্ট করেছিস নারে!
আমার কান্না পায়, কিন্তু কাঁদি না।
শোন, আমাদের বিয়েতে তুুই অনেক বেলুন কিনিস। সেদিন ছাদে উঠে গিয়ে আমরা একসাথে বেলুন ওড়াবো।
হ্যাঁ মিলি, হ্যাঁ। আমি তোকে অনেক ভালবাসবো, দেখিস। বলতে বলতে তাঁর বুকে স্বপ্নের বেলুন খুঁজি, খুঁজতেই থাকি...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29205304 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29205304 2010-07-22 19:39:28
ফ্রিজিং টিপস ব্যস্ত জীবনে সবাইকেই ফ্রিজে খাবার রাখতে হয়। আধুনিক জীবন যাত্রায় খাবার সংরক্ষণে ফ্রিজিং একটি অন্যতম কৌশল। কীভাবে ফ্রিজে কোন জিনিসটি রাখলে আরও ভাল থাকবে আসুন সেটা জেনে নেই।
টিপস
১. ফ্রিজে কাচা মরিচ রাখার আগে, এর বোটাগুলো ফেলে দিন, এতে করে মরিচগুলো অনেকদিন তাজা থাকবে।
২. যে কোন ধরণের বিন ফ্রিজে রাখার আগে ভাল করে ধুয়ে, শুকিয়ে রাখুন, নইলে ফাঙ্গাস জমবে।
৩. দুধের প্যাকেটগুলো ফেলবেন না। ডিপ ফ্রিজে মাছ, মাংস রাখার জন্য এই প্যাকেটগুলো সবচেয়ে ভাল।
৪. কাটা, বাতিল সুতি কাপড়, কিংবা পুরনো বালিশের কভার দিয়ে ছোট ছোট থলে তৈরি করুন। পাতাঅলা শাক-সবজি এই ব্যাগে বেশি তাজা থাকবে।
৫. ফল এবং শাক সবজি অবশ্যই আলাদা প্যাকেটে রাখবেন, শুধু তাই নয়, ভালভাবে সংরক্ষন করতে চাইলে প্রতিটি ফল বা সবজির জন্য আলাদা আলাদা প্যাকেট করুন। ফল থেকে ইথালিন গ্যাস [বঃযুষবহ] বের হয় যা সবজিকে হলুদ করে দেয়।
৬. ডিমের ওপরে ব্রাশ দিয়ে খাবার তেল মেখে দিন, এখন মাসের উপর রাখলেও ডিম পচবে না।
৭. ব্লটিং পেপার দিয়ে পনিরকে ঢেকে রাখুন, দীর্ঘদিন রেখে খেতে পারবেন।
৮. রান্না করা কোন খাবারই দুঘণ্টার বেশি বাইরে রাখবেন না। ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রাখুন।
৯. আঙ্গুর, কলা, তরমুজ, খেজুর জাতীয় ফল ছিদ্রযুক্ত প্যাকেটে রাখুন।
১০. পাউরুটির প্যাকেটে লেবু বা কাঁচা মরিচ রাখলে বেশিক্ষন তাজা থাকবে। ধনে পাতা প্যাকেটে এবং কারি পাতা, পুদিনা পাতা খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখলে ভাল থাকবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29205038 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29205038 2010-07-22 11:50:59
পরিবেশ বান্ধব চলচ্চিত্র বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ছে। মানি বা না মানি আমাদের এই পৃথিবীর আবহাওয়া প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে এবং বদলটা খারাপের দিকে। চলচ্চিত্র এমন একটা মাধ্যম যেখানে সব কিছুর ছাপ বা প্রভাব পড়ে। এখনকার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় পরিবেশ, বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি উঠে এসেছে অনেক চলচ্চিত্রেই।
তারই কিছু বর্ণনা দেয়া গেল :

কাহিনীচিত্র

১. আ সিভিল অ্যাকশন [১৯৯৯] : আইনজীবি জন ট্রাভলটার এক দশক ধরে আইনী লড়ছেন আমেরিকান এক কর্পোরেটের সঙ্গে। লড়াইয়ের বিষয় বস্তু পানি দূষণ। মাসাচুটের অধিবাসীর পক্ষে তার এই লড়াই ছবির মূল বিষয়বস্তু।
