somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এইটা কি হইল?
ভদ্রলোক যখন রেজিস্ট্রেশন করলেন তখনি দেখছি, গা করি নাই ... কিন্তু তার ফ্রন্টপেজে আসা প্রথম পোস্টটা দেইখা নিজের স্বাতন্ত্র্য জানান দেয়াটা জরূরী মনে হইল ...

অথরিটির উপরে ভরসা নাই ... তাগো অনেক কাজ, সেইসব থুইয়া আমার মত অভাজনের বিড়ম্বনা নিয়া তারা মাথা ঘামাইবেন এইটা আশা করি না, তাই আমজনতারে একটু দেখা দিয়া গেলাম ... উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপায়েন না কইলাম ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28726288 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28726288 2007-08-17 04:31:53
রজত জয়ন্তী :-)
সময়ের সাথে সাথে নাকি সব ঠিক হয়ে যায়...

কথাটা ঠিক না ... অনেক কিছুই ঠিক হয় না ... আমরা বেঠিকটাকে মেনে নিয়ে বাঁচতে শিখি ... ঘির জায়গায় সয়াবিনে অভ্যস্ত করি নিজেকে ...

এ ব্লগেরও তাই হবে বুঝতে পারছি ...

একজন অমিত আহমেদ (আমার ব্লগের প্রথম কমেন্ট করেছিলেন যিনি), একজন হাসান মোরশেদ, একজন সোহেইল জাফর, একজন জুয়েল ওসমান, একজন তাসনিম নুসরাত, একজন মি মো হু, একজন ধূসর ছায়া কিংবা একজন "চোর"এর মত "আবর্জনা" (কার্টসী টু হিজ হাইনেস)এর অভাব কেউ অনুভব করবে না ...

একজন এস এম মাহবুব মুর্শেদ কিংবা একজন মাহবুব সুমন কিংবা একজন আরিফ জেবতিকের ব্লগের থেকে মন উঠে গেলেও ব্লগিং থেমে থাকবে না ...

আনোয়ার সাদাত শিমুল কেন ব্লগিংকে অতীতকাল হিসেবে ট্রীট করেন কিংবা কনফুসিয়াসের পোস্ট অনেকদিন দেখা যায় না কেন সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আছে কয়জনের?

শুধু আমরা গুটিকয়েক স্বল্পবাক পাঠক প্রতিদিন সকালে ব্লগ খুলে ফ্রন্টপেজে কোন একজন প্রিয় ব্লগারের একটা পোস্টের আশায় বসে থাকব ...

যারা চলে গেছেন তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে ... তাঁদের সবাই আমার প্রিয় লেখক ছিলেন না অবশ্যই ... কারও কারও লেখা হয়তো পড়েও দেখিনি কখনো মন দিয়ে ... কিন্তু যে বিষণ্ণতা বুকে নিয়ে তারা সরে গেছেন সেটার কিছুটা তো অনুভব করতে পারি ... কোন কিছুর প্রতি একইসাথে তীব্র ঘৃণা আর তীব্র ভালবাসা পুষে রাখার মত যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু হতে পারে কি?

আমি জানি এই তীব্র ভালবাসার টানই তাদের কাউকে কাউকে আবার ফিরিয়ে আনবে ... অজস্র সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার জন্য ...


সামহোয়্যারিন কর্তৃপক্ষ জানতেও পারলো না গুটিকয়েক মেধাবী প্রোগ্রামার তাদেরকে কত মানুষের হৃদয়ের কত কাছে নিয়ে গিয়েছিল ...



২ ...

ব্লগে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য হেভি তোড়জোড় চোখে পড়ল .... স্বয়ং আরিল ব্লগিংয়ে বেশ ভালো সময় দিচ্ছেন ... ব্লগের মাথারা বড় বড় টু-ডু লিস্ট সাবমিট করছেন ... আমরা গরীব-মিসকিন মানুষ ... অল্পতেই আশাবাদী হয়ে যাই ...

প্রথম যেদিন সামহোয়ারিনে ঢুকেছিলাম তখন এই সাইটটাকে আমার অসম্ভব সম্ভাবনাময় মনে হয়েছিল ... আমি আশাবাদী এই একটিবার অন্তত আমাকে আশাহত হতে হবে না ...


৩ ...

যেখান থেকে এই পুরো বিতর্কের সূচনা ... সেই যুক্তিঞ্চের পোস্ট মুছা নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই ... কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আঘাত করা হলে, তা সে যত তুচ্ছই হোক না কেন, তার বিপক্ষে একশন নেয়ার ক্ষমতা সামহোয়ারিন অথরিটির আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি ... পোস্ট মুছে দেয়ার পর সেটার কারণ জানিয়ে একটা পোস্ট করাটাই যথেষ্ট ...

রাজাকার সমর্থক অথবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী পোস্ট মুছতে দেখলাম না কখনোই ... ওকে দ্যাটস ফাইন ... ইউ আর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ... কোনটা মুছা হবে আর কোনটা মুছা হবে না সেই ডিসিশন নেয়ার ফাইনাল অথরিটিও আপনাদের ...

কিন্তু এক্ষেত্রেও আমরা আপনাদের থেকে একটা এক্সপ্লানেশন আশা করি ...

জাস্ট একটা পোস্ট স্টিকি করেন: "মুক্তিযু্দ্ধ নিয়া আমাদের মাথাব্যথা নাই" অথবা "রাজাকাররাও মানুষ" অথবা "পাক সার জমিন সাদ বাদ " ... এনিথিং ... জাস্ট ক্লিয়ার ইওর পজিশন ... যারা সেটা মানতে পারে মানবে ... আর যারা না মেনে বেহুদা চিল্লাপাল্লা সেইসব "আবর্জনা"দের ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হবে ... খেল খতম ...

একই কথা গালাগালির ক্ষেত্রেও ... "গালিবাজি ও গলাবাজি নিষেধ" অথবা "এসো গালি দেই" অথবা "গাইল দিয়া অমুক সম্প্রদায়ের ভূত ছাড়াই" ... কিছু একটা ...

আমি জানতে চাই আমি ঠিক কোথায় আসি ... কার বাড়িতে আসি ... বাড়ির মালিকরা দয়া করে একটা নেমপ্লেটের ব্যবস্থা করেন ... সেটা দেখে যাতে ঠিক করতে পারি ঢুকব কি ঢুকব না ... ঢুকলেও বসব কিনা ... বসতে দিলে শুইতে চাব কিনা ...

নেমপ্লেটের নকশা কেমন হবে সেটা নিয়ে জনে জনে জিজ্ঞেস করতে যায়েন না ... ইউ আর ম্যাচিওরড এনাফ টু ডু দ্যাট অ্যালোন ...


৪ ...

বনেদী লোকজন মাসে মাসে সেন্চুরি করে ব্যাট উঁচু করেন ... বাণী-টানি দেন ... তাই দেখে এই গরিবেরও একটু শখ হইলো আর কি পঁচিশতম পোস্টে একটু ভাষণ দেয়ার ... কোয়ার্টার সেন্চুরী করে ফেললাম এটাও তো কম না :-)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28715677 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28715677 2007-06-12 07:32:32
হঠাত বৃষ্টি ...
যায় না ...

বহুদিন পরে আজকে ভিজলাম ... নীলক্ষেতে বই কিনাকিনির পর নিউমার্কেটের গেটে বন্ধু সহযোগে ফুচকা আর লাচ্ছি ভক্ষণের পর রাস্তা ক্রস করতে গিয়ে পড়লাম তীব্র ঠান্ডা বাতাসের ঘূর্ণিতে ... ধূলা থেকে নাকমুখ বাঁচানোর জন্য খিঁচে দৌড়ের মাঝেই শুনলাম এক রিকশাওয়ালার বিকট চিতকার "রহমতের বাতাস ছাড়ছে গো ..."

কিছু কিছু কথা ভাঙ্গা রেকর্ডের মত আটকে যায় মাথার ভেতরে, সরে না সহজে ...

কোন রকমে রাস্তা পার, টিকেট কাটা, বাসে ওঠে একদম পিছনে গিয়ে হাতপা ছড়িয়ে বসা ... এই পুরাটা সময় মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগল "রহমতের বাতাস ছাড়ছে গো" ...

বাতাসের পরে বৃষ্টি ... ঝুম বৃষ্টি ... জানালা বন্ধ করতে হল ... কাচের মধ্য দিয়ে বৃষ্টিভেজা শহর দেখা হল বহুদিন পর ...

রেডিও ফূর্তি, টুডে আর আমার তিনটা চ্যানেলই দেখলাম পাল্লা দিয়ে বৃষ্টির গান ছেড়েছে ... চ্যানেলগুলির এই স্বতস্ফূর্ত আইডিয়াগুলি ভাল লাগে ... বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে বর্ষার গান চালানোর সময় কোথায় আমাদের? কাজটা কেউ যদি করে দেয় মন্দ কি? ... রেডিমেড শার্ট, রেডিমেড ফুডের পর রেডিমেড গান ...

বিজয় সরণির মোড়ে এসে করলাম একটা খাঁটি আইইউটিয়ান বান্দরামি ... মোবাইলটা যত্ন করে ব্যাগের এক চিপায় লুকিয়ে জিনস হাঁটু পর্যন্ত গুঁটিয়ে নেমে গেলাম বাস থেকে, ঢালা বৃষ্টির মধ্যে ... তারপর হাঁটা দিলাম ফুটপাত ধরে ... মহাখালী পর্যন্ত ...

তারপর বৃষ্টিও শেষ, পথও ...

বর্ষা উদযাপনের জন্য দিলাম শ্রীকান্তের বৃষ্টির গান ... যারা বৃষ্টিভেজা কোন একটা দিনের কথা ভেবে নস্টালজিক হতে চান শুধু তাদের জন্য এইখানে টিপি দেন :-)


(ছবিসূত্র: ইন্টারনেট)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28713885 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28713885 2007-06-01 22:21:36
প্রিয় মুভি - অক্টোবর স্কাই
"অক্টোবর স্কাই" মুভিটা তৈরি হয়েছে হোমার নামের এক স্বপ্নবাজ কিশোরের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে ...

হোমার বেড়ে ওঠে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ছোট্ট একটা মাইনিং টাউনে ... তার বাবা কয়লা খনিতে কাজ করে ... তার স্বপ্ন ছেলেও একদিন তার মতই তুখোড় মাইনার হবে ...হোমারের স্বপ্ন অন্যরকম ... কয়লাখনির অভিশপ্ত জীবন ছেড়ে সে পা ফেলতে চায় অন্য কোন আঙিনায় ...

