আমরা কি বোকা, নাকি তেমন ভাবা হচ্ছে?
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
হাতে সময় আছে কিছু নিয়ে লেখার কিন্তু কী নিয়ে লিখি সেটাই ভেবে পাচ্ছি না! খাদ্য সংকট, রাজনীতি সংকট, দেশের বর্তমান হর্তাকর্তাদের ব্যর্থতা এসব নিয়েও লেখা যায় কিন্তু কেন যেন ভীষন ক্লান্ত লাগছে।
সরকারের রথিমহারথিরা বলছেন খাদ্যের কোন অভাব নাই। তাই যদি হয়, অর্থাৎ খাদ্য সংকট না থাকলে বাজারে কেন আগুন? মানুষ কেন তাহলে হামলে পড়ছে সব জায়গায়? 'রাঘব-বোয়াল' ধরতে পারছে এই সিন্ডিকেট ধরতে পারছে না কেন! আমরা কি ভেড়া নাকি মনে করা হচ্ছে তেমন কিছু?
সেদিন কাগজে পড়লাম - ৪জন মিলে নাকি পুরো রডের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে - এটা সরকার চাইলেই বন্ধ করতে পারে না, এটা আপনাদের বিশ্বাস হয়? যারা দুই-দুইজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে জেলে পুরে ফেলতে পারে তারা এই ৪জনকে ধরতে পারে না!
তাহলে উপসংহার কি? কে আসলে জড়িত? কিংবা কারা? তারা কি আসলেই অনেক শক্তি রাখে? অনেক বুদ্ধি? সব ধরনের গোয়েন্দা চ্যানেল, দেশের সর্বময় ক্ষমতা থাকা স্বত্তেও যখন এদের ধরা হয়না তখন আমরা কি উপসংহার টানব?
সদ্য ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়া খালেদা জিয়ার নামে কেন একটা মামলাও হয় না, আদালতে প্রেরণ তো অনেক পরের কথা, অথচ যে মানুষটা ২০০১ এ ক্ষমতা ছেড়েছে তাকে কেন লান্ছিত করা হচ্ছে? কেন এমন হচ্ছে আসলে? আমরা কি সত্যি বোকা নাকি ভাবা হচ্ছে?
তারেক জিয়া কেন একটার পর একটা মামলা থেকে জামিন পায়? হাইকোর্টের মামলার রায় কেন সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করে? কার নির্দেশে? যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম পুরোদেশকে একাট্টা করার জন্য মরিয়া তখন ভারপ্রাপ্ত আইন সচিব কিভাবে বলে 'মুক্তিযোদ্ধাদের মত রাজাকারদের সন্তানদের জন্যও কোটা নির্দিষ্ট করা উচিৎ'? কার জোরে আসলে? দেশটার কোন জায়গাটা ধরে টান মারলে এরা নীচে পড়বে? তারপর..........
সে কথাটা না হয় ভবিষতের জন্যই থাকল। পকেটের সব লকানো কৌশলগুলো দেখানো উচিৎ না সবসময়।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
জানা বলেছেন:
"হাতে সময় আছে কিছু নিয়ে লেখার কিন্তু কী নিয়ে লিখি সেটাই ভেবে পাচ্ছি না! খাদ্য সংকট, রাজনীতি সংকট, দেশের বর্তমান হর্তাকর্তাদের ব্যর্থতা".....!
সময়োপযোগি অনেক কিছুর মধ্যে আপনার আপাতত বিষয় নির্বাচন সঠিক মোস্তফা! হাতে সময় থাকলে লিখে যান। ঠিক এই মুহূর্তে এ,গুলোর কোনটি সবচে' দরকারী তা বিবেচনার সুযোগ কোথায়?!? অনেকটা "দেশটার কোন জায়গাটা ধরে টান মারলে এরা নীচে পড়বে?"--এরকম!