২. চায়না সিনড্রোম [১৯৭৯] : জেন ফণ্ডা, মাইকেল ডগলাস ও জ্যাক লেমনের মতো দূর্দান্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি এই ছবি ইতোমধ্যে ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়ে গেছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন ও তার সমস্যা নিয়ে এই ছবির গল্প গড়ে উঠেছে।
৩. এরিন ব্রকভিচ [২০০০] : এই দূর্দান্ত ছবিতে অভিনয়ের জন্য জুলিয়া রবার্টস অস্কার পেয়েছেন। মার্কিন জগতে এই ছবিতে অভিনয়ের কারণে তিনি পরিবেশ-বান্ধব বলে পরিচিতি পেয়েছেন। ছবিতে তিনি একটি আইনী সংস্থার একজন দাপ্তরিক কেরানি যিনি একটি নামী বিদুৎ কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
৪. ফায়ার ডাউন বিলো [১৯৯৭] : এ্যাকশন হিরো স্টিভেন সেগাল ছবিতে এনভায়রমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি [ইপিএ]-এর একজন এজেন্ট। তিনি তার এক সহকর্মীর হত্যা রহস্য সমাধানে নামে। শেষে খুনিকে তো ধরেনই এটাও আবিষ্কার করেন যে খুনিরা পরিবেশে মারাÍক বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ জড়ো করায়ও জড়িত।
৫. গরিলাস ইন দ্য মিস্ট [১৯৮৮] : রোয়ান্ডার গরিলাদের সংরক্ষণের কাজে নামেন সিগুরনি ওয়েভার। ছবিতে ডায়ান ফসি চরিত্রে তার অভিনয় অসাধারণ।
৬. সিল্কউড [১৯৮৩] : শের, মেরিল স্ট্রিপ আর কুর্ট রাসেলের এই ছবিও নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশন সমস্যা নিয়ে তৈরি।
৭. দ্য আমেরিকান প্রেসিডেন্ট [১৯৯৫] : মাইকেল ডগলাস আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। অবিবাহিত প্রেসিডেন্ট মিলিত হতে চান একজন পরিবেশবাদীর সঙ্গে।
৮. ডেনজার জোন [১৯৯৬] : আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় রন সিলভার বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ ফেলে বেড়ায়। পরিবেশের এই শত্র“র বিরুদ্ধেই এই ছবি।
৯. ফ্রি উইলি [১৯৯৩] : বিখ্যাত তিমি কিয়েকোকে নিয়ে এই ছবি।
১০. হ্যাকার্স [১৯৯৫] একদল প্রতিভাবান তরুন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ কর্পোরেটের লক্ষ লক্ষ টাকা মেরে দেয়া এবং সমুদ্রের চারপাশে গ্যালন গ্যালন তেল ফেলে দেয়ার কু-বুদ্ধি করে।
১১. পেলিক্যান ব্রিফ [১৯৯৩] : এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি সেরা দুই অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান, ডেনজেল ওয়াশিংটন আর অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টসের দূর্দান্ত অভিনয়। অস্কার জয়ী এই তিন ঝানু শিল্পী এই ছবির মাধ্যমে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে পরিবেশ আর রাজনীতির এক রোমাঞ্চকর কাহিনীর উšে§াচন করেন।
১২. অন ডেডলি গ্রাউন্ড [১৯৯৪] : এটিও স্টিভেন সেগালের ছবি। এখানে তিনি শুধু অভিনেতা নন, পরিচালকও। স্টিভেন প্রাক্তন এক সিআইএ এজেন্ট যিনি আলাস্কার কিছু তেল ব্যবসায়ীকে অনুসরণ করেন। তার আশঙ্কা এই তেল ব্যবসায়ীরা নিুমানে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে যার ফলে তেল ছড়িয়ে পড়বে এবং পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে।