হোমার তার স্বপ্নের সন্ধান পায় যখন রাশিয়া আকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় ... অক্টোবরের আকাশে সেই উপগ্রহকে ছুটে যেতে দেখে হোমার বিস্ময়াভিভূত হয় ... রকেট সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করা আমেরিকান সায়েন্টিস্টরা তাকে উদ্দীপ্ত করে ... সে স্বপ্ন দেখে নিজেই একটা রকেট বানানোর ...

হোমারের স্বপ্ন সন্চারিত হয় তার তিন বন্ধুর মাঝে ... আর তাদের ম্যাথ টীচার মিস রাইলি, যিনি বিশ্বাস করেন সেইসব ছাত্রদের ক্ষমতায় যারা স্পোর্টস স্কলারশিপ নিয়ে কলেজে যেতে পারবে না বলে সারাজীবন কয়লাখনির গহীন অন্ধকারে পচে মরবে ...

মাইনার পিতার প্রচন্ড ভর্তসনা, বড় ভাইয়ের উপহাস, সহপাঠীদের কন্টিনিউয়াস টীজিং ... সবকিছু উপেক্ষা করে শুরু হয় চার কিশোরের রকেট রকেট খেলা ...

বাকিটুকু দেখতে চাইলে ডিভিডি যোগাড় করেন আজকেই, আমি বলব না :-)

"Sometimes One Dream is bright enough to light up the sky" -ট্যাগলাইনই বলে আশাবাদী মানুষের গল্প , যারা স্বপ্নের পেছেনে ছুটতে ভয় পায় না ...

ছবির একদম শেষ অংশটুকু বেশি চমতকার ... মিস করবেন না প্লীজ ...

সত্য ঘটনা অবলম্বনে বানানো মুভি ... আজকাল তো একটা ফ্যাশান হয়ে গেছে যেকোন মুভির শুরুতে "বেজড অন এ ট্রূ স্টোরী" লাগিয়ে দেওয়ার ... পাবলিক তাহলে খায় বেশি ... আসলে যে তার মাঝে কতটুকু ট্রু স্টোরী থাকে বোঝা মুশকিল ... এটা তেমন না ... হোমার হিকাম জুনিয়রের লেখা "দ্য রকেট বয়েজ" বই অনুসরণ করে বানানো (গুগলে সার্চ দিলে আরও জানতে পারবেন, যদি ইচ্ছা থাকে) ...

হোমারের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন জেক গিলেনহাল (ব্রোকব্যাক মাউন্টেন, দ্য ডে আফটার টুমরো) ... তার বদমেজাজী বাবার চরিত্রে ক্রিস কুপার (সীবিস্কিট, বোর্ন আইডেন্টিটি) ... আর মিস রাইলীর চরিত্রে লরা ডার্ন (আ পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড, আই অ্যাম স্যাম) ... ডিরেক্টর জো জনস্টোন (জুরাসিক পার্ক থ্রী, জুমানজি) ... মুভিটা রিলিজ হয় নাইন্টি নাইনে ...

আইএমডিবি রেটিংয়ে অক্টোবর স্কাই পেয়েছে ৭.৬ ... যদিও রেটিংকে বেইল দেই না তাও একটু খারাপ লাগলো দেখে ... ইট ডিজার্ভস মোর ...

যারা এখনো দেখেন নাই দেখে ফেলেন ... ঠকবেন না নিশ্চিত ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28713361 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28713361 2007-05-30 04:49:33
চৌদ্দ কোটি মানুষ আর আঠাশ কোটি হাতের গপ্পো ...
যাক সেসব বাজেকথা ... তার চেয়ে একটা গল্প বলে ঘুমাতে যাই ...

...

এক চাইনীজ বাংলাদেশে আসছে (বোধহয় কোন মাল্টিন্যাশনালের বড়কর্তা হয়ে)... বাংলাদেশের লোকসংখ্যা চৌদ্দ কোটি শুনে তার বিস্ময় আর ধরে না ... অবাক হয়ে সাথের বাঙ্গালি গাইডকে জিগ্যেস করে, "তোমাদের দেশে চৌদ্দ কোটি মানুষ, মানে তোমাদের আছে আঠাশ কোটি হাত ... তারপরেও তোমরা এত গরিব কেন?"

গাইডের নির্বিকার উত্তর, "আরে আঠাইশ কোটি হাত কই দেখলেন ... বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ তো তাদের একটা হাত অলটাইম বিজি রাখে আরেকজনের পাছায় দেওয়ার জন্য ..."

চাইনীজ একটু থমকায়, কিন্তু হাল ছাড়ে না, "কিন্তু তাও তো আরও চৌদ্দ কোটি হাত বাকি থাকে, সেটাই বা কম কি ... ওয়ার্ল্ডের বেশিরভাগ দেশের চেয়ে বেশি ..."

"আরে না, সবার বাকি হাতটা খরচ হয় অন্যের অ্যাটাক থেইকা নিজের পাছা বাঁচাইতে ..."

চাইনীজ লাজওয়াব ...

...

গল্পটা গপ্পোই হবে ... বক্তব্যটার সাথেও একমত হতে চাই না ... খালি সামহোয়ারে ঢুকলে একটু কেমন কেমন জানি লাগে :-)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28712791 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28712791 2007-05-27 03:17:25
শিরোনামহীন ...
স্বল্প সময়ে গুটিকয়েক পোস্ট ঝেড়ে সামহোয়্যার থেকে কয়েকশো কমেন্ট আর কয়েক হাজার হিটের পাশাপাশি আরএকটা জিনিস পেলাম ... সেটা বিখ্যাত হওয়ার সহজ রাস্তা ... গল্প লিখতে পার না? কবিটা আসে না? ... নো প্রবলেম ... দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে বড় বড় আবেগ জবজবে কিছু পোস্ট মার ... কেউ জিগ্যেস করবে না তুমি নিজে কি করছ ... সবাই কমেন্ট দিবে ... রেটিং দিবে ... বাড়বে পরিচিতি ... বাড়বে আত্মপ্রসাদ ...

বিখ্যাত হওয়ার আরও দুয়েকটা উপায় আছে অবশ্য, নাই বা বললাম এখন ...

কয়টা লোক আছে এখান যে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে পার্সোনাল লাইফে ১০০% সত? আমি জানি অনেকেই পারবে, আমিও ... কিন্তু যদি প্রশ্নটা এভাবে করি? বাংলাদেশে বাস করে কোন একটা সরকারি চাকরি করে, যেখানে অসাধুতার ১০১টা উপায় আছে, তারপরেও সত থাকতে পারতেন কয়জন?

এইবার আমার নিজের গলা কেঁপে যাবে ... অন্যডের কথা জানিনা ...

কালকে দেখলাম এক মটর সাইকেল আরোহী নির্মমভাবে লাথি-ঘুঁষি মারছে এক রিকশাওয়ালাকে ... দোষ অবশ্য রিকশাওয়ালারই ... আরেকটু হলেই মোটর সাইকেলটা তার ঘাড়ে পড়ত ... কিন্তু তারজন্য এতটা মার তার প্রাপ্য না ... মারটা সে খেল রিকশা চালায় বলেই ... গাড়ি চালালে পাল্টাপাল্টি গলাবাজি-গালিবাজি হত, তারচেয়ে বেশি কিছু না ...

তিনজন ছিলাম আমরা, চাইলে সহজেই পারতাম মোটরসাইকেলওয়ালার কলার চেপে ধরে তাকে সরিয়ে আনতে ... বলতে পারতাম অনেক মারছেন এইবার বাড়ি যান ... পারতাম, কিন্তু করলাম না ... তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম আশেপাশে বাড়ির দারোয়ানরা এসে লোকটার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে ঠান্ডা করতে কত সময় নেয় ...

আমরা সবাই খারাপ ... কেউ বেশি কেউ কম ...

[যারা চান নিজেদের লাস্ট লাইনের বাইরে রাখতে পারেন ... নো প্রবলেম]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28712554 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28712554 2007-05-26 00:33:43
মেয়েটা ...
ঐ বছরই স্কুল চেন্জ হওয়ায় তার সাথে আর দেখা হয় নাই ... গত বছর আবার দেখা হল ... যেভাবে হল সেটাও মজার তবে বললাম না এখানে ... লম্বা লেখা লিখতে ইচ্ছা করছে না ...

কিন্তু ভাল লাগে নাই আমার ওকে দেখে ... মেয়েটার বাপ কাঠমোল্লা (তখন জানতাম না, এখন জানলাম) ... মেয়ে ইন্টার পাস করার পরেই আরেক মোল্লার সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে ... জন্মনিয়ন্ত্রনে বিশ্বাস করে না মনে হয় ... তাই বিয়ের দুই বছরেই দুইটা বাচ্চা ... ইন্টারে সাড়ে আটশো পাওয়ার পরেও মেয়েটার আর পড়া হয় নাই ...

সৌদী বোরখা পড়ে ... শুধু চোখ দেখা যায় ... কেমন আছ জিগ্যেস করায় একগাল হেসে বললো ভাল আছি ... কে জানে আসলেই আছে হয়তো ... কিন্তু আমার খারাপ লেগেছে ওকে দেখে ...

ছেলেবেলার সব বন্ধু মনে হয় ভাল নাই ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28711535 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28711535 2007-05-20 01:32:58
আমার সিনেমা বিলাস ...
কনফিউজিং কথা ... কোনটা ভাল লাগে? যেটা ভাল মুভি ...কোনটা ভাল মুভি? যেটা দেখার পরে মনে হয় ভাল লাগলো সেটা ... কেমন ডিম আগে না মুরগি আগে টাইপ ব্যাপার ...

আসলে ব্যপারটা যত ভেজাল মনে হচ্ছে তত ভেজাল না ... মুভি দেখা নিয়ে আমার কোন ট্যাবু নাই ... মোটামুটি অ্যাড দেখে একটু ভাল লাগলেই হয় ... দেখতে বসে যাই ... তারপরে ডিরেক্টরের কৃতিত্ব ... আমি ছবি দেখতে বসছি এইটাই বেশি ... এখন তুমি বাবা আমারে মনিটরের সামনে বসায়ে রাখবা ... দেড়ঘন্টা বালছাল গিলায়ে লাস্ট আধা ঘন্টায় পোষায় দিবা এই নীতিতে আমি বিশ্বাসী না ...

তো ভাল মুভির সংগাটা এইরকম লিবারেল হওয়ায় আমার মোটামুটি বেশ ওয়াইড রেন্জের মুভি পছন্দ হয় ... আমি শশ্যাংক রিডিম্পশন দেখে বিমোহিত হই ... আমেরিকান পাই দেখে গড়িয়ে পড়ি ... আমি উইম্বলডনের মত সিম্পল রোমান্টিক মুভি বারবার দেখি ... আর্মাগেডন, বোর্ন আইডেন্টিটি কিংবা মাইনরিটি রিপোর্টের মত থ্রীলার আমাকে নাওয়া-খাওয়ার কথা ভুলিয়ে দেয় ... আবার রং দে বাসান্তি দেখে ইচ্ছা হয় নামে যাই একটা রিভলবার নিয়ে, ধ্বংস করে দেই সব ...

