জীবনকে অন্যভাবে দেখা যায়, দেখা জরুরী...

২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

মেইলে পাওয়া গল্প থেকে অনুবাদ.......

দর্শনের ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক বেশ কিছু উপকরণ নিয়ে উপস্থিত। ক্লাসের সময় শুরু হতেই একটা বড় পাত্র নিয়ে তার মধ্যে গল্ফ বল দিয়ে টায়টায় ভরে ফেললেন।
ক্লাসকে জিজ্ঞেস করলেন, পাত্রটা ভরা তো, না? স্বাভাবিক ভাবেই সবাই সমস্বরে তা'তে সায় দিল।
এবার তিনি সেই পাত্রে পাথরকুচি ভরে ঝাঁকি দিলেন, বলগুলোর খালি জায়গা সেই পাথরকুচি দিয়ে ভরে গেল।
আবার জিজ্ঞেস করলেন, এবার পাত্রটা ভরে গেছে তো, না? সবাই দেখল এটাকে ভরাই বলা যায়। যেটুকু খালি তা আসলে খুবই সামান্য। সুতরাং, ভরা।
হাতের কাছে বালি ছিল, শিক্ষক পাত্রটার উপর তা ঢেলে আবার ঝাঁকি দিলেন এবং পাত্রে যা শুণ্যস্থান ছিল তা পূরণ করে দিল বালি। ক্লাসে উপস্থিত সবাই বুঝল শিক্ষকের উদ্দেশ্য।
শিক্ষক জিজ্ঞেস করার আগেই সবাই বলল, এবার পূর্ণ হয়েছে।
শিক্ষক এবার কফি মেশিন থেকে দু কাপ কফি ঢেলে দিলেন! আর তা সাথে সাথে বালির সাথে মিলিয়ে গেল! পুরো ক্লাস্ তখন বোকা বণে গেছে। কেমন হলো বিষয়টা! কেউ পারলাম না?
এখন আস তোমাদের বলি কেন এত কিছু করলাম বা দেখালাম। এই বড় পাত্রটাকে আমাদের জীবনের সাথে তুলনা করতে পার আর গল্ফ বলগুলো ভীষন কাজের! এগুলোকে বলতে পার তোমার পরিবার, তোমার ছেলে মেয়ে, তোমার স্বাস্থ্য, তোমার বন্ধু বান্ধব, অথবা তোমার খুব প্রিয় শখ! ভেবে দেখ তোমার সব শেষ অথচ এগুলো তোমার সাথে আছে - তোমার জীবন কি তখনো পূর্ণ না?
শিক্ষক বলে চলেন: আর এই যে পাথরকুচি, এগুলো হলো তোমার চাকুরি, তোমার বাড়ি, তোমার গাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর বালি? সেগুলো আরো ছোটখাট বিষয়-আসয়। এখন তুমি যদি উল্টো দিক থেকে ভাব, যেমন, আগে যদি বালি দিয়ে পূর্ণ করো তাহলে গল্ফ বল বা পাথরকুচির জন্য জায়গা থাকবে না, থাকবে কি? জীবনের ক্ষেত্রেও একইভাবে ভাব। তুমি পুরো সময় যদি ছোটখাট বিষয় নিয়েই ব্যস্ত থাক তাহলে যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তা থাকবে অবহেলিত, যা করবে তোমাকে দূরের মানুষ। বরং যা তোমাকে সুখী করে তাদের প্রতি মনোযোগি হও। ছেলেমেয়ের সাথে খেলাধুলা কর, নিজের দিকে তাকাও, স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যাও, সব ভুলে আবার ষোল বছরের রোমান্সে ডুবে যাও। বাকি যা কিছু ওগুলো হয়ে যায়...যাবে। বলি, গল্ফ বলগুলোর যত্ন নাও, যেগুলো আসলেই তোমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
পিছন থেকে একটি মেয়ে জিজ্ঞেস করল, তাহলে দু' কাপ কফির মাহাত্যটা কি স্যার?
শিক্ষক বললেন, ভাল করেছ জিজ্ঞেস করে। ওটা দিয়ে বলতে চাই, জীবন যতই পূর্ণ থাকুক না কেন বন্ধু'র জন্য জায়গা রাখতে কখনো ভুল না।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ১৫২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮
comment by: নতুন বলেছেন: :)
২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০
comment by: কিরিটি রায় বলেছেন: জীবন যতই পূর্ণ থাকুক না কেন বন্ধু'র জন্য জায়গা রাখতে কখনো ভুল না।
৩. ০২ রা মে, ২০০৮ সকাল ৮:০২
comment by: আসিফুজ্জমান তমাল বলেছেন: চমৎকার।গল্পটা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে।
৪. ০২ রা মে, ২০০৮ সকাল ৮:৪৫
comment by: মুতাসিম বলেছেন: খুবই মুল্যবান একটা পোষ্ট। আমি আমার প্রিয় পোষ্টে রাখছি। উনি কোন স্যার? আপনি কি চিনেন? যদি একটু বলতে পারতেন। আমার একটা সমস্যা আছে ঐটা উনি সমাধান করতে পারবে।
৫. ০২ রা মে, ২০০৮ সকাল ৮:৪৮
comment by: মুতাসিম বলেছেন: ভাইয়া আমি এই পোষ্টটা আমার জন্য নিতে পারি? আমার একটা ছোট্ট ওপেন ব্লগ আছে.. http://www.nogorbalok.com নিবো লেখাটা?

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৭১৭