তথ্য চিত্র
১. এন ইনক্নভিনিয়েন্স ট্রূথ [ ২০০৬] : আমেরিকার সিনেট, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আল গোর-এর এই তথ্যচিত্রের মূল বিষয়বস্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ [গ্লোবাল ওয়ার্মি]। সিম্পসন খ্যাত এনিমেটর ম্যাট গ্রোয়েনিংকে নিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে তিনি সহজ-সরল বোধগম্য করে উপস্থাপন করেছেন। প্রতিটি সচেতন মানুষের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য ছবি।
২. আর্টিক টেল [২০০৭] : মেরু ভাল্লুক আর সিন্ধুঘোটক [ওয়ারলুস] -এর দুই ছানাকে দিয়ে আর্টিকের বরফ ঘেরা পরিবেশে এই তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। ছবিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ, মেরুর বরফ গলা, মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের বিপর্যয় এবং পরিবেশন দূষণ তুলে ধরা হয়েছে।

৩. দ্য কোভ [২০০৯] : চলচ্চিত্রকার লুই শিহোস প্রাণী অধিকার রক্ষককর্মী [এনিমেল রাইট এক্টিভিস্ট] রিচার্ড ও’ বেরিকে অনুসরণ করে এই ছবি নির্মাণ করেছেন। জাপানী সরকার ও আন্তর্জানিত তিমি কমিশনের যৌথ চেষ্টায় জাপানের একদল লোভী জেলে বছরে হাজার হাজার ডলফিন শিকার করে। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কোথায় কিভাবে কেন হয় তাই ছবিতে সাহসের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
৪. ক্রুড [২০০৯] : নির্মাতা জো বার্লিঙ্গার তার এই ছবিতে টেক্সাকো/শেভরন আমাজন রেইনফরেস্টের যে ক্ষতি করছে তাই তুলে ধরেছেন। এই খ্যাতনামা জ্বালানি কোম্পানি তাদের বিষাক্ত বর্জ্যে ধ্বংস করছে বিশ্বের অন্যতম সেরা সবুজ বনানী। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আজ সোচ্চার।
৫. ডিস্আর্ম [২০০৫] : পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধকালে মাটির নীচে মাইন পোতা হয়ে ছিলো। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও সে সব এলাকা আজও নিরাপদ নয়। মাটির বুকে এখনও লুকায়িত আছে বিধ্বংসী মাইন। সেই সব ফেটে যে কোন সময়ই ঘটতে পারে বিপর্যয়। এই নিয়ে ডিস্আর্ম ছবিটি।
৬. আর্থ ডেজ [২০০৯] : প্রতিবছর জাকজমক করে আর্থ ডে পালন করা হয়। ষাটের দশকে মার্কিন পরিবেশবাদীরা সবাইকে সচেতন করতে এই দিবস চালু করেছে। কিন্তু বছরে একদিন পরিবেশ নিয়ে কাজ করে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে?
৭. দ্য এলেভেন্থ আওয়ার [২০০৭] : বারোটা এখনও বাজেনি, তবে পৃথিবীর এখন ১১টা বেজে গেছে। ক্রমশ পরিবেশ দূষণ আর বিপর্যয়ের কারণে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে তার শেষ মুহূর্তের দিকে। এখনই শেষ সময় পৃথিবীকে রক্ষা করার। ভূমিকম্প, ঘুর্ণিঝড়, সুনামি এই সব ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে আগে। অস্কার বিজয়ী অভিনেতা লিউনার্দো ডি ক্যাপ্রিও-এর প্রযোজনা ও উপস্থাপনায় এই তথ্যচিত্রে মূল্যবান মতামত রেখেছে স্টিফেন হকিংসের মতো সেরা বিজ্ঞানীরা।