রেটিংয়ের বেইল দেই না ... যত ক্রিটিক্যালি অ্যক্লেইমড, টু থাম্বস আপ মার্কা মুভিই হোক, আমার ভাল লাগে নাই মানে আমার কাছে তুমি ব্যর্থ ...

যাই হোক, এবার লিখি খুব প্রিয় এবং মোটামুটি প্রিয় কয়েকটা মুভির কথা ... জেনার ওয়াইজ ভাগ করে লেখার চেষ্টা করি ... শুধু স্মৃতির উপরে নির্ভর করে লেখা, অনেক ভাল মুভির নাম বাদ পড়বে নিশ্চিত ... চেষ্টা করব পরে অ্যাড করে দেওয়ার ...

প্রথমে হিন্দী :
১. রং দে বাসন্তী ২. দিল চাহতা হ্যায় ৩. লগন ৪. কাল হো না হো ৫. কোম্পানী ৬. ওমকারা ৭. মকবুল ৮. কৌন ৯. লক্ষ্য
১০. স্বদেশ ১১. লাগে রাহো মুন্নাভাই ১২. ব্ল্যাক ১৩. হেরা ফেরি ১৪. চাচী ৪২০ ১৫. সাথীয়া ১৬. সরকার ১৭. আবতাক ছাপ্পান ১৮. যুবা ১৯. রেইনকোট ২০. আঁখে ২১. এক হাসিন থী.... এখন এই কয়টাই, পরে চাইলে আরও অ্যাড করা যাবে ...

এইবার ইংলিশ :

ড্রামা:
১. শশ্যাংক রিডিম্পশন ২. ফরেস্ট গাম্প ৩. অক্টোবর স্কাই ৪. দ্য অ্যমিস্টাড ৫. হোটেল রুয়ান্ডা ৬. দ্য ক্রাশ ৭. চকোলাত ৮. দ্য টার্মিনাল ৯. দ্য লাস্ট সামুরাই ১০. দ্য প্যাট্রিয়ট ১১. ব্রেভ হার্ট ১২. দ্য এভিয়েটর ১৩. মিলিয়ন ডলার বেবী ১৪.ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড ১৫. রেইনম্যান ১৬. মিঃ এন্ড মিসেস আইয়ার ১৭. আ বিউটিফুল মাইন্ড ১৮. এরিন ব্রোকোভিচ ১৯. লিজেন্ডস অফ দ্য ফলস ২০. ট্রয় ২১. গ্ল্যাডিয়েটর ২২. সেভেন ইয়ারস ইন টিবেট ২৩. মিউনিখ ২৪. দ্য রেইনমেকার ২৫. আ রিভার রানস থ্রু ২৬. জেরী ম্যাগুয়ের ২৭.সাইডার হাউজ রুলস ২৮. শিন্ডলার্স লিস্ট ২৯. সেভিং প্রাইভেট রায়ান ৩০. কাস্ট এ্যাওয়ে ৩১.ইন আমেরিকা ৩২. গ্রীন মাইল ৩৩. উইন্ডটকার্স ৩৪. দ্য পারস্যুট অফ হ্যাপীনেস ৩৫. ফ্রীডম রাইটার্স ....

থ্রীলার:
১. মাইনরিটি রিপোর্ট ২. এম আই ওয়ান ৩. এম আই থ্রী ৪. বোর্ন আইডেন্টিটি ৫. বোর্ন সুপ্রিমেসী ৬. ন্যাশনাল ট্রেজার ৭. সেভেন ৮. স্পাই গেমস ৯. ইটালিয়ান জব ১০. ওশানস ইলেভেন ১১. এনট্রাপমেন্ট ১২. ফেস অফ ১৩. ইনসাইড ম্যান ১৪. ইউ-৫৭১ ১৫. এনিমি এ্যাট দ্য গেটস ১৬. ইউজুয়াল সাসপেক্টস ১৭. ফিউজিটিভ ১৮. ইউ এস মার্শালস
১৯. আই, রোবট ২০. ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান ২১. দ্য ডিপার্টেড ২২. দ্য সাম অফ অল ফিয়ারস ২৩. দ্য সেইন্ট ২৪. দ্য রিক্রুট ২৫. মেমেন্টো ২৬. রোড টু পার্ডিশন ২৭. ফ্লাইট প্ল্যান ২৮. এল. এ. কনফিডেনশিয়াল ২৯. স্পীড ৩০. দ্য প্রেস্টিজ ৩১. দ্য ইলিউশনিস্ট ৩২. মাইন্ড হান্টার্স ৩৩. দ্য ফার্ম ৩৪. রানঅ্যাওয়ে জুরি...

রোমান্টিক/ রোমান্টিক কমেডি :
১. লাভ অ্যাকচুয়ালি ২. নটিং হিল ৩. ইনডিসেন্ট প্রোপোজাল ৪. ওয়াক ইন দ্য ক্লাউডস ৫. ইটারনাল সানশাইন অফ দ্য স্পটলেস মাইন্ড ৬. ফিফটি-ফার্স্ট ডেটস ৭. আ ওয়াক টু রিমেম্বার ৮. ফার অ্যান্ড অ্যাওয়ে ...

সাই ফাই:
১. কনট্যাক্ট ২. আরমাগেডন ৩. ম্যাট্রিক্স (শুধু প্রথমটা) ৪.দ্য ডে আফটার টুমরো ৫. ব্যাক টু দ্য ফিউচার - ১,২,৩ ...

স্পোর্টস মুভি:
১. রিমেমবার দ্য টাইটানস ২. মিসটেরি, আলাস্কা ৩. সিনডারেলা ম্যান ৪. দ্য লিজেন্ড অফ ব্যাগার ভ্যান্স ৫. উইম্বলডন ৬. সী বিস্কিট ৭. ড্রীমার (ড্রীমারস না কিন্তু, সাবধান) ৮. হার্ডবল ৯. কোচ কার্টার ১০. মিরাকল ...

কমেডি:
১. আমেরিকান পাই-১,২,৩ ২.ইউরোট্রিপ ৩. র‌্যাট রেস ৪. জনি ইংলিশ ৫. ম্যাভরিক ৬. হিচ ৭. লাইফ ইজ বিউটিফুল ৮. বিন, দ্য মুভি ৯. মি. বিনস হলিডে ১০. মীট দ্য প্যরেন্টস ১১. মীট দ্য ফকার্স ১২. দ্য গডস মাস্ট বি ক্রেজী -১,২ ১৩. মি: ডীডস ১৪. বিগ ড্যাডী ....

ফ্যান্টাসি/সুপারহিরো:
১. হ্যারি পটার - সবগুলি ২. লর্ড অফ দ্য রিংস - তিনটাই ৩. স্পাইডারম্যান-১,২ ৪. দ্য ক্রনিকলস অফ নার্নিয়া ৫. পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান -১,২ ....

অ্যানিমেশন:
১. দ্য ইনক্রেডিবলস ২. আইস এজ-১,২ ৩. মন্সটার, ইন্ক ৪. শ্রেক-১,২ ৫. টয় স্টোরী -১,২ ৬. ফাইন্ডিং নিমো ৭. আ বাগস লাইফ ৮. দ্য লায়ন কিং ...

শিশুতোষ:
১. হোম অ্যালোন - ১,২,৩ ২. বেবীজ ডে আউট ৩. স্টুয়ার্ট লিটল -১,২


ওরে বাবা, বিশাল লিস্টি হয়ে গেছে ... এইবার ক্ষান্ত দেই ... খালি একটা বিশেষ ঘোষণা দিয়ে শেষ করি:

১. এই লিস্টটা বিশ মিনিটে বানানো, শুধু স্মৃতির উপর ভরসা করে, কাজেই আমার অনেক প্রিয় ছবি বাদ পড়ে গেছে নিশ্চিত ...

২. এটা লিস্ট, র‌্যংকিং না ... বিউটিফুল মাইন্ড ১৭ নাম্বারে থাকার মানে এই না যে এর আগের ষোলটা এর চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে ...

৩. শুধু নিকট অতীতের ছবিগুলি বিবেচনা করা হয়েছে ... রোমান হলিডে বা শোলের কথা এইজন্যেই লিস্টে আসে নাই ...

আর একটা কথা, এই পো্স্ট লিখতে গিয়ে টের পেলাম মানুষের মস্তিষ্ক লিংক লিস্ট সিস্টেম ফলো করে ... প্রথমে কোন মুভির নামই মনে পড়ে না ... একটা পড়লো ... সাথে সাথে মনে পড়লো মুভিটায় কে কে ছিল, ডিরেক্টর কে ... সেই সূত্রে মনে পড়লো তাদের আরও কিছু ছবির কথা ... হয়তো মুভিটা কিনেছিলাম আইডিবি থেকে ... সেই দোকান থেকে আর কি কি কিনলাম ... অ্যান্ড দ্য লিস্ট গোজ অন ... অ্যান্ড অন ... অ্যান্ড অন ...

[ রেগুলার আপডেট করার চেষ্টা করব ... যে মুভি নিজে দেখি নাই অথবা দেখলেও ভাল লাগে নাই সেটার যত নাম-ডাকই থাক এই লিস্টে জায়গা নাই ... ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28710455 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28710455 2007-05-14 00:51:23
স্বপ্নবাজি
একদিন রাত বারোটার সময় সারা শহর চষে বেরিয়েছিলাম ঘাসফুলের জন্য ... ফুলের দোকান খোলা ছিল বেশ কয়েকটাই ... কিন্তু যে ছোট ছোট গুড়িগুড়ি ঘাসফুলের সন্ধানে ছিলাম সেটা ছিল না ... এক দোকানে পাওয়া গেল ... কিন্তু সেটা বিক্রির জন্য না ... অন্য ফুলের সাথে ফিলার ফিসেবে তোড়া বাঁধার জন্য ... কি আর করা ... তিনটা গোলাপ আর একগাদা ঘাসফুল দিয়ে একটা ছোটাখাট তোড়া বানালাম ... তারপর গোলাপ তিনটা খুলে বাড়িয়ে দিলাম দোকানির দিকে ... আপনার পছন্দের কোন মানুষ থাকলে তারে দিয়ে দিয়েন, আমার লাগবে না :-)

ফুলওয়ালাকে একটা চমক দিতে চেয়েছিলাম ... সে উল্টা আমাকে চমকে দিল ... শুধু তোড়া বানানোর খরচ হিসেবে পাঁচ টাকা রাখল ... আর কিছু না ... গোলাপ তো নেন নাই দাম রাখব ক্যান ... আর গুড়িগুড়ি গুলাতো ফ্রী ...

