somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার চোখে আমি (সংযোজিত)

১৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে চিনতে পারছো, অনিন্দ্য!
আমিতো সেই মেয়েটা-
তুমি যাকে প্রতিদিন গলির মোড়ে দেখে নাক সিঁটকাও।
আর মনে মনে আমাকে চেটেপুটে খাও হাজারবার।
ধর্ষণ করো লক্ষবার চোখে চোখে অথবা মনে মনে কিংবা বাস্তবেও।
আবার হাতমুখ ধুয়ে, ক্লান্ত নিস্তেজ অঙ্গটিকে টিস্যুপেপারে
বার কয়েক মুছে নিয়ে, আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে-
বলো, ছিঃ! নোংরা মেয়ে।

আমাকে চিনতে পারছো তো অনিন্দ্য!!
রোজ যাকে বাসে করে অফিসে যেতে দেখ
কখনো দাঁড়িয়ে রড ধরে হেলে দুলে
তুমিও দাঁড়াও আমার গা ঘেসে,
কখনো নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে আমার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্টো আমাকেই গালমন্দ করতে থাকো,
আমি কেন আমাকে সামলে চলতে পারিনি।
অথচ চালকের আচমকা ব্রেক কষলে যেন তোমার সুবিধাই হয় আরেকটু। হাত দুখানা চলে যায় জায়গামতো; কখনো সরি বলো
কখনো বা বিজয়ী হাসি। আমি তখনো কিছু বলতে পারিনি তোমাকে;
পাছে আমাকেই একজন বাজে মেয়ে সাব্যস্ত হতে হয়,
চোখে-মুখে গিলে খাওয়া অর্ধশত পুরুষদের সামনে।

আবার আমিই যখন বসে থাকি অনেক দুর্লভে পাওযা কোন সিটে,
তুমি তখন আমারি গা ঘেসে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকো
আমার বুকের অনাবৃত অংশ।
কল্পনায় তখন আমাকে নিয়ে তুমি অন্য জগতে।
কখনো বা মনে মনে ফুঁসতে থাকো
কামিজের গলাটা এতো চাপা হলো কেন
পারতো তো আরেকটু প্রসারিত হতে
তাহলে আর এতটা কষ্ট করতে হতোনা
না চাইতেই তোমার সুস্বাদু খাবারের সন্ধ্যান পেয়ে যেতে।

আমাকে কি এখনো চেনোনি, অনিন্দ্য!!
যাকে তুমি একবার রবি ঠাকুরের লাবণ্য নামেই বেশী ডাকতে,
কখনো আবার বনলতা সেন কিংবা সুনীলের বরুনা অথবা নীরা!
যখন যা ডাকতে ইচ্ছে করতো তাই ডাকতে।
মনে পড়ে বাংলা ডিপার্টমেন্টের সামনে
কতো অপ্রয়োজনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে।
শ'খানেক প্রেমের কবিতা একদম মুখস্ত করে ফেলেছিলে
শুধু আমাকে শোনাবে বলে।
তোমার কণ্ঠে আবুত্তি করা কবিতাগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম।
এত দরাজ কণ্ঠে কি করে করো! আমি তাজ্জব বনে যাই।
বারবার ছুটে যাই তোমার কণ্ঠে কবিতা শুনতে।
তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখো সারাদিন
কখনো গভীর রাত নেমে আসে
তোমার লোমশ বুকে মাথা রেখে, নাক ঘষে তোমার বুকে কখনো
মনে হতো তোমার ঐ বুকটাই আমার নিরাপদ আশ্রয়।
এরপর তুমিও বেসামাল হয়ে পড়তে
নিঃশ্বাস নিতে ঘনঘন
আদরে আদরে আমাকে পাগল করে তুলতে
কপাল থেকে শুরু করে চোখ নাক কান থুতনি এবং ঠোঁট;
ওখানে এসে তুমি থেমে যেতে, যেন যাত্রা বিরতি।
রঙ না মাখা আমার গোলাপী ঠোঁট দুটোই তোমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল।
এরপর এবং এরপর তুমি আর থেমে থাকতে না।
আমি যেন তোমাকে বাঁধা দিতে চাইতাম
কিন্তু ঐ বাঁধাটা কখনো তেমন জোরালো হতোনা।

এখনো আমাকে চিনতে পারলেনা, অনিন্দ্য!
যমুনা ব্রিজ দেখানোর কথা বলে
আমাকে নিয়ে গেলে যমুনার পারে, নতুন গড়ে ওঠা যমুনা রিসোর্টে
নিজেই ড্রাভিং করে এলে ঢাকা থেকে এতো দূর!
তোমার সে কি উচ্ছ্বাস!
আমার একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্য তোমার সে কি ব্যাকুলতা!
সারাটা পথ আবৃত্তি আর গানে আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলে।
তোমার যেন আর তর সইছিলোনা!
গাড়িতেই কয়েকবার জড়িয়ে ধরতে চাইলে
রিসোর্টে গিয়েও তোমার উৎসাহের কোন কমতি দেখিনি।
চমকে দিলে হীরের আংটি পরিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে।
সারাটা দিন আমাকে ভরিয়ে দিলে আদরে আদরে।
আমিও নিজেকে সঁপে দিলেম তোমার কাছে
সবকিছু উজার করে তোমাকে ভালো বাসলাম।
আর প্রতিদান হিসেবে তুমি ফেরার সময় বললে, ছিঃ! বাজে মেয়ে।।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫
১৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×