সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়া জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আসেন গোলাপী রঙের শাড়ি পরে। বাম হাতে খয়েরি রঙের একটি ঘড়িও ছিল তার। ঠোটে হালকা গোলাপী আভা। চোখে চশমা। খালেদা এসে তার জন্য রাখা নির্ধারিত চেয়ারে বসলেন। তখনই পরিবেশ খানিকটা ভারি হয়ে উঠল। দু’পাশে বসে আছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।
খালেদা জিয়া তার চেয়ারে বসে খানিকটা সময় নিলেন। তারপর সামনের টেবিলে রাখা লিখিত একটি বক্তব্যে চোখ বুলিয়ে নিলেন। তবে খুব একটা সময় লাগেনি তার চোখ থেকে অশ্রু গড়াতে।
বক্তব্য শুরু করার কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খালেদা জিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তাকে জোর করে এক কাপড়ে মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি নিজ ইচ্ছায় বাড়িটি ছেড়ে দিচ্ছেন বলে সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু আসলে তা নয়। তাকে জোর করে তার প্রায় ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়া কথা বলতে গিয়ে বার বার রুমালে চোখ মোছেন। এ সময় পুরো কক্ষের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
খালেদার পাশে বসা দলের সিনিয়র নেতাদেরও এ সময় চোখ মুছতে দেখা যায়।
খালেদা জিয়া বলেন, আমার বাড়ির মেইন গেইট ভেঙে ফেলা হয়েছে, স্টাডি রুম ভেঙে ফেলা হয়েছে, বেডরুমের দরজা ভেঙে আমাকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, তার বাড়ির সদস্যদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বেডরুমে ঢুকে সেনা সদস্যরা বলেছেন, ে
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা এখনো যদি যান, তাহলে দেখতে পাবেন, ঘরের দরজা ভাঙা।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এর বিচার আমি কার কাছে চাইবো জানি না। ’
সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা সময়ে কিছুক্ষণ পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষ করেও থামছিল না খালেদা জিয়ার কান্না। এ সময় উপস্থিত নেতা কর্মীরাও উচ্চৈ:স্বরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। এমনকি খালেদা জিয়া যখন গুলশানের কার্যালয় ত্যাগ করছিলেন তখন নারীকর্মীরা হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। কাঁদছিলেন ছাত্রদলের নেতারাও।
এ সময় ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ এবং মুহূর্মুহু স্লোগানের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