ফুলের ব্যবসা তো করে অনেকেই, হৃদয়ে সেই ফুলের সৌরভ ধারন করতে পারে কয়জন? সেই ফুলওয়ালা তাই আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ ... যখনই ওর জন্য ফুল কিনি চলে যাই সেই দোকানে ... এখন সে আমাকে দেখলেই হাসে ... জিগ্যেস করে,আসেন ভাই, বসেন, চা খায়া যান ... তারপর বলেন আপা ক্যামন আছে?

খুব চমতকার একটা রাত ছিল সেটা ... জোছনা ঘেরা ... রাত্রি সাড়ে বারোটায় হলের সামনের গেটে দাঁড়িয়েছিলাম ওর জন্য ... কেয়ারটেকার ব্যাটা বিরক্ত চোখে তাকাচ্ছিল ... মেডিকেল হলে সূর্যাস্ত আইন টাইপ কিছু নেই বলে কিছু বলতেও পারছিল না ... হু কেয়ারস অ্যাবাউট হিম ... ও এসেছিল ঘুম ঘুম চোখে ... অবাক হয়েছিল খুব ... এবং খুশি ...

আধঘন্টা বসেছিলাম ফুটপাতে ... খুব কম কথা হয়েছিল সেদিন ... কেন জানি বলার মত কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না আমরা কেউই...

ফিরতে হয়েছিল একঘন্টা হেঁটে ... খুব একটা কষ্ট হয়নি অবশ্য ... পথ কখন শেষ হবে সেটা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন না হলে পথ শেষ হতে কখনোই খুব একটা দেরি হয়না ...


২...

আর একদিন ...

লাস্ট সেমিস্টার ফাইনাল ... একটা পরীক্ষা বাকি ... কঠিনতম ... আমি ব্যক্তিগতভাবে কঠিন পরীক্ষাগুলি আগে দিয়ে ফেলতে চাই ... কিন্তু আঁতেলের তো অভাব নাই ... তাদের হিসেবে এইটা লাস্টে দেয়াই নাকি ভাল ... দুইদিন বন্ধ আছে ... প্রিপারেশন ভাল হবে ...

আর একটা পরীক্ষা দিলেই গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট ... কেমন জানি অদ্ভূত একটা অনুভূতি ... পড়ালেখা করিনা ... ক্লাস করা তো ছেড়ে দিয়েছি আরও আগে ... সিলেবাস সম্বন্ধে ধারণা খুবই অল্প ... পরের দুইদিন জানপ্রাণ দিয়ে পড়তে হবে এটুকু জানি ... পরদিন সকালে ও চলে যাবে ঢাকা ছেড়ে ... সবসময়ই পৌছে দিয়ে আসি ওকে ... এবার পারব না ...আর কখনো পারবো কিনা কে জানে ... হল লাইফ শেষ হয়ে যাচ্ছে ... কর্মজীবন শুরু হবে ... তখন আর চাইলেও এত সময় বের করা যাবে না ... মন খারাপ তাই দুই জনেরই ...

রাত একটা পর্যন্ত্ কথা বললাম ... তারপর মুভি দেখলাম একটা ... ভোর সাড়ে ছয়টায় ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে খুব ঠান্ডা মাথায় আর একটা পাগলামির সিদ্ধান্ত নিলাম ... পৌনে সাতটায় হল থেকে বের হলাম ... সাড়ে সাতটায় এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে এসে পৌনে আটটার ট্রেনে চেপে বসলাম ...

একদম ঠান্ডা মাথার পাগলামী ... কিন্তু পাগলামী যে তাতে কোন সন্দেহ নাই ...


৩...

এই লিস্ট শেষ হবে না কোনদিন ...

গত দুইবছর কম পাগলামি তো করি নাই দুইজনে ... প্রচন্ড বৃষ্টিতে রিকশা করে পুরো শহর ঘুরে বেড়ানো ... রাত এগারোটায় গাজীপুর থেকে ঢাকা রওনা দেয়া ওর বাসার সামনে দাঁড়ানোর জন্য ... ভুল ট্রেনে উঠে শেষ মূহুর্তে দুজনের লাফিয়ে নামা ...

কিংবা একই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে একসাথে ঘুরতে ঘুরতে হঠাত দুজন দুদিকে ... কারণ ওর সেজখালার আবির্ভাব ... ও শ্যাম্পু কিনে ... আমি চকলেট ... কেউ কাউকে চিনি না ... তাকিয়ে দেখি সেলসগার্ল ঠোঁট টিপে হাসে ...

সারারাত লেকের ধারে ফোন কানে নিয়ে হাঁটাহাটি তো কোন বিষয়ই না ...

কোন একদিন বিয়ে করার মত পাগলামিটাও সেরে ফেলবো ...


৪...

লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট কনসেপ্টটায় বিশ্বাস করি না ... প্রথম দেখায় প্রেম হয় না ... প্রবল অ্যাট্রাকশন বা মোহের জন্ম হতে পারে ... পরে কপাল ভাল থাকলে প্রেম ... আমার সৌভাগ্য যে প্রেমে পড়ার আগে লম্বা একটা সময় আমরা একজন আরেকজনকে পেয়েছি শুধুই বন্ধু হিসেবে ... নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করেছি একে অন্যকে ... পাশে দাঁড়িয়েছি ঠিক যখন প্রয়োজন তখন ...

তারপর একদিন বুঝলাম আমরা বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু হয়ে গেছি ... খুব শান্তভাবে চিন্তা করলাম ... বাবা-মা ওকে মেনে নেবে না ... ওর ফ্যামিলিও আমাকে না ... একটা সম্পর্ক গড়তে গিয়ে আরও অনেক সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে ... সো বেটার নট ডু দিস ...

ভাবলামই শুধু ... করলাম না ... বদলে ঘাসফুল কিনতে বের হলাম ...


৫ ...

দেখবো আকাশ ... দেখবো পাহাড় ...
দেখবো নদীর ঐ অন্য পাড় ...
আঁকবো ছবি নিজের মত ...
রংতুলি হাতে আর কতকাল ...

আমরা স্বপ্নে বাঁচি ...
স্বপ্ন গড়ি ...
স্বপ্ন বুকে নিয়ে ...
দেব পাড়ি ...
বহুদূর ...


(রাগ ইমন আপুর পাগলামি বিষয়ক পোস্ট পরে অনুপ্রাণিত হয়ে)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28710211 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28710211 2007-05-12 04:59:40
আমার বিয়েতে কারও দাওয়াত নাই আগেই বইলা রাখলাম ...
যখন ছোট ছিলাম তখন বিয়ে খাওয়ার কথা শুনলেই মনটা নেচে উঠতো ... নতুন জামা-জুতা পরে বাবা মায়ের হাত ধরে কলকল করতে করতে পোলাউ-রোস্ট-জর্দা খাওয়া, আর ক্যামেরাম্যানকে দেখলেই ছুটে গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিওতে ঢুকে যাওয়ার অপচেষ্টা (একবার এক ক্যামেরাম্যান আমাকে মোটামুটি ঘাড় ধরেই সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, বউয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তাই ) ... মজাই লাগতো ...

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাওয়াত পাওয়া কমতে লাগলো ... কলেজ-ভার্সিটিতে পড়ার সময় অলমোস্ট কোন দাওয়াতই পাইনি ... পাবো কিভাবে? বেশিরভাগ বিয়েতে খালি বাবামাকেই দাওয়াত করে ... ফ্যামিলিতে কারও বিয়েও হয়না ... আমার দাওয়াতা পাওয়াও হয় না ...

ইদানিং আবার পাওয়া শুরু করেছি ... কলিগরা একের পর এক একলা থেকে দোকলা হচ্ছেন ... সেই সুবাদে খানাদানাটা খারাপ হচ্ছে না ...

গেল মাসে একটা বিয়ে খেলাম ... ভাইয়ার বয়স খুব বেশি না ... একটা প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পাস করেছেন বছরখানেক হল ... স্বাভাবিকভাবে চললে আরও বেশ কিছুদিন পরেই বিয়ে করার কথা ছিল ... কিন্তু কি আর করা ... প্রেম বলে কথা ... "কায়সারের বিয়ের বয়স হয় নাই, কিন্তু ওর বউয়ের তো হয়ে গেছে" আসিফ ভাইয়ের ভাষায় এটাই হল কায়সার ভাইয়ের বিবাহ করার আসল কারণ ... যাই হোক, এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না ... বিরিয়ানীটা হেভী ভালো ছিল তাতেই আমরা খুশি ...

সেই কায়সার ভাইয়ের সাথে আজকে কথা হল ... হাশিখুশি স্বভাবের ছেলেটা কেমন গম্ভীর ... ভাবলাম ছুটির দিনেও অফিসে আসতে হওয়ায় হ্য়তো মুড অফ ... কে জানে বউ ঝাড়ি দিছে কিনা ... সার্ভার নিয়ে গুঁতাগুতির ফাঁকে কথা হল অনেকক্ষণ ... তখনি জানলাম আসল ঘটনা ...

ভাইয়া বাইরে যেতে চান এমএস করতে ... কানাডার খুব ভালো একটা ভার্সিটিতে অ্যাডমিশন হয়ে গেছে ... টিউশন মোটামুটি ফ্রী ... তারপরেও ইনিশিয়ালি প্রায় লাখ চারেক টাকা লাগবে ... সমস্যা সেটাই ...

ভাইয়া বললেন, "এমন না যে আমার বাপের টাকাটা দেয়ার সামর্থ্য ছিলো না, গত বছর বোনের বিয়ে দিছে, তারপরেও পারতো আমারে দিতে ... কিন্তু আমার বিয়েতে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা বের হয়ে গেছে ... নিজে যা জমাইছিলাম দিয়ে দিছি ... তারপরেও বেশিরভাগই দিছে বাপ ... এখন কোন মুখে আবার টাকা চাই? আর চাইলেই বা বাপে দিবে কোথা থেকে? টাকার গাছ তো নাই ..."

"তাইলে এতো ধুমধাম কইরা বিয়া করতে গেলেন ক্যান?"

"কি করব? আততীয় স্বজনরা আছে না? না খাওয়াইলে কথা শুনাইতে ছাড়বে কেউ?"

কি আর বলব ... বলার নাই কিছু ...


২ ...

কায়সার ভাইয়ের ঘটনা শেষ ... এবার বলি রেজওয়ানের কথা ...

