বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য গুপিয়াখালি আর সম্ভুদিয়া গিয়েছিলাম। দুটোই সিরাজগন্জের ভিতর। এর মধ্যে গুপিয়াখালি ২০০ বছরের পুরান গ্রাম বছর পাঁচেক হল যমুনায় শেষ। মানুষগুলো পাশের একটা চরে আশ্রয় নিয়েছে। সম্ভুদিয়া নিজেই একটা চর, এলাকাটা ভাঙনের মধ্যেই থাকে; আমরা যখন গেলাম তখন দুটো এলাকাই থৈ থৈ যমুনা! গুপিয়াখালিতে যখন নৌকায় যাচ্ছিলাম পুরো যাত্রাটাই ডুবে থাকা শষ্য ক্ষেতের উপর ছিল। আর সম্ভুদিয়ার মানুষদের এটা খুব একটা নতুন ঘটনা না - তারা থাকেই পানির উপর। এই সব এলাকায় আমরা প্রথমবারের মত দেখলাম ৪/৫ বছরের শিশু ডিঙ্গি নৌকা চালাচ্ছে, ভীষন আত্মবিশ্বাসে। আমরা যারা সাঁতার জানি না তাদেরকে এই বাচ্চাগুলো ভীষন লজ্জায় ফেলল।
আমাদের যাওয়াটা ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কাজটা শেষ করার পর আমরা সবাই খুব তৃপ্ত ছিলাম - তৃপ্ত ছিলাম এই জন্য যে ঐসব এলাকায় কোন সাহায্য যায় না - এতোটাই প্রত্যন্ত।
গুপিয়াখালি থেকে যখন আমরা ফিরে আসছি তখনকার একটা দৃশ্য দিয়ে লেখাটা শেষ করি - যমুনার তোড়ে চারিদিক শুধুই ভাঙছে, মানুষগুলো যতখানি সম্ভব ঘরগেরস্থালির জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলছে - তার ভিতর একদম নদীর পার ঘেঁষে ষাটোর্দ্ধ চারজন বৃদ্ধ - নাকি যুবক, কিশোর না শিশু - কী বলব জানি না - তারা তাশ খেলছে! এ দৃশ্য আমাদের সবাইকে বোবা বানিয়ে দিল। প্রকৃতির এমন সর্বগ্রাসী আক্রমন, এমন দারিদ্র - এর মধ্যে থেকে নিয়তিকে এমন উপহাস করা হয়ত মানুষকেই মানায়।
আমরা এই দৃশ্য নিয়ে এখনো কথা বলি। বলি - মানুষগুলোর স্পর্ধা চমকে ওঠার মত, সম্মান করার মত তো বটেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



