আর দশটা রাতের মতই রাতটা নি:শব্দ, চুপচাপ আর শান্ত। আশপাশের বাড়িগুলোতে আলো নিভে গেছে, সংসারী মানুষগুলো হয়ত ঘুমে বিভোর। বেশ খানিকটা দূরে কিছু নতুন বাড়িঘর উঠছে, সেগুলোর ভিতর খেটে খাওয়া মানুষগুলো এখনো আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। সারাদিনে কখন জোর, কখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরিয়ে আকাশ এখন কিছুটা ক্লান্ত। কিছু মেঘ এখনো জবুথবু হয়ে রয়েছে, হয়ত আগামীকালের জন্য।
বাইরে তীব্র ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, মাঝে মাঝে কুকুরের, রাত করে বাড়ী ফেরা কোন মানুষের রিক্সার টুনটুন শব্দও আছে।
ঘুম আসছে না কিছু্তেই। দুপুরে ঘুমালে এমনই হয় হয়ত। আজকের দুপুরটা কেমন যেন গুমোট ছিল। আবহাওয়াটা দিনকে দিন কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। বর্ষাকালে তেমন বৃষ্টি কই! গাছগুলোতে পাগলের মত কদম ফোটে না আর। কিছুদিন আগেও বর্ষায় আশপাশের রাস্তা কদম ফুলের গন্ধে ভরে থাকত।
আজকের দিনটাই কেমন মন ভার করা একটা দিন গেল। সকালটাই শুরু অসহ্য গুমোট গরমে। এর বিরুদ্ধে কিছু করার নাই তাই গরমটাকে উপভোগ করছি। তারই মধ্যে ফের উপলব্ধি করি মানুষ আদতে একা।
আমরা কেউ কারো কাছেই পূর্ণ পরিচিত না। নিরন্তর শুধু একে অপরকে চিনতে পারার চেষ্টা। বাবা ছেলেকে, মা মেয়েকে, বোন ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে - সবাই সবাইকে চিনতেই চাই, চিনে সুখী হতে চাই, সুখী হতে চেয়েও তবু আশ্চর্য আমরা কারো সামনেই নিজেকে চেনাই না! আমিত্ব, ছোট ছোট অভিমানের মরুভূমি, ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝির চোরাবালি, কিছু কপটতার মরিচিকা আমাদেরকে ক্রমশ একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এই দূরত্ব ঘোচানোর সমাধান আমার কাছে নেই, শুধু বলা - 'হরি দিন যে গেল সন্ধা হল পার কর আমারে' - যখন পরিণতি তখন এই দূরত্বের আসলে কী মানে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