রেজওয়ান আমার সাথেই পাস করেছে ... প্রোগ্রামার হিসেবে আমাদের মাঝে তার খ্যাতি কিংবদন্তীতুল্য ... সেই খ্যাতি যে বাড়াবাড়ি কিছু না সেটা সে প্রমাণ করেছে পাস করার কয়েকদিনের মাঝেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীতে জব পেয়ে ... কাজ নিয়ে সে খুব স্যাটিসফাইড সেটা বোঝা যায় ... প্রেম করে অনেক আগে থেকেই ... উস্কুখুস্কু চেহারার রেজওয়ানের পাশে মিতুর মত মিষ্টি একটা মেয়েকে মানানোর কথা না, কিন্তু কোন এক অজানা কেমিস্ট্রীর কারণে মানিয়ে যায় ... অদ্ভূত ভাল লাগে দুজনকে একসাথে দেখলে ...

মিতুর ফ্যামিলি থেকে চাপ দিচ্ছে রেজওয়ানকে বিয়ে করার জন্য ... রেজওয়ান পারছে না ... সব ঠিক আছে কিন্তু এক জায়গাতেই আটকে যাচ্ছে ... ফাংশন করতে টাকা লাগে ... রেজওয়ানের বাবা রিটায়ার্ড ... ছোট বোন আছে দুইটা ...এই অবস্থায় রেজওয়ান এত টাকা পায় কই?

নিজে জমায়ে বিয়ে করবে তাতেও রেজওয়ান রাজি না ... নতুন সংসারে টুকটাক অনেক খরচ হয় ... বাবা-মা সারা জীবন কষ্ট করেছেন ... টাকা দিয়ে তাঁদের কিছু সুখ-সাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করে দেয়া যায় ... সেসবের বদলে গন্ডায় গন্ডায় আততীয়-স্বজন, যাদের সাথে বছরে একবারও হয়তো দেখা হয়না, তাদের খাওয়াতে রেজওয়ানের যথেষ্ট আপততি ...

রেজওয়ান-মিতুর তাই আর বিয়ে করা হচ্ছে না ... ধানমন্ডি লেকে বসে বাদাম খায় খালি দুইজনে ...


৩ ...

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ... বদলে যাচ্ছে সময়, বদলে যাচ্ছে আমাদের ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ ...

একসময় মেয়ে প্রেম করে শুনলেই বাবা-মায়ের হার্ট এ্যাটাক হয়ে যেত ... এখন তার বদলে আগে প্রথমে খোঁজ নেয় ছেলেটা কে, কেমন ... তারপর অন্য কথা ...

একসময় ছেলেরা ভাবত মেয়েরা ঘরকন্না করবে, বাচ্চা মানুষ করবে, আর কি চাই ... আর এখন বদলে যাওয়া আর্থসামাজিক পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করে চাকরিজীবী বউ খুঁজতে ...

সবই বদলাচ্ছে ... তাহলে বিয়ের এই অর্থহীন খাওয়া-দাওয়া দেন-পাওনার ব্যপারগুলিও কি বদলাতে পারে না? ... আজকাল একটা বিয়েতে যে পরিমাণ খরচ হয় সেই টাকাটা হাতে পেলে নব-দম্পততির কতটা উপকার হয় তা আমরা কয়জন ভেবে দেখি? বিশেষ করে সদ্য পাস করা একটা ছেলে, প্রেমিকার ফ্যামিলির চাপে পড়ে যার বিয়ে করতে হচ্ছে তার জন্য?

পাশ্চাত্যে নাকি বিয়েতে বুফে সিস্টেমে খাওয়া হ্য় ... যার যার বিল সে সে পে করে ... একসাথে খাওয়ার আনন্দতাই আসল কথা ...

আমাদের দেশে তেমন একটা প্রথা চালু করা কি খুব কঠিন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28708778 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28708778 2007-05-02 23:09:47
রাগ ইমন আপুর উদ্দেশ্যে ... অন্যদের পড়তেও বাধা নাই :-) এই পোস্টে গিয়ে কথাবার্তার শানেনযুল দেখতে পারেন, কোন প্রসঙ্গে কি বলা হয়েছে একটা ট্র্যাক পাবেন ) ...

এই ব্লগে কে কোন প্রসঙ্গে কি বলল তা প্রায় সময়েই গ্রাহ্য করি না ... কারণ দ্বিমত করলেই তর্ক ... তর্ক করলেই ঝগড়া ... ঝগড়া করলেই গালাগালি ... ব্যান ব্যান খেলা ... কি দরকার ... আমি আমার মত থাকি ... এবার আর তা করতে ইচ্ছা হল না ... কারণ রাগু আপা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন ব্লগার ... তার লেখনী, দৃষ্টিভঙ্গী, স্পষ্টবাদিতা আমাকে মুগ্ধ করে দারূণভাবে ... তাই এই পোস্টের মাধ্যমে আমার বক্তব্য তুলে ধরলাম ... ওপেন ডিসকাশন হিসেবে চলতে পারে ... যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে ... তবে খোঁচাখুঁচি টাইপ কোন কমেন্টের জায়গা নাই আগেই বলে দিলাম :-)

আমি বলেছি "মেয়েরা ইউজুয়ালি টেকনিক্যালি সাউন্ড হয় না" ... খেয়াল করেন, বলেছি "ইউজুয়ালি" ... ব্যতিক্রম সবসময়ই আছে ... তবে সেটা ব্যতিক্রমই ...

রাগু আপার কথা ঠিক ... আমি কোন রিসার্চ করে এই কমেন্ট করি নি ... জেনারেল ওপিনিয়ন হিসেবেই বলেছি ... কয়েকটা ছোট ছোট সিনারিও তুলে ধরলাম বিবেচনা করার জন্য ... অবশ্যই পার্সোনাল অভিগ্গতা থেকে ...

আমার ব্যাচের ছেলেরা বুয়েটে ফোর ওয়ানের ফাইনাল দিচ্ছে ... কিন্তু আইইউটিয়ান হওয়ার সুবাদে অলরেডি একটা জব ছেড়ে আরেকটায় জয়েন করেছি ... প্রথম জব ছিল একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ... বেশিরভাগ কলিগই মেয়ে ... কিন্তু আমাদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইলেকট্রিকাল ইনজিনিয়ারিংয়ে আটজন ফ্যাকাল্টি ... সবাই ছেলে ... স্টুডেন্টও মেয়ের চেয়ে ছেলে অনেক বেশি ... অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট, যেমন ইংলিশ অথবা বিবিএ তে কিন্তু পুরাপুরি উল্টা ঘটনা ...

জিপিতে জয়েন করলাম ... হিউম্যান রিসোর্সের সুন্দর সুন্দর আপুদের সামনে দাঁত কেলিয়ে ভাইবা দিয়ে টেকনিক্যাল ডিভিশনে ঢুকলাম ... প্রচুর এমপ্লয়ীর সাথে পরিচয় হল ... মেয়ে কিন্তু খুবই কম ... টেন পার্সেন্টও হবে না ... আমাদের ডিপার্টমেন্টেই যেমন ... ত্রিশজন টোটাল ... মেয়ে চারজন ... মরুভূমিই বলা যায় :-)

আমাদের জিরোটু ব্যাচে বুয়েটে কম্পিউটার সায়েন্সে মেয়ে ভর্তি হয়েছিল আটজন, একশ বিশ জনের মধ্যে ... চারজন বাইরে চলে গেছে ... বাংলাদেশের সেরা ইনজিনিয়ারিং ইউনিভারর্সিটি থেকে এখন মাত্র চারজন মেয়ে তৈরি হচ্ছে কম্পিউটার সায়েন্সের বিশাল মার্কেটে পা ফেলার জন্য ...

এই ব্লগেই দেখুন না ... ক্য়জন ছেলে ... আর কয়জন মেয়ে ... মেয়েদের কাছে কম্পিউটার এভেইলেবল না এই যুক্তি কি এখন আর গ্রহণযোগ্য?

রাগু আপা ... মেয়েদের খাটো করা কিন্তু আমার কমেন্টের উদ্দেশ্য ছিল না ... মেয়েরা এখন অনেক ব্যপারে ছেলেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে (যেমন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, ছেলেরা এখন আর বেইলই পায় না) ... কিন্তু যা দেখছি টেকনিক্যাল সাইডে ছেলে মেয়ের অনুপাত সমান হতে এখনো অনেক দেরি ...

এর কারণ কি আমি জানি না ...হয়তো মেয়েরা ভাবে সংসার ফেলে টেকনিক্যাল সাইডে জব করা কঠিন হবে ... কিংবা হয়তো শুধুই আগ্রহের অভাব ... জানি না ...

আপনারা সবাই কি বলেন এ ব্যাপারে?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28707033 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28707033 2007-04-19 22:51:55
বেহেশত থেকে ঘুরে এলাম এইমাত্র ...
বেহেশতের বর্ণনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল ... খানিকটা অনাকর্ষণীয়ও ... মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম হত যেটার জবাব হুজুররা দেয়ার গরজ অনুভব করতেন না (অপ্রাসংগিক একটা কথা বলি, আমার স্কুল জীবনে ধর্ম টীচারদের যতটা খামখেয়ালী, স্বেচ্ছাচারী আর নিষ্ঠুর মনে হয়েছে অন্য কোন টীচারকে তা মনে হয়নি, সবার অভিগ্গতাই কি এরকম নাকি আমারটা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা? )... তবে যা চাব তাই পাব এই ঘোষণাটা আকৃষ্ট করেনি বললে ভুল হবে ...

কৈশোরে রেগুলার নামায পড়তাম ... হুরপরী পাওয়ার হালকা আশা ছিল তখনো ... আরেকটু বড় হওয়ার পরে বুঝলাম শর্তহীন সাধারণ ক্ষমা ছাড়া কোন আশা নাই ... মন যে তাতে খুব খারাপ হয় তা না ... স্রষ্টার কাছে কৃতগ্গ যে মানুষকে তার অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার কিছুটা অন্তত দিয়েছেন ... কল্পানার জোরে এ পৃথিবীতেই একটা ক্ষণস্থায়ী বেহেশত তৈরী করে নেয়া খুব কঠিন কিছু না ...

আজকে যেমন পেয়ে গেলাম তেমন একটা সুযোগ ... অফিসে যাইনি ... পাওনা ছুটি কাজে লাগিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ব্লগিং ... দেন দুপুর পর্যন্ত ঘুম ... হাতমুখ ধুয়ে গোসল-খাওয়া শেষ করে ল্যাপটপটা অন করা মাত্র দেখি আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামছে ...হলে থাকলে নিশ্চই নেমে যেতাম একটা ফুটবল নিয়ে ... সে স্মৃতি মনকে স্যাঁতস্যাঁতে করলো খানিকটা ... জানালায় দাঁড়িয়ে ভেজা মাটির মন খারাপ করে দেয়া গন্ধটা নিলাম খানিকক্ষণ ...

