বৈষম্য এত প্রকট কেন-১?

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:০১

শেয়ার করুন:                   Facebook

ব্যাপারটা কাউকে ভাবায় কিনা জানি না তবে আমাকে বেশ নাড়া দিয়েছে।

আপনি কতদূর পড়াশোনা করেছেন? ডিগ্রি? অনার্স-মাস্টার্স? এমবিএ? তারপর কি সরকারী চাকুরী না আধা? না প্রাইভেট? কোনটা?

কখনো মনে হয় না কী ভীষন বৈষম্য?

সরকারী আর বেসরকারী বেতনে পার্ধক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা কতখানি? এত ব্যাপক পার্থক্য কখনও ভাল কিছু গড়তে দেয় না, তা বাধা হয়ে দাঁড়াবেই। অনেকের মত আমিও এই ব্যাপারে চুপই থাকতাম কারন তাঁদেরই মত আমিও জানতাম না, কিন্তু জেনে যাওয়ার পর না লিখে থাকা গেল না। এটা নিয়ে আলোচনা হ্ওয়া উচিৎ।

অনার্স-মাস্টার্স-এমবিএ করে যে মানুষটা বিসিএস এর মত কঠিন পদ্ধতির একটা পরীক্ষা পাশ করল এবং চাকুরীতে যোগ দিল সে মাস শেষে বেতন তোলেন তিন বছর পর ১১,৯৩৬ টাকা আর সমযোগ্যতা নিয়ে আরেকজন যে বেসরকারী সংস্থায় কাজ করেন, মাস শেষে তোলেন তার ১০ গুন! দুজনই কিন্তু এক সরকারকেই কর্ দেয়, সমান গ্যাস খরচ করেন, একই দামে চাল-মাছ-মুরগি-মাংস-বাজার করেন!
কোনভাবেই কি এটা সুস্থ ছবি? বাদ দেন সমযোগ্যতার, যে ১০ গুন বেতন তোলেন তার গাড়িচালক,যে অষ্টম শ্রেনী পাশ, ঐ অফিস থেকে মাস শেষে সরকারী কর্মকর্তার চেয়ে ৭০০০ টাকা বেশী বেতন তোলে! কী ব্যাখ্যা দেবেন এর?

ক্যাপিটালিজম্ এর এটাই কি রীতি, সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রন থাকবে না! কেউ কি জানেন কোন তথ্য এ বিষয়ে?

এগুলোর জন্য কি দূর্নীতি বাড়ে? নিশ্চয়ই বাড়ে। দূর্নীতি করতে তো এই পুরো সিস্টেমই আপনাকে বাধ্য করছে। আপনার পাশের মানুষ আপনার চেয়ে ব্যয়বহুল জীবন যাপন করবে আর আপনি মাস শেষে সংসার চালানোর চিন্তায় উদ্বিগ্ন, কারন আপনি একজন সৎ সরকারী কর্মকর্তা।

এত ভীষন বৈষম্য রেখে একই দেশে একই সমাজে আপনি ভারসাম্য আনার কথা ভাবতে পারেন? সম্ভব?

এখন বঝুন সরকারের কোন্ মাত্রায় দায়িত্বশীল হওয়া দরকার?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ১৫৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:১৮
comment by: আজহার ফরহাদ বলেছেন: বেতনকাঠামোর পরিবর্তন দরকার। দেশ থেকে ঘুষ ও দূর্ণীতি দূর করতে হলে এটা খুব জরুরী।

গত এক দশক ধরে এখানে মুক্তবাজার অর্থনীতি, আকাশসংস্কৃতির প্রসার, জীবনযাত্রার রূচিকে পাল্টে দিয়েছে। সেই সাথে পাল্টে গেছে মধ্যবিত্তের প্রতিদিনকার চাহিদা। যোগানের সাথে সাথে চাহিদার ক্রমবিকাশ ঘটছে। এখন মুশকিল হয়েছে তার দিনযাপন।

বেড়েছে বাড়তি হিসাব, বেড়েছে অধিক ক্রয়। আর সরকার ভাবছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে। যার অধিকাংশই ঘুষ আর দূর্নীতি দিয়ে।

আর এখন যা ঘটছে তা বড়ই বিভৎস। কীভাবে মানুষ চলছে, বিশেষ করে সরকারী চাকুরে না দেখে বোঝা মুশকিল!

হয়তো কেউ কেউ ভাবছে রেশনিং ব্যবস্থার কথা। সাময়িক কোন উত্তরণই মানুষকে বেশীদিন সুবিধা দিতে পারে না। প্রয়োজন সরকারী বেতন কাঠামোর পরিবর্তন কোনরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
২. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:১৮
comment by: মুনিয়া বলেছেন: গুড পোস্ট।
৩. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৮
comment by: নেমেসিস বলেছেন: আবারো সরকারি বেতন কাঠামোর পরিবর্তন দরকার। শেষ সরকারি বেতন কাঠামোর আমুল পরিবর্তন করা হয়েছিল বোধ হয় এরশাদ আমলে ।
৪. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: +
৫. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
comment by: মোঃ আমিন বলেছেন: একজন বিসিএস ক্যাডারের যদি এই অবস্থা হয়ে থাকে,তাহলে ননগেজেটেড কমকতা/কমচারীদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।
বেতন স্কেলে পরিবতন দরকার।
৬. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
comment by: মোস্তফা আমিন বলেছেন: শুধুমাত্র সরকারী বেতন কাঠামো ঠিক করলে হবে না! সরকারের নিয়মনীতি থাকতে হবে সরকারী, আধা-সরকারী, বেসরকারী, বহুজাতিক-যৌথ-উদ্যোগী সংস্থার বেতন কাঠামোর ব্যাপারে। তা না হলে কোনভাবে সম্ভব ভারসাম্য রাখা? আমার মনে হয় না।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৭০৬