৮. এম্পটি ওসেন’স, এম্পটি নেস্ট : দ্য রেস টু সেভ ম্যারিন ফিশারিজ : হ্যাবিটেট মিডিয়ার এই ছবিতে অপরিকল্পিত মৎস শিকারের ফলে সমুদ্রের পরিবেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে।
৯. ফ্লো - ফর লাভ অব ওয়াটার [২০০৮] : পৃথিবীতে ক্রমশ খাওয়ার পানির অভাব বাড়ছে। এ ছবিতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সাধারণ মানুষের নির্বুদ্ধিতা, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো অর্থ লোভ কিভাবে পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোকে ধ্বংস করছে। পানির অভাবে পৃথিবী যে প্রাণ শূণ্য হতে দেরী নেই এই তথ্যচিত্র তার আভাস য়ে। অন্যদিকে একাধিক প্রমাণ ও তথ্য সাপেক্ষে নেসলে, কোকাকোলা, পেপসি, ভিভেনডি, টেমস, সুয়েজ-এর মতো বড় বড় কোম্পানিকে এ জন্য দায়ী করা হয়েছে।
১০. দ্য গার্ডেন [২০০৮] : আমেরিকার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের কিছু কৃষকদের নিয়ে এ তথ্যচিত্র। লস-এঞ্জেলেসের দরিদ্র এই কৃষকরা নগরের এক পরিত্যক্ত এলাকায় ফুল ফোটানোর উদ্যোগ নিয়ে। কিন্তু স্বার্থপর জমির মালিক বাধা দেয়। নিজেরদের বাগানকে রক্ষা করতে আত্মসš§ান এবং পৃথিবীর প্রতি ভালবাসা নিয়েই তারা স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
১১. মাণ্ডা বালা [২০০৭] : ব্রাজিলের শ্রেণী সংগ্রামের এক রক্তাক্ত দলির এই তথ্যচিত্র। কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজের লোকের কীভাবে অসহায় দরিদ্রদের শোষণ করে, কীভাবে তাদেরকে অপহরণ করে এবং জবাবে গরীবরা কীভাবে নৃশংস হয়ে ওঠে তার পাশাপাশি ব্রাজিলের আমাজান বনের ব্যাঙের বিপন্ন জীবনও এ ছবিতে উঠে এসেছে।
১২. কিং কর্ন [২০০৭] : পরিবেশবাদী আয়ান এবং কুর্ট এক এককর জায়গা নিয়ে ভুট্টার চাষ করে। তথ্যচিত্রের আসল মজাটা শুরু হয় এরপরেই। তারা এরপর তাদের চাষ করা ভুট্টা আমেরিকার কোথায় যায়, এটিকে খাদ্য হিসাবে ক্রেতা কাছে পৌঁছাতে কি কি প্রক্রিয়া করা হয় এই সব কিছু অনুসরণ করে। তাদের অনুসন্ধনানের মাধ্যমেই দর্শক জানতে পারে অতিমাত্রায় যান্ত্রিকতার কারণে খাদ্য শস্য কিভাবে পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে ওঠে।
১৩. ট্রাবল দ্য ওয়াটার [২০০৮] : টিয়া লেসেন এবং কার্ল ডিয়েল নিউ অর্লেসের এক দম্পতি কিম্বার্লি ও স্কর্ট রবার্টকে অনুসরণ করে। এই দম্পতি ভয়াবহ হারিকেন ক্যাটারিনা থেকে বেঁচে যায় এবং তারা কিছু বিধ্বংসী চিত্র ধারণ করতে সক্ষম হয়। তাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি বিশ্বমাতা ক্ষুব্ধ হলে তার রূপ কতো ভয়াবহ হতে পারে।
১৪. আপ দ্য ইয়াশং [২০০৮] : চীনের বৃহৎতম নদী ইয়াশিং নদীর উপর থ্রি জর্জেস বাঁধ তৈরির কারণে তীরবর্তী মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়ে তাই নিয়ে এই ছবি। স্বল্প সময়ের অর্থনৈতিক লাভের জন্য মানুষ ও পরিবেশ কী কে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে এ তথ্যচিত্রে তাই তুলে ধরা হয়েছে।
১৫. হু কিলড দ্য ইলেকট্রিক কার?