গান ছাড়লাম ... বর্ষার গান খুঁজতে ইচ্ছা করলো না ... উইনআ্যাম্পকে দায়িত্ব দিলাম গান বাছতে ... শাহান বাজপেয়ী ... এত দিন যে বোধে ছিলে পথ চেয়ে আর কাল গুণে ... অসাধারণ ... হালকা একটা আলো ... ঠান্ডা হাওয়া ... ঠনঠন করে জানালার কাচে শিল পড়ার আওয়াজ ... ভেজা মাটি গন্ধ ... রবীন্দ্রনাথ ... বহুবার পড়া একটা বই হাতে নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে থাকা ... চোখ বইয়ের পাতায়, কান গানে ... কিন্তু মনের কোণে ভীড় জমায় বহু দিন আগে প্রিয় কারো হাত ধরে বৃষ্টিভেজা নগরীর পথে পথে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি ...

স্বর্গ কি এর চেয়ে বেশি কিছু দিতে পারবে আমাকে?


(ছবিটা গত বছরের কোন এক সময়ে তোলা, এমনি এক বৃষ্টিভেজা দিনে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706780 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706780 2007-04-18 18:19:41
জরিনা বেগম ঘর বানানোতে ডিস্টার্ব হওয়ায় তিনি মহা বিরক্ত, ভ্রূ কূঁচকে, "না: ।"
"ক্যান?"
"অনেক কাজ অফিসে, আসলে চাকরি নট করে দিবে ..."
বলার ভংগিটা এত জোস যে না হেসে পারলাম না। বিটলামি করে বললাম, "চাকরি নট যে বললি, চাকরি নট মানে কি জানিস?"
"জানবো না ক্যান? নকরি সে নিকাল দেনা", নির্বিকার উত্তর।
আমি লাজওয়াব ।

পুনশ্চ: আমাদের ফ্যামিলির সব পিচ্চিরই একটা নকল নাম থাকে । সবাই যে সেটা খুব আগ্রহ করে মেনে নেয় তা না, কিন্তু যে আপত্তি করে তার নামটাই পারমানেন্ট হয়ে যায়, প্রমাণিত সত্য । আমাদের ছেলেবেলায় ছোটমামু এই নিয়মটা চালু করেছিলেন, আমি এখনো সেই ঐতিহ্য রক্ষা করে যাচ্ছি । সেই ধারায় এই পিচ্চিরও বর্তমানে চালু নাম "জরিনা বেগম" । ছবিটা গত রোযার ঈদে তোলা, তাকে সবার সামনে জরিনা বেগম বলে ডাকার প্রতিবাদস্বরূপ এই অপরূপ মুখভংগী !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28700918 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28700918 2007-04-18 00:13:55
লজিক !
মামার ফোন রাখার একটু পরেই বোন ফোন করল হোস্টেল থেকে, ভাইয়া, এটা কি টেকনিক্যালি সম্ভব?

কি আর বলব ... যতটুকু পারি বোঝানোর চেষ্টা করলাম ... তাও দেখি কনফিউজড ...

একটু পর রুম থেকে বের হয়েছি ... দেখি আম্মা কাকে জানি ফোনে বলছে, দেখেন, এইটা গুজব ছাড়া আর কিছুই না, কারণ সবাই বলছে অমুকের রিলেটিভ মারা গেছে, তমুকের পাশের বাড়ির লোক মারা গেছে ... কেউ কিন্তু বলছে না আমার ভাই মারা গেছে বা আমার ফ্রেন্ড মারা গেছে ... তারপর ধরেন এখন মিডিয়া এত পাওয়ারফুল ... একজন লোক একসিডেন্টে মারা গেলেও ঘন্টায় ঘন্টায় রিপোর্ট দেয়, আর এতগুলো লোক মারা গেল অথচ ওরা কিছু বলবে না? ... আর থার্ড অ্যান্ড ফাইনাল পয়েন্ট, লোকগুলি যদি ফোন ধরামাত্রই বার্স্ট করে মারা যায় তাহলে সবাই জানল কিভাবে যে বিদেশী নাম্বার থেকে ফোন আসছে? সে নিশ্চই মরার আগে বলে যায়নি ...

এই হচ্ছে আমার মা ... এডুকেটেড, ইন্টেলিজেন্ট, স্মার্ট ... লজিক্যালি সব বিষয়ে চিন্তা করেন, তারপর ডিসিশান দেন ... আবেগের বশে কিছু করেন না ...

শুধু এক জায়গাতেই তার লজিক কাজ করছে না ... তার বড়ছেলে একটা মেয়েকে পছন্দ করে ... মেয়েটা দেখতে ভাল না ... তাহলে সে ওকে পছন্দ করল কেন?

এখান নিশ্চই ঘটনা আছে ... জানতে হবে ... তবে একটা জিনিস ঠিক, সব দোষ মেয়েটার ...





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706652 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706652 2007-04-17 23:57:57
পয়লা বৈশাখ
এইবারও তাই করার কথা ছিলো ... বউ (একদিন হবে আরকি)ঢাকায় এসে ভেজাল করে দিলো... তার সফর করার ইচ্ছা ... কি আর করি ...বউয়ের ঝাড়িতে ঘোরতর ইউনিকোডবিরোধীরাও ইউনিকোডের গুণগান করে ... একই আদর্শে উজ্হীবিত হয়ে আমিও বউ নিয়ে ঘোরাঘুরির মহাপরিকল্পনা করে ফেললাম ...

সেই মহাপরিকল্পনায় পিজা আর কোক ঢাললেন তসলিম ভাই, আমার টীম লিডার ... তের তারিখ বিকাল বেলায় ফোন ... রাতে সিস্টেম আপগ্রেড করতে হবে ... সারারাতের কাজ ... আনলিমিটেড পিজা আর কোক ... সাথে আনলিমিটেড পেইন ...

কি আর করা ... কোম্পানী পয়সা দেয় ... পেইন তো খাইতেই হবে ... সো বউকে বিয়ের পরে নাকফুল বানায়া দিব জাতীয় মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে রাত্রি বারটা নাগাত আমরা তিন অভাগা অফিসে হাজির ... আমি, রাজা আর তসলিম ভাই ... আরও একজন আসার কথা ছিল ... ষদ্য বিবাহিত বলে তাকে রেহাই দেওয়া হল ...

কাজ শেষ হতে হতে সকাল সাতটা ... রাতে প্ল্যান করেছিলাম সূর্যোদয় দেখব ... টাইমিং করতে পারিনি ... কোন ফাঁকে জানি আমাদের ডজ দিয়ে সুয্যিমামা বের হয়ে গেছেন ... ঘুমে চোখ লাল ... বাসায় যাব ঘুম দিব আর কোন কথা নাই ...

রাস্তায় বের হয়ে ঘুম কেটে গেল ... শত শত মানুষ পথে পথে ... গাড়ি না , জাস্ট মানুষ ... ছেলে মেয়ে বাচ্চা বুড়া কে নেই ... চারদিকে শুধু রং আর রং ... পোশাকে ... মনে ...

হঠাত করে জোশ চলে আসল ... গাড়ি ঘুরিয়ে রওনা দিলাম ধানমন্ডির দিকে ... তিনজন মিলে খালি গলাতেই গান গাওয়ার চেষ্টা করলাম ... বোধহয় আমাদের গান থেকে বাঁচার জন্যই ড্রাইভার রেডিও ছাড়লো ... "পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন এ বুঝি বৈশাখ এলেই দেখি ... মেলায় যায় রে মেলায় যায় রে" ... হোয়াট এ টাইমিং ... ধন্যবাদ মাকসুদ ... ধন্যবাদ রেডিও আমার ... ধন্যবাদ দিলদার ড্রাইভার ...

মুক্তমন্চে গিয়ে দেখি বিশাল জনতা ... মানুষ আর মানুষ ... পা ফেলার জায়গা নাই এমন অবস্হা ... গান হচ্ছিল ... পুরনো সেই দিনের কথা ... গলা মেলালাম ... এবার কিন্তু আর বেসুরো লাগল না ... তসলিম ভাইয়ের গলা বেশ ভালো ... রাজার হাঁসের মত গলা দিয়েও দেখি ভালোই সুর বের হয় ...

পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চারাও দেখি হেভি সাজ দিয়ে পয়লা বৈশাখ করতে এসেছে ... তাদের একজনের সাথে খাতির জমালাম ... অনেক অনুনয় বিনয়ের পর একটা ছবি তুলতে দিতে রাজি হল ... আপলোড করে দিলাম ছবিটা ... বলেন তো, মন ভালো হয়ে যায় না এমন ছবি দেখলে? আমাদের নতুন প্রজন্ম শুধু হিন্দী সিরিয়ালই দেখে না, তারা পহেলা বৈশাখের ভোরে বিছানা ছাড়ে ... জিন্স টিশার্ট ছেড়ে শাড়ি পরে একদিনের জন্য হলেও নিজেকে বাঙালি বলে ভাবে ... রমনার বটমূলে আরও অজস্র মানুষের সাথে মিশে গিয়ে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় আমাদের, দেখ আমরা এখনো বাঙালি আছি ... বাঙালি থাকবো ... একদিন বাঙালি ছিলাম রে বলে আফসোস করার সময় আসেনি এখনো ...

ফেরার পথে দিলদার ড্রাইভার হঠাত বললো, স্যার দেখছেন, পয়লা বৈশাখ ঈদের দিনের মত হয়া গেছে?

তসলিম ভাই ঘুম ঘুম চোখে বললেন, তাই তো হওয়া উচিত, তাই না?





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706534 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28706534 2007-04-17 02:16:45
টাইম পাস
আজকাল আর ভাল্লাগে না ... বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলি দেশের ব্রাইটেস্ট স্টুডেন্টগুলিকে ক্যাপচার করে ঠিকই (আমার মত ব্যতিক্রমও আছে দুইএকটা, যাক সে বাজে কথা ... ) ... কিন্তু তাদের দিয়ে যে কাজ করায় তার জন্যে একটা তিন মাসের ট্রেনিংই যথেষ্ট ... কষ্টই লাগে মাঝে মাঝে পাঁচ-সাতটা রিসার্চ পেপারওয়ালা একটা ছেলেকে এক্সেল ফাইল নিয়ে ডেইলি রিপোর্টের কাজ করতে দেখলে ... বিশেষ করে সেটাই যদি তার একমাত্র কাজ হয় ...

আমার আজকের কাজটা যেমন ... ইম্পর্ট্যান্ট কাজ ... টাইমলি শেষ করতে না পারলে ভাল ঝামেলা বাধবে ... নেটওয়ার্ক মনিটরিং অ্যান্ড কনফিগারেশনের কাজ বন্ধ থাকবে পুরাপুরি ... কিন্তু আমি জানি এমন কিছু হবে না ... আগেও অনেকবার করা হয়েছে ... ভবিষ্যতেও হবে ... ব্লাইন্ডলি কিছু কমান্ড টাইপ করে আমার ক্লাস ফোর পড়ুয়া ছোটভাইও করতে পারবে কাজটা ...

