ফাটাফাটি - সাবাস্ বাংলাদেশ!

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

নাজিরপুরের নাম শুনেছেন? একটা বিল এলাকা, পিরোজপুরের মধ্যে একটা উপজেলা। এখানে বছর জুড়ে থাকে থৈ থৈ পানি। জীবিকার জন্য আর সব এলাকার মত এখানকার মানুষগুলোকেও সংগ্রাম করতে হয়।

প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে তা হল, এখানে কিভাবে কৃষকরা বাঁচে, তাঁদের জীবিকা কি? সবাই কি তবে মৎসজীবি? হ্যাঁ তা তাঁরা হতেই পারতেন, কিন্তু তাঁদের হিসাব নিকাশ ভিন্ন। সহজ অমন পথ না বেছে তাঁরা পছন্দ করল চিরায়ত কৃষিকে। কিভাবে?

সেই সত্য গল্পটা বলতেই তো লিখতে শুরু করলাম!

অসাধারন এবং ব্যতিক্রমী পদ্ধতি। পানির মধ্যে চলে চাষাবাস! অদ্ভুত! আমি পড়ে (দৈনিক সমকাল) খুবই অবাক হয়েছি আর মনে মনে চিন্তা করেছি যে দেশে এত প্রতিভাবান কৃষক আছে সেখানে আর যা-ই সম্ভব খাদ্যাভাব সম্ভব না। শুধু দরকার সঠিক নেতৃত্ব।

সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে তাঁরা কাজটি করেন। তা-ও প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে।

তাঁরা উৎপাদন করেন মূলতঃ বিভিন্ন শাক-সবজির চারা আর মশলা আর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে বিক্রী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়। তাঁরা বলতে অনেক - বৈঠাঘাটা, দেউলবাড়ী-দোবড়া এবং তার আশপাশের শত শত একর জমিতে চলে এই একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ।

প্রথমে তাঁরা বীজতলা তৈরী করে পানির উপর! এটা তৈরী করতে প্রধানত ব্যবহার করে কচুরিপানা, টেপাপানা, চুনা শেওলা যা আবার ঐ পানি থেকেই সংগ্রহ করে। বীজতলাটা হয় এক-দেড় ফুট পুরু, পাঁচ-ছয় ফুট চওড়া আর একশ থেকে দুইশ ফুট লম্বা যাকে তাঁরা বলেন 'ধাপ' এবং সেই সুবাদে তাঁরা হন 'ধাপচাষী'। তাঁরা এখানে ফলান লাউ, কুমড়া, শশা, শিম, করলা, বেগুন, মরিচ, বরবটি, টমেটো, পেঁপের চারা। পাশাপাশি চলে লালশাক, শশা, ঢেঁড়স, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি আর বলছিলাম মশলার কথা, হলুদের চাষ।

এই 'ধাপ' বীজলায় সার সরবরাহ হয় কিন্তু ঐখান থেকেই, অর্থাৎ ঐসব পানা আর শেওলা থেকেই, সাথে থাকে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়ি যার পুরোটাই বিশুদ্ধ জৈবসার।

ভাবুন তো এই সম্ভাবনার কথা! কোনো সরকারী পরামর্শের জন্য তাকায় থাকে নাই; নিজেরা নিজেরা উদ্ভাবন করে পঞ্চাশ বছর ধরে এই কাজটা তাঁরা করে চলেছেন। আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগে বিষয়টা!

এই খবরগুলো শুনলে পোষাকী ভাষায় একে বিশেষায়িত না করে বলা যায় এককথায় - ফাটাফাটি! সাবাস্ বাংলাদেশ!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পজিটিভ বাংলাদেশ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমার দিনকাল  বিভাগে ।

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ২১১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: টিভিতে একবার এই পদ্ধতিতে চাষ করার উপরে বিরাট একটা প্রতিবেদন দেখেছিলাম। আসলেই ফাটাফাটি! সাবাস বাংলাদেশ.....

২. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪
comment by: মনজু রুল করিম বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষদের দ্বারাই এটা সম্ভব, যারা অনেক প্রতিকুলতার মধোও লড়াই করে মাথা উচু করে বেঁচে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন ।
এখন শুধু রাজাকার নিধণ করাটাই বাকী রইল, আমি আশাবাদী....
৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: বাংলাদেশের কয়েক জায়গাতেই এরকম চাষাবাদ করা হয়। এই ধরনের উদ্যোগকে অবশ্যই উৎসাহিত করা দরকার। এবং এ ধরনের কাজগুলিকে আরো প্রসারিত করার লক্ষ্যে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। জনাব মোস্তফা আমিনকে ধন্যবাদ। আমিন সাহেব এর এই ধরনের পজিটিভ ব্লগিংকে উৎসাহিত করা উচিত।
৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: কি ব্যপার চাষাবাদ এর মধ্যে রাজাকার চলে এলো কি করে? যারা বেশি বেশি রাজাকার নিধনের কথা বলে তারাই আবার রাজাকারদের ব্যাংক থেকে বেশি বেশি লোন নিয়ে ব্যবসা করে, বাড়ি বানায়। এটাকে বলেআজিব রাজাকার নিধন।
৫. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: হুমম
৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:১০
comment by: জানা বলেছেন:

@মোস্তফা আমিন, খুব ভাল লাগলো আপনার চমৎকার উপস্থাপানয় নাজিরপুরের ধাপ-চাষীদের অসাধরণ বুদ্ধিমত্তার কথা জেনে।

ভাল থাকুন।
ধন্যবাদ আপনাকে।

৭. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:২১
comment by: মোস্তফা আমিন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ জানা।
দেশকে ভালবাসার যে সুখ, তার কোন তুলনা চলে না। যখনই শুনতে পাই ভাল কিছু, বলতে চাই। এটাও তারই একটা অংশ।
ভাল থাকুন।
৮. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:২৩
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: স্টার প্লাস ...

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৭০৭