আরও পড়ার অপেক্ষায়....।
ধন্যবাদ আপনাকে।
মাইনুল বলেছেন:
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই বলে তাদের সন্তানদের জন্য কোটা রাখতে হবে তা যুক্তি সংগত নয়। দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিয়ে সাহায্য করা উচিত। কোটা কিন্তু প্রশাসনকে অদক্ষ ও মাথাভারী প্রশাসনে পরিনত করছে। প্রশাসনে দক্ষ ও যোগ্য লোকরা ঢুকছে না। যার ফলে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে দেশের সার্থেই সব ধরনের কোটা বাতিল করা উচিত। দক্ষ লোকরা নিয়োগ পেলে তারা দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ও দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে ফলে আরো অনেক নুতন নুতন কর্ম সংস্থানের ক্রিয়েট হবে।
লেখক বলেছেন: আপনি হয়ত খুব সহজেই বলে ফেললেন, তবে একটা কথা মনে রাখলে খুব ভাল করবেন, তারা তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ করেছিলেন বলেই আমরা আপনারা আজকে খুব সহজেই তাদের দরিদ্র বলতে পারি। যারা তাদের পরিবার ফেলে যুদ্ধে চলে গেলেন আজ তাদের পরিবারের ছেলেমেয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোটার সভা সেমিনার করতে হয়!
আজ পর্যন্ত তাদের দিয়েছি কি আমরা? ভিক্ষার থালা, মুদিখানার দোকান, রিক্সা-ভ্যান, অস্বাস্থ্যকর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রামাগার - এই তো?
কোটা মানে অযোগ্য লোকের প্রবেশ না, সেই পদের জন্য ন্যূনতম বিচারে পাশ করা, নইলে না।
আর আপনার কি ধারনা যে রাজাকারেরা আজকে প্রশাসনে-সরকারে বসে আছে তারা আপনাকে অনেক উন্নতি দিয়েছে?
বিচার করে কথা বলা খুব জরুরি।
মাইনুল বলেছেন:
দেখুন দুনিয়ার যে সব উন্নত দেশ আছে সেখানে কোন কোটার সিস্টেম নাই। কারন এই দেশগুলি চায় দেশের প্রশাসনে দক্ষ লোকরা ঢুকুক আর তাতেই দেশের উন্নতি হবে। গত একটি বিসিএস পরীক্ষায় দেখা গেছে মেধায় একজন পরীক্ষার্থী ২৪৫ নাম্বার ক্রমিকেই শেষ। অন্যদিকে কোটায় ৭০০০ তম পরীক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাহলে ডিফারেন্সটা কি আপনিই বুঝুন ?মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান , তাই তাদের অবশ্যই পুনর্বাসন করতে হবে। এইটা করা উচিত ভাতা দিয়ে বা তাদেরকে সরকারের অনেক পতিত জমি আছে তা লিজ দেয়া যেতে পারে।
কিন্তু কোটার মাধ্যমে অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দেয়া এক ধরনের আত্নহত্যার সামিল ।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: প্রথমত আমরা উন্নত না, আর উন্নত বিশ্বে-দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আমাদের দেশের মত নাজেহাল হতে হয় না। তারা বোধকরি অনেক সচেতন আর কৃতজ্ঞ।
দ্বিতীয়ত আপনার তথ্যটা বিচার করার মত উপায় আমার জানা নাই, সুতরাং ওটা নিয়ে কথা বলা আমার উচিৎ না। শুধু বলি, কথায় কথায় উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টানা কি ঠিক?
মুক্তিযোদ্ধাদের এই সামান্য সুযোগ যার প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়েই হাজারটা প্রশ্ন করা যায়, তাকে ঠেকানোর জন্য এত সময় ব্যয় করছেন অথচ নপুংশক, রাজাকার, বিক্রী হয়ে যাওয়া আমলাদেরকে নিয়ে কথা বলছেন না, কেন?