তাই বলে টেলিকমে যে কোন কাজ শেখার কোন সুযোগ নেই তা কিন্তু না ... বিশেষ করে ভেন্ডরগুলোতে খুব ভাল অপারচুনিটি আছে ... অপারেটরগুলিতে অবশ্য কম ... তবে কেউ যদি নিজে আগ্রহী হয় তাহলে তার পক্ষে অনেক কিছুই শেখা সম্ভব ...

যাই হোক, কাউকে টেলিকেম আসতে নিরুৎসাহিত করার জন্য এই পোস্ট না ... বসে বসে বিরক্ত লাগছিল তাই যা মাথায় আসে আগডুম বাগডুম লিখে ফেলেছি ... আমি জানি যত দিন টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি এরকম বুম করবে ততদিন ভাল ভাল ছেলেরা এখানে জয়েন করবেই ... কারণটা সিম্পল ... মানি ইজ গুড ...ওয়ার্কিং এনভায়রনমেন্ট ইজ সুপার্ব ... ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে ... সো কিপ কামিং ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705656 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705656 2007-04-10 22:47:59
সবাই বলি আমীন ...
ঘটনাক্রমে সেই ভদ্্রলোকের মেজ ছেলে এসএসসিতে ছয়টা লেটার সহ আ্যারাউন্ড এইট ফিফটি পেয়ে গেল ... ব্যস আর যায় কই ... মিষ্টি চলে আসল সন্ধ্যার মাঝেই ... যার সাথেই দেখা হয় তাকেই শুনতে হয় ছেলের সাফল্যের আসল রহস্য ... আরে ভাই আমার আব্বাজী তো বিরাট ট্যালেন্ট ছিলেন ... ব্রিটিশ আমলে ইন্টারে স্কলারশীপ পাইছিলেন ... আমার বড় ভাইজানও তো ছিলেন সেইরকাম ... পোলাটা দাদা-চাচার রক্ত পাইছে ...

সেই ছেলেই যখন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় আশনুরূপ রেজালট করতে পারল না তখনি আবার শুনতে হল তাকে ....কির পো, যা ভিক্ষা কইরা খা ... তোর বাড়িতে জায়গা নাই ... কথার কথা না, আসলেই জায়গা দেননি তিনি ... ছেলেটা তার মামার বাসায় ছিল প্রায় একমাস ...

এতক্ষণ যা লিখলাম এক বিন্দুও বাড়িয়ে লিখিনি ... ছেলেটা এখন ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে ... মাঝে মাঝেই দেখা হয় ওর সাথে ... এসব তার মুখেই শোনা ... হাসিমুখেই বলছিল ... তারপর বললো, আচ্ছা মানলাম আমার বাপে আমারে ভালবাসতো বইলাই আমার কাছে এক্সপেকটেশন বেশি ছিল ... তার কাছ থেকে আমাদের এক্সপেকটেশনের কতটুক তিনি পূরণ করছেন সেই ডিটেলসেও আমি যাব না ... কিন্তু কিছু পাওয়া মাত্র মাথায় তুইলা নেওয়া আর ব্যর্থ হওয়া মাত্র ছঁইড়া ফালায় দেওয়ার এই যে কাজটা তিনি করছেন, সেইটার ফলাফল কি ভয়াবহ হইতে পারত সেইটা ভাবতে পারিস? আমার কনফিডেন্স লেভেল পুরা ধ্বংস হয়া গেছিল ... শেষ হয়া যাইতে পারতাম সেইদিন ...

আমি ওকে সান্তনা দেই ... বলি, আরে ঐদিন ঠ্যাংগানি দিছিল বইলাই তো তোর জেদ চাইপা গেল, নাইলে আসতে পারতি এতদূর?

বালের আলাপ পারিস না, জেদ না ছাই ... পুরা হতাশ হয়া গেসিলাম ঐ সময়টা ... মামা সাপোর্ট না দিলে আজকে জেএমবির জংগি হয়া যাইতাম ...

সবাই হাসে ... জংগি হয়নি ও, হয়েছে নামি ভার্সিটির মোটামুটি ভাল ছাত্র ..এখন হাসা যায় ... সত্যি সত্যি জংগি হয়ে গেলে নিশ্চই হাসতাম না ...



বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছে ... খুবই আনন্দের কথা ... পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশ গত বছরের দ্্বিতীয় সেরা দল ... কেনিয়া-জিম্বাবুইকে হারায় তো কি হয়েছে ... অসট্রেলিয়া শ্রিলংকাকেও তো হারায় মাঝে মাঝে ... এবার আর বাংলাদেশকে ঠেকায় কে? ... হোয়াটমোর বলেছেন আমাদের সেকেন্ড রাউন্ড টার্গেট ... আরে ঠিকই তো .. সেকেন্ড রাউন্ডে তো উঠবই ... হোয়াটমোর-নাফীস-আশরাফুল-মাশরাফীরা আছে না ...

নিউজীল্যান্ডকে হারাল ... আরে হারাবেই তো ... ইন্ডিয়াকে বাঁশ দিল ... ওয়াও, আর ঠেকায় কে ... সেকেন্ড রাউন্ডে উঠলাম ... এইবার আর কাপ না নিয়া ফেরা নাই ... কত উচ্ছ্বাস ... কত ভালোচনা (ভাল ভাল আলোচনা আর কি) .. কত পোস্ট ... পড়ে শেষ করব কখন ...

অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড যেই মাটিতে নামিয়ে আনল আমাদের, ব্যস শুরু হল চিৎকার ... গেল গেল সব গেল ... ব্যাটাদের তেল বাইড়া গেছে ... বাশার একটা ছাগল ... হোয়াটমোর গাধা ... আশরাফুলরে লাথথি লাগাও ... আফতাব দায়িত্বহীন ... রহিম দুধের পোলা োরে নিছে ক্যান ... কত কথা ... কত পোস্ট ... কত ভালোচনা ...

সাউথ আফ্রিকারে যেই হারাইল, অমনি আবার সাইন কার্ভের মত ভালোচনার ডিরেকশন চেনজ ... বাশার ছাড়া সবারই আবার কপাল ফিরে গেছে ...

আমি বাজি ধরে বলতে পারি মাত্র চার-পাঁচ ম্যাচ পরেই অনেকেই আবার আশরাফুলের দলে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন ...

ভাই আর কত, এইবার একটু ছাড়ান দিলে হয় না? আমরা দল জিতলে নাচব, দল হারলে গাইল্লাবো ... বাট সবই একটু লিমিট রেখে ... একটা ম্যাচ জিতলেই সেটাকে মুক্তিযুদ্ধে জয়ের সাথে তুলনা করা আর হারলেই কুশপুত্তলিকা দাহ করা কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?

আমরা কিন্তু এখনো ওয়ার্লড র্যাংকিংয়ে নয় নাম্বার দল ... কয়জন মনে রাখি সে কথাট া?

আল্লাহ আমাদের ঠিকভাবে চিন্তা করার তাওফীক দান করুন, সবাই বলি আমীন ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705417 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705417 2007-04-08 16:00:13
স্বপ্ন দেখি না আর
অফিস শুরু হয় আটটায় ... কোন দিনই পৌছতে পারি না টাইম মত ... আটটা দশে বিছানা ছেড়ে বাথরুম পাঁচ রেডি হওয়া পাঁচ নাস্তা পাঁচ সিস্টেম লসের পাঁচ মিনিট পেরিয়ে সাড়ে আটটায় পথে নামি ... বাসা কাছে হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে কোনমতে নয়টার সময় হাঁপাতে হাঁপাতে অফিস পৌছাই ... চাকরিটা এখনো আছে কিভাবে সেটা আসলেই একটা রহস্য ...

যাইহোক, গতকালের কথা বলি ... মহাখালী থেকে বাসে উঠলাম ...ওয়ান লাইন ... কাউন্টার সার্ভিস ... থিওরিটিক্যালি এসব বাস সিটিং হওয়ার কথা ... বাস্তবে হয় না ... তাতে মাইন্ড করার কিছু আছে বলেও আমার মনে হয় না ... এইটুকু একটা শহরে গাদাগাদি করে দেড়কোটি মানুষ জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত... সবার জন্যে সিটের ব্যবস্থা করতে কি পরিমাণ গাড়ি আমদানি করতে হবে আর তাতে আমাদের ট্রাফিকজ্যাম জর্জরিত তিলোত্তমার কি অবস্থা হবে সেটা একটু কল্পনা করাই যথেষ্ট ...

বাসে সিট পেলাম না ... যথারিতী কিছু মানুষ দরজার কাছেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ... তাদের পাশ কাটিয়ে একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম ... পেছনে জায়গা থাকার পরেও কিছু মানুষ কেন দরজায় দাঁড়িয়ে ঘামের গন্ধ খায় এই রহস্য আমি আজও উদঘাটন করতে পারিনি ...

বাস মহাখালী ছাড়িয়ে আমতলী পৌছাতেই গোলমাল শুরু হল ... বেশ কিছু মানুষ বাসে উঠতে চান ... কিন্তু দরজার কাছে দাঁড়ানো ঘামের গন্ধখেকো মানুষগুলোর সেদিকে কোন দৃষ্টি আছে বলে মনে হল না ... সবাই উদাস উদাস দৃষ্টিতে বাইরে না জানি কোন মনোহর দৃশ্য দেখায় ব্যস্ত ... কন্ডাকটর একবার চিৎকার করে বলল "ভাই একটু পিছনে যান, মানুষরে উঠতে দ্যান " ... ব্যস আর যায় কোথায় ... শুরু হল গালাগালির বন্যা ... হারামির পো এইটা সিটিং না ... খানকির পোলা টানস না ক্যা ... ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ... দরজায় ঝুলন্ত মানুষগুলোরও যে অফিস যাওয়ার তাড়া থাকতে পারে, তাদের মধ্যেও যে দুজন মহিলা শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে আছে, সেসব দেখার সময় কোথায় আমাদের?

বাসে ক্যাচাল লাগা নতুন কিছু না ... কখনোই অংশ নেই না তাতে ... কানে হেডফোন লাগিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই পৃথিবী থেকে ... এবার আর পারলাম না ... ভদ্্রভাবেই বললাম লোকগুলোকে একটু পিছনে আসার জন্যে ... বোঝানোর চেষ্টা করলাম ঐ লোকগুলিরও তো কাজ আছে ... অফিস টাইমে সিটিং সিস্টেম করা কি সম্ভব ... আর আপনি নিজেই তো দাঁড়ায় আছেন ... খামাখা উনাদের বাধা দেন কেন ... কে শুনে কার কথা ... উলটা আমি তখন গালাগালি খাওয়া শুরু করলাম ... একটা মানুষও আমার কথায় কান দেওয়ার চেষ্টা করল না ! ... এর মাঝেই দরজায় বিপজ্জনকভাবে ঝুলতে থাকা কয়েকজন মানুষ আর নিচে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মহিলাকে রেখে বাস চলতে শুর করল ... মাঝের করিডোরটা পুরোটাই ফাঁকা তখনো ...