১৬. বিখ্যাত জিএম ষড়যন্ত্রের দলিল এই তথ্য চিত্র। বিদুৎ চালিত পরিবেশ বান্ধব গাড়ি আবিষ্কার ও বাজারে ছাড়ার বিরুদ্ধে জিএম যড়যন্ত্র করেছিলো।
১৭. বি দ্য চেঞ্জ [২০০৮] : অন্য তথ্যচিত্রগুলো থেকে এটি এক অর্থে ভিন্ন। আর সব তথ্যচিত্রে যেখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে এখানে তা করা হয়নি। এই তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, কিভাবে বিশ্বকে বাঁচানো যায়। বর্তমান পরিবেশকে উন্নত করার ১০১টি উপায় এই চিত্রে দেখানো হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29203266 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29203266 2010-07-19 15:15:04
পুরনো না-জানিয়া চেয়ো না আমার আধেক আঁখির পানে আমরা পুরনো জিনিস ফেলে দিলে তা মাটিতে আর্বজনা হয়ে থাকে, মাটির সাথে মেশে না। আর নতুন নতুন জিনিস তৈরি মানেই শক্তির অপচয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ ঠেকাতে রিসাইকেল বা পুনরায় ব্যবহারের তুলনা নেই। আর যদি পুরনোকে নতুন করে ব্যবহার করা যায় তবে তো সোনায় সোহাগা ....
[এটি রিপোস্ট করা হলো সবার দৃষ্টি আকর্ষেনর জন্য]

দেখুন পুরনো প্যান্ট কোটের কী সৃষ্টশীল ব্যবহার



পুরনো কাঠের বেড়া দিয়ে নতুন ছবির ফ্রেম। বাশ দিয়ে করা যাবে।



রঙিন বোতলের নতুন ব্যবহার


ব্যাগ হোল্ডার। ছাতি মাতি রাখতে পারবেন। কাপড় প্লাস্টিক যা খুশি সেলাই করে বানান।



বিয়ার আর মদের বোতল কেটে দুধ বা জুসের গ্লাস


পুরনো ঝুড়ি, কোক-পেপসির ক্রেড কেটে মোড়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29202685 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29202685 2010-07-18 20:36:07
বান্দারবান http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29197440 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29197440 2010-07-11 22:06:41 স্বপ্ন নিয়ে ৩ টি ছোট ছোট ছোটগল্প
স্বপ্ন - ১,২,৩
১. স্বপ্নের সমাধান
অনেক দুর থেকে কান্নার মত ডাক শুনতে পাই। কে যেন করুণ সুরে ডাকছে, মা, মা... আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি। আমি ব্যস্ত হয়ে উঠি। কে হারিয়ে গেছে, কোথায় হারিয়ে গেছে! কিন্তু আমি কুয়াশা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাই না। শীতের সকাল অথবা বিকালও হতে পারে। কোথাও কিছু চোখে পড়ে না। বাতাসে খেজুরের গুড় আর ভাপাপিঠার গন্ধ। আমার খিদে পেয়েছে। কান্নার শব্দ থামছে না। গলার স্বরটা খুব চেনা লাগছে। মানুষটাকে দেখছি না। অনেক দূর থেকে, মনে হয় যতদূর থেকে শব্দ পৌঁছান উচিৎ নয় তার চেয়েও অনেক দূর থেকে চেনা কেউ কাঁদছে। কেঁদে কেঁদে ডাকছে, মা... মা... মাগো... আমি পথ হাড়িয়ে ফেলেছি। আমি হন্য হয়ে খুঁজি। প্রবল বেগে দৌঁড়াতে থাকি। আমার সারা শরীর ঘামে ভিজে যায়...