BangladeshCiroJibiHok বলেছেন:
মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল জাতিকে সমৃদ্ধ করতে। কোটা পদ্ধতি জাতিকে সমৃদ্ধ নয় পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত।৫৫ শতাংশ কোটা আর ৪৫ শতাংশ মেধা কোন সভ্য দেশে সম্ভব বলে বিশ্বাস করা কঠিন। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি কাল ধরে যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। কিন্ত সেসব দেশে এমন অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি আছে বলে শোনা যায়না।
কোটা পদ্ধতির ফলে একই সাথে দুটো অপরাধ হচ্ছে। অযোগ্যরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসন দখল করছে। যোগ্যরা বাদ পড়ছে।
এতে সবচেয় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশ। এটা কোন দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হতে পারে না।
অবশ্য যারা একবার এই ফাও সুযোগ নিয়েছে তারা বারে বারে সে সুযোগ চাইবে এটাই স্বাভাবিক
লেখক বলেছেন: আমার লেখার বিষয়বস্তু মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা পদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ছিল না, এখনকার ভারপ্রাপ্ত আইন সচিবের একটা উক্তি উল্লেখ করে ছিলাম তার অবস্থানকে পরিস্কার করার জন্য, বোঝানর জন্য। আপনারা সেটা বুঝতে পারেননি, এতটা বোকা আপনারা, এটা আমি মানতে নারাজ। তারচে' খুলে বলুন না কেন - আইন সচিব যা বলেছে ঠিকই বলেছে - তাহলেই তো লেঠা চুকে যায়। অন্ততঃ আমাদের বুঝতে সুবিধা হয় আপনাদেরকে।
এবার কি বোঝাতে পারলাম? না পারলে তা আমারই ব্যর্থতা।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
মাইনুলের কথাগুলো ভীষন অবান্তর মনে হচ্ছে কেননা তিনি অন্য একটি দৃষ্টিকোন থেকে বলছেন, তানা হলে তার কথা যৌক্তিক। বছরদুয়েকআগেও আমরা এমন গালভরা কথা বলতে পারতাম। এখন আমাদের অস্তিত্বই সমস্যা এসে গেছে। আমরা খেতে পাচ্ছি না। এই মুহুর্তে নীতি নির্ধারন বা প্রশাশনিক কাঠামো বিষয়ে কথা বলা তেমন গুরুত্ব পাবে না।যেখানে ভাতের নিশ্চয়তা নাই, সেখানে.....
লেখক বলেছেন: রন্টি, আপনার সাথে একমত। পেটে ক্ষুধা থাকলে সব কিছুই অবান্তর। শুনেছি এবং বুঝছি, খবরে যা আসছে খাদ্য পরিস্থিতি নাকি তারচে' ভয়ঙ্কর। আমরা বন্যা-সিডর-পাহাড়ধ্বস হলে দল বেঁধে সাহায্য করতে যাই, সেই কাজ তো এখনো করা যায়।
মনজু রুল করিম বলেছেন:
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এরা কোটা পদ্ধতিতে আসবে কেনো এদের জন্যে তো সব কিছু free থাকা উচিত । যাদের আত্মত্যাগ এর কারনে আজ আমরা এই ব্লগে স্বাধীন ভাবে এত কথা বলছি, আমাদের মা বোনরা স্বাধীন ভাবে ইজ্জত নিয়ে চলাফেরা করছে, আমি পাকিস্হানীর ঔরসজাত সন্তান এ কথা বলতে হচ্ছেনা, এই দান পরিশোধ করবো কি করে ? একমাত্র সৃষ্টিকর্তা পারেন মুক্তিযোদ্ধাদের এই ঞন পরিশোধ করতে আর রাজাকাররা পারে এর বিরোধীতা করতে । আমরা কিছুটা হলেও এই ঞন পরিশোধ করতে চাই তা যেভাবেই হোক । কারণ আমি রাজাকার সন্তান না, আমি রাজাকার অর্থনীতির সুফল ভোগ করিনা । আমার বিবেক , আমার স্বাধীনতা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাছে দায়বদ্ব ।
তাদের জন্যে হাজার সালাম.......।
আপনার কি ধারনা শেখ হাসিনা দুধে ধোয়া তুলশি পাতা?
লেখক বলেছেন: না রে ভাই, ধোয়া তুলসি পাতা তো আমরা কেউই না। না আপনি, না আমি। তাহলে তো মানুষ থাকতাম না, ফেরেস্তা হতাম।
আমি কিছু প্রশ্ন করেছি, সেগুলো অবান্তর হলে কথা বলেন। খামোখা অন্য প্রসঙ্গ এনে মন্তব্যের পাতা ভরানোর কি মানে?


















মাঝে মাঝে ভাবি, সরকার আমাদের জন্য না সরকারের জন্য আমরা?