ওয়ান লাইন যায় গুলশান ওয়ান ক্রস করে গুলশান টু পর্যন্ত ... এ ই বাসের প্রত্যেকটা যাত্রী গুলশানের কোন না কোন প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করেন ... স্মার্ট, ওয়েল ড্রেসড , গলায় ঝোলে নামী কোম্পানির ডগ ট্যাগ , কানে হেডফোন ... রাস্তার লোকের আনকালচার্ড কথাবার্তা শোনার সময় নেই কারও ... টিপটপ এয়ারকন্ডিশন্ড অফিসে গিয়ে এরাই আলোচনা করবে দেশের মানুষের দুর্দশা নিয়ে ... কেউ হয়তো ঢুকবে সামহোয়্যারইনেই ... পোস্ট করবে ড: ইউনুস আর ফখরুদ্দীনের সরকার কেমনে বাঁশ দিচ্ছে এই দেশের পশ্চাদ্দেশে ...

এই ঘটনা শুধু গতকাল না ... অসংখ্যবার দেখেছি ... আমরা কেউ কাউকে একবিন্দু জায়গা দিতে রাজি না ... সিটিং সার্ভিস করে চিলাবো অথচ ফার্স্ট স্টপেজ থেকে যখন উঠবো তখন চিন্তা করবো না নেক্সট স্টপেজের লোকগুলার জন্য কোন সিট রইলো কিনা ... গাড়ি চালালে সিগনাল মানবো না ... পায়ে হাঁটলে ওভারব্রিজে উঠবো না ... চান্স পাওয়া মাত্র ঘুষ খাব ... আর দেশের টাকা মোবাইল কোম্পানিগুলি কেমনে বিদেশে পাচার করতেছে সেটা নিয়ে মোবাইলেই বন্ধুকে লেকচার দেব ...

যুদ্ধে-সাইক্লোনে যখন একটা দেশ ধ্বংস হয়ে যায় তখনো আবার উঠে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা যায় ... কিন্তু একটা দেশের মানুষ যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন কি আর দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়? ... আমি অন্তত এই দেশ নিয়ে আর স্বপ্ন দেখি না ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705172 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28705172 2007-04-06 17:35:42
পতাকা উড়াবো আমি ...
ঠিক আছে, রোযা নাহয় নাইবা রাখলাম, সেহেরি খেতে তো সমস্যা নাই ... কাজেই প্রায় প্রতিদিনই উঠতাম ... খাওয়ার পরে এককাপ চা নিয়ে সবাই বসত খেলা দেখতে ... স্পেশাল অফার হিসেবে আমাকেও দেওয়া হত ছোট কাপে এককাপ ... আযান হয়ে যাবে এক্ষণি ... সবাই চা খেত খুব তাড়াহুড়া করে, আমি ছাড়া ...

বাসা ভর্তি মানুষ ছিল তখন ...বাবা-মা, ছোটমামা, ছোটখালা, বড় ফুপুর ছেলে মনি ভাই ... বোনটা খালি হাঁটা শিখেছে, ক্রিকেট বলতে পারে না, বলে কিকু ... নাইনটি টুর কথা মনে হলে এসব ছবিই আগে মনের পর্দায় ভেসে আসে ... কিন্তু দুটা ছবির মাঝের ছোট্ট বিরতিটায় এক ঝলকের জন্যে ভেসে উঠে মোটাসোটা একটা লোকের চেহারা ... ডেভিড বুন ... আরো আছে ... মার্টিন ক্রো, জন্টি রোডস, ইমরান খান, দীপক প্যাটেল .. এবং অবশ্যই ইনজামাম ...

যদি এইট্টি থ্রির ওয়ার্লড কাপটা দেখার সুযোগ পেতাম তাহলে নিশ্চয়ই ভারতের সাপোর্টার হতাম ... কিন্তু আমার কপাল খারাপ ... একাত্তুরে কি হয়েছিল তা বোঝার আগেই মনের গভীরে স্থান করে নিল ইনজামাম, ওয়াসিম আকরাম, আকিব জাভেদ আর ইমরান খান ... বহু বহু দিন আমাকে কষ্ট দিয়েছে এরা ... পাকিস্তানকে হৃদয়ের গভীর থেকে ঘৃণা করেও ক্রিকেটে অবচেতনেই সাপোর্ট করে গেছি ...

আমাকে এই যন্ত্রণা থেকে প্রথম মুক্তি দিয়েছেন আকরাম খান ... বিশালবপু এই মানুষটা হল্যান্ডের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াই করে একলা আমাদের পৌছে দিয়েছেন বিশ্বমানচিত্রে ... নাইনটি নাইন থেকে আমাকে আর পাকিস্তান সাপোর্ট করতে হয়নি ... যেটুকু দুর্বলতা ছিল তাও উপড়ে দিয়েছেন রশিদ লতিফ ... বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের সময় সততা, মহানুভবতা আর খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ... ইনডিভিজুয়াল প্লেয়ার হিসেবে তাও ভাল লাগত সাইদ আনোয়ার আর ইনজামামকে, ভারতের যেমন গাঙ্গুলি ... ইনজির অবসরের পর সেই টানটাও চলে গেল ... আতিফ আসলামের গান ছাড়া পাকিস্তানের কিছুই আর এখন ভাল লাগে না ...

ক্রিকেটের জন্য ভালবাসাটাও অবশ্য দিন দিন কমছে ... পুরা দিন নষ্ট করা ক্রিকেটের চেয়ে আমাকে অনেক বেশি টানে ইওরোপিয়ান ফুটবল ... কিন্তু বাংলাদেশের খেলা শুরু হলেই যেন রক্তে নাচন লাগে ... যতক্ষণ পারি চোখ রাখি টিভির পর্দায় ... অফিসে মিনিমাইজ করে রাখি ক্রিকইনফো ... রাস্তায় থাকলে বারবার মোবাইলে লগইন করে জেনে নেই স্কোর ... হারার পর দীর্ঘশ্বাস ফেলি ... "আরে লংকাও তো একদিন এমনেই চোদন খাইতো" বলে নিজেকেই স্বান্তনা দেই ...

আর কখনো কখনো ... যখন সত্যিই জিতে যায় আমার দেশ ... বাঁশের মাথায় একটা লাল-সবুজ ফ্ল্যাগ বেঁধে উড়িয়ে দেই ছাদে ... সুযোগ থাকলে রওনা দেই ভার্সিটির দিকে ... না থাকলে ছোট ভাইটাকে নিয়ে একাই চেঁচাই ঘরের মধ্যে ...

আজ বাংলাদেশের খেলা ছিল না ... তাতে কি ... জিতলো তো বাংলাদেশই ... শী্রলংকার সাহায্য লেগেছে ... তাতেই বা হয়েছে কি ...অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে না হারাল নাইনটি টুতে পাকিস্তান পারতো সেমিতে উঠতে? ... আমি আজকেই পতাক া উড়াবো ...

আর আগামীকাল কি করবো? বাংলাদেশ যখন বারমুডাকে হারাবে (ইনাশাল্লাহ) তখন? এখনো ভেবে বের করতে পারিনি ... তবে কিছু তো একটা করবই ...

আমরা কি অদ্ভুত জাতি তাই না? কিছুই করি না দেশ নিয়ে ... খালি ভাবি নিজেদের কথা ... আর দেশ দেশ করে গলা ফাটাই (শুধু গলাই ফাটাই, কাজ কিন্তু কিছু করি না) ... কিন্তু দেশ যখন সামান্য একটা খেলায় জিতে তখন দেশপ্রেমের বান ডেকে যায় বুকে ... হায়রে, এই দেশপ্রেমের ছোট একটা অংশও যদি কাজে লাগাতে পারতাম ...



(সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম গত সপ্তাহে, ছবিটা ছেড়াদ্ী্বপ থেকে তোলা, মোবাইলে তোলা বলে কালারটা বেশি ভালো আসেনি)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28703286 http://www.somewhereinblog.net/blog/moony_iutblog/28703286 2007-03-23 19:23:35
এক্সাম হল
সেদিনের পরীক্ষায় প্রশ্ন কেমন ছিল ... কেমন অ্যান্সার করলাম কিছুই মনে নেই ... পাস করেছিলাম সেটা জানি ... আরো কিছু কিছু ডিটেইলস পরে জেনেছি মায়ের মুখে ... কিন্তু যখনি সেদিনের কথা ভাবতে যাই সেই সূচাগ্র পেন্সিলের খোঁচাই সবার আগে মনে পড়ে ...

দ্্বিতীয় ঘটনাটাও ক্লাস ওয়ানের ... সেদিন পরীক্ষা দিতে গিয়ে আবিষ্কার করেছিলাম পেন্সিল বক্স নেই নাই ... আতংকে পেটের ভাত চাল হয়ে যঅয়ার মত অবস্থা ... কারো কাছ থেকে একটা পেন্সিল চেয়ে নিলেই যে প্রবলেম সলভ সেইটা মাথায় আসতে অনেক সময় লেগেছিল ...

স্কুল লাইফের বাকি পরীক্ষাগুলি মোটামুটি একই টাইপ ... স্যারেরা খুব কড়াকড়ি করতেন এটা মনে আছে ... তাই এসএসসির সহযোগিতাপূর্ণপরিবেশ দে খে অবাক হয়েছিলাম খুব ... সেইম কেস নটরডেমেও ... বিগ্যান (বানানটা লিখতে পারছি না) কলেজের মোটামুটি গার্ডবিহীন এক্সাম আনন্দের বদলে অস্বস্তিতেই ফেলেছিল প্রথমে ...

স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি সব জা্যগাতেই এক্সাম হলের একটা কমন প্রবলেম ছিলো ... আমার ধারণা ছিল প্রবলেমটা আমি একাই ফেস করি ... কিন্তু পরে দেখছি আরও অনেকেই এটা অনুভব করেছে ... সেটা হল ঘাড়ের উপর গার্ডের দৃষ্টি ... আমি লিখে চলেছি আপন মনে ... হঠাৎ অনুভব করলাম ঘুরতে ঘুরতে ঠিক আমার পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন স্যার ... পড়ার চেষ্টা করছেন আমি কি লিখছি ... খুবই বিচ্ছিরি একটা ফিলিংস ছিল সেটা ... লেখা থামিয়ে বসে থাকতাম তখন ... স্যার যাওয়ার আগ পর্যন্ত ... আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি, এমন সিচুয়েশনেও কিছু লি