এই সময় খুব জোরে কি যেন একটা শব্দ হয়। কী যেন ভাঙে খানখান করে। আমার ঘুম ভেঙে যায়। হায়, আমার অনেক দিনের প্রিয় মগটা ভেঙে গেছে! এই কাচের মগের মধ্যে আমার অনেক দিনের স্মৃতি ছিল। স্বপ্নের তোড়ে সেইসব স্মৃতি ভেঙে গেল। আমি আবারও আমার পুরানো স্বপ্নটা দেখছিলাম। একটা খাবনামা কিনতেই হবে। স্বপ্নের ফ্রয়েডীয় ব্যাখ্যাটাও জানা দরকার। কেন আমি এই স্বপ্ন বারবার দেখি। কোথায় কবে শীতের কুয়াশায় পথ হারিয়ে ফেলি, সে ব্যাখ্যা জানা না থাকলে আমি যে বারবার স্মৃতির মগ ভেঙে ফেলব। আমার তো বেশি স্মৃতি চিহ্ন নেই।

২. স্বপ্ন
এক স্বপ্নকামী ভাবে- আমি প্রতিদিন স্বপ্ন দেখবো, জীবনে যত যাই ঘটুক প্রতিদিন আমি নতুন নতুন সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখবো।
একটা বইয়ে সে পড়েছে, মানুষ যা নিয়ে বেশি ভাবে তা-ই স্বপ্ন দেখে। ঘুমের মধ্যে মানুষের অবচেতন ভাবনাগুলোও নাকি স্বপ্নে এসে ঘোরাফেরা করে। সেই থেকে সে প্রতিদিন একটা একটা করে সুন্দর সুন্দর বিষয় নিয়ে ভাবতে লাগলো। একদিন ভাবলো, আমি আজ রাতে পদ্মপুকুর দেখতে যাবো। সারাদিন ভাবার পর রাতে স্বপ্ন দেখলো, একটা মাঠ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গোবরে পা দিয়ে ফেলেছে সে। তাতে অবশ্য হতাশ হলো না সে, বরং ভাবলো, গোবরেও পদ্মফুল ফোঁটে, অতএব আমি আমার ভাবনার অনেক কাছাকাছি যেতে পারছি।
তার কোন প্রেমিকা ছিলো না, কিন্তু একদিন সে তার একজন প্রেমিকার কথা ভাবলো, তারপর রাতের বেলা সে স্বপ্নে এক ভিখারীনিকে দেখতে পেলো। তাতেও সে অবাক হলো না, বরং ভাবলো ভিখারীও তো প্রেমিকা হতে পারে।
এই রকম অবশ্য বেশী দিন চললো না। খুব শীঘ্রই দেখা গেলো, সে যা ভাবছে তাই স্বপ্ন দেখছে। এখন সে যদি ভাবে বরফের দেশে গোলাপ ফুল ফোঁটে কিনা সে কথা, তবে রাতের বেলা স্বপ্ন দেখে, সাদা ধবধবে বরফের মধ্যে লাল টুকটুকে একটা গোলাপ ফুল ফুঁটে আছে।
এই ভাবে তার ভাবনাগুলো স্বপ্নে ধরা দিলো। আর সুন্দর স্বপ্নের আশায় সে সুন্দর সব ভাবনা ভাবতে লাগলো আর তার জীবনটা স্বপ্নের মধ্যে কেটে গেল।

৩. স্বপ্নের বেলুন
বেলুন উড়ালে মনে হয়, লাল নীল হলুদ সবুজ কিছু স্বপ্ন ওড়াচ্ছি।
স্বপ্ন তো ওড়াতে নেই। সবাই বরং তাকে ধরতে চায়।
হু, তা ঠিক। এমনি মনে হলো, তাই বললাম, বেলুন কিনে দেবে আমাকে?
তোমাকে লক্ষ বেলুন দিতে পারি।
এর বেশি কথা হয় না। তখনই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায়। জানি না, কেন মিলিকে নিয়ে এ স্বপ্নটা দেখি বারবার!
একদিন ওকে বলি, চলো তোমাকে কিছু বেলুন কিনে দেই।
ধুরও পাগল, বেলুন দিয়ে আমি কী করবো, বেলুন নিয়ে খেলার বয়স আছে আমার?
কত বয়স তোমার মিলি?
এই বারো কি তেরো!
তাহলে এইটুকু বয়সেই তোমার শরীর এত্তো উত্তাল!
অসভ্যতা করো না।
মিলির চিমটি খেয়ে আমি চুপসে যাই। কিন্তু স্বপ্নের বেলুন গুলো উড়তেই থাকে। তখন মিলিকে আমি স্বপ্নের কথা বলি।
মিলি অবাক হয় না, øেহমাখা গলায় বলে, তুমি এখনও ছেলে মানুষ রয়ে গেছো বাবু, ছেলেবেলায় বেলুন কেনার জন্য জেদ ধরতে?
আমার ছেলেবেলা বলে কিছু নেই। সেই বয়সটা একা ব্রক্ষপুত্রের তীর ধরে হেঁটে কাটিয়ে দিয়েছি আমি।
তখন মিলি আমাকে বুকে চেপে ধরে, পাগলরে, কই ছিলি তুই, খুব কষ্ট করেছিস নারে!
আমার কান্না পায়, কিন্তু কাঁদি না।
শোন, আমাদের বিয়েতে তুুই অনেক বেলুন কিনিস। সেদিন ছাদে উঠে গিয়ে আমরা একসাথে বেলুন ওড়াবো।
হ্যাঁ মিলি, হ্যাঁ। আমি তোকে অনেক ভালবাসবো, দেখিস। বলতে বলতে তাঁর বুকে স্বপ্নের বেলুন খুঁজি, খুঁজতেই থাকি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29195014 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29195014 2010-07-08 11:53:58
তবু চেষ্টার ত্রুটি ছিলো না সাবাশ উরুগুয়ে, লাল সেলাম।
নেদারল্যান্ডকে শুভেচ্ছা।
আচ্ছা, কেউ কি বলেতে পারেন, নেদারল্যান্ডকে হল্যান্ড বলে কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29194122 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29194122 2010-07-07 02:37:31
সমুদ্র বিষয়ক দুটি এবং পাখির পালক বিষয়ক একটি গল্প
১. সমুদ্র দর্শন
একেকটা ঢেউয়ের সে কি মাতলামি! মজার ব্যাপার কী জানো, আমি একটু সৈকতে দাঁড়িয়েছি আর হঠাৎ একটা ঢেউয়ের ঝাপটা এসেই ফিরে গেলো আর আমার মনে হলো পায়ের নিচ থেকে পৃথিবী সরে যাচ্ছে। ঢেউগুলো ফিরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বালুকে টান দেয় আর বালুতে দাড়াঁনো আমাকেও টান দেয়।
কিন্তু তুমি সমুদ্রে নামোনি?
না।
নামতে ইচ্ছে করেনি!
তবে শোন সে গল্প -
তখন রাত্রি। সব কাজ সেরে হোটেলে ফিরে ঘুমাবো। কিন্তু ঘুম আর আসে না। ভাবলাম, কাছেই সমুদ্র, যাই গিয়ে বসে থাকি। তারপর একা একা চলে গেছি সমুদ্রের কাছে।
বা!
বাহ্ নয়, সে এক ভয়ংকর ব্যাপার।
কেন?
সমুদ্র অনেক বড়, তার কোন কূল-কিনারা নাই, ঠাঁই নাই। তার ডাক উপেক্ষা করা খুব কঠিন। দিনের বেলা তবু পারা যায়। তখন আলো থাকে, মানুষ থাকে, কোলাহল থাকে। একা পেলে রাতের বেলা সমুদ্র এমন করে তোমাকে ডাকবে যে তোমাকে তার কাছে যেতেই হবে।
বা, গেলে ক্ষতি কি!
ওই যে বললাম, সমুদ্র অনেক বড়, ও তোমাকে এমন করে জড়াবে যে তুমি আর তোমাকে পাবে না। তাই বলি, সমুদ্রে একটু পা ডুবিয়ে এসে তুমি সারা জীবন গল্প করতে পারো, আমি সমুদ্র দেখেছি। সমুদ্রের আঙ্গুল ছুঁয়েই খুশি থাকতে পারো। কিন্তু খবরদার, সমুদ্রের বুকে যেও না।
তাহলে তুমি কী করেছিলে?
আমি? দৌঁড়ে হোটেলে ফিরে এসেছি।
তারপর?
টিভি ছেড়ে দিয়ে একটা বিয়ার খুলে বসেছি।

২. পূর্ণিমাতে সাগর সিনান
দিন তারিখ মেপে অবশেষে তারা কক্সবাজার পৌঁছে যায়। সন্ধ্যার আলসেমি ফুরিয়ে গেলে রাত্রি নামে। তখন তাদের মনে আনন্দ আর ধরে না! এক বন্ধু বলে- এমন পূর্ণিমা আর পাওয়া যাবে না, চলো বন্ধু বেরনো যাক, চলো জ্যোৎøা-øান করি।
তারা চার বন্ধু, সঙ্গে মল্লিকা। চার বন্ধু যতো খুশি মল্লিকা তারচেয়ে অনেক বেশি খুশি। নগরীর খাঁচা ছিঁড়ে সমুদ্রের বুকে যাবে বলে ছুটে এসেছে সে। ইচ্ছেমতো কবিতা লেখার স্বাধীনতা মনে নিয়ে চার বন্ধুর হাত ধরে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসে মল্লিকা। পূর্ণিমা ঢেলে দেবে কবিতার সুধা!
রাত্রি বাড়ে। পূর্ণিমা গাঢ়তর হয়। সমুদ্র পোয়াতি হয়। সৈকতে কাঁকড়া হেঁটে যায়। চার বন্ধুর সঙ্গে মল্লিকা গান ধরে, মদ খায়। নেশা জমে উঠে। চার বন্ধু বড়ই পুলকিত হয়। মল্লিকাও খুশি। শালা, এমন রাত্রি আর জীবনেও আসবে না- ভাবে সকলেই- অতএব নিঃশর্ত ফূর্তি হোক আজ।
আনন্দ আদিম হয়ে ওঠে। আগুন জ্বালানো হয়। পুরুষেরা প্রাচীন হয়ে ওঠে, মল্লিকা একাই রমণীকুল। আর দেখো, মল্লিকার শাড়িতে জ্যোৎøা ও বালু লুকোচুরি খেলে। দু’বন্ধু মল্লিকার বুক হাতড়ায়, অন্যেরা নিজেদের শিশ্ন। আবার বদলী রীতিতে অবস্থান পাল্টে যায়। সবচেয়ে পুরনো কায়দায় নারী-পুরুষের শিৎকার জমা হয়।
সৈকত ভারী হয়ে ওঠে। ভোর এগিয়ে আসে ধীরে। সূর্য ওঠে। বন্ধুরা ক্লান্ত হয়। মৃত মাছের মতো সৈকতে চিৎ হয়ে থাকে ওরা।
নেশা আর এ জন্মের মতো কাটে।
দূরে পুলিশের গাড়ি দেখা যায়।

৩. পালকের গল্প
পাখির গায়ে লেগেছিলাম আমি। কেমন করে যেন খসে পড়েছি। পড়তে পড়তে আমি ঠাঁই পাই এক বাঁশ ঝাড়ের পায়ের তলায়। আর পাখি উড়ে গেলো দূরে। আমি পড়ে থাকলাম একা।
অনেকদিন পর একটি বালক আমাকে কুড়িয়ে পেলো। তখন ছিলো শীতকাল। বালকটি দূরবীন হাতে ঘুরছিলো। কুয়াশায় ভেজা আমার শরীর। প্রথমে তার জুতার নীচে চলে গেলাম আমি। বালক পা উঠাতেই আমাকে দেখতে পেলো। দেখতে পেলেই বা কী! অবহেলায় পড়ে থাকতে থাকতে আমার সেই রঙ হারিয়ে গেছে। আমি জানতাম কেউ আমাকে নেবে না। সে-ও আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছিলো, কিন্তু কী যেন কি ভেবে আবার ফিরে এলো! আমাকে উঠিয়ে নিলো। তার সরু দুই আঙুলের আদরে পরিষ্কার করলো আমাকে। তারপর তার ডায়রির পাতায় শুইয়ে আমাকে নিয়ে এলো ঘরে।
সেই থেকে আমি এই ঘরে আছি। আরও কয়েকজন ঝরা পালকের সঙ্গে আমি একটা ফুলদানীতে গলা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। সারাদিন যায়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকে। আমরা কয়েকজন পালক সন্ধ্যার অপেক্ষায় দিন কাটিয়ে দেই কোনভাবে। সন্ধ্যায় বালকটি ঘরে ফিরে এসে সব খুলে দেয়। তখন বুক ভরে নিঃশ্বাস নেই আমি। কিন্তু শান্তি পাই না। কেননা, রাত বাড়তেই আলো নিভিয়ে জোরে গান ছেড়ে বালকটি বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদে, প্রতিরাতে কাঁদে।
আর বালকের কান্নায় আমার মনে পড়ে, পাখির শরীর থেকে খসে গেছি আমি আর পাখি একবার আমার দিকে না-তাকিয়ে উড়ে গেছে দূরে, অনেক দূরে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29189825 http://www.somewhereinblog.net/blog/moomrahaman/29189825 2010-07-01 22:33:06